Home Blog Page 68

পল্লবীতে ধর্ষণের পর শিশুহত্যা মামলার রায় রোববার

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় রায় ঘোষণার জন্য আগামী রোববার ধার্য করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ মামলায় রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য এদিন ধার্য করেন।

এদিন আদালতে দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের পক্ষে যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মুসা কলিমুল্লাহ। এ সময় তিনি আসামিদের নির্দোষ দাবি করে খালাস চান।

অন্যদিকে এই মামলার রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলী বিশেষ পিপি আজিজুর রহমান দুলু বলেন তারা অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। পাশাপাশি অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন।

এদিন সকাল ৯টার দিকে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। পরে তাদের ঢাকা দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। মামলাটিকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।

আদ-দ্বীন হাসপাতাল ৬ নবজাতকের মৃত্যুতে অক্সিজেন স্বল্পতা ও প্রশাসনিক অবহেলার অভিযোগ

রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন ভবনটি হাসপাতালের জন্য উপযুক্ত নয়। দীর্ঘক্ষণ এসি বন্ধ থাকায় পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে অক্সিজেন স্বল্পতা হয়। বদ্ধ কক্ষে বায়ু চলাচল কম থাকায় শিশুদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। শিশুদের মৃত্যুতে চিকিৎসক, নার্স ও কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ছিল।

হাসপাতালটিতে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোববারের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সম্ভবত মৃত্যুর কারণ ছোট কক্ষে দীর্ঘ সময় এসি না থাকা। প্রয়োজনীয় এসি না থাকায় ঘটনাস্থলে অক্সিজেন স্বল্পতা হয়। যে কারণে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যায়। প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে অতিরিক্ত জনসংখ্যার উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি। ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা স্পষ্ট প্রমাণিত হয়েছে। এ অনুযায়ী বিদ্যমান আইন অনুযায়ী শাস্তি হবে।

এর আগে বুধবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গঠিত কমিটি তাদের রিপোর্ট জমা দেন। ২৭ মে ভোর ৬ থেকে ৯টার মধ্যে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ নবজাতকের মৃত্যু হয়। ২৮ মে এই ঘটনায় মামলা হয়। তবে এই ঘটনায় এখনও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

তিন সদস্যের কমিটির প্রতিবেদনে যা আছে
১. ভবনটি হাসপাতাল পরিচালনার জন্য উপযুক্ত না
২. কক্ষতে অক্সিজেন কমে কার্বনডাই অক্সাইড বেড়েছে। অভিভাবকদের আহ্বানে নার্স সহযোগিতা করেনি
৩. ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী ছিল
৪. হাসতাপাতাল পরিচালনার জন্য কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি
৫. ভবিষ্যতে বেসরকারি হাসপাতাল লাইসেন্স দিতে ভবন পরিদর্শনের সুপারিশ

মৃত্যুর কারণ
এসি বন্ধ, অক্সিজেন স্বল্পতা ও ছোট কক্ষ
চিকিৎসক না থাকা। নার্সের অসহযোগিতা, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা প্রমাণিত হয়েছে।

জোতার শক্তিই রোনালদোদের প্রেরণা

গত বছরের ৩ জুলাই স্পেনে গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান দিয়োগো জোতা। পর্তুগালের জার্সিতে উয়েফা নেশনস লিগের ট্রফিও জিতেছিলেন লিভারপুলের এই তারকা। দুনিয়াতে না থাকলেও পর্তুগাল দলে অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছেন তিনি। দেশটির বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জোতাকে বলা হচ্ছে অদৃশ্য শক্তি। উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোদের ছায়াসঙ্গী হিসেবে থাকছেন জোতা। জাতীয় দলে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু রুবেন নেভেস তো বলেই দিলেন, জোতার প্রেরণাকেই বিশ্বকাপের জয়ের প্রতিজ্ঞা করছেন তারা। নেভেসের বিশ্বাস, গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো জোতার প্রতি ভালোবাসা ও আবেগ বাড়তি শক্তি জোগাবে তাদের, ‘আমরা এটা নিয়ে অনেক কথা বলেছি এবং সব সময় আমরা একই কথা বলি। মাঝেমধ্যে বাড়তি শক্তি পাওয়ার জন্য কোনো কিছু আঁকড়ে ধরার প্রয়োজন হয়। এটি এমনই একটি বিষয় হবে, যা নির্দিষ্ট মুহূর্তে আমাদের বাড়তি শক্তি জোগাবে এবং আমরা যেখানে যেতে চাই, সেখানে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।’

এক বছর আগে উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষ পেনাল্টি শুটআউটে নেভেসের করা গোলেই নির্ধারিত হয়ে যায় পর্তুগালের ট্রফি জয়। বিশ্বকাপেও এমন গোলের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। যদিও জিততে চান নির্ধারিত সময়েই, ‘ওই ম্যাচের পর আমি বলেছিলাম, ওটা আমার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ গোলগুলোর একটি– যদি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাও হয়। এই বিশ্বকাপে যদি এমনটা আবার হয় এবং তা দলকে পরের রাউন্ডে যেতে বা এমনকি টুর্নামেন্ট জিততে সাহায্য করে, তাহলে সেটি দারুণ হবে। কিন্তু আমি ৯০ মিনিটের মধ্যেই জিততে চাইব, যেন পেনাল্টি শুটআউটে যেতে না হয়। আমরা দল হিসেবে কী অর্জন করতে পারি, সেদিকেই আমাদের মনোযোগ।’

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে অন্যতম ফেভারিট ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। ইতোমধ্যে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে নেমে পড়েছে পর্তুগিজরা। বড় মঞ্চের যে ওজন এবং প্রত্যাশার চাপ, সেসব খুব বড় প্রতিবন্ধকতা মনে করেন না আল হিলালের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার নেভেস, ‘আমাদের জাতীয় দলের সব ফুটবলারই এ ধরনের চাপে অভ্যস্ত। সম্প্রতি আমাদের চারজন ফুটবলার (নুনো মেন্দেস, ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস ও গনসালো রামোস) দ্বিতীয়বারের মতো (পিএসজির হয়ে) চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছে। আমরা তরুণ দল, কিন্তু অনেক অভিজ্ঞ দল। আমরা এটাকে (চাপ) স্বাভাবিকভাবেই নিই। কারণ আমরা জানি, আমাদের সেই যোগ্যতা আছে এবং আমরা পর্তুগালের জন্য বড় কিছু অর্জন করতে পারি।’ বিশ্বমঞ্চে কোথায় পৌঁছাতে চান, সেটিও সরাসরি বলে দিলেন ২৯ বছর বয়সী এ ফুটবলার, ‘আমাদের লক্ষ্য ফাইনালে পৌঁছানো, জয়লাভ করা এবং বিশ্বকাপ (ট্রফি) হাতে নিয়ে ফেরা। ব্যক্তিগত কোনো লক্ষ্য বেছে নেওয়া কঠিন। কারণ দল হিসেবে কী অর্জন করতে পারি, সেদিকেই আমাদের সব মনোযোগ।’

বিশ্বকাপে পর্তুগালের সেরা সাফল্য ছয় দশক আগে। ১৯৬৬ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে গিয়েই কিংবদন্তি ইউসেবিওর অসাধারণ পারফরম্যান্সে তৃতীয় হয়েছিল পর্তুগাল। ২০০৬ আসরে লুইস ফিগোর নেতৃত্বে পর্তুগালের দলটিকে সোনালি প্রজন্ম হিসেবে ধরা হয়েছিল। তাদের কাছে প্রত্যাশা বেশি থাকলেও শেষ পর্যন্ত চতুর্থ হয়েছিল পর্তুগাল। গত ২০ বছরে সেমিফাইনালে পর্যন্ত উঠতে পারেনি তারা। অথচ এ সময়ে ২০১৬ সালে জিতেছে ইউরো। দুবার জিতেছে উয়েফা নেশনস লিগের ট্রফি। এবার বিশ্বকাপে ভালো করার আশা নেভেসের। ১৭ জুন বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর মুখোমুখি হবে পর্তুগাল।

গা গরমের ম্যাচে খেলোয়াড় সংকটে মেসিরা

প্রচণ্ড গরম কানসাস সিটিতে। এই গরমের মধ্যেই গত সোমবার বিকেলে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে প্রথম অনুশীলন করে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ দল। এমনকি লিওনেল মেসি, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, এমিলিয়ানো মার্টিনেজসহ স্কোয়াডের চোটাক্রান্ত ৯ জনও ছিলেন অনুশীলনে। তারা অবশ্য হালকা স্ট্রেচিং করেন। চোটাক্রান্ত এই ৯ জনই সম্ভবত প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে খেলবেন না। যে কারণে খেলোয়াড় সংকটে পড়েছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। সে সংকট কাটাতেই দেশ থেকে ৭ জন উড়িয়ে এনেছে আর্জেন্টিনা। ৭ জুন হন্ডুরাসের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে স্কোয়াডের বাইরের এই ৭ জনের মধ্যে অন্তত ৩ থেকে ৪ জন শুরুর একাদশে নামতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে প্রথম দিনের অনুশীলনে হাতে ব্যান্ডেজ বেঁধে নেমেছিলেন তারকা গোলরক্ষক দিবু মার্টিনেজ। ব্যান্ডেজ বাঁধা হাতের ছবি সামাজিক  মাধ্যমে পোস্ট করে ক্যাপশন দিয়েছেন ‘দারুণ উদীপ্ত’। ইউরোপা লিগের ফাইনালের আগে গা গরমের সময় বাঁ হাতের আঙুল ভেঙে ফেলেছিলেন অ্যাস্টন ভিলার এ গোলরক্ষক। এ চোটের কারণে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচই মিস করেছেন তিনি।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে ১৭ জুন নিজেদের প্রথম ম্যাচে তিনি খেলতে পারবেন বলে প্রত্যাশা করছে আর্জেন্টিনা ম্যানেজমেন্ট। তাঁর অনুপস্থিতিতে স্কোয়াডের অন্য দুই গোলরক্ষক গোরোনিমো রুলি ও হুয়ান মুসোর মধ্যে যেকোনো একজন খেলবেন। প্রথম দিনের অনুশীলন শেষে সামাজিক মাধ্যমে দিবু আরও লেখেন, ‘প্রথম দিনের অনুশীলন ছিল উৎসাহে পরিপূর্ণ। তবে দুঃখ যে আমি সবকিছু করতে পারিনি। অবশ্য পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় বেশ ভালোও লাগছে।’

মহররমের শুরুতে হবে খামেনির জানাজা ‌ও দাফন

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান আগামী জিলহজ মাসের শেষ ও মহররম মাসের শুরুতে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন তেহরান মিউনিসিপ্যালিটির সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বিষয়ক উপ-প্রধান মোহাম্মদ আমিন তাভাকোলিজাদেহ।

তিনি জানান, দাফন ও জানাজা প্রক্রিয়া প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে চলতে পারে এবং রাজধানী তেহরানে ১৫ থেকে ২০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের সমাগমের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তিন দিনের একটি ‘জনতার শোক মিছিল’ আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

তাভাকোলিজাদেহ বলেন, আনুষ্ঠানিক বিদায় অনুষ্ঠানের পর তেহরান, কোম ও মাশহাদে জানাজার আয়োজন করা হবে। মাশহাদে ইমাম রেজা মাজারে তাকে দাফনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি আরও জানান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভারত, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে শোকার্ত ও কর্মকর্তারা মাশহাদে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন।

এর আগে তিনি বলেন, দাফন অনুষ্ঠানের আয়োজনের দায়িত্ব তার ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে এবং বিভিন্ন প্রদেশ থেকেও অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করা হচ্ছে।

এর আগে তেহরানের ইসলামি প্রচার সমন্বয় পরিষদের প্রধান মহসেন মাহমুদ বলেছিলেন, খামেনির জানাজা অনুষ্ঠান হবে এমন একটি বৈশ্বিক অনুষ্ঠান যা ইসলামি বিশ্ব এবং ইরানের ইতিহাসে নথিবদ্ধ হয়ে থাকবে। আমরা এরই মধ্যে এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য ইরাকের মতো অন্যান্য দেশ থেকে নিবন্ধন এবং প্রস্তুতি প্রকাশের বিষয়টি লক্ষ্য করছি।

ইরানের ওপর ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলা শুরুর দিকে গত (২৮ ফেব্রুয়ারি) নিজের কার্যালয়ে নিহত হন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি। তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও সেসময় নিহত হন এবং গত সপ্তাহে তেহরানে তাদের জন্য একটি অনুষ্ঠান করা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৬ বছরেরও বেশি সময় এই পদে ছিলেন।

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জোরপূর্বক শ্রম (ফোর্সড লেবার) ইস্যুতে ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) এই প্রস্তাব প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির দাবি, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রম রোধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি করছে এবং মার্কিন শ্রমিকদের জন্য অসম প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, কানাডা, ইকুয়েডর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান ও যুক্তরাজ্যের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। বাকি ৪৫টি দেশের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত শুল্ক হার ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিয়েসন গ্রিয়ার বলেন, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের প্রবেশ ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এতে মার্কিন শ্রমিকরা বৈশ্বিক বাজারে অসাম্য প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে।

ইউএসটিআর আরও জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু পোশাক ও বস্ত্রপণ্যের ক্ষেত্রে সীমিত পরিমাণে কম শুল্কে প্রবেশের বিশেষ ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাবও রয়েছে, যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত এখনও জানানো হয়নি।

এই পদক্ষেপ এমন সময় সামনে এলো যখন ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত সাময়িক শুল্কের মেয়াদ আগামী ২৪ জুলাই শেষ হওয়ার কথা। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট জরুরি ক্ষমতার আওতায় আরোপিত একাধিক শুল্ক বাতিল করার পর নতুন আইনি কাঠামোর মাধ্যমে শুল্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে।

দালালের খপ্পরে লন্ডন যাওয়ার বদলে পথে পথে ৫৫ বছর

তরুণ বয়সে উন্নত জীবনের আশায় বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন ইসাক মিয়া। স্বপ্ন পূরণে জমি বিক্রির টাকা নিয়ে বাড়ি ছাড়েন। সিলেট গিয়ে দালালের খপ্পরে পড়ে তাঁর আর বিদেশ যাওয়া হয়ে ওঠেনি। স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় বাড়িতেও ফেরা হয়নি। এরপর পথে পথে কেটে গেছে জীবন।

ইসাক মিয়ার বর্তমান বয়স ৮০ বছর ছুঁইছুঁই। জীবনের পড়ন্ত বেলায় অনেকটা মানসিক ভারসাম্যহীন এই বৃদ্ধকে খুঁজে পেয়েছেন স্বজনরা। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর সন্ধান পেয়ে গতকাল মঙ্গলবার কুষ্টিয়ার কুমারখালী রেলস্টেশনে ছুটে আসেন ভাগনে ও ভাতিজা। দুপুরে ওই বৃদ্ধকে তাদের হাতে তুলে দেয় উপজেলা প্রশাসন।

ইসাক মিয়ার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে। মৃত সাদ মিয়ার সাত সন্তানের মধ্যে ইসাক সবার ছোট। মহান মুক্তিযুদ্ধের পরপর বিদেশ যাওয়ার স্বপ্নে জমি বিক্রি করে ৭৫ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে রোগশোকে কাতর হয়ে সম্প্রতি কুমারখালী রেলস্টেশনে অবস্থান করছিলেন। তাঁর অবস্থা দেখে চিকিৎসা ও খাবারের ব্যবস্থা করেন স্থানীয়রা। এরপর একটি জাতীয় দৈনিকের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওর সূত্রে তাঁর খোঁজ পান স্বজনরা। কুমারখালীতে আসেন ভাগনে বাচ্চু মিয়া (৬০) ও হাজী সাজাহান মিয়া (৬৫) এবং ভাতিজা তাহের মিয়া (৩৫)।
গতকাল কুমারখালী রেলস্টেশনে দেখা গেছে, বয়সের ভারে অনেকটা নুইয়ে পড়েছে ইসাকের শরীর। অসুস্থ শরীর নিয়ে কখনও বসছেন চেয়ারে, কখনওবা মেঝেতে শুয়ে পড়ছেন। তাঁকে পেয়ে আবেগাপ্লুত স্বজনরা। ভাঙা ভাঙা কণ্ঠে ইসাক মিয়া বলেন, ‘বিদেশ যাওয়ার লাইগা জাগাজমি সব বেইচা দিয়া সিলেট গেছলাম। দালালে টেহা মাইরা দিছে। পাগলের মতো পথে পথে ঘুরছি। আজ ভাগনে নিতে আইছে। বাড়ি

যামু। ভাল লাগছে।’
তাঁর ভাগনে বাচ্চু মিয়া জানান, তাঁর মায়েরা সাত ভাই-বোন। তারা হলেন কালা মিয়া, ধলা মিয়া, ইসাক মিয়া, জজ বানু, কালেস্টার বানু, বালেস্টার বানু ও মালেস্টার বানু। তাঁর ছোট মামা ইসাক মিয়ার লন্ডনে যাওয়ার স্বপ্ন ছিল। সেজন্য সাত ভাই-বোন মিলে প্রায় ৫৫ বছর আগে দুই বিঘা জমি ও ৪০ শতাংশ বসতভিটা ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছিলেন। সেই টাকা নিয়ে মামা বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন। তাঁর ভাষ্য, ইসাক মিয়া ছাড়া তাঁর আর কোনো ভাই-বোন বেঁচে নেই।

আরেক ভাগনে সাজাহান মিয়ার ভাষ্য, সপ্তাহখানেক আগে অনলাইনে এক ভিডিওতে দেখা যায় কুমারখালী স্টেশনে তাঁর মামা ইসাক। তিনি গ্রামের নাম ও তাঁর বাবা-ভাইদের নাম বলছেন। পরে স্থানীয় সাংবাদিক মনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে নিতে এসেছেন। তাঁর বাড়িতে কেউ নেই। তারাই তাঁর চিকিৎসা করাবেন এবং যতদিন বাঁচেন আদরযত্নে রাখবেন। ভাতিজা তাহের মিয়া বলেন, ‘বাবার মুখে চাচার অনেক গল্প শুনতাম। এত দিন পরে চাচাকে ফিরে পাব তা কল্পনাও করিনি। বাবা বেঁচে থাকলে অনেক খুশি হতেন।’
ব্যবসায়ী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, প্রায় ২৬ দিন আগে কুমারখালী স্টেশনের পাশে অচেতন অবস্থায় পড়েছিলেন ইসাক মিয়া। প্রথমে সবাই ভেবেছিলেন মৃত। তবে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়ার পর  কথা বলা শুরু করেন।

সাংবাদিক মনোয়ার হোসেন বলেন, দালালের খপ্পরে পড়ে বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় ইসাক মিয়া হারিয়েছেন অর্থ, পরিবার, এমনকি মানসিক ভারসাম্যও। তাঁকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর স্বজনরা নিতে এসেছেন।
স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার, থানার পরিদর্শক আমিরুল ইসলাম, কুমারখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি কে এম শাহিন প্রমুখ।
ইউএনও ফারজানা আখতার বলেন, প্রায় ৫৫ বছর পথে পথে ঘুরে গণমাধ্যমের কল্যাণে ইসাক মিয়া বাড়িতে ফিরছেন। যাচাই-বাছাইয়ের পর তাঁকে স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ১৪ বছরে ১৮ কোটি টাকার কম কার্যকর রাসায়নিক প্রয়োগ মশকনিধনে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহী নয় চসিক

মশা নিধন কার্যক্রম পরিদর্শনে চট্টগ্রামের সিটি মেয়রসহ পাঁচ কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্র সফর আটকে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের টাকায় ‘মশক নিধন শেখা বা দেখার জন্য আমেরিকা না গিয়ে দেশের কোনো ডোবার পাশে বসলেই উদ্ভাবনী পদ্ধতি বের করা সম্ভব’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে চট্টগ্রামের সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন প্রথমে দাবি করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এই সফরের বিষয়ে সম্পূর্ণ ভুল, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেছে। মূলত, কারখানা ও ল্যাব পরিদর্শন করতেই আমি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাওয়ার জন্য সরকারি অনুমোদন চেয়েছিলাম। পরে অবশ্য তিনি এই অবস্থান থেকে সরে আসেন।

প্রধানমন্ত্রী ও সিটি মেয়রের এমন অবস্থান নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার দিনভর সরব ছিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। তবে প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্য দেশজুড়ে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দেয়।
এদিকে সমকালের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মশক নিধনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের গবেষণায় ‘দেশি ভেষজ প্রযুক্তি শতভাগ কার্যকর’ বলে মত এলেও রাসায়নিক প্রয়োগেই বেশি আগ্রহী চট্টগ্রাম সিটি। অথচ চসিকের গবেষণায়ও এসব রাসায়নিক কম কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। তারপরও গত ১৪ বছরে ১৮ কোটি টাকার কম কার্যকর রাসায়নিক প্রয়োগ করেছে সংস্থাটি। যদিও মশক নিধনে এসবের কার্যকারিতা মাত্র ১৬-২৫ শতাংশ।

সর্বশেষ মার্কিন কোম্পানি ভ্যালেন্ট বায়োসায়েন্সেস এলএলসি থেকে মশা নিধনে প্রায় পৌনে চার কোটি টাকার আধুনিক প্রযুক্তির কীটনাশক বাসিলাস থুরিনজেনসিস ইসরায়েলেনসিস কিনেছে চসিক। বর্তমানে এই ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে।

সম্প্রতি মশা নিধনের উদ্ভাবনী কার্যক্রম দেখতে মার্কিন ওই কোম্পানির অর্থায়নে আমেরিকার ফ্লোরিডায় যেতে চেয়েছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেনসহ পাঁচ কর্মকর্তা। প্রধানমন্ত্রী তাদের এই বিদেশ সফর মানা করে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সফরের সারসংক্ষেপে নির্দেশনা দিয়েছেন, মশক নিধন শেখা বা দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাওয়ার দরকার নেই।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন সমকালকে বলেন, যে কোম্পানির আমন্ত্রণে আমেরিকা যাওয়ার প্রস্তাব এসেছে তাদের ওষুধ এরই মধ্যে ব্যবহার করেছি আমরা। মশক নিধন কার্যক্রম দেখা ও শেখার জন্য নয়, ওই কোম্পানির কারখানা ও ল্যাব পরিদর্শন করার কথা ছিল আমাদের। মন্ত্রণালয়ে পাঠানো নথিতেও সেটা উল্লেখ আছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফাইলটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। দেশি প্রযুক্তির ভেষজ ওষুধ প্রয়োগ না করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এগুলো এখনও অনুমোদিত নয়।

মেয়রের বিবৃতি
গতকাল বিকেলে ডা. শাহাদাত হোসেনের ফেসবুক পেজে ‘ভুল তথ্য আর ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে মশক নিধনের বৈপ্লবিক সম্ভাবনা কি ভেস্তে যাবে ?’ শিরোনামে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। সেখানে তাঁর বরাতে উল্লেখ করা হয়, স্বার্থান্বেষী মহল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এই সফরের বিষয়ে সম্পূর্ণ ভুল, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে।

তবে গতকাল রাতে এক বিবৃতিতে মেয়র উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফর প্রসঙ্গে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সফর বিষয়ে তিনি কোনো গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার বা বক্তব্য দেননি। সফরের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারের পক্ষ থেকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে এবং সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নিয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা এবং জনসম্পৃক্ততাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। রাষ্ট্রনায়ক জনাব তারেক রহমান একটি সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’

যা বলছেন বিশেষজ্ঞ
এ বিষয়ে নগর বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার সমকালকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ব্যয় সংকোচনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। আর কোনো ওষুধ কোম্পানি যদি কারও ভ্রমণের ব্যবস্থা করে তাহলে সেখানে তাদের একটা আগ্রহ থাকতে পারে।

তিনি আরও বলেন, মশক নিধনের জন্য দীর্ঘস্থায়ী গবেষণা দরকার। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে কোনো কীটতত্ত্ব বিভাগ নেই। তাদের উচিত কোনো একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে মশক নিধন কার্যক্রম নিয়ে গবেষণা করা। বারবার বিদেশে গিয়ে তো আর মশা নিধন শেখা সম্ভব না।

শতভাগ কার্যকর ঔষধি গাছের নির্যাস
২০২১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের একদল গবেষক মশা নিধনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রয়োগকৃত কীটনাশকের কার্যকারিতা নিয়ে একটি গবেষণা চালায়। গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন চবি উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক। ওই সময় চসিক পূর্ণাঙ্গ মশক নিধনে ফগার মেশিন দিয়ে লিকুইড এডালটিসাইড (ল্যামডা-সাইহ্যালোথ্রিন ও ডেল্টামোথ্রিনের মিঙার) কীটনাশক এবং মশার লার্ভা নিধনে স্প্রে করে ‘এম ফস ২০ ইসি (ক্লোরপাইরিফস)’ নামের লার্ভিসাইড ব্যবহার করত।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক সমকালকে বলেন, আমরা চার বছর আগে ২৫০টি ঔষধি উদ্ভিদের নির্যাস নিয়ে গবেষণা করেছি। ১৫ ধরনের উদ্ভিদের নির্যাস পেয়েছি, যেগুলো ব্যবহারে পাঁচ মিনিট থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে লার্ভা মারা যাচ্ছে।

গবেষক শ্যামল চৌধুরী বলেন, আমার উদ্ভাবিত মসকুবার ভেষজ ওষুধ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে মশক নিধনে শতভাগ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। সাবেক মেয়র রেজাউল করিমের আমলে পরীক্ষামূলকভাবে ১০০ লিটার ওষুধ কেনা হলেও পরে চসিক আর আগ্রহ দেখায়নি।

সুপ্রিম কোর্টে মামলার জালিয়াতি রোধে অ্যাটর্নি জেনারেলের নির্দেশনা

উচ্চ আদালতে বিচারিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও মামলার নোটিশ সংক্রান্ত জালিয়াতি প্রতিরোধে পাঁচ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

মঙ্গলবার অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন স্বাক্ষরিত  বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনার কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে নোটিশ প্রদানের বিদ্যমান পদ্ধতিতে কিছু ত্রুটি এবং কিছু ক্ষেত্রে ক্লার্ক ও কার্যালয়ের কর্মচারীদের যোগসাজশে নোটিশ জালিয়াতির অভিযোগ কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। অবকাশকালীন এনেক্স ভবনের ১৪ নম্বর আদালতে কয়েকটি মামলার এফিডেভিটকৃত মূল আবেদনের টেন্ডার নম্বরের সঙ্গে নোটিশে উল্লেখিত টেন্ডার নম্বরের অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরে একই আদালতে তালিকাভুক্ত আরও বেশ কয়েকটি মামলায় একই ধরনের গরমিল পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় কোনো অসৎ উদ্দেশ্য বা অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা থাকতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন মামলায় সনাক্তকারী আইনজীবী ও নোটিশে স্বাক্ষরকারী আইনজীবীর মধ্যে অমিলও পাওয়া গেছে।

এ অবস্থায় অ্যাটর্নি জেনারেল পাঁচটি নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্দেশনাগুলো হলো— ১. মূল পিটিশনের সনাক্তকারী আইনজীবী ও নোটিশে স্বাক্ষরকারী আইনজীবী একই ব্যক্তি হতে হবে। ২. এফিডেভিট সম্পন্ন হওয়ার সাত দিনের মধ্যে নোটিশ জারি করতে হবে। ৩.  জমাকৃত নোটিশে টেন্ডার নম্বর টাইপকৃত থাকতে হবে। ৪. এফিডেভিট সম্পন্নের পর মূল আবেদনপত্রের ফটোকপি ও ওকালতনামার উভয় পৃষ্ঠার অনুলিপি জমা দিতে হবে। ৫. কোনো মামলা এক আদালত থেকে অন্য আদালতে তালিকাভুক্ত হলে নতুন নোটিশের সঙ্গে পূর্ববর্তী আদালতে দাখিল করা নোটিশের অনুলিপি সংযুক্ত করতে হবে।

বিচারিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং অনিয়ম প্রতিরোধে এসব নির্দেশনা কার্যকর করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে চাপে মানুষ

সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল গত এপ্রিলে। সেই ধাক্কায় বেড়েছে গাড়ি ভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পরিবহন খরচ। এর মধ্যেই জুনে আবার বাড়ল অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম। আজ বুধবার বিদ্যুতের নতুন দরের ঘোষণা আসছে, যা চলতি জুন থেকেই কার্যকর হতে পারে। ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ার শঙ্কায় উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ।

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম না বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের বাস্তবতা দেখিয়ে সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে সরকার। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, একের পর এক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়বে সাধারণ মানুষের  জীবনে।

সরকার বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ সামাল দিতে বাধ্য হয়েই জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিদ্যুতের দর বাড়ার পেছনে রয়েছে উচ্চমূল্যে জ্বালানি আমদানি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের আর্থিক চাপ।

তবে খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূল্যবৃদ্ধির ফলে সরকারের ভর্তুকির বোঝা কিছুটা কমলেও এর প্রধান ভার বহন করতে হবে সাধারণ মানুষকে। শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে বিদ্যুতের দাম বাড়লে উৎপাদন খরচ বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে পণ্যের দামে। এমনিতেই উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা জনগণের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, বিদ্যুৎ খাতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও অনিয়মের কারণে সৃষ্ট ঘাটতির বোঝা জনগণের ওপর চাপানো উচিত নয়। ঘাটতির প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে অপচয় ও অদক্ষতা দূর করার পরই মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গত সোমবার বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের বাস্তবতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে সরকার জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করতে বাধ্য হয়েছে। তবে বিশ্ববাজারে দাম কমলে সেই সুবিধাও দ্রুত ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

গত এপ্রিলে দুই দফায় ৫৯৯ টাকা বাড়ে এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম। মে মাসে দাম অপরিবর্তিত থাকে। তবে জুনের জন্য ১২ কেজিতে ৫৫ টাকা কমিয়ে দাম এক হাজার ৮৮৫ টাকা করা হয়েছে।
এপ্রিলে সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়। তখন অকটেনের দাম লিটারে ২০ টাকা, পেট্রোলে ১৯ টাকা, ডিজেলে ১৫ টাকা এবং কেরোসিনে ১৮ টাকা বাড়ানো হয়। মে মাসে দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়। জুনে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও অন্যান্য জ্বালানি তেলের দাম লিটারে পাঁচ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে গত ২০ ও ২১ মে গণশুনানি হয়েছে। আজ নতুন দর ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। কত শতাংশ বাড়বে– সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। তবে সূত্র জানিয়েছে, পাইকারি পর্যায়ে ১৮ থেকে ২০ শতাংশ এবং খুচরা পর্যায়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ দাম বাড়তে পারে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) পাইকারি পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি ১.২০ টাকা (১৭ শতাংশ) থেকে ১.৫০ টাকা (২১ শতাংশ) করার আবেদন করে। বিতরণ কোম্পানিগুলোর মধ্যে ডেসকো ৯.৬৭ শতাংশ, ডিপিডিসি ৬.৯৬ শতাংশ, ওজোপাডিকো ১০ শতাংশ, আরইবি ৫.৯৩ শতাংশ, নেসকো ইউনিটপ্রতি ৩ পয়সা এবং পিডিবি ২৯ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করে। পিজিসিবি (পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ) প্রতি ইউনিটে সঞ্চালন চার্জ যথাক্রমে ৩০ ও ৩১ পয়সা বাড়ানোর দাবি জানায়।

রাজধানীর মালিবাগের বাসিন্দা কবীর হোসেন বলেন, সব কিছুর দাম বাড়ছে, তবে সেভাবে আয় বাড়ছে না। এভাবে চলতে থাকলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে। যদি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে দাম বাড়াতেই হয়, তাহলে যাদের অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে খরচ বেড়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কোথায়? সব দায় কি সাধারণ মানুষের ওপরই পড়বে?

পুরানা পল্টনের হকার রফিকুল ইসলাম বলেন, এলপিজির দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে মাস চলতে হিমশিম খেতে হয়। এখন আবার বিদ্যুতের দাম বাড়বে। এভাবে কী জীবন চলে?
ঢাকার গোপীবাগের বাসিন্দা গৃহিণী নাজমা বেগম বলেন, জ্বালানি তেল আর গ্যাসের দাম বাড়ার পর সংসারের খরচও বেড়ে গেছে। বাজারে গেলে এখন আর আগের মতো তালিকা ধরে কেনাকাটা করা যায় না। এক কেজি চাল, তেল, সবজিতেই হিসাব করতে হয়।

রাইড শেয়ারিং চালক সুমন মিয়া বলেন, অকটেনের দাম বেড়েই চলছে। যাত্রীরা বাড়তি ভাড়া দিতে চান না। যা আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন। আগে দিনে কিছুটা সঞ্চয় থাকত, এখন সেটা আর হয় না।

নিট পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ঈদের আগে সমকালকে বলেছিলেন, রপ্তানি খাত এরই মধ্যে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা ও ব্যয় চাপের মধ্যে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ালে উৎপাদন খরচ আরও বেড়ে যাবে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তিনি বলেন, শিল্প টিকিয়ে রাখতে হলে সাশ্রয়ী ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

ক্যাবের সাবেক সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্তের আগে এর সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন করা জরুরি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হয় এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বাড়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি অর্থনীতিতে ‘চেইন রিঅ্যাকশন’ তৈরি করে। কৃষি, শিল্প, পরিবহন ও সেবা– সব খাতে ব্যয় বাড়ে, যার ফলে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যায়।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, শিল্প খাতকে টিকিয়ে রাখতে হলে নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি, দাম নয়। উৎপাদন খরচ বাড়লে রপ্তানি খাতও চাপে পড়বে।