Home Blog Page 678

ভোটকেন্দ্রে রাজনৈতিক দলগুলোকেই ভারসাম্য আনতে হবে : সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ভোটকেন্দ্রগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোকেই ভারসাম্য আনতে হবে।

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আমরা বারবার আবেদন জানাচ্ছি, আপনারা আসুন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন। আপনাদের মধ্যে যদি মতপার্থক্য থাকে, সেটা নিরসন করার চেষ্টা করুন। কারণ, নির্বাচন কমিশন মুরুব্বিয়ানা করতে পারবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিনীতভাবে সকল রাজনৈতিক দলকে বলবো- আপনারা যেকোনো প্রকারেই হোক, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন।’

কাজী হাবিবুল আউয়াল বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সামনে ভোটার দিবসের শোভাযাত্রা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ কথা বলেন।

সব দলকে ভোটে আসার আহ্বানের পাশাপাশি নির্বাচনে অংশগ্রহণমূলক ও নির্বিঘ্ন পরিবেশ তৈরিতে কমিশনের সব ধরনের পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন কাজী হাবিবুল আউয়াল। নিজেদের মেয়াদে বিভিন্ন নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম হলেও সন্তোষজনক ছিল বলে উল্লেখ করেন সিইসি। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদ নির্বাচনে ‘যথেষ্ট’ ভোটার উপস্থিতি থাকবে বলে আশা রাখেন তিনি।

সিইসি আরো বলেন, ‘ইভিএমে ভোটে বলা হয় ধীরগতি, সেখানেও উপস্থিতি যথেষ্ট ভালো ছিল। আমরা আশা করি আগামীতে ভোট প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে, সেখানে উপস্থিতি যথার্থ হবে, সেই আশাবাদ আমি ব্যক্ত করছি।’

সিইসি বলেন, ‘বিভিন্ন কারণেই ভোটার উপস্থিতি কম হতে পারে। আবহাওয়াগত কারণ হতে পারে, দুর্যোগের কারণে হতে পারে, শীতের কারণে হতে পারে; বিভিন্ন কারণেই হতে পারে। কিন্তু যেটা গুরুত্বপূর্ণ, ভোটাররা এসেছেন কিনা? তাদের বাধা দেয়া হয়েছে কিনা? তারা ভোট দিতে পেরেছেন কিনা? সেটাই বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য আমাদের কাছে।’

ভোটারদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রে আসার দায়িত্ব হচ্ছে প্রথমত ভোটারের নিজের। রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল একটা ভূমিকা রয়েছে। তাদেরকে সে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন- আমরা ভোটটা আয়োজন করব। আমরা আপনাদের ব্যালট পেপার সাপ্লাই করব, বক্স সাপ্লাই করব এবং আমরা আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সংস্থাগুলোকে স্ট্রিকলি বলে থাকি, আপনারা ভোটকেন্দ্রের চারপাশে প্রত্যাশিত পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন। তাই দায়িত্বটি কার? দায়িত্বটি সামগ্রিক সমন্বয়ের। এটা আপনাদের অনুধাবন করতে হবে। এককভাবে এই দায়িত্ব কখনোই নির্বাচন কমিশনের নয়।’

ভোটার দিবসের এ অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার আহসান হাবিব খান, রাশেদা সুলতানা, মো: আলমগীর, ইসি সচিব মো: জাহাংগীর আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সকালে নির্বাচন ভবন থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে আগারগাঁওয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নির্বাচন ভবনের সামনে শেষ করা হয়। বিকেলে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে ইসি।

সূত্র : বাসস

আওয়ামী লীগ জনগণের সাথে পরিহাস করছে : মির্জা ফখরুল

স্বাধীনতা যুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ জীবন দিলেও তাদের নাম উল্লেখ করা হয় না মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ জনগণের সাথে পরিহাস করছে। এখন দাবি করা হচ্ছে, সবকিছু নাকি আওয়ামী লীগ করেছে।

২ মার্চকে জাতীয় জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল আক্ষেপ করে বলেন, কিন্তু ৫২ বছরেও এই দিনটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হয়নি।

বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঐতিহাসিক পতাকা উত্তোলন দিবস উপলক্ষে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছে। তাদের নাম স্মরণ করা হয় না। এ যুদ্ধের রূপকার মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানীর অবদান, এমনকি মুক্তিযুদ্ধের সময় নেতৃত্বদানকারী তাজউদ্দীন আহমেদের অবদানও স্মরণ করা হয় না। আজকে ভিন্ন দল করার জন্য স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলক আ স ম রব, ইশতেহার পাঠক শাজাহান সিরাজ, স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকেও স্মরণ করা হয় না। বরং জিয়াউর রহমানকে একটা খলনায়ক হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। তারা (আওয়ামী লীগ) বলে, জিয়াউর রহমান নাকি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। সবকিছুই নাকি করেছে আওয়ামী লীগ এবং একজন ব্যক্তি।’

তিনি বলেন, ‘আজ ফ্যাসিবাদী সরকার ক্ষমতায় চেপে বসেছে। দেশের সকল আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। তারা আবারো বাকশাল কায়েম করতে চায়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে চায়। অর্থনীতিকে ধ্বংস করে লুটের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করা হচ্ছে। অথচ পত্রিকায় দেখলাম চট্টগ্রামের ওএমএসের চালের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে এক বৃদ্ধ অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ সরকার দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য বিনষ্ট করে দিচ্ছে। মানুষ ভোট দিতে পারছে না। ভিন্নমত পোষণ করতে পারছে না। ভিন্ন মত প্রকাশ করলেই কারাগারে যেতে হচ্ছে। গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে লিখতে পারছে না। সৎভাবে কেউ ব্যবসা করতে পারছে না। দলীয় লোক না হলে সেই ব্যবসায়ীর প্রতি চলে দমন-নিপীড়ন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ভারতের এক বিতর্কিত ব্যবসায়ীর সাথে সরকার বিদ্যুৎ নিয়ে একটি চুক্তি করেছে। যার ফলে ২০০ টাকার কয়লা ৪০০ টাকা দিয়ে কিনতে হবে। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সবকিছুর দাম আরো বেড়ে যাবে। তারা আইন করেছে, গণশুনানি না করেই আবারো বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করতে পারবে। এ সরকার জনগণের টাকা লুটপাট করতেই বারবার বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এ অবস্থায় বসে থাকলে চলবে না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এই আন্দোলন বিএনপির একার আন্দোলন নয়। এটা গোটা জাতির সংগ্রাম। স্বাধীনতা, ভোটাধিকার এবং গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হলে সকল গণতন্ত্রগামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

জেএসডি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি তানিয়া রবের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন স্বাধীনতার পতাকা উত্তেলক ও জেএসডি সভাপতি আ স ম রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকের হাসনাত কাইয়ুম, জেএসডি সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর প্রমুখ।

জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করলেন ক্রিকেটার সাইফুদ্দিন

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করলেন ক্রিকেটার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন।

বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) দুপুরে ফেনী শহরের গ্র্যান্ড সুলতান কনভেনশন হলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারেন তিনি।

পরিবারের সদস্যদের পছন্দ করা পাত্রী কাজী ফাতেমাতুজ জাহরার সাথে সাইফুদ্দিন গাঁটছড়া বাঁধলেন। কনে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অনার্স ভর্তির জন্য আবেদন করেছেন।

বিয়ে প্রসঙ্গে সাইফুদ্দিন বলেন, আমার পরিবারের মা-বোনের পছন্দই আমার পছন্দ। আমার বোন যাকে পছন্দ করেছে তাকেই বিয়ে করেছি। অতীতের পছন্দ ছিল কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে সাইফুদ্দিন বলেন, ‘প্লিজ নো কমেন্টস’।

সাইফ জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে যাওয়ায় তার মা জহুরা বেগম ও বড় ভাই কফিল উদ্দিন সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

এর আগে বুধবার রাতে একই কনভেনশন হলে জমকালো হলুদ সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে হলুদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

জেল দিয়ে কি কোনোদিন কারো রাজনীতি বন্ধ করা যাবে, প্রশ্ন কৃষিমন্ত্রীর

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া রাজনীতি করতে পারবেন বলে আগে যে বক্তব্য দিয়েছেন সেই বক্তব্যে অনড় কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক আবারো প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, জেল দিয়ে কি কোনোদিন কারো রাজনীতি বন্ধ করা যাবে?

বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সাংবাদিকরা মন্ত্রীদের সাম্প্রতিক মন্তব্যের উল্লেখ করে প্রশ্ন করলে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনীতির বিষয়টি বুঝতে হবে। আইনে যাই থাক। ইরানের খোমেনির রাজনীতি কি বন্ধ ছিল? বঙ্গবন্ধু জেলে থেকে রাজনীতি করেছেন না?’

‘এছাড়া কনভিকশন (দণ্ডিত) হয়নি, কনভিকশন হলেই কি বঙ্গবন্ধু রাজনীতি বন্ধ করে দিতেন? আমি সেই জায়গা থেকে বলেছি। জেলে বসেও তো রাজনীতি করা যায়। আমি তো সেই কথাটিই আপনাদের বলেছিলাম। আবারো বলছি।’

বৃহস্পতিবার নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়ক সংসদীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য পিম ভ্যান স্ট্রিয়েনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনীতি করা নিয়ে ফের বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, ‘সারা পৃথিবীতে তো বিদ্রোহী ও বিপ্লবীরা এভাবেই রাজনীতি করেছেন। খালেদা জিয়া ইলেকশনে যেতে পারবেন না, আইনের কারণে। কিন্তু তার রাজনীতির চিন্তা-চেতনা এগুলো কি তারা বন্ধ করে দেবে নাকি যে আমি রাজনীতি করবো না।’

কিন্তু আপনারা মন্ত্রিসভার সদস্যরা একমত হতে পারছেন না কেন- প্রশ্ন করলে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকেন আব্দুর রাজ্জাক।

এরপর তিনি বলেন, ‘ক্যাবিনেট কলিগরা বলছেন কিভাবে? আমি ওনাদের সাথে কথা বলিনি, কী বলেছেন। আমাকে যদি কোনো কারণে জেল দেয়। লালু প্রসাদ কী রাজনীতি বন্ধ করেছেন?’

‘আমাদের ওবায়দুল কাদের সাহেবও তো বলেছেন, সে (খালেদা জিয়া) নির্বাচন করতে পারবেন না, আইন অনুযায়ী। সংবিধানে আছে দু’বছরের বেশি সাজা হলে নির্বাচন করা যাবে না। কিন্তু রাজনীতিটা আপনি বন্ধ করবেন কেমনে?’

সংসদে শেখ ফজলুল হক সেলিম বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া রাজনীতি না করার জন্য মুচলেকা দিয়েছেন’- এ বিষয়ে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এটা আমি জানি না, কোথায় মুচলেকা দিয়েছেন খালেদা জিয়া। একটা জানি যে, তারেক জিয়া দিয়েছে। বিদেশে যাওয়ার আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে সে-ই দিয়ে গেছে।’

খালেদা জিয়া তো এখন নির্বাহী আদেশে মুক্ত আছেন- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘জেলে থেকেও তো একজন মানুষ যোগাযোগ রাখতে পারে। জেল দিয়ে কি কোনোদিন কারো রাজনীতি বন্ধ করা যাবে? যদি সে আদর্শবাদী রাজনীতিবিদ হয়, দেশপ্রেমিক হয়। গোপনে সে চিঠি লিখে পাঠালো-কর্মীদের নির্দেশনা দিলো। এটা করো, সেটা করো। আমি সেটা মিন করেছি। সেটা সে করতেই পারে।’

নির্বাচনের ১০ মাস আগে আওয়ামী লীগ এ ইস্যুটাকে সামনে আনলো কেন- জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, ‘এটা খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু না। আমার মনে হয় এটা নিয়ে যেটুকু আলোচনা হয়েছে সেটা যথেষ্ট। আমি তো ভারতের দুটি উদাহরণ দিলামই।’

উল্লেখ্য, গত ২২ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের এ প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘খালেদা জিয়ার রাজনীতি করতে বাধা নেই। আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও একই কথা বলেন। তবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, খালেদা জিয়ার রাজনীতি করতে পারবেন না।

সূত্র : ইউএনবি

পাবনায় বাবার পিস্তল অবৈধভাবে প্রদশর্নের দায়ে মেয়রপুত্র আটক

অবৈধভাবে বাবার লাইসেন্সকৃত অস্ত্র প্রদর্শন করার অভিযোগে পাবনার ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র ও আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান মাজেদের ছেলে কামরুল হাসান সুজয়কে (২৭) আটক করেছে পুলিশ। এ সময় লাইসেন্সকৃত পিস্তলটিও জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) দেড়টার দিকে ফরিদপুর পৌর মুক্তমঞ্চের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটক কামরুল হাসান সুজয় ফরিদপুর পৌর সদরের রাউত নাগদাপাড়া মহল্লার বাসিন্দা। তিনি ফরিদপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মেয়রের ছেলে কামরুল হাসান সুজয়ের সাথে উপজেলার পুঙ্গুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলামের বিরোধ চলে আসছে। বৃহস্পতিবার দুপর দেড়টার দিকে সাজেদুল উপজেলা পরিষদের পাশে এলে কামরুল লোকজন নিয়ে তার ওপর চড়াও হন। এ সময় সাজেদুল পালানোর চেষ্টা করলে কামরুল পিস্তল নিয়ে তাকে ধাওয়া করেন। এ সময় সাজেদুলের লোকজন তাকে
আটক করে পুলিশে খবর দেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে কামরুলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

জানা গেছে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পুঙ্গুলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একটি সমাবেশ হয়। সমাবেশে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পৌর মেয়র উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে ইউপি চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলামকে বক্তব্য দিতে দেয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে পৌর মেয়র কামরুজ্জামানের সাথে কথা কাটাকাটি হয় তার। এ ঘটনায় সাজেদুলের ওপর
ক্ষিপ্ত হন মেয়রের ছেলে।

পুঙ্গুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম বলেন, মেয়রের ছেলে কামরুল হাসান সুজয় এলাকায় বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত। কথায় কথায় মানুষের বিরুদ্ধে অস্ত্র প্রদর্শন করে। মেয়র বাবার ক্ষমতার বলে পুরো উপজেলায় অপকর্ম করে বেড়ায়।

ফরিদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, পূর্ববিরোধের জেরে পৌর মুক্তমঞ্চের সামনে প্রতিপক্ষকে বাবার লাইসেন্সকৃত পিস্তল দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন মেয়রপুত্র কামরুল হাসান সজয়। এ সময় তাকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

সতীর্থদের ৩৫টি স্বর্ণের আইফোন উপহার দিলেন মেসি

আর্জেন্টিনার ৩৬ বছরের আক্ষেপ মিটিয়ে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন মহাতারকা লিওনেল মেসি। মিটিয়েছেন নিজের ক্যারিয়ারজোড়া আক্ষেপ। আজন্ম লালিত স্বপ্নপূরণে যাদের সাহায্য পেয়েছেন মেসি এবার তাদেরকেই উপহার দিচ্ছেন মেসি। যেনতেন উপহার নয়, একেবারে সোনায় মোড়ানো আইফোন।

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘ওলে’র এক প্রতিবেদনে জানা যায়, বিশ্বকাপজয়ী দলের খেলোয়াড় ও স্টাফ মিলিয়ে ৩৫ সদস্যের জন্য ২৪ ক্যারেটের সোনায় মোড়ানো আইফোন-১৪ অর্ডার করেছেন মেসি। বিশেষ এই আইফোনগুলোর জন্য মেসিকে গুনতে হচ্ছে ১ লাখ ৭৫ হাজার পাউন্ড, যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

আইফোনগুলোর ডিজাইনকারী সংস্থা আইডিজাইন ইতোমধ্যেই প্রকাশ করেছে বিশেষ সেই আইফোনের ছবি। ফোনগুলোর ডিজাইন করাও হয়েছে বিশেষভাবে। সোনার প্রলেপ দেয়া এই ফোনের পেছনে খোদাই করা আছে তিন তারকা সম্বলিত আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) লোগো, খেলোয়াড়ের নাম ও জার্সি নম্বর। এছাড়াও লেখা হয়েছে ‘বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ২০২২’। সতীর্থদের উপহার দেয়ার পাশাপাশি নিজের জন্যও একই রকম আইফোন নিয়েছেন মেসি।

এছাড়া এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য সান। সেখানে আইডিজাইন গোল্ডের সিইও বেন বলেছেন, ‘মেসি শুধু বড় তারকাই নন, তিনি আইডিজাইন গোল্ডের সবচেয়ে বিশ্বস্ত গ্রাহকদের একজন। বিশ্বকাপ ফাইনালের কিছুদিন পরই মেসি আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন।’

তিনি আরো জানান, বিশ্বকাপ জয় বিশেষভাবে উদযাপন করতে চান বলে জানিয়েছিলেন মেসি। সতীর্থদের জন্য একটি বিশেষ উপহার দিতে চান তিনি। কিন্তু সাধারণ উপহার দিতে চান না। তাই আমি তাকে সোনার আইফোনের পরামর্শ দিয়েছিলাম। তিনিও এই বিষয়টি পছন্দ করেছিলেন।

‘আশা করব এবার ভারত সরকার আন্তরিক হয়ে দ্রুত আমাকে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করবে’ সালাউদ্দিন আহমেদ

আশা করব, এবার ভারত সরকার আন্তরিক হয়ে দ্রুত আমাকে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ। ভারতের একটি আদালত তাকে দেশে ফেরানোর নির্দেশ দেয়ার পর তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এর আগে মেঘালয়ের একটি নিম্ন আদালতও একই নির্দেশ দিয়েছিল। ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছিল মেঘালয় সরকার। তবে সেই আপিল খারিজ করে দিয়েছেন শিলংয়ের অ্যাডিশানাল ডেপুটি কমিশনারের আদালত।

আহমেদ বিবিসিকে বলেন, ‘আশা করব, এবার ভারত সরকার আন্তরিক হয়ে দ্রুত আমাকে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করবে।’

মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ে ২০১৫ সালের ১১ মে সকালে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে তাকে উদ্ধার করা হয়েছিল। তার ঠিক দু’মাস আগে ২০১৫ সালের ১০ মার্চ ঢাকায় হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

উদ্ধার হওয়ার পর কিছু দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন আহমেদ। তবে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশ করার অপরাধে তাকে গ্রেফতার করে বিদেশী আইনের ১৪ নম্বর ধারায় মামলা করে পুলিশ।

মেঘালয় সরকারের আপিল খারিজ
শিলংয়ের একটি আদালত ২০১৮ সালেই সালাউদ্দিন আহমেদকে বেকসুর খালাস ঘোষণা করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু মেঘালয় সরকার ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিল করায় এত দিন মামলা চলছিল।

বুধবার বিবিসিকে সালাউদ্দিন আহমেদ বলছিলেন, ‘আমরা মামলার চূড়ান্ত রায় এখনো হাতে পাইনি। কিন্তু নির্দেশটা পেয়েছি। সরকারের আপিল খারিজ হয়ে গেছে। এরপরও প্রক্রিয়াগত কাজে কিছু সময় লাগবে সরকারের। কিন্তু আশা করব, ভারত সরকার এবার আন্তরিক হয়ে আমাকে দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করবে।’

তবে এই বিষয়ে এখনো মেঘালয় সরকারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দেশে ফেরার জন্য উদগ্রীব বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।

বাংলাদেশে নির্বাচন আসছে, তিনি কি আবার রাজনীতিতে ফিরে যাবেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে আহমেদ বলেন, ‘আগে দেশে ফিরি। তারপর দেখা যাবে।’

রহস্যজনকভাবে ঢাকায় ‘নিখোঁজ’
আট বছর আগে ঢাকায় তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান।

আহমেদ বলছেন, ‘ডিবি পুলিশ আমাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। দু’মাস আটক ছিলাম তাদের কাছেই। তারপর চোখ বেঁধে জবরদস্তি আমাকে নিয়ে আসা হয় এখানে। বাংলাদেশে তো এই সরকার আসার পরে আইনবহির্ভূত হত্যা-গুম নিয়মিতই হচ্ছে।’

মেঘালয়ের রাজধানী শিলং শহরে গল্ফ কোর্সের কাছে ২০১৫ সালের ১১ মে ভোরসকালে কে বা কারা আহমেদকে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়।

ওখানে কর্তব্যরত এক ট্র্যাফিক পুলিশ কর্মী বিবিসিকে তখন বলেছিলেন যে ওই ব্যক্তি অচেনা জায়গায় কয়েকজনকে জিজ্ঞাসা করছিলেন যে এটা কোন জায়গা। তারপর তিনি নিজের পরিচয় দেন যে বাংলাদেশের সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য। নিজের নামও বলেন তিনি।

তারপর তাকে পুলিশ নিয়ে যায়। বেশ কিছু দিন তার চিকিৎসা চলে। অন্যদিকে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে সালাউদ্দিন আহমেদকে গ্রেফতারও করা হয়।

তারপর জামিন পেয়ে শিলং শহরেই একটি বাড়িতে থাকেন সালাউদ্দিন আহমেদ। মাঝে আদালতের অনুমতি নিয়ে চিকিৎসা করাতে মেঘালয়ের বাইরেও গেছেন একাধিকবার।

বাংলাদেশ থেকে ভারতে কী করে আনা হলো?
এখন তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ এলেও যে বিষয়টা এত বছর পরও রহস্যাবৃতই থেকে গেল, তা হলো, কারা ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত পার করে আহমেদকে শিলংয়ে নিয়ে এসেছিল।

কোনো না কোনো জায়গা দিয়ে তাকে সীমান্ত পার করাতে হয়েছে। সেটা যদি শিলং থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরের ডাউকি হয়, তাহলে বিএসএফ কেন দেখতে পেল না? আবার সীমান্ত থেকে গাড়িতে চাপিয়ে একজনকে নিয়ে আসা হলো। এতটা রাস্তাতে কি তবে কোথাও কোনো নজরদারি ছিল না?

আবার শিলংয়েই বা কেন নিয়ে আসা হয়েছিল, ওই প্রশ্নেরও জবাব পাওয়া যায়নি।

সূত্র : বিবিসি

ত্রিপুরার ক্ষমতায় ফের বিজেপি, বিরোধীদের ভোট ভাগেই এই সাফল্য

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যে তিনটি রাজ্যে আজ বিধানসভার ভোট গণনা হয়েছে, তার সবগুলোতেই কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি ভোটের আগে বা পরে করা জোটের সঙ্গীদের নিয়ে ক্ষমতায় আসতে চলেছে। এই রাজ্যগুলো হলো- ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড ও মেঘালয়।

৬০ আসনের ত্রিপুরা বিধানসভায় বিজেপি ও তাদের জোটসঙ্গী আইপিএফটি ৩৩টি আসন পেয়ে গরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, যদিও তা গতবারের ৪৪ আসনের চেয়ে অনেকটাই কম।

ত্রিপুরার রাজপরিবারের সদস্য প্রদ্যোত দেববর্মার নতুন দল তিপ্রা মোথা পেয়েছে ১৩টি আসন, আর বামপন্থী ও কংগ্রেসদের জোট মোট ১৪টি আসনে জিতেছে।

নাগাল্যান্ডে বিজেপি ১২টি ও তাদের পুরনো শরিক দল এনডিপিপি ২৫টি আসন পেয়েছে, ফলে ৬০ আসনের বিধানসভায় তারা সরকার গড়ছে অনায়াসেই। এনডিপিপি নেতা নেইফিউ রিও পঞ্চমবারের মতো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন।

মেঘালয়ে ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) সাথে বিজেপির জোট ভেঙে গিয়েছিল ভোটের আগেই, কিন্তু ভোটে একক গরিষ্ঠতা না-পাওয়ার পর এনপিপি নেতা ও মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ফোন করেন।

বিজেপি ও অন্য কিছু ছোট দলের সমর্থন নিয়ে কনরাড সাংমাই যে আবার মেঘালয়ে সরকার গড়বেন, সেটাও তখনই চূড়ান্ত হয়ে যায়।

ভারতে এই ২০২৩ সাল জুড়ে মোট ১০টি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হবে, এরপর আগামী বছরের প্রথমার্ধেই হবে দেশব্যাপী লোকসভা নির্বাচন।

বলা যেতে পারে, চলতি বছরে দেশে ভোটের মৌসুম শুরুই হলো এই তিনটি রাজ্য দিয়ে, আর তার ফলাফল অবশ্যই বিজেপির মনোবল বাড়াবে। অন্য দিকে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এই তিনটি রাজ্যেই খুবই খারাপ ফল করেছে।

দিল্লিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষক আমন শর্মার মতে, আজকের তিনটির রাজ্যের ফলাফলের মধ্যে ত্রিপুরার ফলাফল বিজেপির কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ – কারণ “তারা প্রমাণ করতে পেরেছে ২০১৮-তে বামপন্থীদের হারিয়ে তাদের ত্রিপুরায় জেতাটা কোনো ফ্লুক ছিল না!”

শর্মা বিবিসিকে আরো বলছিলেন, অতীতে বিভিন্ন রাজ্যে বহু বারই দেখা গেছে- যখনই রাজ্যে বিরোধী শক্তিগুলো জোট বেঁধে বিজেপির মোকাবিলা করেছে তখনই বিজেপি বেশ বেকায়দায় পড়েছে। ২০১৫ সালের বিহারের নির্বাচন ছিল এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

“ত্রিপুরাতেও এবার বিরোধী বামপন্থী ও কংগ্রেস জোট বেঁধে লড়েছিল, পাশাপাশি ছিল উপজাতীয়দের নতুন দল তিপ্রা মোথা। এই ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণেই সে রাজ্যে বিজেপির জেতা সম্ভব হয়েছে, গতবারের তুলনায় আসন কম পেলেও তারা রাজ্যে ক্ষমতা ধরে রাখতে পেরেছে”, বলছিলেন তিনি।

ভারতে যেসব রাজ্যে নির্বাচন আসন্ন, সেখানে বিজেপি-বিরোধী শক্তিগুলো যদি জোট বেঁধে লড়তে পারে তাহলে তারা বিজেপিকে বেগ দিতে পারবে – ত্রিপুরার ফলাফল সেটাই আরো একবার প্রমাণ করে দিল বলে পর্যবেক্ষকরা অনেকেই মনে করছেন।

সামনে এপ্রিল-মে মাসেই ভারতের আরেকটি বড় রাজ্য কর্নাটকে নির্বাচন, সেখানেও বিরোধী কংগ্রেস ও জনতা দল (সেকুলার) যাতে জোট বেঁধে ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে পারে উভয় দলের পক্ষ থেকেই সে চেষ্টা চলছে।

আজকের ফলাফল প্রকাশের পর কংগ্রেসের একাধিক প্রথম সারির নেতা কর্নাটকেও জোট গড়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ার কথা বলেছেন।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে, পশ্চিমবঙ্গের সাগরদীঘি বিধানসভা আসনের নির্বাচনের উপনির্বাচনেও আজ বামপন্থী-সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীকে হারিয়ে আসনটি জিতে নিয়েছেন। সাগরদীঘিতে বিজেপি এসেছে তৃতীয় স্থানে।

বছরদুয়েক আগের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস বা বামপন্থী দলগুলোর একজন প্রার্থীও জিততে পারেননি – স্বাধীনতার পর রাজ্য বিধানসভায় কোনও কংগ্রেস বা বাম সদস্য নেই, সে ঘটনাও ঘটেছিল প্রথমবারের মতো।

বামপন্থীদের সঙ্গে জোট ধরে রেখে সেই শূন্যতা অবশেষে কাটানোর পর পশ্চিমবঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, “আজ প্রমাণ হয়ে গেল মমতা ব্যানার্জিও অপরাজেয় নন।”

অর্থাৎ শুধু ত্রিপুরাই নয়, পশ্চিমবঙ্গের সাগরদীঘিও এটাই প্রমাণ করল যে যেখানেই বিরোধী শক্তিগুলো একজোট হয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারছে এবং বিরোধীদের মধ্যে ভোট ভাগ ঠেকাতে পারছে – সেখানেই শাসক দল সমস্যায় পড়ছে।

বিজেপির জন্য কিছুটা দু:সংবাদ বয়ে এনেছে মহারাষ্ট্রের কসবা পেঠ আসনের উপনির্বাচনও, যেখানে তাদের বিধায়ক মুক্তা তিরকের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়েছিল।

গত ২৮ বছর ধরে রাজ্যের এই আসনটি ছিল বিজেপির দখলে, কিন্তু আজ কংগ্রেসের প্রার্থী রবীন্দ্র ধাঙ্গেকর ১২ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজেপিকে হারিয়ে কসবা পেঠ জিতে নিয়েছেন।

মাসকয়েক আগেই একনাথ সিন্ধে শিবসেনায় ভাঙন ধরিয়ে বিজেপিকে সাথে নিয়ে ওই রাজ্যে নতুন সরকার গড়েছেন, ফলে কসবা পেঠ আসনের ফলাফল মহারাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন জোটের কাছেও একটা বড় ধাক্কা।

সূত্র : বিবিসি

চিকিৎসা বিজ্ঞান গবেষণায় বিশেষ মনোযোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিকিৎসা বিজ্ঞান গবেষণায় বিশেষ মনোযোগ দেয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের গবেষণা সবসময়ই চলবে। কিন্তু একটা দুঃখের কথা না বলে পারি না, সেটা হলো আমাদের কৃষি গবেষণা চলছে, বিজ্ঞানের চলছে। কিন্তু আমাদের স্বাস্থ্য খাতে গবেষণা খুবই সীমিত। তাই চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায় বিশেষ মনোযোগ দিন।’

আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, বিজ্ঞানী, গবেষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ‘বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ’, ‘এনএসটি ফেলোশিপ’ ও ‘বিশেষ গবেষণা অনুদান’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকার আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে শ্রমঘন শিল্প গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে চায় বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

শেখ হাসিনা হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ডাক্তারদের একটি মহল এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জনের পর চিকিৎসা চর্চা ও গবেষণা বাদ দিয়ে সরকারি চাকরি অথবা রাজনীতিতে চলে যান। আর এক শ্রেণী আছেন তারা শুধু টাকা কামাতেই ব্যস্ত। একই সাথে সরকারি চাকরি এবং প্রাইভেটে প্র্যাকটিসও করেন। সরকারি চাকরি আর প্রাইভেট প্র্যাকটিসের পর সেখানে কিন্তু আর গবেষণা হয় না।

আমাদের স্বাস্থ্য বিষয়ক গবেষণা খুব দরকার। স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের গবেষণা খুবই সীমিত কয়েকজন করেন। তবে তার বার বার বলার ফলে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে, আরো বেশি দরকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পরিবর্তিত বিশ্বে প্রযুক্তির সাথে খাপ খাওয়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে সরকার প্রধান বলেন, প্রযুক্তির প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে এবং নতুন থিওরি চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এসে গেছে। এর ফলে আমাদের লোকবল হয়তো কম লাগবে। কিন্তু প্রযুক্তিকে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে এবং সেজন্য আমাদের দক্ষ জনশক্তি দরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবার আমরা সম্পূর্ণ সেদিকেও যেতে চাই না। আমরা শ্রমঘন শিল্পও করতে চাই। কারণ আমাদের বিশাল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করতে হবে। এই দুটি মিলিয়ে আমাদের দেশকে কিভাবে এগিয়ে নিতে পারি সেই চিন্তাই সবার মাথার মধ্যে থাকতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের দক্ষ বিজ্ঞানী দরকার। আর সেদিকে লক্ষ্য রেখেই তারা গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। দক্ষ বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদ সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশে বিদেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্ত গবেষণা এবং অধ্যয়নের জন্য এমএস, এমফিল, পিএইডডি উত্তর প্রোগ্রামে বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ দিচ্ছেন। ২০১০ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত ৬৮২ জনকে প্রায় ২৬৮ কোটি ৭০ লাখ টাকার ফেলোশিপ দেয়া হয়েছে। এছাড়া এমফিল, পিএইচডি ও পিএইচডি উত্তর পর্যায়ে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ দেয়া হচ্ছে। এই ফেলোশিপের আওতায় ২০০৯-১০ থেকে এ পর্যন্ত ২৫ হাজার ৭০১ জন গবেষককে প্রায় ১৫৭ কোটি ৫১ লাখ টাকার বৃত্তি বা অনুদান দেয়া হয়েছে। এটা শুধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে। পাশপাশি প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট থেকেও ফেলোশিপ-বৃত্তি-উপবৃত্তি দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ফেলোশিপের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা উন্নয়ন কাজে উৎসাহ প্রদানে বিজ্ঞানী ও গবেষকদের মাঝে বিশেষ অনুদান দেয়া হচ্ছে। ২০০৯-১০ থেকে চলতি অর্থবছর পর্যন্ত পাঁচ হাজার ৫২১টি প্রকল্পের অনুকূলে ১৭৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা গবেষণা অনুদান দেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আশা করি যারা এই গবেষণা বা ফেলোশিপের জন্য অনুদান পেয়েছেন আপনারা একটু আন্তরিকতার সঙ্গে গবেষণা করবেন। আমি জানতেও চাই আপনারা কী কী উদ্ভাবন করলেন বা তা আমাদের দেশে কতটুকু কাজে লাগবে। আসলে গবেষণার কোনো শেষ নেই।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জিয়াউল হাসান।

সূত্র : বাসস

বিশ্ব উষ্ণায়ন কমাতে জি-২০ দেশগুলোকে যেসব পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান ঢাকার

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রবণতা কমাতে এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অর্থায়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য জি-২০ দেশগুলোকে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জনের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল বরাদ্দ এবং বাস্তবায়নের উপায় বের করার জন্য জি-২০ নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে (জি-২০এফএমএম) এ কথা বলেন মোমেন।

তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘জিরো-টলারেন্স’ নীতি এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অবদান রাখছে।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতির কারণে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা হুমকি এড়াতে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান মোমেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী সমসাময়িক মুদ্রাস্ফীতি, খাদ্য ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, বাণিজ্য ও সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোতে অস্থিতিশীলতা বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের প্রভাব নিয়েও আলোচনা করেন।

সাইডলাইনে মিটিং 
এর আগে সকালে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জি-২০এফএমএম এর আগে রাষ্ট্রপতি ভবনের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রাঙ্গণে মোমেনকে স্বাগত জানান।

বিকেলে মোমেন জি-২০এফএমএম -এর সাইডলাইনে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাথরিন কোলোনা, স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসে ম্যানুয়েল আলবারেস এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপমন্ত্রী লি দো-হুনের সঙ্গে দেখা করেন।

বৈঠকের সময়, তারা দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে আরো গভীর করার এবং চলমান ভূ-রাজনৈতিক সমস্যা মোকাবিলার উপায় ও ধরন নিয়ে আলোচনা করেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অন্যান্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে একটি গ্রুপ কলে যোগ দেন।

এছাড়াও, তিনি মিসর, রাশিয়া, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, তুর্কিয়ে, যুক্তরাজ্য, জাপান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথেও অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতা করেছিলেন।

মোমেনের ভূরাজনীতি এবং ভূ-কৌশলের উপর রাইসিনা সংলাপের অষ্টম আসরের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেয়ার আশা করা হচ্ছে, ভারতের প্রধান সম্মেলন, যা প্রধানমন্ত্রী মোদি উদ্বোধন করবেন।

সংলাপের উদ্বোধনের পর তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দেয়া নৈশভোজে যোগ দেবেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার ভারতীয় প্রতিপক্ষের আমন্ত্রণে জি-২০ এফএমএম-এ যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে রয়েছেন।

বৈঠকে জি-২০ সদস্য ও অতিথি দেশগুলোর প্রায় সব পররাষ্ট্রমন্ত্রী অংশ নেন।

সূত্র : ইউএনবি