Home Blog Page 679

রমজানে নিত্যপণ্য : বাজারে সরবরাহ কতটুকু

রমজান উপলক্ষে দেশে যেসব পণ্যের চাহিদা বাড়ে সেসব পণ্যের সরবরাহে আর কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতর।

সংস্থাটির মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বিবিসিকে বলেছেন, রমজান মাসের পরেও এসব পণ্যের কোনো ঘাটতি হবে না।

পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীরাও জানিয়েছেন, রোজায় চাহিদা বাড়ে এমন পণ্যের ব্যাপক সরবরাহ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কিছু পণ্যের দামও কমেছে।

আমদানিকারকরা অবশ্য বলছেন, পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ডলার সংকট এবং এলসি খোলার বিষয়ে এখনো কিছু কিছু সমস্যার মুখে পড়ছেন তারা।

রমজান মাসে বাংলাদেশে যেসব পণ্যের চাহিদা বাড়ে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- খেজুর, ছোলা, ডাল, তেল, চিনি, পেঁয়াজ ইত্যাদি।

এর মধ্যে পেঁয়াজ ও ডাল কিছু পরিমাণে দেশে উৎপাদিত হলেও বাকি পণ্যগুলোর বেশিরভাগই বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের জের ধরে গত বছরের শুরু থেকে বাংলাদেশের বাজারে এসব পণ্য বিশেষ করে ভোজ্যতেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছিল।

ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে গত বছরের এপ্রিল থেকে জ্বালানি, শিশুখাদ্য, ওষুধের মতো অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ছাড়া বাকি সব পণ্যের আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছিল। এরপর আরো কয়েক দফায় বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানিও কঠোর করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এর জের ধরে ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকেও বাজারে রমজান উপলক্ষে চাহিদা বাড়ে এমন বেশিরভাগ পণ্যেরই ঘাটতি থাকার কথা জানা যায়। যদিও সরকার তখনো এই ঘাটতির কথা অস্বীকার করেছিল।

‘ঘাটতি নেই’
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, রমজান মাসের সব পণ্যের সরবরাহ ঠিক রয়েছে এবং এগুলোর পর্যাপ্ত মজুদও রয়েছে।

এর আগে পণ্য ঘাটতির যেসব বিষয় ছিল সেগুলোর সমাধান করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পণ্য আমদানির বিষয়ে কোনো বাধা নেই।

তিনি বলেন, এর আগে পণ্য পরিবহনের জন্য জাহাজের সংকট, এলসি খোলা নিয়ে সমস্যা- এগুলো এরইমধ্যে সমাধান হয়ে গেছে।

এ কারণেই ভোজ্যতেলের দাম কমেছে বলে জানান তিনি। উদাহরণ হিসেবে বলেন, এক লিটার তেলের যে বোতলের দাম ২৫০ টাকা ছিল সেটি এখন ১৭৮ টাকায় নেমে এসেছে।

অবশ্য বাংলাদেশ ট্রেডিং করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক বছর আগে দাম ছিল কেজিপ্রতি ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমার কারণেই স্থানীয় বাজারেও দাম কমেছে বলে জানান তিনি।

এছাড়া তেলের যে মজুদ আছে তা দিয়ে প্রায় আড়াই মাসের মতো চলবে বলেও জানানো হয়।

চিনির বাজার বেশ কিছুদিন ধরে গরম থাকলেও সফিকুজ্জামান বলেন, ২৬ ফেব্রুয়ারি সরকার চিনি আমদানির উপর থেকে শুল্ক পাঁচ শতাংশ কমানোর কারণে চিনির দামও কেজিপ্রতি কিছুটা কমবে। প্যাকেটজাত চিনি কেজিপ্রতি ১১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানা যায়।

‘আমাদের যেটা ফিক্সড ডিউটি ছিল রিফাইন্ড সুগারের ক্ষেত্রে প্রতি পাঁচ টনে ৬ হাজার টাকা এবং র সুগারের ক্ষেত্রে ৩ হাজার টাকা, আর এসডি (নিয়ন্ত্রণ শুল্ক) ছিল ৩০ শতাংশ ওখানে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে।’

‘আমার ধারণা, চিনি নিয়ে যে একটু শঙ্কা ছিল সেটিও কেটে যাবে,’ বলেন তিনি।

টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ঢাকার বাজারে চিনি প্রতিকেজি ১১০ টাকা থেকে ১২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে চিনির চাহিদা বছরে ১৮ থেকে ২০ লাখ টন। রোজায় এই চাহিদা তিন লাখ টনের মতো। দেশে উৎপাদিত হয় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টন চিনি।

ছোলা ও খেজুরের বিষয়ে ভোক্তা অধিদফতর বলছে, রোজার জন্য যে চাহিদা রয়েছে তার পুরোটাই দেশে রয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় এগুলোর দাম কিছুটা বাড়তি থাকার কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি এবং ডলারের দাম বৃদ্ধিকে তুলে ধরা হয়।

টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ঢাকার বাজারে ছোলা মানভেদে ৮৫ টাকা থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এই দাম কমপক্ষে ১০ শতাংশ বেশি।

‘ভারত থেকে পণ্য আসছে’
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে চিনি, তেল আর গমের পাইকারি ব্যবসা করেন এমন একজন ব্যবসায়ী জানান, চিনি আর তেলের পর্যাপ্ত পরিমাণ সরবরাহ রয়েছে।

সয়াবিন তেল মণপ্রতি পাইকারি বাজারে ৬ হাজার ৫০০ টাকা এবং খুচরা বাজারে ৬ হাজার ৭০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। আর পাম ওয়েল খুচরা বাজারে মণপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে পামওয়েল কেজিপ্রতি ১৩৪ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

চিনিও পর্যাপ্ত আছে উল্লেখ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই ব্যবসায়ী জানান, পাইকারি বাজারে চিনি প্রতি মণ ৩ হাজার ৯২০ টাকা থেকে শুরু করে ৩ হাজার ৯৪০টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আর খুচরা বাজারে ৪ হাজার ১০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

দেশে এরইমধ্যে নতুন চিনি উৎপাদিত হওয়ার পর সেগুলো বাজারে এসেছে। এ বছর ৪০ থেকে ৫০ হাজার টন চিনি উৎপাদিত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

এছাড়া ভারত থেকে চিনি আসার কারণেও চিনির দাম কিছুটা কমেছে বলে জানান এই ব্যবসায়ী। গত ১৫-২০ দিন আগে থেকে তারা ভারতীয় চিনি বাজারে বিক্রি করছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

তবে এখনো আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্য কিনতে ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডলার সংকটের কারণে এলসি খুলতে অনেক সময় ঝামেলা হচ্ছে।

খাতুনগঞ্জে ছোলা এবং বিভিন্ন ধরনের ডাল ও মশলার পাইকারি ব্যবসা করেন আজিজুল হক। তিনি বলেন, বেশ কিছু দিন ধরে বাজারে ছোলার ঘাটতি থাকলেও এখন কোনো ঘাটতি নেই।

ভারতীয় ছোলায় বাজার ছেয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানভেদে বিভিন্ন ছোলা মণপ্রতি অন্তত ২০০ টাকা করে কমেছে।

দেশে তেমন কোনো ছোলা উৎপাদিত হয় না উল্লেখ করে আজিজুল হক বলেন, বেশিরভাগ ছোলাই অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা হয়। আর কিছু আসে বার্মা বা মিয়ানমার থেকে। তবে মিয়ানমার থেকে আনা ছোলার দাম বেশি বলে জানান তিনি।

এর আগে ভারত থেকে কখনো ছোলা আসেনি উল্লেখ করে তিনি জানান, ‘তানজানিয়া থেকে কম দামে কিনে এনে ভারত আমাদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করছে।’

এই ছোলা বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি ২ হাজার ৯০০ টাকা করে।

এলসি সমস্যা শেষ?
যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে আমদানির জন্য এলসি খোলার বিষয়গুলো সমাধানে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমদানিকারকরা বলছেন, এলসি খোলা নিয়ে এখনো বিভিন্ন ব্যাংকে নানা জটিলতার মুখে পড়ছেন তারা।

পাইকারি ব্যবসায়ীরাও জানিয়েছেন, ডলার সংকটের কারণে এলসি খোলা ব্যাহত হচ্ছে।

বিভিন্ন ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করে এমন একটি প্রতিষ্ঠান বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী বলেন, ডাল, সরিষা, গম আমদানি করলেও পর্যাপ্ত পরিমাণ আমদানি করতে পারেননি তারা।

ডলারের দুষ্প্রাপ্যতার কারণে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বলা হচ্ছে এক বছর বা ১৮০ দিন আগে এলসি খোলার কথা। এছাড়া এলসি খুলতে গেলে ১০০ ভাগ মার্জিন চাওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আবুল বশর চৌধুরী বলেন, ১০০ ভাগ মার্জিন দিয়ে আসলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস আনা সম্ভব নয়।

এলসি মার্জিন হচ্ছে, কোনো পণ্য আমদানি করতে হলে গ্রাহককে পণ্যমূল্যের একটি অংশ ব্যাংকে জমা দিতে হয় যাকে এলসি মার্জিন বলে। এটা ব্যাংকের সাথে গ্রাহকের ব্যবসায়িক সম্পর্কের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।

তবে এর আগে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে রমজান উপলক্ষে ভোজ্যতেল, ছোলা, ডাল, মটর, পেঁয়াজ, মশলা, চিনি ও খেজুরের মতো আটটি পণ্যের আমদানিতে এলসি খোলার ক্ষেত্রে নগদ মার্জিনের হার ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ন্যূনতম রাখার নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

তবে ডালের মতো পণ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলক কমেছে বলে জানিয়েছেন এই আমদানিকারক। তবে সেটি এখনো ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে যায়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তার মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও তার মাত্রা এতই নগণ্য যে এর প্রভাব দেশীয় বাজার পর্যন্ত আসবে না। এ পেছনে রয়েছে নানা কারণ। একদিকে ডলারের দাম উঠানামার বিষয় যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে ব্যাংকের নানা ধরনের নতুন চার্জ আরোপের বিষয়।

সূত্র : বিবিসি

বঙ্গবন্ধুর সময়ে চালু হওয়া বাংলাদেশ-ভারত নৌপথ বাণিজ্য কার্যকর রয়েছে : নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময়ে (১৯৭২ সালে) প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড (পিআইডব্লিউটিটি)-এর অধীনে বাংলাদেশ-ভারত নৌপথে বাণিজ্য শুরু হয়েছিল; যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়েও কার্যকর রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ‘এমভি গঙ্গা বিলাস’ ভারত থেকে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ হয়ে নৌপ্রটোকল রুট ব্যবহার করে আসামে পৌছেছে।

প্রতিমন্ত্রী মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) আসামের দিব্রুগড়ে ভারতীয় পর্যটন জাহাজ ‘এমভি গঙ্গা বিলাস’-এর রিভার ক্রুজ সমাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

ভারতের পোর্টস, শিপিং ও ওয়াটারওয়েজ এবং আয়ুষ বিষয়ক মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল সেখানে প্রতিমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে রক্ত দিয়ে তৈরি। ৫০ বছর ধরে এ সম্পর্ক বিদ্যমান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়ে এ সম্পর্ক অন্যরকম উচ্চতায় চলে গেছে। স্থল পথেও স্থলবন্দরগুলোর মাধ্যমে দু‘দেশের যাত্রী ও পণ্য পরিবহন অব্যাহত আছে।

উল্লেখ্য, ভারতের পর্যটকবাহী নৌযান ‘এমভি গঙ্গা বিলাস’ গত ৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জলসীমানায় প্রবেশ করে এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি ‘গঙ্গা বিলাস’ বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করে। প্রতিমন্ত্রী ৪ ফেব্রুয়ারি মোংলা বন্দরে ‘এমভি গঙ্গা বিলাস’ এর যাত্রিদের অভ্যর্থনা জানান। ওই দিন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার উপস্থিত ছিলেন। বিলাসবহুল ‘গঙ্গা বিলাস’ ভারতের উত্তর প্রদেশের বারাণসী থেকে ১৩ জানুয়ারি যাত্রা শুরু করেছে। ওই দিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভার্চুয়ালি ‘গঙ্গা বিলাস’ এর যাত্রা উদ্বোধন করেন। ‘এমভি গঙ্গা বিলাস‘ বাংলাদেশে আগমন উপলক্ষে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) বাংলাদেশের জলসীমায় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ি প্রটোকল রুটের নাব্যতা রক্ষা, বার্দিং সুবিধা নিশ্চিতকরণ ও নৌপথ ব্যবহারের জন্য ভয়াজ পারমিশন প্রদান এবং ভয়াজ পারমিশনের সার্বিক মনিটরিংয়ের দায়িত্বে ছিল বিআইডব্লিউটিএ। প্রটোকলের সাথে সামঞ্জস্য রেখে যাত্রী ও পর্যটকবাহী নৌযান চলাচলের লক্ষ্যে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে কোস্টাল এবং প্রটোকল রুটে যাত্রি ও ক্রুজ সার্ভিস চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

সূত্র : বাসস

আজ থেকে মেঘনায় মাছ ধরা নিষেধ

মেঘনা নদীতে আজ ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দু’মাস সব ধরনের মাছ শিকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সময় ওই এলাকায় নদীর মাছ কেনা-বেচা, মজুত ও পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী মৎস্য অধিদফতর এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এ উপলক্ষে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সম্প্রতি জেলা মৎস্য অধিদফতরের আয়োজনে জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভায় ইলিশ সম্পদ রক্ষায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশ মাছের বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৬ সাল থেকে জেলার রামগতি উপজেলার চর আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত মেঘনার নদীর ১০০ কিলোমিটার ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

জেলা মৎস্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, মেঘনার অভয়াশ্রমে মাছ ধরা বন্ধ রাখার জন্য জেলেপল্লীসহ মাছঘাট এবং নদীর তীরবর্তী এলাকায় বিভিন্ন হাটবাজারে সচেতনতামূলক সভা, লিফলেট, পোস্টার, ব্যানার ও মাইকিং করার মাধ্যমে এলাকায় প্রচার-প্রচারণাও চালানো হচ্ছে। এছাড়া মাছ ধরা প্রতিরোধের জন্য মোবাইল কোর্টও পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর মার্চ ও এপ্রিল দু’মাস উল্লেখিত অভয়াশ্রমে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে। এ সময় ইলিশের অভয়াশ্রমসমূহে ইলিশসহ সকল প্রকার মাছ ধরা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। মৎস্য সুরক্ষা ও আইন ১৯৫০-এর ধারা ৩-এর উপধারা ৫ আইন অমান্যকারীকে কমপক্ষে এক বছর থেকে সর্বোচ্চ দু’বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৪ মাস জেলে পরিবারগুলোকে ৪০ কেজি করে চাল দেয়া হবে। জেলার নিবন্ধিত ২৮ হাজার ৩৪৪ জেলে পরিবারের জন্য চার হাজার ৫৩৫ টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এছাড়া নিষিদ্ধকালীন বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে ২০টি আদর্শ গ্রামে জেলেদের ২০টি গ্রুপ করে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রত্যেক গ্রুপকে ১০ লাখ টাকা করে সুদ মুক্ত ক্ষুদ্র ঋণ দেয়া হয়েছে।

ইলিশ জেলেদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ইতোমধ্যে ১৬০টি বকনা গরু বিতরণ করা হয়েছে এবং আরো পাঁচ শতাধিক বকনা গরু বিতরণ করা হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

তিনি আরো বলেন, প্রশাসন ও কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও মৎস্য বিভাগ যৌথভাবে নদীতে অভিযান পরিচালনা করবে।

জেলা প্রশাসক মো: আনোয়ার হোছাইন আকন্দ বলেন, আগামী দু’মাস লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে সকল ধরনের মাছ ধরা বন্ধ রাখার ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আইন ভঙ্গ করে নদীতে মাছ শিকার করলে অভিযান করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ করার সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের উপস্থিতিতে বিতরণ করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সূত্র : বাসস

‘মোগলরা যদি এতই শয়তান, ভেঙে ফেলুন তাজমহল-লালকেল্লা’

অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন মন্তব্যের জেরে প্রায়ই আলোচনায় আসেন বলিউড অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। স্বামীকে সারাক্ষণ আগলে রাখেন রত্না পাঠক শাহ। মুসলিম-বিদ্বেষের জেরে প্রাণ সংশয় হতে পারে, এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছিলেন অভিনেত্রী। তবুও আটকে রাখা গেল না নাসিরুদ্দিন শাহকে। মনের ভাবনা জোর গলায় বলেই ফেললেন তিনি।

সামনেই মুক্তি পেতে চলেছে নাসিরুদ্দিন শাহ অভিনীত ‘তাজ – ডিভাইডেড বাই ব্লাড (Taj – Divided by Blood)।’ জি ফাইভের এই সিরিজে মোগল সম্রাট আকবের চরিত্রে রয়েছেন নাসিরুদ্দিন শাহ। সিরিজ মুক্তির আগে বোমা ফাটালেন বর্ষীয়ান এ অভিনেতা। তার সাফ কথা- ‘মোগলরা যদি এতই শয়তানের মতো কাজ করে থাকেন, তাহলে তাদের তৈরি লালকেল্লা, তাজমহল ভেঙে ফেলুন।’

এ অভিনেতার মতে, মোগলদের মহিমান্বিত করার দরকার নেই, কিন্তু তাদের অপমান করাও উচিত নয়।

ঠিক কী বলেছেন নাসিরুদ্দিন শাহ?
নাসিরুদ্দিন শাহ বলেন, ‘ইদানীংকালে বেশিরভাগ সময়ই ভারতের ইতিহাসকে ভুলভাবে ব্যাখা করা হচ্ছে। বহুদিন ধরেই এই প্রবণতা বেশ স্পষ্ট। ভারতীয় ইতিহাসে মোগলদের খলনায়ক হিসেবে দেখানো হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার অবাক লাগে, এটা একদম হাস্যকর যে মানুষ আকবর এবং হত্যাকারী নাদির শাহ অথবা তৈমুরের ফারাক বোঝে না। ওরা ভারতকে লুট করতে এসেছিল কিন্তু মোগলরা তো তা করেননি। মোগলরা ভারতে এসে সেখানে নিজেদের বসতি গড়ে তুলেছেন। আর তাদের যা অবদান সেটা আপনি অস্বীকার করতে পারবেন?’

নাসিরুদ্দিন শাহ বলেন, ‘ইতিহাস চেতনার অভাব দেশে বাড়ছে। অতীতকে নিন্দার চোখে দেখছে দেশবাসীর একটা অংশ, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

বিরক্তিকর কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘যদি মোগলদের সবই খারাপ, তাহলে তাজমহল, লাল কেল্লা, কুতুব মিনার- সব ভেঙে দিন। আমরা কেন লাল কেল্লাকে পবিত্র বলি? সেটা তো মোগলদের তৈরি।’

এই প্রথম নয়, এর আগেও মোগল সম্রাটদের নানা গুণগান করেছেন নাসিরুদ্দিন শাহ। বছর দেড়েক আগে তাকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘মোগলদের নৃশংসতা নিয়ে প্রায়শয়ই চর্চা করা হয়। কিন্তু আমরা ভুলে যাই মোগলরা সেই মানুষ, যাদের অবদান অনস্বীকার্য এই দেশের উন্নয়নে। মোগলরাই ভারতের চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রসিদ্ধ স্থাপত্যগুলো গড়ে তুলেছে। নাচ, গান, আঁকা, সাহিত্য- সব ক্ষেত্রে মোগলদের অবদান রয়েছে। এটাকে তারা নিজেদের মাতৃভূমি হিসাবে গড়ে তুলেছে, চাইলে আপনারা তাদের উদ্বাস্তু বলতেই পারেন।’

‘তাজ – ডিভাইডেড বাই ব্লাড’ সিরিজে নাসিরুদ্দিন শাহ ছাড়াও শেহজাদা সেলিমের চরিত্রে রয়েছেন আসিম গুলাটি, তাহা শাহ রয়েছেন শেহজাদা মুরাদের ভূমিকায়। অদিতি রাও হায়দারিকে দেখা যাবে আনারকলি হিসেবে, ধর্মেন্দ্র থাকছেন সেলিম চিস্তির ভূমিকায়।

জি-ফাইভে আগামী ৩ মার্চ মুক্তি পাবে এই সিরিজ।

সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, হিন্দুস্তান টাইমস

মস্কোর কাছে গুলি করে নামালো ইউক্রেনের ড্রোন

মঙ্গলবার রাশিয়ার মস্কো থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে একটি ড্রোনকে গুলি করে নামিয়েছে রাশিয়ার সেনা। যে অঞ্চলে ড্রোনটিকে গুলি করে নামানো হয়েছে, তার পাশেই রাশিয়ার তেল ও গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থা গ্যাসপ্রমের একটি ডিপো। তবে রাশিয়ার সংবাদসংস্থাকে গ্যাসপ্রম জানিয়েছে, তাদের ডিপোয় কোনো ক্ষতি হয়নি।

মস্কোর গভর্নর আন্দ্রেই ভরোবাইঅভ জানিয়েছেন, ড্রোনটি ইউক্রেনের। কোলামনা অঞ্চলে গ্যাসপ্রমের ডিপো ও একটি বেসামরিক কাঠামো ধ্বংস করার জন্যই ড্রোনটি পাঠানো হয়েছিল বলে তার দাবি। তবে তার আগেই রাশিয়ার সেনা ড্রোনটিকে গুলি করে নামিয়ে নেয়।

রাশিয়ার ভিতর কোনো আক্রমণই এখন পর্যন্ত স্বীকার করেনি ইউক্রেন। এর আগে সীমান্ত অঞ্চলে সেনাঘাঁটিতে ড্রোন আক্রমণ হয়েছে। তার দায়ও ইউক্রেন স্বীকার করেনি। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনা নিয়েও ইউক্রেন কোনো মন্তব্য করেনি।

রাশিয়া অবশ্য ড্রোনটির মডেল ও নম্বর প্রকাশ করেছে। ইউজে-২২ এয়ারবর্ন মেকের ড্রোনটি মূলত ইউক্রেনই ব্যবহার করছে বলে রাশিয়ার দাবি। ইউক্রেনের ‘উকারজেট সংস্থা’ ওই ড্রোনগুলো তৈরি করে।

ইউক্রেন প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘রাশিয়ার ভিতর প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূর পৌঁছে গেছিল ড্রোনটি। এরপর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিশ্চই ঘর থেকে বার হতে ভয় পাবেন। যেকোনো সময় তার সামনে ড্রোন পৌঁছে যেতে পারে।’

মঙ্গলবার রাতে রাশিয়ার সেনা দাবি করেছে যে একটি নয়, দুটি ড্রোনকে দক্ষিণ রাশিয়ায় গুলি করে নামিয়েছে। অন্য ড্রোনটির তথ্য অবশ্য এখনো দেয়া হয়নি। প্রথম ড্রোনটির একটি ছবি প্রকাশ করেছে রাশিয়া। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বরফ ঢাকা রাস্তায় ড্রোনটি পড়ে আছে।

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া ও ইউক্রেন দু’পক্ষই ড্রোন ব্যবহার করছে। এর আগে রাশিয়ার একাধিক ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে ইউক্রেন।

সূত্র : ডয়চে ভেলে

বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা শীর্ষে

বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় বুধবার সকালে ঢাকার অবস্থান আবারো শীর্ষে। সকাল ১০টায় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ১৯৮ নিয়ে রাজধানীর বাতাসের মান ‘অস্বাস্থ্যকর’।

১০১ থেকে ২০০ এর মধ্যে একিউআই স্কোরকে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে মনে করা হয়। ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে থাকা একিউআই স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। আর ৩০১ থেকে ৪০০ এর এর মধ্যে থাকা একিউআইকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়, যা বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।

চীনের উহান ও নেপালের কাঠমান্ডু যথাক্রমে ১৯৪ ও ১৯১ এর স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে, সেগুলো হলো- বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ এবং ওজোন (ও৩)।

দীর্ঘদিন ধরে বায়ু দূষণে ভুগছে ঢাকা। এর বাতাসের গুণমান সাধারণত শীতকালে অস্বাস্থ্যকর হয়ে যায় এবং বর্ষাকালে কিছুটা উন্নত হয়।

২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদফতর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে- ঢাকার বায়ু দূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ সাইটের ধুলো।

প্রথমবারের মতো ইরাক সফরে জাতিসঙ্ঘ প্রধান

জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বিগত ছয় বছরের মধ্যে তার প্রথম সফরে মঙ্গলবার ইরাকে পৌঁছেছেন। দেশটিতে টানা রাজনৈতিক সঙ্কটের পর ‘সংহতি’ প্রকাশ করতে তিনি এ সফরে গেলেন।

গুতেরেস বলেন, তিনি ইরাকের জনগণ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সংহতি প্রকাশ করতে চান। এ সংহতির অর্থ জাতিসঙ্ঘ এই দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর একত্রীকরণকে সমর্থন দিতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

তিনি বলেন, তিনি দৃঢ়তার সাথে বলতে চান যে- ইরাকিরা এখনো যে অসুবিধা এবং চ্যালেঞ্জগুলোর সম্মুখীন হবে তা একটি উন্মুক্ত এবং অন্তর্ভূক্তিমূলক সংলাপের মাধ্যমে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে

সফরে গুতেরেসের বুধবার প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মাদ শিয়া আল-সুদানির পাশাপাশি নারী ও যুব অধীকার গ্রুপের প্রতিনিধিদের সাথে দেখা করার কথা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার তিনি ইরাকি কুর্দিস্তানের আঞ্চলিক সরকারের প্রতিনিধিদের সাথে দেখা করতে ইরবিলে যাওয়ার আগে দেশটির উত্তরে বাস্তুচ্যুতদের একটি ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন। সর্বশেষ তিনি ২০১৭ সালে ইরাক সফর করেন।

এরপর তিনি কাতারে যাবেন। সেখানে তিনি স্বল্পোন্নত দেশগুলোর শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন।
সূত্র : বাসস

জাতীয় বীমা দিবসের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বীমা খাতের আরো উন্নয়নের জন্য ও বীমা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে জাতীয় বীমা দিবস-২০২৩-এর উদ্বোধন করেছেন।

বুধবার (১ মার্চ) সকালে তার সরকারি বাসভবন গনভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দিবসটির উদ্বোধন করেন।

অর্থমন্ত্রণালয় এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। ‘বীমায় সুরক্ষিত থাকলে, এগিয়ে যাবো সবাই মিলে’-এই প্রতিপাদ্য নিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার জাতীয় বীমা দিবস উপলক্ষে বীমা কোম্পানি ও সাধারণ মানুষসহ বীমা শিল্পের সাথে জড়িত সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তারা দিবসটি উপলক্ষে তাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন এবং দিবসটির প্রতিপাদ্যকে সময়োপযোগী বলে অভিহিত করেছেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ, আইডিআরএয়ের চেয়ারম্যান জয়নুল বারী ও বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) সভাপতি শেখ কবির হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বীমা খাতের ওপর একটি ভিডিও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

১৯৬০ সালের ১ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন আলফা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে কাজ শুরু করেন। তারপর থেকেই তার সরকার প্রতিবছর ১ মার্চকে জাতীয় বীমা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মরণে সরকার গত বছর ‘জাতীয় বীমা দিবস‘কে ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করে।

সূত্র : বাসস

পালিয়ে যাওয়া জঙ্গিদের ধরার সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘পালিয়ে যাওয়া জঙ্গিদের ধরা যাচ্ছে না তা নয়, অনেক জঙ্গিকে ধরেছি। অনেক জঙ্গিকে খুঁজে বের করেছি। যারা পালিয়ে গেছে তাদের ধরতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। আমরা তাদের নিশ্চয়ই ধরে ফেলব।’

‘পুলিশ মেমোরিয়াল ডে-২০২৩’ উপলক্ষে বুধবার সকাল ১০টায় পুলিশ স্টাফ কলেজে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘জঙ্গি উত্থান ও তৎপরতা রোধে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে। যখনই যে তথ্য তারা পাচ্ছেন সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা কিন্তু জঙ্গিদের মূলোৎপাটন করে নিঃশেষ করে দিতে পারিনি। তবে সবকিছু কন্ট্রোলে নিয়ে এসেছি। আমাদের নিরাপত্তা সংস্থা বিশেষ করে পুলিশ-র‌্যাব ভালো কাজ করছে বলেই সব কিছু কন্ট্রোলে আছে। আন্তর্জাতিকভাবে সারাবিশ্বে যেভাবে জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছিল। আমাদের দেশকে সন্ত্রাসের মাধ্যমে অকার্যকর করার চেষ্টা হয়েছিল। তবে, সবকিছু কন্ট্রোলে নিয়ে এসেছি।’

বাংলা একাডেমি সংশ্লিষ্টদের ওপর ও বইমেলায় বোমা হামলা করা হবে, এমন হুমকির উড়ো চিঠি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এরকম অনেক হুমকি আসে। আমরা সব কিছু শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

সামনে নির্বাচন রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন এলে সব দলই তৎপর হয় নির্বাচনী প্রচারণা, ব্যানার ফেস্টুন প্রচার ও নিজস্ব মত কর্মসূচি প্রচার করেন। এটাই যুগ যুগ ধরে দেখে আসছি। নির্বাচন এলে সবার মধ্যে উৎসুক দৃষ্টি থাকে। সেই সময় সব রাজনৈতিক দল তাদের মতামত, চিন্তা নিয়ে কাজ করেন। সামনে নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়নি। সবাই কাজ করছেন। আমার মনে হয় নির্বাচন কেন্দ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় মৃত পুলিশ সদস্যদের স্মরণে প্রতি বছর ১ মার্চ পুলিশ মেমোরিয়াল ডে পালন করছে বাহিনী। তবে কর্তব্যরত অবস্থায় মারা যাওয়া পুলিশ সদস্যদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ পেতে বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। ডিসিদের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেয়ার কারণে আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতায় বিলম্ব হচ্ছে। এ ব্যাপারে এসপিদের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা গত বছর বলেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপিকে উত্তর দেয়ার অনুরোধ জানান। আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমরা সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছি। বিবেচনায় আছে। আশা করছি, খুব শিগরির এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত পাবো।

বাড়ছে সাইবার অপরাধ, শিকার হচ্ছে নারী-শিশু

ভারতে নারী ও শিশুদের সাথে বেড়েই চলেছে সাইবার অপরাধ। সংগঠিত এসব অপরাধের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটিতে পুলিশ এফআইআর দায়ের করে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অপরাধের শিকার পরিবারই পুলিশি তদন্ত চায় না।

২০১৬ সালের ঘটনা। তিরিশ ছুঁই ছুঁই এক নারীর কাছে জিমেইলে কুকথা লিখে পাঠাতে শুরু করেন কেউ।

ঘটনার শিকার নারী কলকাতার বাসিন্দা হলেও কাজের সূত্রে দিল্লি লাগোয়া গুরুগ্রামে থাকতেন।

নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক ওই নারী বলেন যে ওই ইমেইলগুলো কে পাঠাচ্ছিল, আমি এক রকম নিশ্চিত ছিলাম। মেসেজ ও ইমেইলগুলো ফেক আইডি থেকে পাঠানো হতো। আমার এক বন্ধুর মাধ্যমে এক নারীর সাথে আমার সামান্যই আলাপ হয়েছিল। আমি কেন ওই ছেলেটির সাথে বন্ধুত্ব রেখেছি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন ওই নারী। ধীরে ধীরে গালিগালাজ দেয়া শুরু হয়। তারপর সেটা পৌঁছায় অশ্রাব্য গালিগালাজে। আমার চেহারা নিয়ে বিভিন্নভাবে বুলিং করতে শুরু করেন।

ওই বছরেরই শেষের দিকে তিনি কলকাতা পুলিশের কাছে সশরীরে গিয়ে অভিযোগ করেছিলেন।

বেনামী অভিযোগ বাড়ছে
২০১৯ সাল থেকে সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে জাতীয় স্তরের একটি পোর্টালে নাম প্রকাশ না করেই অভিযোগ জানানো যায়। তবে সেসব বেনামী অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে পুলিশ কোনো তদন্তই করছে না।

ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে একটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন যে ২০২০ সালে নারী এবং শিশুদের সাথে সাইবার অপরাধ হওয়ার ১৭ হাজার ৪৬০টি বেনামী অভিযোগ জমা পড়েছিল, যার মধ্যে পুলিশ মাত্র ২৬টি এফআইআর দায়ের করেছে।

আবার ২০২২ সালে ৫৬ হাজার ১০২টি বেনামী অভিযোগ দায়ের হলেও মাত্র নয়টি অভিযোগের ক্ষেত্রে এফআইআর হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর বিভাস চ্যাটার্জী জানান, বিপুল সংখ্যক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এফআইআর হয় না, এটা সঠিক। তবে অপরাধের শিকার হওয়া পরিবার যখন অভিযোগ জানাতে আসেন তখন বেশিরভাগেরই অনুরোধ থাকে যে পেজ বা অ্যাকাউন্ট থেকে অপরাধটা সংঘটিত হয়েছে, সেই পেজ বা অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেয়ার।

তিনি আরো জানিয়েছেন, সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত মামলা হওয়া উচিত তথ্যপ্রযুক্তি আইনে। কিন্তু মামলা দায়ের করা হয় ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুযায়ী। কারণ তথ্যপ্রযুক্তি আইনে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ইন্সপেক্টর র‍্যাঙ্কের হতে হয়। আর পর্যাপ্ত ইন্সপেক্টর না থাকায় অনেক সময় দণ্ডবিধি অনুযায়ী মামলা করা হয় না।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বেনামী অভিযোগের ক্ষেত্রে একটা বড় সমস্যা হলো যদি বাড়তি কোনো তথ্য দরকার হয়, তবে সেটা পাওয়ার কোনো উপায় নেই।

অন্যদিকে, একজন অভিযোগ জানানোর পর তদন্তের অগ্রগতির বিষয়েও তিনি জানতে পারবেন না। কারণ বেনামী অভিযোগ হওয়ার ফলে তার অভিযোগ ট্র্যাক করার কোনো পদ্ধতি নেই।

বেশিরভাগ পরিবারই তদন্ত চায় না
সাইবার অপরাধের মধ্যে সবথেকে গুরুতর অপরাধগুলো হলো রিভেঞ্জ পর্ণ, ধর্ষণের হুমকি, ব্ল্যাকমেইল করা আর সেক্টটর্শান। বিভাস চ্যাটার্জী পশ্চিমবঙ্গের প্রথম রিভেঞ্জ পর্ণ সংক্রান্ত মামলাটিতে অবশ্য অপরাধীকে জেলে পাঠিয়ে ছিলেন।

অপরাধের শিকার হওয়া নারীর পরিবার চান না তদন্ত বা মামলা করতে। আমাদের চিন্তাধারা এমন যে ভিক্টিম লুকিয়ে বেড়াবে আর অপরাধী বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াবে।

দরকার মানসিক সহায়তা
এফআইআর না নেয়ার ব্যাপারে সরকারি কৌঁসুলি বিভাস চ্যাটার্জী বলছেন, যেহেতু একজন নারী বা শিশুর অনলাইন পরিচয় প্রকাশ পেয়ে গেছে অপরাধীদের মাধ্যমে, সেটা আটকাতে পুলিশ বেশি তৎপর থাকে। ওই অনলাইন পরিচয় পৃথিবীর কোনো প্রান্তে গিয়ে কোন অপরাধ চক্রের হাতে পড়বে বলা যায় না। সেটা আটকানোই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

আবার এ ধরনের সাইবার অপরাধের শিকার হওয়া মানুষের জন্য বিশেষজ্ঞ মনোবিদও রয়েছেন, যারা একদিকে পরামর্শ দেন কিভাবে সাইবার অপরাধে ঘটনা পুলিশের কাছে জানাতে হবে, তেমনই তিনি অপরাধের শিকার হওয়া ব্যক্তির মানসিক চিকিৎসাও করেন।

আইনজীবী বিভাস চ্যাটার্জী বলছিলেন, ‘সাইবার অপরাধের শিকার হওয়া নারী ও শিশুর ক্ষেত্রে মানসিক সহায়তা খুবই জরুরি। এতে অনেক ভিক্টিমই অভিযোগ দায়ের করবে এবং তাদের আর লুকিয়ে থাকতে হবে না।’

সূত্র : বিবিসি