Home Blog Page 69

দুই মাসে তিন গুণ মেঘনা পেটের শেয়ারদর

অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ নামে কোম্পানির শেয়ারদর। গত এপ্রিলের শুরুতেও বন্ধ এই কোম্পানির শেয়ার ২৬ টাকা দরে কেনাবেচা হয়। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার শেয়ারবাজার ডিএসইতে এ শেয়ার সর্বশেষ কেনাবেচা হয়েছে ৮২ টাকা ৯০ পয়সায়। এই দর শেয়ারটির এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত দু্ই মাসেরও কম সময়ে এই কোম্পানির শেয়ারের দর তিন গুণ হয়েছে। এর মধ্যে গত এক মাসেই হয়েছে দ্বিগুণ। অথচ তালিকাভুক্ত এ কোম্পানিটির উৎপাদন ও ব্যবসা কার্যক্রম প্রায় দুই যুগ ধরে বন্ধ। ১২ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের এই কোম্পানির অর্ধেকের বেশি শেয়ার ব্যক্তি শ্রেণির বিনিয়োগকারীর হাতে।

অস্বাভাবিক এ দর বাড়ার নেপথ্যের কারণ খুঁজতে তদন্ত শুরু করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি থেকেও স্টক এক্সচেঞ্জকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা সমকালকে জানান, কারসাজি ছাড়া এ শেয়ারের দর এতটা বাড়ে না। কোম্পানিটির শেয়ারদর বাড়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। প্রায় প্রতিবছর শেয়ারটি নিয়ে একাধিক দফায় কারসাজি করে দর বাড়িয়ে মুনাফা করছে একাধিক চক্র। এ নিয়ে বহু তদন্ত হয়েছে, কারসাজি থামছে না।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট দিনে কোনো শেয়ারের দর যতটা বাড়বে বা কমতে পারে (শেয়ারদরে সার্কিট ব্রেকার), সে হিসাবে গতকালসহ ঈদের ছুটির পর দুই দিনে সর্বোচ্চ হারে বেড়েছে। গতকাল সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর পৌনে এক ঘণ্টার মধ্যে শেয়ারটির দর দিনের সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ দরে (৮২ টাকা ৯০ পয়সায়) উঠে যায়। তা সত্ত্বেও পৌনে তিন কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।
শুধু মেঘনা পেট নয়, গত কয়েক মাস ধরে একই ব্যবসায়ী গ্রুপের মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক নামে কোম্পানিটিরও শেয়ারদর বাড়ছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষে এ কোম্পানির শেয়ারদর ২৪ টাকায় কেনাবেচা হয়েছিল। কয়েক দফায় বেড়ে এ শেয়ারটি ৪৬ টাকা ১০ পয়সায় কেনাবেচা হয়েছে।

হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঋণ দিতে বিশেষ নির্দেশনা

সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের হাওরাঞ্চলে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকদের সহায়তায় বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জারি করা এক সার্কুলারে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণ দিতে ব্যাংকগুলােকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে– সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের হাওর এলাকায় সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিজনিত ফসলহানির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকদের ঋণ বিতরণে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ‘কৃষক স্মার্ট কার্ড নীতিমালা-২০২৫’ অনুযায়ী স্মার্ট কার্ডধারী কৃষক এবং ১০ টাকার হিসাবধারী প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকরা এ ঋণের আওতায় আসবেন।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের স্মার্ট কার্ড থাকুক বা না থাকুক, হাওরাঞ্চল বা দেশের অন্যত্র যাতে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো কৃষক কোনোভাবেই ঋণপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে সচেষ্ট থাকতে হবে।

এবারের দুর্যোগে হাওরাঞ্চলের সাতটি জেলায় ফসলের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। বেসরকারি হিসাবে হাওর এলাকায় এক লাখ ১২ হাজারেরও বেশি কৃষক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে নেত্রকোনাতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা প্রায় ৭৮ হাজার, কিশোরগঞ্জে ৫২ হাজার ৫০০ এবং সুনামগঞ্জে ৬০ হাজারের বেশি কৃষি পরিবার বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী সাতটি হাওর অধ্যুষিত জেলায় প্রায় ৪৬ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়, যা মোট আবাদি জমির ১০ শতাংশের বেশি। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। তাদের প্রায় ২০-২৫ শতাংশ ধান নষ্ট হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় কৃষকদের।

সার্কুলার জারি স্মার্ট কার্ডধারী কৃষকরা ঋণে অগ্রাধিকার পাবেন

কৃষক স্মার্ট কার্ডধারী প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকদের ঋণ বিতরণে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক গ্রীষ্মকালীন অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদেরও পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় দ্রুত ঋণ সহায়তা দিতে ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্ট থেকে থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, ১০/৫০/১০০ টাকার হিসাবধারী প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষক, নিম্নআয়ের পেশাজীবী, স্কুল ব্যাংকিং হিসাবধারী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য গঠিত পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’-এর আওতায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রণীত ‘কৃষক স্মার্ট কার্ড নীতিমালা-২০২৫’ অনুসারে কৃষক স্মার্ট কার্ডধারী প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকদের ১০ টাকার হিসাব খোলা এবং ঋণ বিতরণে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে কার্ড না থাকা প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকরা যাতে কোনোভাবে ঋণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়েও ব্যাংকগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সম্প্রতি গ্রীষ্মকালীন অতিবৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে হাওর এলাকায় পাকা ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের হাওর এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য জেলার অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকদের ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ উদ্যোগের ফলে কৃষক স্মার্ট কার্ড কর্মসূচির সঙ্গে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কার্যক্রমের সমন্বয় আরও জোরদার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র কৃষকদের উৎপাদন কার্যক্রম পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করতেও এটি সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ইতালি

ইতালির দক্ষিণাঞ্চলের কালাব্রিয়া অঞ্চলের উপকূলের কাছে ৬ দশমিক ২ মাত্রার এই ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনও হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

বার্তাসংস্থা আনাদোলু জানায়, ইতালির দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলের কাছে গতকাল সোমবার গভীর রাতে ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) এ তথ্য জানায়।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ২৪৭ কিলোমিটার (১৫৩ মাইল) গভীরে। এটি কালাব্রিয়া অঞ্চলের কোসেনজা শহর থেকে প্রায় ৩৮ কিলোমিটার (২৩ মাইল) দূরে আঘাত হানে। ভূমিকম্পের পর তাৎক্ষণিকভাবে কোনও হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে ফক্স ওয়েদারের প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ মঙ্গলবার ভোরের দিকে দক্ষিণ ইতালির বাসিন্দারা এই ভূমিকম্পের কম্পন অনুভব করেন।

ইউএসজিএস জানায়, ইতালির সারাসেনা শহরের প্রায় ১০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে স্থানীয় সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার রাত ১২টা ১২ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১৫৩ মাইলের বেশি এবং এটি কালাব্রিয়ার কোসেনজা শহর থেকে প্রায় ২৩ মাইল দূরে ছিল।

‘আমার বউ সব জানে’

সাজ্জাদ-খুশবুর সংসারের বয়স ৮ মাস। সাজ্জাদ চাকরি করে আর খুশবু ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে মুঠোফোনে দুজনের কথা হয়। ইদানিং সাজ্জাদ সম্পর্কে খুশবুর কানে কিছু উড়ো খবর আসে। নীচতলার ভাবি নাকি সাজ্জাদকে কোন মেয়ের সাথে ঘুরতে দেখেছে। ভাবীর কথায় মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে খুশবুর।

সাজ্জাদ অফিস থেকে ফিরতেই শুরু হয় কথা কাটাকাটি। এর কিছুদিন যেতে না যেতই খুশবুর এক বান্ধবী জানায়, খুশবু আর সাজ্জাদকে নাকি গতকাল সন্ধ্যায় এক রেস্টুরেন্টে দেখেছে সে। খুশবু ভাবে, সে তো ছিলো না, তাহলে মেয়েটি কে। আবার কথা কাটাকাটি।

একদিন খুশবুকে নিয়ে শপিংয়ে বের হয় সাজ্জাদ। মার্কেটে সাজ্জাদের প্রাক্তন প্রেমিকার সঙ্গে দেখা হয়। সাজ্জাদ স্ত্রীর সঙ্গে প্রাক্তন প্রেমিকার পরিচয় করিয়ে দেয়। এবার খুশবুর সন্দেহ বিশ্বাসে রূপ নেয়। আবার ঝগড়াঝাটি, এবার খুশবু ব্যাগ গুছিয়ে বাবার বাড়ি চলে যায়। বলে যায়, আর ফিরবেনা। এমনই গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে ঈদের বিশেষ নাটক ‘আমার বউ সব জানে’।

মারুফ হোসেন সজীবের পরিচালনায় নাটকের প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন খায়রুল বাসার ও আনিকা আইরা। নাটকটি প্রচার হবে আগামীকাল বুধবার রাত ১০টায় দীপ্ত টিভিতে।

সরকারের বিরুদ্ধে এখনও চক্রান্তের জাল বিস্তার করার চেষ্টা চলছে: রিজভী

সরকারের বিরুদ্ধে নানাভাবে এখনও চক্রান্তের এক বিরাট জাল বিস্তার করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, এই সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুধু নয়, মব কালচার তৈরি করা হচ্ছে।

সোমবার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নীচতলায় দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রিক্সা ভ্যান অটোচালক দল।

রিজভী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকে এখন পর্যন্ত সেটা হচ্ছে কর্মসংস্থানের সরকার, বেকার তৈরি করার সরকার না। বিএনপি বেকার তৈরি করেনি, বিএনপি কর্মসংস্থান তৈরি করেছে। এই যে আজকে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিদেশে কোটির উপরে লোক সেখানে কাজ করে, এই কোটির উপর লোকের কর্মসংস্থানের মূল নায়ক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সেই থেকে শুরু হয়েছে বিদেশী কর্মসংস্থান।

তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের এই দেশে কেউ বেকার থাকবে না। নানা সেক্টরে নানা উদ্যোগে চাকরি ব্যবস্থা করা হবে। হকার উচ্ছেদ করা হলেও তাদেরকে পুনবাসন করা হবে। কারণ তাদের সন্তান ও পরিবারকে দেখার দায়িত্ব সরকারের।

আওয়ামী লীগের ৭২ থেকে ৭৫- শাসন আমলের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, শেখ মুজিবের শাসন আমলে রংপুর-কুড়িগ্রাম অঞ্চলে শাড়ি না পেয়ে মাছ ধরার জাল পরে লজ্জা নিবারণ করেছে বাসন্তী। বাসন্তীর ছবি উঠেছিল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। তার মানে কাপড় নেই, খাওয়া নেই, জীবনযাপনের কোনো ঠাঁই নেই—এই পরিস্থিতি ছিল ৭২ থেকে ৭৫-এ। তাঁর সাড়ে তিন বছর যেভাবে বাংলাদেশে দুঃশাসন চালিয়ে, অপশাসন চালিয়ে গোটা জাতিকে কৃতদাস বানানোর চেষ্টা করেছিল এবং তার প্রভুদের কৃতদাস বানানোর চেষ্টা করেছিল।

তিনি বলেন, জনগণের টাকা বিভিন্ন প্রজেক্টের মাধ্যমে টাকা পাচার করেছে। ২৮ লক্ষ কোটি টাকা ১৬ বছরে শেখ হাসিনা এবং তার দোসররা, তার আত্মীয়-স্বজনরা, তার দলের লোকরা পাচার করেছে।

জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, তারা বলে ‘ আমরা ওদের (আওয়ামী লীগ) সব ক্ষমা করে দিব। ক্ষমা করলে কি আপনাদের বাঁচাবে? আপনারা বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলার জন্য আন্দোলন করেছিলেন তাদের সাথে ৯৪, ৯৫, ৯৬-এ, তার পরিণতি কি হয়েছে? তার পরিণতি হয়েছে আপনাদের নেতাদের ফাঁসি দিয়ে দিয়েছে। এই গায়ে পড়ে পিরিত করার পরিণাম কত ভয়াবহ হয়েছে?

মব কালচারকে ভয়ঙ্কর প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, আজকে যদি কোনো ছিদ্রপথে পুরনো ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটে আপনারা কিন্তু কেউ রক্ষা পাবেন না। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব তো যাবেই, গণতন্ত্র তো গোরস্তানে চলে যাবে। তারপরের কি ভয়াবহ পরিণতি হয়, সেটা আপনারা টের পাবেন। সুতরাং সময় থাকতে সাবধান হওয়া সবচাইতে ভালো।

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো আধিপত্য শক্তির কাছে মাথানত করেনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন প্রশাসক আব্দুস সালাম, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির আহ্বায়ক আরিফুর রহমান তুষার পরে সংগঠনটির পক্ষ থেকে গরিব ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ করা হয়।

ইরানের বিশ্বকাপ দলে নেই তারকা ফরোয়ার্ড সারদার আজমুন

আসন্ন বিশ্বকাপ উপলক্ষে ঘোষিত ইরানের জাতীয় ফুটবল দলে জায়গা পাননি তারকা ফরোয়ার্ড সারদার আজমুন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির বর্তমান শাসক গোষ্ঠীর প্রতি আজমুনের অনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠাতেই দল থেকে ছিটকে পড়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

সোমবার বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজমুন বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি ক্লাবের হয়ে খেলেন। গত মার্চে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের সঙ্গে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার পরেই ইরান সরকারের অসন্তোষের মুখে পড়েন।

চলমান আঞ্চলিক রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘটনা আরও গুরুত্ব পেয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু স্থাপনায় হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে উল্লেখ রয়েছে।

ইরানের হয়ে এখন পর্যন্ত ৯১ ম্যাচে ৫৭ গোল করা আজমুন প্রাথমিক দলেও জায়গা পাননি। জাতীয় দলের কোচ আবারও তাকে বড় টুর্নামেন্টের পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করেননি বলে জানা গেছে।

এদিকে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। প্রতিযোগিতা শুরু হবে আগামী জুন মাসের মাঝামাঝি।

ইরান দল তাদের প্রস্তুতি শিবির মেক্সিকোতে সরিয়ে নিয়েছে। মেক্সিকোর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরান দলকে আয়োজক দেশে স্বাগত জানাতে অনিচ্ছুক ছিল।

ইরান তাদের গ্রুপ পর্বে বিভিন্ন শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে বলে নির্ধারিত রয়েছে।

দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে দলে আছেন ফরোয়ার্ড মেহদি তারেমি ও আলিরেজা জাহানবাখশ।

তারেমি বর্তমানে গ্রিসের একটি ক্লাবে খেলেন, আর জাহানবাখশ খেলছেন বেলজিয়ামের একটি ক্লাবে।

দল ঘোষণা ঘিরে আজমুনের অনুপস্থিতি নিয়ে দেশটির ফুটবল অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।

দেশে ফিরেছেন ১৭ হাজার ৬৮৯ হাজি, মারা গেছেন ৪২

পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে এখন পর্যন্ত ৪৩টি ফিরতি ফ্লাইটের মাধ্যমে মোট ১৭ হাজার ৬৮৯ জন বাংলাদেশি হাজি দেশে ফিরেছেন। এছাড়া সৌদি আরবে হজ করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৪২ জন হাজি মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের মধ্যে ২৭ জন পুরুষ এবং ১৫ জন নারী রয়েছেন। এর মধ্যে ৩২ জন মক্কায় এবং ১০ জন মদিনায় মারা গেছেন।

আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত এ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

প্রসঙ্গত, এ বছর হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয় গত ২৬ জুন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত তিনটি বিমান সংস্থা হজের ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১০টি, সাউদিয়া এয়ারলাইনসের ১৫টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ১৮টি ফ্লাইটে করে হাজিরা দেশে ফেরেন।

এদিকে হজ অফিস জানায়, ফেরত আসা হাজিদের মধ্যে ২ হাজার ৮২ জন সরকারি এবং ১৫ হাজার ৬০৭ জন বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবস্থাপনায় দেশে এসে পৌঁছেছেন।

উল্লেখ্য, এ বছরের ১৮ এপ্রিল প্রথম ফ্লাইটের মাধ্যমে হজ কার্যক্রম শুরু হয় এবং শেষ হয় ২১ মে। আর ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে গত ৩০ মে থেকে। এটি চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত।

ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তপ্ত ফোনালাপ লেবাননে বড় সামরিক অভিযান স্থগিত নেতানিয়াহুর

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে পরিকল্পিত একটি বড় সামরিক অভিযান শেষ মুহূর্তে স্থগিত করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে উত্তপ্ত আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বার্তাসংস্থা সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যকার টেলিফোন আলাপ ছিল অত্যন্ত উত্তপ্ত। আলোচনার সময় দুই নেতার মধ্যে তীব্র বাক্যবিনিময় হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক কর্মকর্তার দাবি অনুযায়ী, ট্রাম্প আলোচনার সময় নেতানিয়াহুর সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জোরালো অবস্থান নেন।

এদিকে সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, তিনি নেতানিয়াহুকে বৈরুতে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা না করার আহ্বান জানান। তার দাবি, আলোচনার পর ইসরায়েলি বাহিনী অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা থেকে সরে আসে।

এর আগে নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেছিলেন, হিজবুল্লাহর হামলা অব্যাহত থাকলে বৈরুতের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান চালানো হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তিনি হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন এবং উভয় পক্ষই হামলা বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ উভয়েই সংঘর্ষ থেকে বিরত থাকার আশ্বাস দিয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আলোচনা বন্ধ হয়ে গেলেও তিনি তা নিয়ে উদ্বিগ্ন নন। তার মতে, কূটনৈতিক আলোচনার পথ সবসময় উন্মুক্ত থাকা উচিত এবং পরিস্থিতি আরও জটিল করার মতো পদক্ষেপ এড়ানো প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা প্রায় দুই মাস আগে প্রতিষ্ঠিত যুদ্ধবিরতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে।

তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে ৪০ জেলা

প্রচণ্ড রোদ আর তাপমাত্রা বেড়ে সর্বত্রই বিরাজ করছে তীব্র গরম। ঘরে-বাইরে কোথাও স্বস্তি নেই। প্রখর রোদে পথঘাট সবকিছুই উত্তপ্ত। তীব্র এই গরমে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও শ্রমজীবী মানুষ। রাস্তাঘাটে লোকজন কম বের হওয়ায় আয় কমেছে তাদের। ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। শুধু তাই নয়, গরমে হাঁসফাঁস করছে প্রাণিকুলও।

আজ মঙ্গলবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকাসহ দেশের ৪০ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। এ ছাড়া চার বিভাগের বিভিন্ন জায়গায় বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি তিন বিভাগে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ ছাড়া ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

বৃষ্টি নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশটি পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিরাজমান রয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমীবায়ু টেকনাফ উপকূল পর্যন্ত অগ্রসর হতে পারে— এমন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে খুলনায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে কুমিল্লায় ৫৪ মিলিমিটার।