উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের অগ্রসৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক মন্ত্রী ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া তার মরদেহে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বাদ জোহর ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ অংশ নেন এবং তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
জানাজা শেষে তোফায়েল আহমেদের মরদেহ ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে নেওয়া হয়। সেখানে আরেক দফা জানাজা বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।
জীবদ্দশায় নিজের জন্মভূমি ভোলার মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তোফায়েল আহমেদ, পরিবারের সদস্যরা সেই ইচ্ছাই পূরণ করছেন।
এর আগে রাজধানী থেকে হেলিকপ্টারযোগে তোফায়েল আহমেদের মরদেহ ভোলায় আনা হয়। ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে জানাজায় রাজনৈতিক নেতারা, প্রশাসনের কর্মকর্তা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তোফায়েল আহমেদ। এরপর গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন মামলার বাদী ও ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা এবং মা পারভীন আক্তার। এ সময় আদালতে রোমহর্ষক বর্ণনা দেন তারা।
আজ মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে তারা এই সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। অসুস্থ বোধ করায় আদালতের অনুমতি নিয়ে চেয়ার বসে সাক্ষ্য দেন তিনি।
আদালতে তিনি বলেন, ঘটনার দিন ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অফিসের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন। ক্যান্টনমেন্ট হয়ে বনানী কাকলীতে পৌঁছে অফিসে যাওয়ার পর স্ত্রী পারভীন আক্তারের ফোন পেয়ে দ্রুত বাসায় ফিরে আসেন। বাসায় এসে দেখেন ভবনের সামনে অনেক লোকজন জড়ো হয়েছে। পরে তৃতীয় তলায় আসামিদের ফ্ল্যাটের সামনে গেলে স্ত্রী জানান, রামিসা পাশের ফ্ল্যাটের ভেতরে আটকা রয়েছে। আশপাশের লোকজন দরজা খুলতে ব্যর্থ হয়ে ভাঙার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ভেতর থেকে দরজার মূল লক খুলে দেন আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন। পরে সবাই ঘরের ভেতরে প্রবেশ করলে তিনি টয়লেটের সামনে রক্ত দেখতে পান। স্বপ্না খাতুন তখন সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পরে আসামিদের ব্যবহৃত কক্ষের স্টিলের খাট উঁচু করে নিজের মেয়ের বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন বলে আদালতে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ এসে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করার পর তিনি থানায় গিয়ে ঘটনার বিষয়ে এজাহার দায়ের করেন।
জেরাকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। ঘটনার সময় ও অফিস থেকে বাসায় ফেরার সময় ও এবং পুরো ঘটনা নিজ চোখে দেখেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি যতটুকু দেখেছি, তা-ই বলেছি।” আসামিদের সঙ্গে পূর্ব পরিচয় বা শত্রুতা ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন। সাক্ষ্য শেষে তিনি পুলিশের সহায়তায় বিমর্ষ অবস্থায় আদালত ত্যাগ করেন।
এদিকে আদালতে সাক্ষ্য দেন রামিসার মা পারভীন আক্তারও। তিনি বলেন, ঘটনার দিন সকালে রান্নার কাজ করছিলেন। বড় মেয়ে রাইসাকে ছোট মেয়ে রামিসাকে নিয়ে চাচার বাসায় যেতে বলেন। পরে রান্নাঘরে থাকা অবস্থায় শিশুদের শব্দ না পেয়ে তিনি ধারণা করেন তারা চলে গেছে। কিছুক্ষণ পর তিনি চিৎকারের শব্দ শুনলেও সেটি দূরে মনে হয়েছিল বলে জানান। পরে গেটের সামনে গিয়ে দরজা খোলা দেখতে পান।
বড় মেয়ে ফিরে এলে রামিসাকে না পেয়ে ভবনের বিভিন্ন তলায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে তৃতীয় তলায় আসামিদের ফ্ল্যাটে গিয়ে বারবার দরজা ধাক্কা দিলেও কেউ খুলছিল না। তিনি জানান, দরজার নিচে রামিসার জুতা দেখতে পান। এরপর চিৎকার শুরু করলে ভবনের লোকজন জড়ো হয় এবং তিনি স্বামীকে ফোন দেন। আশপাশের লোকজন উঁকি দিয়ে কিছু দেখতে না পেলেও রাজু নামে এক যুবক ভিডিও করলে দেখা যায়, ভেতরে স্বপ্না খাতুন হাঁটাহাঁটি করছেন। একপর্যায়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে বাথরুমে রক্ত দেখতে পান সবাই।
পারভীন আক্তার বলেন, তিনি বারবার স্বপ্না খাতুনকে দরজা খুলতে বললেও তিনি দরজা খোলেননি। পরে পুলিশ এসে রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে। আদালতে কাঠগড়ায় থাকা স্বপ্না খাতুনকে দেখিয়ে তিনি বলেন, “ওরে ওই সময় বলছি, বোন দরজা খুলে দে।” এ ছাড়া আসামি সোহেল রানাকে দেখিয়ে তিনি বলেন, “ধর্ষণ ও হত্যাও করেছে।”
জেরাকালে আসামিপক্ষের আইনজীবীর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সোহেল রানা খুন করেছেন এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন তাকে সহযোগিতা করেন। এ ছাড়া সোহেল গ্রিল কেটে পালিয়েছে বলে আশপাশের লোকজনের কাছে শুনেছেন বলেও আদালতকে জানান তিনি।
সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের দিন ধার্য করেন আদালত।
শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক।। চিত্রনাট্য একই, ইসলাম অবমাননা, শুধু স্থান-কাল পাত্র ভিন্ন। ইসলাম ধর্ম অবমাননা একটি ফাঁদ, হিন্দুদের বিরুদ্ধে এই ফাঁদটি ব্যবহৃত হয়, প্রায়শ: পরিকল্পিত। লক্ষ্য হিন্দুদের দেশত্যাগ করানো, ধর্মান্তরকরন, চাকুরীচ্যুতি, সম্পত্তি দখল, অথবা ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করা। এতে ধর্মের কোন বিষয় নেই, বরং ধর্মকে ব্যবহার করে স্বার্থসিদ্ধি। এটি নুতন ধান্ধা? খুব যে নুতন তাও নয়, ২০১২ সালে ‘রামু’র ঘটনা থেকে এর নুতন করে যাত্রা শুরু। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এটুকু বলা যায়, হিন্দুরা বাংলাদেশে ইসলাম বা নবীর অবমাননা করেনা, এতটা সাহস তাদের নেই, রুচিও নেই। একশ্রেণীর মুসলমানই ইসলামের অবমাননা করে থাকে, যেমন রামু, নাসিরনগর, কুমিল্লার ঘটনা, প্রতিটি ক্ষেত্রে একজন মুসলমান হিন্দু নাম নিয়ে ইসলামের অবমাননা করেছে। নাসিরনগরে জাহাঙ্গীর কাবার ওপর শীবের মুর্ক্তি স্থাপন করেছিলো, ইকবাল কুমিল্লায় হনুমানের কোলে কোরান রেখেছিলো-এগুলো পরিকল্পিত ঘটনা, এবং হিন্দুদের ফাঁসানো জন্যেই তা করা হয়। আপাতত:তিনদিনে ঘটে যাওয়া ৩টি ঘটনা দেখি:
মিঠু মণ্ডলকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে জোর করে পদত্যাগ করানো হয়েছে: গোপালগঞ্জে মিঠু মণ্ডলকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে প্রথমে আটক করা হয়, এবং এরপর স্কুলের চাকুরী থেকে জোর করে পদত্যাগ করানো হয়। তিনি কোটালীপাড়ায় পিঞ্জরী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে কর্মমত ছিলেন। সনাতন টিভি মিঠু মন্ডলের হাতের লেখা পদত্যাগ পত্রটি প্রকাশ করেছে। মিঠু মণ্ডল এটি স্বাক্ষর করেছেন ২১শে মে ২০২৬। প্রধান শিক্ষক বরাবরে দেয়া এ পদত্যাগ পত্রে তিনি লিখেছেন, ‘আমি ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে কটূক্তি করায় জনরোষের জন্যে কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদ থেকে পদত্যাগ করছি’। তাঁর পদত্যাগ গৃহীত হয়েছে। তবে মিঠু ঠিক কি বলেছিলেন তা স্পষ্ট নয়। সামাজিক মাধ্যমে জানা যায়, মিঠু নাকি বলেছেন যে, বিশ্বকাপ ফুটবলে কে জিতবে তা আল্লাও জানেনা’। পাঠক, এ মুহূর্তে বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে বিশ্বব্যাপী উন্মাদনা চলছে তা সবার জানা।
স্ত্রীর সাথে মিঠুমিঠুর হাতেলেখা পদত্যাগ পত্র
ভোররাতে আজানে হিন্দুদের অসুবিধা হয় বলায় গৌরাঙ্গ সরকার গ্রেফতার
গৌরাঙ্গ সরকার, ৪৫ সাতক্ষীরার বল্লি মোঃ মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। ক্লাশে পড়াতে গিয়ে কোন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাতে (১২-৬টা) মাইকে আজান দিলে অনেকের অসুবিধা হয়। সাথে যোগ দেন, মন্দিরের মাইকে বাদ্যযন্ত্র বাজালেও অসুবিধে হয়। এ কথায় নাকি ধর্ম অবমাননা হয়েছে! দৈনিক সাতক্ষীরার সময় এবং সাতক্ষীরা ভিশন জানিয়েছে যে, পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। তাঁর চাকুরিটি গেছে। দি বিজ্নেস ষ্ট্যাণ্ডার্ড পত্রিকা ২০শে মে ২০২৬ লিখেছে, গৌরাঙ্গ সরকার হিন্দুদের অসুবিধা হবার কারণে মাইকে উচ্চস্বরে ফজরের আজান (ভোররাতে) বন্ধ করার কথা বলেছেন। সনাতন মিডিয়া গৌরাঙ্গকে গ্রেফতারের ছবি ছাপিয়েছে। সাতক্ষীরা থানায় মামলা হয়েছে ১৯শে মে ২০২৬, মামলার নাম্বার ৪১, সেকশান ২৯৫ক/২৯৮। গৌরাঙ্গ কানধরে জনগণের উদ্দেশ্যে মাফ চান, ঘটনার সূত্রপাত ১৭ই মে ২০২৬ নবম শ্রেণীর অংক ক্লাশে। দি বিজ্নেস টাইমস এ ব্যাপারে একটি বিশদ রিপোর্ট করেছে।
শাওন নাকি কোরানের অবমাননা করেছে?
দিপু চন্দ্র দাসের পর এবার শাওন চন্দ্র দাস, ২৩! চিত্রনাট্য একই, ধর্মীয় অবমাননা। স্থান ময়মনসিংহ। শাওন নাকি তার ‘ইমো’ একাউন্টে ‘কোরান’ নিয়ে আপত্তিকর কথা বলেছেন। স্থানীয় তৌহিদী জনতা এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে, শাওন পালিয়ে যায়, একদিন পর পুলিশ তাঁকে ঢাকার তেজগাঁও থেকে গ্রেফতার করে। জি নিউজ ইংলিশ জানিয়েছে, শাওন মাঝিপাড়া, গৌরীপুরের সাধন চন্দ্র দাসের পুত্র। ভয়েস অফ মাইনরিটি শাওনের বাড়ীঘর ভাংচুরের খবর দিয়েছে।
বাধ্য হয়েই দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দেশের বাজারেও দ্রুত কমানো হবে বলেও জানান তিনি।
আজ সোমবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী।
গতকাল রোববার রাতে ডিজেল ছাড়া অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়ানো হয়, যা আজ সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে।এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানেন যে প্রতিমাসে মূল্য সমন্বয় হয়। মে মাসে মূল্য সমন্বয় হয়নি যেহেতু এপ্রিল মাসে একটি অ্যাডজাস্টমেন্ট (সমন্বয়) করা হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘আমরা একটি কথা কিন্তু বারবার বলবার চেষ্টা করেছি যে, একান্ত যখন উপায়হীন হবে সরকার তখনই এ ধরনের অপ্রিয় কিছু সিদ্ধান্ত হয়তো বা সরকার নিতে বাধ্য হবে। তো মিডল ইস্ট ক্রাইসিসের কারণে এ ধরনের বাস্তবতা এসেছে।’
দেশে জ্বালানির ৬৬ শতাংশ ডিজেল জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটার পেছনেই সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি সরকারকে দেওয়া লাগে। কিন্তু তারপরেও কিন্তু এটা আনটাচড। ফর হোয়াট রিজন? সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবে অ্যাফেক্টেড না হন। কিন্তু আমি যেটা বলেছি, আমরা উপায়হীন। এটা আমি শুধু বলছি না, আমার তুলনায় আপনারাও ভালো জানেন। সে ক্ষেত্রে কিছু কিছু জায়গায় বাধ্য হয়ে কিছু অ্যাডজাস্টমেন্ট (সমন্বয়) করতে হচ্ছে।’
তেলের দাম কি পর্যায়ক্রমে আসলে বাড়বে নাকি সমন্বয় হবে? এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘না, না, আমি খুব স্পষ্ট করে বলতে পারি যে আমরা তো আশাবাদী যে মিডল ইস্ট ক্রাইসিস অচিরেই রিজলভ (মধ্যপ্রাচ্য সংকট সমাধান) হবে। আমি খুব দায়িত্ব নিয়েই বলতে পারি যদি গ্লোবাল প্রাইস মানে শার্পলি ডিক্লাইন করে আমরাও খুব শার্পলি এটা অ্যাডজাস্ট (আন্তর্জাতিক বাজারে কমলে দেশের বাজারেও কমবে) করবার চেষ্টা করব।’
মানুষের অতীত অভিজ্ঞতা সুখকর নয় জানিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, ‘মানে বাড়ে যেভাবে হয়তো বা সেভাবে কমে না। কিন্তু আমি এটুকু দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি যদি এই ক্রাইসিস রিজলভ হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য কমে আসে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন, যেহেতু এটা নির্বাচিত সরকার, জনগণের প্রতি আমাদের একটি দায়বদ্ধতা রয়েছে, সেই দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে জনগণের কষ্ট লাঘবের জন্য আমরা তড়িৎ সিদ্ধান্ত নেব ইনশাআল্লাহ।’
দেশের জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর জন্মদিন আজ ১ জুন। বিশেষ এদিনে ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষী শুভেচ্ছায় ভাসছেন তিনি। তাকে ঘিরে ফেসবুকে সহশিল্পীরাও লিখে যাচ্ছেন নানা কথা। তাদের মধ্যে একটি ব্যতিক্রমী শুভেচ্ছাবার্তা দিয়েছেন অভিনেত্রী জয়া আহসান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া সেই পোস্টে জয়া মজার ছলে চঞ্চলের ভিজিটিং কার্ডে থাকা উচিত- এমন তিনটি ‘পেশা’র কথা উল্লেখ করেন।
জয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, চঞ্চলের পরিচয়ের তালিকায় প্রথমেই থাকবে ‘স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান’। দ্বিতীয়- ‘দুরন্ত ড্রাইভার’। আর তৃতীয় নম্বরে থাকবে তার প্রকৃত পেশা ‘অভিনেতা’।
রসিকতাপূর্ণ এই মন্তব্যের মধ্যদিয়ে জয়া আসলে চঞ্চলের বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করেছেন। পোস্টের শেষাংশে তিনি চঞ্চলকে অভিনয়ের জাদুকর এবং অভিনয়শিল্পের এক বিস্ময় বলেও উল্লেখ করেন।
বলা দরকার, জয়া ও চঞ্চলের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবং পেশাগত সম্পর্ক দর্শকদের কাছেও সুপরিচিত। ‘দেবী’ সিনেমায় তাদের জুটি বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সিনেমাতে জয়া অভিনয় করেছিলেন রাণু চরিত্রে আর চঞ্চল পর্দায় জীবন্ত করে তুলেছিলেন কিংবদন্তি চরিত্র মিসির আলিকে।
চঞ্চল চৌধুরীর জন্মদিনের জয়ার এমন শুভেচ্ছাবার্তা শুধু একটি শুভেচ্ছা নয়, বরং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সহকর্মীর প্রতি ভালোবাসারই এক উষ্ণ প্রকাশ হিসেবে দেখছেন নেটিজেনরা।
সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে গত ৭৮ দিনে হাম ও উপসর্গে ৫৮৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
আজ সোমবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত।
এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১৭৯টি শিশু। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৯৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ৯০ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৫৮৮ জন শিশু মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ৪৫ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ১৩৪। এই সময়ে ১ হাজার ১৬ জন শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৮১ জন শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৭২ হাজার ৭০ জন, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৯ হাজার ৯৪ জন। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৫৭ হাজার ৯০২ রোগী, যাদের মধ্যে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে ৫৩ হাজার ৭২২ জন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ অবসান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়াটা অন্যতম প্রধান শর্ত। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যেকোনো প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিতেও হিজবুল্লাহকে সমর্থন দেবে তেহরান।
সোমবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘আমরা জোর দিয়ে বলছি, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যেকোনো চুক্তির জন্য লেবাননে যুদ্ধবিরতি একটি অপরিহার্য শর্ত।’
ইরানের পক্ষ থেকে এমন বার্তার দিনেই লেবাননের রাজধানী বৈরুতের শহরতলীতে বিমান হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাঁর এই নির্দেশের আগে ইসরায়েলি সেনারা ঐতিহ্যবাহী দুর্গ বোফোর্টের দখল নেয়। এরপর এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, ‘এখন আমার নির্দেশ হলো হিজবুল্লাহর নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোতে দখল আরও জোরালো ও সম্প্রসারিত করা।’
হিজবুল্লাহ ইরানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র। ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠীর অবৈধ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন ও লেবাননকে সমর্থন জোগাতে ইরান সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে।’
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে যখন কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, তখনই ইসরায়েল লেবাননে আগ্রাসন জোরালো করেছে। এবার ইরানও হিজবুল্লাহ ও লেবাননকে সমর্থন দেওয়া অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিল।
দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটনের চাওয়া, ইরান যেন তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন দেওয়া বন্ধ করে। যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার শুরুর দিকের প্রস্তাবগুলোতেও এ বিষয়টি শর্ত হিসেবে উল্লেখ ছিল।
দুই ঘন্টার মধ্যে সেনাবাহিনীর মেজর ও ওসিকে পরিবর্তন করার দাবি করেছেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ। সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘দুই ঘণ্টার মধ্যে সেনাবাহিনীর মেজরকে চেইঞ্জ করেছি এখান থেকে, দুই ঘণ্টার মধ্যে ওসিকে চেয়ার থেকে সরিয়েছি।’
গত শনিবার দুপুরে বাউফল উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, “অনেকে বলে, ‘ভোটে এমপি হইছেন।’ আমি বলি, খালি ভোটে এমপি হই নাই, পাওয়ারেও এমপি হইছি। পাওয়ার দেখাইতে আসবেন না। পাওয়ার দেখাইবে পাঁচ লক্ষ মানুষ।”
এসময় তিনি আরও বলেন, ‘শফিকুল ইসলাম মাসুদ কী জিনিস, এইটা বাউফলের মানুষকে দেখানোর দরকার নাই। শেখ হাসিনার কাছে জিজ্ঞেস কইরা জাইনা নিয়েন, শফিকুল ইসলাম মাসুদ কী জিনিস।’
নিজের রাজনৈতিক অতীত ও সাংগঠনিক কর্ম প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জাইনেন, ওখানকার সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসীর কাছে জিজ্ঞেস কইরেন, শফিকুল ইসলাম মাসুদ কী জিনিস। উল্টাপাল্টা কথা বইলা মটকা গরম করবেন না। মটকা বোঝেন? মটকা গরম করবেন না, সামলাইতে পারবেন না।’
বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘শেখ হাসিনা উন্নয়ন তো কম করে নাই; সেতু, সড়কসহ নানা উন্নয়ন, তারপরও পালাতে হয়েছে কেন? উন্নয়ন করে যদি কেউ টিকে থাকতে পারত, তাহলে বাংলাদেশে একমাত্র শেখ হাসিনার টিকে থাকার কথা। কিন্তু পারে নাই কেন? রাস্তা দিছে, ঘাট দিছে, সেতু দিছে—এইটা করছে, ওইটা করছে, কিন্তু মানুষের মনে কোনো আনন্দ ছিল না। মানুষের অধিকার ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, জনগণের অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করা সম্ভব নয়।
বাউফল উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়নে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে উপজেলা জামায়াতের আমির রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। এ সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের সম্পাদক খালিদুজ্জামান।
আগামী ১১ জুন মাঠে গড়াতে যাচ্ছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ। টুর্নামেন্ট শুরুর বাকি আর মাত্র ১০ দিন। ঠিক আগ মুহূর্তে এসে ভারতে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান হয়েছে। ভারতের বহুজাতিক মিডিয়া ও বিনোদন কোম্পানি জি এন্টারটেইনমেন্ট আসন্ন বিশ্বকাপ সরাসরি সম্প্রচারের স্বত্ব অর্জন করেছে। ভারতের কোটি ফুটবল ভক্তের অপেক্ষার অবসান ঘটলেও, বাংলাদেশে বিশ্বকাপ দেখা নিয়ে এখনো কাটেনি অনিশ্চয়তা।
সোমবার জি এন্টারটেইনমেন্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, তারা ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ এবং ২০৩৪ সাল পর্যন্ত আরও ৩৮টি ফিফা ইভেন্ট সম্প্রচারের স্বত্ব পেয়েছে। চুক্তির আর্থিক শর্তাবলী প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। তবে ভারতীয় গণমাধ্যমের দাবি, এই চুক্তির মূল্য ৩০ থেকে ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে হতে পারে। এতে ভারতজুড়ে বেশ স্বল্পমূল্যেই ফুটবল বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিফা প্রাথমিকভাবে ভারতের প্যাকেজটির জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলার চেয়েছিল। পরে তাদের চাওয়া দাম কমিয়ে ৬০ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনে। এর আগে গত ১৫ মে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘সিএমজি’ প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলারে ২০২৬ বিশ্বকাপের একচেটিয়া স্বত্ব কিনে নেয়।
ভারত ও চীনে সম্প্রচার স্বত্ব চূড়ান্ত হলেও বাংলাদেশের দর্শকরা এখনো জানেন না তারা কোথায় দেখবেন বিশ্বকাপ। বাংলাদেশে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্বের জন্য ১ কোটি ২৩ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ১৫০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা) দাবি করেছে ফিফার সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। এর সঙ্গে কর, অগ্রিম আয়কর ও ভ্যাট যুক্ত হলে মোট ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি টাকায় গিয়ে পৌঁছাতে পারে।
বিপুল পরিমাণ এই অর্থের কারণে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বিটিভি কিংবা দেশের অন্য কোনো বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল এখন পর্যন্ত এই চুক্তিতে সম্মত হতে পারেনি। মূলত এই আকাশচুম্বী আর্থিক চাহিদার কারণেই বাংলাদেশে বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যয় সংকোচন করে দেশে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের চেষ্টা এখনো চলমান রয়েছে। আজ বিষয়টি নিয়ে পুনরায় আলোচনা শুরু হওয়ার কথা। বর্তমানে দেশের কয়েকটি বেসরকারি সম্প্রচারমাধ্যম যৌথভাবে স্বত্ব নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। যেখানে টি-স্পোর্টস ও স্টার নিউজের অংশীদারিত্বের একটি উদ্যোগের কথা শোনা যাচ্ছে। পাশাপাশি দুবাইভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় মাধ্যমে বিনা মূল্যে বিশ্বকাপ দেখানোর প্রস্তাব দেওয়া হলেও ফিফা তাতে সায় দেয়নি। সংস্থাটি জানিয়েছে, সম্প্রচার স্বত্বের অর্থ বিভিন্ন দেশের ফুটবল উন্নয়নে ব্যয় করা হয়, তাই বিনা মূল্যে স্বত্ব দেওয়া সম্ভব নয়।
ঈদের ছুটি শেষে গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁও থেকে দুই বোন শনিবার রাতে ঢাকায় ফেরেন। দুটি রিকশায় মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডের বাসার সামনে তারা যখন নামেন, তখন রাত প্রায় ৩টা। সুনসান অবস্থা। রিকশা থেকে লাগেজ নামিয়ে দাঁড়ানোর পরপরই ছিনতাইয়ের শিকার হন তারা। চাপাতির মুখে তাদের লাগেজ ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায় দুই ছিনতাইকারী। পাশের ভবনের সিসি ক্যামেরায় ছিনতাইয়ের দৃশ্য ধরা পড়ে। এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ছিনতাইকারীদের ধরতে তৎপরতা শুরু করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।
মোহাম্মদপুর থানার ওসি মেসবাহ উদ্দিন সোমবার সমকালকে বলেন, ভিডিওতে যে দুই ছিনতাইকারীকে দেখা যাচ্ছে, তাদের একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আশা করি খুব দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।
সোমবার ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, দুই বোন রিকশা থেকে নেমে বাসার গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাদের পাশে দুটি বড় লাগেজ ও দুইটি ছোটো ব্যাগ রাখা ছিল। দুজন রিকশাচালক রিকশার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় চাপাতি হাতে লুঙ্গি পড়া এক ব্যক্তি সেখানে আসেন। মাথায় ক্যাপ ও গায়ে কালো গেঞ্জি। সে একজন রিকশাচালককে প্রথমেই ধাক্কা দেয়। এরপরই চাপাতি হাতে থাকা এই ব্যক্তির সঙ্গে আরেকজনকে দেখা যায়, তার পড়নে প্যান্ট। চাপাতি দিয়ে ভয় দেখিয়ে দুই নারীর সঙ্গে থাকা লাগেজ, ব্যাগসহ জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা। দুই নারী ভয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়েছিলেন।
পুলিশ জানায়, দুই বোন ঠাকুরগাঁও থেকে বাসে করে শ্যামলীতে নামেন। পরে রিকশায় নূরজাহান রোডে বাসার সামনে যান। বাসার সামনেই তারা ছিনতাইয়ের শিকার হন।