Home Blog Page 7

বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষ ময়মনসিংহে নিহত সাতজনের চারজনই একই পরিবারের

ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া বাইপাস সড়কের গন্দ্রপা এলাকায় বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে আকুয়া বাইপাস সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ময়মনসিংহ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান শাকিল জানান, নিহত সাতজনের মধ্যে চারজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা জামালপুর সদর উপজেলার দড়ি হামিদপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং একই পরিবারের সদস্য।

শনাক্ত হওয়া চারজন হলেন— মাকসুদ আলীর স্ত্রী রাশিদা (৭০), তাঁর ছেলে মোস্তফা খন্দকার হোসেন (৫০), পুত্রবধূ মর্জিনা (২৫) ও নাতি মিয়ান (৫)। নিহত অপর তিনজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর থেকে ঢাকাগামী ‘রাজীব পরিবহন’-এর একটি বাস দুপুরে আকুয়া বাইপাস সড়ক দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা মুক্তাগাছাগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার চালকসহ সাতজন নিহত হন।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। দুর্ঘটনার শিকার বাস ও অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রকে সমৃদ্ধ করছে বাংলাদেশী কমিউনিটি

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ পরিশ্রম, উদ্যোক্তা মনোভাব, পারিবারিক মূল্যবোধ ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্রকে সমৃদ্ধ করছে বাংলাদেশী কমিউনিটি। বাংলাদেশী আমেরিকানরা এই দেশের অগ্রগতির অংশীদার, তাঁদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় পাশে থাকতে হবে। টাইম টেলিভিশনের এক যুগ ও বাংলা পত্রিকা’র ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসম্যান ও প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাটিক দলীয় নেতা হাকিম জেফ্রিস বাংলাদেশী কমিউনিটির অবদান তুলে ধরে এ অঙ্গীকার করেন। অনুষ্ঠানের অন্যান্য বক্তারাও কমিউনিটির অগ্রযাত্রার টাইম টেলিভিশন ও প্রশংসা করে নাগরিক অংশগ্রহণ, নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব এবং স্বাধীন গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর, রোববার নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়া ওয়ার্ল্ড ম্যানরের বলরুমে দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিকেলে মূল পর্ব শুরু হয় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। এর আগে অপরাহ্নে ফিতা কেটে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের টাইটেল স্পন্সর ও ফ্লোরিডার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মনির হোসেন। এতে মূলধারার জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, পেশাজীবি, ব্যবসায়ী ও কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিরুপ প্রকৃতি উপেক্ষা করে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী সপরিবারে অংশ নেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে ছিল বিজনেস এক্সপো, একাধিক সেমিনার, শুভেচ্ছা বিনিময় ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। বাংলা পত্রিকা’র তিন দশক এবং টাইম টেলিভিশনের এক যুগের পথচলা উদ্যাপনের পাশাপাশি আলোচনায় উঠে আসে প্রবাসীদের অর্জন, বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যতের করণীয়।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং, নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর জন সি ল্যু, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলী সদস্য জেসিকা গনজালেজ রোহাস ও প্যাট্রিক মার্টিনেজ, প্রবীণ সাংবাদিক মনজুর আহমদ, অনুষ্ঠানের টাইটেল স্পন্সর ও ফ্লোরিডার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মনির হোসেন, সাউথ এশিয়ান জার্নালিস্টস এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক শ্রী শ্রীনিবাসন, নিউজার্সীর মনমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. গোলাম এম. মাতবর, এটর্নি মীর মিজানুর রহমান, বাংলা পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহাসান, কুইন্স ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এট লার্জ অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী, অধ্যাপক ডক্টর শওকত আলী, বিশিষ্ট রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী আলহাজ সোলায়মান ভূইয়া, ডাক্তার বর্নালী হাসান, আরমান চৌধুরী সিপিএ, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম, মামুন টিউটেরিয়াল-এর কর্ণধার শেখ আল মামুন, পার্কচেস্টারের রিয়েল এস্টেট এর কর্ণধার সালেহউদ্দিন সাল, রিয়েল এস্টেট ইন্সট্রাক্টর আজিজুল হক মুন্না, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট আমীন মেহেদী এবং নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি তরুণ বক্তা নাবিল এইচ মুহিত প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, সিনিয়র সাংবাদিক মঈনুদ্দীন নাসের, মাহমুদ খান তাসের ও সাঈদ তারেক, বাংলা পত্রিকা’র সাবেক বার্তা সম্পাদক হাবিব রহমান, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম মজুমদার, সাপ্তাহিক নবযুগ সম্পাদক শাহাবুদ্দীন সাগর, সাপ্তাহিক হককথা ও ইউএনএ সম্পাদক এবিএম সালাহউদ্দিন আহমেদ, সাপ্তাহিক যুগান্তর সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, অ্যাসাল-এর প্রতিষ্ঠাতা মাফ মিজবাহ উদ্দিন, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি নার্গিস আহমেদ ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কাজী হেলাল আহমেদ, ফার্মাসিস্ট সাহাব আহমেদ ও মোস্তাক আহমেদ, জাকির চৌধুরী সিপিএ, ডাক্তার জুন্নুন চৌধুরী, ডাক্তার ইনামুল হক এম সবুর, মিয়া মোহাম্মদ আবজাল, বেস্ট কেয়ার হোম সার্ভিস-এর প্রেসিডেন্ট ও সিওও ব্রায়েন শীল, বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রোকন হাকিম, বাগ-এর সভাপতি জয়নাল আবেদীন ও সাধারণ সম্পাদক শাহানা মাসুম, কবি ও লেখক এবিএম সালেহ উদ্দিন, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট আব্দুস শহীদ, দুলাল মিয়া এনাম, কাজী ফৌজিয়া, মাজেদা উদ্দিন, ঢাকা জেলা এসোসিয়েশনের সভাপতি দুলাল বেহেদু, বিশিষ্ট রাজনীতিক জিল্লুর রহমান জিল্লু, মূলধারার রাজনীতিক খোরশেদ খন্দকার, ব্যবসায়ী ও শেফ খলিলুর রহমান, এস্টোরিয়া ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সভাপতি সোহেল আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মো. জাবেদ উদ্দিন, সহ সভাপতি কয়েস আহমেদ, ডেভিড সরকার, মীর মোহাম্মদ হোসেন সহ বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বাংলাদেশী-আমেরিকানদের অবদানের স্বীকৃতির সঙ্গে উঠে আসে অভিবাসীদের অনিশ্চয়তা, জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং কমিউনিটির রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গ।

বাংলা পত্রিকার তিন দশক ও টাইম টেলিভিশনের এক যুগের পথচলাকে ঘিরে বক্তাদের অভিনন্দনের সঙ্গে উঠে আসে ভবিষ্যতের প্রত্যাশাও। নির্ভরযোগ্য সংবাদ পরিবেশন, মানুষের সমস্যার কথা তুলে ধরা এবং প্রজন্মের মধ্যে সংযোগ তৈরির কাজে দুই প্রতিষ্ঠান আরও এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তাঁরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশী আমেরিকানদের অবদানের প্রশংসা করে হাকিম জেফ্রিস বলেন, এই কমিউনিটি পরিশ্রমী, উদ্যোগী, পরিবারকেন্দ্রিক, পারস্পরিক সম্পর্কের প্রতি যত্নশীল এবং দেশপ্রেমিক। ব্যবসা, পেশা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাঁরা নিউইয়র্ক সিটি এবং যুক্তরাষ্ট্রকে শক্তিশালী করছেন। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা বাংলাদেশি আমেরিকানদের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষায় পাশে থাকবেন বলে অঙ্গীকার করেন তিনি।

হাকিম জেফ্রিস তার বক্তব্যে নিউইয়র্ক পুলিশের বাংলাদেশী আমেরিকান কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামের আত্মত্যাগ স্মরণ করে বলেন, তাঁর জীবন ও আত্মত্যাগ নিউইয়র্কের সেরা মূল্যবোধ এবং বাংলাদেশী অভিবাসী কমিউনিটির অবদানের প্রতিফলন। বিভিন্ন দেশ ও পটভূমি থেকে আসা মানুষের ঐক্যই যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অভিবাসন প্রসঙ্গে জেফ্রিস বলেন, আইসের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সামগ্রিক অভিবাসন সংস্কারের জন্য তাঁরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অভিবাসীদের অবদান কুইন্স, ব্রুকলীন, নিউইয়র্ক সিটি ও যুক্তরাষ্ট্রকে সমৃদ্ধ করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

হাকিম জেফ্রিস বক্তব্যের শুরুতে এই আয়োজনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, স্টেট অ্যাসেম্বলীর সদস্য হিসেবে তিনি এই অনুষ্ঠানে এসেছেন, কংগ্রেস সদস্য হিসেবেও অংশ নিয়েছেন। এবার উপস্থিত হয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাটিক নেতা হিসেবে। টাইম টেলিভিশন ও বাংলা পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে অংশ নিতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করে তিনি প্রতিষ্ঠান দুটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান।

জেফ্রিসের বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পায় স্বাধীন কমিউনিটি সাংবাদিকতা। তিনি বলেন, নিজের কমিউনিটি, সিটি ও দেশের চলমান ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে মানুষকে অবহিত রাখতে টাইম টেলিভিশন ও বাংলা পত্রিকা কাজ করছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অপরিহার্য। জনগণের সরকার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বকে সম্মান করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী রক্ষার অঙ্গীকার করে জেফ্রিস বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে যা-ই বলুন, প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাটরা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করে যাবেন। প্রতিকূলতার মধ্যেও সত্য তুলে ধরার জন্য টাইম টেলিভিশনকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে জেফ্রিস অভিযোগ করেন, অর্থনীতি, সরকারি শিক্ষা, খাদ্যসহায়তা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং আইন মেনে চলা অভিবাসী কমিউনিটি রিপাবলিকানদের নীতির চাপের মুখে রয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও মানুষের দৈনন্দিন জীবন এখনও ব্যয়বহুল বলে মন্তব্য করেন তিনি। ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবা সাশ্রয়ী করা এবং অভিবাসী পরিবারগুলোর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন এই কংগ্রেস নেতা।

টাইম টেলিভিশনের এ দীর্ঘযাত্রায় সিইও আবু তাহের ও পরিচালক সৈয়দ ইলিয়াস খসরুসহ সকলের অবদান স্মরণ করে বিশেষ ধন্যবাদ জানান হাকিম জেফ্রিস।
কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং বাংলাদেশী আমেরিকান কমিউনিটির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন, এই কমিউনিটি যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়েছে। বহু বাংলাদেশী আমেরিকানের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা তাঁর জন্য সম্মানের। টাইম টেলিভিশন ও বাংলা পত্রিকার অগ্রযাত্রায় আবু তাহের এবং সংশ্লিষ্ট সবার অবদানের প্রশংসা করেন তিনি।
বাংলাদেশী কমিউনিটির বিভিন্ন দাবির পক্ষে নিজের কাজের বিবরণ দিতে গিয়ে গ্রেস মেং ঈদের দিন ফেডারেল ছুটির স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগের কথা বলেন। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের লক্ষ্য ও আদর্শ সমর্থন এবং হালাল খাবারের প্রাপ্যতা বাড়ানোর প্রচেষ্টার কথাও উল্লেখ করেন। ইসলামবিদ্বেষ মোকাবিলা এবং হুমকি ও আক্রমণ থেকে কমিউনিটিকে সুরক্ষিত রাখার কাজে পাশে থাকার অঙ্গীকার জানান তিনি।

গ্রেস মেং অভিযোগ করেন, বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে এবং কর্মজীবী পরিবারগুলোর জীবনযাত্রা আরও ব্যয়বহুল করেছে। স্ন্যাপ, মেডিকেইডসহ প্রয়োজনীয় কর্মসূচিতে কাটছাঁটের সমালোচনা করেন তিনি। এসব নীতির নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর জোর দিয়ে বাংলাদেশী আমেরিকানদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলী সদস্য জেসিকা গনজালেজ রোহাস বলেন, কুইন্সের বাংলাদেশী কমিউনিটির শক্তিশালী কণ্ঠ তুলে ধরতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। টাইম টেলিভিশন ও বাংলা পত্রিকার মতো গণমাধ্যম মানুষের মতামত, দাবি ও নেতৃত্বকে সামনে নিয়ে আসে। কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গণতান্ত্রিক আলোচনার কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান দুটির ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।

স্টেট সিনেটর জন সি ল্যু এই আয়োজনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কের কথা স্মরণ করে দুই প্রতিষ্ঠানকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুধু সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীদের উদযাপন নয়, কমিউনিটির জন্যও এটি আনন্দের উপলক্ষ। আবু তাহের ও তাঁর সহকর্মীদের কাজের প্রশংসা করেন তিনি।

প্যাট্রিক মার্টিনেজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে থাকা কমিউনিটির জন্য স্থানীয় সংবাদ ও তথ্যপ্রবাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ভরযোগ্য সাংবাদিকতা মানুষকে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করে। সংবাদমাধ্যমের প্রতি আস্থা নানা চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা অবস্থায় কমিউনিটির নিজস্ব গণমাধ্যমকে সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সাউথ এশিয়ান জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সাংবাদিকতা শিক্ষক শ্রী শ্রীনিবাসন আবু তাহেরের সঙ্গে ১৯৯২ সাল থেকে পরিচয়ের স্মৃতিচারণা করেন। বাংলা পত্রিকা থেকে টাইম টেলিভিশন প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত তাঁর অগ্রযাত্রা কাছ থেকে দেখার কথা জানান। বাংলাদেশী কমিউনিটির পাশাপাশি নিউইয়র্ক ও বৃহত্তর যুক্তরাষ্ট্রের সমাজেও এই উদ্যোগের সেবামূলক ভূমিকা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শ্রীনিবাসনের বক্তব্যে গুরুত্ব পায় ভুল তথ্য ও উদ্দেশ্যমূলক অপতথ্য প্রতিরোধ। তিনি বলেন, এই সমস্যা মোকাবিলায় সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে। হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিপরীতে নির্ভরযোগ্য সংবাদ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। বাংলা পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দেওয়া এবং টাইম টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে প্রতিষ্ঠান দুটির পেশাদারত্ব ও কাজের মানের প্রশংসা করেন তিনি। পাঠক, দর্শক, বিজ্ঞাপনদাতা ও পৃষ্ঠপোষকদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বানও জানান।

বাংলাদেশী আমেরিকানদের নাগরিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন অধ্যাপক ড. গোলাম এম. মাতবর। তিনি প্রশ্ন রাখেন, কমিউনিটির ক্ষমতায়ন কি শুধু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী, সাংস্কৃতিক আয়োজন কিংবা জনসংখ্যার আকার দিয়ে পরিমাপ করা যায়? এসব গুরুত্বপূর্ণ হলেও নাগরিক জীবনে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরির বিষয়টিও সমানভাবে বিবেচনা করতে হবে।

প্রথম প্রজন্মের অবদান স্মরণ করে ড. মাতবর বলেন, তাঁরা কঠোর পরিশ্রম করে ব্যবসা গড়েছেন, পরিবার প্রতিষ্ঠা করেছেন, শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করেছেন এবং কমিউনিটির প্রতিষ্ঠানগুলো দাঁড় করিয়েছেন। পরবর্তী প্রজন্ম সেই ভিত্তি আরও বিস্তৃত করেছে। এখন প্রয়োজন নেতৃত্ব ও জনসেবার সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করা। যোগ্য নাগরিকদের ভোটার নিবন্ধন, প্রার্থী ও নির্বাচনী বিষয় সম্পর্কে জানা এবং সব পর্যায়ের নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। তবে নাগরিক সম্পৃক্ততাকে শুধু ভোটদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখার পরামর্শ দেন। স্থানীয় সরকারের কাজ বোঝা, জনসভায় অংশ নেওয়া, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং স্কুল বোর্ড, পরিকল্পনা বোর্ড, বিভিন্ন কমিশন ও কমিউনিটি সংগঠনে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

রাজনৈতিক মতভিন্নতা প্রসঙ্গে ড. মাতবর বলেন, বাংলাদেশী কমিউনিটিতে ডেমোক্র্যাট, রিপাবলিকান, স্বতন্ত্র এবং কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নন, এমন মানুষও রয়েছেন। এই বৈচিত্র্যকে সম্মান করতে হবে। মানুষকে কোন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে তা বলে দেওয়ার পরিবর্তে নিজেদের বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও সুযোগ নিশ্চিত করাই দায়িত্ব।

নেতৃত্ব বিকাশে বাংলাদেশী আমেরিকান নাগরিক নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা একই ধরনের কর্মসূচি গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন ড. মাতবর। তরুণ পেশাজীবী, শিক্ষার্থী, উদ্যোক্তা, শিক্ষক, আইনজীবী, স্বাস্থ্যসেবাকর্মী, সংগঠক ও স্বেচ্ছাসেবীদের একত্র করে বক্তৃতা, সরকার পরিচালনা, জননীতি, নৈতিকতা, যোগাযোগ এবং জনসেবার দায়িত্ব সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অভিজ্ঞদের পরামর্শ ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন ড. মাতবর। তিনি বলেন, অভিজ্ঞ নেতাদের উচিত নতুনদের সঙ্গে নিজের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া, প্রয়োজনীয় মানুষের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং ভুল এড়িয়ে চলতে সাহায্য করা। সবাইকে নির্বাচনে প্রার্থী হতে হবে এমন নয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও জনসেবামূলক কাজে দায়িত্ব পালন করেও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়। শিক্ষার্থী থেকে স্বেচ্ছাসেবী, স্বেচ্ছাসেবী থেকে কমিউনিটি সংগঠক এবং সেখান থেকে বৃহত্তর দায়িত্বে এগিয়ে যাওয়ার ধারাবাহিক সুযোগ তৈরি করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সালেহউদ্দিন সাল নিজেকে টাইম টেলিভিশনের নিয়মিত দর্শক হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবাদের পাশাপাশি সিটি হল থেকে হোয়াইট হাউস, জাতিসংঘের অধিবেশন থেকে অভিবাসন পরিস্থিতি, স্থানীয় ব্যবসা ও কমিউনিটির ঘটনা তুলে ধরছে চ্যানেলটি। প্রবাসীদের তথ্যসমৃদ্ধ ও পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত রাখতে এই সংবাদসেবা ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ফ্লোরিডা থেকে আগত নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বকারী তরুণ বক্তা নাবিল এইচ মুহিত বলেন, সমাজে পরিবর্তন আনতে বড় পদ বা বিপুলসংখ্যক অনুসারী থাকা জরুরি নয়। ছোট উদ্যোগও অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে পারে। নেতৃত্বের অর্থ শুধু নিজের সাফল্য নয়, অন্যদের এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করাও। বয়স যেন অংশগ্রহণের বাধা না হয়, সেই আহ্বান জানিয়ে ঘৃণার পরিবর্তে ভালোবাসা ও সমস্যা সমাধানের মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেন তিনি।

টাইম টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী এবং বাংলা পত্রিকা’র সম্পাদক আবু তাহের অতিথি, দর্শক, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। কংগ্রেসম্যান হাকিম জেফ্রিসের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ সম্পর্ক, স্টুডিওতে তাঁর বিভিন্ন সময়ের উপস্থিতি এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে অংশ নেওয়ার স্মৃতি তুলে ধরেন। ব্যস্ততার মধ্যেও অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ায় হাকিম জেফ্রিস ও গ্রেস মেংসহ অতিথিদের ধন্যবাদ জানান তিনি। এছাড়াও তিনি টাইম টেলিভিশন ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার ঘোষণাও দেন।

অনুষ্ঠানের মাঝে মাঝে প্রতিষ্ঠান দুটির পথচলার ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সঙ্গীত, নৃত্য পরিবেশনা, অতিথিদের শুভেচ্ছা এবং মঞ্চে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে মিডিয়া দু’টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রবাসী কমিউনিটির মিলনস্থল। অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশনা করেন প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পী করিম হাওলাদার, রন্টি দাস, কৃষ্ণা তিথি, রেশমী মির্জা, টিনা রাসেল, আফজাল, শেখ সবুজ, নাহিদ সুলতানা প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্ব উপস্থাপনায় ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক শেখ সিরাজুল ইসলাম, নিউজ প্রেজেন্টার দিমা নেফারতিতি ও সাদিয়া খন্দকার এবং ডাক্তার সৈয়দ আল আমীন রাসেল। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন মেরী জোবাইদা, সৈয়দ ইলিয়াস খসরু ও আবুল হাসান।

অনুষ্ঠানে অতিথি ও আমন্ত্রিতদের আপ্যায়ন ব্যবস্থাপনায় ও বিশেষ সহযোগিতায় ছিলেন এস্টোরিয়া ওয়েলফেয়ার সোসাইটির কর্মকর্তাবৃন্দ।

আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের ১৮ বছর পূর্তি উদযাপন

আমেরিকা–বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের ১৮ বছর পূর্তি উদযাপন
‘রাজনৈতিক তোষামোদী মিডিয়ার গ্রহণযোগ্যতা হারায়’

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের ১৮ বছর পূর্তি উদযাপনে উপলক্ষে নিউইয়র্কে সেমিনার এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে গত ২৯ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) উডসাইডস্থ গুলশান ট্যারেস মিলনায়তনে। সেমিনারে আলোচনার বিষয় ছিল-“বিশ্বব্যাপী মিডিয়া অস্তিত্ব সংকটে”। আলেচানা সভায় বক্তারা বাংলাদেশের মিডিয়া, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সাংবাদিকদের কর্মজীবন এবং বিশ্বব্যাপী মিডিয়ার গতি-প্রকৃতি ও কৌশল বদলে যাওয়া নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় বক্তারা বাংলাদেশের মিডিয়ার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বলেন, রাজনৈতিক তোষামোদী মিডিয়ার গ্রহণযোগ্যতা হারায়। মূলধারার মিডিয়াকে তথ্য প্রকাশে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার কথা উল্লেখ করেন তারা। প্রযুক্তি ও স্যোসাল মিডিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে আপোষহীন ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ওপর মিডিয়াকে জোরালো ভূমিকা রাখার কথা বক্তারা অভিমত প্রকাশ করেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আমেরিকা-বাংলাদেশি প্রেসক্লাবের সভাপতি শওকত ওসমান রচি এবং সেমিনার সঞ্চালনা করেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি দর্পণ কবীর। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেসমিনিষ্টার গোলাম মোর্তূজা, নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কন্সাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, প্রবীণ সাংবাদিক মনজুর আহমদ। এছাড়া আলোচ্য বিষয়ের ওপর প্যানেল আলোচক হিসাবে আলোচনা করেন প্রবীণ সাংবাদিক সাঈদ তারেক, মঈনুদ্দীন নাসের, বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক ডাঃ ওয়াজেদ এ খান, জন্মভূমি পত্রিকার সম্পাদক রতন তালুকদার, প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা পত্রিকার সম্পাদক ইব্রাহিম চৌধুরী ও প্রবাস পত্রিকার সম্পাদক ও ক্লাবের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ সাঈদ, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক শোয়েব আহমেদ ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মজুমদার ও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ মল্লিকা খান মুনা, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মনজুরুল হক ও সহ-সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক। দেড়যুগ পূর্তি উপলক্ষে স্মরণিকা ‘আলোকবর্তিকা’র মোড়ক উন্মোচন করার সময় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন স্মরণিকাটির সম্পাদক তোফাজ্জল লিটন এবং সবশেষে সভাপতির ভাষণ দেন শওকত ওসমান রচি।

অনুষ্ঠানে সেমিনার পর্ব শেষ হলে কেক কেটে প্রেসক্লাবের ১৮ বছর পূর্তির আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়। এ ছাড়া দেড় যুগ পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকা ‘আলোকবর্তিকা’র মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

এরপর এই প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে কণ্ঠশিল্পী এম. এ. সোয়েব ও অভিনেত্রী মৌসুমীকে বিশেষ সম্মাননা ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়। বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায় এম. এ. সোয়েবকে এবং প্রেসমিনিষ্টার গোলাম মোর্তূজা এবং কন্সাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক চিত্রনায়িকা মৌসুমীর হাতে ক্রেষ্ট তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে আগতদের ক্লাবের পক্ষ থেকে গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন এম. এ. সোয়েব এবং টিনা রাসেল।

অনুষ্ঠানে কমিউনিটির সুধীজন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং ক্লাবের সদস্যরা সপরিবারে উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর ‘কেমন আছে বাংলাদেশি মিডিয়া’ লেখা পাঠ করেন অনুষ্ঠানের সঞ্চালক দর্পণ কবীর। এই লেখার ওপর আলোচনা করেন বক্তারা। প্রবীণ সাংবাদিক মনজুর আহমেদ বলেন, মিডিয়ায় অপপ্রচার বা মিথ্যা সংবাদ বা সত্য আড়াল করার চেষ্টা হলে মানুষের কাছে স্যোসাল মিডিয়া বা অন্য কিছু ঢুকবেই। মিডিয়া নিজের গ্রহণযোগ্যতা হারাবে। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সংবাদ লেখা জানতে হবে, পড়তে হবে। দিনদিন মনে হচ্ছে সংবাদ লেখার সাংবাদিকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ক্যামেরা বা মাইকের সামনে দু’এক কথা বলার সাংবাদিকতাই দেখা যাচ্ছে বেশি।

বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেসমিনিষ্টার গোলাম মোর্তূজা বলেছেন, বাংলাদেশের মিডিয়ার বিপর্যয়ের জন্য মিডিয়ার সম্পাদক এবং মালিকরাই দায়ী। রাজনৈতিক তোষামোদীর কারণে মিডিয়া জনমানুষের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছেন। আমরা বিগত দিনে ফ্যসিবাদ সরকারের তোষামোদ দেখেছি। কিন্তু সাধারণ মানুষ একটা সময় ঐ মিডিয়াগুলোকে প্রত্যাখান করেছে। তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার মিডিয়া সংবাদ প্রকাশে মিথ্যাচার করছে না। ইরান বা ইরাক যুদ্ধের সংবাদ তারা প্রকাশ করেছে এবং পাঠকের আস্থা ধরে রেখেছে। এ কারণে তারা পাঠক বিপর্যয়ের মুখে পড়েনি। বাংলাদেশে এমনটা দেখা যায়নি। তিনি বলেন, নিউইয়র্কে বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকরা ভূমিকা রাখতে পারেন। এই সুযোগ এখানে রয়েছে। তারাই বাংলাদেশে যে কোন ঘটনা বা সত্য তথ্য প্রকাশ করে মূলধারার সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলে মনে করি।

কন্সাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, সঠিক তথ্য বা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাই সকল মানুষ জানতে চায়, শুনতে চায় বা দেখতে চায়। দলীয় পত্রিকার সংবাদ দলীয় সমর্থকরা যদি পছন্দ করত তাহলে বিভিন্ন সময়ে দলীয় পত্রিকাগুলোর প্রচার সংখ্যা বেশি-এমনটা দেখা যেত। তা দেখা যায়নি। তিনি আরো বলেন, নতুন যে কোন মাধ্যমকে স্বীকার করতে হবে, প্রতিযোগিতা করতে হবে। এখন স্যোসাল মিডিয়ার যুগ। সকলে দৃষ্টি রাখি ওখানে। মিডিয়াগুলোকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হলে তাদের দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার বিকল্প নেই। তিনি মিডিয়ায় ভুল সংবাদ পরিবেশন হলে এরজন্য ভুল স্বীকার করার কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশে এমনটা দেখা যায় না। ভুল স্বীকার করাও মিডিয়ার দায়িত্ব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রবীণ সাংবাদিক সাঈদ তারেক বলেন, বাংলাদেশের ৬০ বা ৭০ দশকের সাংবাদিকতা এখন নেই। সাংবাদিকতার চরিত্র ও সজ্ঞা বদলে গেছে। স্যোসাল মিডিয়ার যুগে মিডিয়াগুলোকে চ্যালেঞ্জ নিতে হয়েছে। আমাদের দেশের মিডিয়াগুলোতে সংকট চলছে। অনেক মিডিয়ার সাংবাদিকরা ঠিক মত বেতনই পাচ্ছেন না। এই সংকটও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চাকে ব্যাহত করছে।

বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক ডাক্তার ওয়াজেদ এ খান বলেন, বিশ্বব্যাপী মিডিয়ার সংকট চলছে। পাঠকের মনস্তাস্তিক পরিবর্তনও হয়েছে। স্যোসাল মিডিয়া বা এআই এর উত্থান প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়াকে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। স্যোসাল মিডিয়ায় তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ নেই এবং যে কেউ যা ইচ্ছা লিখে দিতে পারছে। অসত্য তথ্যগুলোর অসত্য বলা বা প্রমাণ করার কাজ মূলধারার মিডিয়ার। এখানে একটা লড়াই চলছে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ দেখেছি মিডিয়ায়। সঠিক সংবাদ বা অনুসন্ধানী সংবাদ দেখছি না। এর চেষ্টা বা প্রতিযোগিতাও দেখছি না।

সাংবাদিক নেতা মঈনুদ্দীন নাসের বলেছেন, সাংবাদিকদের আগে সৎ হতে হবে। সাংবাদিকতায় সততা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আগে এই সততাকে মূল্যায়ন করতে দেখেছি। এখন কী দেখছি? উল্টো। জুলাই বিপ্লবের পর দেশে একজন সাংবাদিক সাংবাদিক গ্রেপ্তার হবার পর জানতে পারলাম তার ব্যাংক একাউন্টে ৪৪ কোটি টাকা আছে। একজন সাংবাদিক এতো টাকার মালিক কীভাবে হলেন? আমরা কোথায় আছি?

প্রভাষক শোয়েব আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, সাংবাদিকরা চাটুকার হয়ে গেলে সৎ সাংবাদিকতা আশা করা যায় না। তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, একটি দেশের অর্থনীতির উন্নতি না হলে এর প্রভাব মিডিয়াতেও পড়ে। সমাজের পরিবর্তন হয় না। তিনি বলেন, ৬৬ সালে সিংগাপুর স্বাধীন হয়ে অর্থনীতিতে কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। আর বাংলাদেশের অর্থনীতি তলানীতে।

প্রবাস পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ বলেন, প্রবাসে আমরা বাংলা মিডিয়ার মাধ্যমে কমিউনিটি

বিনির্মাণের কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশের সংবাদ প্রকাশ করে সেতুবন্ধনেরও কাজ করছি। এই প্রবাসেও মিডিয়া সংকটে ভুগছে। পাঠক কমে যাচ্ছে। পত্রিকার প্রকাশনাও কমে যাচ্ছে।

প্রথম আলো উত্তরামেরিকা’র সম্পাদক ইব্রাহিম চৌধুরী বলেন,মিডিয়ার সংকট আছে—এ নিয়ে সন্দেহ নেই। এ সংকট সবসময়েই ছিল নানা অভিধায়।

এখন সংকটের জন্য এআইকে বা প্রযুক্তিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালে আসল সমস্যাটা আড়ালেই থেকে যায়।

প্রযুক্তি বদলেছে। পাঠক বদলেছে। মানুষের খবর পড়ার, দেখার, শোনার অভ্যাস বদলেছে। মিডিয়ার ব্যবসায়িক মডেল বদলেছে। —মিডিয়ার সংজ্ঞাটাই বদলে গেছে।

জন্মভূমি পত্রিকার সম্পাদক রতন তালুকদার বলেন, মিডিয়ায় সমস্যা আগেও ছিল, আছে এবং থাকবে। আমাদের সতর্ক থাকা উচিত যেন মিডিয়ায় মিথ্যা তথ্য পরিবেশিত না হয়।

প্রেসবিজ্ঞপ্তি।

ওজনপার্কে ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন

নিউ ইয়র্ক নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের ওজনপার্কের নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন করা হয়েছে। কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও প্যানেলের প্রার্থীদের উপস্থিতিতে দোয়া মাহফিলের মধ্যদিয়ে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় ওজনপার্কের ১০১ এভিনিউর উপর নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন স্থানীয় আল আমান মসজিদের ইমাম মাওলানা নূরুল ইসলাম। দোয়ায় সোসাইটির সাবেক সভাপতি কামাল আহমেদ সহ পরলোকগত সকল মুসলিমের বিদেহী আত্নার মাগফেরাত কামনা এবং ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের জিয় কামনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের ওজনপার্কের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক শাহাব উদ্দিন চৌধুরী। সভায় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দর মধ্যে ওজনপার্কের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা বাবর আলী, প্রধান উপদেষ্টা ছমির উদ্দিন, বিয়ানীবাজার সমিতির সাবেক সভাপতি মকবুল রহিম চুনই, ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক দুলাল মিয়া এনাম, সদস্য সচিব জে মোল্লা সনি সহ ইঞ্জিনিয়ার এ এম খালেক, তাজু মিয়া, এএসএম মাইনউদ্দিন পিন্টু, এডভোকেট রেদওয়ানা রাজ্জাক সেতু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এছাড়াও ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের প্রার্থীদের মধ্যে সভাপতি পদপ্রার্থী, বর্তমান সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সহ অন্যান্য প্রার্থীর মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী মো. মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী মো. কামরুজ্জামান কামরুল, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হারুন চেয়ারম্যান, কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী নওশাদ হায়দার, সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রার্থী ডিউক খান, জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক পদপ্রার্থী রিজু মোহাম্মদ, সাহিত্য সম্পাদক পদপ্রার্থী রুমানা আহমেদ, স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক পদে এএসএম মাইন উদ্দিন, যুব ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক পদপ্রার্থী জাহাঙ্গীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং কার্যকরী সদস্য পদের প্রার্থীদের মধ্যে মো. উজ্জ্বল পিপুল, শামীম আহমেদ, মো. এ মান্নান, মোঃ আব্দুল মালেক খান ও কাজী রবিউজ্জামান।

সভায় কমিউনিটি নেতা গহর চৌধুরী কিনু, করীম চৌধুরী, রোকন হাকিম, গণেষ কীর্তনীয়া সহ বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী অনুষ্ঠানে প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের ওজনপার্কের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আমিনুল হোসেন।

সভায় বক্তারা ‘সেলিম-আলী’ প্যানেল-কে সোসাইটির যোগ্য ও সেরা পরিষদ হিসেবে উল্লেখ করে ওজনপার্কের নির্বাচনী অফিসের মাধ্যমে নির্বাচনী সকল কর্মকান্ড পরিচালনার মধ্য দিয়ে ২৫ অক্টোবরের নির্বচনে বিজয়ী করার অঙ্গীকার করেন।

অপরদিকে সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সহ অন্যান্য প্রার্থীরা তাদের বক্তব্যে কারো কথায় বিভ্রান্ত না হয়ে সঠিক তথ্য তুলে ধরে সেলিম-আলী প্যানেলকে আরো শক্তিশালী করে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। সেলিম-আলী বলেন, প্রবাসী সকল বাংলাদেশীর সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি। আমরা কারো বিরুদ্ধে বলতে চাই না। কেননা, সবাই আমরা সোসাইটির ভালো চাই। তাই সত্য প্রকাশ করতে হবে। আজ সোসাইটির সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে সখর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। আয়-ব্যয় তুলে ধরা হয়েছে। সোসাইটির একটি অর্থও নষ্ট করা হয়নি। বরং বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় সোসাইটির ফান্ডে এক মিলিয়ন ডলার গচ্ছিত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
-প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

মুক্তিযোদ্ধা অবিনাশ আচার্য্য ও সমাজসেবক সুশীল সাহা সম্বর্ধিত

মুক্তিযুদ্ধ ও সমাজ সেবায় অবদানের জন্যে নিউইয়র্কের হিন্দু সম্প্রদায় শুক্রবার ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ সন্ধ্যায় কুইন্সে মুক্তিযোদ্ধা ৮৬ বছর বয়স্ক অবিনাশ আচার্য্য এবং ৮৩ বছর বয়স্ক সমাজ সেবক সুশীল সাহা-কে সম্বর্ধনা দিয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন ডাক্তার ভোলানাথ বণিক। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে বাংলাদেশী হিন্দু সম্প্রদায়, নিউইয়র্ক। শুরুতে গীতা পাঠ করেন শ্রীনিত্যনন্দ কিশোর দাস প্রভু। সভাপতি ও সম্বর্ধিতদের ফুলের তোড়া দিয়ে সম্মানিত করেন সুবর্ণা সেনগুপ্ত, সুলেখা পাল, ও রিনা সাহা। অবিনাশ আচার্য্য ও সুশীল সাহাকে ক্রেষ্ট প্রদান করেন ড. দ্বিজেন ভট্টাচার্য্য ও অধ্যাপক নবেন্দু বিকাশ দত্ত।

image 1

আলপনা গুহ ও সুমিত্রা সেন দু’জনকে দু’টি শাল পরিয়ে দেন্। শীতাংশু গুহ তিনজনকে তাঁর সদ্য প্রকাশিত বই, ‘বাংলাদেশ: এক্সটিনসন অফ হিন্দুজ ইন গ্লোবাল কন্টেস্ট’ বইটি উপহার দেন্। এরপর অতিথিত্রয় প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন এবং সবাই সমবেত কণ্ঠে ‘আগুনের পরশ মনি–’ গানটি পরিবেশন করেন। অবিনাশ আচার্য্য ও সুশীল সাহাকে কংগ্রেশনাল প্রক্লেমেশন উপহার দেন এবং সেটি পড়ে শোনান ড. দিলীপ নাথ ও দীপা নাথ। শ্রীকৃষ্ণ ভক্ত সংঘের পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সুভাষ কুমার সাহা ও অর্ধেন্দ্র কিশোর বিশ্বাস।

image 2

মুক্তিযোদ্ধা অবিনাশ আচার্য্য ইংরেজীতে তাঁর জীবনের আলেখ্য তুলে ধরেন, বিশেষত: মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকার কথা দর্শকদের বর্ণনা করেন। দর্শক-শ্রোতা পিনপতন নিস্তব্ধতায় তাঁর বক্তব্য শুনেন। সমাজ সেবক সুশীল সাহা তার বক্তব্যে সমাজসেবা, রাজনীতি, ব্যক্তিগত জীবনের বহু ঘটনা তুলে ধরেন। সম্বর্ধিত বিশিষ্ট্য ব্যক্তিদ্বয় এ সময়ে আবেগ-আপ্লুত হয়ে পড়েন, তাঁরা বারবার অয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। নিউইয়র্কে এধরণের ঘটনা এ প্রথম, উপস্থিত সবাই এটিকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন,  ৮০-উর্দ্ধ ২জন মানুষকে সম্মানিত করে আমরা ধন্য, এবং এটি সমাজে তাদের অবদানের স্বীকৃতি। অনুষ্ঠানে ২জন আলোকিত মানুষের সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন কামনা করা হয় যাতে তাঁরা সমাজের জন্যে আরো কাজ করতে পারেন।

image

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ডাক্তার প্রভাত দাস, চন্দন সেনগুপ্ত, নবেন্দু দত্ত, ড: দ্বিজেন ভট্টাচার্য্য, বিষ্ণু গোপ, রিনা সাহা, দীপিল নাথ, রামদাস ঘরামী, অঞ্জন ভট্টাচার্য্য, পরেশ সাহা, কৃষেন্দু রুদ্র প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেলিফোনে শুভেচ্ছা জানান ত্রিপুরা ও মেঘালয়ের সাবেক গভর্নর ড. তথাগত রায়। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সঞ্জিত ঘোষ, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, অসীম সাহা, পার্থ তালুকদার, নিতাই পাল, ডাঃ টমাস দুলু রায়, গোপন সাহা, পিনাকী তালুকদার, শুক্লা ভৌমিক, বুল্বুল ভৌমিক, শিবু পোদ্দার, শিবু শর্মা, ধ্রুব চক্রবর্তী, পরিমল, ঝুমুর ভট্টাচার্য্য, দীনেশ মজুমদার, সুমি ও সুজন, সুমিত্রা সেন, গণেশ ভৌমিক, রঞ্জন ভট্টাচার্য্য, অনিন্দিতা ভট্টাচার্য্য, সুকান্ত দাস টুটুল, প্রদীপ কুন্ডু, আশীষ পাল, আশীষ রায়, জয়দেব গাইন, শক্তি গুপ্ত, ইন্দ্রজিৎ সরকার, রণেশ চক্রবর্তী, অনুপ কুমার, ও ড. চন্দন সরকার প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন শিতাংশু গুহ। নৈশ ভোজের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। প্রেস-বিজ্ঞপ্তি। ২৭শে সেপ্টেম্বর ২০২৬।

টাইমস স্কয়ারে ১০ ও ১১ অক্টোবর মহালয়া ও দুর্গোৎসব

টাইমস স্কয়ারে ১০ ও ১১ অক্টোবর মহালয়া ও দুর্গোৎসব
দ্বিতীয়বারের মতো নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে বর্ণাঢ্য আয়োজন — থাকছে পূজা, গীতাপাঠ, নৃত্য, সংগীত ও তারকাদের কনসার্ট

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ (নিউ ইয়র্ক)
নিউ ইয়র্কের ঐতিহাসিক টাইমস স্কয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বর্ণাঢ্য মহালয়া ও দুর্গোৎসব। আগামী ১০ ও ১১ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী এ উৎসবে থাকছে মহালয়ার চণ্ডীপাঠ, শিশু-কিশোরদের গীতাপাঠ, সংগীত ও নৃত্যানুষ্ঠান, পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি, ধুনুচি নাচ এবং দেশ-বিদেশের জনপ্রিয় শিল্পীদের পরিবেশনা।

এ উপলক্ষে ২৭ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে এক  সাংবাদিক সম্মেলনে উৎসবের বিস্তারিত কর্মসূচি তুলে ধরেন আয়োজকরা। সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি)-এর প্রেসিডেন্ট অশোক রক্ষিত, নিউ ইয়র্ক বাংলাদেশ হিন্দু কমিউনিটির সমাজসেবক নবেন্দু দও, সংগঠনের সভাপতি শশধর হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক নিরুপমা সাহা, বেদান্ত সোসাইটির প্রেসিডেন্ট রিনা সাহা, আড্ডা একাডেমির প্রধান পরিচালক আলপনা গুহ, আয়োজক কমিটির কর্মকর্তা অনুপম দও, রোহান রাওয়াত ও সোমা মুখার্জি। এছাড়া সংগীত সাধনা একাডেমির প্রধান পরিচালক মালবিকা চ্যাটার্জি, নৃত্যাঞ্জলি একাডেমির প্রধান পরিচালক চন্দ্রা ব্যানার্জী এবং পূজার পুরোহিত প্রবাস চক্রবর্তীও সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।

সাংবাদিক সম্মেলনের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি শশধর হাওলাদার। তিনি জানান, দ্বিতীয়বারের মতো টাইমস স্কয়ারে দুর্গোৎসব আয়োজনের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১০ অক্টোবর শনিবার সকাল ১১টায় সত্যম রায় চৌধুরীর চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হবে মহালয়ার অনুষ্ঠান।

মহালয়ার দিনে নিউ ইয়র্কে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের কণ্ঠে গীতাপাঠ অনুষ্ঠিত হবে। গীতাপাঠ পরিচালনা করবেন সুতিপা চৌধুরী। এরপর মালবিকা চ্যাটার্জির পরিচালনায় সংগীত সাধনা একাডেমি পরিবেশন করবে উদ্বোধনী সংগীতানুষ্ঠান।

উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হবে নৃত্য পরিবেশনা। চন্দ্রা ব্যানার্জীর পরিচালনায় নৃত্যাঞ্জলির ৬০ জনেরও বেশি শিল্পী অংশ নেবেন এ নৃত্যানুষ্ঠানে। পাশাপাশি বাফা ও আড্ডার শিল্পীরাও নৃত্য পরিবেশন করবেন।

প্রথম দিনের অনুষ্ঠানে আরও থাকছে বাংলাদেশ ও নিউ ইয়র্কের জনপ্রিয় শিল্পী শাহ মাহবুবের পরিবেশনা। পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত শিল্পী মেঘলা দাশ গুপ্তও কনসার্টে অংশ নেবেন।

দ্বিতীয় দিন, ১১ অক্টোবর রবিবার সকাল ১০টায় শুরু হবে দুর্গাপূজা। বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে অঞ্জলি। এদিন নৃত্যাঞ্জলির শিল্পীদের পরিবেশনায় থাকছে বিশেষ ধুনুচি নাচ।

এদিন পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত শিল্পী দিয়াসিনী রায়ের পরিবেশনার পাশাপাশি জোজো মুখার্জি ও তাঁর ব্যান্ডের কনসার্টও অনুষ্ঠিত হবে।

সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নিরুপমা সাহা জানান, অতিথি শিল্পী হিসেবে বিশিষ্ট শিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়ও অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

নিরুপমা সাহা গত বছরের মতো এবারও দুর্গোৎসবের অনুষ্ঠান সফল  করতে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।

সংগঠনের উপদেষ্টা অশোক রক্ষিত বলেন, নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারের এই দুর্গোৎসব ইতোমধ্যে বিশ্ব বাঙালির অন্যতম বৃহৎ উৎসবে পরিণত হয়েছে। তিনি উৎসবে সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

নিউ ইয়র্ক বাংলাদেশ হিন্দু কমিউনিটির সমাজসেবক নবেন্দু দও বলেন, নব্বই দশকের শুরুতে নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি হিন্দুদের দুর্গাপূজা শুরু হয়। সে সময় বাংলাদেশি হিন্দুরা পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের আয়োজিত পূজায় অংশ নিতেন। কিন্তু টাইমস স্কয়ারে দুর্গোৎসব শুরু হওয়ার পর এটি এখন সকল বাঙালির মিলন ও আনন্দের মহোৎসবে পরিণত হয়েছে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে নিউ ইয়র্কে বসবাসরত বিভিন্ন প্রজন্মের বাঙালির মধ্যে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় হবে। একই সঙ্গে টাইমস স্কয়ারের এই আয়োজন বিশ্বব্যাপী বাঙালি সংস্কৃতি ও দুর্গোৎসবের ঐতিহ্যকে আরও  ব্যাপকভাবে তুলে ধরবে।

গাজা, নেত্তনাহু এবং মামদানী

০

শিতাংশু গুহ।। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন বলেছিলেন, আমি প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন গাজা ও পশ্চিমতীর নিয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র দিয়েছিলাম, কিন্তু তাতেও ফিলিস্তিনীরা রাজি হয়নি, তাঁরা আসলে স্বাধীনতা চায়না, তাঁরা ইসরাইলের ধ্বংস চায়। কথাটা ঠিক হুবহু হয়তো নয়, তবে সমার্থক এবং কথাটি সত্য। আরব মুসলিম দেশগুলো এ লক্ষ্যে ১৯৬৭ সালে একযোগে ইসরাইল আক্রমন চালায়, এবং পরাজিত হয়। একসময় ইসরাইল ‘দুই-রাষ্ট্র’ থিওরী মেনে নিয়েছিল, জেরুজালেমকে জাতিসংঘের হাতে ছেড়ে দিতে সম্মত হয়েছিলো। এসব ইতিহাস বিল ক্লিন্টনের কথার সত্যতা প্রমান করে। এ প্রসঙ্গ আনার কারণ হচ্ছে এ সময়ে (২১-২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনে ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেত্তনাহু তার ভাষণে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি-কে ধুইয়ে দিয়েছেন। তিনি মামদানীকে সন্ত্রাসী হামাস সমর্থক এবং মামদানীর আমলে নিউইয়র্কে ইহুদীদের ওপর আক্রমন বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। দু’টি বক্তব্যই সত্য। মামদানী এক টার্ম মেয়র, যদি তিনি শেষ পর্যন্ত ৪বছর টিকে থাকতে পারেন। পূর্বাহ্নে মামদানী বলেছিলেন যে, ‘ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী নেত্তনাহু নিউইয়র্কে এলে তাকে তিনি গ্রেফতার করবেন’।

মামদানী বাংলাদেশ ষ্টাইলে রাজনীতি করেন, এবং ষ্টান্ট পছন্দ করেন। দুই-একজন বাদে বাংলাদেশী মুসলমানরা শুধুমাত্র মুসলিম হবার কারণে মামদানি’র সমর্থক। কিন্তু মামদানী কে? তিনি একজন শিয়া মুসলমান, এবং কট্টর। কট্টর মুসলমানের ৩টি লক্ষণের সবক’টি তিনি হৃদয়ের গভীরে ধারণ করেন। অর্থাৎ তিনি এন্টি-ইসরাইল (ইহুদি বিরোধী), এন্টি-ভারত (হিন্দু বিরোধী) এবং এন্টি-আমেরিকা (এন্টি-খৃষ্টান বিশ্ব)। মামদানী ইসলামিষ্ট। আপাতত: তিনি সেনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও কংগ্রেসম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজ-র সমাজতন্ত্রী ছায়াতলে আশ্রয়ে আছেন। মামদানীর চেহারা সুন্দর, ভেতরটা ইসলামী মৌলবাদীদের মত কদর্য। বাংলাদেশে বর্তমানে এনসিপি নেতা যাঁরা একদা ছদ্দবেশী ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন, মামদানীর চরিত্র ঠিক একই। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মামদানীর চরিত্র ‘পিউর মুসলিম লীগ’। মামদানী ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রীকে হুমকি দিয়েছেন, ইরানের প্রেসিডেন্টকে হুমকী দেননি, অথচ ইরান নিজদেশে অসংখ্য মুসলিমকে হত্যা করেছে। তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান বা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুঙ্কার ছাড়েননি। ফিলিস্তিন ইস্যুটি মামদানী মুসলিম সেন্টিমেন্ট হিসাবে ব্যবহার করছেন, আবার ট্রাম্পের কাছে ‘গুডবয়’ সেঁজে রিপাবলিকান সেন্টিমেন্ট কিছুটা ‘শান্ত’ রাখার চেষ্টা করছেন।

গাঁজায় ইসরাইলী আক্রমনকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই, কিন্তু মামদানী তো একথা বলছেন না যে, এ যুদ্ধ হামাস ইসরাইলের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। তিনি ৭ই অক্টবর ২০২৩-র ঘটনার নিন্দা করেননি, প্রায় সর্বাংশ মুসলমান তা করেনা। সেদিন হামাস বেসামরিক নিরীহ ইসরাইলীদের প্রতি যে নৃশংস বর্বরতা চালিয়েছিল তাতে যেকোন দেশের পক্ষে যুদ্ধ নামতেই হতো। ভন্ডামী ছাড়েন, এক বর্বরতার নিন্দা করবেন আর এক বর্বরতায় সমর্থন দেবেন তা হয়না। হামাস না থাকলে গাজায় শান্তি আসবে। এবার মক্কা আক্রমণে বুঝতে পারছেন তো যে মুসলমান-মুসলমান ভাইভাই না, ওটা ভাওতাবাজি, ইরানের মুসলমান বাংলাদেশের মুসলমানের ভাই নয়! বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা মুসলিম বিশ্বে থাকলে মামদানী কিছুই হতেন না, উন্নত বিশ্বে গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে মেয়র হবেন এবং তলে তলে ইসলামী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবেন, এ দ্বিচারিতা খুব বেশিদিন চালানো সম্ভব হবেনা, মানুষ বোঝে। পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল একমাত্র গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। সেদেশে প্রায় ১৮% মুসলমান, এবং তারা ভালো আছে। আচ্ছা, মুসলিম বিশ্বে ইহুদীরা থাকতে পারেনা কেন? সৌদি আরবে ১০০.০% মুসলমান কেন? পাকিস্তানে অহরহ শিয়া মসজিদে বোমা পড়ে কেন? জানি বলবেন, হিন্দুদের মধ্যেও তো জাতপাত আছে! তা আছে, তবে তারা একজন অন্যজনের মন্দিরে বোমা মারেন! বিশ্বের যেকোন শহরে বোমা ফুটলে প্রথমে আপনার মনে কি ভাবনা উদয় হয়?
২৭শে সেপ্টেম্বর ২০২৬। নিউইয়র্ক।

নিউইয়র্কে মুসলিম ডে প্যারেডে মানুষের ঢল

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ নিউইয়র্ক, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬: প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে রোববার ম্যানহাটনে অনুষ্ঠিত মুসলিম ডে প্যারেড ২০২৬-এ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। শিশুদের হাত ধরে অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ইমাম এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা সমবেত হন। বৃষ্টিভেজা ম্যাডিসন অ্যাভিনিউতে তাঁদের উপস্থিতি মুসলিম সম্প্রদায়ের ঐক্য, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও শান্তির বার্তাকে সামনে নিয়ে আসে।

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর উদ্‌যাপনের প্রেক্ষাপটে এবারের প্যারেডের প্রতিপাদ্য ছিল “বিশ্বাসে ঐক্যবদ্ধ, সংস্কৃতিতে বৈচিত্র্যময়।” আয়োজকদের প্রচারপত্রে “এক উম্মাহ, এক জাতি, গর্বিত আমেরিকান” এবং “সবার প্রতি ভালোবাসা, কারও প্রতি ঘৃণা নয়”—এই আহ্বানও তুলে ধরা হয়। নানা ভাষা, দেশ ও সংস্কৃতির মানুষের অংশগ্রহণ সেই বার্তার প্রতিফলন ঘটায়।

প্যারেডে কমিউনিটি ও ধর্মীয় নেতাদের পাশাপাশি যোগ দেন এনওয়াইপিডির মুসলিম অফিসাররা, এফডিএনওয়াই সদস্যরা, ইসলামিক সোসাইটির প্রতিনিধিরা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও তাঁদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে একটি স্মরণীয় কমিউনিটি সমাবেশে পরিণত করে।

প্যারেডের আহ্বায়ক কাউন্সিল অব পিপলস অর্গানাইজেশনস—কোপো’র প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রাজভি অংশগ্রহণকারী সবাইকে ধন্যবাদ জানান। পুরো আয়োজন সফল করতে পর্দার আড়ালে যাঁরা কাজ করেছেন, সেই আয়োজক, স্বেচ্ছাসেবক, সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং স্পনসরদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। রাজভি বলেন, নিউইয়র্কের মুসলমানরা ঐক্য ও শান্তির প্রতীক। বৃষ্টির মধ্যেও মানুষের উপস্থিতি সেই ঐক্যের শক্তিই তুলে ধরেছে।

কুইন্সের এলহাম একাডেমি তাদের শিক্ষার্থী ও স্কুল পরিবার নিয়ে প্যারেডে অংশ নেয়। শিক্ষার্থীদের কাছে দিনটি ছিল নিজেদের বিশ্বাস ও ঐতিহ্য নিয়ে গর্ব করার পাশাপাশি বৃহত্তর সমাজের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার সুযোগ। অভিভাবক ও শিক্ষকেরাও শিশুদের সঙ্গে এই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন।

এলহাম একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও সেভ দ্য পিপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমাম মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, “ইসলাম শান্তির ধর্ম। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছরের ইতিহাসে মুসলমানদের অবদান আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। এই দেশের শিক্ষা, সেবা, সংস্কৃতি ও উন্নয়নে মুসলিম আমেরিকানরা যে ভূমিকা রেখেছেন, তা আমেরিকাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছে। আগামী দিনেও আমরা সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের মানুষের সঙ্গে নিয়ে ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরতে এবং আমেরিকাকে আরও সামনে এগিয়ে নিতে চাই।”

প্যারেডের প্রচারপত্রে পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে তাহির মুস্তাফা কুকিগি, রফিক মোহামেদ, ইব্রাহিম আহমেদ, আইনুল হক, জিলফা বকশ, এড পাওয়েল, সাকিবেহ মুস্তাফা, সুলেইমানে কোনাতে, বাজাহ রুহি, কেনান তাসকেন্ট, আহমাদ আলী, হাফিদা টরেস, মনি লুৎফি, ইমাম মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও মোহাম্মদ রাজভির নাম উল্লেখ করা হয়।

প্রচারপত্রে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ছিল কোপো, দারুল উলুম নিউইয়র্ক, সেভ দ্য পিপল, আল-আমিন স্কুল, জালালাবাদ ফাউন্ডেশন ফর চিলড্রেন অ্যান্ড ইয়ুথ, আফ্রিকা কমিউনিটি সার্ভিসেস, আফ্রিকান কালচারস প্রমোশনস, আলবিয়ানা ইসলামিক কালচারাল সেন্টার, আল-ইহসান একাডেমি, আল-ইমান স্কুল, আল-মামুর স্কুল, আমেরিকান কাউন্সিল অব মাইনরিটি উইমেন, বাস্টি, কাউন্সিল অব আফ্রিকান ইমামস, ইসলামিক লিডারশিপ স্কুল, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার এবং জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটি।

এ ছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, স্কুল ও সংগঠনের মধ্যে আল-মেদনি মসজিদ, মসজিদ আল-হিকমাহ, মসজিদ আল-গাফার, মাক্কি মসজিদ, মসজিদ আসরি, মিরাজ ইসলামিক স্কুল, রাজি স্কুল, ইয়ানকাসা অ্যাসোসিয়েশন অব ইউএসএ, মরোক্কান সোসাইটি অব নিউইয়র্ক, ইয়েমেনি আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব নিউইয়র্ক, ইয়ংকার্স ইসলামিক সেন্টার, এলহাম ফর অল, নিউইয়র্ক ইমাম কাউন্সিল, ইসলামিক স্কুলস অ্যাসোসিয়েশন, ক্যারিবিয়ান আমেরিকান মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন এবং স্মাইল অব লাইফের নামও উল্লেখ করা হয়।

দিনশেষে সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে থাকে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি। প্রবল বৃষ্টিও তাঁদের থামাতে পারেনি। আয়োজকদের মতে, এবারের প্যারেড নতুন প্রজন্মের কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দিয়েছে—নিজেদের বিশ্বাস ও পরিচয় নিয়ে গর্বের সঙ্গে, অন্য সব সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়েই শান্তিপূর্ণ ও ঐক্যবদ্ধ আমেরিকা গড়ে তোলা সম্ভব।

“প্রবাহ” সাহিত্য সভা করলো কবি আবদুল মান্নান সৈয়দ এর স্মরণে

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার বিকেল ৬ টা। কবি ও গবেষক আবদুল মান্নান সৈয়দ এর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে “প্রবাহ” আয়োজন করেছিলো এর ২১তম সাহিত্য সভা। সভার স্থান জ্যাকসন হাইটসের গ্রীনটাচ। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট কবি কাজী জহিরুল ইসলাম। সোহেল হামিদ এর উপস্থাপনায় জনাব আবদুল জলিলের কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়।

প্রধান অতিথি ও অনুষ্ঠানের মূল বক্তা কবি কাজী জহিরুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে  সব্যসাচী কবি ও লেখক আবদুল মান্নান সৈয়দ যে বাংলা সাহিত্যে পরাবাস্তববাদ অনেকাংশে প্রতিষ্ঠা করেছেন , তার ইতিবৃত্ত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ফরাসী কবি আঁদ্রে ব্রেতোঁ পরাবাস্তববাদী কবিতার জন্ম দেন আর আবদুল মান্নান সৈয়দ এই ভিনদেশী ধারণাকে বাংলা সাহিত্যের পাঠকদের কাছে উপস্থাপন করেন। বাংলা সাহিত্যে বিচ্ছিন্নভাবে অনেক কবি পরাবাস্তবতা নিয়ে লিখলেও একে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আবদুল মান্নান সৈয়দই প্রশংসার দাবীদার। এ প্রসঙ্গে তিনি কবিতায় পরাবাস্তবতা নিয়ে দর্শক শ্রোতাদের সামনে নাতিদীর্ঘ আলোচনা রাখেন।

কবি কাজী জহিরুল ইসলাম সাহিত্য সমালোচনার ক্ষেত্রে আবদুল মান্নান সৈয়দ এর বিশেষ ভুমিকার উল্লেখ করে বলেন বাংলা সাহিত্য সমালোচনায় তাঁর অবদান অপরিসীম।  তিনি বিশেষ করে জীবনানন্দ দাশ , কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে গবেষণা করেছেন- শক্তিশালী সাহিত্য সমালোচক হিসেবে তিনি ছিলেন অনন্য। জীবনানন্দ দাশকে তিনি উপাধি দিয়েছেন “শুদ্ধতম কবি”।

সাহিত্য সভায় কবি নুরুল মোস্তফা রইসী কবিতা পর্বে কবি আবদুল মান্নান সৈয়দ এর কবিতা ছাড়াও সৈয়দ শামসুল হক এর “পরাণের গহীন ভিতর ” কাব্যগ্রন্থ থেকে একটি সনেট ও সুকুমার রায় এর “বিষম চিন্তা ” ছড়া আবৃত্তি করেন। বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী এম. এ. সাদেক আবৃত্তি করেন আবদুল মান্নান সৈয়দ এর লেখা একটি কবিতা। সাহিত্য সংগঠক সৈয়দ ফজলুর রহমান কবির সাহিত্য কর্ম নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন।

বিশিষ্ট টিভি উপস্থাপক ও বাচিক শিল্পী জি. এম. ফারুক খান আবৃত্তি করেন কবির লেখা “চুরুলিয়ার ছোট্ট ছেলে” ও “সুন্দর”। কবি রওশন হক পাঠ করেন কবির লেখা ” কবিতা কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড”। জাকির হাওলাদার  পড়েন কবির “পাঁচটি উজ্জ্বল মাছ”।  সোহেল হামিদ  ” গ্রিণরোড” কবিতাটি পাঠ করেন। জনাব আবদুল জলিল পড়েন স্বরচিত কবিতা “মানুষ”। সেলিম শাহরিয়ার এর কন্ঠে “তুমি কখন এসে দাঁড়িয়ে আছো” গানটি শ্রোতা দর্শকরা উপভোগ করেন। তাছাড়া গ্রীণটাচ এর সিইও লিয়াকত ইলাহি , মুনতাকিম বিল্লাহ শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।  আলোচকগন কবি আবদুল মান্নান সৈয়দ এর রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।