Home Blog Page 7

জাতিসংঘে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জাতিসংঘ সভাপতির কার্যালয়ের লিগ্যাল অফিসার হলেন জাইমা রহমান

০

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ভয়াবহ প্রভাব মোকাবিলায় বৈশ্বিক নিঃসরণ দ্রুত কমানো এবং জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সমুদ্রের উচ্চতার সঙ্গে আমাদের সংকল্পও আরও দৃঢ় হোক। আর আমাদের পদক্ষেপ হোক তার চেয়েও দ্রুত।’

নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের কনফারেন্স রুম ৪-এ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অস্তিত্বের সংকট মোকাবিলায় আয়োজিত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ভয়াবহ পরিণতি মোকাবিলা করা বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একার পক্ষে সম্ভব না। এ জন্য বৈশ্বিক সহায়তা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বিশ্ব যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ করে, সাগর তার প্রতিটি টনের প্রতিক্রিয়া দেখায়। শুধু অভিযোজনমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে এর প্রভাব মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি সক্রিয় বদ্বীপ। দেশের ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে শত শত নদী প্রবাহিত হয়ে সাগরে মিশেছে। তাই দেশের মানুষের জীবন, সমৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ উপকূলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

বিশ্বব্যাংকের হিসাব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২৫ সেন্টিমিটার বাড়লে বাংলাদেশের প্রায় ৪ শতাংশ ভূমি পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এতে প্রায় এক কোটি মানুষের ঘরবাড়ি, জীবিকা ও মানবিক মর্যাদা হুমকির মুখে পড়বে।

সীমিত সম্পদ নিয়েও বাংলাদেশ এমন একটি বিপর্যয়কর ভবিষ্যৎ ঠেকাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর অংশ হিসেবে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার এবং উপকূল সুরক্ষায় বিনিয়োগ করা হয়েছে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘জলবায়ু-সহনশীলতা আরও শক্তিশালী করতে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন, পানি সংরক্ষণ ও মজুতের জন্য পদ্মা ব্যারাজ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া; মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে তিস্তা ব্যারাজের আধুনিকায়ন এবং ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য নিয়েছে বাংলাদেশ।’

বাংলাদেশ সবুজ প্রবৃদ্ধির পথেও এগিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে সৌরবিদ্যুতের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’ একই সঙ্গে সবুজ শিল্প ও পরিবেশবান্ধব পরিবহনের প্রসার, জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলা এবং বন, জলাভূমি ও ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় প্রতিবেশব্যবস্থার সুরক্ষা জোরদারে কাজ চলছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সংকট মোকাবিলায় চারটি জরুরি পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমত, বৈশ্বিক নিঃসরণ আরও দ্রুত, ব্যাপক ও ন্যায়সংগতভাবে কমাতে হবে এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিকে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস সীমার মধ্যে রাখার লক্ষ্য অর্জনে কাজ করতে হবে।’

‘দ্বিতীয়ত, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অভিযোজন কার্যক্রমের জন্য পূর্বানুমেয় ও সহজলভ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে।’

‘তৃতীয়ত, ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় দেশগুলোর জন্য জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তি, তথ্য-উপাত্ত ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ করতে হবে।’

‘চতুর্থত, জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি, ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর জন্য মর্যাদাপূর্ণ পুনর্বাসন ও জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমুদ্রপৃষ্ঠ দ্রুত উচ্চতর হচ্ছে। আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকেও তার চেয়ে দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে। ভবিষ্যৎ ও আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।’ তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসবে; ঘোষণাপত্রে দেওয়া অঙ্গীকারগুলোকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেবে এবং কোনো দেশকে যেন একা ‘রাইজিং টাইড’-এর মুখোমুখি হতে না হয়, তা নিশ্চিত করবে।”

বৈঠক আয়োজন এবং ঘোষণাপত্র প্রণয়নে সহায়তা ও প্রচেষ্টার জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

উচ্চ পর্যায়ের সাইড ইভেন্টে অংশগ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী
‘অঙ্গীকার থেকে কার্যকর পদক্ষেপ: প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু বন্ধে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ধাত্রীসেবার (মিডওয়াইফারি) সমন্বয়’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের সাইড ইভেন্টে অংশগ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

স্থানীয় সময় গতকাল জাতিসংঘ সদরদপ্তরের কনফারেন্স রুম ৭-এ আয়োজিত এ উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা জোরদার, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষ ধাত্রীসেবার কার্যকর সমন্বয় এবং প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু রোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কার্যকর পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় গতকাল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতিসংঘ সদরদপ্তরের সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ের ৩৪তম তলায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই নেতা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে গঠনমূলক মতবিনিময় হয়।

দুই প্রধানমন্ত্রী পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমঝোতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে নিয়মিত যোগাযোগ ও সংলাপ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে।

ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির নিউইয়র্কে এক ব্রিফিংয়ে জানান, গত বুধবার দুই নেতার ওই পার্শ্ব বৈঠক হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা, রেমিট্যান্স, সমুদ্রপথে বাংলাদেশের পণ্য পরিবহন এবং সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘জাতিসংঘের মতো নিরপেক্ষ ফোরামে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের উপস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশের প্রায় ৮০ লাখ কর্মী কাজ করে। কিন্তু সেখানকার চলমান সংঘাতের কারণে তাদের গুরুত্বপূর্ণ রেমিট্যান্সে প্রভাব পড়ছে। এটি আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। হরমুজ প্রণালিতে আমাদের পণ্যবাহী জাহাজ আটকে আছে।’ এ পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সংঘাতের দ্রুত সমাধান চান বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ‘এ যুদ্ধের সমাধান হওয়ার পর হরমুজে আটকে থাকা জাহাজ যাতে চলাচল করতে পারে, সে অনুরোধ জানিয়েছি। আমরা যাতে গভীর জ্বালানি সংকটে না পড়ি, সে ব্যাপারে অনুরোধ জানিয়েছি।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এসব অনুরোধ ইরানের প্রেসিডেন্ট মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন।
ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার রয়েছে। প্রয়োজনে বন্ধুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে সংলাপের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ৫ জরুরি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর 
জলবায়ু অভিযোজনের জন্য তাঁর সরকার বৃক্ষরোপণ, নদী-খাল খননসহ নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘এবারের বাজেটে আমরা প্রায় ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ করেছি। তারপরও আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া আমরা বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছি।’ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় পাঁচ দফা জরুরি প্রস্তাব উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এককভাবে নয়, সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি।

নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় গত বুধবার বিকেলে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উদ্যোগে ‘জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায্য উত্তরণ’বিষয়ক এক উচ্চ পর্যায়ের সভায় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাঁচ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এগুলো হলো– প্যারিস চুক্তিতে নির্ধারিত ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সীমা বজায় রাখতে বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমাতে হবে; জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অভিযোজন খাতে পূর্বানুমেয় ও সহজলভ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে; জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে আরও বেশি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে একটি ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক জলবায়ু উত্তরণ সম্ভব করতে হবে; সহজলভ্য অর্থায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ করতে হবে; ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং নিয়মিতভাবে এর অর্থ পুনঃপূরণ করতে হবে।

খলিলুর রহমানের কার্যালয়ের লিগ্যাল অফিসার হলেন জাইমা রহমান
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। বিনা বেতনে এক বছরের জন্য তাঁকে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জোবাইদা রহমানের একমাত্র সন্তান তিনি।

খলিলুর রহমানের কার্যালয়ের বিভিন্ন পদে রয়েছেন মোট ৪০ জন। তাদের মধ্যে জাইমা রহমানসহ ছয়জন বাংলাদেশি রয়েছেন। বাংলাদেশি কূটনীতিক আব্দুল আলিম কার্যালয়ে উপপ্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন। মোয়াজ্জেম হোসেন উপদেষ্টা ও প্রশাসনিক সহকারী; মাফিজুল ইসলাম তথ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কৌশলগত পূর্বাভাস বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা; জাকির আহমেদ টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং মো. রফিকুল আলম মোল্লা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দেশগুলো বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করবেন।

মৎস্যসম্পদ সুরক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির আহ্বান

০

মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন আইনপ্রণেতা, মৎস্য বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশকর্মীরা। মৎস্য অভয়াশ্রম ও প্রজননক্ষেত্রের সুরক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় নেওয়ার পাশাপাশি মৎস্য খাতের বিভিন্ন পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘মৎস্যসম্পদের সুরক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলা হয়। ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ প্রচারাভিযানের আওতায় ধরিত্রী রক্ষায় আমরা, ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন এবং সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনসহ ৩৭টি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠন যৌথভাবে এ আয়োজন করে।
এতে সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র। প্রধান অতিথি ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন।

সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা-এর সদস্য ইকবাল ফারুক। বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আনিসুর রহমান, বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মোস্তফা কামাল মজুমদার, সাবেক জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী।

ইকবাল ফারুক বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে ছাই, গরম পানি ও বিভিন্ন ধরনের দূষিত পদার্থ নদীতে গিয়ে পড়ছে। এতে মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকা ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি ভারী ধাতু মাছের শরীরেও জমছে। তিনি বলেন, মৎস্যসম্পদ সুরক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যেতে হবে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধাপে ধাপে বন্ধ করে সেসব জায়গায় সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মৎস্যসম্পদের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উড়ন্ত ছাই ও গরম পানি নদীর পানির গুণমান নষ্ট করছে। এতে পানিতে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়ে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর ক্ষতি হতে পারে। তিনি মৎস্য খাতে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ধাপে ধাপে বন্ধ করার ওপর গুরুত্ব দেন।

ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে জাতীয় বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্য রয়েছে। এ জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন বলেন, শুধু নবায়নযোগ্য জ্বালানি নয়; জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, সে বিষয়েও সরকার কাজ করছে। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।

সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র বলেন, আজকের আলোচনা শুধু মতবিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এখনই সম্মিলিত উদ্যোগে রূপ দিতে হবে।
ড. মো. আনিসুর রহমান বলেন, পানির তাপমাত্রা, দূষণ, দ্রবীভূত অক্সিজেন, অম্ল-ক্ষারত্বসহ বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের সামান্য পরিবর্তনও ইলিশসহ অন্যান্য মাছের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মোস্তফা কামাল মজুমদার বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে। বর্তমান সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ বিষয়ে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রয়োজনে উন্নত দেশগুলোর মতো সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে একটি আলাদা প্রতিষ্ঠান গঠনের কথাও বলেন তিনি।

এশিয়ান গেমস মালদ্বীপকে হারিয়ে বাংলাদেশের বিচ ভলিবল দলের জয়

০

জাপানের আইচি-নাগোয়ায় চলমান ২০তম এশিয়ান গেমসে জয় পেয়েছে বাংলাদেশের পুরুষ বিচ ভলিবল দল। পুল ‘এইচ’-এর ম্যাচে মালদ্বীপকে ২-১ সেটে হারিয়েছে বাংলাদেশের রাকেশ ও রাতুল জুটি।

মালদ্বীপের নাসিম আদম ও সাজিদ ইসমাইলের বিপক্ষে প্রথম সেটে ১৩-২১ পয়েন্টে হেরে যায় বাংলাদেশ। তবে পরের দুই সেটে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২১-১৯ ও ১৭-১৫ পয়েন্টে জয় নিশ্চিত করে রাকেশ-রাতুল জুটি।

এর আগে পুল ‘এইচ’-এ নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে জাপান ও ইরানের কাছে ০-২ সেটে হেরেছিল বাংলাদেশ। জাপানের বিপক্ষে ১১-২১, ১৫-২১ এবং ইরানের বিপক্ষে ১৩-২১, ১২-২১ পয়েন্টে পরাজিত হয় তারা।

মালদ্বীপকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে প্রথম জয় তুলে নেওয়ায় বাংলাদেশ পুরুষ বিচ ভলিবল দলকে অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশন।

ঠাকুরগাঁওয়ে ফের মিড ডে মিল খেয়ে হাসপাতালে ২৯ শিক্ষার্থী

০

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে আবারও মিড ডে মিল খেয়ে ২৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার মহারাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাদেরকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায় বলেন, শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা চলমান রয়েছে। ফুড এলার্জির কারণে এমনটি হতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়রা জানায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার দুপুরে শিক্ষার্থীদের মাঝে মিড ডে মিলের খাবার পরিবেশন করা হয়। মেন্যুতে অন্যান্য খাবারের সঙ্গে ডিমও ছিল। ডিম খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে একে একে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ বোধ করতে শুরু করে। তাদের তীব্র পেটব্যথা, বমি ও মাথা ঘোরার উপসর্গ দেখা দেয়। পরে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ২০ শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর বালিয়াডাঙ্গীর ৩টি বিদ্যালয়ের ৩৪ জন শিক্ষার্থী মিড ডে মিলের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

যুক্তরাষ্ট্রে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পের হুমকির কড়া জবাব দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

০

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় ইরানকে ধ্বংসের হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একদিন পর একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে হুমকির জবাব দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িত থাকা অবস্থায় প্রথম কোনো বিদেশি নেতা হিসেবে নিউইয়র্ক সময় বুধবার জাতিসংঘে ভাষণ দেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ‘তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনীতির জন্য প্রস্তুত। কিন্তু বল প্রয়োগের ভাষা মেনে নেওয়া হবে না।’

অধিবেশনে সাধারণ বিতর্ক শুরুর প্রথমদিনে মঙ্গলবার ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দেন, সংঘাত নিরসনের আলোচনা ব্যর্থ হলে তিনি ইরানকে ধ্বংস করে দেবেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি কি তাদের এমন নরকে ঠেলে দেব, যেখানে বেঁচে থাকার কোনো সুযোগ থাকবে না?’

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবি হাতে ইরানের প্রেসিডেন্ট। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবি হাতে ইরানের প্রেসিডেন্ট। ছবি: এএফপি

ইরানের কর্তৃপক্ষকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও আখ্যা দেন ট্রাম্প। তিনি অন্য দেশগুলোকে তেহরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানান।

ট্রাম্পের ওই ভাষণের জবাবে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা, বাড়তি চাপ এবং হেয় করা হলে ইরানি জনগণের প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও বাড়বে। আমরা কখনো কারও কাছে মাথা নত করব না।’

ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ট্রাম্প ও অন্য যারা আমাদের হেয় করতে চায়, তাদের একটি বিষয় বুঝতে হবে। সেটি হলো- আমরা আলোচনা, সংলাপ কিংবা কূটনীতিতে রাজি। কিন্তু বল প্রয়োগের ভাষা মেনে নেব না।’

পেজেশকিয়ান বক্তব্য শুরু করার সময় মার্কিন প্রতিনিধিদল পরিষদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। আগেরদিন ট্রাম্পের ভাষণের সময়ও ইরানি প্রতিনিধিরা একইভাবে পরিষদ ত্যাগ করেছিলেন।

ভারত মহাসাগরেও যুদ্ধ ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিল ইরান

০

যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা করলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ভারত মহাসাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে পারে ইরান। বৃহস্পতিবার এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনির উপদেষ্টা ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি।

আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স-এ প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় ইয়াহিয়া রহিম বলেন, এরইমধ্যে সংঘাত পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে। আরও যুদ্ধ হলে সেটির জবাবে সংঘাতের ফ্রন্ট বিস্তৃত হবে। যা ভারত মহাসাগর ও এর বাইরের অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সৌদি আরবের সঙ্গে লড়াইরত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সম্প্রতি লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এর মাধ্যমে বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে তাদের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে। এই প্রণালি সুয়েজ খালের মাধ্যমে এশিয়াকে ইউরোপের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে হুতিদের সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ আছে। তবে ইয়েমেনের সংঘাতে নিজেদের সম্পৃক্ত থাকার কথা তেহরান অস্বীকার করে আসছে।

এর আগেও ইরানি কর্মকর্তারা মার্কিন হামলার জবাবে যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিসর বিস্তৃত করার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে বৃহস্পতিবারের সতর্কবার্তায় প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ নেতার কোনো উপদেষ্টা সরাসরি ভারত মহাসাগরের কথা উল্লেখ করলেন। মহাসাগরটির দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কৌশলগত সামরিক ঘাঁটি আছে। এটি ইরান থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে।

সংঘাত অবসানের প্রচেষ্টা হিসেবে চলতি সপ্তাহে দুই দেশের প্রতিনিধিরা নিউইয়র্কে বৈঠক করেছেন। সেখানে নিজেদের শর্ত তুলে ধরে ইরান। এরমধ্যে আছে- আর্থিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও বিদেশে জব্দকৃত সম্পদ ছাড়।

গত মঙ্গলবার এএফপিকে বিশেষ সাক্ষাৎকার দেন বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি। তখন তিনি ইয়েমেনে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টিও উল্লেখ করেছিলেন।

নিত্যপণ্যের দাম একের পর এক বাড়ছে

০

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আগে মাস দেড়েক ধরে ক্রেতাকে ভোগাচ্ছিল আটা-ময়দা। গত সপ্তাহে আরেক দফায় কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে পণ্য দুটির দাম। সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর পরিবহন ভাড়া বেড়েছে। এতে নতুন করে চাল, ডিমসহ অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের দর বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তবে পণ্য পরিবহন ব্যয় প্রতি কেজিতে পয়সার হিসাবে বাড়লেও খুচরা বাজারে দাম বাড়ছে টাকার অঙ্কে।

ভোক্তা অধিকারকর্মীরা বলছেন, বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি চলছে। এর মধ্যে একের পর এক নিত্যপণ্যের দর বাড়তে থাকায় কম আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সমন্বয় করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। নতুন করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে গরিব মানুষের টিকে থাকতে কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এ থেকে উত্তরণে বাজারে সরকারের কড়া নজরদারি প্রয়োজন।

আটা-ময়দা কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে
গতকাল বুধবার রাজধানীর নাখালপাড়া, মহাখালী, কলমিলতা কাঁচাবাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি প্যাকেটজাত আটা বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা দরে। সপ্তাহখানেক আগেও প্যাকেটজাত আটা ও ময়দার দাম ছিল যথাক্রমে ৬০ ও ৭০ টাকা। সেই হিসাবে আটা-ময়দা কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে।

তবে খোলা আটা ও ময়দার দর কিছুটা কম। পণ্য দুটি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৫৫ ও ৬৫ থেকে ৭০ টাকা দরে। পাঁচ-ছয় দিনের ব্যবধানে খোলা আটা ও ময়দার দামও বেড়েছে পাঁচ টাকা করে।

আটা-ময়দার দাম বাড়ার বিষয়ে মহাখালী কাঁচাবাজারের কে বি স্টোরের স্বত্বাধিকারী বিকাশ বণিক সমকালকে বলেন, এক-দেড় মাস আগে আটা-ময়দার দাম বেড়েছিল। এখন আরেক দফা বাড়ল। নতুন করে দুই কেজির যে প্যাকেটজাত আটা ও ময়দা দিয়েছে কোম্পানিগুলো, সেগুলোর খুচরা ‍মূল্য লেখা রয়েছে ১৪০ এবং ১৬০ টাকা। তিনি বলেন, ‘আমাদের সামান্য লাভ হয়। তাই গায়ের দরে বিক্রি করি।’

সরকারি সংস্থা টিসিবির তথ্য বলছে, এক মাসে প্যাকেটজাত আটার ৪ ও ময়দার ১৭ শতাংশ দর বেড়েছে।

চালের দাম বাড়ার ইঙ্গিত
আটা-ময়দার এমন উচ্চমূল্যের মধ্যেই নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে চালের বাজারে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর ট্রাক ভাড়া বাড়ার ফলে মাসখানেক ধরে স্থির থাকা চালের বাজারেও নড়চড় শুরু হয়েছে। দাম বাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

‘আজ ১৫ টন চাল এনেছি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে। দুই দিন আগেও ট্রাক ভাড়া দিছি ১৭ হাজার টাকা। আজ চার হাজার টাকা বেশি দিলাম। এটা আসলেই অনেক বেশি।’ গতকাল পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি সমকালকে এভাবেই জানালেন রাজধানীর কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের পাইকারি চাল ব্যবসায়ী ইসমাইল অ্যান্ড সন্সের বিক্রয়কর্মী মহিউদ্দিন।

তাঁর দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রতি কেজি চালের জন্য তাঁকে আগের তুলনায় পরিবহন ভাড়া ২৭ পয়সা বেশি গুনতে হচ্ছে।

মহিউদ্দিন বলেন, ‘গাড়ি ভাড়া যেহেতু বেড়েছে, চালের দর না বাড়িয়ে উপায় নেই।’

কত বাড়তে পারে– জানতে চাইলে মহিউদ্দিনের পাশের দোকানদার মুক্তা রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী মো. শাহজাহান বলেন, ৫০ পয়সা বাড়ার কথা। কিন্তু এখন তো আর পয়সার হিসাব নেই। হয়তো এক টাকা বাড়তে পারে। তবে এই দর এখনই বাড়বে না বলে জানান উভয় ব্যবসায়ী। তাদের ভাষ্য, এখনও আগের কেনা চাল রয়ে গেছে। নতুন করে যেসব চাল আসছে; দুই-এক দিন পর সেগুলো বিক্রি শুরু হলে তখন দাম কিছুটা বাড়তে পারে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট থেকে চাল এনে মহাখালী কাঁচাবাজারে বিক্রি করে ইয়াসিন ট্রেডার্স। দোকানটির বিক্রয়কর্মী বলেন, কৃষি মার্কেট থেকে আগে ছোট পিকআপে দেড় হাজার টাকার মতো ভাড়া ছিল। এখন ২০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। বাড়তি এই ভাড়া চালের দামেই যুক্ত হবে। ফলে দাম কিছুটা হলেও বাড়াতে হবে। তাঁর মতে, ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে মিলারদেরও চাল ভাঙানোর খরচ বাড়বে। কয়েক দিনের মধ্যে তারাও হয়তো দাম বাড়াতে পারে। ফলে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এই চাল বিক্রেতা।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে পরিবহন ভাড়া ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভোক্তা অধিকার সংস্থা কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংস্থাটির সভাপতি এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, সরকারের নজরদারি না থাকায় ব্যবসায়ীরা মনগড়া দাম বাড়িয়ে ভোক্তার ওপর বাড়তি বোঝা চাপাচ্ছে। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে কেজিতে পরিবহন খরচ হয়তো ১৫ থেকে ২৫ পয়সা বাড়তে পারে। কিন্তু এই অজুহাতে ব্যবসায়ীরা বাড়তি সুযোগ নেবে।

জ্বালানি তেলের দাম ধাপে ধাপে বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়ানো হলো। এর নেতিবাচক প্রভাব পরিবহন থেকে শুরু করে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রে পড়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে একে ব্যবহার করে ভোক্তাদের ওপর চাপ বাড়াতে না পারে তার জন্য বাজার মনিটরিং জোরদার করতে হবে সরকারকে।

প্রভাব পড়তে পারে চিড়া-মুড়িতে
কারওয়ান বাজারে পাইকারি দরে চিড়া-মুড়ি-খই ও গুড় বিক্রি করেন মনির হোসেন। গতকাল তিনি বরিশাল থেকে তিন হাজার ২০০ কেজি হাতে ভাজা মুড়ি এনেছেন। সমকালকে মনির হোসেন বলেন, নিয়মিত ১৬ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে এসেছি। অনেক দর কষাকষির পর গতকাল তিন হাজার টাকা বেশি ভাড়া দিয়ে মুড়ি আনতে হয়েছে।

বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি মুড়ি মানভেদে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মনির হোসেন জানান, অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে কেজিপ্রতি তাঁকে প্রায় এক টাকা বেশি ভাড়া দিতে হয়েছে। ফলে পাইকারি দরে বিক্রি করার সময় এই টাকা যোগ করেই তাঁকে বেচতে হবে। তিনি বলেন, খুচরা বাজারে এই এক টাকা হয়তো দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে। শুধু চাল আর মুড়ি নয়, ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের পরিবহন ভাড়া বাড়ছে। যার প্রভাব পড়ছে পণ্যের দামে এবং এর চূড়ান্ত চাপ পড়ছে ভোক্তার ঘাড়ে।

ভোজ্যতেল
চলতি মাসের শুরুতে বোতল ভোজ্যতেলের দর লিটারে পাঁচ টাকা বেড়েছিল। এর পরও বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকা পাঁচ লিটার বোতলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। মহাখালী কে বি স্টোরের বিকাশ বণিক বলেন, ভোজ্যতেল কোম্পানির ডিলাররা আকারে-ইঙ্গিত জানালেন, তেলের দর আরও বাড়ানোর জন্য তারা সরকারকে চিঠি দিয়েছেন। এ জন্য তারা তেল কম দিচ্ছেন।

ডিমের হালি ৫৫ টাকা
দুই মাস ধরে ডিমের বাজারও চড়া। এখন দাম আরও চড়েছে। পশ্চিম নাখালপাড়ার মা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম জানান, ভ্যানগাড়িতে তাঁর দোকানে যিনি প্রতিদিন ডিম দিচ্ছেন, তাঁকে পাইকাররা বলে দিয়েছেন– ট্রাক ভাড়া বাড়ার কারণে ডিমের দর কিছুটা বাড়তে পারে। গতকাল তিনি প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির বাদামি রঙের ডিম বিক্রি করেছেন ১৬০ টাকা দরে। তবে কেউ এক হালি (চারটি) কিনলে সে ক্ষেত্রে দাম রাখছেন ৫৫ টাকা।

প্যাকেটজাত তরল দুধ ও ফলের দাম বেড়েছে
সম্প্রতি সব কোম্পানির প্যাকেটজাত তরল দুধ লিটারে ১০ টাকা বেড়েছে। দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে আমদানি করা সব ধরনের ফলও। প্রতি কেজি মালটা ও কমলা ৪২০ থেকে ৪৫০ এবং আপেল ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল আঙুরের জন্য কেজিতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ার পেছনে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে দায়ী করছেন।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম সমকালকে বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে পণ্যের দাম বাড়বে এবং তা মেনে নিতে হবে– বিষয়টা এমন নয়। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির জন্য কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া কত হওয়া উচিত; বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন ব্যয় কত হতে পারে– বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন থেকে এ বিষয়ে দ্রুত বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা উচিত।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, কমিশনের বলা দরকার– জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে গ্রাম থেকে ঢাকায় সবজি নিয়ে আসতে পাঁচ বা ১০ পয়সা বাড়তি খরচ হবে। এর ভিত্তিতে বাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কৃষি, খাদ্য, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংস্থাগুলো বাজার তদারক করলে সুফল মিলবে। কারণ তথ্য-উপাত্ত হাতে থাকলে ব্যবসায়ীরাও দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্ক থাকবে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার-সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে বাজারে পণ্যমূল্যে সামান্য যে পরিমাণ প্রভাব পড়ার কথা, কিছু ক্ষেত্রে তার চেয়ে প্রভাব বেশি পড়ছে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে আমরা ব্যবসায়ীদের সেই সুযোগ দেব না। কারণ পরিবহন ভাড়া কেজিতে ২৫ পয়সা বাড়বে; সেই অজুহাতে দাম দ্বিগুণ বাড়াবে– এই অতি মুনাফা করার সুযোগ দেওয়া হবে না।’

জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন বাজার তদারক করছি। পরিবহন ভাড়া কত বাড়ছে আর পণ্যমূল্য কত বাড়ছে, সেটি পর্যবেক্ষণ করছি। বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি। নজরদারি আরও কঠোর হবে।’

তরুণদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমুখী করতে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটিতে দিনব্যাপী কার্নিভাল

০

তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের (STEM) প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং তাদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী দক্ষতা বিকাশের লক্ষ্যে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (WUB)-এ অনুষ্ঠিত হয়েছে WUB STEM Carnival 2026।

গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার উত্তরায় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী এ কার্নিভালে দেশের শতাধিক কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।

বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের জ্ঞান, সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণী চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পায়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. নুরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার প্রফেসর জাকি ইমাম, ডিন অব একাডেমিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড রিসার্চ প্রফেসর ড. এ.কিউ.এম. শফিউল আজম এবং ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।

কার্নিভালে চারটি প্রধান ইভেন্ট ছিল—Mathematical Olympiad, Science & ICT Olympiad, Quiz Competition এবং Project Showcasing। এইচএসসি, এ লেভেল ও আলিম পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়। কার্নিভালে মোট ৩ লাখ টাকা প্রাইজমানি ছিল। বিজয়ীদের নগদ অর্থের পাশাপাশি সনদ ও ক্রেস্ট এবং অংশগ্রহণকারীদের অংশগ্রহণ সনদ প্রদান করা হয়।

কার্নিভালের অন্যতম আকর্ষণ ছিল Project Showcasing। এতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দল রোবোটিক্স, টেকসই উন্নয়ন ও প্রকৌশল নকশাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে। দুই থেকে চার সদস্যের দলগুলো তাদের সৃজনশীলতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং ধারণাকে বাস্তব সমাধানে রূপ দেওয়ার সক্ষমতা তুলে ধরে।

সকাল ৯টায় রেজিস্ট্রেশন ও রিসেপশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। দিনব্যাপী বিভিন্ন অলিম্পিয়াড ও কুইজ প্রতিযোগিতা শেষে বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠান।

কার্নিভালের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক ধারণা বিনিময়, সহপাঠীদের কাছ থেকে শেখা, দলগতভাবে কাজ করা এবং নিজেদের উদ্ভাবনী চিন্তা উপস্থাপনের সুযোগ পায়। একই সঙ্গে আয়োজনটি শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা, সমস্যা সমাধান, দলগত কাজ ও উপস্থাপনা দক্ষতা বিকাশে গুরুত্ব দেয়।

WUB STEM Carnival 2026 তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি, উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা রাখে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

স্বেচ্ছাসেবক দলের সমাবেশে রিজভী শেখ হাসিনার ষড়যন্ত্রে সায় দিচ্ছে গুপ্ত বাহিনী

০

শেখ হাসিনার ষড়যন্ত্রে দেশের গুপ্ত বাহিনী সায় দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, পলাতক ফ্যাসিস্ট ভারতে গিয়ে সেখান থেকে কলকাঠি নেড়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে। আর দেশের ভেতরে থাকা গুপ্ত ও সুপ্তরা তালের পাখা দিয়ে বাতাস করছে।

দেশে পরিকল্পিত সন্ত্রাস এবং অগ্নিসংযোগের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। গতকাল বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী।
বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু এমপি, যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আযাদ, সহ-অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, কেন্দ্রীয় নেতা ডাক্তার জাহিদ, রফিকুল ইসলাম, নাজমুল হাসান, মাসুম বিল্লাহ, জহির উদ্দিন তুহিন, শেখ ফরিদসহ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা।

বক্তব্যে দেশে পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস, নাশকতা ও অগ্নিসংযোগকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট চক্র বিদেশ থেকে ষড়যন্ত্রের জাল বুনে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। কিন্তু এ দেশের জনগণ সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অতন্দ্র প্রহরীর মতো জেগে আছে। এই রাজপথ অন্য কোনো দলের কাছে বিক্রি করা হয়নি বা কেউ কিনে নেয়নি। এই রাজপথ এ দেশের মেহনতি জনগণের। বিএনপি সব সময় অন্যায়, অবিচার, অত্যাচার এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে রাজপথে থেকে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করেছে।

বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, আজকে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও গ্যাসের সংকট চলছে। পৃথিবীর অনেক দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে, কিউবায় ১০-১৫ দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। অথচ বিরোধী দলের কিছু নেতা না বুঝে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) ইতোমধ্যে জানিয়েছে যে, বর্তমান সরকারের কার্যকর পদক্ষেপে দেশের অর্থনীতি উন্নতির দিকে মোড় নিচ্ছে। অথচ একটি মহল জনগণের কষ্টকে পুঁজি করে বিলাসিতা ও অতিরিক্ত গাড়িবহর নিয়ে শোডাউন করে অপচয় করছে।

তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলের লংমার্চে সরকারি হিসাব অনুযায়ী, যমুনা সেতুর টোলের হিসাব ছিল সাড়ে ৪০০ গাড়ি। আর জামায়াতের আমির বলেছেন, এক হাজার গাড়ি নিয়ে গেছেন। এত গাড়ি নিয়ে চট্টগ্রাম বা রংপুরে যাওয়ার কী প্রয়োজন ছিল? যদি ধরেও নিই যে সাড়ে ৪০০ গাড়ি ছিল, তবে এই পরিমাণ জ্বালানি খরচ না করে তা যদি সাশ্রয় করা হতো, তবে দেশের উপকার হতো।

আগামী সংসদ নির্বাচনে জামায়াত সরাসরি নারী প্রার্থী দেবে: মারদিয়া মমতাজ

০

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী সরাসরি নারী প্রার্থী দেবে বলে জানিয়েছেন দলটির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ। তিনি বলেন, এ বিষয়ে দলের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি মোটামুটি চূড়ান্ত।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জুলাই অভ্যুত্থান ও নারী অধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আধিপত্যবাদবিরোধী নাগরিক সমাজ এ সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী।

মারদিয়া মমতাজ বলেন, ‘গত নির্বাচনেও আমাদের দলের নারীদের কাছে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তারা সরাসরি নির্বাচন করতে চান কি না। ৭০ শতাংশ নারী না উত্তর দিয়েছিলেন। তারা বলেছিলেন, আমি যে নির্বাচন করব, আমি আমার নিরাপত্তা পাব কি না।’

তিনি বলেন, ‘নারীদের আজ রাস্তায় নামার অবস্থা নেই। আমি দলের বিরুদ্ধে বললে পদ পাব না, বরাদ্দ পাব না।’

ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী হওয়ার প্রসঙ্গে মারদিয়া মমতাজ বলেন, ‘আমি যখন ঢাকা-৮ আসনে দাঁড়াব, তখন আমার অবস্থা ওসমান হাদীর মতো হবে? তখন মনে হয় দাঁড়াব না।’