Home Blog Page 8

খুনের কারণ ও খুনি সম্পর্কে জানতে পারল না পরিবার ঠিকাদার কাজী নাসির উদ্দিনকে গুলি করে হত্যা

ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরা আগেই বন্ধ করে রেখেছিল দুর্বৃত্তরা। ফলে প্রকাশ্যেই ঠিকাদার কাজী নাসির উদ্দিনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আট বছর পেরিয়ে গেলেও হত্যারহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অবশেষে মামলার বাদীপক্ষকে না জানিয়েই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে পুলিশ। মামলাটির সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক আলতাফ হোসেন সম্প্রতি এই প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার।

স্বজনদের প্রশ্ন, একজন মানুষকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হলেও খুনি এবং পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করা গেল না কেন? খুনের পেছনে কারণ কী, সেটিও জানতে পারলেন না তারা। হত্যারহস্য উদ্ঘাটন না করেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। অথচ তদন্ত কর্মকর্তা এ বিষয়ে তাদের অবহিত করেননি।

নাসিরের মেয়ে ও মামলার বাদী নার্গিস আক্তার নিপু সমকালকে বলেন, বাবা হারানোর বেদনা কতটা গভীর, তা শুধু আমরাই অনুভব করতে পারি। খুনিরা বাবার বুকে গুলি চালিয়ে পার পেয়ে গেল। বিচার পাওয়ার অধিকার কী আমাদের নেই? কেন, কী কারণে কারা বাবাকে হত্যা করল, সেই উত্তর পেলাম না। বাবা প্রাণনাশের হুমকিতে ছিল। কাদের শত্রুতা ছিল, সে বিষয়ে পুলিশকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। তবে পুলিশ সেটিকে গুরুত্ব দিয়েছে বলে মনে হয় না। নিপুর দাবি, তাঁর বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করলে হয়তো তারা বিচার পেতেন।

জানা যায়, নাসিরের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার মাদুয়াখালী এলাকায়। তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকতেন। ভবনের টাইলস ফিটিংয়ের ঠিকাদারির কাজ করতেন। ২০১৮ সালের শুরু থেকে মহাখালীর দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের টাইলস ফিটিংয়ের কাজ চলছিল তাঁর অধীনে। ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টার দিকে তিনি কাজের তদারকি করতে যান দক্ষিণপাড়ায়। সেখানে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়। শুধু ঘটনাস্থলেরই নয়, ওই এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তিমালিকানার মোট ২৬টি সিসি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল দুর্বৃত্তরা।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, সিসি ক্যামেরা বন্ধের বিষয়ে একাধিকার জিজ্ঞাসাবাদ করেও তথ্য পাওয়া যায়নি। একটি এলাকায় একযোগে কে বা কারা এই ক্যামেরাগুলো বিচ্ছিন্ন করল, সেটিও তদন্তকারীরা সিসি ক্যামেরা পরিচালনা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বের করতে পারেননি।

হত্যার ঘটনায় নাসিরের মেয়ে নিপু অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে বনানী থানায় মামলা করেন। প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। কোনো কুলকিনারা না পেয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে মামলাটি স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘদিন তদন্ত করে ডিবিও জড়িতদের শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়। এরপর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তের দায়িত্ব পায়। তদন্ত সংস্থাটি ২০২২ সালে ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। তাতে উল্লেখ করা হয়, হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই ঘণ্টা আগে কে বা কারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে সিসি ক্যামেরার প্রধান লাইন কেটে দেয়। ফলে হত্যার সময়ের ফুটেজ পাওয়া যায়নি। সিসি ক্যামেরা পরিচালনাকারীসহ আশপাশের লোকজন সংযোগ বিচ্ছিন্নকারীদের সম্পর্কে তথ্য দিতে পারেনি। চূড়ান্ত প্রতিবেদনের শেষাংশে বলা হয়, নাসির হত্যার ঘটনাটি সত্য বলে প্রতীয়মান হলেও জড়িতদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

পিবিআইর এই বক্তব্য গ্রহণ না করে আদালত সিআইডিকে পুনর্তদন্তের দায়িত্ব দেন। ২০২৩ সালের ৩ মে সিআইডির সে সময়ের পরিদর্শক মহসিন উদ্দিন তদন্ত শুরু করেও কিছুই বের করতে পারেননি। ২০২৪ সালের মে থেকে সিআইডির ঢাকা মহানগর উত্তরের পরিদর্শক আলতাফ হোসেন পঞ্চম তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান। সম্প্রতি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তিনি।

আলতাফ হোসেন সমকালকে বলেন, খুন হয়েছে এটা সত্য। তবে জড়িতদের সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।

বাদীপক্ষকে না জানানোর কারণ কী, জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের বাসার ঠিকানায় চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তবে ঠিকানায় তাদের পাওয়া না যাওয়ায় সেটি ফেরত এসেছে। এ ছাড়া তাদের ফোন করেও পাওয়া যায়নি।

তবে তদন্ত কর্মকর্তা আলতাফ ফোন করেননি বলে দাবি করে বাদী নার্গিস আক্তার নিপু বলেন, কয়েক মাসের মধ্যে আমাদের সঙ্গে কোনো মাধ্যমেই যোগাযোগ করা হয়নি। আমরা আগের ঠিকানাতেই আছি। চিঠি পাঠানো হলে অবশ্যই আমাদের পাওয়ার কথা।

বাংলাদেশে হিন্দু কথা বললেই তাঁর কপালে দু:খ নেমে আসে?

শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক।। কোন অপরাধ না করে বিনা কারণে বিনা বিচারে শ্রীচিন্ময় কৃষ্ণ দাস অনেকদিন জেলে আছেন। কবে তিনি মুক্তি পাবেন, বা আদৌ মুক্তি পাবেন কিনা কেজানে? সদ্য হরিদাস চন্দ্র তরনিদাস গ্রেফতার হয়েছেন, তাঁর ভাগ্যও অনিশ্চিত। ইতোপূর্বে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত অপমানিত হয়েছেন। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিন্হা দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। অধ্যাপক নিম চন্দ্র ভৌমিক কলঙ্কিত হয়েছেন। এমনকি পঙ্কজ দেবনাথ ভিকটিম হয়েছেন। এ সবগুলো নাম হিন্দু, এদের নির্যাতিত হবার অন্য কোন কারণ দরকার নেই? এঁরা যে ‘অপরাধী’ রাষ্ট্রযন্ত্র কিন্তু তা প্রমান করতে পারেনি, বিচারপতি সিন্হা’র ক্ষেত্রে ‘ফালতু’ মামলায় তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। বাংলাদেশে যেকোন হিন্দু কথা বললেই তাঁর কপালে দু:খ আছে?

এডভোকেট চৈতালি মুখার্জি চুপ হয়ে গেছেন বা তাঁকে চুপ করে দেয়া হয়েছে। অনেকদিন আগে প্রিয়া সাহা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে একটি সত্য কথা বলে দিয়েছিলেন, পুরো জাতি তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো, রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা হয়েছিল, দেশে থাকলে তাঁর অবস্থা কি হতো তা আন্দাজ করা যায়, তিনি আদৌ আর এ জীবনে দেশে যেতে পারবেন কিনা সেটা অনিশ্চিত। প্রবাসে যারা বাংলাদেশের হিন্দুদের পক্ষে নিয়মতান্ত্রিক সংগ্রাম-আন্দোলন করছেন তারা দেশে যেতে সাহস পাননা, কারণ দেশের মানুষগুলো বর্বর হয়ে যাচ্ছে। দেশে আইন-কানুন, বিচার-সালিশ আছে বলে মনে হয়না। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অবস্থাও এখন হিন্দুদের মত, তবে তাঁরা ধর্মের কারণে নির্যাতিত নন, হিন্দুরা ধর্মের কারণে নির্যাতিত।

মুক্তিযুদ্ধকালে একাত্তরেও একই অবস্থা ছিলো, হিন্দুরা ধর্মের কারণে টার্গেট ছিলো, আওয়ামী লীগ কর্মীরা টার্গেট ছিলো রাজনৈতিক কারণে। দেশের অবস্থাটা কিন্তু এখন একাত্তরের মতোই, শেষটাও কি একাত্তরের মত হবে? তর্কের খাতিরে ধরে নেয়া যাক যে, আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসলো, তাতে কি হিন্দুদের অবস্থার উন্নতি হবে? আওয়ামীলীগের ১৭বছরের শাসনামল কি সেই কথা বলে? এটি সত্য ১৯৭১ সালে হিন্দুরা বিশ্বাস করেছিলো যে, পাকিস্তান গেছে, এখন আমরা সবাই বাঙ্গালী, হিন্দু-মুসলমান একসাথে বসবাস করবো, দেশ গড়বো। হিন্দুরা মুসলমানদের বিশ্বাস করেছিলো। গত ৫৫ বছরে সেই বিশ্বাস ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে। অনেক হিন্দুই এখন বিশ্বাস করে যে বাংলাদেশের হিন্দুরা মুসলমানের সাথে একসাথে বসবাস করতে পারবে না?

তাহলে উপায়? উপায় তো সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানকে খুঁজে বের করতে হবে? এখনো বাংলাদেশে দুই কোটি হিন্দু আছে, এদেরকে মেরে ফেলা যাবেনা, ধর্মান্তরিত করা যাবেনা, বিতাড়ন করা যাবেনা। হিন্দুরা বাংলাদেশের ভূমিপুত্র, এই দেশ তাঁদের চৌদ্ধপুরুষের। তাঁরা উড়ে এসে জুড়ে বসেনি। বাংলাদেশে হিন্দু আন্দোলনে একটি শ্লোগান এখন বেশ শোনা যায়, সেটি হচ্ছে, “কথায় কথায় বাংলা ছাড়, বাংলা কি তোর বাপ্-দাদার”? ইউনুস সরকারের আমলে হিন্দুরা যথেষ্ট অত্যাচারিত হয়েছে, প্রতিবাদী হতে শিখেছে। একজন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস হাজারো হরিদাস, চৈতালির জন্ম দিয়েছে, এদের অত্যাচার করে দমিয়ে রাখা যাবেনা। ভবিষ্যতের বাংলাদেশে হিন্দুরা আর কোন দলের ‘ভোটব্যাংক’ থাকবে না, তারা নিজের মত করে বাঁচতে শিখেছে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ হিন্দু জেনজি আন্দোলন দেখবে।

২৭ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের দেওয়ানহাট চার সংস্থার ঠেলাঠেলি, সেতুর দায়িত্ব নিচ্ছে না কেউ

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের মাঝখান দিয়ে চলে গেছে রেললাইন। এই রেললাইনের কারণে উত্তর-দক্ষিণ দুই অংশে বিভক্ত নগরী। সেই রেললাইনের ওপর নির্মিত একটি সেতু সংযুক্ত করেছে উত্তর-দক্ষিণকে। নগরীর টাইগারপাস ও দেওয়ানহাটের ঠিক মাঝখানে থাকা সেতুটি দেওয়ানহাট ব্রিজ নামে পরিচিত। মূলত এটি একটি ওভারব্রিজ। অর্ধশত বছর আগে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তার পর থেকে সেতুটির নিচে ট্রেন এবং ওপরে গাড়ি চলাচল করছে।

১৯৭৪-৭৫ সালের দিকে সেই সেতুটি কোন প্রতিষ্ঠান কিংবা সংস্থা নির্মাণ করেছিল, তা বলতে পারছে না কেউ। ফলে সেতুটির দায়-দায়িত্বও নিচ্ছে না কেউ। বছরের পর বছর বড় ধরনের কোনো মেরামত না করায় নড়েবড়ে সেতুটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারী ট্রাক-লরিসহ হাজার হাজার যানবাহন পারাপারের এই সেতুটি কোনো কারণে ভেঙে পড়লে নগরীর মূল যান চলাচল ব্যবস্থাও ভেঙে পড়তে পারে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে রেললাইনের ওপরে যানবাহন চলাচলের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগকে সেতুটি নির্মাণের অনুমতি দিয়েছিল রেলওয়ে। পরবর্তীকালে ১৯৭৪ সালে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অর্থায়নে সড়ক ও জনপথ বিভাগ চট্টগ্রামের প্রথম ওভারব্রিজটি নির্মাণ করেছিল। ব্রিজটি ১ হাজার ২২০ ফুট দীর্ঘ এবং ৫৬ ফুট প্রস্থ।

নির্মাণের পর থেকে শক্তপোক্ত সেতুটি দিয়ে যানবাহন চলাচল করে আসছে। কিন্তু সেতুটির ‘অভিভাবক’ কে– এ প্রশ্ন উঠেছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক), সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে; কেউই সেতুটির দায়িত্ব নেয়নি। ফলে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও নিয়মিত মেরামত না করায় এটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে।

সরেজমিন দেখা গেছে, ওভারব্রিজটির পিলার থেকে সিমেন্ট-বালুর আস্তর খসে পড়ছে। বেরিয়ে আসছে রড। স্থানে স্থানে জন্মেছে আগাছা। সব মিলিয়ে ব্রিজটির এখন ভঙ্গুর দশা। আর ব্রিজের ওপর দিয়ে চলাচল করছে কাভার্ডভ্যান, লরি, ট্রাক, বাস, কারসহ বিভিন্ন ধরনের ভারী ও হালকা যানবাহন।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হলে ২০২৪ সালের শুরুতে সেতুটি নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেয় চউক। পুনর্নির্মাণের আগে সেতু দিয়ে যাতে ভারী যানবাহন চলাচল করতে না পারে, সে জন্য তখন সেতুর দুই পাশে নির্দিষ্ট উচ্চতায় ‘হাইট ব্যারিয়ার’ স্থাপন করার কথা ছিল চসিকের। এর মাধ্যমে নতুন সেতু নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত শুধু ছোট যান চলাচল করবে এই সেতু দিয়ে। আর ভারী যানবাহনগুলোর জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ওই বছরের ১৫ জানুয়ারি চিঠি দিয়ে বিষয়টি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগকে অবহিতও করা হয়। কিন্তু সে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়নি।

চউকের সংশ্লিষ্ট এক প্রকৌশলী জানিয়েছেন, চউক সড়ক কিংবা স্থাপনা নির্মাণ করে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চসিককে হস্তান্তর করে। তাই উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত ব্রিজটি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিতে চায়নি চউক।

সেতুটির দুরবস্থার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় এবার টনক নড়েছে চসিকের। গত ২ আগস্ট সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের উপস্থিতিতে একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল দেওয়ানহাট ওভারপাসের বিদ্যমান বিপজ্জনক অবস্থা (কংক্রিট ক্ষয়, রডের মরিচা ও সারফেস ক্র্যাকিং) নিয়ে একটি তথ্যপত্র উপস্থাপন করে। এতে বলা হয়, প্রতিদিনের ভারী কনটেইনার ও পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে সেতুটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সমস্যা সমাধানে ‘স্ট্রেংদেনিং’ ও ‘রেট্রোফিটিং’ কৌশল উপস্থাপন করা হয়। এতে বিদ্যমান অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ ও আধুনিকায়ন করা হবে। তাতে সেতুর পিলারের লোড ক্ষমতা ৪৫ শতাংশ এবং মেয়াদ ৩০ বছর বাড়বে বলে উল্লেখ করা হয়।

বিদ্যমান কোনো কাঠামোতে আধুনিক পদ্ধতি ও নতুন প্রযুক্তি যুক্ত করে সেটির কার্যক্ষমতা ও নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রক্রিয়াকে রেট্রোফিটিং বলা হয়। এ ছাড়া কোনো কাঠামোর নির্দিষ্ট অংশ যেমন কলাম, বিম বা ফাউন্ডেশনের ভার বহন করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে অতিরিক্ত লোড নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করাকে স্ট্রেংদেনিং বলা হয়ে থাকে।
এ ব্যাপারে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন সমকালকে বলেন, বিদ্যমান দেওয়ানহাট ওভারপাস বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। আরও আগেই সেতুটির কাজ করা খুবই প্রয়োজন ছিল। এখন রেট্রোফিটিং ও স্ট্রেংদেনিং প্রক্রিয়ায় সেতুটির অবকাঠামো মজবুত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গ্যাসের বিকল্প হিসেবে গ্রামে বাড়ছে বায়োপ্লান্ট

দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট দিন দিন বাড়ছে। আবাসিকে নতুন গ্যাস সংযোগ দীর্ঘদিন বন্ধ। শিল্পকারখানায়ও মিলছে না প্রয়োজনীয় গ্যাস। চাহিদা মেটাতে সরকারকে প্রতিবছর বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। একই সময়ে এলপিজি গ্যাসের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে গ্রামীণ জনপদে নীরবে গুরুত্ব বাড়ছে বায়োগ্যাসের। গবাদি পশুর গোবর ও জৈব বর্জ্য থেকে উৎপাদিত এই জ্বালানি শুধু রান্নার খরচ কমাচ্ছে না, একই সঙ্গে তৈরি করছে জৈব সার, কমাচ্ছে পরিবেশ দূষণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে যোগ করছে নতুন সম্ভাবনা।

বগুড়া সেই সম্ভাবনার এক বড় উদাহরণ। সরকারি উদ্যোগে বগুড়ার বিভিন্ন উপজেলায় স্থাপিত শত শত বায়োগ্যাস প্লান্ট এখন অনেক পরিবারের রান্নাঘরের প্রধান জ্বালানির উৎস। যে গোবর একসময় ছিল অব্যবহৃত বর্জ্য, সেটিই এখন রান্নার গ্যাস, জৈব সার ও কৃষি উৎপাদনের সহায়ক সম্পদে পরিণত হয়েছে।

জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, বর্তমানে বগুড়ার ১২ উপজেলায় ৩৯৩টি বায়োগ্যাস প্লান্ট চালু রয়েছে। এসব প্লান্টের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৬১ হাজার ৯৬০ ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে। পাশাপাশি উৎপাদিত হচ্ছে ৪৭ হাজার ৬৫৩ কেজি জৈব সার এবং ১৫ হাজার ৩০০ কেজি বায়ো-কেমিক্যাল। প্রকল্পের আওতায় এখন পর্যন্ত দুই হাজার ৬৪০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, ঋণ বিতরণ করা হয়েছে পাঁচ কোটি ২২ লাখ ৬০ হাজার টাকার।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতীয় পর্যায়ে বায়োগ্যাস প্রাকৃতিক গ্যাসের বিকল্প নয়। তবে গ্রামীণ পরিবারের রান্নার জ্বালানির চাহিদা পূরণে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এতে এলপিজির ওপর নির্ভরতা কমবে, একই সঙ্গে আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার ওপরও চাপ কিছুটা হ্রাস পাবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় গবাদি পশু পালন বেশি, সেখানে বায়োগ্যাস প্রযুক্তি বিস্তারের সুযোগও বেশি।

বগুড়ায় এখন পর্যন্ত তিনটি বায়োগ্যাস পল্লি গড়ে উঠেছে। ধুনটের পাঁচথুপী ও গোসাইবাড়ী এবং গাবতলীর জামিরবাড়িয়া গ্রামের এসব পল্লিতে প্রযুক্তিটির সুফল মিলছে সরাসরি। জামিরবাড়িয়া গ্রামের ৩৬টি পরিবার নিজেদের গরুর গোবর ব্যবহার করে প্রতিদিন রান্নার গ্যাস উৎপাদন করছে। একই সঙ্গে প্লান্ট থেকে পাওয়া জৈব সার ব্যবহার হচ্ছে কৃষিজমিতে। এতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমার পাশাপাশি উৎপাদন খরচও কমছে।

জামিরবাড়িয়া গ্রামের গৃহবধূ শিমু বেগম বলেন, ‘আগে প্রতিদিন রান্নার জন্য কাঠ ও খড় সংগ্রহ করতে হতো। এখন বায়োগ্যাস ব্যবহার করায় রান্না সহজ হয়েছে।’ একই গ্রামের উদ্যোক্তা সাথী খাতুন বলেন, আগে গরুর গোবরের তেমন কোনো ব্যবহার ছিল না। এখন সেই গোবর থেকেই গ্যাস তৈরি হচ্ছে। প্লান্ট থেকে পাওয়া জৈব সার জমিতে ব্যবহার করে ভালো ফলনও মিলছে।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বগুড়ার সহকারী পরিচালক সেলিম উদ্দিন বলেন, বায়োগ্যাস প্রকল্পকে শুধু একটি জ্বালানি কর্মসূচি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি উৎপাদন এবং আত্মকর্মসংস্থানের একটি সমন্বিত উদ্যোগ।

বায়োগ্যাস প্লান্টে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ গোবর ও পানি ডাইজেস্টারে প্রবেশ করানো হয়। বায়ুশূন্য পরিবেশে জৈব বর্জ্য পচে মিথেনসমৃদ্ধ গ্যাস তৈরি হয়। সেই গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি রান্নাঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী ভালভের সাহায্যে গ্যাসের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। একই গ্যাস ব্যবহার করে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন, বৈদ্যুতিক বাতি, ফ্যান কিংবা অন্যান্য ছোট যন্ত্রও চালানো সম্ভব।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের সব গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদন কমছে, অন্যদিকে শিল্পায়ন ও নগরায়ণের কারণে চাহিদা বাড়ছে। সেই ঘাটতি পূরণে সরকারকে ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এই বাস্তবতায় জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় অবদান রাখা হয়তো বায়োগ্যাসের পক্ষে সম্ভব নয়, তবে গ্রামীণ পর্যায়ে রান্নার জ্বালানির উল্লেখযোগ্য অংশের চাহিদা পূরণে এটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে।

কৃষি বিশেষজ্ঞ বজলুর রশিদ বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহারে অনেক জমির জৈবগুণ কমে যাচ্ছে। বায়োগ্যাস প্লান্ট থেকে পাওয়া জৈব সার মাটির উর্বরতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক। এতে মাটির পানি ধারণক্ষমতা বাড়ে, অণুজীবের কার্যক্রম সক্রিয় থাকে এবং উৎপাদন ব্যয়ও কমে। পাশাপাশি গোবর খোলা জায়গায় ফেলে রাখলে যে দুর্গন্ধ, মাছি-মশার উপদ্রব ও পরিবেশ দূষণ সৃষ্টি হয়, বায়োগ্যাস প্রযুক্তি সেই সমস্যাও অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।

জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়ার বায়োগ্যাস প্লান্টগুলো প্রতিদিন প্রায় ৪৭ হাজার ৬৫৩ ঘনফুট কার্বন নির্গমন কমাতে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে প্রতিদিন উৎপাদিত হচ্ছে প্রায় ৪৭ হাজার ৬৫৩ কেজি জৈব সার, যা কৃষিতে জৈব উপাদান ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখছে।

তবে এই সম্ভাবনাময় প্রযুক্তির বিস্তারে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। পর্যাপ্ত গবাদি পশু না থাকলে প্লান্ট থেকে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যায় না। নিয়মিত গোবর সরবরাহ, কারিগরি জ্ঞান এবং সময়মতো রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করাও জরুরি।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোতাহার হোসেন বলেন, বায়োগ্যাস প্লান্টের মাধ্যমে একদিকে পরিবারের জ্বালানির চাহিদা পূরণ হচ্ছে, অন্যদিকে গোবর ও অন্যান্য জৈব বর্জ্য সম্পদে রূপান্তরিত হয়ে কৃষি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বগুড়া আজিজুল হক কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম বলেন, বায়োগ্যাস প্রযুক্তির বিস্তার ঘটানো গেলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এর প্রভাব আরও দৃশ্যমান হতে পারে।

ইমরান খানের মুক্তি দাবিতে পাকিস্তানে বিক্ষোভ, ধরপাকড়

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তি দাবিতে বুধবার বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। পুলিশের কঠোর অবস্থানের মুখেও সমর্থকরা এই কর্মসূচি পালন করেন।

ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, পাঞ্জাব প্রদেশে ইমরানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ২০ জনের বেশি কর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এএফপি প্রকাশিত কয়েকটি ছবিতে লাহোরে দলীয় কর্মীদের বড় জমায়েত দেখা যায়। পরে সেখান থেকে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করে।

বিক্ষোভকারীদের মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। বুধবার লাহোরে। ছবি: এএফপি

বিক্ষোভকারীদের মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। বুধবার লাহোরে। ছবি: এএফপি

একটি ছবিতে, বিক্ষোভ চলার সময় ‘ইমরান খানকে মুক্তি দিন’ লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করতে দেখা যায় সমর্থকদের। বুধবার এই নেতা তাঁর কারাবন্দি জীবনের তিন বছর পূর্ণ করলেন। একটি দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট থেকে তিনি জেলে আছেন।

ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া ৭৩ বছর বয়সী ইমরানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানে বেশ কয়েকটি মামলা আছে। এরমধ্যে কয়েকটিতে সাজা স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে। তবে অন্যান্য মামলা বিচারাধীন থাকায় তিনি এখনও কারাগারে আছেন।

পিটিআইয়ের সমর্থককে আটক করে পুলিশ। বুধবার লাহোরে। ছবি: এএফপি

পিটিআইয়ের সমর্থককে আটক করে পুলিশ। বুধবার লাহোরে। ছবি: এএফপি

এদিকে ইমরান খানের মুক্তি দাবিতে হওয়া বিক্ষোভ মিছিলের দিনে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য সংগ্রহের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ইসলামাবাদ, করাচি ও লাহোরে সংবাদ সংগ্রহ করতে হলে বিদেশি গণমাধ্যমের সাংবাদিকদেরকে অনুমতি নিতে হবে। পাকিস্তানি নাগরিকরা বিদেশি গণমাধ্যমের হয়ে কাজ করলে, তাদের ক্ষেত্রেও এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য।

মোদির সেই রিল ব্লকের ঘটনায় ক্ষমা চাইল মেটা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রিল ব্লক বা অপসারণের ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। বুধবার কোম্পানিটির একজন জ্যেষ্ঠ নির্বাহী ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তখন তিনি মেটার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করেন।

মেটার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফেসবুক থেকে নরেন্দ্র মোদির ভিডিও বার্তাটি পাঁচ ঘণ্টার জন্য সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে বৈঠকে এর জন্য ক্ষমা চেয়েছেন কোম্পানির প্রধান বৈশ্বিক কর্মকর্তা জোয়েল কাপলান।

বিবৃতিতে কাপলানের একটি উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘পিএম মোদির পোস্ট ভুল করে রেস্ট্রিক্ট করার জন্য আমি মন্ত্রীর কাছে মেটার পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়েছি।’ মেটার এই কর্মকর্তার সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর আর কি নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা জানতে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে হিন্দুস্থান টাইমস। তবে তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত মাসে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলার সময় নরেন্দ্র মোদি সামাজিক মাধ্যমে দুটি সেলফি ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে একটি ভিডিও সাময়িকভাবে ব্লক করেছিল মেটা। কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রকাশ করা বার্তায় তখন বলা হয়েছিল, ‘আইনি অনুরোধের কারণে ভারতে এটি পাওয়া যাচ্ছে না।’ পরে সমালোচনা শুরু হলে প্ল্যাটফর্মটি দ্রুতই ভিডিওটি চালু করে দেয়।

ঘটনাটির জন্য ক্ষমা চাইতে মঙ্গলবার যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি মেটার প্রধান মার্ক জাকারবার্গকে তিনদিনের সময়সীমা দেয়। এতে বলা হয়, জাকারবার্গ যদি তিনদিনের মধ্যে ক্ষমা না চান, তাহলে তিনি ভারতে ‘ইমিউনিটি’ বা বিশেষ আইনি সুরক্ষা হারাতে পারেন।

গত সোমবার কমিটির চেয়ারম্যান নিশিকান্ত দুবেও এমন সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর রিল সাময়িকভাবে ব্লক করার জন্য জাকারবার্গের ক্ষমা চাওয়া উচিত। তা না হলে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৭৯ ধারার আওতায় মেটা সুরক্ষা ব্যবস্থা হারাবে।

ফাঁকা পড়ে থাকা ৫১ প্লটের অর্ধেকই ফরচুন গ্রুপের ঝালকাঠি বিসিক শিল্পনগরী

ঝালকাঠি বিসিক শিল্পনগরীতে ৭৯টি প্লটের মধ্যে ৫১টিই ফাঁকা পড়ে আছে। এগুলোতে কোনো শিল্পকারখানা বা উৎপাদন নেই। এ প্লটগুলোর মধ্যে ২৫টিই ফরচুন গ্রুপের। তিন বছর আগে বরাদ্দ দেওয়া হলেও কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেনি তারা। এমনকি বিসিকের প্রায় দেড় কোটি টাকা পাওনাও পরিশোধ করছে না প্রতিষ্ঠানটি।

বকেয়া কিস্তির টাকা আদায়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বিহিত করতে পারছেন না বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) কর্মকর্তারা। বিসিক কর্মকর্তারা জানান, এ বিষয়ে ফরচুন গ্রুপের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে খুঁজে পাচ্ছেন না তারা।
২০২৩ সালে ঝালকাঠি বিসিক শিল্পনগরীতে ৭৯টি প্লটের মধ্যে ফরচুন গ্রুপের নামেই বরাদ্দ দেওয়া হয় ২৫টি। ফরচুনের নামে বরাদ্দ করা প্লটে শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের লে-আউট দাখিল ও জমির কিস্তির টাকা বাবদ বকেয়া এক কোটি ৪৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ না করলেও বরাদ্দ  প্লটগুলো এখনও বাতিল করা হয়নি। বিসিক একাধিকবার এ টাকা পরিশোধের নোটিশ দিলেও পাওনা পরিশোধের কোনো উদ্যোগ নেই মালিকপক্ষের। এ ছাড়া শিল্পনগরীতে চালু থাকা বিভিন্ন শিল্প ইউনিটগুলোর কাছে বকেয়া পড়েছে আরও এক কোটি টাকা।

২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিল্পনগরীর মোট জমির পরিমাণ ১১.৮ একর। শিল্পনগরীতে মাত্র ১৫৪ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এই শিল্পনগরীর মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলে ব্যবসার প্রসার ঘটবে– এমনটাই আশা ছিল সবার। কিন্তু হয়েছে তার উল্টো। অনেকটাই মুখ থুবড়ে পড়েছে এ নগরী। নগরীতে মোট প্লটের এক-তৃতীয়াংশ ফরচুন গ্রুপের নামে দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া শিল্পনগরীর অপর ৫৪টি প্লটের মধ্যে মাত্র ২৮টি প্লটে ১১টি শিল্প ইউনিট উৎপাদন শুরু করেছে। বাকি ২৬টি প্লট ফাঁকা। এর মধ্যে পাঁচটি প্লটের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে উদ্যোক্তারা নিতে না চাওয়ায়। এ হিসাবে ৭৯টি প্লটের মধ্যে ৫১টিই ফাঁকা পড়ে আছে।

অন্য যারা আছে তাদের দু-তিনটি ছাড়া বেশির ভাগ প্লটই চলছে কোনোমতে। এদিকে বিসিকের প্লট নিয়ে ব্যাংক ঋণ না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন উদ্যোক্তাদের অনেকে। তাদের কার কারও আশা ছিল, বিসিকের প্লট পেলে সহজ কিস্তিতে ব্যাংক ঋণ পাওয়া যাবে।

জানতে চাইলে শিল্পনগরী কর্মকর্তা মো. আল আমিন বলেন, ‘এ এলাকা নদীমাতৃক হলেও শিল্পনগরীর সঙ্গে নদীর কোনো সংযোগ নেই। তাই ভারী শিল্পের উদ্যোক্তারা আসছেন না। এত ছোট জায়গায় শিল্পনগরী হয় না। পশ্চিম পাশের ইট ভাটার জমি অধিগ্রহণ করে সুতালরী ব্রিজ পর্যন্ত এ নগরী নেওয়া হলে বড় অনেক উদ্যোক্তা আসতে রাজি। পায়রা বন্দর চালু হলেও অনেক উদ্যোক্তা এখানে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রত্যাশা অনুসারে ছোট উদ্যোক্তাদের আনা যায়নি, এটা ঠিক। ফরচুনের প্লট বরাদ্দ বাতিলের বিষয়ে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছি।’

শিল্পনগরীর উপব্যবস্থাপক আল আমিন বলেন, ‘বিসিকে প্লট বরাদ্দ পাওয়া উদ্যোক্তারা ব্যাংক ঋণ না পাওয়ার কারণ হলো তাদের কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পারায় আমরা ব্যাংকে কোনো সুপারিশপত্র দিতে পারি না।’

ফরচুনের প্লট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তাদের বকেয়া টাকা আদায়ে অফিসে গিয়ে, ফোনে কোনোভাবেই পাচ্ছিনা। বকেয়া টাকা আদায়ে তাগাদাপত্রের পাশাপাশি ফরচুনকে চূড়ান্ত পত্র দেওয়া হয়েছে। তাদের বিষয়ে আলোচনা করে প্লট বরাদ্দ বাতিল করার সিদ্ধান্ত আসতে পারে।’

তিনি বলেন, আসলে এখানে উদ্যোক্তার অভাব। এখানে উৎপাদিত পণ্য অন্য জায়গায় পাঠাতে খরচ বেশি পড়ায় উদ্যোক্তাদের আগ্রহ কম। এ ছাড়া শিল্পকারখানা করলে এখানে শ্রমিক আনতে হয় অন্য জেলা থেকে। জেলার যারা প্রতিষ্ঠিত শিল্পপতি, তাদের এগিয়ে আসা উচিত। নদীবেষ্টিত এ জেলায় মাছ সংরক্ষণাগার, পেয়ারা ও আমড়ার জেলি কারখানা ইত্যাদিহতে পারে। উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং তাদের সচেতন করে উৎপাদনমুখী শিল্পে আগ্রহ বাড়াতে প্রশিক্ষণেরও প্রয়োজন।

ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মোমিন উদ্দিন বলেন, বিসিক এখানে ঝালকাঠির উদ্যোক্তাদের খুব একটা আগ্রহী করে তুলতে পারেনি। ফরচুনের মালিকপক্ষ একাই ২৫টি প্লট নিয়ে কিছু না করায় সেগুলো ফাঁকা। প্লটের কিস্তির টাকা বকেয়া পড়ে থাকায় পরিশোধে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার ফরচুন গ্রুপের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে একবার ফরচুন গ্রুপের সিইও পরিচয়ে মো. হাফিজ এবং আরেকবার মিজানুর রহমানের পিএস পরিচয়ে মো. মিরাজ ফোন রিসিভ করেন। মো. হাফিজ বলেন, ‘ঝালকাঠি বিসিক শিল্পনগরীতে ফরচুন গ্রুপের প্লট আছে। স্যার মিটিংয়ে আছেন। মিটিং শেষ করে কল ব্যাক করবেন।’ কিন্তু কেউ কল ব্যাক করেননি। গতকাল বুধবার নম্বরটিতে আবারও বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও কেউ রিসিভ করেননি।

হরমুজ প্রণালি খোলার আশায় বিশ্ববাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে পারে এমন আশাবাদ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ববাজারে টানা চতুর্থ সেশনে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। এর ফলে গত সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এই মূল্যবান ধাতুর দর। দুর্বল মার্কিন ডলার, নিম্নমুখী ট্রেজারি ইয়েল্ড এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কমার সম্ভাবনাই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,২৮৫.৬৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত ১৮ জুনের পর সর্বোচ্চ। অন্যদিকে, মার্কিন গোল্ড ফিউচার ০.৯ শতাংশ বেড়ে ৪,৩৪৫.৫০ ডলারে পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভূ-রাজনৈতিক আশাবাদের পাশাপাশি দুর্বল মার্কিন ডলার এবং নিম্নমুখী ট্রেজারি ইয়েল্ডের কারণেও স্বর্ণের বাজারে এই ইতিবাচক প্রভাব ও মূল্যবৃদ্ধি সমর্থন পেয়েছে।

প্রস্তাবিত ইরান-ওমান চুক্তির খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে আশাবাদ আরও বেড়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই চুক্তিটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পাঁচ মাসব্যাপী সংঘাত কমাতে এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে নৌ-চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করতে সহায়তা করবে।

জুলাইয়ের প্রত্যাশা পূরণে লড়াই চলবে: শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণ হয়নি। জনগণের গণরায় ও প্রত্যাশার বাস্তবায়নে লড়াই অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

বুধবার রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক স্থিরচিত্র প্রদর্শনী ‘জুলাই এখনো শেষ হয় নাই’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন জামায়াত আমির।

মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা অর্জিত হলেও জনগণের সার্বভৌমত্বের আকাঙ্খা পূরণ হয়নি দাবি করে জামায়াত আমির বলেছেন, বেপরোয়া দলীয়করণ, সন্ত্রাস ও সহিংসতার পথ থেকে ফিরে এসে জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও যোদ্ধাদের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান জানিয়ে একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

প্রদর্শনীয় আয়োজনের বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেছেন, মানুষের বিবেক জাগ্রত করা এর উদ্দেশ্য। এখানে ফিল্টার বা রেস্ট্রিকশন নেই; জনগণ এসে প্রদর্শনী দেখবেন এবং নিজেদের অভিমত ব্যক্ত করবেন। শহীদ আবু সাঈদসহ জুলাইয়ের শহীদদের উদ্দেশে লেখা চিঠিগুলোও প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছে।

বুধবার শুরু হওয়া প্রদর্শনীতে জুলাই শহীদের চিঠি, ছবি, তথ্য চিত্র রয়েছে। বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবারও সকাল ১১টায় শুরু হয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, কূটনীতিক সাকিব আলী, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. দিলারা জামান, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রুবি আমাতুল্লাহসহ জামায়াতের নেতারা।

১১ দলের গণসমাবেশে জামায়াত আমির গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরতে চাপ দিচ্ছে সরকার

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরে আসতে সরকার চাপ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, দাবি থেকে সরে আসতে লোভ দেখানো হয়েছে, চাপও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু লোভ, চাপ ও ভয় দেখিয়ে জনগণের গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবি থেকে একচুলও সরাতে পারবে না। প্রয়োজনে জীবন যাবে তবুও জনগণের সঙ্গে সরকারের মতো বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারব না, করবও না।

গতকাল বুধবার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে গণসমাবেশে এসব কথা বলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির। দলটির নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য এই সমাবেশ আয়োজন করে। এতে জোটের বিভিন্ন দলের হাজারো নেতাকর্মী অংশ নেন। তারা গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবি জানান। জুলাই গণহত্যা, আগের দিন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের বিচারের দাবি জানান।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তৃতা করেন এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান সরকারের উদ্দেশে বলেন, আপনারা যদি বিশ্বাসঘাতকতা না করতেন, আমাদের তো অস্থিরতার কোনো কারণ ছিল না। দেশের বারোটা বেজে যাবে আর আমরা বসে বসে আঙুল চুষব– এটা হবে না।
সরকারের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, সব দেখে মনে হচ্ছে, আরেকটা অনিবার্য বিপ্লব আসন্ন। এই বিপ্লবের জন্য আমি আপনাদের সবাইকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
জামায়াত আমির বলেন, জুলাই আন্দোলনে যেমন শিশু থেকে বৃদ্ধ–সব বয়সী মানুষ রাজপথে নেমেছিলেন, তেমনি ভবিষ্যতের যে কোনো আন্দোলনেও মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেবে। জনগণের রায়কে যারা অপমান করেছে, তাদের সবাইকেই অপমানজনকভাবে বিদায় নিতে হয়েছে।

শিক্ষাঙ্গনের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবারও পুরোনো দখলদার রাজনীতি ও ভয়ের সংস্কৃতি ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মচারীদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে। সংকট তৈরি করে পরে মূল্যবৃদ্ধিকে স্বাভাবিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বের কৃতিত্ব তরুণ প্রজন্মের। দেশবাসীর জীবন ও রক্তের ফসল জুলাই গণঅভ্যুত্থান। কোনো ব্যক্তি বা দল একক কৃতিত্ব দাবি করলে, জাতি ঘৃণার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করবে।

বিরোধী জোটের সক্রিয়তা সম্পর্কে শফিকুর রহমান বলেছেন, তারা (সরকার) বলছেন, মাত্র ৫ মাসে আমরা (বিরোধী দল) এত ব্যস্ত হলাম কেন? তাদের পাল্টা প্রশ্ন কর, মাত্র ৫ মাসে আপনারা এত বিশ্বাসঘাতকতা করলেন কেন? কেন ফ্যাসিবাদের ফটোকপি হিসেবে আবির্ভূত হলেন? এ জন্যই আরেকটি বিপ্লব অনিবার্য।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অলি আহমদ বলেন,  কয়েক মাস ধরে আমি বারবার প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি বিভেদ সৃষ্টি না করতে। এমন পরিস্থিতি তৈরি করবেন না, যেখান থেকে আপনাদের পতন শুরু হবে। মঙ্গলবার দেশের তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা প্রমাণ করে আপনার দলের ভেতরেই এমন লোক রয়েছে, যারা আপনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় না। আপনার দলের নেতারা আপনাকে পতনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের ছবি নিয়ে ছাত্রদলের আপত্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আজকে আপনার দলের নেতারা আমাকে রাজাকার
বানাচ্ছে। আপনার মা খালেদা জিয়া জামায়াতের সমর্থনে ১৯৯১ সালে সরকার গঠন করেছেন। ২০০১ সালে সরকার গঠন করেছেন। তাহলে কী তিনি রাজাকার ছিলেন?
মামুনুল হক বলেন, ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী জালিমকে জুলুম থেকে বিরত রাখাই তাকে সাহায্য করার প্রকৃত উপায়। তিনি বিএনপির উদ্দেশে বলেন, তারা যেন অতীতের সহিংস ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির পথ থেকে ফিরে আসে। অন্যথায় জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, জামায়াত আমির লন্ডন চুক্তির অংশ হননি। তিনি আজ জুলাই জাদুঘর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দাওয়াত পেয়েও সেখানে না গিয়ে রাজপথে জনতার কাতারে এসে হাজির হয়েছেন। জামায়াত আমির দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সংস্কারের পরিবর্তে সরকারের সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যোগ না দিয়ে।
মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, আজকের বিএনপি খালেদা জিয়ার বিএনপি নয়। এই বিএনপি আপসকামী বিএনপি। শেখ হাসিনার পথে যাত্রা শুরু করেছে। বিএনপি যদি হাসিনার পথেই হাঁটতে থাকে, প্রয়োজনে আমরা আবারও গুপ্ত হব। তবুও গণভোটে জনগণের গণরায় বাস্তবায়নের দাবি আদায় করবই।