Home Blog Page 71

ঈদ ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর গণমুখী উদ্যোগে গণআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন: মাহদী আমিন

ঈদ ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া গণমুখী উদ্যোগে জবাবদিহিতা নিশ্চিত ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি ও সুস্পষ্ট নির্দেশনায় এই ঈদে রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়বদ্ধতা, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং নীতিগত পরিবর্তন দেখা গেছে। তিনি মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, সব সংসদ সদস্য ও গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ এলাকায় ঈদ উদযাপন করতে বলেছেন, মানুষের পাশে থেকে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে প্রেরণা জুগিয়েছেন।

সোমবার বিকেলে রাজধানী তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে এক সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে সরকার প্রমাণ করেছে যে, রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা থাকলে সংকটের মধ্যেও স্বস্তি, শৃঙ্খলা ও আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। টানা ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন ও জবাবদিহিহীনতার যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তা মুহূর্তেই বদলে ফেলা কোনো জাদুকরী মন্ত্রের পক্ষেও অসম্ভব। তবে এবারের ঈদুল আজহায় দেশের মানুষ অন্তত একটি বিষয় স্পষ্টভাবে প্রত্যক্ষ করেছে, তা হলো রাষ্ট্রের আন্তরিক সদিচ্ছা ও জনকল্যাণমুখী প্রশাসনিক তৎপরতা।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, এবারের ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সরকারের কার্যক্রমে ১০টি গণমুখী বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিতকরণ, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ, দেশীয় পশুর বাজার সুরক্ষা, দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, গণপরিবহণে শৃঙ্খলা, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট দমন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, চামড়া খাতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা ছিল প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম নির্দেশনা। এসব উদ্যোগের সমন্বিত বাস্তবায়ন ঈদ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দিয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় সেবাকে আরও জনসম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের মাত্র তিন মাস পূর্ণ হয়েছে। সময়ের পরিমাপে এটি হয়ত খুব দীর্ঘ নয়, কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য প্রতিটি দিনই জনগণের প্রতি অঙ্গীকার রক্ষার দিন, প্রতিটি মুহূর্তই দায়িত্ব পালনের পরীক্ষা, আর প্রতিটি পদক্ষেপই জবাবদিহিতা ও সেবার প্রতিফলন।

তিনি বলেন, এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই আমরা রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, সুশাসন, জনকল্যাণ এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসই একটি সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই সরকারের প্রতিটি উদ্যোগ, প্রতিটি অর্জন এবং প্রতিটি চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা চাই জনগণই হোক আমাদের কাজের বিচারক, আর তাঁদের আস্থা ও সমর্থনই হোক আগামী দিনের পথচলার প্রেরণা।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া ১০টি গণমুখী পদক্ষেপ তুলে ধরেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ১০টি গণমুখী পদক্ষেপ হলো- ১) দীর্ঘ ছুটির সিদ্ধান্ত ও ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা: নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটির সাথে সমন্বয় করে সরকারি ছুটি এক সপ্তাহ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। ফলে সরকারি উদ্যোগেই পরিবার-পরিজনদের সাথে আমরা এবার ছুটিতে কিছুটা বেশি সময় থাকতে পেরেছি। ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ও সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ও বিশেষ ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা হয়েছে। যে কারণে ঈদের আগের দিনগুলোতে মহাসড়কে একযোগে যানবাহনের চাপ অনেকটাই কমে এসেছে। প্রতিবছরের চেনা ছবি, কিলোমিটারের পর কিলোমিটার যানজট এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তি, এবারের ঈদযাত্রায় তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে ছিল। তারপরও যতটুকু হয়েছে, সরকার সচেষ্ট থাকবে আগামীতে সেটারও সমাধানের জন্য।

এবার সামগ্রিক ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা যথেষ্ট উন্নতি এবং অতীতের তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনা কম হলেও, এর আড়ালে কিছু পরিবারের ঈদ আনন্দ রূপ নিয়েছে আজীবনের কান্নায়। প্রশাসনের নজরদারি সত্ত্বেও মহাসড়কে বেপরোয়া গতি আর অসচেতনতার জেরে এবারও বেশ কিছু মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, কেড়ে নিয়েছে তাজা প্রাণ। টাঙ্গাইলে সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনা এবং ট্রেনের ধাক্কায় মা ও মেয়ের মৃত্যুর মত মর্মান্তিক ঘটনাগুলো আমাদেরকে প্রচণ্ডভাবে ব্যথিত করেছে। স্বজনহারা মানুষগুলোর ঈদ কাটছে শূন্যতা ও কান্নায়, যা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়। প্রতিটি মানুষের জীবন অমূল্য। এই মর্মান্তিক প্রাণহানিতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতের যে-কোনো উৎসবে যে কোনো মূল্যে ও জনসচেতনতা বাড়িয়ে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই হবে।

২) পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ: তৈরি পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন সেক্টরের শ্রমিকদের ঈদের আগে বকেয়া বেতন ও বোনাস নিশ্চিত করতে শ্রমবান্ধব সরকারের উদ্যোগে সব ব্যাংক এবং অংশীজনদের সাথে কথা বলে কারখানার শ্রমিক, মালিক ও বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন কৌশল ও পরিকল্পনায় একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও আনন্দঘন পরিবেশে শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের ঈদ আনন্দ নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে আমরা দেখেছি, ঈদের ঠিক আগে বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ বা শিল্পাঞ্চলে সেরকম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়নি, যা ছিল বিগত সময়ের নিয়মিত ঘটনা। প্রায় সব কারখানায় সময়মতো শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ সম্ভব হয়েছে, নিশ্চিত করা হয়েছে উৎসবমুখর ঈদের পরিবেশ। এর ফলে লাখো শ্রমিক ও তাদের পরিবার আর্থিক স্বস্তি নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পেরেছেন এবং দেশের শিল্পাঞ্চল জুড়ে বিরাজ করেছে শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও উৎসবমুখর পরিবেশ।

মাহদী আমিন বলেন, তৃতীয় পদক্ষেপ হলো- দেশি পশুর বাজার ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ: স্থানীয় খামারিদের স্বার্থ সুরক্ষায় সীমান্ত দিয়ে অবৈধ গবাদিপশু অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। পশুর হাটগুলোতে ছিল সার্বক্ষণিক মনিটরিং ব্যবস্থা। বাজারে দেশি গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়ার পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় দেশজুড়ে কোরবানির পশুর সংকট তৈরি হয়নি। প্রায় ১ কোটি ১ লাখ পশুর চাহিদার বিপরীতে কোরবানিযোগ্য পশু ছিল ১ কোটি ২৩ লক্ষ এবং এভাবেই প্রথমবারের মত নিশ্চিত হয় কোরবানিতে পশুর স্বয়ংসম্পূর্ণতা। ভারতীয় গরুর অবৈধ প্রবেশ বন্ধ এবং দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে থাকায় দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা স্বস্তির সঙ্গে ব্যাবসা পরিচালনার সুযোগ পেয়েছেন। বিগত বছরগুলোতে আমরা দেখেছি রাস্তায় রাস্তায় গরুর হাট বসানোর ফলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়, কিন্তু এবার রাস্তার বদলে খোলা জায়গায় গরুর হাট বসানোয় রাস্তার যানজট থেকে মানুষ রেহাই পেয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ প্রান্তিক খামারি ও গৃহস্থরা পশুর ন্যায্য মূল্য পেয়েছেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে বাজারে চাহিদার তুলনায় পশুর সরবরাহ বেশি থাকায়, শেষের দিকে কিছু প্রান্তিক খামারি প্রত্যাশিত মূল্যে পশু বিক্রি করতে পারেননি। সরকারের দৃষ্টিও এ বিষয়টি এড়িয়ে যায়নি। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থ সংরক্ষণ, বাজার ব্যবস্থাপনার আরও উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে তাদের ন্যায্য অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

৪) দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও নাগরিক সেবা: ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনসহ অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন ও দেশের বড়-বড় পৌরসভাগুলোতে ঈদের দিন দুপুর থেকেই সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও অতিরিক্ত জনবল নিশ্চিত হয়। কোরবানি পরবর্তী ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা শহরের অধিকাংশ এলাকার বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে, যা অতীতে বেশ কয়েকদিন সময় নিত। বিচ্ছিন্ন কিছু জায়গা ছাড়া প্রায় সর্বত্র ঈদের রাতের মাঝেই পরিচ্ছন্নতা অর্জন স্থানীয় নাগরিক সেবার একটি নতুন মাইলফলক। এই বর্জ্য অপসারণের সাথে সম্পৃক্ত সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মী, যারা পরিবারের সাথে সময় না কাটিয়ে শহরের পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য রক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন, তাদের সাধুবাদ জানাই।

তিনি আরও বলেন, ঈদের পরদিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কুরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি নিজে গাড়ি চালিয়ে বিভিন্ন সড়কের পরিস্থিতি, অর্থাৎ সরাসরি মাঠপর্যায়ের কাজ পরিদর্শন করেন, যা দেশীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের ইতিহাসে একটি বিরল ও নজিরবিহীন ঘটনা। পরিদর্শনকালে, ঈদুল আজহার কোরবানির বর্জ্য অপসারণে অবহেলার দায়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের একাধিক আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এর মাধ্যমে দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা এবং সেবার মান নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সশরীরে তদারকি ও জনগণের সুখ-দুঃখের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার মানসিকতা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের স্পৃহা বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে।

৫) গণপরিবহণে শৃঙ্খলা ও বিশেষ সুবিধা: ঈদে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কাউন্টারগুলোতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ছিল। পাশাপাশি, প্রথমবারের মত রেলে এবং মেট্রোরেলে নারীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আলাদা সংরক্ষিত কোচ বা বগি চালু এবং প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্ধারিত ভাড়ার উপর বিশেষ ছাড় প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এবারের ঈদযাত্রায় কোনো ধরনের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ঘটনা ঘটেনি, বরং লঞ্চে সরকার নির্ধারিত ভাড়া রুট ভেদে ৫-৮% ডিসকাউন্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাস, লঞ্চসহ সব যানবহনে ডিজিটাল বোর্ড, স্টিকারের মাধ্যমে ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমান রাখা হয়েছে। লঞ্চে হুইলচেয়ার, ট্রলির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, লঞ্চঘাট রাখা হয়েছে সম্পূর্ণ কুলি ও হকারমুক্ত, মালামাল বহনের জন্য কোনো যাত্রীকে টাকা খরচ করতে হয়নি। বছিলা ও কাঞ্চন ব্রিজ এলাকায় নতুন লঞ্চঘাট স্থাপন করে সেখান থেকে নিয়মিত লঞ্চ ছাড়া হয়েছে, যার ফলে এলাকাভিত্তিকভাবে মানুষ এসব জায়গা থেকে যাত্রা করতে পেরেছে, সবাইকে সদরঘাটে যেতে হয়নি, এই ঘটনা নিশ্চয়ই সরকারের একটি অবিস্মরণীয় উদ্যোগ। ন্যায্য ভাড়া ও হয়রানিমুক্ত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের অভূতপূর্ব ভূমিকা ছিল জোরালো ও সাহসী।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ষষ্ঠ পদক্ষেপ হলো- চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট বিরোধী অভিযান: পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজি রোধে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর ও শক্ত ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে পশুর হাটে ইজারা বহির্ভূত চাঁদা আদায় বন্ধেও কঠোর অবস্থানে ছিল। মহাসড়কে পশুবাহী গাড়ি থামিয়ে চাঁদাবাজির ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করায় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়নি, মধ্যস্বত্বভোগী চক্রের প্ররোচনায় অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়েনি এবং সাধারণ ক্রেতারা তুলনামূলক স্থিতিশীল দামে পশু ক্রয় করতে পেরেছেন।

৭) লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ: ঈদের ছুটিতে কলকারখানা বন্ধ থাকার সুযোগ এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিভাগকে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। উৎপাদনে বহু বছরের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও, এই তীব্র গরমের মধ্যেও ঈদের দিন এবং পরবর্তী দিনগুলোতে দেশের সিংহভাগ এলাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। একটি সমন্বিত ও কার্যকর বিদ্যুৎ পরিকল্পনা গ্রাহক পর্যায়ে বাস্তবতার আলোকে কিছুটা স্বস্তি এনেছে। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দুর্নীতির অভয়ারণ্য বিদ্যুৎখাতে গ্রাহক পর্যায়ে চাহিদা ও সরবরাহের সমন্বয়ের মাধ্যমে মৌসুমি দুর্যোগের ফলে যে বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয়েছিল, তা দূর করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব প্রদর্শন করেছে। আপনারা অবহিত আছেন যে, ইতোমধ্যে পুরো বিদ্যুৎ খাতকে আরও সেবামুখী ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির সকল উৎস ব্যবহারে সচেষ্ট।

৮) সামাজিক সংবেদনশীলতা ও জননিরাপত্তা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কোরবানি-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয় বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর কঠোর নজরদারি জোরদার করা হয়েছিল। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামক আলোচিত মহিষটির সংরক্ষণ ও চিড়িয়াখানায় প্রেরণের মাধ্যমে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এড়িয়ে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা হয়েছে। ঈদুল আজহার দিন বা এই বন্ধে উল্লেখযোগ্য সামাজিক সংঘাত বা নৈরাজ্যজনক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদের নামাজ। ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মেলবন্ধনে দেশজুড়ে উদ্যাপিত হয়েছে ঈদুল আজহা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন,  নবম পদক্ষেপ হলো- চামড়া শিল্পের দাম নির্ধারণ ও তদারকি: লবণের জোগান নিশ্চিত করা এবং ট্যানারি মালিকদের সিন্ডিকেট ভাঙতে কাঁচা চামড়ার ন্যূনতম মূল্য যথারীতি আগেভাগেই নির্ধারণ করে দেয় সরকার। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা অতীতে চামড়ার দাম না পেয়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়ার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, এবার মাঠপর্যায়ে নজরদারির কারণে চামড়া অবিক্রীত থাকার বা নষ্ট হওয়ার হার অনেকটাই কমেছে। কোরবানির মৌসুমে চামড়ার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। চামড়া কেনাবেচায় সিন্ডিকেট বা কারসাজি যাতে না ঘটে, সেজন্য মাঠপর্যায়ে তদারকি ও তথ্য অনুসন্ধান অব্যাহত রাখা হয়েছে। কোথাও-কোথাও চামড়া অবিক্রীত থাকার তথ্য পাওয়া গেলেও, তা সাম্প্রতিক বছরসমূহের তুলনায় অনেক কম। সরকার ভবিষ্যতে কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের ব্যাপারে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

১০) নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীলতা: ঈদের আগে চাল, ডাল, মশলা, তেল, চিনিসহ কোরবানি-সংশ্লিষ্ট নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ টাস্কফোর্স নিয়মিত বাজার তদারকি পরিচালনা করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপ থাকা সত্ত্বেও, উৎসবের সুযোগ নিয়ে খুচরা বাজারে যেভাবে হঠাৎ দাম আকাশচুম্বী করা হতো, এবার সরকারি নজরদারির কারণে তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা গিয়েছে। উৎপাদনকারী, আমদানিকারক, সরকারি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের সমন্বয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রান্তিক মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মাঝে রাখার জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবু দীর্ঘদিনের দুঃশাসন, দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নে ক্লান্ত জনগণ।

মাহদী আমিন বলেন, ফ্যাসিবাদী ১৬ বছরের প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় ও ধ্বংসস্তূপ মাত্র তিন মাসে সম্পূর্ণরূপে দূর করা সম্ভব নয়, এই কঠিন বাস্তবতা দেশবাসী অনুধাবন করে। তবু দীর্ঘদিনের দুঃশাসনে ক্লান্ত জনগণ এবারের ঈদে উপলব্ধি করেছে যে, রাষ্ট্র তাদের প্রতি সংবেদনশীল এবং প্রশাসন কেবল ক্ষমতার কেন্দ্র নয়, বরং জনসেবার কার্যকর ও দায়িত্বশীল মাধ্যম।

তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অনুষ্ঠিত প্রথম এই ঈদুল আজহা উদযাপনের ক্ষেত্রে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকারের সব মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্যসহ সর্বমহলে আন্তরিকতা ও দায়বদ্ধতা ছিল সর্বোচ্চ, যা নিকট রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অভূতপূর্ব ঘটনা। তবু কোথাও কোনো প্রশাসনিক ঘাটতি বা সমন্বয়হীনতা পরিলক্ষিত হলে, তা চিহ্নিত করে দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিরসনে সরকার সর্বদা সচেষ্ট ও আন্তরিক।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র আরও বলেন, এই কর্মযজ্ঞকে পাথেয় করে, গণমানুষের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনের সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা এবং সুশাসনের এই ধারাকে টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াই হবে বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। জনকল্যাণের সেই আন্তরিক অগ্রযাত্রায় গণতান্ত্রিক সরকারের সাফল্য অনিবার্য, ইনশাআল্লাহ।

সংবাদ সম্মেলন আরো বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা প্রমুখ।

তোফায়েল আহমেদ আর নেই

সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না লিল্লাহি রাজিউন। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর তোফায়েল আহমেদ নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

তার জামাতা ও সাবেক এমপি ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন জানান, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তোফায়েল আহমেদ। তিনি এক মেয়ে ও অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

তোফায়েল আহমেদ ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি ছিলেন। ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা রাখেন তিনি।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে ২৭ বছর বয়সে তোফায়েল আহমেদ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ৯ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একাধিকবার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ছিলেন।

নেত্রকোণায় বাসচাপায় মা ও দুই মেয়ে নিহত

নেত্রকোনায় বাসাচাপায় মা ও মেয়েসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নেত্রকোনা সদর উপজেলার চল্লিশা বাইপাস মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নেত্রকোনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন- নূরজাহান বেগম (৪৫), তার বড় মেয়ে স্মৃতি আক্তার (১৫) ও ছোট মেয়ে ইতি আক্তার (১০)। তারা সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের আমলি কেশবপুর গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ময়মনসিংহ থেকে নেত্রকোনার উদ্দেশে ছেড়ে আসা মহুয়া পরিবহনের একটি বাস চল্লিশা বাসপাই মোড়ে পৌঁছে একটি অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মা ও দুই মেয়ে নিহত হন। এতে আহত হয়েছেন অন্তত আরও ৫ জন। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে নেত্রকোনা জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ করে। খবর পেয়ে নেত্রকোনা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্লাহ আল বাকিউল বারি ঘটনাস্থলে গিয়ে সড়কে স্পিডব্রেকারসহ গোল চত্বর নির্মাণের আশ্বাস দিলে স্থানীয়রা অবরোধ তুলে নেয়।

নেত্রকোনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন সরকার বলেন, বাসচাপায় তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মরদেহ নেত্রকোনা জেলা সদর হাসপাতালে রয়েছে। বাসটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে বাসের চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছে।

নেত্রকোনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল বাকিউল বারি বলেন, দুর্ঘটনার পর এলাকাবাসী চল্লিশায় সড়ক অবরোধ করে। সড়কের ওই স্থানে স্পিডব্রেকার ও গোল চত্বর নির্মাণের আশ্বাস দিলে স্থানীয়রা অবরোধ তুলে নেয়। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

দেশে ফিরেছেন ৬১৭৫ হাজি

হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সৌদি আরব থেকে ফিরতি ফ্লাইটে হাজিরা দেশে আসতে শুরু করেছেন। প্রথম দিন ৬১৭৫ জন হাজি দেশে ফিরেছেন। গতকাল শনিবার ১৫টি ফ্লাইটে তারা দেশে ফিরেন। এদিকে, দ্বিতীয় দিনের মতো আজ রবিবার দ্বিতীয় দিনে ১৪টি ফ্লাইটে ৫ হাজারের বেশি হাজি আসার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে।

হজ বুলেটিনের তথ্যানুযায়ী, ফিরতি মোট ১৫টি ফ্লাইটে ৬১৭৫ জন হাজি দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে সরকারি মাধ্যমে এসেছেন ৪১৬ জন হাজি। বেসরকারি মাধ্যমে আসা হাজির সংখ্যা ৫৭৫৯ জন।

এদিকে, হাজিরা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তারা বলেন, এ বছর হজ পালনে কোনো ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি। সকল ব্যবস্থাই ভালো ছিল। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবে হাজিদের জন্য থাকা, খাওয়াসহ সব কিছুই গোছানো ছিল।

ভারতে পাঁচতলা ভবন ধস, উদ্ধার ১২

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির দক্ষিণে একটি পাঁচতলা বাণিজ্যিক ভবন ধসে পড়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় সাকেত মেট্রো স্টেশনের কাছে সাইদুলাজাব এলাকার ওয়েস্টার্ন মার্গে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভবনটিতে একটি কোচিং ইনস্টিটিউট, কয়েকটি ক্যাফে ও অফিস ছিল। একই সঙ্গে ভবনের ওপরের অংশে নির্মাণকাজ চলছিল বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন গুরুতর আহত। ধ্বংসস্তূপে আর কেউ আটকা পড়ে আছেন বলে আপাতত মনে হচ্ছে না, তবে নিশ্চিত হতে তল্লাশি চলছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভবনটি ধসে পড়ার পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মানুষের চিৎকার শোনা যাচ্ছিল। মুহূর্তেই চারদিকে ধুলার মেঘ ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের একটি অংশ পাশের একটি অস্থায়ী টিনশেড ক্যানটিনের ওপর ভেঙে পড়ে, যেখানে শিক্ষার্থীরা খাবার খাচ্ছিলেন।

দমকল বিভাগ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তিনজনকে উদ্ধার করে। পরে দমকলকর্মী ও জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

আহত এক শিক্ষার্থীর বাবা বলবন্ত যাদব জানান, তার মেয়ে নীলম ভবনের পাশের ক্যানটিনে ছিলেন। ভবন ধসে পড়ার সময় সেখানে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করছিলেন। নীলমের পা ভেঙে গেছে এবং তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

উদ্ধারকাজে ভারী যন্ত্রপাতি, হাইড্রোলিক কাটার, বিশেষ ক্যামেরা ও প্রশিক্ষিত অনুসন্ধানী কুকুর ব্যবহার করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে দমকল, এনডিআরএফ, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা কাজ করছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর ভবনটির মালিকানা, নির্মাণকাজের অনুমোদন এবং কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে।

ওরা আমায় মারতে চায়: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গে হামলার শিকার হওয়ার পর নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে পৌঁছে তাঁর ছবির সামনে দাঁড়ান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এসময় সাংবাদিকদের তিনি জানান, হামলায় তাঁর চশমা ভেঙে গেলেও হেলমেট থাকাতে মাথায় আঘাত লাগেনি।

এসময় তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাঁকে মারতে চায়।

তিনি বলেন, ‘আমার মাথাটা বেঁচে গিয়েছে হেলমেট ছিল বলে। আমার চশমা ভেঙে দিয়েছে। কিন্তু আমি হয়তো এই ভাবেই এখান থেকে বেরিয়ে গেলাম। তারপর তো সঞ্জু কর্মকারের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের উপর চড়াও হবে ওরা।’

অভিষেক যখন নিহত কর্মীর বাড়িতে অবস্থান করছেন, তখনও বাইরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত। তিনি অভিযোগ করেন, বাইরে থাকা বিক্ষোভকারীরা বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছে।

চরম নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘ওরা আমায় মারতে চায়! মেরে দিক! আমি এখান থেকে যাব না। সঞ্জুর বৃদ্ধ বাবা-মাকে ছেড়ে কোথাও যাব না। আমি হাই কোর্ট এবং রাজ্যপালের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছি। দরজা ভাঙার চেষ্টা করছে। পুলিশের কেউ নেই এখানে। আমি এসপি এবং আইসি-কে জানাতে বলেছি। এখনও কোনও বাহিনী আসেনি।’

এদিকে বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা চূড়ান্ত করার বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় খোদ দলীয় বিধায়কদের সই জাল করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ সম্বলিত একটি চিঠি বন্ধ খামে সরাসরি বিধানসভা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে।

সই জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে আসার পরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। অভিষেকের বিরুদ্ধে শুরু হয় সিআইডি তদন্ত। শনিবার দুপুর ১টা ২০ মিনিট নাগাদ হরিশ মুখার্জি রোডে তৃণমূল নেতার বাসভবন ‘শান্তিনিকেতন’-এ পৌঁছে যায় রাজ্য সিআইডির একটি দল। তবে সিআইডি কর্মকর্তাদের খালি হাতেই ফিরতে হয়। তাঁর বাড়ির নিরাপত্তারক্ষীরা জানান, তৃণমূল নেতা বা তাঁর পরিবারের কেউই বাড়িতে নেই।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টাইব্রেকারে আর্সেনালের স্বপ্ন ভেঙে চ্যাম্পিয়ন পিএসজি

কয়েক দিন আগেই ২২ বছরের দীর্ঘ খরা কাটিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিল আর্সেনাল। গানার্সদের সামনে সুযোগ ছিল একই মৌসুমে ঘরোয়া ও ইউরোপসেরার ‘ডাবল’ জয়ের ইতিহাস গড়ার। কিন্তু মিকেল আর্তেতার সেই স্বপ্নপূরণ হতে দিল না প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি)। নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং এরপর আরও ৩০ মিনিটের অতিরিক্ত সময়েও কোনো দল জয়সূচক গোল না পাওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে আর্সেনালকে ৫-৪ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ইউরোপীয় শিরোপা ধরে রাখে ফরাসি ক্লাবটি।

শনিবার হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শুরু হয় ইউরোপ সেরার মুকুট নির্ধারণের এই মহারণ। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই পিএসজির জালে বল জড়ায় আর্সেনাল। কাই হার্ভেজের গোলে এগিয়ে যায় আর্সেনাল। প্রথমার্ধে দুদল একাধিক সুযোগ পেলেও গোলের দেখা পায়নি। দ্বিতীয়ার্ধে গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে উঠে পিএসজি। ৬৫ মিনিটে ডিবক্সে ফাউলের জেরে পেনাল্টি পায় ফরাসি ক্লাবটি। উসমান দেম্বেলে গোল করতে কোনও ভুল করেননি। আর এতেই সমতা ফেরে।

পুরো ম্যাচ জুড়ে ফরাসি ক্লাবটি একের পর এক আক্রমণ চালায়। আর্সেনাল মূলত মেতেছিল তাদের অতি-রক্ষণাত্মক ‘বাস পার্কিং’ কৌশলে। শেষ পর্যন্ত এই অতি-রক্ষণাত্মক ফুটবলই কাল হলো আর্তেতার দলের জন্য। নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচ।

সেখান থেকে টাইব্রেকারে দুই দলের খেলোয়াড়দের ওপর জেঁকে বসে পাহাড়সম চাপ। পিএসজির হয়ে গনজালো রামোস এবং আর্সেনালের ভিক্টর গিওকেরেস প্রথম শটেই গোল করেন। পিএসজি তাদের দ্বিতীয় শটেও সফল হয়। তবে আর্সেনালের ইংলিশ মিডফিল্ডার এবেরেচি এজে বল গোলপোস্টের বাইরে মারলে পেনাল্টিতেই শিরোপার সুবাস পেতে শুরু করে ফরাসিরা।

ঠিক পরের শটে পিএসজির মেন্দেসের শট রুখে দিয়ে আর্সেনালকে আবারও লাইফলাইন এনে দিয়েছিলেন গানার্স গোলকিপার ডেভিড রায়া। এরপর আর্সেনালের ডেকলান রাইস ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি এবং পিএসজির আশরাফ হাকিমিরা যার যার শটে জাল কাঁপায়। শেষ পর্যন্ত ৫-৪ ব্যবধানের জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপসেরা হওয়ার বন্য উল্লাসে মাতে পিএসজি।

সামান্থাকে প্রতারণার অভিযোগ, আইনি লড়াইয়ে নাগা চৈতন্য

সাবেক স্ত্রী অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভুকে প্রতারণা করা এবং তার ক্যারিয়ার নষ্ট করার মতো অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তেলুগু অভিনেতা নাগা চৈতন্য। নিজের নাম, ছবি ও পরিচয় অনলাইনে অপব্যবহার করে প্রচারিত বিভিন্ন কনটেন্টের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা চেয়েছেন তিনি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নাগা চৈতন্য আদালতে দায়ের করা আবেদনে অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তার নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এর মধ্যে সাবেক স্ত্রী সামান্থা রুথ প্রভুর সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদকে কেন্দ্র করে নানা দাবি ও পরকীয়ার অভিযোগও রয়েছে।

গত ২৯ মে বিচারপতি জ্যোতি সিংয়ের বেঞ্চে বিষয়টির শুনানি হয়। শুনানিতে নাগা চৈতন্যের আইনজীবী বৈভব গগ্গর আদালতকে বলেন, কিছু অনলাইন কনটেন্টে অভিনেতাকে সামান্থার সঙ্গে প্রতারণাকারী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে এবং দাবি করা হয়েছে যে তিনি তার সাবেক স্ত্রীর ক্যারিয়ার ধ্বংস করেছেন।

আইনজীবীর ভাষ্য, এসব বিষয় ন্যায্য সমালোচনার মধ্যে পড়ে না, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ট্রলিং। তিনি আরও জানান, অভিনেতার সম্মতি ছাড়া তার পরিচয় ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ভিডিও ও আপত্তিকর কনটেন্টও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

আদালতে নাগা চৈতন্যের পক্ষ থেকে বলা হয়, এক দশকের বেশি সময় ধরে তিনি তেলুগু চলচ্চিত্রে কাজ করছেন এবং ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তার বিপুল ভক্ত রয়েছে। এ ধরনের অননুমোদিত কনটেন্ট তার সুনাম, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও জনসম্মুখের ভাবমূর্তির ক্ষতি করছে।

শুনানি শেষে দিল্লি হাইকোর্ট বিবাদীপক্ষকে সমন জারি করেছে। একই সঙ্গে নাগা চৈতন্যের ব্যক্তিগত অধিকার সুরক্ষায় অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে আদালত।

২০১৭ সালে নাগা চৈতন্য ও সামান্থা রুথ প্রভুর বিয়ে হয়। ২০২১ সালে তারা বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই তাদের বিচ্ছেদ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা ছড়িয়ে পড়ে।

নামাজের সময় মেলার মাইক বন্ধের অনুরোধ, ইমামের ওপর হামলা

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এশার নামাজের সময় উচ্চ স্বরে মাইকিংয়ের প্রতিবাদ করায় এক মসজিদের ইমামের ওপর বর্বর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৯ মে) রাতে উপজেলার যশরা ইউনিয়নের বখুরা সরদারবাড়ি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

হামলায় সরদারবাড়ি মসজিদের ইমাম মাওলানা ইউসুফ হোসেনের বাঁ চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শনিবার সকালে গফরগাঁও পৌর শহরের জামতলা মোড়ে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় আলেম-ওলামারা।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে বখুরা সরদারবাড়ি এলাকায় মসজিদের ঠিক পাশেই স্থানীয় কিছু যুবক মেলার আয়োজন করেন। গতকাল শুক্রবার রাতে এশার নামাজের ওয়াক্ত চলাকালীন মেলায় উচ্চ স্বরে মাইক বাজানো হচ্ছিল। এতে মসজিদের ভেতরে নামাজের প্রচণ্ড ব্যাঘাত ঘটায় ইমাম মাওলানা ইউসুফ হোসেন মেলার আয়োজকদের সাময়িকভাবে মাইকটি বন্ধ করার অনুরোধ করেন। কিন্তু এই অনুরোধে ক্ষিপ্ত হয়ে মেলার আয়োজকেরা ইমামের ওপর চড়াও হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ইমামের ওপর বেধড়ক হামলা চালানো হয়। এতে তার বাঁ চোখে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এদিকে, ইমামের ওপর এই হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে শনিবার সকালে গফরগাঁও পৌর শহরের জামতলা মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন আলেম-ওলামারা। সমাবেশে বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নামাজের সময় মাইক বন্ধের অনুরোধ করা কোনো অপরাধ নয়। একজন ইমামের ওপর এমন বর্বর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দোষী ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মানবাধিকার ও সাংবাদিক সংস্থার চেয়ারম্যান একরাম উল্লাহ, খায়রুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি জহিরুল ইসলাম উসমানী, ময়মনসিংহ জেলা দক্ষিণ বিএনপির সদস্য ফজলুল হক, মাদকবিরোধী ইসলামী সাংস্কৃতিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাওলানা ইউসুফ বিন মনির এবং ইত্তেফাকুল উলামা গফরগাঁও শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হুমায়ুন কবিরসহ স্থানীয় ওলামা মাশায়েখ ও সাধারণ মুসল্লিরা।

জানতে চাইলে গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আতিকুর রহমান বলেন, এই হামলার ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। জড়িতরা পলাতক রয়েছে। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যে মাঠে কাজ শুরু করেছে।

গোপালগঞ্জে শিশুকে বলৎকারের অভিযোগ, কিশোর গ্রেপ্তার

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বিসিক ব্রিজ মোড় সংলগ্ন এলাকায় ৮ বছরের শিশুকে বলৎকারের অভিযোগে এক কিশোরকে (১৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন।

আটক কিশোর বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার ভান্ডারখোলা গ্রামের মো. সিদ্দিক মোল্লার ছেলে। তিনি গোপালগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরী এলাকার মধুমতি বেকারিতে কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিসিক ব্রিজ মোড় সংলগ্ন মধুমতি বেকারির দ্বিতীয় তলায় ২০ টাকার লোভ দেখিয়ে শিশুটিকে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করে। ঘটনাটি টের পেয়ে স্থানীয়রা শফিকুলকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে ভিকটিম শিশুকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পাঠায় এবং অভিযুক্তকে আটক করে।

এ ঘটনায় শিশুটির মা সাংবাদিকদের বলেন, আমার ছেলে বাসা থেকে পাশেই তার দাদার বাড়িতে যাচ্ছিল। এ সময় বিসিক ব্রিজের ওপর থেকে তাকে টাকা ও খাবারের লোভ দেখিয়ে বেকারি কর্মচারী বেকারির দোতলায় নিয়ে যায়। সেখানে আমার ছেলের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হয়। আমি তার কঠোর শাস্তির দাবি জানাই।

এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) নয়ন চন্দ্র দেবনাথ  বলেন, শিশু নির্যাতনের ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। খবর পেয়ে শুক্রবার (২৯ মে) সন্ধ্যার আগে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। অসুস্থ শিশুটিকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় এবং ঘটনার মূল অভিযুক্তকে (১৫) আটক করা হয়।

তিনি আরও জানান, আসামি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রক্রিয়া শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।