Home Blog Page 72

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ মোকাম রাজারহাটে চামড়া বিক্রি হচ্ছে ২৫-২৮ টাকা ফুট

হাটের এক কোণে কাঠফাটা রোদ্দুরে মাথায় গামছা প্যাঁচিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে আছেন নড়াইলের লক্ষীপাশার রনজিত দাস। পাশেই দাঁড়িয়ে তার বড় ছেলে রোমেন দাস। ৯০ পিস গরু ও ৫৫ পিস খাসির চামড়া নিয়ে এসেছেন তারা। আড়ৎদাররা চামড়া উল্টে পাল্টে দেখছেন। কিন্তু তারা যে দাম বলছেন; তাতে বিক্রি করতে রাজি হচ্ছেন না রনজিত।

তিনি জানান, বাড়ি বাড়ি ঘুরে ৫ শ’ থেকে ৯ শ’ টাকা পর্যন্ত গরুর চামড়া কিনেছি। আর খাসির চামড়া ৫০ থেকে দেড় শ’ টাকা পর্যন্ত। এরপর প্রতিটি গরুর চামড়ায় লবণ লেগেছে একশ টাকার। খাসির চামড়ায় ২০ টাকা। লবণ শ্রমিক, বাজারে আনতে সব মিলিয়ে প্রতিটি চামড়ায় খরচ হয়েছে দেড় শ’ থেকে দুই শ’ টাকা পর্যন্ত। অথচ হাটে গরুর চামড়া সর্বোচ্চ বলছে আটশ’ টাকা। আর খাসি ৫০ টাকা।

রনজিত বলেন, সরকারের বেধে দেওয়া দর অনুযায়ী আমার প্রতিটি গরুর চামড়ার দাম হয় ১৫ শ’ থেকে ১৭ শ’ টাকা। অথচ বাজারে এনে দাম বলছে অর্ধেক। তাদের দামে চামড়া দিলে আসলও থাকবে না!

দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ চামড়ার মোকাম যশোরের রাজারহাটে কুরবানি পরবর্তী প্রথম হাট ছিল শনিবার। কাঁকডাকা ভোর থেকেই খুলনা বিভাগের ১০ জেলা ও ঢাকার গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ি থেকে মৌসুমী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন যানবাহন ভর্তি করে চামড়া নিয়ে এসেছেন। অন্তত ১৫ হাজার চামড়া উঠলেও বাইরের পাইকার ও ট্যানারি মালিকের প্রতিনিধিরা না আসায় বেচাকেনা জমেনি। সরকার নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষা করে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অর্ধেকেরও কম দামে চামড়া কিনছেন বলে অভিযোগ করেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলোও। সরকার এবার জেলা পর্যায়ে গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে। এ ছাড়া খাসির চামড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরির চামড়া ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সে হিসাবে মাঝারি গরুর চামড়ার মূল্য হওয়ার কথা ৯৫০ থেকে ১২০০ টাকা এবং বড় গরুর চামড়া ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত। অথচ যশোরের বাজারে মাঝারি গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ আর বড় সর্বোচ্চ ৮০০ টাকা। সেই অনুযায়ী সরকারের নির্ধারিতের চেয়ে যশোরের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা ফুট।

চামড়া বিক্রেতাদের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। সরকারি রেট কার্যকরে প্রশাসনের কোনো তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করছে। তবে চামড়া ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, সরকার দাম বাড়ালেও ট্যানারি মালিকরা সেই দামে চামড়া কিনতে রাজি নন।

বাগেরহাট থেকে আমজেদ বিশ্বাস নামে এক মৌসুমি ব্যবসায়ী বলেন, পিকআপ ভ্যানে করে ৪০০ গরুর চামড়া এনেছি। প্রতিটি চামড়া আড়তদাররা দিতে চাচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা করে। সরকারি বেঁধে দেওয়া দামে বিক্রি হলে প্রতি গরুর চামড়ার দাম পেতাম ১ হাজার ২৫০ টাকার বেশি। কিন্তু চামড়ার পাইকারি ব্যবসায়ীরা নিজেদের মতো দাম বলে চামড়া কেনাবেচা করছে। প্রতিটি গরুর ৩০ থেকে ৩৫ ফুট পর্যন্ত চামড়া হয়। সেই ক্ষেত্রে সরকারি রেটে চামড়ার দাম হবে ২১০০ টাকা। অথচ যশোরের বাজারে সর্বোচ্চ বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে এক হাজার। তাহলে ফুট পড়ছে ২৮ টাকা পর্যন্ত। সরকারি রেট কার্যকর হলে ছোট ব্যবসায়ীরা লাভবান হতো।

রমেন দাস নামে আরেক মৌসুমি ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলেন, প্রতি বছর লোকসান করে ব্যবসা করে যাচ্ছি। সিন্ডিকেটে আমাদের ব্যবসাটা একটি গোষ্ঠী শেষ করে দিচ্ছে। কোনো সরকারই এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল না।

তবে আড়তদার গিয়াজ উদ্দিন বলেন, সরকারি দরের চেয়ে ২০ টাকা কমে আমাদের চামড়া কিনতে হয়। কেননা কাঁচা চামড়া কিনে লবণজাত, শ্রমিক ও ঢাকাতে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি চামড়া দুই শ’ টাকা পর্যন্ত পড়ে যায়। আমরা ট্যানারি মালিকদের কাছে সরকারি বেঁধে দেওয়া দামে বিক্রি করতে পারছি না। যে কারণে সরকারি বেঁধে দেওয়া দামে চামড়া কেনাও আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ কেমিক্যালের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে ট্যানারি মালিকরা সরকারি দামে চামড়া কিনছেন নজ। ফলে দিন দিন চামড়ার দাম কমে যাচ্ছে।

রাজারহাট চামড়া মোকামের ইজারাদার রাজু আহম্মেদ বলেন, ঈদ-পরবর্তী প্রথম হাট হওয়াতে এদিন চামড়া উঠেছে কম, আবার বাইরের আড়তদার বা ট্যানারি মালিকের প্রতিনিধিরাও আসেননি। ফলে এদিন হাটে বিক্রিও হয়নি ভালো। আগামী কয়েকটি হাটে বেচাকেনা বাড়বে বলে আশা করা যায়।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার বসে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল সর্ববৃহৎ এই হাট। তিন শতাধিক আড়তদারের মাধ্যমে ঈদ মৌসুমে লক্ষাধিক পিস চামড়া বিক্রি হয় এখানে।

স্তন ক্যান্সারের লাখ লাখ রোগীর কেমোথেরাপি এড়ানো যেতে পারে: গবেষণা

স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত লাখ লাখ রোগীর সামনে কেমোথেরাপি এড়ানোর একটা সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার কথা জানিয়েছেন একদল গবেষক। তাদের দাবি, এমন এক ডিএনএ পরীক্ষা তারা উদ্ভাবন করেছেন, যেটা বলে দেবে, কেমোথেরাপি কোন রোগীর ক্ষেত্রে কাজ করবে, কার ক্ষেত্রে করবে না।

ইংল্যান্ডের ইউনিভার্টি কলেজ অব লন্ডনের (ইউসিএল) নেতৃত্বে এ গবেষণা হয় বলে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি।

গবেষণায় স্তন ক্যান্সার শনাক্ত হওয়া চার হাজারের বেশি রোগীকে যুক্ত করা হয়। এ তালিকায় যুক্তরাজ্য, নরওয়ে, সুইডেন, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও থাইল্যান্ডের রোগীরা ছিলেন, যাদের বয়স ৪০ বছরের বেশি।

আন্তর্জাতিক এই গবেষণায় দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষকে কেমোথেরাপি এড়িয়ে শুধু হরমোন থেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।

কেমোথেরাপি দেওয়ার ফলে সাধারণত একজন রোগীর মধ্যে ক্লান্তি, বমিভাব, চুল পড়া, প্রজননসংক্রান্ত সমস্যা কিংবা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো নানা স্বাস্থ্য জটিলতা দেখা দিতে পারে।

গবেষকরা এ পরীক্ষার নাম দিয়েছেন ‘প্রোসিগনা’। এই পরীক্ষায় ৫০টি জিনের গতিবিধি বিশ্লেষণ করা হয়, যেগুলো মূলত ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। বিশ্লেষণে মূলত এটাই হিসাব করা হয়, রোগটি ফিরে আসার সম্ভাবনা কতটা।

স্কোর যাদের কম, তাদের কেমোথেরাপি নেওয়া ছিল না। এই হার চার হাজারের দুই-তৃতীয়াংশ। এই দলে পাঁচ বছর পর্ন্ত বেঁচে থাকার হার ছিল ৯৩ দশমিক ৭ শতাংশ। আর কেমোথেরাপি নেওয়া রোগীদের মধ্যে এই হার ৯৪ দশমিক ৯ শতাংশ।

স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে সাধারণত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমারটি সরিয়ে ফেলা হয়। এরপর ক্যান্সার কোষ ফিরে আসার ঝুঁকি কমাতে কেমোথেরাপি দেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

ক্যান্সার কোষ শুধু লিম্ফ নোডের আশপাশে ছড়িয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা এমন রোগীদেরও কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। ইউসিএল বলেছে, চিকিৎসকরা একটা বিষয় নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। সেটা হলো- স্তন ক্যান্সারের অনেক রোগীর ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি সামান্যই কাজে আসে।

ইংল্যান্ডের এ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থার (এনএইচএস) অধীনে থাকা ৫ হাজারের বেশি রোগীর সামনে কেমোথেরাপি এড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এই গবেষণায় অংশগ্রহণ করেছিলেন কার্ডিফের বাসিন্দা কারেন বনহ্যাম। তিনি বলেন, গবেষণার ফল তার জন্য ‘খুবই স্বস্তির’ একটা খবর; অনেকটা ‘বড়দিনের উপহার’ পাওয়ার মতো।

‘প্রোসিগনা’ পরীক্ষার কারণে কেমোথেরাপি এড়াতে পেরেছেন ৬৪ বছরের এই রোগী। তিনি গত আট বছর রেডিওথেরাপি ও হরমোন থেরাপি নিয়েছেন।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ক্যান্সার শনাক্ত হওয়া এবং এর চিকিৎসা শুরু হওয়া— দুটোই জীবনে ধাক্কা দেওয়ার মতো ঘটনা। এটি আপনাকে অনিশ্চয়তার এক জগতে ঠেলে দেয়। জীবনের অগ্রাধিকারের তালিকা বদলে যায়; একটাই ইচ্ছা বেঁচে থাকে, সেটা বেঁচে থাকা।’

গবেষণার ফল যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে বিশ্বের বৃহত্তম ক্যান্সারবিষয়ক সম্মেলন— আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজির’ বার্ষিক সভায় তুলে ধরার কথা।

পরীক্ষা কার্ক্রমের প্রধান ছিলেন ইউসিএল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের স্তন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রোব স্টেইন। তিনি বলেন, এই ফল ক্যান্সার চিকিৎসাকে ব্যক্তিভেদে আলাদা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা যেতে পারে। এই গবেষণায় শুধু প্রচলিত ক্লিনিক্যাল বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করা হয়নি। পাশাপাশি টিউমারের জৈবিক বৈশিষ্ট্যকে ব্যবহার করা হয়েছে।

গবেষক রোব স্টেইন আরও বলেন, রোগীদের জন্য এর অর্থ হলো, অনেকেই কেমোথেরাপির শারীরিক ও মানসিক ধকল এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে মুক্তি পেতে পারেন। স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য এটি সম্পদের আরও যথাযথ ও প্রমাণভিত্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করবে।

তবে ইউসিএলের মতে, ৪০ বছরের কম বয়সী রোগীদের ক্ষেত্রে একই ফল প্রযোজ্য কি না, তা এখনও পরীক্ষা করে দেখা হয়নি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত ফল পেতে আরও কয়েক বছর লাগতে পারে।

ঈদের ছুটি শেষে সোমবার খুলছে অফিস-আদালত

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিনের ছুটি শেষে সোমবার খুলছে সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত, ব্যাংক-বিমা প্রতিষ্ঠান এবং দেশের পুঁজিবাজার।

এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা সাত দিনের ছুটি ভোগ করেছেন। দীর্ঘ ছুটি শেষে সোমবার থেকে কর্মস্থলে ফিরবেন লাখো চাকরিজীবী।

ছুটি শেষে দেশের সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস, ব্যাংক-বিমা কোম্পানি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং শেয়ারবাজারে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হবে। ঈদের আগে সীমিত পরিসরে কিছু ব্যাংক শাখা খোলা থাকলেও সোমবার থেকে দেশের সব ব্যাংকে স্বাভাবিক লেনদেন চলবে। একইসঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও নিয়মিত লেনদেন শুরু হবে।

এদিকে ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীমুখী মানুষের ফিরতি যাত্রা শুরু হয়েছে। শনিবার ও রোববার দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সড়ক, রেল ও নৌপথে কর্মজীবী মানুষ ঢাকায় ফিরছেন। ফলে রাজধানীর সড়কগুলোতেও ধীরে ধীরে যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করেছে।

মরিচক্ষেতে পড়ে ছিল ককটেল, বিস্ফোরণে আহত শিশু

শরীয়তপুরের জাজিরায় মরিচক্ষেতের পাশে পড়ে থাকা ককটেলসদৃশ বস্তু বিস্ফোরণে রাহাত মাদবর (১০) নামের এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। বিস্ফোরণের ফলে তার হাতের কবজি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে জাজিরা উপজেলার চরধুপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত রাহাত ওই এলাকার সামসু মাদবরের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সকালে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত ভিটায় লাগানো মরিচক্ষেত থেকে মরিচ আনতে যায় রাহাত। এ সময় বাবুল মাদবরের ভিটার মধ্যে পড়ে থাকা ককটেলসদৃশ একটি বস্তু দেখতে পেয়ে সেটি হাতে তুলে নেয়। পরে নাড়াচাড়ার একপর্যায়ে বিকট শব্দে সেটি বিস্ফোরিত হয়। এতে রাহাতের হাতের কবজি ছিটকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় রাহাতকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

আহত শিশুর চাচা বাবুল মাদবর বলেন, ‘কে বা কারা মরিচক্ষেতে ককটেল রেখে গেছে, তা তদন্ত করে বের করা প্রয়োজন। আমার ভাতিজা গুরুতর আহত হয়েছে।’

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ বলেন, শিশুটি কুড়িয়ে পাওয়া ককটেলটি খোলার চেষ্টা করলে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তার দুই হাতের কবজি পর্যন্ত গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যমুনা সেতুতে ৭ দিনে টোল আদায় ২২ কোটি টাকা পারাপার ২ লাখ ৮১ হাজার যানবাহন

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ঘরমুখী মানুষের ঢলে যমুনা সেতু ও এর দুই প্রান্তের মহাসড়কে তৈরি হয় বাড়তি চাপ। গত সাতদিনে সেতু দিয়ে পারাপার হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৮২ হাজার যানবাহন, টোল আদায় হয়েছে প্রায় ২২ কোটি টাকা। তবে এই রেকর্ড পারাপারের বিপরীতে যাত্রী ও চালকদের সঙ্গী হয়েছে দীর্ঘ অপেক্ষা, ধীরগতি ও যানজটের ভোগান্তি। অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে কয়েক দফায় টোল কার্যক্রমও বন্ধ রাখতে হয়।

যমুনা সেতু সাইট অফিস ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ থেকে ২৮ মে পর্যন্ত সাতদিনে সেতু দিয়ে মোট ২ লাখ ৮১ হাজার ৭৭৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে টোল আদায় হয়েছে ২১ কোটি ৭৪ লাখ ৯ হাজার ৭৫০ টাকা।

সবচেয়ে বেশি চাপ ছিল ২৬ মে। ওই দিন ২৪ ঘণ্টায় সেতু ব্যবহার করে ৫৬ হাজার ৩১৭টি যানবাহন, যা চলতি ঈদযাত্রায় সর্বোচ্চ। সেদিন টোল আদায় হয় ৩ কোটি ৮২ লাখ ৯২ হাজার ২৫০ টাকা। এর আগের দিন ২৫ মে পারাপার হয় ৫৩ হাজার ২৬৫টি যানবাহন; টোল আদায় হয় ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৩৯ হাজার ৯০০ টাকা।

সাতদিনের হিসাবে, ২২ মে পারাপার হয় ৩৪ হাজার ৯৬৬টি যানবাহন, ২৩ মে ৩২ হাজার ৬৪০, ২৪ মে ৩৯ হাজার ৯২৩, ২৭ মে ৪৫ হাজার ৯৪২ এবং ২৮ মে ১৮ হাজার ৭২১টি যানবাহন। শেষ দিনে চাপ কিছুটা কমলেও অস্বস্তি ছিল।

ঈদযাত্রার চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পূর্ব টোল প্লাজা পর্যন্ত কয়েক দিন যানবাহনের ধীরগতি ও যানজট দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক দফায় ৪০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার বেশি সময় টোল আদায় ও যানবাহন পারাপার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এর প্রভাব পড়ে উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী লেনেও। সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ, কড্ডা ও মুলিবাড়ী এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। অনেক পরিবহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধীরগতিতে চলে। তীব্র গরম, মাঝেমধ্যে বৃষ্টি এবং দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকায় দুর্ভোগ বাড়ে যাত্রী ও চালকদের।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হচ্ছে সেতুর ওপরে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, লেন পরিবর্তনের প্রতিযোগিতা, ওভারটেকের চেষ্টা ও অসতর্ক চলাচলের কারণে গত কয়েক দিনে প্রায় ৫০–৬০টি ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। যদিও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবে দুর্ঘটনার পরপরই সেতুর ওপর নতুন করে ধীরগতি ও যানজট তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চার লেন মহাসড়ক ও হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ চালু হওয়ায় পরিস্থিতি আগের তুলনায় কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও মূল সংকট এখনো যমুনা সেতুর সক্ষমতা। সেতুর সম্প্রসারণ বাস্তবায়ন না হলে প্রতি ঈদেই একই ধরনের চাপ ও ভোগান্তি ফিরে আসবে।

চামড়ার বাজারে এবারও ধস, সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম কেউ মানেনি

গত কয়েক বছরের মতো এবারও কোরবানির পশুর চামড়া বাজারে ধস নেমেছে। সরকারের বেঁধে দেওয়া দর মানেননি ট্যানারি মালিক ও বড় আড়ৎদাররা। চামড়ার বাজারগুলো থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক কমে কাঁচা চামড়া কিনেছেন তাঁরা। ফলে বিভিন্নস্থান থেকে সংগৃহীত চামড়া বিক্রি করতে এসে মৌসুমি ও ছোট চামড়া ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিভিন্ন মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও এতিমখানা সংশ্লিষ্টরাও পর্যাপ্ত দাম পাননি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদুল আজহায় কাঁচা চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রতি বছরের মতো এবারও দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল সরকার। এবার ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা গত বছরের তুলনায় ২ টাকা বেশি। তবে চামড়ার বাজারে সেই দামের প্রতিফলন দেখা যায়নি। রাজধানীসহ সারাদেশের বিভিন্ন এলাকায় বাজারগুলোতে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া বিক্রি হয়েছে সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক কমে। গত বছরের চেয়ে প্রতি পিস ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে মৌসুমি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। এছাড়া এবারও ছাগলের চামড়া কেনায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা।

মাঠপর্যায়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া বিক্রির জন্য মূলত ট্যানারি ও বড় আড়তদারদের ওপর নির্ভরশীল। ফলে তারা বাধ্য হয়েই কম দামে চামড়া কিনছেন এবং বিক্রি করছেন।

রাজধানীর বৃহত্ত্বম চামড়ার বাজার লালবাগের পোস্তার আড়ৎগুলো ঘুরে কাঁচা চামড়ার দর পতনের চিত্র পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর সেখানে দেখা গেছে, মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া নিয়ে এলেও সরকার নির্ধারিত মূল্য পাননি। তাদের অভিযোগ, প্রতি বছর ঈদের আগে সরকার দাম ঘোষণা করলেও বাজার তদারকিতে কার্যকর ভূমিকা দেখা যায় না। ফলে কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও ট্যানারি মালিক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন।

চামড়া ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ করতে লবণ, শ্রমিক ও পরিবহন মিলিয়ে গড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা খরচ হয়। সে হিসাবে সরকারি নির্ধারিত দাম অনুযায়ী বাজারে যে দর থাকার কথা, বাস্তবে তার অর্ধেকেরও কমে বিক্রি হচ্ছে অধিকাংশ চামড়া।

পোস্তা বাজারে ২০ পিস গরুর চামড়া বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছিলেন মৌসুমি ব্যবসায়ী আকমল হোসেন। তিনি প্রতি পিস চামড়ার দাম ১ হাজার টাকা চাইলে আড়ৎ মালিকরা ৬৫০ টাকার বেশি দিতে রাজি হননি। পরে তিনি দাম কমিয়ে ৮০০ টাকা করলেও ক্রেতা মেলেনি।

আকমল বলেন, গত বছর এই ধরনের চামড়া ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি করেছি। এবার সবাই ৬০০-৬৫০ টাকার বেশি বলতে চাচ্ছে না। সরকার দাম বাড়ালেও বাজারে তো তার কোনো প্রভাব নেই।

রাজধানীর অন্যান্য চামড়ার বাজারগুলোতেও সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মালিবাগ, মগবাজার, মুগদা, ধানমন্ডি, কলাবাগান, সায়েন্স ল্যাব ও শেওড়াপাড়া ঘুরে দেখা গেছে, ছোট আকারের গরুর কাঁচা চামড়া ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়, মাঝারি আকারের চামড়া ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায় এবং বড় আকারের চামড়া ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অথচ সরকার ঘোষিত দরে একটি মাঝারি আকারের চামড়ার মূল্য হওয়ার কথা ছিল ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা। একইভাবে বড় আকারের চামড়ার সম্ভাব্য মূল্য ছিল প্রায় ২ হাজার টাকা থেকে আড়াই হাজার টাকার বেশি।

মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকার দাম বাড়ালেও ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে সেই দাম পাননি তারা। ট্যানারি থেকে যে দর নির্ধারণ করা হয়, তার ভিত্তিতেই তারা মাঠপর্যায়ে চামড়া কেনাবেচা করেন। এতে শেষপর্যন্ত ক্ষতির মুখে পড়েন কোরবানিদাতা ব্যক্তি, মসজিদ-মাদরাসা ও এতিমখানাগুলো।

তবে তাঁরা বলছেন, এবার কোরবানির সংখ্যা কিছুটা কম হতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই ট্যানারি মালিকরা এবার ৭৫ থেকে ৮০ লাখ পিস চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, যা গত বছরের তুলনায় কম। তাছাড়া চামড়ার বাজারে দীর্ঘদিন ধরেই এক ধরনের অস্বচ্ছতা কাজ করছে। সরকার দাম নির্ধারণ করলেও বাস্তবে সেই দাম কার্যকর করার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই।

জানতে চাইলে পোস্তা এলাকায় কাঁচা চামড়ার আড়তদারদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএইচএসএমএ) সভাপতি টিপু সুলতান দাবি করেছেন, সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের মধ্যেই বেশির ভাগ বেচাকেনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা তো চোখের দেখায় কাঁচা চামড়া কিনি। এ জন্য দামে ৫০ টাকা কমবেশি হতে পারে।’

তবে ট্যানারি মালিকরা কম দামে চামড়া কেনার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সাখাওয়াত উল্লাহর দাবি, গত বছরের তুলনায় চামড়ার দাম কমেনি, বরং ২০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। তিনি নিজেই ৬৫০ থেকে ৯৫০ টাকা পর্যন্ত দামে চামড়া কিনেছেন।

তিনি বলেন, রাজধানীর কাঁচা চামড়ার বাজার স্থিতিশীল রাখতে অনেক ট্যানারি এবার সরাসরি মাঠপর্যায়ে চামড়া কিনছেন। তবে বাজার পুরোপুরি জমতে সময় লাগে। ঈদের দিন দুপুর পর্যন্ত কেনাবেচা জমে না ওঠায় কোথাও কোথাও কম দামে বিক্রি হয়ে থাকতে পারে। বিকেল থেকে সন্ধ্যার পর দাম আরও বাড়তে পারে।

তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলেই মনে করছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর পোস্তাসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর চামড়ার বাজার কিছুটা জমে উঠলেও দামে খুব বেশি পরিবর্তন আসেনি। বড় আকারের চামড়া ৭৫০ থেকে ৯০০ টাকায়, মাঝারি আকারের চামড়া ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় এবং ছোট চামড়া ১৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

এদিকে, গরুর মতো ছাগলের চামড়ার বাজারেও ধস নামে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতি পিস ছাগলের চামড়া মাত্র ৫ থেকে ১০ টাকায়ও বিক্রি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কোনো দাম ছাড়াই চামড়া নিয়ে নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

মৌসুমি ব্যবসায়ীরা জানান, ছাগলের চামড়া এখন অনেকের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ চামড়া বিক্রি করে সংরক্ষণ খরচও তুলতে পারছেন না তারা। এই কারণে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করেও লোকসানের মুখে পড়েছেন।

চামড়ার বাজারে এই অস্থিরতার বড় ভুক্তভোগী দেশের মাদরাসা ও এতিমখানাগুলোও। কারণ অনেক মাদরাসার খরচের বড় একটা অংশ আসে প্রতিবছর সংগৃহীত কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি থেকে। সবচেয়ে বেশি চামড়া সংগ্রহ করে থাকে বিভিন্ন মাদরাসা ও এতিমখানা। অনেক কোরবানিদাতাই স্বেচ্ছায় তাদের পশুর চামড়া এসব প্রতিষ্ঠানে দান করেন। এই চামড়া বিক্রির অর্থ দিয়েই মূলত লিল্লাহ বোর্ডিং, এতিমখানা এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও অন্যান্য ব্যয়ের একটি বড় অংশ পরিচালিত হয়। কিন্তু কয়েক বছর ধরেই চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠান আর্থিক সংকটে পড়ছে। দাম কম থাকায় মাদরাসাগুলোর মধ্যেও চামড়া সংগ্রহে কিছুটা অনীহা দেখা যাচ্ছে। এ বছরও পর্যাপ্ত দাম না পাওয়ায় আগামী দিনগুলোতে তারা প্রতিষ্ঠান চালাতে হিমশিম খাবেন বলে ধারণা করছেন।

খিলগাঁওয়ের নাজমুল হক মদিনাতুল উলুম কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাহবুবুল্লাহ বলেন, প্রতি বছর পরিকল্পিতভাবে চামড়া খাতকে ধ্বংস করা হচ্ছে। চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পেলে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বাংলাদেশে ফেরার জন্য ভারত সীমান্তে অপেক্ষা, জেরা এবং তারপর

যারা ভারতে অবৈধপথে গিয়েছিলেন, তারা যদি ‘স্বেচ্ছায়’ ফিরে যেতে চান তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে, ওই ঘোষণার আগেই সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য অনেক মানুষ প্রতিদিন হাজির হচ্ছেন সাতক্ষীরা আর পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত অঞ্চলে।

তাদেরই একজন বাচ্চু মুন্সি বলেন, ‘যখন আমার বছর দশেক বয়স, বাবা মায়ের হাত ধরে ভারতে চলে আসি। প্রায় ৩৮ বছর হয়ে গেল, এখানেই বিয়ে করেছি, ছেলেমেয়ে হয়েছে। তাদের বিয়েও দিয়েছি এখানে।’

কলকাতার দমদম বিমানবন্দর লাগোয়া এলাকায় থাকতেন বাচ্চু মুন্সি। তিনি সপরিবারে হাজির হয়েছিলেন বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলা লাগোয়া উত্তর ২৪ পরগনার একটি সীমান্ত চৌকি- হাকিমপুরে। বাচ্চু জানান, তিনি খুলনা জেলার বাসিন্দা।

বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য হাকিমপুর সীমান্তে প্রতিদিনই হাজির হচ্ছেন বাচ্চুর মতো আরও বহু নারী-পুরুষ ও শিশু। তাদের দাবি, তারা কেউ যশোর, কেউ খুলনা, কেউ সাতক্ষীরা থেকে ভারতে গিয়েছিলেন। কেউ যান বছর দুয়েক আগে, কেউবা পাঁচ-ছয় বছর আগে।

একটি ঘরে শিশুকে নিয়ে অপেক্ষায় এক নারী। ছবি: এএফপি

একটি ঘরে শিশুকে নিয়ে অপেক্ষায় এক নারী। ছবি: এএফপি

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি জয়ী হয়ে নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার কয়েকদিন পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা দেন, ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’দের আর থাকতে দেওয়া হবে না। তাদের ফেরত পাঠানো হবে। এরপর গত এক সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতিদিনই সাত সকালে সীমান্তে জড়ো হচ্ছেন নিজের দেশে ফিরে যেতে চাওয়া মানুষরা।

হাকিমপুরের স্থানীয় বাসিন্দা হাসানুর গাজি বলেন, শুরুর দিকে দৈনিক ১০-১২ জন করে আসছিল। এরপর প্রতিদিনই বাড়ছে এই সংখ্যা। দিন তিনেক আগে থেকে সংখ্যাটা কয়েকশোতে গিয়ে ঠেকেছে।

সীমান্তে যারা জড়ো হচ্ছেন তাদের অনেকেই বলছেন, তারা ‘চোরাই পথে’ ভারতে গিয়েছিলেন এবং পশ্চিমবঙ্গে ‘অবৈধভাবেই’ বসবাস ও কাজকর্ম করছিলেন।

সীমান্ত চৌকিতে একদিন
হাকিমপুর এলাকাটা উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর থানার অধীনে। বিএসএফের চেকপোস্ট পেরিয়ে কিছুটা গেলেই তারালি গ্রাম, তারপরই সোনাই নদী। নদীর ওপারে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলা।

সীমান্ত চৌকিতে দাঁড়িয়ে গত বুধবার বিবিসির সাংবাদিক অমিতাভ ভট্টশালী দেখেন, বাংলাদেশে চলে যাওয়ার জন্য সীমান্তে জড়ো হওয়া মানুষদের প্রথমে একটি পরিত্যক্ত ঘরে অপেক্ষা করতে বলা হচ্ছে। সেখান থেকে পুলিশ কর্মীরা একেকটি পরিবারকে ডেকে এনে নথি যাচাই করছেন। বাংলাদেশের পরিচয়পত্র দেখার পাশাপাশি লিখে নেওয়া হচ্ছে নাম ও স্থায়ী ঠিকানা। এরপর ছবি তোলা হচ্ছে।

সীমান্তে যাওয়া ব্যক্তিদের কীভাবে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে, সে ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন বা বিএসএফ আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলেনি। তবে স্থানীয় গ্রাম হাকিমপুরের বাসিন্দারা সব কার্যক্রমই দেখেছেন। তাদের একজন ব্যবসায়ী হাসানুর গাজি জানান, চেকপোস্টে নথি যাচাই হচ্ছে, বায়োমেট্রিক হচ্ছে। এরপর সীমান্তের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বিএসএফ। এখান থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে আমোদিয়া বলে একটা হাঁটা বর্ডার আছে, সেখান দিয়ে পার করে দিচ্ছে। দিনের বেলাতেও করছে, আবার অনেক সময়ে রাত হয়ে যাচ্ছে।

পরিচয় যাচাইয়ের অপেক্ষায় দুজন। ছবি: এএফপি

পরিচয় যাচাইয়ের অপেক্ষায় দুজন। ছবি: এএফপি

গত বুধবার হাকিমপুরের সীমান্ত চৌকিতে কয়েকজনের নথি যাচাইয়ের পর অপেক্ষা করতে বলা হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা সেখানেই অপেক্ষা করেন। এরপর তাদের বাসে করে নিয়ে যাওয়া হয় স্বরূপনগর থানা এলাকাতে গড়ে তোলা ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটক শিবিরে।

‘ভারতের ভোটার কার্ডও করিয়েছিলাম’
স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাফা শাওজি জানান, সীমান্ত পেরিয়ে যারা বাংলাদেশে চলে যাওয়ার জন্য জড়ো হয়েছিলেন, তাদের অনেকের কাছেই ভারতের নানাবিধ পরিচয়পত্র আছে। কারো কাছে সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্রও আছে। সবাই হয়তো এ বিষয়ে কথা বলছে না, কিন্তু পরিচয়পত্র দেখিয়েছে।

ভারতের ভোটার কার্ড থাকার কথা স্বীকার করেছেন সীমান্তে অপেক্ষায় থাকা কয়েকজন। এরকমই একজন বাচ্চু মুন্সি। তিনি বলেন, ‘অনেক চেষ্টা করে ভোটার কার্ড করিয়েছিলাম। আধার কার্ড, প্যান কার্ডও করিয়েছিল। প্রথমবার আমি এখানে ভোট দিয়েছিলাম ২০২৪ সালে।’

তবে বাধ সেধেছে ২০২৬ সালের ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর। সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বাচ্চুর পরিবারের নাম।

নাজমা নামের একজন বলেন, ‘বিজেপি এখানে সরকারে আসার পর থেকেই তো বলে দিয়েছে আমাদের আর থাকতে দেবে না। তাই বাধ্য হয়ে চলে যাচ্ছি নিজের দেশে। বাংলাদেশের লোক ধরলেই জেলে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। এখন সুযোগ দিয়েছে ফেরত চলে যাওয়ার, তাই চলে যাচ্ছি।’ নাজমার দাবি তিনি যশোরের আদি বাসিন্দা।

‘ভারতে আর ফিরব না’
নিজেকে সাতক্ষীরার বাসিন্দা বলে দাবি করা রাইসা পারভিন বলেন, ‘বিজেপি যখন থেকে জিতে এসেছে, তারপর থেকেই বলছে বাংলাদেশিদের আর থাকতে দেবে না। তাই আমি, আমার স্বামী, সন্তানদের নিয়ে চলে যেতে চাই। এসআইআরের সময়ে যখন অনেকে বাংলাদেশে চলে গেছে, সেই সময়েই আমার বাবা-মা ফিরে গেছেন।’

শেখ মাসুদ রানা নামে আরেকজন বলেন, ‘সরকারি ঘোষণা তো আছেই, একই সঙ্গে তারা যে অঞ্চলে থাকতেন, সেখানকার পুলিশ কড়াকড়ি করছে। বাড়িওয়ালারাও আর থাকতে দিতে চাইছে না।’

সীমান্তে জড়ো হওয়া আরও কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি বাংলা। তাদের মধ্যে আছেন আখতারুল মোড়ল। তিনি বলেন, ‘পুলিশ এসে ঝামেলা করছে, বলছে বাংলাদেশিরা ভাগো। আগেরবার যখন এসআইআর হলো, সেই সময়ে চলে গেলেই ভালো হতো।’ শাহিন আলম মোল্লা নামে আরেকজন বলেন, তিনি আর ‘অবৈধ পথে’ ভারতে ফিরবেন না। ফিরলেও বৈধভাবে পাসপোর্ট নিয়ে বেড়াতে যাবেন।

৭০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার লন্ডনে ব্যালন ডি’অর আয়োজন

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর এবার গড়তে যাচ্ছে নতুন ইতিহাস। দীর্ঘদিনের প্যারিসের ঐতিহ্য ভেঙে প্রথমবারের মতো এই জমকালো আয়োজন বসবে লন্ডনে।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, ব্যালন ডি’অরের ৭০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ২৬ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে অনুষ্ঠিত হবে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। ১৯৫৬ সালে ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিনের হাত ধরে যাত্রা শুরু হওয়া এই পুরস্কারের প্রথম বিজয়ী ছিলেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি স্ট্যানলি ম্যাথিউজ।

উয়েফা জানিয়েছে, প্রথম ব্যালন ডি’অরজয়ী স্ট্যানলি ম্যাথিউজের প্রতি সম্মান জানাতেই এবারের বিশেষ আয়োজনের জন্য লন্ডনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। যদিও অনুষ্ঠানটি লন্ডনের ঠিক কোন ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

ফুটবল বিশ্বে ব্যক্তিগত অর্জনের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত ব্যালন ডি’অর গত দেড় দশক ধরে ছিল দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দখলে। মেসি রেকর্ড আটবার এই পুরস্কার জিতেছেন, আর রোনালদোর ঝুলিতে রয়েছে পাঁচটি ব্যালন ডি’অর।

সবশেষ আসরে পুরুষদের বিভাগে বিজয়ী হন ফরাসি তারকা উসমান দেম্বেলে এবং নারীদের বিভাগে বর্ষসেরা নির্বাচিত হন স্পেনের আইতানা বনমাতি।

দীর্ঘদিনের প্যারিস অধ্যায়ের বাইরে গিয়ে লন্ডনে ব্যালন ডি’অরের এবারের আয়োজন ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি করেছে বাড়তি কৌতূহল ও উচ্ছ্বাস। ঐতিহ্য আর নতুনত্বের মিশেলে ৭০তম আসরকে ঘিরে এখন থেকেই বাড়ছে বিশ্বজুড়ে আলোচনা।

উত্তর প্রদেশে ঝড়ে নির্মাণাধীন সেতু ধস, নিহত ৬

ভারতের উত্তর প্রদেশে প্রবল ঝড়ে নির্মাণাধীন ভবন ধসে অন্তত ছয় শ্রমিক নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। শুক্রবার রাত প্রায় ২টার দিকে উত্তর প্রদেশের হামিরপুর জেলায় এ ঘটনা ঘটে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,বেতওয়া নদীর উপরের নির্মাণাধীন সেতুটি কুরারা এলাকার মার্কান্দার পার্সনির সঙ্গে নেথি গ্রামকে সংযুক্ত করেছিল। কিন্তু প্রবল ঝড়ে মধ্যে সেতুটির একটি অংশ ধসে পড়ে। এ সময় সেতুটির বড় একটি স্ল্যাব নিচে পড়ে যায়। এতে নিচে থাকা শ্রমিকদের ওপর কংক্রিটের বিশাল অংশ ও লোহার কাঠামো ধসে পড়ে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল এসে অভিযান শুরু করে।

পুলিশ, জরুরি দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনী এসডিআরএফ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আটকাপড়াদের উদ্ধারে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে। উদ্ধারকারী দলগুলো ক্রেন ও ভারী মেশিনপত্র ব্যবহার করে ধসে পড়া স্ল্যাবের নিচে আটকা পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

এদিকে তিনজন শ্রমিক সেতুটির একটি পিলারের উপরে আটকা পড়েছেন। তাদের নিরাপদে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কী কারণে সেতুটির একটি অংশ ধসে পড়ল তা বের করতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

ট্রাম্প কি ইরানের সঙ্গে চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছেন?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে যুদ্ধ সংক্রান্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর আগে এখনো বেশ কিছু জটিল বিষয় নিয়ে সমাধানে আসতে হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

বিবিসির পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিল, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কি চুক্তি স্বাক্ষরের কাছাকাছি পৌঁছেছেন কি না। জবাবে ভ্যান্স বলেন, দুই পক্ষ ‘কখন বা আদৌ’ কোনো চুক্তি চূড়ান্ত করবে এটি বলা এখনো বলা যাচ্ছে না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হতে পারে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে।

এর আগে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানান, ট্রাম্প ও ইরানের নেতৃত্বের অনুমোদনের অপেক্ষায় থেকে দুই দেশ একটি চুক্তির কাঠামোয় সম্মত হয়েছে। তবে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত বা নিশ্চিত হয়নি।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কথা বলতে গিয়ে ভ্যান্স বলেন, আলোচকরা ‘ভাষাগত কয়েকটি বিষয় নিয়ে বার বার আলোচনা’ করছেন, যার মধ্যে ইউরেনিয়াম ‘সমৃদ্ধকরণ’ প্রসঙ্গও রয়েছে।

সমঝোতার বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এখনও সেখানে পৌঁছাইনি, কিন্তু আমরা খুব কাছাকাছি এবং আমরা কাজ চালিয়ে যাব’।

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে ইরানকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন বন্ধ করতে হবে এবং তাদের বিদ্যমান মজুদের নিষ্পত্তি করতে হবে, যা তাত্ত্বিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে।

ওয়াশিংটন ডিসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ভ্যান্স আশাবাদী সুরে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে ইরান ‘সৎ উদ্দেশ্যে’ আলোচনা করছে।

৮ই এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে দুই পক্ষ চুক্তির কাছাকাছি এবং আলোচনা এগোচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া যায়নি।

যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের মিত্র দেশগুলো, যুদ্ধবিরোধী ডেমোক্র্যাটরা এবং কংগ্রেসের কিছু রিপাবলিকান সদস্যও এর মধ্যে রয়েছেন, যারা সংঘাত কতদিন চলবে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে বৃহস্পতিবারের পরস্পরবিরোধী প্রতিবেদনগুলো দেখিয়েছে যে আলোচনা এখনো পরিবর্তনশীল অবস্থায় রয়েছে।

দুই দেশই একে অপরের দাবিকে অস্বীকার করেছে এবং প্রস্তাবিত চুক্তি সম্পর্কে খুব কম তথ্য দিয়েছে, ফলে বাস্তবে এই দুই পক্ষ কতটা কাছাকাছি অবস্থান করছে – তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে।

ট্রাম্প ও অন্যান্য কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, ‘অপশন বি’, অর্থাৎ আবার সামরিক অভিযান এখনো বিবেচনায় রয়েছে।

অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা আরও জটিল ও প্রযুক্তিগত বিষয়, বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং তাদের অবশিষ্ট উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম মজুদ নিয়ে আলোচনা করতে পারবে।

ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র সেটি নিজেদের দখলে নিতে পারে, অথবা ইরানের সঙ্গে মিলিয়ে সেখানেই কিংবা তৃতীয় কোনো স্থানে তা হ্রাস করতে পারে।

বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন বলছে, সম্ভাব্য এই চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ‘নিরবচ্ছিন্ন’ যাতায়াতের অনুমতি থাকতে পারে এবং ইরানকে ৩০ দিনের মধ্যে এই সংকীর্ণ নৌপথ থেকে মাইন অপসারণ করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ অবরোধ তুলে নেবে এবং নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দেবে, যাতে ইরান আবার তেল বিক্রি শুরু করতে পারে।

মার্কিন সংবাদ মাধ্যম অ্যাক্সিওস, যারা বৃহস্পতিবার প্রথম যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতার খবর দেয়, জানিয়েছে ট্রাম্পকে প্রস্তাবটি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে, তবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অনুমোদন দেননি এবং বিবেচনার জন্য কয়েক দিন সময় নেবেন।

বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দুই দেশের মধ্যে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকের অনানুষ্ঠানিক খসড়ার বিভিন্ন দিক প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনটিতে ওয়াশিংটনের আরোপিত ইরানি বন্দর অবরোধ তুলে নেওয়া, ‘ইরানের নিকটবর্তী অঞ্চল’ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেসামরিক চলাচল পুনরুদ্ধারের কথা উল্লেখ ছিল যেখানে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় ইরান ও ওমান যুক্ত থাকবে।

হোয়াইট হাউস এই তথাকথিত খসড়াকে ‘সম্পূর্ণ মনগড়া’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

বিশ্বের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলের এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয় এবং এই পথ বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যে প্রভাব পড়েছে।

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ব্রিফিংয়ে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট কোনো চুক্তি হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানান।

তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের আগে কোনো বিষয়ে এগিয়ে কথা বলা সবসময়ই ভুল এবং শেষ সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্টই নেবেন’।

ইরানের জন্য সম্ভাব্য শান্তিচুক্তিতে ‘পুনর্গঠন’ অন্তর্ভুক্ত থাকবে কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চুক্তিতে পৌঁছানোর আগেই অন্য দিক নিয়ে কথা বলা যাবে না’।

এদিকে সাম্প্রতিক কয়েক দিনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই একে অপরের বিরুদ্ধে নাজুক অবস্থায় থাকা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানে নতুন মার্কিন হামলার পর বৃহস্পতিবার তারা অঞ্চলের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।

ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির বাহিনী একটি মার্কিন বিমান, সম্ভবত ড্রোন, ভূপাতিত করেছে।

তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এই দাবি নাকচ করে সামাজিক মাধ্যমে বলেছে, ‘কোনো মার্কিন বিমান ভূপাতিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সকল আকাশযান হিসাবমতোই আছে’।