Home Blog Page 73

বর্ষার প্রথম ডাক মেঘ, মাটি আর মানুষের অনন্ত সম্পর্ক

আষাঢ়ের দুয়ারে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ। আকাশের নীল বিস্তারে ধীরে ধীরে জমে উঠছে কালো মেঘের দল। দূর-দিগন্তে শোনা যাচ্ছে মৃদু মেঘের গর্জন। বাংলার জীবন, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও কৃষিভিত্তিক সভ্যতার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক চিরন্তন অনুভূতির নাম বর্ষা।

বাংলা পঞ্জিকার আষাঢ়-শ্রাবণ, এ দুই মাস নিয়ে বর্ষা ঋতুর বিস্তার। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প ভরা মেঘমালা দেশের আকাশ ঢেকে ফেলে।

আবহাওয়াবিদদের ভাষায় তা প্রাকৃতিক জলবায়ুগত প্রক্রিয়া। আর সাধারণ মানুষের কাছে বর্ষা মানে প্রথম বৃষ্টির গন্ধ, কদম ফুলের হাসি, টিনের চালে বৃষ্টির ছন্দ আর ভিজে মাটির আবেশ। দেশের খাল-বিল-নদী-হাওর ও জলাভূমি বর্ষার পানিতে প্রাণ ফিরে পেলে শুকিয়ে যাওয়া মাঠঘাটে শুরু হয় সবুজের সমারোহ। কৃষিনির্ভর অর্থনীতির জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসে বর্ষা। আমন ধানের চাষ, পাট উৎপাদন, মাছের প্রজনন এবং জলাভূমির পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বর্ষার ভূমিকা অপরিসীম।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, দেশের মোট খাদ্য উৎপাদনের একটি বড় অংশ মৌসুমি বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। সময়মতো বৃষ্টি হলে কৃষক আশাবাদী হন। যদিও অতিবৃষ্টি কিংবা অনিয়মিত বর্ষণ কৃষকের জন্য উদ্বেগও ডেকে আনে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ুর পরিবর্তন বর্ষার স্বাভাবিক ছন্দেও বড় পরিবর্তন ডেকে এনেছে। কখনও দীর্ঘ সময় বৃষ্টিবিহীন, কখনও স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টি– এই দুই চরম প্রবণতা কৃষি ও জনজীবনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তবু বর্ষা মানে বৃষ্টিধারায় ধুলোমাখা পত্রপল্লবের ধুয়েমুছে উজ্জ্বল হয়ে ওঠা। বর্ষা মানে বাতাসে ফিরে আসা সতেজতার স্পর্শ।

মধ্যযুগের পদাবলী থেকে শুরু করে আধুনিক কবিতাতেও বর্ষা এক অনিবার্য অনুষঙ্গ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বর্ষার গান, কাজী নজরুল ইসলামের মেঘ-বৃষ্টির কবিতা কিংবা জীবনানন্দ দাশের প্রকৃতিচিত্র– সবখানেই বর্ষা নতুন ব্যঞ্জনা নিয়ে আছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বর্ষা ঘিরে রয়েছে অসংখ্য লোকগান, পালাগান ও আঞ্চলিক ঐতিহ্য। নৌকাবাইচ, ভাটিয়ালি কিংবা হাওরাঞ্চলের জীবনধারা বর্ষার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী জড়িত। নদীমাতৃক বাংলাদেশের মানুষের স্মৃতি ও সংস্কৃতিতে বর্ষা এক জীবন্ত উপস্থিতি।

তবে নগরজীবনে বর্ষার অভিজ্ঞতা অনেক সময় ভিন্ন। রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরে বৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত হয় জলাবদ্ধতা, যানজট ও নাগরিক দুর্ভোগের চিত্র। কয়েক ঘণ্টার টানা বর্ষণেই ডুবে যায় অনেক সড়ক। নগর পরিকল্পনা ও জল নিষ্কাশন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা বর্ষাকে স্বস্তির বদলে ভোগান্তির কারণ করে তোলে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নগর অবকাঠামোকে আরও সহনশীল ও পরিবেশবান্ধব করে তোলার বিকল্প নেই।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাক-বর্ষার বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। কৃষকরা আমন মৌসুমের প্রস্তুতি নিচ্ছেন; নদীগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণতা ফিরে পাচ্ছে; আর প্রকৃতি অপেক্ষা করছে বর্ষার পূর্ণ আবির্ভাবের। কারণ বর্ষা শেখায় পুনর্জন্মের গল্প। দগ্ধ মাটিতে যেমন নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়, তেমনি ক্লান্ত জীবনের ভেতরে জেগে ওঠে নতুন প্রত্যাশা। বৃষ্টি ঝরে আকাশ থেকে, কিন্তু তার স্পর্শ পৌঁছে যায় মানুষের স্মৃতি, সংস্কৃতি ও অস্তিত্বের গভীরে। বর্ষা ঋতু যেন বাংলার মানুষের অনুভবের এক চিরসবুজ ভূগোল।

শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান: শাহবাজ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা, নিশ্চিত করেছেন ট্রাম্পও

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ বন্ধে শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তার এই ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে শাহবাজ শরিফ বলেন, নিবিড় আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি হয়েছে। উভয় পক্ষ সব ফ্রন্টে, লেবাননসহ, সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে চলতি সপ্তাহে মধ্যস্থতাকারীদের উদ্যোগে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে চুক্তি বাস্তবায়নের কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।

বিবৃতিতে তিনি মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য কাতারের নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও তুরস্কের নেতৃত্বের ভূমিকাও প্রশংসা করেন।

শাহবাজ শরিফের ঘোষণার অল্প সময় পর ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে লেখেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পন্ন হয়েছে।’

ট্রাম্প আরও জানান, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উন্মুক্ত করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধও অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিজের পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘বিশ্বের জাহাজগুলো, ইঞ্জিন চালু করো। তেল প্রবাহিত হতে দাও।’

ট্রাম্পের এই ঘোষণার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করা হলো। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

শান্তিচুক্তির খবরে কমলো তেলের দাম, বিশ্ব শেয়ারবাজারে বড় উত্থান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির ঘোষণার পর বিশ্ব অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। দীর্ঘ চার মাসের সংঘাতের অবসানের খবরে স্বস্তি ফিরেছে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে। জ্বালানি তেলের দাম কমার পাশাপাশি বিশ্বের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে।

সোমবার দিনের শুরুতেই এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ারবাজারে শক্তিশালী ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা যায়। জাপানের নিক্কেই-২২৫ সূচক ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক বৃদ্ধি পায় প্রায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। এছাড়া তাইওয়ানের তাইএক্স সূচক ২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার এএসএক্স-২০০ সূচক প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী ছিল। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচকও দিনের শুরুতে প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে।

এই ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে মার্কিন শেয়ারবাজারেও। নিয়মিত লেনদেন শুরুর আগেই এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার ১ শতাংশ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নাসদাক ফিউচার ১ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

এএনজেড (ANZ)-এর এশিয়া গবেষণা বিভাগের প্রধান খুন গো বলেন, ‘গত সপ্তাহের শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ার পর থেকেই বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছিল। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার পর বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বেড়েছে।’

শান্তিচুক্তির ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ৪০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।

রোববার ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে চুক্তির ঘোষণা দিয়ে হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। তিনি লেখেন, ‘বিশ্বের জাহাজগুলো, ইঞ্জিন চালু করুন। তেল সরবরাহ আবার শুরু হোক।’

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার কারণে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছিল, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছিল। অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণার পর পরিস্থিতির উন্নতির প্রত্যাশায় বাজারে স্বস্তি ফিরেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের দাম কমে আসায় বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির চাপও কিছুটা কমতে পারে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য ইতিবাচক সংকেত।

তবে শান্তিচুক্তির ঘোষণার পরও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে বলে মনে করছেন নৌ-পরিবহন খাতের বিশেষজ্ঞরা।

নরওয়েজিয়ান শিপ ওনার্স মিউচুয়াল ওয়ার রিস্কস ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সভেন রিংবাক্কেন বলেন, ‘সংঘাতের কারণে হাজার হাজার জাহাজ এই অঞ্চলে এবং আশপাশের জলসীমায় আটকে রয়েছে। পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যক্রম চালালেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। এছাড়া সাগরে মাইন পাতা থাকলে তা অপসারণ করতেও দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক শিপিং কোম্পানি সেফসি গ্রুপের চেয়ারম্যান এসভি আনচানও সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘কাগজে-কলমে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। সমুদ্রের মাইন অপসারণ, বিমা কোম্পানিগুলোর প্রতিক্রিয়া এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়ন-সবকিছু বিবেচনায় নিলে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে এক বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে।’

ইরানের বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ জানিয়েছে, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তির আওতায় লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি, ইরানের তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আটকে থাকা ২৪ বিলিয়ন ডলারের তহবিল মুক্ত করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ চুক্তি স্বাক্ষরের সময় নিয়ে ধোঁয়াশা হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানি ড্রোন ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র

তিন মাসেরও বেশি সময় যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শান্তিচুক্তির একটি খসড়ায় সম্মত হয়েছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়ে যেতে পারে। গতকাল শনিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এ তথ্য জানান। তবে পাল্টা মন্তব্য এসেছে ইরানের পক্ষ থেকে। ফলে চুক্তি স্বাক্ষরের সময় নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

গতকাল শাহবাজ শরিফ সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লেখেন, ‘আমরা অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় শান্তিচুক্তির খুব কাছে রয়েছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সব চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করছি। তাৎক্ষণিকভাবে ইলেকট্রনিক পন্থায় শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী, এই ঐতিহাসিক চুক্তি দীর্ঘমেয়াদি শান্তির ভিত্তি রচনা করবে।’

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্বাক্ষর আজ রোববার হবে না বলে জানায় ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমায়েল বাঘায়ি বলেন, আগামী দিনগুলোতে সমঝোতা স্বাক্ষরের সম্ভাবনা বাতিল করে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে সাক্ষরের দিনক্ষণ নিয়ে কোনো মন্তব্য করার আগে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে অপর পক্ষের দ্বিধার কারণে। বাঘায়ির দেওয়া তথ্যানুসারে, ইসলামাবাদ বা জেনেভায় আগামী এক দিন বা দুই দিনের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য কোনো আলোচক দল পাঠানোর পরিকল্পনাও নেই ইরানের।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় যুদ্ধ। ইরানে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। পরে পাল্টা জবাব দেয় তেহরানও।
চুক্তির বিষয়ে যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি গত শুক্রবার জানান, চুক্তিতে যদিও পরিবর্তন আসা সম্ভব, তার পরও এ সংঘাতের মধ্য দিয়ে তাঁর দেশের অবস্থান দৃঢ় হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ যুদ্ধে জয়ী হয়েছে ইরান।’

এক সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, আরাঘচির এ মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হতে থাকা ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র জানায়, ওই ড্রোনগুলো বাণিজ্যিক নৌযানের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করছিল। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডও পরে ওই হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। পাশাপাশি তারা জানিয়েছে, জলপথ খোলা রয়েছে।

যুদ্ধ অবসানের আলোচনার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষ এরই মধ্যে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত সমঝোতায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা এ চুক্তির পরে শুরু হবে। সব মিলিয়ে ৬০ দিন আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। প্রস্তাবে তেহরানের জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও রয়েছে বলে জানা গেছে।

জুলাইয়ে দাফন করা হবে আলি খামেনিকে
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে আগামী ৯ জুলাই দাফন করা হবে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে তথ্যটি। ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, তেহরানে ৪ ও ৫ জুলাই বিদায়ী অনুষ্ঠান হবে, জানাজা অনুষ্ঠিত হবে ৬ জুলাই। আর কোমে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে ৭ জুলাই। ৯ জুলাই আরেকটি জানাজার পর মাশহাদ শহরে ইমাম রেজার মাজারে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে দাফন করা হবে।

খামেনির জানাজা ও দাফনের সূচি ঘোষণা করল ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজার আনুষ্ঠানিকতা আগামী ৪ জুলাই রাজধানী তেহরানে শুরু হবে। তিন দিনব্যাপী এ কর্মসূচি শেষে ৯ জুলাই তার জন্মস্থান মাশহাদে দাফন সম্পন্ন করা হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

খামেনির দাফন প্রথমে মার্চ মাসে হওয়ার কথা ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় তা স্থগিত করা হয়। নতুন সূচি অনুযায়ী, ৪ জুলাই থেকে তেহরানে তিন দিনব্যাপী জানাজার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৭ জুলাই পবিত্র নগরী কোমে আরেকটি স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

গত ফেব্রুয়ারিতে নিজ বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সে নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

১৯৮৯ সালে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর দেশের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন খামেনি। এর এক দশক আগে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন খোমেনি, যার মাধ্যমে ইরানে পাহলভি রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে। খামেনি ছিলেন ইসলামি বিপ্লবের প্রধান আদর্শিক রূপকার। অন্যদিকে খামেনির নেতৃত্বে ইরানের সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো আরও শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।

খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে তিনি প্রকাশ্যে খুব কমই দেখা দিয়েছেন।

গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, চলমান আলোচনায় মোজতবা খামেনি গুরুত্বপূর্ণ ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন বলে মনে হচ্ছে।

অপ্রদর্শিত ব্যয়ের খোঁজে ‘টাইম মেশিনে’ এনবিআর পুরোনো কোনো ব্যয় আয়কর রিটার্নে উল্লেখ না করলে জরিমানাসহ কর আরোপের প্রস্তাব অর্থবিলে

এবারের বাজেটে অর্থবিলে অতীতের যে কোনো বছরের অপ্রদর্শিত ব্যয় খুঁজে পেলে, তার ওপর জরিমানাসহ কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বিশাল রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জনে মরিয়া কর কর্মকর্তারা যে কোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে অতীতের পুরোনো নথি দেখতে চাওয়ার ক্ষমতা পাবেন। এতে করদাতাদের হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এর আগে ২০২৩ সালের আয়কর আইনে ছয় বছর পর্যন্ত কোনো লুকানো বা অপ্রদর্শিত সম্পদের খোঁজ কর কর্মকর্তারা পেলে তার ওপর কর আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। এবার ওই ধারা সংশোধন করে সম্পদের সঙ্গে করযোগ্য ব্যয়ও সংযুক্ত করে কর কর্মকর্তাকে ওই ব্যয়ের ওপরও সরাসরি করারোপ করার ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

কর বিশেষজ্ঞদের মতে, এ আইন এনবিআরের হাতে একটি ‘টাইম মেশিন’ বা অতীত-সন্ধানী ক্ষমতা তুলে দেওয়ার মতো ঘটনা। আগে সম্পদের ক্ষেত্রে এমন বিধান ছিল। এখন ব্যয়ের ক্ষেত্রেও একই আইন করার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী।

অর্থবিলে যা আছে
এবারের অর্থবিলের ২১২ ধারার ৪(খ) উপধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তির এমন কোনো অপ্রদর্শিত আয়, ব্যাখ্যাহীন ব্যয় বা লুকানো সম্পদ থাকে, যা আয়কর আইনের সাধারণ ছয় বছরের ‘লুকব্যাক পিরিয়ড’ বা অতীত অনুসন্ধানের সীমারও পুরোনো, তবে আইনত ধরে নেওয়া হবে, ওই আয়, ব্যয় বা সম্পদ সেই ষষ্ঠ (সবচেয়ে পুরোনো সচল বছর) কর বছরেই সংঘটিত হয়েছে।

অর্থবিলে এই ধারা পাস হলে ছয় বছর আগেরও কোনো করযোগ্য ব্যয় পেলে কর কর্মকর্তা ওই ব্যয়কে পেছনের ষষ্ঠ বছরের ব্যয় হিসাবে গণনা করে ওই বছরের কর আইন অনুযায়ী কর ধার্য করবেন। এর পর টানা ছয় বছর তা অপরিশোধিত থাকায় বার্ষিক ১০ শতাংশ হারে জরিমানাসহ কর পরিশোধের নোটিশ দিতে পারবেন।

বিশেষজ্ঞ পর্যবেক্ষণ 
কর বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া এ পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে একটি উদাহরণ দিয়েছেন। তিনি জানান, যদি কোনো করদাতা আজ থেকে আট বছর আগে কোনো খাতে ১০ লাখ টাকা ব্যয় করে থাকেন, যা তখন তিনি আয়কর নথিতে দেখাননি, তাহলে বর্তমান আইনে কর কর্মকর্তা সেই ব্যয়টিকে ষষ্ঠ বছরের আয় হিসেবে গণ্য করে বর্তমান সময়ে করহারে কর আরোপ করতে পারবেন। ফলে আয়কর নথিতে জীবনযাপন সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের সঠিক তথ্য প্রদানই ভবিষ্যতে আপনাকে বড় ধরনের করভার থেকে বাঁচাতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

কোম্পানি-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তারা ভয় করছেন, বিশাল আকারের বাজেট বাস্তবায়নে বড় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে কর কর্মকর্তারা পুরোনো অনেক নথি চাইতে পারেন। এ নিয়ে হয়রানির স্বীকার হওয়ার শঙ্কার কথাও জানান তারা।

পেশাদার চার্টার্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং কর বিশেষজ্ঞ এমবিএম লুৎফুল হাদী মনে করেন, যারা আইন মেনে চলেন, তাদের এ বিধান নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তবে এটাও ঠিক, আগে সবার মধ্যে এ ধারণা বদ্ধমূল ছিল, ছয় বছর আগের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না। এ প্রস্তাব সে ধারণা ভেঙে দিয়েছে।

এই কর বিশেষজ্ঞ সমকালকে বলেন, ফৌজদারি অপরাধের বিচারের কোনো সময়সীমা থাকে না, এটা ঠিক। কিন্তু আর্থিক ক্ষেত্রে এর একটা সীমা থাকা উচিত।

প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো হবে 
শুধু আইনি বিধান করেই নয়, এ বিধান প্রয়োগের জন্য এনবিআরের সক্ষমতা বাড়ানো হবে। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্য ‘সেন্ট্রাল ডেটা ইন্টিগ্রেশন’ ব্যবস্থা চালুর কথা রয়েছে। বাজেট বক্তব্যে তিনি বলেন, সেন্ট্রাল ডেটা ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে এনবিআরের তথ্যভান্ডারকে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক, ইউটিলিটি সেবা এবং সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। ফলে এনবিআর চাইলে জানতে পারবে, করদাতা তার আয় বা ব্যয় বা সম্পদ-সম্পর্কিত কোনো তথ্য লুকাচ্ছে কিনা।

অর্থমন্ত্রী জানান, এ ডিজিটাল সংযোগের ফলে কর ফাঁকি রোধ করা এবং করদাতার প্রকৃত সম্পদ ও ব্যয়ের চিত্র বের করা সহজ হবে। এ ছাড়া কর ফাঁকি শনাক্ত করতে এনবিআর এখন থেকে ঝুঁকিভিত্তিক পদ্ধতি ব্যবহার করবে, যেখানে মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অডিট নির্বাচন করা হবে।

বাজেট বিশ্লেষণ স্বাস্থ্য বাজেটের ‘স্বাস্থ্য ভালো’ বাস্তবায়ন দুর্বল

প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে গেলবারের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বরাদ্দের ঘোষণা এসেছে। টাকার অঙ্কে তা ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি। উপজেলা হাসপাতালে শয্যা ও জনবল বাড়ানো, বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ, এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং জরুরি রোগী পরিবহনে হেলিকপ্টার সেবা চালুর মতো বেশ কয়েকটি বড় উদ্যোগের পরিকল্পনা করেছে সরকার।

তবে স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বরাদ্দ বাড়ানো যতটা গুরুত্বপূর্ণ, এর চেয়ে বেশি জরুরি সেই টাকা যথাযথভাবে খরচ করা। কারণ, বছরের পর বছর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় উন্নয়ন বাজেটের বড় অংশ খরচ করতে পারেনি। ফলে নতুন বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, এবার বরাদ্দের একটি টাকাও ফেরত না যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা, যা জিডিপির শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ ছিল। স্বাস্থ্য বাজেটে সরকারের অন্যতম বড় পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ৪৬২ উপজেলা সদর হাসপাতালকে ধাপে ধাপে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা পর্যায়ে শয্যা ও জনবল সংকটের কারণে রোগীকে জেলা শহর ও রাজধানীমুখী হতে হচ্ছে। শয্যা বাড়ানোর উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শুধু ভবন বা শয্যা বাড়ালেই হবে না। চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও সহায়ক কর্মী নিয়োগ নিশ্চিত না হলে এসব হাসপাতাল কার্যকরভাবে পরিচালনা সম্ভব নয়।

বন্ধ শিশু হাসপাতাল চালু হচ্ছে
প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লায় পাঁচটি শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি আটটি ক্যান্সার ইনস্টিটিউট, দুটি বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং ১৮টি এক হাজার শয্যার সাধারণ হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজধানীকেন্দ্রিক বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে। বর্তমানে ক্যান্সার চিকিৎসা, শিশুস্বাস্থ্য ও জটিল রোগ ব্যবস্থাপনায় ঢাকার ওপর নির্ভরতা অনেক বেশি।

এক লাখের বেশি জনবল নিয়োগ
প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী অর্থবছরে পাঁচ হাজার চিকিৎসক ও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। জনবল সংকটে থাকা স্বাস্থ্য খাতের জন্য এটি বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ প্রাইভেট নার্সিং ইনস্টিটিউট অ্যান্ড কলেজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং সাইক নার্সিং কলেজের চেয়ারম্যান আবু হাসনাত মো. ইয়াহিয়া বলেন, জনস্বাস্থ্যের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নিয়োগে সুষম বণ্টনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। শুধু চিকিৎসক, নার্স বা কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী নয়; অপটোমেট্রিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্ট, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট (ওটি), স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট (এসএলটি) এবং পুষ্টিবিদের জন্যও পর্যাপ্ত পদ সৃষ্টি করতে হবে।

পুরোনো সমস্যা: বরাদ্দ আছে, ব্যয় নেই
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, স্বাস্থ্য খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা বরাদ্দের পরিমাণ নয়, বরং সেই টাকা ব্যয়ের সক্ষমতা। তিনি বলেন, সংশোধিত বাজেটে যেন বরাদ্দ কমানো না হয় এবং বছর শেষে যেন দেখা যায়, বরাদ্দের পুরো টাকা ব্যয় হয়েছে। তাহলেই মানুষ বাজেট বাড়ার সুফল পাবে।

মাঝপথে বরাদ্দ কমার শঙ্কা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক বলেন, অভিজ্ঞতা বলছে, বরাদ্দ বাড়লেও যদি প্রকল্পগুলো সময়মতো বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে জনগণ প্রত্যাশিত সুফল পাবে না।

‘এক টাকাও ফেরত যাবে না’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরকারের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। এটি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার। তিনি বলেন, উপজেলার সব হাসপাতালে শয্যা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লায় পাঁচটি নতুন শিশু হাসপাতাল চালুর প্রস্তুতি চলছে। জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য আধুনিক অ্যাম্বুলেন্সের পাশাপাশি হেলিকপ্টার সেবাও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাজেটকে সম্ভাবনার আলোকবর্তিকা বলল জাপার একাংশ

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে সম্ভাবনার আলোকবর্তিকা এবং বাস্তবায়নের এক কঠিন পরীক্ষা বলে আখ্যা দিয়েছে জাতীয় পার্টির (জাপা) একাংশ। দলটির চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, বিদ্যমান কঠিন সময়কে মোকাবিলার লক্ষ্যে বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

আজ শনিবার গুলশানের বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে জাপার একাংশের চেয়ারম্যান প্রস্তাবিত বাজেটকে ঘাটতি ও ঋণ নির্ভরও বলেন। তিনি বলেছেন, বিনিয়োগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রতি গুরুত্ব রয়েছে। অন্যদিকে এর প্রধান দুর্বলতা রাজস্ব আহরণের অনিশ্চয়তা, বড় ঘাটতি, ঋণনির্ভর অর্থায়ন এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনার অস্পষ্টতা।

জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাপা ছেড়ে একই নামে পৃথক দল গঠন করা আনিসুল ইসলাম বলেছেন, সার্বিক বিবেচনায় এ বাজেট জনগণকে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু সেই স্বপ্ন কতটা বাস্তবে রূপ নেবে, তা নির্ভর করবে সরকারের দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর।

সংবাদ সম্মেলনের জাপার এই অংশের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের জন্য শুধু অর্থনৈতিক পরিকল্পনা যথেষ্ট নয়। সুশাসন, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

রুহুল আমিন বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জাতীয় পার্টির অনেক নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।  বিশ্বাস করতে চাই, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার অবিলম্বে মামলা ও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাপার পার্টির নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু, সিনিয়র কো- চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, মুসলিম লীগ সভাপতি মহসিন রশীদ, ইসলামিক মহাজোট চেয়ারম্যান আবু নাসের অহেদ ফারুক প্রমুখ।

বিএনপির ৮২ কমিটির ৭২টিই মেয়াদোত্তীর্ণ

জাতীয় নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করলেও সাংগঠনিক তৎপরতায় পিছিয়ে পড়ছে বিএনপি। সারাদেশে ৮২ কমিটির মধ্যে এখন ৭২টি মেয়াদোত্তীর্ণ। নীতিনির্ধারকরা ব্যস্ত রাষ্ট্র পরিচালনায়। জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ব্যস্ত এমপি-মন্ত্রীদের নিয়ে। লবিং-তদবিরেও ব্যস্ত অনেকে। শিগগির এ অবস্থা থেকে বের হতে না পারলে সামনে সরকার ও দলের জন্য কঠিন সময় তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

শুধু সাংগঠনিক ইউনিট কমিটি নয়; সারাদেশে বিএনপির থানা-উপজেলা এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিও এখন প্রায় নিষ্ক্রিয়। বরিশাল, খুলনা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের বেশ কয়েক নেতা জানান, দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি সাংগঠনিক তৎপরতায় ভাটা পড়েছে। এতে সরকার গঠনের সাড়ে তিন মাসের মাথায় রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন এক সময়ের ত্যাগী ও যোগ্য নেতারা।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমকালকে বলেন, মাত্র তো আমরা ক্ষমতায় এসেছি। একটু গুছিয়ে খুব শিগগিরই সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করা হবে।

জানা গেছে, সারাদেশে বিএনপির সাংগঠনিক ইউনিটগুলোর মধ্যে ৪৯টি আহ্বায়ক কমিটি এবং ৩১টিতে রয়েছে পূর্ণাঙ্গ কমিটি। এসব কমিটির মধ্যে মেয়াদ রয়েছে মাত্র ৮ জেলা ও মহানগর কমিটির। ৭২টি কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। কমিটি স্থগিত রয়েছে শেরপুর জেলা কমিটির। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে আরও আগে।

দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, প্রতিটি জেলা ও মহানগর কমিটির মেয়াদ দুই বছর। মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে কাউন্সিলে নতুন কমিটি গঠন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর মধ্যে ব্যর্থ হলে যুক্তিসংগত কারণ দেখিয়ে আরও তিন মাস সময় নিতে পারবে। এই সময়েও কমিটি গঠনে ব্যর্থ হলে পূর্ববর্তী কমিটি বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে। এরপর কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠনের শর্তে তিন মাসের জন্য আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে দেবে কেন্দ্র। যদি আহ্বায়ক কমিটিও ব্যর্থ হয়, সে ক্ষেত্রে কেন্দ্র কমিটি গঠন করে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।

বিএনপির নেতারা জানান, ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে দল ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি কাউন্সিল প্রক্রিয়াকে প্রাধান্য দিয়ে সারাদেশে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেন। এজন্য বেশির ভাগ জেলা কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। তিন মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে গঠন করা হয় আহ্বায়ক কমিটি। কিন্তু সেই সময় পেরিয়ে বছরের পর বছর পার হলেও নতুন কমিটি আর হয়নি।

গোপালগঞ্জ ও শরীয়তপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ২০১৭ সালের কমিটি দিয়েই চলছে। আহ্বায়ক কমিটির মতো অনেক জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটিও বছরের পর বছর মেয়াদহীন। ২০১৭ সালে গঠিত নড়াইল, কিশোরগঞ্জ ও কক্সবাজার জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ রয়ে গেছে। আবার ২০১৮ সালের পর কয়েকটি জেলায় কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠন হলেও বেশির ভাগেরই মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

ঢাকা ও ফরিদপুরে একটিরও মেয়াদ নেই
এ দুই বিভাগে বিএনপির সাংগঠনিক ইউনিট ১৭টি। একটিরও কমিটির মেয়াদ নেই। গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আফরোজা খানম রিতাকে আহ্বায়ক করে এবং অন্য ৬ জনকে সদস্য করে মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর প্রায় চার মাস পর মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আংশিক আহ্বায়ক কমিটিকে বর্ধিত করে ৬১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। সেটিও এখন মেয়াদোত্তীর্ণ।

গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ এ কমিটির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহা সম্প্রতি মৃত্যুবরণ করেছেন। অন্যদিকে সংগঠনের সদস্য সচিব মহিউদ্দিন আহমেদ দল থেকে বহিষ্কৃত। ঢাকা জেলা কমিটি গঠন করা হয় ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর। মেয়াদোত্তীর্ণ গুরুত্বপূর্ণ এই জেলা কমিটির কার্যক্রমও তেমন চলছে না। একইভাবে চলছে ২০২২ সালে গঠিত নরসিংদী জেলা আহ্বায়ক কমিটি।

চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় একটি ছাড়া সব মেয়াদোত্তীর্ণ
এ দুই বিভাগে ১৫টি সাংগঠনিক ইউনিট কমিটি রয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাদে সব জেলা কমিটিই মেয়াদহীন। ২০২২ সালে চাঁদপুর ও রাঙামাটিতে কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠন হলেও সেসবের মেয়াদ শেষ হয়েছে। ২০১৭ সালে কক্সবাজার জেলা কমিটির সভাপতি করা হয় শাহজাহান চৌধুরীকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয় শামীম আরা স্বপ্নাকে।

২০২৫ সালের ৯ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। তবে এ কমিটি গঠনের আগে কাউন্সিল করার একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোন্দলের কারণে তা হয়নি। পরে তারেক রহমান বর্তমান কমিটির ঘোষণা দেন।

অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সংঘর্ষের জেরে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি বিলুপ্ত করা হলেও এখন পর্যন্ত নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। ২০২০ সালের ২২ ডিসেম্বর গোলাম আকবর খন্দকারকে আহ্বায়ক করে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির ৪৪ সদস্যের ওই আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। কোন্দলের কারণে এই জেলা কমিটি ২০১৪ সালের মার্চের পর আর কখনও পূর্ণাঙ্গ হতে পারেনি।

রাজশাহী ও খুলনায় ৭টির মেয়াদ নেই
রাজশাহী বিভাগে ৯টি সাংগঠনিক ইউনিটের ২টি জেলা বাদে সবই মেয়াদোত্তীর্ণ। রাজশাহী বিভাগের ৯টি সাংগঠনিক ইউনিটের মেয়াদ নেই একটিরও। ২০১৯ সালের ৮ মে রুমানা মাহমুদকে সভাপতি এবং সাইদুর রহমান বাচ্চুকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ এই কমিটি পুনর্গঠনের জন্য গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি আমিরুল ইসলাম আলীমকে আহ্বায়ক করে ১৮ সদস্যবিশিষ্ট সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে বেশ কয়েকজন বিতর্কিতকে অন্তর্ভুক্ত করায় তখন তৃণমূলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। প্রায় দেড় বছর সময় পার হলেও কাউন্সিল আয়োজনের লক্ষণ দেখা যায়নি।

খুলনা বিভাগের ১১টি জেলার মধ্যে গত বছর যশোর ও খুলনা মহানগর কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এর আগের বছর ২০২৪ সালের ২৩ নভেম্বর চুয়াডাঙ্গা জেলা কমিটির কাউন্সিলে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। এর বাইরে অন্য সব জেলা কমিটি রয়েছে মেয়াদের বাইরে।

বরিশালে সংগঠনের অবস্থা নড়বড়ে
৮টি সাংগঠনিক ইউনিট কমিটির মধ্যে একমাত্র পটুয়াখালী জেলার মেয়াদ রয়েছে। গত বছরের ৩ জুলাই এই জেলাতে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন কমিটি স্থগিতের পর গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ডিসেম্বরে জেলায় ৬টি উপজেলা, ৪টি পৌর কমিটি, প্রতিটি পৌরসভায় ৯টি; মোট ৩৬টি ওয়ার্ড কমিটি; ৪২টি ইউনিয়ন কমিটি ও প্রতিটি ইউনিয়নে ৯টি; ৩৭৮টি ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। ৬ মাসের অধিক সময় পার হলেও তৃণমূলের এসব কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।

জেলা সদস্য সচিব হুমায়ুন হাসান শাহীন বলেন, কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা পেলেই সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করা হবে। ঝালকাঠি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ২০২০ সাল থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাকি জেলা কমিটিও আছে আহ্বায়ক কমিটির ব্যানারে।

রংপুর ও সিলেটের অবস্থাও ভালো নয়
রংপুর বিভাগে ১০টি এবং সিলেট বিভাগে ৫টি সাংগঠনিক ইউনিট। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও জেলা কমিটি গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠিত হয়। এর বাইরে ২০২২ সালে দিনাজপুর, ২০২৩ সালে সৈয়দপুর জেলা বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এসব জেলা কমিটির মেয়াদও শেষ হয়েছে।

সিলেট বিভাগের মধ্যে ২০২৪ সালের নভেম্বরে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ এই কমিটি এখন পর্যন্ত কাউন্সিলের প্রস্তুতিমূলক কোনো কাজ শেষ করতে পারেনি। ২০১৯ সালের ২৪ এপ্রিল হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়, সেটিই চলছে। ২০২২ ও ২৩ সালে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। ওইসব জেলা কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে।

ময়মনসিংহের মেয়াদ আছে দুটির 
এ বিভাগে ৬টি সাংগঠনিক ইউনিট। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণার মধ্যেই শেরপুর জেলা বিএনপির ৪১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি স্থগিত করা হয়। এর আগে ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় সংঘাত-সংঘর্ষের জের ধরে ওই কমিটি স্থগিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যক্রম শুরুর অনুমতি পায়নি। এই বিভাগে গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর ও ৩১ সেপ্টেম্বর জামালপুর ও নেত্রকোনা জেলা বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এই দুই জেলা ছাড়া আর কোনো জেলা কমিটির মেয়াদ নেই।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় যৌন হয়রানির অভিযোগ দিয়েও সাড়া মেলে না যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল সম্পর্কে জানেন না শিক্ষার্থীরা

প্রথম বর্ষ ভালোভাবে শেষ করলেও দ্বিতীয় বর্ষে এসে বিড়ম্বনার মুখে পড়েন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী পুতুল (ছদ্মনাম)। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ জেলার এক শিক্ষার্থীর দ্বারা তিনি নিয়মিত হয়রানির শিকার হন। একপর্যায়ে মোবাইল নম্বর বদলাতেও বাধ্য হন পুতুল। এতেও কোনো সুরাহা না হলে পরে বিভাগীয় সিনিয়রদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। যদিও এর মধ্যে দীর্ঘ সময় আতঙ্কে কেটেছে পুতুলের।

এ ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ওই ছেলে আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে দীর্ঘদিন বিরক্ত করত। টিউশনিতে যাওয়ার পথে আমার পিছু নিত।
হলের পাশেও দাঁড়িয়ে থাকত। দীর্ঘদিন আমাকে এসব ভোগান্তির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। নিজের সম্মান রক্ষায় প্রকাশ্যে কারও কাছে অভিযোগও করতে পারিনি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিপীড়নবিরোধী সেলে অভিযোগ করেছেন কি না জানতে চাইলে পুতুল বলেন, ‘নিপীড়নবিরোধী সেল আছে, সেটাই তো জানতাম না। কখনও কেউ বলেনি। এ বিষয়ে কোনো প্রচারণাও দেখিনি।’

পুতুলের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীই লোকলজ্জার ভয়ে এ ধরনের হয়রানি নীরবে সহ্য করেন। তারা নিপীড়নবিরোধী সেল নিয়ে জানেন না। ফলে অনেক ঘটনাই থেকে যায় আড়ালে।

অভিযোগ বাক্স খোলাই হয় না
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলে সাতজন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে চারজন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং একজন রেজিস্ট্রার অফিসের প্রতিনিধি রয়েছেন। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ‘রফিক ভবন, উপাচার্য ভবনসহ কয়েকটি স্থানে অভিযোগ বাক্স থাকলেও সেগুলো নিয়মিত খোলা হয় না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আদিবা নাওমি বলেন, ‘এই সেল সম্পর্কে খুব কম শিক্ষার্থীই জানে। আমিও জানতাম না। অনেক আগে আমার এক সিনিয়র আপু বাক্সে অভিযোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু সেটার কোনো সাড়া নাকি পাওয়া যায়নি।’

শিক্ষার্থীদের এই অভিযোগ নিয়ে দ্বিমত জানিয়ে সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক পারভীন আক্তার জেমি সমকালকে বলেন, ‘২০২৫ সালের শুরুতে আমি এর দায়িত্ব নেই। অভিযোগ বাক্স দীর্ঘদিন খোলা হয়নি- এমন অভিযোগ পুরোপুরি সত্য নয়। তবে বাক্সের চাবি ছাত্রকল্যাণ দপ্তর বা রেজিস্ট্রার অফিসের কাছে থাকায় কিছুটা সময় লাগতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি আয়োজিত কর্মশালার লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করা। ইতোমধ্যে কয়েকটি অভিযোগ জমা পড়েছে। সেগুলোর তদন্ত চলমান।’

জকসুর উদ্যোগও শূন্য
জকসু নির্বাচনের আগে বিজয়ী প্যানেলের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলা। নির্বাচনের পাঁচ মাস পরও নারী শিক্ষার্থীবান্ধব সেমিনার এবং নিপীড়নবিরোধী উদ্যোগ দেখা যায়নি।

তবে সামনে বেশকিছু পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান ওই প্যানেল থেকে নির্বাচিত সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘খুব শিগগিরই একটি অ্যাপভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম চালু করা হবে, যার মাধ্যমে পুরান ঢাকার শিক্ষার্থীরা কোনো সমস্যায় পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ জানাতে পারবেন। প্ল্যাটফর্মটি সংশ্লিষ্ট থানা ও প্রয়োজনীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।’

উপাচার্য যা বললেন 
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন সমকালকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিটি বিভাগে অ্যান্টি-হ্যারাসমেন্ট অভিযোগ বাক্স বসানো হয়েছে। এসব বাক্সে জমা পড়া অভিযোগ প্রতি মাসে সংশ্লিষ্ট ডিন অফিসে পাঠানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স।’