Home Blog Page 8

স্কুলে ভর্তি হলো ব্রিটিশ রাজপুত্র, বছরে ফি ১ কোটি টাকার বেশি

ব্রিটিশ রাজপুত্র জর্জ (১৩) মঙ্গলবার থেকে মর্যাদাপূর্ণ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইটন কলেজে পড়াশোনা শুরু করেছে। প্রথমদিনে বাবা প্রিন্স উইলিয়াম ও মা ক্যাথরিন তাকে স্কুলে পৌঁছে দেন।

হালকা বৃষ্টির মধ্যে রাজ পরিবারের সদস্যরা বিশ্বখ্যাত স্কুলটিতে পৌঁছালে তাদের স্বাগত জানান প্রধান শিক্ষক সাইমন হেন্ডারসন। ভবিষ্যতের রাজাকে (জর্জ) উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘স্বাগতম, শুভকামনা। উপভোগ করো।’

বাবা উইলিয়ামের পর ব্রিটিশ সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হবে জর্জ। ইটন কলেজে সে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করবে। এজন্য বছরে ৮৫ হাজার ডলার বা ১ কোটি চার লাখ টাকার বেশি ফি দিতে হবে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইটন কলেজ থেকে পারিবারিক আবাসস্থল (পশ্চিম লন্ডনের উইন্ডসর) কয়েক কিলোমিটার দূরে হলেও জর্জ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির আবাসিক ছাত্র হিসেবে থাকবে। এর মধ্যে দিয়ে সে বাবা উইলিয়াম ও চাচা প্রিন্স হ্যারির পথ অনুসরণ করছে। তারা দুজনই বার্কশায়ার কাউন্টিতে অবস্থিত এই কলেজে পড়াশোনা করেছেন।

যুক্তরাজ্যের অন্তত ২০ জন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল ইটন। তাদের মধ্যে আছেন বরিস জনসন ও ডেভিড ক্যামেরন। এছাড়া অভিনেতা টম হিডলস্টন থেকে শুরু করে জেমস বন্ড চরিত্রের স্রষ্টা ইয়ান ফ্লেমিংও এই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছিলেন।

ব্রিটেনে দীর্ঘদিন ধরে কলেজটি অভিজাততন্ত্র ও শ্রেণিবৈষম্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। ১৪৪০ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন রাজা ষষ্ঠ হেনরি। এখানে মূলত ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সীরা পড়াশোনা করে। ওয়েবসাইট অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার ৩৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়।

পড়ালেখার মাঝপথেই আফগান মেডিকেল শিক্ষার্থীদের পাকিস্তান ছাড়ার নির্দেশ

পাকিস্তানে মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা আফগান শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির চিকিৎসা শিক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা পাকিস্তান মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (পিএমডিসি)। একই সঙ্গে পাকিস্তানের মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে নতুন করে আফগান শিক্ষার্থী ভর্তি, এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর ও মাইগ্রেশন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ করা হয়েছে।

পিএমডিসির এই নির্দেশের কারণে পাকিস্তানে পড়াশোনা করা আফগান শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যারা কয়েক বছর ধরে মেডিকেল শিক্ষার মাঝপথে রয়েছেন, তাদের পড়াশোনা শেষ না করেই দেশে ফিরতে হতে পারে।

পাকিস্তানের সরকারি ও বেসরকারি- দুই ধরনের মেডিকেল ও ডেন্টাল প্রতিষ্ঠানের জন্যই এ নির্দেশ প্রযোজ্য। গত ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে পিএমডিসি জানায়, পাকিস্তানে আগে থেকে ভর্তি থাকা আফগান নাগরিকদের আফগানিস্তানে ফিরে যেতে হবে। এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা, অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

আফগান শিক্ষার্থীদের তথ্যও পিএমডিসির কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। যারা ইতিমধ্যে পড়াশোনা শেষ করেছেন, তাদের স্নাতক হওয়ার তথ্য এবং পাকিস্তান ছাড়ার বিষয়টিও নথিভুক্ত ও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

পড়াশোনার মাঝপথে অনিশ্চয়তা
পিএমডিসির নির্দেশের প্রভাব এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দেখা যাচ্ছে। লাহোরের কিং এডওয়ার্ড মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে (কেইএমইউ) ২২ জন আফগান নাগরিক এ নির্দেশের আওতায় পড়েছেন। তাদের মধ্যে ২০ জন এমবিবিএস পড়ছেন। তারা দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ছয়জন শেষ বর্ষে রয়েছেন। অন্য দুজন সম্প্রতি পড়াশোনা শেষ করেছেন।

ফলে কয়েক বছর ধরে পাকিস্তানে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ ডিগ্রি শেষ করার আগেই পড়াশোনা বন্ধ করে দেশে ফিরতে বাধ্য হতে পারেন।

এর আগে চলতি মাসেই আফগানিস্তানের মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া ডিগ্রি পাকিস্তানে নিবন্ধন, লাইসেন্স বা পেশাগত কাজে স্বীকৃতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পিএমডিসি। সংস্থাটি জানায়, আফগানিস্তানের মেডিকেল ও ডেন্টাল প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের স্বীকৃত বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নেই।

দুটি সিদ্ধান্তের ফলে পাকিস্তানে মেডিকেল শিক্ষায় যুক্ত আফগানদের ভর্তি থেকে শুরু করে পড়াশোনার মাঝপথ এবং ডিগ্রি শেষ করার পর পেশাগতভাবে কাজ করার ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্পর্কে টানাপোড়েন
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে বেশ উত্তেজনাপূর্ণ। ইসলামাবাদ বারবার অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানসহ (টিটিপি) বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী পাকিস্তানে তৎপরতা চালাচ্ছে। তবে কাবুল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা ও গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে। এর প্রভাব পাকিস্তানে থাকা আফগান নাগরিকদের জীবনযাপন, পড়াশোনা ও কাজের ওপরও পড়ছে।

এদিকে আফগান মেডিকেল শিক্ষার্থীদের বিষয়ে সর্বশেষ সিদ্ধান্তের নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেনি পিএমডিসি। সংস্থাটি শুধু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীতিগত নির্দেশনা ও জাতীয় নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেছে।

বিপত্তি ছাড়া একীভূত পাঁচ ব্যাংকের অর্থ ফেরত শুরু

দুর্দশাগ্রস্ত পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু করেছে। অর্থ ফেরতের প্রথম দিন গতকাল সােমবার ৬ হাজার আবেদনের বিপরীতে ২৫০ কােটি টাকা উত্তোলন হয়। এ ছাড়া ফুল ও মিষ্টি দিয়ে গ্রাহকদের বরণ করা হয়। ঘোষিত স্কিমের বাইরে ব্যক্তি আমানতকারীদের আবেদনের ভিত্তিতে টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। প্রথম দিনে কোনো বিপত্তির খবর শোনা যায়নি।
ব্যক্তি আমানতকারীর প্রয়োজনীয় অর্থ ফেরত দিতে গত ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদনের সময় ছিল। চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের বাইরে মেয়াদি আমানতের টাকাও উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে কেউ মেয়াদি আমানতের পুরো অর্থ একবারে তুলে নিলে কোনো মুনাফা দেওয়া হবে না। এসব শর্তের আলোকে মোট ৭৪ হাজার ২২১ আবেদনের বিপরীতে তিন হাজার ৯২৫ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন জমা হয়।

আবেদন গ্রহণের প্রথম দিন গত ১ সেপ্টেম্বর ১৮ হাজার ৪৬ আবেদনের বিপরীতে এক হাজার ৩২৯ কোটি টাকা উত্তোলনের চাহিদা দেওয়া হয়। দ্বিতীয় দিনে ১৯ হাজার ৬১৩ আবেদনের বিপরীতে এক হাজার ১৬ কোটি, তৃতীয় দিন ২১ হাজার ৮৬টি আবেদনের বিপরীতে ৯২৩ কোটি এবং শেষ দিন রোববার ১৫ হাজার ৪৭৬টি আবেদনের বিপরীতে ৬৫৭ কোটি টাকা উত্তোলন করতে চাওয়া হয়।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, যারা ১ সেপ্টেম্বর আবেদন করেছিলেন গতকাল তাদের আসতে বলা হয়। তবে আবেদনকারীদের একটি অংশ আসেননি। কেউ কেউ জানিয়েছেন, আপাতত তারা টাকা তুলবেন না। মেয়াদি আমানতে মুনাফা দেওয়া হবে না এবং অর্থ ফেরত পেতে সমস্যা হবে না– এমন তথ্য পেয়ে তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সমকালকে বলেন, চাহিদা অনুযায়ী টাকা ফেরত দিতে পারছে এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই হয়তো আস্থার কারণে টাকা তুলবে না। আবার একবারে কেউ মেয়াদি আমানতের টাকা তুলে নিলে মুনাফা পাবে না।

আমানত ফেরত দিতে যাতে সমস্যা না হয়, সে জন্য গত রোববার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ধার দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। টাকা ছাপিয়ে দেওয়ায় মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব পড়বে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতিতে হয়তো খুব সামান্য প্রভাব পড়তে পারে। টাকা তুলতে না পেরে গ্রাহকের আর্তনাদ বিবেচনায় তা অনেক কম। আবার ব্যক্তি পর্যায়ের এসব আমানতকারী টাকা তুলে একবারে খরচ করে ফেলবে না। বড় অংশ ব্যাংকেই ফিরে আসবে। হয় এসব বিবেচনা করে ব্যাংকটিকে বিশেষ ধার দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ দিন ধরে আমানতকারীর জমানো টাকা ফেরত দিতে না পারায় অন্তর্বর্তী সরকার এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে। ব্যাংক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এসব ব্যাংকের অবস্থা খারাপ হয়। এক্সিম ব্যাংক ছিল নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে। বাকি চার ব্যাংক ছিল বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের কর্তৃত্বে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়া হবে। এর বাইরে আমানত বীমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা দিয়ে এসব ব্যাংকের আমানতকারীদের দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পুরো অর্থ পর্যায়ক্রমে ফেরতের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি স্কিম ঘোষণা করেছে। ওই স্কিমের বাইরে ব্যক্তি আমানতকারীদের থেকে আবেদন নিয়ে এখন অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সমস্যাগ্রস্ত এই পাঁচ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংক এর আগে বিভিন্ন সময়ে মোট ৪৭ হাজার ৮৪ কোটি টাকার বিশেষ ধার দিয়েছে। সুদসহ এখন পাওনা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা। আমানতকারীদের আস্থা ফেরাতে নতুন করে আরও পাঁচ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে ৫০ শতাংশ কোটা কমাল সরকার ন্যূনতম রপ্তানিমূল্য প্রতি কেজি ১.৬০ মার্কিন ডলার

দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বাজারে সম্ভাব্য মূল্যচাপ নিয়ন্ত্রণে সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে আগে অনুমোদিত ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ করা সুগন্ধি চাল রপ্তানির পরিমাণ অর্ধেকে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশোধিত বরাদ্দ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং অনুমোদনের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বহাল থাকবে।

সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে বৃহৎ খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে মাঝারি ও ক্ষুদ্র পর্যায়ের রপ্তানিকারকরাও আগের অনুমোদিত পরিমাণের অর্ধেকের বেশি সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পারবেন না।

রপ্তানিতে যুক্ত হচ্ছে ১০টি বাধ্যতামূলক শর্ত
কোটা কমানোর পাশাপাশি রপ্তানি কার্যক্রমে নজরদারি, জবাবদিহি ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ১০টি শর্ত আরোপ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. রপ্তানি নীতি ২০২৪–২৭-এর বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
২. সংশ্লিষ্ট অনুমোদন ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
৩. প্রতিটি চালান রপ্তানির আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যের মান ও সত্যতা যাচাই করবে।
৪. প্রতিটি কনসাইনমেন্ট জাহাজীকরণের পর সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখায় জমা দিতে হবে।
৫. ভবিষ্যতে নতুন রপ্তানি অনুমোদনের আবেদন করলে আগের অনুমোদিত কোটার বিপরীতে প্রকৃত রপ্তানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রমাণ দিতে হবে।
৬. কোনো অবস্থাতেই সংশোধিত অনুমোদিত পরিমাণের বেশি চাল রপ্তানি করা যাবে না।
৭. আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য সুরক্ষায় প্রতি কেজি সর্বনিম্ন FOB রপ্তানিমূল্য ১.৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
৮. অনুমোদন সম্পূর্ণ অহস্তান্তরযোগ্য; সাব-কন্ট্রাক্ট বা অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রপ্তানি করা যাবে না।
৯. জনস্বার্থে সরকার যেকোনো সময় কারণ দর্শানো ছাড়াই অনুমোদন বাতিল করতে পারবে।
১০. রপ্তানি আয় দেশে প্রত্যাবাসনের প্রমাণ হিসেবে PRC (Proceeds Realization Certificate) দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এর আগে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৪৫ হাজার ২শত ৭০ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ১২৯টি প্রতিষ্ঠান মোট ২ হাজার ৪ শত ১৯ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে সক্ষম হয়।

সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো, রপ্তানি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হলেও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ বাজারের সরবরাহ ও মূল্যস্থিতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সেই বিবেচনায় সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমানো এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে মূল্য, পরিমাণ, নথিপত্র ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসনসংক্রান্ত কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় রপ্তানিকারকদের অনুমোদিত সীমার মধ্যে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে এবং ভবিষ্যৎ অনুমোদনের ক্ষেত্রে আগের রপ্তানি-কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ হিসাব দিতে হবে। এর ফলে সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে একদিকে যেমন নিয়ন্ত্রণ বাড়বে, অন্যদিকে রপ্তানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও বাড়বে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

সরকারের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করা নয়; বরং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতা বজায় রেখে নিয়ন্ত্রিত ও টেকসইভাবে সুগন্ধি চাল রপ্তানি পরিচালনা করা।

ইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলার নিন্দা এনসিপি নেতাদের দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি

ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। হামলার ঘটনায় তার প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বলেন, ইতালির ভেনিসের একটি পার্কে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা বাঁধনের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করেছে। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ যে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থাকে প্রত্যাখ্যান করেছে, এ হামলা সেই পরাজিত ও নিষিদ্ধ রাজনৈতিক শক্তির পুরোনো সন্ত্রাসী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ।

তিনি আরও বলেন, ‘আজমেরী হক বাঁধন জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনে সাহসের সঙ্গে রাজপথে ছিলেন। দেশের মানুষের অধিকার ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশের দাবিতে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন। সেই মানুষটির ওপর হামলা প্রমাণ করে, পরাজিত সন্ত্রাসী শক্তি এখনো প্রতিশোধ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের রাজনীতি থেকে বের হতে পারেনি। হামলা করে, ভয় দেখিয়ে কিংবা সহিংসতা চালিয়ে অরাজকতা করে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে দমিয়ে রাখা যাবে না। ইতালির মাটিতে বাংলাদেশের একজন নাগরিকের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দেশটির প্রচলিত আইনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাসকে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে। আজমেরী হক বাঁধনের প্রতি আমাদের পূর্ণ সংহতি। জুলাইয়ের সহযোদ্ধাদের ওপর যেকোনো হামলার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট।’

‘আমরা আপনাকে নিয়ে গর্বিত’
অন্যদিকে, অভিনেত্রী বাঁধনকে নিয়ে গর্ব প্রকাশ করে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম তার পোস্টে বলেন, দেশের মানুষকে স্বৈরাচারমুক্ত করার লড়াইয়ে এই অভিনেত্রীর সাহসী ভূমিকা প্রশংসনীয়।

তিনি বলেন, ‘আজমেরী হক বাঁধন, আমরা আপনাকে নিয়ে গর্বিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘‘যারা আপনাকে আক্রমণ করেছে, তাদেরকে আপনি ‘বাঙালি ভাই’ হিসেবে সম্বোধন করেছেন। তারা যতটা না বাঙালি ভাই, তার চেয়ে বেশি খুনিদের দালাল, বিবেকবোধ বিক্রি করে দেওয়া একেকটা নরপশু। খুনি হাসিনা যদি ওই চৌদ্দ শ’ মানুষের মতো তাদের সন্তানদের, ভাইদের খুন করত, তারপরও তারা খুনি হাসিনার দালালি করত, পা চাটত। এদের শুধু মানুষের মতো একটা দেহ আছে, মনুষ্যত্ব পচে গিয়েছে। এদের থেকে আপনি এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করবেন না। এসবের জন্য বিন্দুমাত্র কষ্ট পাবেন না। নরপশুদের থেকে এর চেয়ে ভালো আর কী প্রত্যাশা করা যায়?’’

শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে জুলাই যোদ্ধারা অপেক্ষা করছে: হুইপ দুলু

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে এলে জুলাই আন্দোলনে আহত ও নির্যাতিতরা তাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, তাকে স্বাগত জানানোর জন্য এ দেশের পঙ্গু ও চক্ষু হারানো জুলাই যোদ্ধারা অপেক্ষা করছে।

মঙ্গলবার বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সংগঠনটির সভাপতি হুমায়ুন কবির বেপারীর সভাপতিত্ব করেন।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে দুলু বলেন, ‘সম্প্রতি তার এক বক্তব্যে শুনলাম, তিনি ডিসেম্বরে বাংলাদেশে আসবেন। আসার কথা বলে তিনি মূলত দেশবাসীকে ভয় দেখাতে চান। তার বোঝা উচিত, দেশের মানুষ ভয় পায় না। বরং তাকে স্বাগত জানানোর জন্য এ দেশের পঙ্গু ও চক্ষু হারানো জুলাই যোদ্ধারা অপেক্ষা করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তিনি সোনা মসজিদ বর্ডার দিয়ে আসুন, এয়ারপোর্ট দিয়ে আসুন অথবা বেনাপোল দিয়ে আসুন—তাকে স্বাগত জানানোর জন্য নির্যাতিত-নিপীড়িতরা প্রস্তুত থাকবে।’

দুলু দাবি করেন, দীর্ঘদিনের শাসনে দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে অসংখ্য মানুষ খুন ও গুমের শিকার হয়েছেন এবং অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

দেশের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়েও কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এসব সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তবে এ সংকট একদিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘ ১৮ বছরের শাসনামলে ধীরে ধীরে এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। ফলে তিন বা ছয় মাসের মধ্যে এর সমাধান সম্ভব নয়; এজন্য সময় প্রয়োজন।

বিরোধী দলের উদ্দেশে দুলু বলেন, আন্দোলন-সংগ্রাম করে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এসব সমস্যা সমাধানে সুপরামর্শ প্রয়োজন। তিনি বিরোধী দলের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করেন।

বিএনপির গুরুত্ব তুলে ধরে দুলু বলেন, বিএনপি না থাকলে তিনি দুলু হয়ে উঠতে পারতেন না। সম্মান, পরিচিতি, হুইপ ও মন্ত্রী হওয়ার পেছনে বিএনপির অবদান রয়েছে। বিএনপির বয়স ৪৮ বছর এবং আমার রাজনীতির বয়সও ৪৮ বছর উল্লেখ করে দলটিকে ‘বটবৃক্ষ’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের অবদান শ্রেষ্ঠতম। এ অবদানের জন্য তিনি জিয়াউর রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবুল আহমেদ এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কাজী রফিক। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন লেখক ও সাংবাদিক কালাম ফয়েজী, মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সভাপতি সৈয়দ মোজাম্মেল হোসেন শাহিন, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবির, ইঞ্জিনিয়ার শোয়েব কোরেশী ও এসএম কমর উদ্দিন।

সভা শেষে লেখক কালাম ফয়েজী তার লেখা ‘বীর রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান’ গ্রন্থটি প্রধান অতিথি রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর হাতে তুলে দেন।

আপিল বিভাগে কী ঘটেছিল, জানালেন অ্যাটর্নি জেনারেল

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের বক্তব্যের একপর্যায়ে এজলাস ত্যাগ করেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীসহ আপিল বিভাগের চার বিচারপতি। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।

প্রধান বিচারপতি কেন এজলাস ত্যাগ করেন এবং ওই সময় আদালতে কী ঘটেছিল, তা সাংবাদিকদের কাছে ব্যাখ্যা করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

ঘটনার সূত্রপাত হওয়া মামলার বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ২০১৩ সালে একজন কাজি নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিষয়টির সূত্রপাত। ওই ঘটনায় একই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে মামলার বাদী পাঁচটি রিট করেন। তবে আগের রিট খারিজের আদেশ পরবর্তী রিটে উল্লেখ করা হয়নি। এ কারণে মঙ্গলবার সকালে আপিল বিভাগ ওই রিটের এক নারী আইনজীবীকে পাঁচ লাখ টাকা এবং রিট আবেদনকারীকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেন। এই অর্থ সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ওই মামলায় সিনিয়র আইনজীবী ছিলেন এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। সকালে যখন আদেশ দেওয়া হয়, তখন নারী আইনজীবী তাঁর পাশে বসে আদেশ শুনেছেন। তবে ওই সময় মাহবুব উদ্দিন খোকন আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, সকাল সোয়া ৯টার দিকে ওই মামলার আদেশ হয়। পরে দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটের দিকে অন্য একটি মামলার শুনানির সময় মাহবুব উদ্দিন খোকন ওই মামলায় জরিমানা আরোপের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘একজন আইনজীবীকে আপনারা ফাইন করেছেন।’

এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, আদালত সবকিছু পর্যালোচনা করেই আদেশ দিয়েছেন এবং সেই আদেশ পরিবর্তন করা হবে না। আদালতের মতে, মামলায় ‘সিরিয়াস ফ্রড’ বা গুরুতর প্রতারণা করা হয়েছে। এমনকি আপিল বিভাগের আগের আদেশও গোপন করা হয়েছে বলে আদালত মনে করেছে।

অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় প্রধান বিচারপতি মাহবুব উদ্দিন খোকনকে এ বিষয়ে আর কথা না বলতে বলেন। এরপর খোকন মন্তব্য করেন, ‘আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরে আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে।’

রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, প্রথমে বিষয়টি প্রধান বিচারপতি কিছুটা হালকাভাবে নেন। পরে তিনি খোকনের কাছে জানতে চান, তিনি কি সত্যিই এমনটা বোঝাতে চেয়েছেন। খোকন একই বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করলে প্রধান বিচারপতি বলেন, তাঁর এ বক্তব্য ‘অ্যাবসলিউটলি আদালত অবমাননার শামিল’। এরপর তিনি বলেন, এত বড় কথা বলার পর তিনি আর ওই দিনের আদালতের কার্যক্রমে অংশ নেবেন না।

এ কথা বলেই প্রধান বিচারপতি এজলাস ত্যাগ করেন বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল। পরে তাঁর সঙ্গে আপিল বিভাগের আরও তিন বিচারপতিও এজলাস ছেড়ে যান।

এ ঘটনার বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতিই আইনজীবীদের অভিভাবক। আদালতে আইনজীবী ও বিচারপতিদের মধ্যে কোনো কোনো সময় ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে। এমনকি বিচারপতিরা কখনো কখনো আইনজীবীদের বকাঝকাও করেন। তবে এসব বিষয় আদালতের কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।

তিনি বলেন, ‘আমরা যখন রাষ্ট্রের প্রতি, সমাজের প্রতি এবং জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালন করব, তখন এই দায়িত্ববোধ আমাদের সবার মধ্যে থাকা উচিত।’

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা ও আওতা বাড়িয়েছে সরকার: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

দেশের অসহায়, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অর্থ বণ্টনে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।

আজ জাতীয় সংসদে নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ সব তথ্য উপস্থাপন করেন।

মন্ত্রী জানান, প্রকৃত দুস্থদের নির্বাচনে চরম স্বচ্ছতা আনতে জাতীয় পরিচয়পত্রের কেন্দ্রীয় ডাটাবেজের সঙ্গে উপকারভোগীদের সার্বিক তথ্য যাচাই-বাছাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে করে কোনো অযোগ্য ব্যক্তি রাজনৈতিক বা ব্যক্তিস্বার্থে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার আওতায় আসার সুযোগ বন্ধ হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রথাগত ম্যানুয়াল পদ্ধতির অবসান ঘটিয়ে এখন অনলাইনে সরাসরি আবেদন গ্রহণ এবং ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে উন্মুক্ত যাচাই-বাছাই কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের তালিকা প্রস্তুত ও হালনাগাদ করা হচ্ছে।

সরকারি অনুদান মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়া সরাসরি প্রকৃত উপকারভোগীর হাতে পৌঁছে দিতে ‘জিটুপি’ (জিটুপি-গভমেন্ট টু পারসন) পদ্ধতি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এর মাধ্যমে সরকারি অনুদান সরাসরি সুফলভোগীর নিজ ব্যাংক হিসাব কিংবা পছন্দসই মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছে। ফলে ডিজিটাল বাংলাদেশ ব্যবস্থার সুবাদে মধ্যস্বত্বভোগীদের অবৈধ দৌরাত্ম্য ও কমিশন বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে।’

সংসদে মন্ত্রী জানান, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাজেট, ভাতার পরিমাণ এবং উপকারভোগী—তিনটিরই পরিধি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে।

এ অর্থবছরে বয়স্ক ভাতার মাসিক হার ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে এবং উপকারভোগীর সংখ্যা ৬১ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৬২ লাখ করা হয়েছে।

একইভাবে বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতার মাসিক হার ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা এবং উপকারভোগীর সংখ্যা ২৯ লাখ থেকে ৩০ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী ভাতার হারও বৃদ্ধি পেয়ে মাসিক ৯০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে; যেখানে উপকারভোগীর সংখ্যা ৩৪ লাখ ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩৮ লাখে উন্নীত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তির হার ও পরিসর উভয়ই বাড়ানো হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রাথমিক স্তরে মাসিক ১ হাজার টাকা, মাধ্যমিক স্তরে ১ হাজার ১০০ টাকা, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং উচ্চতর বা বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে ১ হাজার ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ উপবৃত্তির সুফলভোগী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮১ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখে উন্নীত করা হয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আরও জানান, ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইসিস, জটিল হৃদরোগ, লিউকেমিয়া ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত সংকটাপন্ন রোগীদের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৬০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৬৫ হাজার করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ কর্মসূচির আওতায় এককালীন জরুরি চিকিৎসা সহায়তার পরিমাণ রোগীপ্রতি ৫০ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে।

ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বাত্মক প্রয়োগ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুষম সম্প্রসারণ এবং উপকারভোগী নির্বাচনে নিবিড় তদারকির মাধ্যমে রাষ্ট্রের সকল সুবিধা সরাসরি প্রকৃত দুস্থ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন রাষ্ট্রপতি

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে তিনি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে ঠাকুরগাঁওসহ আশপাশের জেলার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বহুগুণ বাড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটিই তার প্রথম সরকারি সফর। দুই দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

এর আগে রোববার দুপুরে দুই দিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁওয়ের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তাকে স্বাগত জানানো হয় এবং সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

সার্কিট হাউসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি তার মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেন তিনি।

স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের চাহিদার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই জেলা অনেকটাই অবহেলিত। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের জন্য উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাওয়া হবে। তিনি জানান, এরই মধ্যে জেলায় মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। বিমানবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কর্মসংস্থান সৃষ্টি জরুরি। বেকারত্ব দূর করতে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি। তরুণদের শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, হানাহানি ও সংঘর্ষ নয়; বরং আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র যাতে বজায় থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে বাইক নিয়ে ঢুকে পড়া যুবককে ঘিরে রহস্য

রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় গত শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহরের নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেদ করে মোটরসাইকেল নিয়ে প্রবেশ করেছিল মুবিন মাঝি (৩০) নামে এক যুবক। প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির ঠিক পাশে গিয়ে তাঁকে হাত উঁচিয়ে সালাম দিতে দেখা যায়। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক তাঁকে আটক করে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ। মুবিনকে তেজগাঁও থানায় হস্তান্তর করে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

মুবিন মাঝি বরিশালের বাবুগঞ্জের দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া গ্রামের প্রয়াত প্রধান শিক্ষক ইউনুস মাঝির ছেলে। পুলিশ মুবিনকে ছাত্রলীগকর্মী বলে দাবি করলেও স্থানীয়রা বলছেন ভিন্ন কথা। তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্য শিক্ষকতা এবং বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, মুবিন হেলমেট পরিহিত অবস্থায় তাঁর মোটরসাইকেল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেদ করে গাড়িবহরের ভেতরে ঢুকে পড়েন। এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর পতাকাশোভিত গাড়ির ঠিক বাঁ পাশের জানালার কাছে চলে আসেন। এ সময় কালো গ্লাসের জানালার কাছে এসে চলন্ত অবস্থায়ই তাঁকে হাত উঁচিয়ে সালাম দিতে দেখা যায়। তবে তাঁর এই রহস্যজনক আচরণে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে আটক করে তেজগাঁও থানায় নিয়ে যায়। সেখানে তাঁর নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

মুবিনের চাচা দেহেরগতি ইউনিয়ন বিএনপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক শাহিন মাঝির বলেন, মুবিনের বাবা ইউনুস মাঝি ৬ মাস আগে মারা যান। মুবিন জীবিকার তাগিদে ঢাকায় মোটরসাইকেলের রাইড শেয়ারিং করে। বাড়িতে শুধু মুবিনের মা থাকেন। মুবিন স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে ঢাকায় থাকেন। সে কৌতূহলবশত প্রধানমন্ত্রীকে সামনাসামনি দেখতে গিয়েছিল। মুবিনের খারাপ কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।

তেজগাঁও থানার ওসি মো. মুনিরুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর থেকে আটক মুবিনের দেহতল্লাশি করে তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর আচরণ ছিল রহস্যজনক। বাবুগঞ্জ এলাকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।