Home Blog Page 8

বিজয়া দশমী আজ, বিদায়ের সুর মণ্ডপে মণ্ডপে

মণ্ডপে মণ্ডপে বিষাদের ছায়া। ঢাক-কাঁসরের বাদ্যি-বাজনা, রাত্রি উজ্জ্বল করা আরতি ও পূজারি-ভক্তদের পূজা-অর্চনায় শুধু মা দুর্গার বিদায়ের আয়োজন। আজ বুধবার শুভ বিজয়া দশমী। হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হবে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে। মর্ত্যলোক ছেড়ে বিদায় নেবেন মা। অশ্রুসজল চোখে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বিসর্জন দেবেন প্রতিমা। এর মাধ্যমে ভাঙবে ছয় দিনের সার্বজনীন মিলনমেলা।

উৎসবের পঞ্চম দিনে গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয় মহানবমী পূজা। এদিন সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দেবীর মহানবমী কল্পারম্ভ ও মহানবমীবিহিত পূজার আয়োজন করা হয়। পূজা শেষে হোম
ছাড়াও যথারীতি পুষ্পাঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও সন্ধ্যায় ভোগ-আরতি ছিল।

দিনটির প্রধান আকর্ষণ ছিল মণ্ডপে মণ্ডপে আরতি প্রতিযোগিতা। সন্ধ্যা ও রাতকে উজ্জ্বল করে ভক্তরা মেতে উঠেছিলেন নানা ঢঙে, আরতি নিবেদনে। সেই সঙ্গে ছিল দিনভর পুরোহিতদের চণ্ডীপাঠ। মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের কীর্তন-বন্দনা। এ উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনের পূজামণ্ডপে সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় আরতি প্রতিযোগিতা।

আজ বিজয়া দশমীতে সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দশমীবিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজা শেষে দর্পণ বিসর্জন দেওয়া হবে। এরপর সারাদেশে স্থানীয় আয়োজন ও সুবিধামতো সময়ে বিজয়ার শোভাযাত্রা সহকারে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে। সর্বত্র বিসর্জন শেষে ভক্তরা শান্তিজল গ্রহণ করবেন।

বিসর্জনের উদ্দেশ্যে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির মেলাঙ্গন থেকে কেন্দ্রীয় বিজয়া শোভাযাত্রা বের হবে বেলা ৩টায়। এর আগে রাজধানীর ২৫৮টি পূজামণ্ডপের অধিকাংশই এসে জমা হবে পলাশীর মোড়ে। সেখান থেকে সম্মিলিত বাদ্যি-বাজনা, মন্ত্রোচ্চারণ ও পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে শুরু হবে বিজয়ার শোভাযাত্রা। এরপর সদরঘাটের ওয়াইজঘাটের বুড়িগঙ্গা নদীর জলে একে একে বিসর্জন দেওয়া হবে প্রতিমা। নিরাপত্তার কারণে সরকারের পক্ষ থেকে সন্ধ্যার আগেই প্রতিমা বিসর্জনের নির্দেশনা রয়েছে।
বিজয়া দশমী উপলক্ষে আজও সরকারি ছুটি। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ স্যাটেলাইট টেলিভিশনগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করবে বিশেষ সংখ্যা ও নিবন্ধ।

শারদীয় দুর্গোৎসব ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সকালে বঙ্গভবনে হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন।

নবমীর আনন্দ
ঢাকের শব্দে মুখর চারদিক। কোথাও মণ্ডপজুড়ে আলোর ঝলকানি, কোথাও প্রতিমার সামনে দাঁড়িয়ে প্রার্থনায় মগ্ন ভক্ত। দুর্গোৎসবের মহানবমীতে পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার মণ্ডপে আনন্দের পাশাপাশি অনুভূত হচ্ছে বিষাদের আবহ।

গতকাল নবমীর দিনে পুরান ঢাকার অলিগলিতে উৎসবের এমনই এক পরিচিত ছবি দেখা যায়। পুরোনো বাড়িঘর, পাশাপাশি দোকানপাট আর সরু রাস্তার ফাঁকে ফাঁকে সাজানো পূজামণ্ডপ। কোথাও ভক্তদের প্রার্থনা, কোথাও ঢাকের বাদ্যি। শাঁখারীবাজারের পথে এগোলে একের পর এক মণ্ডপে চোখে পড়ে প্রতিমার সাজসজ্জা। দেবীর মুখের দিকে তাকিয়ে প্রণাম করছেন ভক্তরা। অনেকে পরিবারের ছোটদের নিয়ে ঘুরছেন, কেউ আবার ছিলেন বন্ধুদের সঙ্গে প্রতিমা দর্শনে ব্যস্ত।

জনস্বাস্থ্য ডেঙ্গু সংক্রমণ ২৬ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ

বছরের প্রথম সাড়ে ৯ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা এক লাখ ১৫ হাজার ছাড়িয়েছে। ২০০০ সালে ডেঙ্গু রোগী শনাক্তের তথ্য সংরক্ষণ শুরুর পর সংক্রমণের হিসাবে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। অন্যদিকে, গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ভাইরাসজনিত এই রোগে প্রাণ গেছে ৩৫৭ জনের। মৃত্যুর দিক থেকে ২৬ বছরের মধ্যে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ।

সংক্রমণের এই হিসাব শুধু হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের। ফলে উপসর্গ নিয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নেওয়া, পরীক্ষা না করানো কিংবা হাসপাতালের বাইরে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের সংখ্যা এতে অন্তর্ভুক্ত নেই। প্রকৃত সংক্রমণ আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এর আগে ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ওই বছর প্রাণ হারান এক হাজার ৭০৫ জন। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয় ২০২৪ সালে, ৫৭৫ জনের।
এদিকে ডেঙ্গু রোগী ও মৃত্যু বাড়তে থাকলেও সরকার বলছে, এ রোগ নিয়ন্ত্রণে তাদের চেষ্টায় কোনো ঘাটতি নেই। সবাই মিলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা, বৃষ্টি ও আর্দ্রতার ধরন বদলানোর পাশাপাশি এডিস মশার বিস্তার ও আচরণেও পরিবর্তন এসেছে। এ ছাড়া অপরিকল্পিত নগরায়ণ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যকর উদ্যোগের অভাব এবং মশক নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দুর্বলতার কারণে ডেঙ্গু পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে।

এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ ছিটানো ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চললেও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসায় প্রচলিত কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২০০০ সালে দেশে পাঁচ হাজার ৫৫১ জন রোগী শনাক্ত হন, মারা যান ৯৩ জন। এর পর বিভিন্ন সময়ে সংক্রমণ বাড়লেও ২০২৩ সালে তা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। পরের বছরগুলোতেও ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনক ছিল। ২০২৪ সালে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হন, মারা যান ৫৭৫ জন। ২০২৫ সালে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল এক লাখ দুই হাজার ৮৬১, মৃত্যু হয় ৪১৩ জনের।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এক হাজার ৩৬৬ জন।

মশক নিয়ন্ত্রণে কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন
ডেঙ্গু প্রিভেনশন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের (ডিপিএফবি) সাধারণ সম্পাদক ও জাপানের ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স টোকিওর গবেষক ডা. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ খান সমকালকে বলেন, মশা নিধনের কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রে লোক-দেখানো কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। শুধু ওষুধ ছিটিয়ে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এ জন্য মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে সেখানে কার্যকরভাবে লার্ভা ধ্বংসের উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এ কার্যক্রমে সাধারণ মানুষকেও সম্পৃক্ত করতে হবে। সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করলেও মানুষকে সচেতন করে প্রতিরোধ কার্যক্রমে যুক্ত করার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে।

ডা. আব্দুল্লাহ বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও ‘স্কুল অ্যাম্বাসাডর’ কার্যক্রম চালু করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি পরিবার ও সমাজেও ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। তিনি আরও বলেন, মশক নিধন আর এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ এক বিষয় নয়। তাই প্রচলিত মশক নিধন কর্মসূচিতে পরিবর্তন এনে এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্তকরণ, লার্ভা ধ্বংস এবং নিয়মিত তদারকির ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু উড়ন্ত মশা মারার বদলে বংশবিস্তার বন্ধ করতে পারলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ডেঙ্গু একবার কোনো এলাকায় বিস্তার লাভ করলে তা পুরোপুরি নির্মূল করা কঠিন। তবে পরিকল্পিত মশক নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, প্রজননস্থল ধ্বংস এবং কার্যকর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

Mosa%20edis 1792553891

একসময় বর্ষাকালকে ডেঙ্গুর প্রধান মৌসুম হিসেবে বিবেচনা করা হতো। সাধারণত জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সংক্রমণ বেশি দেখা যেত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বছরের অন্য সময়েও ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। ফলে শুধু বর্ষাকাল সামনে রেখে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা, বৃষ্টি ও আর্দ্রতার পরিবর্তন ঘটছে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে। এর ফলে এডিস মশার বিস্তার এবং ডেঙ্গুর সংক্রমণের ধরন বদলে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের কৌশল ঢেলে সাজাতে হবে। এ ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দুটি পদ্ধতি রয়েছে—মিটিগেশন বা প্রশমন এবং অ্যাডাপটেশন বা অভিযোজন। মশক নিয়ন্ত্রণে যুক্ত সংস্থাগুলোর পক্ষে বড় পরিসরে প্রশমন কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হলেও অভিযোজনের মাধ্যমে পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। কবিরুল বাশারের মতে, পরিবেশ ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে এডিস মশার আচরণে যেসব পরিবর্তন ঘটছে, সেগুলো শনাক্ত করে সে অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

রাজধানীর বাইরেও বাড়ছে রোগীর চাপ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে দুজন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালের রোগী। বরিশাল সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় দুজন এবং রংপুর সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।

নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ১১০ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ১১৩ জন ভর্তি হয়েছেন। ঢাকার দুই সিটির বাইরে ঢাকা বিভাগের অন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪১৫ জন। এ ছাড়া বরিশালে ১৯১, চট্টগ্রামে ১০৫, খুলনায় ১৪১, ময়মনসিংহে ৮০, রাজশাহীতে ১২৮, রংপুরে ৭২ ও সিলেটে ১১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
রোগীর এই বিস্তৃত ভৌগোলিক উপস্থিতি বলছে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নজরদারি জোরদার এবং চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত সমকালকে বলেন, ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মৃত্যুর কারণ পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, মারা যাওয়া অধিকাংশ ব্যক্তি অসুস্থ হওয়ার তিন দিন বা তারও পরে হাসপাতালে এসেছেন। এ ছাড়া ডেঙ্গুর হটস্পট চিহ্নিত করে মশার লার্ভা ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনগুলোও কাজ করছে। হাসপাতালে আসা রোগীদের ঠিকানা যাচাই করে যেসব এলাকা থেকে বেশি রোগী আসছেন, সেসব এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও লার্ভিসাইড প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের চেষ্টায় কোনো ঘাটতি নেই। প্রতি সপ্তাহে মেয়র ও প্রশাসকদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ বিষয়ে বৈঠক করছেন। সবাই মিলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছেন।

তেঁতুলিয়ায় কমছে তাপমাত্রা, ভোরে দেখা মিলছে কুয়াশার

দেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় কমতে শুরু করেছে তাপমাত্রা। ভোরে ঘন কুয়াশা ও হালকা শীতের অনুভূতি থাকলেও সূর্য ওঠার পর বাড়ছে গরম। এতে সকালে শীত আর দিনের বেলায় উষ্ণ আবহাওয়ার মুখোমুখি হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মঙ্গলবার সকাল ৬টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৯টায় তাপমাত্রা আরও কমে দাঁড়ায় ১৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এ সময় বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ছিল ১০০ শতাংশ। এর আগের দিন গতকাল সোমবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

স্থানীয় চা-শ্রমিক চাঁদনীয়া জানান, খুব ভোরে চা-পাতা তুলতে গেলে কুয়াশা দেখা যায়। ঠান্ডার কারণে শীতের পোশাক পরে কাজে যেতে হয়। তবে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে গরম বাড়তে শুরু করে।

পঞ্চগড় জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের পর্যবেক্ষক জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, গত কয়েক দিনের তুলনায় তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা কমেছে। আগের দিনগুলোতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৯ থেকে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলেও আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টায় ১৮ দশমিক ৮ এবং সকাল ৯টায় ১৮ দশমিক ৪ ডিগ্রিতে নেমে এসেছে। পর্যায়ক্রমে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।

হইহুল্লোড়ে রঙিন হয়ে উঠত সেই সময়গুলো: অপু বিশ্বাস

০

শারদীয় দুর্গোৎসবে প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো সময়, শৈশবের উচ্ছ্বাস আর হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোকে ফিরে দেখার উপলক্ষ। সময় এগিয়ে যায়, জীবনের ব্যস্ততা বাড়ে, কিন্তু উৎসব ঘিরে জমে থাকা স্মৃতিগুলো থেকে যায় মনের গভীরে। ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসের কাছেও দুর্গাপূজা মানেই আনন্দ আর ফেলে আসা দিনের স্মৃতিচারণা।

সময়ের সঙ্গে উদ্‌যাপনের ধরন বদলালেও উৎসবের আনন্দ যে ফুরিয়ে যায়নি, সে কথাই জানিয়েছেন তিনি।

অপু বিশ্বাস সমকালকে বলেন, ‘পূজা মানেই আনন্দ। সময়ের সঙ্গে সেই আনন্দ-উদ্‌যাপনের ধরন কিছুটা বদলেছে, কিন্তু নিঃশেষ হয়নি। এখন দুর্গাপূজায় ষষ্ঠী থেকে দশমীর দিনগুলোয় বগুড়ার দিনগুলোর কথা মনে পড়ে। কী যে এক উচ্ছ্বাস, উল্লাসের ছিল সেই দিনগুলো—তা বলে শেষ করা যাবে না।’

730689084 1595995671896921 3966842084318671524 n 1792407771

বগুড়ায় কেটেছে অপুর শৈশব। সেখানকার পূজার দিনগুলো ছিল পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে আনন্দ করার সময়। বাবা-মা, কাকা-কাকিসহ আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতিতে তাঁদের বাড়ি হয়ে উঠত উৎসবমুখর। নতুন জামা পরে ভোরে প্রতিমা দেখতে যাওয়া, মায়ের ভোগের খাবার আর সবার সঙ্গে হইহুল্লোড়—সবকিছু মিলিয়ে রঙিন হয়ে উঠত তাঁর পূজা।

অপুর কাছে মহাষ্টমীর ভোগের স্মৃতিও বিশেষ। ভোগের থালায় খিচুড়ি, লাবড়া আর নানা পদের ভাজা ছিল তাঁর ভীষণ প্রিয়। সেই খাবারের স্বাদ আর পরিবারের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো আজও তাঁর কাছে অমূল্য।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৯ সালের ১১ অক্টোবর বগুড়ায় জন্ম অপু বিশ্বাসের। ছোটবেলা থেকেই নাচের প্রতি আগ্রহ ছিল তার। নাচ শেখার সুবাদে একসময় অভিনয়জগতে পা রাখেন তিনি। ২০০৫ সালে বরেণ্য নির্মাতা আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘কাল সকালে’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার।

475777598 1198526118310547 4531797827267155945 n 1792407791

তবে পরের বছর এফ আই মানিক পরিচালিত ‘কোটি টাকার কাবিন’ সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ব্যাপক পরিচিতি পান অপু। শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়েন তিনি। এরপর এই জুটির একের পর এক সিনেমা বাণিজ্যিক সাফল্য পায়। ঢালিউডে শাকিব-অপু জুটি হয়ে ওঠে দর্শকের অন্যতম পছন্দ।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ‘চাচ্চু’, ‘দাদীমা’, ‘আমার জান আমার প্রাণ’, ‘তুমি স্বপ্ন তুমি সাধনা’, ‘মনে প্রাণে আছো তুমি’, ‘মায়ের হাতে বেহেশতের চাবি’, ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’, ‘নিঃশ্বাস আমার তুমি’ ও ‘কোটি টাকার প্রেম’-এর মতো বেশ কিছু আলোচিত সিনেমায় অভিনয় করেছেন অপু বিশ্বাস।

অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনাতেও যুক্ত হয়েছেন এই অভিনেত্রী। ‘লাল শাড়ি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। দুই দশকের ক্যারিয়ারে নানা উত্থান-পতনের মধ্যেও ঢালিউডে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন অপু বিশ্বাস।

খুব শিগগির প্যারিস মুসলিম শহরে পরিণত হবে: ট্রাম্প

খুব শিগগিরই প্যারিস একটি মুসলিম শহরে পরিণত হবে— এমন মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও সহিংসতার জন্য অভিবাসনকে দায়ী করে তিনি ইউরোপের দেশগুলোকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ফ্রান্সে যা ঘটছে, তার সঙ্গে অভিবাসনের সম্পর্ক রয়েছে। এটি অভিবাসনের সমস্যা। আমি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে বলেছি, আপনাদের সীমান্ত বন্ধ করে দিন।

ম্যাক্রোঁর সঙ্গে নিজের কথোপকথনের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, তিনি অনেক আগেই ফরাসি প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেছিলেন যে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষকে ফ্রান্সে প্রবেশের সুযোগ দিয়ে দেশটি বড় ধরনের ভুল করছে। ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা বিশ্বের সবাইকে ভেতরে আসতে দিচ্ছেন। পুরো পৃথিবীই যেন ভেতরে চলে আসছে।’

তিনি আরও বলেন, ইউরোপ যদি সীমান্ত বন্ধ না করে এবং অপরাধীদের দেশ থেকে বের করে না দেয়, তাহলে মহাদেশটির সর্বনাশ হবে।

সপ্তাহান্তে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে প্যারিসসহ ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়। পরে কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম ভয়াবহ সহিংসতা হিসেবে এসব ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল। প্রচারের সময় অবৈধ অভিবাসন নিয়ে তার বিভিন্ন বক্তব্যের কিছুতে জাতিগত ভীতি উসকে দেওয়া এবং মিথ্যা দাবি করার অভিযোগও রয়েছে।

বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ৯ মাসে নিহত ৪০ এইচআরএসএসের প্রতিবেদন

০

বছরের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর) সারাদেশে রাজনেতিক সহিংসতায় ৭৩ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৬ হাজার ৪৭৩ নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। এ ছাড়া সারাদেশে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্ষণসহ নানা অভিযোগে গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ৩৯৮টি ঘটনায় ১৮৭ জন নিহত এবং ৪০১ জন আহত হয়েছেন। এতে দেখা যায়, রাজনৈতিক সংঘাতের চেয়ে গণপিটুনিতে মৃত্যু আড়াই গুণ বেশি। সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এসব তথ্য জানিয়েছে। ১৬টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ এবং এইচআরএসএসের সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১ হাজার ১৩টি সহিংসতার ঘটনার ৯৩১টি ঘটেছে বিএনপির অন্তর্কোন্দল এবং বিএনপির সঙ্গে অন্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে। এর মধ্যে বিএনপির অন্তর্কোন্দলের ৩৪২টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪০ জন এবং আহত ২ হাজার ৬৩২ জন। বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে ৩২১টি সংঘর্ষে ১১ জন নিহত ও ২ হাজার ১৯০ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে ৯৩টি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ৯ জন, আহত হয়েছেন ৫৪৫ জন।

রাজনৈতিক পরিচয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিহত ৭৩ জনের মধ্যে বিএনপির ৪৬, জামায়াতের ৮, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৬ ও চরমপন্থি দলের সদস্য ১ জন। অন্যান্য দল বা রাজনৈতিক পরিচয় অজানা রয়েছেন ১২ জন।

এতে বলা হয়েছে, আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ, সংসদ নির্বাচন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ও বিভিন্ন দলের সমাবেশকেন্দ্রিক সহিংসতা, বাড়িঘর, যানবাহন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও চাঁদাবাজিকেন্দ্রিক সহিংসতার ঘটনা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংসদ নির্বাচনকেন্দ্রিক ৪০২টি সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৩ জন, আহত হয়েছেন ২ হাজার ৬২৩ জন।

রাজনৈতিক নেতাকর্মী আটক ও মামলার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সময়ে বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নামে ২৭০টির বেশি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৫ হাজার ৮০৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৩২ হাজার ৪৩৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি সন্ত্রাস, নাশকতা, পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে নিয়মিত অভিযানে ৬৩ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
৯ মাসে ২৮৮টি ঘটনায় ৫১৮ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনায় ২০ জন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে।

সভা-সমাবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ৯ মাসে ৫৮টি সভা-সমাবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনায় ৪৩৯ জন আহত ও ৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এ সময়ে কারাগারে ৯৫ জন আসামির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ জন কয়েদি ও ৫৫ জন হাজতি। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজত, নির্যাতন, গুলি এবং কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ৫৬টি হামলার ঘটনায় ৬২ জন আহত হয়েছেন। ২১টি মন্দির, ২০টি প্রতিমা ও ৪৭টি বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

Capture 1792460111

৯ মাসে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ৪৩টি হামলার ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ৩৯ জন আহত হয়েছেন। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ২৪টি সহিংসতার ঘটনায় ১ জন নিহত, ৬ জন আহত, ৬ জন গুলিবিদ্ধ এবং ৮৩ জনকে আটক করা হয়েছে। শ্রমিক নির্যাতনের ৫৮২টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৪৫ জন, আহত হয়েছেন ১ হাজার ২৬৩ জন। ২ হাজার ৪০৪ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

সার্বিক বিষয়ে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা, নির্বাচনী সহিংসতা, মব ও গণপিটুনি, নারী-শিশু-সাংবাদিক নির্যাতনসহ সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগের মতো ঘটনাগুলো প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। কেননা এসব বিষয় সমাধান করা না হলে মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।

আইনি লড়াইয়ের পর মিশিগানের হ্যামট্রাম্যাকের মেয়র হলেন বাংলাদেশি মুহিত

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের হেমট্রামেক সিটির মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি আমেরিকান মুহিত মাহমুদ। গণনার বাইরে থাকা ৩৭টি অনুপস্থিত ব্যালট গণনার পর প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডাম আল-হারবিকে ১২ ভোটে হারিয়েছেন তিনি। তবে পরিবর্তিত ফলের আনুষ্ঠানিক প্রত্যয়ন ও দায়িত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়া এখনো বাকি।
২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হ্যামট্রাম্যাক সিটির মেয়র নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয় মুহিত মাহমুদ ও অ্যাডাম আল-হারবার মধ্যে। নির্বাচনের পর গণনার বাইরে থাকা ৩৭টি অনুপস্থিত ব্যালট নিয়ে শুরু হয় আইনি লড়াই। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে মিশিগান কোর্ট অব আপিলস ব্যালটগুলো গণনার নির্দেশ দেয়। পরে সুপ্রিম কোর্ট আপিল শুনতে রাজি না হওয়ায় সেই নির্দেশ বহাল থাকে।
অবশেষে ১৬ অক্টোবর নতুন করে ব্যালট গণনার পর মুহিত মাহমুদ পেয়েছেন ২ হাজার ৮৯ ভোট। অন্যদিকে, অ্যাডাম আল-হারবি ভোট ২ হাজার ৭৭। ফলে ১২ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে যান মুহিত মাহমুদ।
মুহিত মাহমুদের এই সাফল্যে হ্যামট্রাম্যাকের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি সামনে এনেছে নির্বাচনে প্রতিটি বৈধ ভোট গণনা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার গুরুত্ব।

বিশ্বে খাদ্য মূল্যস্ফীতি আরও বৃদ্ধির শঙ্কা

০

আগামী কয়েক মাসে বিশ্বজুড়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। ২০২৭ সালজুড়েও এর প্রভাব অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। যুদ্ধের কারণে পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন এবং এল নিনোর প্রভাবে খরার কারণে শস্যের সরবরাহ কমে যাওয়া এবং অন্যান্য আরও বেশ কিছু কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ায় বৃষ্টিপাত দেরিতে শুরু হওয়ার পূর্বাভাসের মধ্যেই চালের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। মিসরে রুটির দাম বেড়েছে এক-চতুর্থাংশ, আর এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ায় ভারতে চিনির দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো বলেন, ‘এসব কারণে পুরো ব্যবস্থার ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বছরের শেষ দিকে, আগামী বছরের শুরুতে এবং সম্ভবত পুরো আগামী বছরজুড়েই এর প্রভাব আরও বেশি দেখা যাবে।’

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের গতকাল সোমবারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও এশিয়ার নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে খাদ্যপণ্যের দাম দ্রুত বাড়ছে। এসব অঞ্চলের পরিবারগুলোর মোট ব্যয়ের বড় অংশই যায় খাবারের পেছনে। ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বিশ্বের দরিদ্রতম ভোক্তারা। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির বিশ্লেষণ করা ১৫০টি দেশের মধ্যে ২২ শতাংশ দেশে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির হার সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে ছাড়িয়ে গেছে। আগের প্রান্তিকে এই হার ছিল ১৪ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক বাজারে কেনাবেচা হওয়া বিভিন্ন পণ্যের মাসিক মূল্য পরিবর্তন পরিমাপ করে এফএওর খাদ্য মূল্য সূচক। সেপ্টেম্বরে এ সূচকের গড় ছিল ১৩৬ পয়েন্ট, যা ২০২২ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ। খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী দেশগুলো রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। এতে খাদ্যপণ্যের সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সরবরাহে একাধিক ধাক্কা
কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে শস্য পরিবহনের অবকাঠামোয় হামলার কারণে গমের চালান ব্যাহত হচ্ছে। এতে বড় আমদানিকারক দেশ মিসর ও ইন্দোনেশিয়াকে বিকল্প উৎস থেকে গম সংগ্রহ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, লোহিত সাগরে নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে জাহাজগুলো আফ্রিকা ঘুরে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল পথে চলাচল করছে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে সার রপ্তানিও ব্যাহত হচ্ছে। এতে কৃষিকাজের ব্যয় বাড়ছে। একই সময়ে এল নিনোর প্রভাবে শুষ্ক আবহাওয়া ভারতে ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ফসলের উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছে। ২০২৬ সালে গমের দাম ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ চাল রপ্তানিকারক দেশগুলোতে বড় মজুত থাকা সত্ত্বেও চালের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৩ শতাংশ। ইরান যুদ্ধের শুরুর দিকে সারের দাম যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল, সেখান থেকে কিছুটা কমেছে। তবে দাম এখনও বেশি।

নেসলে ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিশ তিওয়ারি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি, বিশেষ করে খাদ্য মূল্যস্ফীতি, এখন বাস্তবতা।’ পণ্যের কাঁচামালের বাড়তি দামসহ বিভিন্ন কারণে ব্যবসায়িক পরিবেশকে ‘চ্যালেঞ্জপূর্ণ’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মিসরে ভর্তুকিবিহীন বড় আকারের একেকটি রুটির দাম জুলাইয়ে চার মিসরীয় পাউন্ড থেকে বেড়ে এখন প্রায় পাঁচ পাউন্ড হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে রান্নার তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাম তেল উৎপাদনকারী দেশ ইন্দোনেশিয়ায় এ বছর ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে ৭ শতাংশ। ভারতে উৎপাদন ঘাটতির কারণে সেপ্টেম্বরে চিনি, পেঁয়াজ ও ডালের দাম আগের মাসের তুলনায় ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

মূল্যস্ফীতি বাড়াচ্ছে যা
২০২৫ সালের শেষ দিক থেকেই খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে। এখন স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের বাড়তি দাম ভোক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করায় মূল্যস্ফীতি আরও দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার যেসব বড় আমদানিকারক দেশ স্থানীয়ভাবে ভালো ফসল উৎপাদনের পর আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কেনাকাটা কমিয়ে দিয়েছিল, তাদের এখন আবার বিশ্ববাজারে ফিরতে হচ্ছে। এতে চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক শস্য কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ আলেকজান্ডার কারাভায়তসেভ বলেন, ‘কয়েক মাসের মধ্যে আমদানিকারকরা বাজারে ফিরে এলে চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য নতুন ঢেউ তৈরি হতে পারে।’

এফএওর তোরেরো বলেন, বিশ্বজুড়ে শস্যের রেকর্ড মজুত যে সুরক্ষা দিচ্ছিল, তা ক্রমেই কমে আসছে। তিনি বলেন, ‘আগের মৌসুমগুলোর ভালো ফলন ও মজুত এত দিন একটি সুরক্ষাব্যবস্থা হিসেবে কাজ করেছে। কিন্তু সেই সুরক্ষাব্যবস্থার ওপর এখন চাপ বাড়ছে। এর অর্থ, পণ্যের দাম আরও জোরালোভাবে বাড়তে পারে।’ খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত তিন থেকে ছয় মাস মেয়াদি চুক্তিতে কাঁচামাল কেনে। এখন এসব চুক্তি নবায়ন করতে গিয়ে তাদের বেশি দাম দিতে হচ্ছে। স্থানীয় মুদ্রার দর পতনও আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম খাদ্য কোম্পানি পিটি ইন্দোফুডের পরিচালক ফ্রান্সিসকুস ওয়েলিরাং বলেন, ‘পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। ইন্দোনেশীয় রুপিয়ায় হিসাব করলে মুদ্রার দর পতনের কারণে এর প্রভাব আরও বেড়ে যায়।’ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দাম বাড়ার পাশাপাশি খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত করতেও সমস্যায় পড়ছে।

জাকার্তাভিত্তিক একটি ময়দা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে গমের চালান কমে যাওয়ায় ইন্দোনেশিয়ার বেশ কয়েকটি গমকল তাদের উৎপাদনক্ষমতার চেয়ে কম হারে চলছে। গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় ওই কর্মকর্তা নিজের নাম প্রকাশ করতে চাননি।

কে-প্লারের তথ্য অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়ায় সেপ্টেম্বরে গমের চালান আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪১ শতাংশ কমে চার লাখ ৯১ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে। এ মুহূর্তে সয়াবিন ও ভুট্টার মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এসব পণ্যের সরবরাহ নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আমেরিকার উৎপাদনের ওপর। জ্বালানির দাম বাড়ায় এ দুটি ফসলের চাহিদাও বাড়ছে, কারণ জৈব জ্বালানি উৎপাদনে এগুলোর ব্যবহার বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক শস্য কাউন্সিলের কারাভায়তসেভ বলেন, দক্ষিণ গোলার্ধে গমের ভালো ফলন প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে অস্ট্রেলিয়া ও আর্জেন্টিনার মতো রপ্তানিকারক দেশে উৎপাদন প্রত্যাশার চেয়ে কম হলে তা গমের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

কুমারী পূজায় মানুষের ঢল, আজ মহানবমী

শারদীয় দুর্গোৎসবে গতকাল সোমবার মহাষ্টমীর দিনে কুমারী পূজায় মানুষের ঢল নেমেছিল। রাজধানীর গোপীবাগে রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ পূজামণ্ডপে কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়। দেশের অন্য কয়েকটি মণ্ডপেও এ পূজা উদযাপিত হয়েছে সাড়ম্বরে।

ছয় দিনের দুর্গোৎসবের চতুর্থ দিন মহাষ্টমীতে গতকাল সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটের মধ্যে দেবীর মহাষ্টমী কল্পারম্ভ ও মহাষ্টমীবিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পুষ্পাঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণ শেষে সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৪৩ মিনিটের মধ্যে সন্ধি পূজা অনুষ্ঠিত হয়। রামকৃষ্ণ মিশন, মঠসহ কয়েকটি মণ্ডপে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকামতে দুর্গাপূজা আয়োজনের কারণে এসব মণ্ডপে পূজার সময়ের কিছুটা হেরফের হয়।

উৎসবের পঞ্চম দিন আজ মঙ্গলবার রয়েছে মহানবমী। সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দেবীর মহানবমী কল্পারম্ভ ও মহানবমীবিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজা শেষে হোম ছাড়াও যথারীতি পুষ্পাঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও সন্ধ্যায় ভোগ-আরতি থাকবে।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকার প্রথমবারের মতো তিন দিনের নির্বাহী ছুটি ঘোষণা করেছে, যা আজ শুরু হয়ে আগামী বৃহস্পতিবার শেষ হবে। এরপর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় এবার দুর্গাপূজায় পাঁচ দিনের ছুটি মিলেছে।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরে প্রধানমন্ত্রী
গতকাল রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক এ তথ্য জানিয়েছেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

জগন্নাথ হলের মণ্ডপে রিজভী ও ত্রিবেদী
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। এ সময় হলের প্রাধ্যক্ষ ড. দেবাশীষ পাল উপস্থিত ছিলেন। রিজভী বলেন, উৎসব সব সীমারেখা অতিক্রম করতে শেখায় এবং ভ্রাতৃত্ববোধ উন্মুক্ত করে। সম্প্রদায়ের গণ্ডি পেরিয়ে উৎসবের সার্বজনীন আহ্বানে অন্য সম্প্রদায়ের মানুষও আনন্দ ও সংহতি অনুভব করে। আবহমান কাল ধরে এ দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে আসছে।

দুর্গাপূজার তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, দানবীয় অসুররূপী সমাজে অসত্যকে বিনাশ করে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করাই দুর্গাপূজার মূল মর্মবাণী। এই আনন্দ-উৎসবের বার্তা কোনো একক ধর্মের নয়; বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য। মা দুর্গার আরেক নাম দুর্গতিনাশিনী। তিনি দুর্গতি বিনাশ করে শান্তি ও সত্য প্রতিষ্ঠা করেন।

এদিকে, ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সস্ত্রীক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি গুলশান ও বনানী পূজামণ্ডপে যান। এ সময় তিনি বলেন, পূজায় অঞ্জলি দেওয়ার প্রকৃত অর্থ হলো অহংকারকে ঈশ্বরের চরণে বিসর্জন দেওয়া এবং নিজেকে সমর্পণ করা।

টাঙ্গাইলে ব্রিটিশ হাইকমিশনার
বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারা কুক গতকাল বিকেল ৫টায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে রণদা প্রসাদ সাহার বাড়ির পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব প্রসাদ সাহা, ট্রাস্টের পরিচালক ও রণদা প্রসাদ সাহার পুত্রবধূ শ্রীমতী সাহা, ট্রাস্টের পরিচালক মহাবীর পতি চন্দন, সম্পা সাহা, কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার রায় ও উপপরিচালক অনিমেষ ভৌমিক।

এ সময় রোহিঙ্গা সমস্যা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটে দীর্ঘদিনের অন্যতম সহায়তাকারী।’

প্রতিদিন ১ টি করে কলা খেলে শরীরে যেসব পরিবর্তন হয়

সকালের নাশতায় অনেকেই কলা খেতে পছন্দ করেন। কেউ বা দিনের অন্য সময় কলা খান। এটির এমন একটি ফল, যা সহজেই পাওয়া যায় এবং পুষ্টিগুণেও ভরপুর। পুষ্টিবিদদের মতে, পরিমিত পরিমাণে কলা খাওয়া সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। এতে থাকা পটাশিয়াম, ফাইবার, ভিটামিন বি৬ এবং ভিটামিন সি শরীরের বিভিন্ন কাজে সাহায্য করে। নিয়মিত কলা খেলে শরীরে যেসব উপকারিতা পাওয়া যায়-

হজমশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে

কলায় থাকা ফাইবার, হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। একটি মাঝারি আকারের কলায় প্রায় ৩ গ্রাম ফাইবার থাকে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কলা রাখলে প্রয়োজনীয় ফাইবারের জোগান কিছুটা বাড়তে পারে। তবে হজমশক্তি ঠিক রাখতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং অন্যান্য ফল ও শাকসবজি খাওয়াও জরুরি।

হৃৎপিণ্ড ও রক্তচাপের জন্য উপকারী

কলায় থাকা পটাশিয়াম শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে, পেশির সংকোচন এবং স্নায়ুর স্বাভাবিক কাজকর্ম ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।এর পাশাপাশি, পর্যাপ্ত পটাশিয়াম গ্রহণ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে হৃৎপিণ্ডও সুস্থ থাকে।

শরীরে শক্তি জোগায় 

কলায় থাকা প্রাকৃতিক শর্করা ও কার্বোহাইড্রেট, শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। এ কারণে কাজের ফাঁকে বা শরীরচর্চার আগে-পরে কলা খাওয়া অনেকের জন্য ভালো বিকল্প হতে পারে। কলায় থাকা ভিটামিন বি৬ শরীরের বিপাকক্রিয়া এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে

কলা খেলে কিছুটা সময় পেট ভরা থাকে। এর ফলে ঘন ঘন খিদে পাওয়া বা অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতা কমে। তবে কলা খেলেই ওজন কমবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। ওজন ণিয়ন্ত্রণে সুষম খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়ামও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিদিন কলা খেলে কি কোনও ক্ষতি হয়
সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন একটি কলা খাওয়া সাধারণত নিরাপদ। তবে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। যেমন-

ডায়াবেটিস থাকলে: কলায় প্রাকৃতিক শর্করা ও কার্বোহাইড্রেট থাকায় রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের কলা খাওয়ার পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে হবে।

কিডনির সমস্যা থাকলে: কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সে ক্ষেত্রে কতটা কলা খাওয়া যাবে, তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা জরুরি।

কলায় বেশ কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি থাকলেও শরীরের সব চাহিদা পূরণ করার মতো সব ভিটামিন ও খনিজ নেই। তাই ষুস্থ থাকতে অন্যান্য ফল, শাকসবজি, ডাল, শস্য এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারও খেতে হবে।