Home Blog Page 80

সরকারি ইঙ্গিতে পলাশবাড়ীতে সূউচ্চ রামমূর্তি প্রতিষ্ঠার কাজ বন্ধ। রামে এত ভয়!

শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক।। গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বৃহত্তর রামমূর্তি প্রতিষ্ঠার কাজ বন্ধ হয়েছে। কে বন্ধ করলো? কেন বন্ধ করলো কেজানে? সরকার বন্ধ করেছে? নোটিশ কই? ডেকে নিয়ে হুমকি দিয়ে বন্ধ করা হয়েছে, ভয়ভীতি প্রদর্শন? হয়তো তাই। আইনত: সরকার কি বন্ধ করতে পারে? পারেনা। সোস্যাল মিডিয়া বলছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্ধ করেছেন। জানা যায়, স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ পলাশবাড়ী উপজেলার পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করেছেন (১০ জুন ২০২৬)। তাঁদের পরামর্শ দিয়েছেন যে, নিজেদের উদ্যোগে মুর্ক্তি ভেঙ্গে ফেলতে। না ভাঙ্গলে মামলা-হামলার কথাও বলে দিয়েছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, একজন হিন্দু’র পক্ষে কি মুর্ক্তি ভাঙ্গা সম্ভব?

 

নির্দেশটি অফিসিয়াল নয়, অথচ কাজটি হলো? কি চমৎকার তাইনা? এরফলে মুর্ক্তি নির্মাণের কাজ কি থেমে যাবে? যাবে মানে, ইতোমধ্যে থেমে গেছে। সরকার বাহাদুরের মৌখিক নির্দেশের পরও কাজ চালায় এমন সাহস বাংলাদেশের হিন্দুর নেই, থাকার কোন কারণ নেই? কাজ বন্ধ না হলে হয়তো গুম-খুন হয়ে যাবে। আফটারঅল হিন্দুর ঘাড়েও তো একটাই মাত্র মাথা। এ ব্যবস্থার সুবিধা হচ্ছে, মুর্ক্তি প্রতিষ্ঠার কাজ বন্ধ নিয়ে হৈচৈ হলে সরকার বলতে পারবেন, ‘আমরা তো বন্ধ করিনি’। সরকারি মৌখিক নির্দেশটি বেআইনী। সরকার নিজেই যখন আইন ভঙ্গ করেন, তখন সাধারণ মানুষের কাছে আইন মানার বাধ্যবাধকতা থাকেনা।

 

তৌহিদী জনতা তো বলে মাটির মুর্ক্তির ভেতর কিচ্ছু নেই, তাহলে মাটি-পাথর দিয়ে তৈরী রামের মুর্ক্তি নির্মাণে বাঁধা কেন? রাম নামে এত ভয় কেন? মমতা ব্যানার্জী ‘জয় শ্রীরাম’-এ ভীত ছিলেন, তিনি আউট। রাম মুর্ক্তির পক্ষে-বিপক্ষে দেশে কর্মসূচী চলছে। ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণের সময় তো হিন্দুরা বিক্ষোভ করেনি, মুসলমানরা এখন একটি রামমুর্ক্তি নির্মাণে বাঁধা দিচ্ছেন কেন? সংখ্যার দাপটে সংখ্যালঘু হিন্দুদের মন্দির নির্মাণ বন্ধ করে দিলেন? ইমাম ওলামা পরিষদ সাংবাদিক সম্মেলন করে রামমুর্ক্তি নির্মাণ বন্ধের দাবি জানিয়েছে। উদ্যোক্তা হরিদাস সম্পর্কে নানা কুৎসা রটনা হচ্ছে। ২০২২ সালে তিনি প্রতারণার দায়ে গ্রেফতার হ’ন, ১৩/১৪ দিন্ হাজতবাস করেন, এরপর কিছু না পেয়ে তাঁকে ছেড়ে দেয়া হয়।

 

তার নাম তৌহিদ ইসলাম কিনা এনিয়েও বিভ্রাট আছে, শেখ ফরিদ-র ইউ-টিউব চ্যানেলে এসে হরিদাস চন্দ্র তরনিদাস জানান, ওসব ভুয়া, তিনি কখনো ধর্মান্তরিত হ’ননি। তিনি জানান, একসময় তিনি খৃষ্টান বলেও প্রচারণা চালান হয়েছিলো। হরিদাস জানান, তার এলাকায় মুসলমানদের কোন সমস্যা নেই, যত সমস্যা বাইরের লোকের। মন্দিরে প্রচুর মানুষ আসে, তারা উদার হস্তে দান করেন। তিনি বলেন মন্দির সংলগ্ন প্রায় ১৫০টি দোকানের বেশিরভাগই মুসলমানের। তিনি গুরুকুল চালু করেছেন, একটি বৃদ্ধাশ্রম করেছেন এবং একটি ছোটখাট হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছেন। শেখ ফরিদকে তিনি অনেক কথাই বলেছেন, আসলে দরিদ্র ঘর থেকে তার এই উঠে আসাটা অনেকে মেনেন নিতে পারছেন না? শেখ ফরিদের সাথে তার ভিডিওটি দিলাম:

 

একই ঘটনার ওপর নবনীতা চৌধুরীর একটি ভিডিও দেখলাম। তিনি সাংবাদিক ছিলেন, টিভিতে উপস্থাপনা করতেন, গান ভাল গান, তাঁর ভিডিও চ্যানেলের গ্রাহক যথেষ্ট, বলেন ভাল। রামমুর্ক্তি নির্মাণের ঘটনায় তাঁকে ‘অখুশি’ মনে হলো? ইনিয়ে-বিনিয়ে তিনি টাকার উৎস খুঁজে বের করা, সেভেন-সিষ্টার, লালমনিরহাট বিমানবন্দর, নিরাপত্তা ঝুঁকি সব দিকেই নজর রেখেছেন, শুধু এটি যে হিন্দুদের ধর্ম পালনে বাঁধা তা বলতে ভুলে গেছেন। এ ভিডিও শুনতে শুনতে আমার স্বামী বিবেকানন্দের একটি উক্তি মনে পরে যায়, তিনি বলেছিলেন, হিন্দুধর্ম ছেড়ে একজন অন্যধর্মে গেলে যে শুধু একজন হিন্দু কমে তা নয়, হিন্দুর একজন শত্রু বাড়ে’। তার ভিডিও লিংক দিলাম:

শেখ ফরিদ ও নবনীতা চৌধুরীর বক্তব্যে কত তফাৎ।

বলা হয়েছিলো মন্দিরটি অবৈধ রেলের জমির ওপর, এটি সত্য নয়, এটি দেবোত্তর সম্পত্তি। সরকারের লোকজন একদিন বসে থেকে দেখে গেছেন কত টাকা ওঠে। ৫২ ফুট কৃষ্ণের মুর্ক্তি সেখানে আছে, আছে শিবের মুর্ক্তি, কারো কোন সমস্যা হয়নি। যত সমস্যা রামকে নিয়ে? রামমুর্ক্তি প্রতিষ্ঠার কাজ ৮০% হয়ে গেছে, এখন সেটি বন্ধ। হরিদাস বলেছেন, আমার দেবতার মুর্ক্তি আমি ভাঙ্গতে পারবো না, আইন থাকলে সরকার এসে সেটি ভাঙ্গতে হবে। তিনি অবশ্য সরকারের কাছে দাবি করেছেন, নির্মাণ কাজ স্থগিতাদেশ তুলে নেয়ার। প্রশ্ন হচ্ছে, ভারত জুজুর ভয় দেখিয়ে তৌহিদী জনতা হিন্দুদের একটি রামমুর্ক্তিও তৈরী করতে দেবে না? রাম তো বাংলার মাটিতে মিশে আছে, এখনো বহু জায়গার নাম রাম দিয়ে? ছোটবেলায় ভুতের ভয়ে আমরা রামনাম নিতাম, রামকে তো ভয় পাওয়ার কথা ভুতের, মানুষ কেন ভয় পাচ্ছে?                                                     

ট্রিবিউন নিউজ: https://www.banglatribune.com/country/rangpur/951394/

শক্তিশালী ইরানের পক্ষ থেকে এই চুক্তি একটি বার্তা: পেজেশকিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারককে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তাঁর মতে, এটি শক্তিশালী ইরানের পক্ষ থেকে একটি বার্তা। পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতেই কেবল শান্তি অর্জন করা সম্ভব।

বৃহস্পতিবার পেজেশকিয়ান তাঁর সরকারি এক্স অ্যাকাউন্টে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক প্রকাশ করেন। লিখেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক দলিল এবং একটি শক্তিশালী ইরানের বার্তা। ইরান তার মর্যাদা, স্বাধীনতা, অগ্রগতি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা পুরোপুরি অক্ষুণ্ন রেখে বিশ্ব শান্তির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।’

বুধবার রাতে পেজেশকিয়ান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডিজিটাল স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এরপর থেকে চুক্তির আওতায় ইরানকে ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে ট্রাম্পের সমালোচনা করছেন অনেকে।

এর প্রতিক্রিয়ায় সমালোচনাকারীদের ‘বোকা’ বলে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘এই বোকারা মনে করে আমি ইরানের ব্যাপারে যথেষ্ট কঠোর ছিলাম না। তারা কি দেখছে না যে, শেয়ারবাজার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং তেলের দাম দ্রুত কমছে। তারা হয় ঈর্ষান্বিত, নয়তো খারাপ মানুষ অথবা নির্বোধ।’

বিশ্লেষণ ইরান চুক্তি: ট্রাম্পের অতি উচ্চাশার পরিণতি যেমন হলো

প্রবাদ আছে, ‘শত্রুর মুখোমুখি হওয়ার পর যুদ্ধের কোনো পরিকল্পনাই আর আগের মতো থাকে না।’ ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ পর্যায়ের লক্ষ্য নিয়ে যুদ্ধে নেমেছিলেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল- পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিশ্চিহ্ন করা এবং হিজবুল্লাহ ও হামাসসহ আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করা।

এখন যে চুক্তির (সমঝোতা স্মারক) দোহাই দিয়ে ট্রাম্প যুদ্ধ থেকে বের হয়ে যাচ্ছেন, সেখানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে লিখিত শর্ত নেই। ইরান কেবল পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্যদিকে তেহরানের চাপে চুক্তিতে লেবাননকেও যুক্ত করা হয়েছে। যেটিকে বড় জয় হিসেবে দেখছে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।

যুদ্ধে ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা ছিল হরমুজ প্রণালি। এই জলপথ পুনরায় খুলতে গিয়েই ট্রাম্প প্রশাসন তাদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের লক্ষ্যগুলো থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। ট্রাম্পের ভাষায়, এটি না করলে বিশ্ববাসী মন্দার পরিণতি ভোগ করতো।

মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের ফেলো ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারবারা লিফ বলছেন, ওয়াশিংটন ইরান সম্পর্কে খুবই অবাস্তব মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে যুদ্ধে নেমেছিল। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিতে হামলার জন্য ইরান কতটুকু প্রস্তুত তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা একেবারে ভুল ছিল।

বারবারা বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র দ্রুতই বিষয়টি বুঝতে পারে। আমেরিকান ভোক্তাদের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ক্ষতির প্রভাব ছড়িয়ে পড়ায় এই যুদ্ধ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

এখন ট্রাম্প একটি জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন লিফ। তিনি বলেন, যুদ্ধ যদি প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহেই শেষ হতো, তাহলে ট্রাম্পের হাতে অনেক বেশি প্রভাব ও কূটনৈতিক চাপ তৈরির সুযোগ থাকতো। এখন তিনি সেগুলোর অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছেন।

বর্তমানে ট্রাম্পের নিজের রাজনৈতিক দলের নেতারাই এই চুক্তিকে মানতে পারছেন না। এরইমধ্যে লুইজিয়ানার বিদায়ী সিনেটর বিল ক্যাসিডি চুক্তিকে ‘কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বাজে কূটনীতি’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘কবরে শুয়ে রিগানও (রোনাল্ড রিগান) এ নিয়ে অস্বস্তিতে পড়বেন।’ রিগান যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও রিপাবলিকান পার্টির নেতা ছিলেন।

বিল ক্যাসিডি বলছেন, ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। তারা হরমুজ প্রণালির কার্যকারিতাও বুঝে গেছে। ভবিষ্যতে নিঃসন্দেহে এই কৌশল কাজে লাগাবে। পাশাপশি এই চুক্তির আওতায় ইরান নতুন অবকাঠামো নির্মাণের সুযোগ পাবে। উত্তর ক্যারোলিনার রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিসের কাছেও এটি ভালো চুক্তি বলে মনে হয়নি।

ট্রাম্প বহু বছর ধরে ‘জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন’ বা জেসিপিওএ নিয়ে সমালোচনা করে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি ঠেকাতে ইরানকে ঘুষ দিয়েছিলেন। কিন্তু নতুন চুক্তি দেখাচ্ছে, এতে ইরানকে আরও বেশি অর্থ দেওয়ার সম্ভাবনা আছে।

চুক্তির বিভিন্ন দফার মধ্যে আছে- আর্থিক প্রণোদনা, লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে সমর্থন এবং হরমুজ প্রণালি পরিচালনার ভবিষ্যৎ ঠিক করতে ওমান ও ইরানকে যৌথভাবে কাজের সুযোগ দেওয়া।

সমঝোতা স্মারকের নথি হাতে মাসুদ পেজেশকিয়ান (বাঁয়ে) ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

সমঝোতা স্মারকের নথি হাতে মাসুদ পেজেশকিয়ান (বাঁয়ে) ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

চুক্তিতে উল্লেখ থাকা ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা আমাদের অর্থ নয়, এটা তাদের অর্থ। আমরা একটি নির্দিষ্ট সময়ে এটি আটকে দিয়েছিলাম। আমাদের এটি ফিরিয়ে দিতে হবে।’ পাশাপাশি তাঁর বক্তব্যে ইরানের কথার প্রতিধ্বনিও আছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সৌদি আরবের কাছে যদি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকতে পারে, তাহলে ইরানেরও সে দাবি করার যুক্তি আছে।

ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘অন্যদের কাছে এটি আছে, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর কাছেও এটি আছে। এ অবস্থায় তাদের (ইরান) বিদ্যুৎ উৎপাদন সংক্রান্ত কাজে এটি (ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ) ব্যবহার করতে না দিলে বিষয়টা খুব কঠোর হয়ে যায়। এখানে কিছুটা কমন সেন্স ব্যবহার করতে হবে।’

শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে এই সমঝোতা স্মারক একটি বাস্তববাদী সিদ্ধান্ত। যেটির লক্ষ্য ছিল- রাজনৈতিক মূল্য দিতে হলেও সংঘাত যত দ্রুত সম্ভব শেষ করতে হবে। বারবারা লিফ বলছেন, একটি অযৌক্তিক যুদ্ধ শেষ হতে দেখাটা স্বস্তির। তবে পরে যে আবার যুদ্ধ শুরু হবে না- চুক্তিতে সে নিশ্চয়তা বেশ কম।

ব্যাংক খাতে ১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকার লোকসান

ব্যাংক খাতের আর্থিক দুরবস্থার প্রভাব পড়েছে প্রধান সব সূচকের ওপর। কয়েকটি ব্যাংক ভালো মুনাফা করলেও তা যেন ধোপে টেকেনি। প্রথমবারের মতো পুরো খাতে বড় লোকসান হয়েছে। ২০২৫ সালে ব্যাংক খাতের নিট লোকসান এক লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা। ২০২৪ সালেও নিট মুনাফা ছিল ১২ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা। এর আগের বছরগুলোতে সব সময়ই পুরো খাতে মুনাফা ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত বার্ষিক আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদন ২০২৫-এ এমন চিত্র উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ব্যাংক খাতের নিট সুদ আয় ঋণাত্মক ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা। এর মানে আমানতকারীদের যে পরিমাণ সুদ দেওয়া হয়েছে, সে তুলনায় ঋণ থেকে আয়ে পরিমাণ কম হয়েছে। আগের বছর ২৯ হাজার ৩৯১ কোটি টাকার নিট সুদ আয় হয়েছিল। অবশ্য সুদবহির্ভূত আয় ২০২৪ সালের ৬৩ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৮৩ হাজার ১৭১ কোটি টাকা হয়েছে। গত বছর বেতন-ভাতাসহ পরিচালন ব্যয় হয়েছে ৫১ হাজার ৬৩ কোটি টাকা, যা আগের বছর ৪৮ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা ছিল। সব মিলিয়ে ব্যাংক খাতের কর-পূর্ববর্তী লোকসান ছিল এক লাখ ২৪ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা। আর নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা।

আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদনে ব্যাংকভিত্তিক লাভ-লোকসানের তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে জাতীয় বাজেটের সঙ্গে সরকার প্রকাশিত ‘ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও তথ্যাবলি’ বইয়ে প্রতিটি ব্যাংকের সব সূচকের তথ্য দেওয়া হয়েছে। সে অনুসারে নিট লোকসানের শীর্ষে থাকা ১০ ব্যাংক এক লাখ ৫৪ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকার লোকসান করেছে। এর মধ্যে শীর্ষ পাঁচে রয়েছে একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলো।

গত বছর ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের নিট ৬৬ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে। সোশ্যাল ইসলামী ৩১ হাজার কোটি, এক্সিম ব্যাংকের ২৮ হাজার ৯০৯ কোটি, গ্লোবাল ইসলামী ১৩ হাজার ১৪৪ কোটি এবং ইউনিয়ন ব্যাংক ৪ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা নিট লোকসান করেছে। লোকসানে এর পরের অবস্থানে থাকা এবি ব্যাংকের ৩ হাজার ৭০৬ কোটি, আইএফআইসির ২ হাজার ৫৬১ কোটি, ন্যাশনালের ২ হাজার ৪৩০ কোটি, প্রিমিয়ারের ৯৯৩ কোটি এবং পদ্মা ব্যাংকের ৯৩০ কোটি টাকা নিট লোকসান হয়েছে।

চরম দুরবস্থার মধ্যেও কয়েকটি ব্যাংক রেকর্ড মুনাফা করেছে। এ তালিকার শীর্ষে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। ব্যাংকটি গত বছর এক হাজার ৫৮১ কোটি টাকার নিট মুনাফা করেছে। এ ছাড়া সিটি ব্যাংক এক হাজার ৩০৬ কোটি, পূবালী ব্যাংক এক হাজার ৭৯ কোটি, ইস্টার্ন ব্যাংক ৯১০ কোটি এবং প্রাইম ব্যাংক ৮৯০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে গত বছর ১৬টি ব্যাংক লভ্যাংশ দিতে পেরেছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সমকালকে বলেন, ব্যাংক খাতের দুরবস্থা কাটাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্ধ কারখানা সচলসহ অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ দেওয়া হয়েছে। সঠিকভাবে এসব ঋণ বিতরণ হলে ঋণ আদায় বেড়ে দ্রুত ব্যাংক খাতের পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নানা উপায়ে ঋণ নিয়মিত দেখানো হতো। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নিয়ে খেলাপি ঋণের আসল চিত্র সামনে আনতে শুরু করায় পুরো খাতের চিত্র সামনে এসেছে। খেলাপি ঋণ বেড়ে গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশে উঠেছিল। বিশেষ পুনঃতপশিলের কারণে শেষ তিন মাসে ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা কমে গত ডিসেম্বরে পাঁচ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকায় নামে। মোট ঋণের যা ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ। মূলত লুকানো খেলাপি ঋণ সামনে আনাসহ দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ অনেক বেড়ে যাওয়ায় পুরো খাতের খারাপ অবস্থা সামনে এসেছে। গত বছর রেকর্ড এক লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ পুনঃতপশিল করা হয়। এর পরও ব্যাংক খাতে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বেড়ে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকায় ঠেকেছে। মোট ঋণের যা ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এক বছর আগে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ ছিল ৭ লাখ ৫৬ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, খেলাপি ঋণ ব্যাপক বৃদ্ধির ফলে ব্যাংক খাতের সামগ্রিক মূলধন ঘাটতি প্রথমবারের মতো ঋণাত্মক ধারায় চলে গেছে। ব্যাংকগুলোকে যেখানে মোট ঝুঁকিভিত্তিক ঋণের সাড়ে ১২ শতাংশ মূলধন রাখার কথা। গত বছর শেষে তা ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬৪ শতাংশে নেমেছে। আগের বছর শেষেও প্রয়োজনের তুলনায় মূলধন অনেক কম ছিল। তবে তা ছিল ইতিবাচক ৩ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। মূলত ২০টি ব্যাংকের ২ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকার ঘাটতির প্রভাবে পুরো খাতে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

চরম দুরবস্থায় পড়া ব্যাংক খাতের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ ব্যাংক লভ্যাংশ ঘোষণার নিয়ম কঠোর করেছে। গত বছরের নির্দেশনার আলোকে ২০২৫ সালের জন্য কোনো ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশ বা তার বেশি হলে ওই ব্যাংক আর লভ্যাংশ দিতে পারেনি। আবার মূলধন কিংবা প্রভিশন ঘাটতিতে থাকা ব্যাংক যত মুনাফাই করুক, লভ্যাংশ দিতে দেওয়া হয়নি। এই নিয়মে এবার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে কেবল ১৬টি লভ্যাংশ দিতে পেরেছে। ২০২৬ সালের জন্য এসব নির্দেশনার পাশাপাশি নতুন দুটি শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। এবার পরিশোধিত মূলধন ২ হাজার কোটি টাকার কম হলে ওই ব্যাংক ২০২৬ সালের জন্য নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে না।

স্বর্ণের দাম বাড়ল ভরিতে ২৫০৮ টাকা

দেশের বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৫০৮ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে পরপর তিন দফা বাড়ল স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) বৃহস্পতিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে খাঁটি স্বর্ণ ও রুপার দাম বৃদ্ধির প্রভাব দেশের বাজারেও পড়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে। রুপার অলংকারের ভ্যাট বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

পবিত্র ঈদুল আজহার পর দেশের বাজারে টানা চারবার স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছিল। ওই সময়ে ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম মোট ১৯ হাজার ৭৭১ টাকা হ্রাস পায়।

এদিকে রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা।

বিরক্তি প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বললেন, আপনারা এখানে কেন? সংসদে যান

সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ধমক খেয়ে বিকেলে সিলেট থেকে সরাসরি সংসদে হাজির হলেন অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এমপি। আজ বুধবার সকালে মৌলভীবাজার সফরে যোগ দিতে সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরে নামেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে সিলেটের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত হন।

বিমানবন্দরের লাউঞ্জে সিলেটের এমপিদের দেখে বিরক্তি প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা এখানে কেন? আজকে আপনাদের সংসদ নেই? সংসদে যান।’

প্রধানমন্ত্রী এমন ক্ষোভ প্রকাশ করায় আতংকিত হয়ে বিকেলে ঢাকায় ফিরে সংসদ অধিবেশনে যোগ দেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার সকালে ঢাকা থেকে বিমানে সিলেট পৌঁছে সড়ক পথে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে যান। শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করেন এবং সেখানে দু’টি গাছের চারা (জাম ও কৃষ্ণচূড়া) রোপন করেন। এরপর মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ‘মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়’ মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করেন। মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়’ মাঠের পাশে একটি আম ও একটি নিম গাছের চারা রোপণ করেন।

হাসপাতাল নির্মাণে ইরানকে প্রস্তাব বিরোধীদলীয় নেতার

বাংলাদেশে বিশ্বমানের হাসপাতাল চালু করতে ইরানকে প্রস্তাব দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার সংসদ ভবনের কার্যালয়ে ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জালিল রহিমি জাহানাবাদির সঙ্গে বৈঠকে এ প্রস্তাব দেন জামায়াতে ইসলামী আমির।

জামায়াতের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দুই দেশের সংসদীয় বন্ধুত্ব গ্রুপ গঠন, তেহরান-ঢাকা সরাসরি ফ্লাইট, মেডিকেল টুরিজম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যুদ্ধে নিহত ইরানের সব নাগরিকের জন্য শোক প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের গঠনমূলক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কাজেরও প্রশংসা করেন রাষ্ট্রদূত।

জামায়াত আমির যুদ্ধবিরতি ত্বরান্বিত করতে শান্তি চুক্তি সাক্ষর করায় ইরানকে ধন্যবাদ জানান। শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। চুক্তি কার্যকর থাকবে বলেও আশা করেন।

ইরানের রাষ্ট্রদূত দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির মাধ্যমে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে তাঁর দেশের আগ্রহ ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। বাংলাদেশের উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে ইরান সরকারের সদিচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি, সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর, ইরান দূতাবাসের ফার্স্ট কাউন্সেলর এসরাফিল আমিরি গোরজাদ্দিনি, ইরান কালচারাল কাউন্সেলর মাহদি মোলারস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

‘দেশে চক্ষু পেশাজীবী গড়ে না ওঠায় বিপুল মানুষ স্বাভাবিকভাবে দেখতে পারেন না’

দেশে চোখের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করতে অপটোমেট্রি পেশাকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখনও অপটোমেট্রি পেশা স্বীকৃত ও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অথচ বিশ্বের অধিকাংশ দেশে মানুষের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা, চশমার পাওয়ার নির্ধারণ এবং প্রাথমিক চোখের সেবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন প্রশিক্ষিত অপটোমেট্রিস্টরা। দেশে অপটোমেট্রি পেশা গড়ে না ওঠায় গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক মানুষ, বিশেষ করে স্কুলশিক্ষার্থী ও বয়স্করা, সামান্য একটি চশমার অভাবে স্বাভাবিকভাবে দেখতে পারেন না। অথচ প্রয়োজনীয় চশমা ব্যবহার করলে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, শিক্ষা এবং কর্মক্ষমতায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। বৃহস্পতিবার জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট) আয়োজিত দুটি গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র এক ডলারের একটি রিডিং গ্লাস বা পড়ার চশমা কর্মক্ষম বয়সী মানুষের উৎপাদনশীলতা ও আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে। বিশেষ করে ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী মানুষেরা এই চশমা ব্যবহার করলে দ্রুত পড়তে, সেলাইয়ের মতো সূক্ষ্ম কাজ করতে এবং অন্যান্য পেশাগত দায়িত্ব আরও দক্ষতার সঙ্গে পালন করতে পারেন। এর ফলে তাদের ব্যক্তিগত আয়ও বৃদ্ধি পায়।

এম এ মুহিত বলেন, বাংলাদেশের লাখো মানুষ সাধারণ রিফ্র্যাকটিভ এররে ভুগলেও এর সমাধানে সব সময় চিকিৎসকের প্রয়োজন হয় না, অপটোমেট্রিরা এটি সমাধান করতে পারে। স্বাস্থ্যকর্মী সংকট মোকাবিলায় চিকিৎসক ও নার্সের পাশাপাশি অপটোমেট্রিস্টসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদেরও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাস্থ্যকর্মী কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে শহর ও গ্রামের মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মী বণ্টনের বৈষম্য দূর করার ওপরও গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দেশের সব অঞ্চলে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর সমান উপস্থিতি নিশ্চিত না হলে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা অর্জন সম্ভব হবে না। তাই জনবল পরিকল্পনায় অপটোমেট্রি ও অন্যান্য সহযোগী স্বাস্থ্য পেশাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার সময় এসেছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ১৩ মে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩৪ অনুযায়ী সরকার এ স্বীকৃতি দেয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আইনের প্রথম তপশিলের ৪ (খ) ধারার আওতায় অপটোমেট্রি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারী এবং এক বছর মেয়াদি ইন্টার্নশিপ সম্পন্নকারীদের ‘অপটোমেট্রিস্ট প্র্যাকটিশনার’ হিসেবে স্বীকৃতি ও নিবন্ধনের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুমোদন করা হয়েছে। অপটোমেট্রি বিষয়ে প্রশিক্ষণ বর্তমানে সীমিত আকারে পরিচালিত হচ্ছে। চট্টগ্রাম ইনস্টিটিউট অব কমিউনিটি অপথালমোলজি এবং রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ইত্তেহাদ কলেজ অব হেলথ সায়েন্স, দিনাজপুর ও সাইক কলেজ অব হেলথ সায়েন্সে, রাজশাহীতে কোর্স চালু রয়েছে।

দেশে হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে ১,০০৯ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-সংক্রান্ত নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

দেশে চলতি বছরের শুরুতে হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হলেও গত ১৫ মার্চ থেকে নিয়মিত এর তথ্য দিচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এই সময়ে হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৩ জনের। উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫৭৩ জন। মোট মৃত্যু হয়েছে ৬৬৬ জনের।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৪ হাজার ১৮৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭০ হাজার ৫০৩ জন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের পদক্ষেপগুলো দেরিতে এসেছে। বিশেষ করে হামের জন্য সরকারিভাবে পূর্ণাঙ্গ ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট প্রটোকল প্রকাশ করা হয়নি। ফলে উপজেলা হাসপাতাল থেকে শুরু করে বেসরকারি হাসপাতাল পর্যন্ত চিকিৎসকরা সমন্বিত নির্দেশনা পাচ্ছেন না। এ ছাড়া শিশুমৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণে কোনো ডেথ রিভিউ বা ক্লিনিক্যাল অডিটও হচ্ছে না। এতে একই ভুল বারবার হওয়ার ঝুঁকি থাকছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, শুধু আইসিইউ বাড়ালেই হবে না। দক্ষ জনবল ছাড়া আইসিইউ কার্যকর হয় না। আমাদের বিদ্যমান আইসিইউগুলোকে শিশু উপযোগী করতে হবে এবং অক্সিজেন সাপোর্ট সহজলভ্য করতে হবে। তিনি আরও বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুকে আইসিইউ পর্যন্ত যেতে না দেওয়াই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। উপজেলা পর্যায়ে দ্রুত শনাক্তকরণ, অক্সিজেন থেরাপি এবং কমিউনিটি পর্যায়ে আইসোলেশন নিশ্চিত করা জরুরি।

রোনালদোকে কেন তুলে নেননি, ব্যাখ্যা দিলেন পর্তুগাল কোচ

পুরো ৯০ মিনিট খেলে মোটে ২৫ বার বলে স্পর্শ, ৩টি শট নিয়ে লক্ষ্যে রাখতে পারেননি একটিও- ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচে মোটাদাগে এই ছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পারফরম্যান্স। যা রোনালদোর মতো মহাতারকার নামের সঙ্গে কোনোভাবে মানানসই নয়!

রোনালদোর এমন হতশ্রী পারফরম্যান্সের দিনে ৫২ বছর পর বিশ্বকাপ খেলতে নামা কঙ্গোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে পর্তুগাল। তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের সঙ্গে পয়েন্ট খোয়ানোয় অনেকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন রোনালদোকে। কেউ কেউ যুক্তি দিচ্ছেন, রোনালদোকে বদলি করা উচিত ছিল!

তবে এসব সমালোচনার ধার ধারছেন না পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। তিনি জানিয়েছেন, রোনালদোকে বদলি করার মতো কোনো কারণ খুঁজে পাননি তিনি।

অবশ্য জাতীয় দলের জার্সিতে বড় টুর্নামেন্টে রোনালদোর গোলখরা নতুন নয়। এ নিয়ে বিশ্বকাপে টানা ৫ ম্যাচ গোলহীন থাকলেন রোনালদো। বিশ্বকাপের সঙ্গে ইউরো বিবেচনায় নিলে, টানা ১০ ম্যাচে কোনো গোল করতে পারেননি ৪১ বছর বয়সী পর্তুগিজ মহাতারকা। বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে পেনাল্টি বাদে ওপেন প্লে থেকে রোনালদো শেষবার গোল করেছেন ২০২১ সালের ১৯ জুন!

ম্যাচের পর ম্যাচ পুরো সময় খেলছেন রোনালদো। যথারীতি গতকাল কঙ্গোর বিপক্ষে পুরো সময় খেললেও প্রতিপক্ষের গোলমুখে কোনো শট রাখতে পারেননি। বাজে পারফরম্যান্সের পরও রোনালদোকে কেন বদলি করাননি, এমন প্রশ্নের জবাবে পর্তুগাল কোচ মার্টিনেজ বলেছেন, ‘যে ম্যাচে আপনার গোল সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সে ম্যাচে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে তুলে নেওয়ার কোনো মানে হয় না।’

তাহলে পর্তুগালের সমস্যাটা কোথায় ছিল? মার্টিনেজের মতে, পর্তুগালের খেলায় তেমন আগ্রাসন ছিল না, ‘আমাদের শুরুটা খুব ভালো ছিল। আমাদের খেলার মান, ম্যাচের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে পড়ার ধরন- সবই ছিল দারুণ। সাধারণত গোলের পর সেই আবেগ দলকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে এবং দ্বিতীয় গোলের চেষ্টা করতে সাহায্য করে। কিন্তু এবার ঠিক উল্টোটা হয়েছে।’

হতাশা ঝেড়ে মার্টিনেজ আরও বলেন, ‘বরং আমরা বলের দখল ধরে রাখতে বেশি মনোযোগী হয়ে পড়ি। এর ফলে কঙ্গো তাদের রক্ষণভাগ নতুন করে সাজানোর এবং পাল্টা আক্রমণের পরিকল্পনা করার সুযোগ পায়। আমরা আক্রমণের গভীরতা হারিয়ে ফেলি, যা কঙ্গোকে সাহায্য করেছে।’

তবে একটি ম্যাচের ফল নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ দেখছেন না মার্টিনেজ। এ প্রসঙ্গে কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কাছে আর্জেন্টিনার হারের প্রসঙ্গ টেনে পর্তুগাল কোচ বলেছেন, ‘বিশ্বকাপে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই পারে। ২০২২ বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কাছে হেরেও বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা। ২০১০ সালে সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্পেন। অথচ প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্স দেখে ওদের চ্যাম্পিয়ন মনে হয়নি।’