সরকারি ক্রয়ে ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) শতভাগ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে আগামী ১ জুলাই থেকে আর কোনো ম্যানুয়াল বা অফলাইন টেন্ডার কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ থাকছে না।
বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. মঈন উদ্দীন আহম্মেদ গতকাল মঙ্গলবার বিপিপিএ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একটি জাতীয় কর্মশালায় এ কথা বলেন।
ক্রয় প্রক্রিয়া উত্তর পুনর্নিরীক্ষণ-বিষয়ক কর্মশালায় এস. এম. মঈন উদ্দীন আহম্মেদ বলেন, আগামী ১ জুলাইয়ের আগে কোনো টেন্ডার প্রক্রিয়া ম্যানুয়ালি শুরু হয়ে থাকলে, সেই টেন্ডারের অবশিষ্ট ধাপগুলোও ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেই সম্পন্ন করা যাবে। তবে ১ জুলাই থেকে বিপিপিএ আর কোনো অফলাইন টেন্ডারের অনুমোদন দেবে না। গত বছরের সেপ্টেম্বরে কার্যকর হওয়া পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী সব সরকারি ক্রয়ে ই-জিপি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করে এ সম্পর্কিত গেজেট গত ১০ এপ্রিল প্রকাশিত হয়। এতদিন বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে ক্রয়কারী অফিসগুলোর (পিই) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিপিপিএ ম্যানুয়াল টেন্ডারের অনুমতি দিয়ে আসছিল।
জুলাই থেকে কোনো অফলাইন টেন্ডার থাকছে না
পুরোপুরি বাজারভিত্তিক হতে পারে ডলারের দর
টাকা-ডলার বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করার বিষয়ে ভাবছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে কোনো ব্যাংক যেন ডলার বাজারে কারসাজি না করে সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হবে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ঋণের শর্ত হিসেবে বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে।
পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করার ক্ষেত্রে কোথায় কী বাধা রয়েছে সে বিষয়ে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তাকে না রেখে বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তাদের খোলামেলা কথা বলতে বলা হয়।
বৈদেশিক মুদ্রা বাজার এবং সমসাময়িক বিষয়ে আলোচনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ এ সভা ডাকে। সভার শুরুতে ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক সরোয়ার হোসেন ও বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগের পরিচালক মো. বায়েজিদ সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। গভর্নর সভায় যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সব কর্মকর্তাকে সভাস্থল ত্যাগ করতে বলেন।
জানা গেছে, আইএমএফের চলমান ৫৫০ কোটি ডলার ঋণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ডলারের দর পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করার বিষয়টি আলোচনায় আনা হয়েছে। কেননা জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইএমএফের কাছ থেকে আরও ২০০ কোটি ডলার এবং বিশ্বব্যাংক থেকে ১০০ কোটি ডলার ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। নতুন করে এসব ঋণ পাওয়া না গেলেও কোনো কারণে যেন চলমান কর্মসূচি বাতিল না হয়, তা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
সরকার আইএমএফের শর্ত পরিপালনে এরই মধ্যে জ্বালানির দর বাজারভিত্তিক করা হয়েছে। আবার রাজস্ব আয় বাড়ানোর পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। এ ছাড়া খেলাপি ঋণ কমানো ও সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে নতুনভাবে যুক্ত ১৮(ক) ধারা সংশোধন কিংবা বাদ দেওয়া হতে পারে। এসবই করা হচ্ছে ঋণ কর্মসূচি চলমান রাখার লক্ষ্যে।
গতকালের বৈঠকে গভর্নর জানতে চান, ডলারের দর নির্ধারণে কোনো হস্তক্ষেপ করা হয় কিনা। বিদেশি একটি ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধান বাংলাদেশ ব্যাংকের মৌখিক হস্তক্ষেপের কথা বলেন। বাংলাদেশ ব্যাংক নৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ডলারের দর ঠিক করে দেয় বলে জানান। কয়েকজন ট্রেজারিপ্রধান জানান, ডলারের দর নির্ধারণে বাংলাদেশ ব্যাংক সবসময় নির্দেশনা দিয়ে থাকে। কোনো কারণে সেই দরের চেয়ে কম-বেশি হলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রশ্ন করা হয়। অনেক সময় পরিদর্শক দল পাঠানো হয়। বৈঠকে বলা হয়, ডলারের দর বাজারভিত্তিক বলা হলেও কখনোই পুরোপুরি হয়নি। এমনকি ব্যাংকগুলো থেকে নিলামে ডলার কেনার সময়ও কেমন দরে কেনা হবে সে বিষয়ে আগাম ধারণা দেওয়া হয়। সে আলোকে ব্যাংকগুলো নিলামে অংশ নেয়।
জানা গেছে, বৈঠকে গভর্নর বলেন, এখন বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ ভালো আছে। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিরা রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। আবার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতিরও উন্নতি হয়েছে। এখন ডলার বাজারে বাংলাদেশ ব্যাংক হস্তক্ষেপ করতে চায় না। পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করার পক্ষে। গভর্নর অবশ্য এও বলেন, বাজারে তদারকির প্রয়োজন আছে। কেউ যদি কারসাজি করে, তাহলে শাস্তি পেতে হবে। অহেতুক আগাম ডলার কেনার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এ জন্য ‘ফরওয়ার্ড বুকিং’ তথা ভবিষ্যতের প্রয়োজনে আগাম বুকিংয়ের বিষয়ে আপত্তির কথা জানান। গভর্নরের যুক্তি, চাহিদামতো ডলার না পাওয়ার মতো অবস্থা নেই। আগাম ডলার কিনলে বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়।
পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আবার ট্রেজারিপ্রধানদের সঙ্গে সভা করেন। তখন ট্রেজারিপ্রধানেরা জানান, ডলারে বাজারে কোন বিষয়কে কারসাজি হিসেবে ধরা হবে, তার তালিকা দিলে সবার জন্য ভালো হয়। এতে সবাই নিয়ম মেনে চলতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খানের কাছে জানতে চাইলে সভার বিষয়ে তিনি কিছু বলতে চাননি। তবে তিনি সমকালকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দর পুরোপুরি বাজারের ওপর ছেড়ে দিতে চায়। তবে ব্যাংকগুলোর থেকেও দায়িত্বশীল আচারণ প্রত্যাশা করা হয়।
হাম প্রতিরোধে সরকারের কাছে চার দাবি জামায়াতের
হাম প্রতিরোধে সরকারের কাছে চার দফা দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এগুলো হলো, দেশের প্রতিটি অঞ্চলে ক্র্যাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে শতভাগ টিকাদান, প্রকোপ বেশি এমন এলাকায় বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন, জরুরি ওষুধ ও পুষ্টি সহায়তা, সব সরকারি হাসপাতালে পৃথক ওয়ার্ড ও পর্যাপ্ত চিকিৎসার সরঞ্জাম নিশ্চিত করা এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক প্রচারের উদ্যোগ গ্রহণ।
মঙ্গলবার বিবৃতিতে এসব দাবি জানিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেছেন, সঠিক সময়ে যথাযথ প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ, টিকাদান কর্মসূচির স্থবিরতা এবং গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসা সেবার অপ্রতুলতায় হামে চার শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই চরম সংকটের মুহুর্তে প্রশাসনের যেসব সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল, তা দৃশ্যমান হচ্ছে না। রোগআক্রান্তদের আইসোলেশন ও চিকিৎসায় উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে।
জামায়াতের সব স্তরের নেতাকর্মীকে হামে আক্রান্ত অসহায় ও দরিদ্রদের দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ফেরার ২০ প্রেক্ষাপট তুলে ধরলেন মাহফুজ আলম ফেসবুক পোস্ট
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ দেশের রাজনীতিতে ‘ফিরে এসেছে’ বলে মনে করছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। কীভাবে ফিরেছে, তা নিয়ে মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই নেতা। পোস্টে আওয়ামী লীগের ফেরার ২০টির মতো কারণ ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, ‘লীগ রাজনৈতিক দলের আগে একটা ধর্মতত্ত্ব, সে ধর্মতত্ত্বে ইমান আবার ফেরত এসেছে। কীভাবে ফিরল, সে গল্পই বলব আজ।’ কিছু সময় পরে তিনি এ নিয়ে আরেকটা পোস্ট দেন। সেই পোস্টে জুলাই আন্দোলনের পক্ষের সব শক্তির মধ্যে ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের একটি কমন স্পেইস তৈরির আহ্বান জানিয়ে যে যার জায়গা থেকে সক্ষম, যতবেশি সম্ভব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন গড়ে তোলার কথা বলেন।
প্রথম পোস্টে তিনি লেখেন, ‘লীগ রাজনৈতিক দলের আগে একটা ধর্মতত্ত্ব, সে ধর্মতত্ত্বে ইমান আবার ফেরত এসেছে।’
তিনি লিখেছেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন ২৪–কে ৭১–এর বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছিল স্বাধীনতার বিরুদ্ধের শক্তি। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন থেকে ডানপন্থীদের উত্থানের জন্য অন্তরীণ সরকারের লোকজন কাজ করা শুরু করেছে, লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে। যেদিন আইনের শাসনের বদলে মবের শাসনে আনন্দ পেয়েছিল গত ১৭ বছরের মজলুমগণ।’
মাজারে হামলা, হিন্দুদের ওপর নিপীড়নের বিরুদ্ধে সরব না হওয়াও আওয়ামী লীগের ফেরার পথ সুগম করেছে মন্তব্য করে মাহফুজ আলম আরও লিখেছেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন থেকে উগ্রবাদীরা মাজারে হামলা করেছে, মসজিদ থেকে ভিন্নমতাবলম্বীদের বের করে দিয়েছে। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন হিন্দুদের উপর নিপীড়ন নিয়ে মজলুমগণ চুপ ছিল।’
মাহফুজ আলমের প্রথম ফেসবুক পোস্ট
ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের মধ্যে ডানপন্থার উত্থানের আশঙ্কা এবং উগ্রবাদীদের নিরাপদ জায়গা করে দেওয়াটা আওয়ামী লীগের ফেরার জন্য সহায়ক হয়েছে জানিয়ে মাহফুজ আলম বলেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন সেক্যুলার মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষজন এ দেশে সরকার প্রযোজিত ডানপন্থার উত্থানে ভয় পেয়েছিল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন মবস্টারদের এ দেশে হিরো বানানো হয়েছিল। উগ্রবাদীর সেফ স্পেইস দেয়া হইসিল।’
অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি লিখেছেন, লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন ব্যবস্থা বিলোপের বদলে ন্যূনতম সংস্কার ও ঐকমত্য কমিশন নাম দিয়ে জনগণকে বিচ্ছিন্ন এবং হতাশ করা হলো। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন থেকে বিএনপি ও অন্তরিণ সরকারের বিরুদ্ধে গেল আর বিএনপি ও ঠেকাতে জামায়াতকে কোলে নিল অন্তরীণ।’
মাহফুজ আলম লিখেছেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন ছাত্ররা বিপ্লবী সংগঠনে রূপ না নিয়ে লুম্পেন চরিত্রের ক্লাব আর মবে রূপ নিয়েছিল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন মিডিয়া আর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের উপর হামলা প্রযোজিত হলো। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন অন্তরিণ সরকার পলিটিক্যাল থেকে আমলাতান্ত্রিক হলো এবং আমলানির্ভর কিচেন ক্যাবিনেট থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া শুরু হলো। যে কিচেন ক্যাবিনেটের অধিকাংশ লোকই ছিল জামায়াত-বিএনপি বা লীগের ছুপা দালাল। যাদের কাছে জুলাই মানে ছিল, নিজেদের পরিবার, প্রজন্ম আর প্রতিষ্ঠানের স্বার্থরক্ষা।’
আওয়ামী লীগের ফেরার জন্য সহায়ক হয়েছে এ রকম আরও কিছু বিষয় তুলে ধরে মাহফুজ আলম লিখেছেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে গণতন্ত্রের বদলে সংঘতন্ত্র জয়ী হল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন নতুন মিডিয়া অনুমোদনে বাধা দেওয়ার জন্য একজোট হইসিল কিচেন ক্যাবিনেট। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন জুলাই ঘোষণাপত্র কিংবা সনদের প্রক্রিয়া তুলে দেয়া হইসিল আমলাতন্ত্র আর ভেস্টেড ইন্টারেস্ট গ্রুপের হাতে। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন বাম-শাহবাগী পিটাইলে আনন্দ পেয়েছিল মজলুমগণ।’
মাহফুজ আলম লিখেছেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন এদেশে কাওয়ালি/ইনকিলাবি কালচারের মতন রিগ্রেসিভ কালচার–ব্যবস্থা দিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদ মোকাবেলার মহারম্ভ হয়েছিল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন নির্বাচনি বাঁটোয়ারার মাধ্যমে সংস্কার ও বিচারকে কম্প্রোমাইজ করা হলো এন্ড বিএনপি-জামাতের বার্গেইনিং টুল বানানো হলো। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন কমিশন, ট্রাইবু৵নাল, বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদিকে একটি আদর্শের লোকদের মাধ্যমে ক্ষমতারোহণের বার্গেইনিং টুলে পরিণত করা হল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন কালচারালি-ইন্টেলেকচুয়ালি যারা জুলাইয়ে আমাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল, তাদের বাদ দিয়ে জিরো কন্ট্রিবিউশন গুপ্তদের ক্ষমতায়িত করা হলো।’ এই তালিকা আরও বাড়বে বলে পোস্টের শেষাংশে উল্লেখ করেছেন মাহফুজ আলম।
পোস্টের শেষে মাহফুজ লেখেন, ‘লীগ ফিরত আসবে। কারণ, সব দোষ মাহফুজ আলমের। প্রচারে- নিখিল বাংলাদেশের চিরকাল মজলুম-ডানপন্থী বলয়, অন্তরীণ কিচেনের দালাল-সুবিধাভোগী গুপ্ত বলয়, এবং দিস এন্ড দোস বটফোর্সেস, সিন্ডিকেট আর গং মানে গয়রহ।’
মাহফুজ আলমের পরের ফেসবুক পোস্ট
তার এই পোস্টের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা শুরু হলে আরেকটি পোস্টে মাহফুজ লেখেন, ‘যারা আগের পোস্টকে পর্যালোচনা হিসাবে পাঠ করেছেন, তাঁদের জন্য বলছি। আমাদের এখনকার কাজ হল- সকল নিপীড়নের বিরুদ্ধে, নিপীড়িতের পক্ষে থাকা। দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে বাংলাদেশের সকল নাগরিকের মানবাধিকারের পক্ষে থাকা। হঠকারী, উগ্রবাদী এবং অন্তর্ঘাতমূলক রাজনীতিকে পরাস্ত করা। সংখ্যালঘু ও মাজারপন্থিদের উপর হামলার বিচার করার দাবি অব্যাহত রাখা। জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিকে প্রধান করে তোলা এবং বিচারের ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে থাকা। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে বর্তমান সরকারকে বাধ্য করা।’
তিনি লেখেন, ‘বাংলার বহু ভাষা-সংস্কৃতিকে যাপন-উদযাপন করা এবং রিগ্রেসিভ-ডিফিটিস্ট কালচারাল লড়াইকে জায়গা না দেয়া। কালচারালি-ইন্টেলেকচুয়ালি যারা বিভিন্ন বর্গ থেকে জুলাইয়ের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদেরকে ঔন করা। লীগের ফ্যাসিস্টদের লক্ষ্যবস্তু এরাই।’
জুলাই আন্দোলনের পক্ষের সব শক্তির মধ্যে ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের একটি কমন স্পেইস তৈরির আহ্বান জানিয়ে যে যার জায়গা থেকে সক্ষম, যতবেশি সম্ভব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বললেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জীবনমান উন্নয়নে সহযোগিতা করতে পারে আইএলও
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও) বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন এবং চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে পৃথক দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টরের সঙ্গে বৈঠকে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জীবনমান উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা হয়। এ সময় মন্ত্রী বলেন, দেশের শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণ ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে আইএলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে চীনের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে অবকাঠামো ও নগর উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে নিরাপদ পানি সরবরাহ, আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, নির্মাণ খাত এবং নগর অবকাঠামো উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা গুরুত্ব পায়।
সাক্ষাৎকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান, উন্নয়ন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পুষ্পকথা বিশ্বের বৃহত্তম সাকুলেন্ট ফুল
বাসায় টবের একটা গাছে একটা ফুল ফুটেছে। ফুল এত বড় হয়? হ্যাঁ হয়। এটি বিশ্বের কোনো স্থূলপর্ণী বা সাকুলেন্ট জাতীয় গাছের সবচেয়ে বড় ফুল! জানতেই ফুলটার প্রতি যেন কদর বেড়ে গেল, এমন একটা ফুলকে প্রত্যক্ষ করা কজনের ভাগ্যে জোটে!
ফুলটা মাপার জন্য ফিতা নিয়ে এলাম। তারার মতো ফোটা ফুলের পাপড়ির এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত মেপে পাওয়া গেল ৩০ সেন্টিমিটার! একটি ফুল প্রস্ফুটিত অবস্থায় পাপড়ির বিস্তার এক ফুট!
দুই বছরের বেশি সময় ধরে গাছটা আমাদের ঘর-ছাদ ঘুরে বেড়াচ্ছে। কখনও টবের সেই গাছটাকে ঘরে রাখি, কখনোবা কয়েক দিনের জন্য রেখে আসি ছাদে। টবের ভেতরে ধাঁই ধাঁই করে গাছ বাড়ে, কাণ্ডগুলো আকাশের দিকে খাড়া হয়ে থাকে, একসময় সেসব কাণ্ড থেকে কিছু শাখা-প্রশাখা বের হয়। তখন কাণ্ডগুলো ভারী হয়ে মাটির দিকে নত হতে থাকে। বাতাসে দুলতে দুলতে সেগুলো ছাদের ঘষায় কখনও আহত হয়।
ঝুলন্ত শাখা কেটে তাকে অন্য একটা টবের মাটিতে পুঁতে দিই। কয়েক দিনের মধ্যেই একটু যত্ন-আত্তি পেয়ে সে অপত্য গাছ নিজেই স্বয়ংসম্পূর্ণ গাছ হয়ে ওঠে। খুব বাড়লেও গাছটা কখনও আট-দশ ইঞ্চির বেশি লম্বা হতে দেখিনি। কিন্তু ওই ছোট্ট গাছেই যে এত্ত বড় ফুল ফুটতে পারে, তা ছিল কল্পনাতীত।
গাছ লাগানোর পর প্রায় দুই বছরের মাথায় এই প্রথম চারটি অদ্ভুত কুঁড়ি দেখলাম। চোখা মাথা চতুষ্কোণাকার বেলুনের মতো কুঁড়িগুলো বেরিয়েছে ডালের পাশ থেকে। লম্বা বোঁটা, হালকা লালাভ ঘিয়া রং। এ রকম অদ্ভুত কুঁড়ি কখনও চোখে পড়েনি।
কুঁড়ি ধীরে ধীরে আরও বড় হয়, ফোলে। একদিন একটা কুঁড়ির বোঁটার থেকে শীর্ষ পর্যন্ত দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় ১৮ সেন্টিমিটার। রাতে ঘুমুতে যাই। ঝুমবৃষ্টি নামল। কী হবে ছাদে রাখা গাছটার! ফুলের কুঁড়িটা ফোটার আগেই কি ঝরে যাবে?
পরদিন সকাল হতেই ছাদে গেলাম। না, চারটি কুঁড়ির মধ্যে একটি ফুল হয়ে ফুটেছে। ওইটুকু ছোট গাছে যে এত বড় ফুল ফুটতে পারে– বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। ফুলটার গড়ন দেখতে অবিকল তারা মাছের মতো বলে এর ইংরেজি নাম ‘স্টারফিশ ফ্লাওয়ার’, উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Stapelia gigantea ও গোত্র অ্যাপোসাইনেসি। কুঁড়ি দেখতে পেটফোলা কোলা ব্যাঙের মতো, সেজন্য এর আর একটা ইংরেজি নাম ‘টোড প্লান্ট’।
গাছটা যে কেউ দেখলে বলবে, ওটা তো ক্যাকটাস গাছ। ক্যাকটাসের মতো শির তোলা। কাণ্ড, কাণ্ডের চারটি শিরে সারি ধরা তীক্ষ্ণ কাঁটা। তফাতটা হলো, এর কাণ্ড রসালো, নরম, বিড়ালের নখের মতো বাঁকানো ছোট কাঁটাগুলোও নরম। খরাতেও মরে না।
ফুলের ঘ্রাণটা সুখকর না, সামান্য পচা মাংসের ঘ্রাণ পাওয়া যায়। এই বদ গন্ধ মাছিদের আকৃষ্ট করে। এক ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য ডায়ামিন, সালফার ও বিভিন্ন ফেনোলিক যৌগ এ বদ গন্ধের জন্য দায়ী। সারা বছর ফুল ফোটার কথা থাকলেও এ বছর গ্রীষ্মকালে এ ফুলের দেখা পেলাম। ফুল ফোটার পর প্রথম ফুলটা রইল দুদিন, পরেরগুলো গাছে রইল তিন থেকে চার দিন। এর পর ঢলে শুকিয়ে গেল। আবার কবে দেখব সেই অপ্সরাকে, কে জানে!
পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে সিরিজ জয় বাংলাদেশের
সিলেট টেস্টে ৪৩৭ রানের পর্বতসম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অলৌকিক কিছু ঘটিয়ে রীতিমতো ইতিহাস গড়তে হতো পাকিস্তানকে। সফরকারীরা সেই অসম্ভব ইতিহাস গড়তে না পারলেও সিলেটের চেনা মাঠে নতুন এক ইতিহাস লিখেছে বাংলাদেশ। পঞ্চম দিনের প্রথম সেশনেই পাকিস্তানকে ৩৫৮ রানে অলআউট করে ৭৮ রানের অবিস্মরণীয় জয় তুলে নিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। আর এই জয়ে ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ নিজেদের করে নিল টাইগাররা।
নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে এবারই প্রথম ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে কোনো টেস্ট সিরিজ জয়ের গৌরব অর্জন করল বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা চার টেস্ট জয়ের নতুন রেকর্ডও গড়ল শান্তর দল। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে আর কোনো দলের বিপক্ষে টানা এত ম্যাচ জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এছাড়া পাকিস্তানকে টানা দুই সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার স্বাদ পেল বাংলাদেশ। দুই বছর আগে রাওয়ালপিন্ডির পর এবার ঘরের মাঠে একই কীর্তি গড়ল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
৪৩৭ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে চতুর্থ দিন শেষে ৭ উইকেটে ৩১৬ রান করেছিল পাকিস্তান। শেষ দিনে জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার ছিল মাত্র ৩ উইকেট, অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১২১ রান। পঞ্চম দিনের শুরুতে ব্যাট করতে নামেন আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান। দিনের শুরুতেই এই জুটি ভাঙার সুযোগ এসেছিল। নাহিদ রানার বলে স্লিপে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন রিজওয়ান, কিন্তু সেই সহজ ক্যাচটি মিস করেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
জীবন পেয়ে সাজিদ খানকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশিদের কিছুটা ভোগাতে থাকেন রিজওয়ান। এই দুই ব্যাটারের ব্যাটে ভর করে পাকিস্তান যখন জয়ের স্বপ্ন দেখছিল, ঠিক তখনই আঘাত হানেন তাইজুল ইসলাম। সাজিদ খানকে আউট করার মাধ্যমে ইনিংসে নিজের পঞ্চম উইকেটপূর্ণ করেন এই বাঁহাতি স্পিনার। আউট হওয়ার আগে ৩৬ বলে ২৮ রান করেন সাজিদ।
ছবি- ইউসুফ আলী
পাকিস্তানের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন সেই তাইজুলই। শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হন খুররাম শাহজাদ। তাইজুলের একটি শর্ট বল মিড উইকেট দিয়ে উড়িয়ে মারতে চেয়েছিলেন খুররাম, কিন্তু টাইমিং মেলাতে পারেননি। সীমানায় ফিল্ডিংয়ে থাকা অভিষিক্ত তানজিদ হাসান তামিম সহজ ক্যাচটি লুফে নিতেই বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠে পুরো সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দিতে একাই ৬ উইকেট শিকার করেন তাইজুল ইসলাম। পাকিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ ৯৪ রান করেন মোহাম্মদ রিজওয়ান এবং ৭১ রান আসে অধিনায়ক শান মাসুদের ব্যাট থেকে।
রিজওয়ানকে ফেরালেন শরীফুল, জয় থেকে ১ উইকেট দূরে বাংলাদেশ
সিলেট টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিনে রোমাঞ্চকর এক জয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যাওয়া রিজওয়ানকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের শেষ প্রতিরোধ ভেঙে দেন শরীফুল ইসলাম। ম্যাচে এটাই তার প্রথম উইকেট। ৯৪ রানে রিজওয়ানের ফেরার পাকিস্তানের শেষ জুটির উইকেট উপড়ে ফেলার অপেক্ষায় টাইগাররা। জয় পেতে আর এক উইকেটের অপেক্ষা বাংলাদেশের। অন্যদিকে ম্যাচ জিততে সফরকারী পাকিস্তানের এখনো চাই ৭৯ রান।
আজ পঞ্চম দিনের খেলা শুরু হওয়ার পর থেকেই পাকিস্তানি লোয়ার অর্ডারকে ভাঙতে মরিয়া ছিল বাংলাদেশ। অবশেষে খেলা শুরুর ৫০ মিনিট পর বাংলাদেশকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন তাইজুল ইসলাম। তার ডেলিভারিতে পরাস্ত হন আমির জামাল (৯)। এটি ম্যাচে তাইজুলের পঞ্চম শিকার।
রিজওয়ানের বিদায়ের পর পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়িয়েছে ৯ উইকেটে ৩৫৮ রান। ক্রিজে শেষ ব্যাটার হিসেবে মোহাম্মদ আব্বাস যুক্ত হয়েছেন নাসিম শাহর সঙ্গে।
বাংলাদেশকে চাপে রেখেছে পাকিস্তান
সকাল থেকে চেষ্টা করেও এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের উইকেট নিতে পারেনি বাংলাদেশ। উল্টো দিনের প্রথম ৫ ওভারে ২৯ রান তুলে বাংলাদেশকে চাপে রেখেছে পাকিস্তান। শুরুটা ভালো করতে পারেননি বাংলাদেশের বোলাররা। ম্যাচ জিততে আরও ৮৪ রান দরকার পাকিস্তানের। ক্রিজে আছেন পাকিস্তানের দুই ব্যাটার রিজওয়ান ও সাজিদ খান।
পাকিস্তানকে হারাতে তিন উইকেট চাই বাংলাদেশের
সিলেট টেস্টে আজ শেষ দিনে খেলা শুরুর নির্ধারিত সময় ছিল সকাল ১০টা। কিন্তু ভেজা আউট ফিল্ডের কারণে ম্যাচ শুরু হতে ১৫ মিনিট বিলম্ব করা হয়েছে। ১০.১৫ তে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের দ্বিতীয় টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিনের খেলা। ম্যাচ জিততে আর তিন উইকেট দরকার স্বাগতিকদের। অপরদিকে পাকিস্তানের দরকার ১২১ রান। ৮৬ ওভারে সাত উইকেটে ৩১৬ রান করেছে দলটি। ১৭৪ বলে ৭৫ রানে ব্যাটিংয়ে আছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। অপরদিকে ৯ বলে আট রানে ব্যাটিংয়ে আছেন সাজিদ খান।
কোমরপুর খামারে আলোচনার শীর্ষে ‘লাল বাহাদুর’
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশাল আকৃতির গরু ‘লাল বাহাদুর’। ব্যতিক্রমী আকার আর দৃষ্টিনন্দন গড়নের কারণে এরই মধ্যে এটি ক্রেতাদের নজর কেড়েছে।
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর এলাকার একটি খামারবাড়িতে ‘লাল বাহাদুর’কে লালন-পালন করা হয়েছে। কয়েক বছর ধরে বিশেষ যত্নে বড় করা হয়েছে গরুটিকে। দেবহাটা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আল ফেরদাউস আলফার প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা এই খামারটিতে স্থানীয় ৪ টি পরিবারের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ হয়েছে।
খামারে নিয়োজিত কর্মচারীরা জানান, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে গরুগুলোকে বড় করা হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা হরমোন ব্যবহার করা হয়নি। খড়, ঘাস, গমের ভূসি ও ভুট্টার গুঁড়ো ছিল ‘লাল বাহাদুরে’র প্রধান খাদ্য। ফলে এটি দেখতে অনেকটা দেশীয় গরুর মতোই। বর্তমানে খামারটিতে ২০০টি গরুর সক্ষমতা থাকলেও কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ৪০টি গরু। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ৫ লাখ টাকা দামের ‘লাল বাহাদুর’। বাকি গরুগুলোর দাম চাওয়া হচ্ছে ২ থেকে ৩ লাখ টাকার মধ্যে।
খামারের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মচারী বলেন, ‘আমরা প্রাকৃতিক উপায়ে গরুগুলো বড় করেছি। এখন বিক্রির জন্য এগুলো প্রস্তুত। লাল বাহাদুরকে ঘিরে মানুষের দারুণ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।’
এদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় ১২ হাজার ৮৯৪টি খামারে কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব খামারে ৪৯ হাজারের বেশি গরু, ৪৪ হাজারের বেশি ছাগল ও ৬ হাজারের বেশি ভেড়া রয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এফ এম মান্নান কবীর বলেন, স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পশু লালন-পালন নিশ্চিত করতে খামারগুলোতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। প্রতিবছরের মতো এবারও বড় গরু নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ কাজ করছে।
‘বনলতা সেন’ সিনেমা নিয়ে বিরোধে নির্মাতা ও সহ-প্রযোজক
দীর্ঘদিনের অপেক্ষা পেরিয়ে ঈদে মুক্তির ঘোষণা এসেছে ‘বনলতা সেন’ সিনেমার। মুক্তির ঘোষণা এলেও নতুন করে জটিলতায় পড়তে পারে সিনেমাটি। সহ-প্রযোজক তরুণ মজুমদার ও নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল পাল্টাপালি অভিযোগ নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
২০২১-২২ অর্থবছরে সরকারি অনুদান পাওয়া সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন মাসুদ হাসান উজ্জ্বল। গত দুই বছর ধরেই সিনেমাটির মুক্তির খবর শোনা গেলেও নানা কারণে তা পিছিয়ে যায়। এর মধ্যে নির্মাতার সঙ্গে সহ-প্রযোজক তরুণ মজুমদারের বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
সম্প্রতি পোস্টার প্রকাশ করে ঈদে সিনেমাটি মুক্তির ঘোষণা দেন নির্মাতা। এরপরই প্রকাশ্যে আসে নির্মাতা ও সহ-প্রযোজকের বিরোধের বিষয়টি। এ বিষয়ে উজ্জ্বল বলেন, আদালতের নির্দেশনা মেনেই সিনেমাটি মুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সহ-প্রযোজক তরুণ মজুমদারের অভিযোগ, আদালত তাদের সমঝোতার মাধ্যমে সিনেমা মুক্তির নির্দেশ দিলেও সেটি মানা হয়নি।
সহ-প্রযোজক তরুণ মজুমদারের অভিযোগ, ‘বনলতা সেন’ সিনেমার জন্য তাঁর কাছ থেকে ৬১ লাখ টাকা নিয়েছেন নির্মাতা উজ্জ্বল। কিন্তু তাকে বাদ দিয়েই সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেন্সরে জমা দেওয়ার সময় তাঁর নাম দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে সেন্সর বোর্ডে অভিযোগ জানিয়েছেন তরুণ।
তরুণ মজুমদার সমকালকে বলেন, “সিনেমার নির্মাণ শুরুর পর সবকিছু ভালোই চলছিল। সহ প্রযোজক হিসেবে মুক্তি হওয়ার পর সিনেমা নির্মাণের জন্য প্রথমে ৪০ লাখ পরে আরও ২১ লাখসহ মোট ৬১ লাখ টাকা নিয়েছেন নির্মাতা উজ্জ্বল। পরবর্তীতে আমি সিনেমা নিয়ে কিছু জানতে চাইলে তিনি আমার সঙ্গে টালবাহানা শুরু করেন। এক পর্যয়ে আমি টাকা ফেরত নিয়ে সিনেমা থেকে থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে তিনি টাকা ফেরত দিতে চাননি। ফলে বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় গড়ায়।”
তরুণ মজুমদারের অভিযোগ অস্বীকার করে নির্মাতা উজ্জ্বল সমকালকে বলেন, ‘ব্যবসায়িক একটা জায়গা থেকে আমরা সিনেমাটি শুরু করেছিলাম। চুক্তিও হয়েছে। অথচ সিনেমা মুক্তির আগেই তিনি প্রতারণার অভিযোগ করে আদালতে গেছেন। মামলাও করেছেন। সেটি তদন্ত হয়েছে। সিনেমা নির্মাণের পর যদি কোনো প্রযোজক টাকা ফেরত চান তাহলে সেই টাকা নির্মাতা কীভাবে ফেরত দেবেন। এছাড়া সরকারি অনুদানের সিনেমায় অনুদানপ্রাপ্ত ব্যক্তির নামই প্রযোজক হিসেবে থাকে। তিনি তো প্রযোজক সমিতির সদস্যই না।’
তরুণ মজুমদারের সিনেমা থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্তের বিষয় উজ্জ্বল বলেন, ‘সিনেমার বেশিরভাগ কাজ শেষ করার পর তিনি বেরিয়ে যেতে চান। এবং সুদসহ সেই টাকা ফেরত চেয়েছিলেন। তাহলে বোঝেন, সেই সময় কি টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব? এরপর হুট করেই তিনি আমার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেন। তিনি এই সিনেমা নিয়ে আমাদের টিমের সঙ্গে যা করেছেন তাতে তো মামলা করার কথা আমার। কিন্তু আমি সেটা করিনি। আমি চেয়েছি সিনেমাটি যেন ভালোভাবে দর্শকের মাঝে পৌঁছায়।’
কবি জীবনানন্দ দাশ-এর বিখ্যাত কবিতার চরিত্রকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে ‘বনলতা সেন’। নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মাসুমা রহমান নাবিলা। কবি জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে দেখা যাবে খায়রুল বাসারকে। এছাড়া আরও অভিনয় করেছেন গাজী রাকায়েত, সোহেল মণ্ডল ও প্রিয়ন্তী উর্বী।
মিলছে মৃত্যুর খবরও প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যেও হাম ছড়াচ্ছে দেড় শতাধিক প্রাপ্তবয়স্ক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
হামে আক্রান্ত ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন ৪৩ বছর বয়সী হাফিজ উদ্দিন। কয়েক দিনের মধ্যে নিজেই হয়ে যান রোগী। প্রথমে জ্বর, পরে সারাশরীরে লালচে দানা। এরপর শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাঁকেও ভর্তি করা হয় রাজধানীর মহাখালীর ডিএনসিসি ডেডিকেটেড হাসপাতালে।
চিকিৎসকরা বলছেন, হামের সংক্রমণ তাঁর ফুসফুসে প্রভাব ফেলেছে, এমনকি হৃদযন্ত্রেও জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। হাফিজের বাড়ি কেরানীগঞ্জে। তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার ছেলের হাম শনাক্ত হয়। বাসায় আলাদা করে রাখতে পারিনি। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ছেলের সঙ্গে কাটছে দিনরাত। ভাবিনি আমারও হাম হবে। এখন চিকিৎসক বলছেন, অবস্থা জটিল হতে পারে।
শুধু হাফিজ উদ্দিন একা নন, সাম্প্রতিক সময়ে শিশুর পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যেও বাড়ছে হামের সংক্রমণ। ডিএনসিসি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৫০০ রোগীর মধ্যে সাড়ে ১৮ শতাংশের বয়স পাঁচ বছরের বেশি। সেখানে ৫০ বছর বয়সী রোগীরও চিকিৎসা নেওয়ার নজির রয়েছে। হাসপাতালটিতে এরই মধ্যে ২৪ বছর বয়সী এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে ১২ বছরের বেশি বয়সীর জন্য আলাদা ‘ইনফেকশাস ব্লক’ চালু করা হয়েছে। এখন সেখানে ৭৪ রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ৯৩ জন, রংপুরে ছয়জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি চিকিৎসা নিচ্ছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে বয়সভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ তথ্য না থাকায় দেশে কতজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি হামে আক্রান্ত হয়েছেন, এর সঠিক সংখ্যা জানতে পারেনি সমকাল।
সংক্রমণ ছড়াচ্ছে পরিবার থেকেই
ডিএনসিসি ডেডিকেটেড হাসপাতালের ডা. আসিফ হায়দার বলেন, ‘প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ পরিবারের শিশুসদস্যদের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া। কোনো শিশু আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে সঠিকভাবে আইসোলেশনে না রাখলে পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যেও দ্রুত এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই মনে করেন হাম শুধু শিশুদের রোগ। তবে এখন আমরা নিয়মিত প্রাপ্তবয়স্ক রোগী পাচ্ছি। তাদের কারও নিউমোনিয়া হচ্ছে, কারও শ্বাসকষ্ট বাড়ছে।’ তিনি জানান, যারা শিশুকালে টিকা নেননি, টিকার পূর্ণ ডোজ সম্পন্ন করেননি, আগে কখনও হামে আক্রান্ত হননি কিংবা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল তাদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। ক্যান্সার, যক্ষ্মা, দীর্ঘমেয়াদি অসুখ বা স্টেরয়েড সেবনের কারণে যাদের শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, তাদের ঝুঁকি আরও বেশি।
চট্টগ্রামেও শতাধিক প্রাপ্তবয়স্ক রোগী
চট্টগ্রামেও বড়দের শরীরে মিলছে হামের উপস্থিতি। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে শতাধিক প্রাপ্তবয়স্ক রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। অধিকাংশ রোগীর বয়স ১৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। আক্রান্তের মধ্যে নারীর সংখ্যা বেশি।
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানায়, সেখানে অন্তত ৪০ জন প্রাপ্তবয়স্ক রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে ভর্তি আছেন ছয়জন। ৫৩ বছর বয়সী এক নারীও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অনেক রোগীকেই পাঁচ থেকে সাত দিন হাসপাতালে থাকতে হচ্ছে। ১৯ বছর বয়সী কুলসুমা বেগম কয়েক দিন জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বাড়িতে ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁর স্বামী আলী আফসার বলেন, ‘বড়দের হাম হয় জানতাম না। প্রথমে গুরুত্ব দিইনি। পরে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় হাসপাতালে আনতে হয়েছে।’ ১৬ বছর বয়সী জান্নাতুল আক্তারের বোন আয়েশা আক্তার বলেন, ‘এক দিনের মধ্যে শ্বাসকষ্ট অনেক বেড়ে যায়। হাসপাতালে এনে জানতে পারি, হাম হতে পারে।’
হাম ও হামের লক্ষণ নিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক অনেকে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। গত রোববার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য খোলা হাম ব্লক থেকে তোলা সমকাল
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দীন বলেন, কয়েক দিন ধরে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। শিশুদের সংক্রমণ কমেনি, এর মধ্যে বড়দের আক্রান্ত হওয়া উদ্বেগের। জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এইচ এম হামিদুল্লাহ মেহেদী বলেন, একসময় হাম মূলত শিশুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এখন বড়রাও আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেকেই টিকার পূর্ণ ডোজ নেননি। আবার অনেকের ধারণা, হাম শুধু শিশুদের রোগ, ফলে দেরিতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির মধ্যে সংক্রমণের হার তুলনামূলক কম এবং অধিকাংশ রোগী চিকিৎসায় সেরে উঠছেন।
টিকাদানের ঘাটতিতে বাড়ছে ঝুঁকি
টিকাদানের ঘাটতি, কভিড-পরবর্তী নিয়মিত ইপিআই কার্যক্রমে ব্যাঘাত এবং অপুষ্টির কারণে দেশে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা এ তথ্য জানান। বক্তারা বলেন, হাম শুধু জ্বর ও শরীরে র্যাশের রোগ নয়; এটি নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, এনসেফালাইটিস, অন্ধত্ব এমনকি দীর্ঘমেয়াদি স্নায়বিক জটিলতার কারণও হতে পারে।
শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জেসমিন মোর্শেদ তাঁর উপস্থাপনায় বলেন, হাম সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য রোগ হলেও টিকা কভারেজের ঘাটতির কারণে দেশে আবারও প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, টিকাদান, দ্রুত শনাক্তকরণ, আইসোলেশন ও সময়মতো চিকিৎসাই হাম নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায়।
ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শারমিন সুলতানা ‘হাম: নির্মূলের স্বপ্ন থেকে প্রাদুর্ভাবের বাস্তবতা’ শীর্ষক প্রবন্ধে বলেন, একসময় বিশ্বজুড়ে টিকাদান কর্মসূচির সফলতার কারণে হাম নির্মূলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে টিকা নিতে অনীহা, কভিড-১৯ মহামারির সময় নিয়মিত টিকাদান ব্যাহত হওয়া, জনসংখ্যার ঘনত্ব ও অভিবাসনের কারণে বহু শিশু টিকার বাইরে থেকে যাচ্ছে। ফলে সমাজে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, হাম শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহ এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলার মতো জটিলতা সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে অপুষ্ট শিশুদের মৃত্যুঝুঁকি বেশি।
ভাইরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এস এম রাশেদ উল ইসলাম তাঁর প্রবন্ধে বলেন, টিকাদান ঘাটতির কারণে শিশুর মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে। আক্রান্ত শিশুর মধ্যে প্রায় ৩৯ শতাংশ নিউমোনিয়ায় এবং ২৯ থেকে ৩৮ শতাংশ ডায়রিয়ায় ভুগছে। এ ছাড়া এনসেফালাইটিস, কানের সংক্রমণ ও ভিটামিন এ ঘাটতিজনিত অন্ধত্বের ঘটনাও দেখা যাচ্ছে।
আরও পাঁচজনের মৃত্যু
সারাদেশে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর দুই মাসে হাম ও এই রোগের উপসর্গে ৪৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক হাজার ৪০৫ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এই নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪ হাজার ৯১১। ২৪ ঘণ্টায় ৮৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা সাত হাজার ৮৫৬। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪২ হাজার ৮৬৮ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৯৮০ জন। ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৩৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। হামে মারা গেছে ৭৫ জন।


