Home Blog Page 84

নেইমারকে নিয়েই ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা

২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। দীর্ঘ আড়াই বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর আবারও ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী হলুদ জার্সিতে ফিরছেন ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র। নেইমার ছাড়াও নতুন ঘোষিত স্কোয়াডে রয়েছে একাধিক চমক।

মঙ্গলবার (১৯ মে) ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর ঐতিহাসিক মিউজিয়াম অব টুমরো-তে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেলেসাওদের এই স্কোয়াড আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন দলটির প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

২০২৩ সালের অক্টোবরে হাঁটুর গুরুতর চোটে পড়ার পর আর হলুদ জার্সি গায়ে চাপাতে পারেননি নেইমার। আসন্ন বিশ্বকাপে নেইমার দলে জায়গা পাবেন কিনা না নিয়েও অনিশ্চয়তা ছিল ভীষণ। তবে নেইমারের দলে ফেরা যে তার নিজের হাতেই ছিল এ কথা কার্লো আনচেলত্তি বারবার বলেছেন।

আনচেলত্তি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, পুরোপুরি ফিট ও ভালো ছন্দে থাকলেই কেবল বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার বিবেচনায় আসবেন নেইমার। বারবার উপেক্ষিত হওয়ার পর অবশেষে কোচের মন জয় করতে পারলেন জনপ্রিয় এই তারকা ফুটবলার। তবে দলে জায়গা না পাওয়া বড় চমকগুলোর মধ্যে অন্যতম হলেন রদ্রিগো। শেষ পর্যন্ত দলে থাকার আলোচনায় ছিলেন থিয়াগো সিলভার মতো অভিজ্ঞ মুখও।

দলে বড় চমক হিসেবে রাখা হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে লোনে অলিম্পিক লিও-তে গিয়ে দুর্দান্ত খেলা এনদ্রিক ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা কাসেমিরো।

এবারের বিশ্বকাপে সি গ্রুপে থাকা ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ মরক্কো, পানামা ও স্কটল্যান্ড। ​তারা মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। প্রতিযোগিতার প্রথম ম্যাচে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে ব্রাজিলকে। পরের দুই ম্যাচ হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ।

২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের চূড়ান্ত স্কোয়াডে যারা রয়েছেন-

গোলরক্ষক: আলিসন বেকার, এডারসন মোয়ারেস, ওয়েভারটন
ডিফেন্ডার: আলেক্স সান্দ্রো, ব্রেমার, দানিলো, দগলাস সান্তোস, গাব্রিয়েল, ইবানিয়েজ, লিও পেরেইরা, মার্কিনিয়োস, ওয়েসলি
মিডফিল্ডার: ব্রুনো গিমারায়েস, কাসেমিরো, দানিলো, ফাবিনিয়ো, লুকাস পাকেতা
ফরোয়ার্ড: এনদ্রিক, গাব্রিয়েল মার্টি‌নেল্লি, ইগর থিয়াগো, লুইজ এনরিকে, মাতিউস কুনিয়া, নেইমার জুনিয়র, রাফিনিয়া, রায়ান, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

জ্বালানি নিরাপত্তা আরও ৩৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় সহায়তা করবে বিশ্বব্যাংক। এনার্জি সেক্টর সিকিউরিটি এনহান্সমেন্ট প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশকে আরও ৩৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে সংস্থাটি। বিশ্বব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় সম্প্রতি এ ঋণ অনুমোদন হয়েছে।

গতকাল সোমবার বিশ্বব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতের জন্য আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরশীল। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এতে অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত দেশে জ্বালানি ও সার সরবরাহে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দরিদ্র জনগোষ্ঠী।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এনার্জি সেক্টর সিকিউরিটি এনহান্সমেন্ট প্রকল্পে অতিরিক্ত এই অর্থায়ন  এলএনজি আমদানি সহজ করে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে পেট্রোবাংলার এলএনজি আমদানির অর্থ পরিশোধে সহায়তা আরও বাড়ানো হবে। বিশ্বব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গত বছরের জুনে ৩৫ কোটি ডলারের মূল এনার্জি সিকিউরিটি এনহান্সমেন্ট প্রকল্পটি অনুমোদন করে।

উন্নয়ন সহযোগীদের সাড়া কম বাজেট ব্যবস্থাপনা চাপে

চলতি অর্থবছরের জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা থেকে ৬৭৫ কোটি ডলার বা প্রায় ৮৩ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ বাজেট সহায়তা পাওয়ার লক্ষ্যে দরকষাকষি চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। কিন্তু অর্থবছরের শেষ প্রান্তে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ সহায়তা পাওয়া অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের বাজেট সহায়তা। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে বাকি প্রায় ৪৭৫ কোটি ডলার ছাড় পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, মূল বাজেট প্রণয়নের সময় সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা থেকে প্রায় ৩৭৫ কোটি ডলার বা ৪৬ হাজার কোটি টাকার বাজেট সহায়তা পাওয়ার আশা করেছিল। এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের অস্থিরতায় জ্বালানি আমদানিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার আইএমএফের কাছে অতিরিক্ত ২০০ কোটি ডলার এবং বিশ্বব্যাংকের কাছে আরও ১০০ কোটি ডলারের জরুরি ঋণ সহায়তা চেয়েছে। তবে এসব ঋণের শর্ত নিয়ে সরকার ও দাতা সংস্থাগুলোর মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। ফলে সামগ্রিক বাজেট ব্যবস্থাপনা এখন বাড়তি চাপের মুখে পড়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ইতোমধ্যে ২৫ কোটি ডলারের বাজেট সহায়তা অনুমোদন করেছে। আরও ৭৫ কোটি ডলারের সহায়তা চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী ২৪ মে এ বিষয়ে এডিবির সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) থেকে ২৫ কোটি ডলার এবং জাপান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (জাইকা) কাছ থেকে আরও ৫০ কোটি ডলারের সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে, যা আগামী জুনের মধ্যেই ছাড় হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

অর্থ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, আইএমএফের আগের দুই কিস্তির ১৩০ কোটি ডলারের পাশাপাশি নতুন করে চাওয়া ২০০ কোটি ডলার জুনের আগে পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।  বিশ্বব্যাংকের কাছে জরুরি সহায়তা হিসেবে ১০০ কোটি ডলার চাওয়া হলেও তারা আপাতত ৫০ কোটি ডলার দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছে। এর সঙ্গে আগের ১২০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তার ক্ষেত্রেও  শর্ত নিয়ে জটিলতা রয়েছে। ফলে জুনের মধ্যে অর্থছাড় পাওয়া কঠিন হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, প্রত্যাশিত বাজেট সহায়তা না এলে সরকারকে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে আরও বেশি ঋণ নিতে হতে পারে। এতে একদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়বে, অন্যদিকে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। এমন বাস্তবতায় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নকে সামনে রেখে বড় আকারের নতুন বাজেট পরিকল্পনাও চাপের মুখে পড়তে পারে।

দাতা সংস্থার শর্তে অস্বস্তি
জানা গেছে, ঋণের জন্য আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে বেশ কয়েকটি কঠিন শর্ত দিয়েছে। দাতারা ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের ১৮(ক) ধারা বাতিলের শর্ত দিয়েছে। এ ধারার মাধ্যমে একীভূত হওয়া দুর্বল ব্যাংকগুলোর সাবেক মালিকদের আবারও নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

আইএমএফের অন্যতম শর্ত হলো, প্রতিবছর জিডিপির অন্তত দশমিক ৫ শতাংশ হারে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা। কিন্তু এখনও সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। এ জন্য রাজস্ব খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিলুপ্ত করে রাজস্বনীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুটি পৃথক বিভাগ গঠনের কাজ শুরু হয়। এ লক্ষ্যে অধ্যাদেশ জারি হলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। নতুন সরকার সেই অধ্যাদেশ বাতিল করে দেয়। তবে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক চায়, আগামী জুনের মধ্যেই এ-সংক্রান্ত আইন কার্যকর করা হোক।

অর্থ বিভাগের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, ব্যাংক খাত ও রাজস্ব খাত সংস্কারে নতুন সরকারের অবস্থান নিয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ সংশোধনের পর তারা একে আর্থিক খাত সংস্কারের ক্ষেত্রে পশ্চাৎমুখী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। অধ্যাদেশটি আইএমএফের পরামর্শেই করা হয়েছিল।
শুধু ব্যাংক খাত নয়, রাজস্ব খাত সংস্কার নিয়েও চাপ বাড়ছে। কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো, ভ্যাটের অভিন্ন ১৫ শতাংশ হার চালু, কর অব্যাহতি কমানো, টার্নওভার কর চালু এবং করপোরেট কর পুনর্বিন্যাসের মতো বিষয়ে দাতারা দ্রুত অগ্রগতি চাচ্ছে। একই সঙ্গে তারা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অন্যান্য খাতে ভর্তুকি সীমিত করার ওপরও জোর দিচ্ছে। তাদের মতে, সর্বজনীন ভর্তুকি অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করছে। তারা দরিদ্রদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকির সুপারিশ করছেন।

আইএমএফের ঋণ নিয়ে অনিশ্চয়তা
বাংলাদেশ ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়। পরে ২০২৫ সালে এর পরিমাণ বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলার করা হয়। এ পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে ৩৬৪ কোটি ডলার পাওয়া গেছে। বাকি রয়েছে আরও ১৮৬ কোটি ডলার। তবে রাজস্ব আদায়, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক খাত সংস্কারে অগ্রগতি সন্তোষজনক না হওয়ায় আইএমএফের পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। সংস্থাটির এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন গত মার্চে ঢাকা সফরে এসে সরকারের কাছে তাদের অসন্তোষের বিষয়টি স্পষ্ট করেন।

গত মাসে ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল অতিরিক্ত ঋণ এবং চলমান কর্মসূচির কিস্তি ছাড় নিয়ে আলোচনা করে। পরে আরও কয়েক দফা আলোচনা হলেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। অন্য দাতা সংস্থাগুলোর বাজেট সহায়তার ক্ষেত্রেও আইএমএফের ‘গ্রিন সিগন্যাল’ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

কেন বাজেট সহায়তা প্রয়োজন
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা সমকালকে বলেন, রাজস্ব আদায়ে প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি না থাকা এবং বৈদেশিক প্রকল্প ঋণের প্রতিশ্রুতি কমে যাওয়ার কারণে বাজেট সহায়তা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। এর পাশাপাশি সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য অস্থিতিশীলতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে অতিরিক্ত প্রায় ৩১৫ কোটি ডলার প্রয়োজন হবে। কারণ প্রকল্প ঋণ নির্দিষ্ট প্রকল্পের বাইরে ব্যবহার করা না গেলেও বাজেট সহায়তার অর্থ সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন খাতে ব্যবহার করতে পারে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) উন্নয়ন সহযোগীদের বৈদেশিক প্রকল্প ঋণের প্রতিশ্রুতি ও অর্থছাড় দুটিই কমেছে। অন্যদিকে ঋণ পরিশোধ বেড়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে অর্থছাড় কমেছে ১৯ শতাংশ। প্রতিশ্রুতি কমেছে ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

এদিকে এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে শুল্ক-কর আদায়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা, যা অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ। এর আগে গত অর্থবছরের পুরো সময়ে এনবিআরের ঘাটতি ছিল ৯২ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের ৯ মাসেই সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

বাজেট ঘাটতি মেটাতে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ উৎস তথা ব্যাংক ও অন্যান্য খাত থেকে মোট এক লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের ১২ মাসে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে যত টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তার প্রায় পুরোটা ৯ মাসেই নিয়েছে সরকার। এই সময়ে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে গত এপ্রিলে ৪৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। এ সময়ে ট্রেজারি বিলে আগের ঋণ পরিশোধ করেছে প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা। নিট ঋণ প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা।

বিশেষজ্ঞ মত 
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন সমকালকে বলেন, বাজেট সহায়তার প্রতিশ্রুত অর্থ আটকে থাকার প্রধান কারণ হচ্ছে সরকারের প্রতিশ্রুত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে ধীরগতি। তাঁর মতে, এসব সংস্কারে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে বৈদেশিক সহায়তার অর্থছাড়ের সম্ভাবনা খুবই সীমিত থাকবে।
বৈদেশিক সহায়তার বিকল্প হিসেবে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ঋণ নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে সুদের হার এমনিতেই উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। এ অবস্থায় সরকার যদি আরও বেশি ঋণ নেয়, তাহলে সুদের হার বাড়তে পারে। এতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ, যা আগেই মন্থর হয়ে পড়েছে, তা আরও সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হবে। তিনি মনে করেন, রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো না গেলে শেষ পর্যন্ত সরকারের সামনে ব্যয় সংকোচন ছাড়া খুব বেশি বিকল্প থাকবে না।

ড. জাহিদ হোসেন আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানি আমদানিতে অতিরিক্ত ডলার ব্যয়ের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারলে একদিকে যেমন করদাতাদের ওপর চাপ কমানো সম্ভব হবে, অন্যদিকে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে অর্থনীতির সামগ্রিক দক্ষতাও বাড়ানো সম্ভব হবে। তিনি বিশেষভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন জোরদার এবং মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থাপনা উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাতের সুশাসন, রাজস্ব সংস্কারসহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক সংস্কারে কার্যকর অগ্রগতি না হলে চলমান সংকটের স্থায়ী সমাধান আসবে না।

বিএনপি বিরোধী দলের আসনে নারী এমপিরা উন্নয়ন তদারকি করবেন শিগগির আসন নির্দিষ্ট করা হবে

জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের (এমপি) আসনে উন্নয়ন তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হবে বিএনপির সংরিক্ষত নারী আসনের এমপিদের। ওই সব আসনের জন্য আধা-সরকারিপত্রও (ডিও লেটার) দিতে পারবেন তারা।

গতকাল সোমবার বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সংরক্ষিত নারী আসনে সরকারি দলের এমপিদের মতবিনিময় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এমপি সমকালকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কয়েকজন এমপি জানান, উন্নয়ন ছাড়াও বিরোধীদলীয় এমপিদের আসনের অন্যান্য কার্যক্রমে সরকারি দলের নারী এমপিদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি। তবে সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়েছে, দুই ঘণ্টাব্যাপী সভায় ৩৬ জন এমপি উপস্থিত ছিলেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার সমকালকে বলেন, উন্নয়ন তদারকি করা সরকারি বা বিরোধী দলের এমপিদের কাজ নয়। উন্নয়নের দায়িত্ব স্থানীয় সরকারের। তারপরও এমপিরা এ কাজে যুক্ত থাকেন। এখন যদি নারী এমপিদের রাজনৈতিক কারণে বিরোধী দলের এমপিদের আসনের উন্নয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে তা শুধু অনৈতিক নয়; গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থি।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এ উদ্যোগ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব বাড়াবে। সরকার যদি ক্ষমতাসীন দলের নারী এমপিদের বিভিন্ন আসনের দায়িত্ব দেয়, তাহলে বিরোধীদলীয় জোটের নারী এমপিদের কোন কোন আসনের দায়িত্ব দেবে?

বিরোধী জোট বলছে, গণতন্ত্র হরণ
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সমকালকে বলেছেন, ‘শেখ হাসিনাও সংরক্ষিত আসনের আওয়ামী লীগ এমপিদের জেলার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তাদের মাধ্যমে বিরোধীদলীয় এমপিদের আসনে অযাচিত হস্তক্ষেপ করানো হতো। তারেক রহমান যদি শেখ হাসিনা হতে চান, তাহলে তো কিছু বলার নেই। কিন্তু এর ফল পাবেন।’

নবম সংসদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংরক্ষিত আসনের সরকারদলীয় ৩৮ নারী এমপিকে বিভিন্ন জেলার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এতে ওইসব জেলার সাধারণ আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ এমপিদের সঙ্গে ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের বিরোধ তৈরি হয়েছিল নারী এমপিদের। যেসব আসন থেকে তৎকালীন বিরোধী জোট শরিক বিএনপি, জামায়াত, এলডিপি ও বিজেপির এমপিরা নির্বাচিত হয়েছিলেন, সেখানেও অলিখিতভাবে সরকারদলীয় নারী এমপিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

এনসিপির মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ সমকালকে বলেন, ‘জনগণ নির্বাচিত করেছে একজনকে, আর সংসদীয় আসনে দায়িত্ব পালন করবে আরেকজন! এটা তো হতেই পারে না। সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক। যেসব আসনে সরকারি দলের প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন, সেখানে জনপ্রতিনিধিকে বাদ দিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকার জনগণের ওপর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিচ্ছে।’

বিরোধীদের আসনে দায়িত্ব
বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, সভায় সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে নারী এমপিদের বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত রেকর্ড সংখ্যক আসন পেতে সক্ষম হয়েছে ধর্মকে ব্যবহার করে, বিশেষ করে নারী ভোটারকে তারা কৌশলে প্রভাবিত করে জয়ী হয়েছে। এ অবস্থায় যেসব এলাকায় জামায়াত জিতেছে, সেসব আসনে বিএনপির নারী এমপিদের গুরুদায়িত্ব পালন করতে হবে।

নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে বণ্টন হয় নারী আসন। ২১৩ আসন পাওয়া বিএনপি জোট নারী আসন পেয়েছে ৩৬টি। ৭৭ আসন পাওয়া জামায়াত পেয়েছে ১২টি। ছয় স্বতন্ত্র এমপির জোট পেয়েছে বাকি একটি নারী আসন। তবে তিনিও বিএনপি নেত্রী। ৫০ নারী শপথ নিলেও সংসদে যোগ দেননি। আগামী ৫ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বাজেট অধিবেশনে যোগ দেবেন তারা।
সাধারণ আসনের এমপিরা সংসদীয় এলাকাভুক্ত স্থানীয় সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সরকারের সঙ্গে যোগাযোগে মাধ্যম হিসেবে কাজ করেন তারা। এর মাধ্যমে উন্নয়নকাজের তদারকি করেন।

আওয়ামী লীগ আমলে এমপিদের বছরে পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল নিজ নিজ আসনের উন্নয়নে। এই বরাদ্দে এমপিরা পছন্দ অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারতেন। সরকারদলীয় নারী এমপিদের নির্দিষ্ট আসন না থাকায় তারা বিরোধীদলীয় এমপিদের আসনে এসব বরাদ্দ দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সোমবারের বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন নারী এমপি সমকালকে বলেন, এলাকা ভাগ করে দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে কবে নাগাদ তা হবে, বলা হয়নি। যেসব জেলায় বিরোধী দল প্রভাব বিস্তার করেছে, সেসব এলাকাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে আলোচনা হয়েছে সভায়।

প্রধানমন্ত্রীর নানা নির্দেশনা 
সভায় নারী এমপিরা যে এলাকার বাসিন্দা, সেখানকার সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানান। তাদের বক্তব্য শুনে সরকারপ্রধান দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। নারী এমপিরা বলেন, লোকজন তাদের কাছে বিভিন্ন কাজ ও দাবি নিয়ে আসছে। এসব বিষয় কীভাবে সমাধান করবেন, তা জানতে চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন কয়েকজন। প্রধানমন্ত্রী নারী এমপিদের নির্দেশনা দেন নিজ নিজ এলাকার বিএনপির এমপিদের সঙ্গে সমন্বয় করে উন্নয়মূলক কাজ করতে। শিগগিরই তিনি এ বিষয়ে আরও নির্দেশনা দেবেন।

সরকারের উন্নয়ন কাজের তথ্য তৃণমূলে পৌঁছে দিতে নারী এমপিদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। তাই জাতীয় জীবনের প্রতিটি স্তরে নারীর অংশীদারিত্ব নিশ্চিত না করে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। শুধু সংসদে উপস্থিত থাকলেই চলবে না, মাঠ পর্যায়ের নারীদের বঞ্চনা ও অধিকারের কথা উচ্চকণ্ঠে তুলে ধরতে হবে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধ এবং আইনি সহায়তা নিশ্চিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

সভায় নারীর অর্থনৈতিক-সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। সাধারণ নারীদের সমস্যার কথা শোনা এবং তা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার বিষয় তদারকি, কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনের কঠোর প্রয়োগ হচ্ছে কিনা– এসব বিষয়ে সংসদীয় নজরদারি বাড়ানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিএনপি ঘোষিত উন্নয়ন রূপকল্প বাস্তবায়নে নারীরাই হবেন অন্যতম চালিকাশক্তি– এ ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, সংরক্ষিত আসনের সদস্যরা নির্দিষ্ট দলের প্রতিনিধি নন, বরং তারা দেশের সব নারীর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবেন।

জানতে চাইলে সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি সমকালকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নির্দেশনা এসেছে। প্রধানমন্ত্রী নারী অধিকার আদায় ও ক্ষমতায়নে গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

দেওয়া হবে প্রশিক্ষণ
নবনির্বাচিত এবং প্রথমবার এমপি হওয়া নারী সদস্যদের সংসদীয় রীতিনীতি ও কার্যপ্রণালি সম্পর্কে দক্ষ করে তুলতে প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করবে বিএনপি। সংসদে কীভাবে পয়েন্ট অব অর্ডার উত্থাপন করতে হয়, বিল প্রণয়ন, বাজেট আলোচনা, প্রশ্নোত্তরে অংশ নিতে হয়, তা তাদের অবহিত করা হবে।

নোটিশ প্রদান, মন্ত্রীদের সংসদীয় দায়িত্ব, স্থায়ী কমিটির কার্যক্রম পরিচালনা ও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজের সমন্বয়, নিজ এলাকার সমস্যা সংসদে তুলে ধরা এবং স্থানীয় উন্নয়নে করণীয় সম্পর্কে সম্যক ধারণা দিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলে সভা সূত্রে জানা গেছে।

বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নারী এমপিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রেহানা আক্তার রানু, শাম্মী আক্তার, রাশেদা বেগম হীরা, বিলকিস ইসলাম, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, সুলতানা আহমেদ, ফরিদা ইয়াসমিন, শাকিলা ফারজানা, নিপুণ রায় চৌধুরী, জীবা আমিনা খান, মাহমুদা হাবীবা, সাবিরা সুলতানা (মুন্নী), সানসিলা জেবরিন (প্রিয়াঙ্কা), সানজিদা ইসলাম তুলি, ফাহমিদা হক, আন্না মিনজ্, সুবর্ণা শিকদার (ঠাকুর), শামীম আরা বেগম স্বপ্না, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হুসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানছুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলম (আলো), ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা (রুমা), সানজিদা ইয়াসমিন (তুলি), নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা আক্তার (ঊর্মি), মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা (নিশিতা) ও রেজেকা সুলতানা।

চাঁদাবাজি নিয়ে তর্কে জড়ালেন ২ এমপি

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে তর্কে জড়ালেন সরকারি দল বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর দুই সংসদ সদস্য। জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলনের ‘কারওয়ান বাজারে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয়’ এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁর সঙ্গে এই তর্কে জড়িয়ে পড়েন বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মাহ্‌মুদা হাবীবা।

গতকাল সোমবার রাজধানীর গুলশানের হোটেল লেকশোরে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট সংলাপে এই বাহাসের ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই সংসদ সদস্যকে চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তর্কে লিপ্ত হতে দেখা যায়।

সংলাপে একজন বক্তার প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান দাবি করেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১২-এর অন্তর্ভুক্ত রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজারে প্রতিদিন দুই থেকে তিন কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয়। শুধু কয়েকটি পাইকারি মুরগির দোকান থেকেই মাসে প্রায় ৬০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। তা ছাড়া সরকারের এক মন্ত্রীই বলেছেন, সমঝোতার ভিত্তিতে কিছু হলে সেটা চাঁদাবাজি হয় না। এটাতে চাঁদাবাজরা উৎসাহিত হয়।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের এ সদস্য বলেন, ‘যে সরকার পালিয়ে গেছে, আগে সেই সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই এই চাঁদাবাজিতে জড়িত ছিলেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন। এখন বর্তমানেও চাঁদাবাজি চলছে, সেটা বন্ধ করা নিয়ে আমি বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘চাঁদাবাজির সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত। আগে আগের সরকারের লোকরা করত, এখন কারা করছে তা এখানে বলছি না।’

এ সময় সংলাপের আরেক বক্তা বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য ও সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মাহ্‌মুদা হাবীবা জামায়াত এমপির বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, একজন এমপি বলছেন, তাঁর এলাকায় চাঁদাবাজি হচ্ছে। অথচ কারা করছেন, তিনি জানেন না। একজন মন্ত্রী কোন অনুষ্ঠানে কোন প্রসঙ্গে কী বলেছেন, সেটার খণ্ডিত অংশ প্রচার করে এমন চাঁদাবাজির ঢালাও অভিযোগ করা হলো। এটা খুবই দুঃখজনক।

তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের নাম-পরিচয়সহ তালিকা নিয়ে আইনের আশ্রয় নেওয়া উচিত। টকশো বা গোলটেবিলে বসে অভিযোগ করলেই হবে না।

এ সময় জামায়াতের এমপি সাইফুল বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, আবারও বলছি। এখানে আগেও সরকারি দলের লোকরা চাঁদাবাজি করত, এখনও সরকারি দলের লোকরাই করছে।’

জবাবে বিএনপির এমপি মাহ্‌মুদা বলেন, চাঁদাবাজি হলে মামলা করেন, তদবির নয়। জবাবে সাইফুল বলেন, পুলিশ সরকারি দলের লোকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা নেয় না।

দুই এমপির এমন তর্ক চলাকালে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক অধ্যাপক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘আজ এখানে সরকারি ও বিরোধী দলের এমপির মধ্যে যে বিতর্কটা দেখা গেল, সেটাও কিন্তু এক ধরনের নতুন ঘটনা ও পরিবর্তন।’

ট্রাম্প-শি বৈঠক যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, বছরে বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য কিনবে চীন আজ চীন সফরে যাচ্ছেন ভ্লাদিমির পুতিন

চীনের রাজধানী বেইজিং সফর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সফরে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ট্রাম্পের মধ্যে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠক থেকে কোন দেশ কী পেল, সে বিষয়ে নানা জল্পনা চলছিল। এর মধ্যেই বৈঠক-পরবর্তী নতুন বিবৃতি দিয়েছে হোয়াইট হাউস।

বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতিবছর কমপক্ষে এক হাজার ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের কৃষিপণ্য কিনবে চীন। ২০২৮ সাল পর্যন্ত এই ক্রয় চুক্তি বহাল থাকবে বলেও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

হোয়াইট হাউস জানায়, গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্রাম্প-শি বৈঠকে চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে যে আট কোটি ৭০ লাখ টন সয়াবিন কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা নতুন এই চুক্তির বাইরে থাকবে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ তদারকির জন্য ‘ইউএস-চায়না বোর্ড অব ট্রেড’ ও ‘ইউএস-চায়না বোর্ড অব ইনভেস্টমেন্ট’ নামে দুটি নতুন সংস্থা গঠনে ট্রাম্প-জিনপিং সম্মত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

তবে ওয়াশিংটনের এসব ঘোষণার বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি বেইজিং। বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, চীনের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়া এসব ঘোষণা নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সিঙ্গাপুরভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিনরিখ ফাউন্ডেশনের বাণিজ্যনীতি বিশেষজ্ঞ ডেবোরাহ এলমসের ভাষ্যমতে, অতিরিক্ত ১৭ বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য কেনা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক হলেও ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের মার্কিন অর্থনীতিতে এর প্রভাব খুব সীমিত।

তাইওয়ান প্রশ্নও গুরুত্ব পেয়েছে বেইজিং বৈঠকে। চীনা গণমাধ্যমের দাবি, শি জিনপিং ট্রাম্পকে বলেছেন, তাইওয়ান ইস্যু দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি সঠিকভাবে সামাল না দিলে সংঘাতের ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। এরই প্রেক্ষিতে তাইওয়ান প্রশ্নে সুর নরম করেছেন ট্রাম্পও। সফর শেষে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাইওয়ানের স্বাধীনতার পক্ষে নন তিনি। একই সঙ্গে আগে ঘোষিত তাইওয়ানের কাছে এক হাজার ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।

এর পরই তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তাইওয়ান কোনো সংঘাত উস্কে দেবে না, তবে নিজেদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নেও আপস করবে না। তিনি বলেন, তাইওয়ান আগে থেকেই স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে ট্রাম্পের সফরের চার দিনের মাথায় আজ মঙ্গলবার বেইজিং সফরে যাচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলছে, একই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার শীর্ষ দুই নেতার সফর প্রমাণ করছে, বৈশ্বিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বেইজিং। পশ্চিমা বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, জ্বালানি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাশিয়ার সঙ্গে নতুন জ্বালানি চুক্তি সইয়ের পথে হাঁটতে পারে চীন। খবর বিবিসি, এনবিসি ও আলজাজিরার।

যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামিক স্কুলে গুলি, বন্দুকধারীসহ নিহত ৫

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোর ক্লেইরমন্ট এলাকায় একটি ইসলামিক সেন্টার ও মসজিদে বন্দুকধারী দুই কিশোরের গুলিতে তিনজন নিহত হয়েছে। পরে তারা নিজেরাও গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছে। স্থানীয় সময় সোমবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সন্দেহভাজন বন্দুকধারীদের একজনের বয়স ১৭ বছর, অন্যজনের ১৯ বছর।

ইসলামিক সেন্টারটি ক্লেইরমন্ট এলাকায় অবস্থিত। সেখানে সান দিয়েগো কাউন্টির সবচেয়ে বড় মসজিদটির অবস্থান। পাশাপাশি সেখানে শিশুদের ইসলামী বিদ্যালয়ও রয়েছে। সেখানে যখন এই হামলার ঘটনা ঘটে, তখন মসজিদের ভেতর শিশুরা ক্লাসে ছিল। এই ইসলামিক সেন্টার ক্যাম্পাসের ভেতরেই ‘আল রশিদ স্কুল’ নামে একটি রয়েছে।

ঘটনার পর ওপর থেকে ধারণ করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ যখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে, তখন শিশুরা একে অপরের হাত ধরে নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তার স্বার্থে আশেপাশের অন্যান্য স্কুলগুলোও তাৎক্ষণিকভাবে লকডাউন করা হয়েছিল। হামলাটিকে একটি ‘বিদ্বেষমূলক অপরাধ’ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া এক আত্মঘাতী কিশোরের সন্ধানে তদন্তের সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে। ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগো মসজিদে গুলির খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত সেখানে পৌঁছায়। তারা ভবনের সামনে গুলিবিদ্ধ তিনজনকে পড়ে থাকতে দেখেন। এর পরপরই পুলিশ খবর পায় যে, কাছেই একটি গাড়ি থেকে একজন মালিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। পরে মসজিদ থেকে কিছু দূরে একটি গাড়ির ভেতর থেকে ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী দুই সন্দেহভাজন হামলাকারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তারা নিজেদের গুলিতে আত্মহত্যা করেছে।

নিহতদের মধ্যে মসজিদের একজন নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন। তিনি হামলা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তার সাহসী পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এ ব্যাপারে সান ডিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‌‘তার এই পদক্ষেপ বীরত্বপূর্ণ। নিঃসন্দেহে তিনি আজ অনেক মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ এখনও নিহত তিনজনের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই) ঘটনাটির তদন্ত করছে। এ বিষয়ে সারারণ নাগরিকদের কাছে তথ্যও চেয়েছে।

সিবিএস-এর বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এফবিআই ঘটনাটিকে বিদ্বেষমূলক অপরাধ হিসেবে তদন্ত করছে এই কারণে যে, এক সন্দেহভাজনের মায়ের পাওয়া কিছু লেখা থেকে এই ইঙ্গিত মিলেছে। হামলার প্রায় দুই ঘণ্টা আগে এক সন্দেহভাজন কিশোরের মা পুলিশকে ফোন করে জানান যে, তার ছেলে বেশ কয়েকটি বন্দুক ও তার গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়েছে। তার ছেলের সঙ্গে আরেকজন রয়েছে। তারা দুজনই সামরিক ছদ্মবেশী পোশাকে ছিল।

স্কট ওয়াহল জানান, ওই তরুণের আচরণ কেবল ‘আত্মঘাতী’ মানুষের মতো ছিল না, বরং তা অন্য কিছুর ইঙ্গিত দেয়। তরুণটি বাড়িতে একটি চিরকুট রেখে যায়, যাতে ‘সাধারণ বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও উগ্র কথাবার্তা’ লেখা ছিল। তবে চিরকুটটিতে ওই নির্দিষ্ট মসজিদ, অন্য কোনো স্থান বা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকির উল্লেখ ছিল না। তদন্তকারীরা খবর পেয়ে এরই মধ্যে একটি স্থানীয় হাই স্কুলে যান, যেখানে দুই কিশোরের একজন শিক্ষার্থী ছিল। এছাড়া পুলিশ একটি শপিং মলেও তল্লাশি চালায়, যেখানে ওই গাড়িটির অবস্থান ট্র্যাক করা হয়েছিল।

পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল জানিয়েছেন, হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে সান ডিয়েগো কাউন্টির সবচেয়ে বড় মসজিদ হওয়ায় এটিকে একটি বিদ্বেষমূলক অপরাধ বলে ধারণা করা হচ্ছে। যখন গুলির ঘটনা ঘটে, তখন পুলিশ কর্মকর্তারা সন্দেহভাজনের মায়ের সাথে কথা বলছিলেন এবং তারা মসজিদ থেকে কিছু দূরে ছিলেন।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি একটি ‘সেমি-অটোমেটিক অস্ত্র’ থেকে প্রায় ৩০ রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ৯১১-এ কল করেন এবং ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ছুটির দিনগুলোতে এই মসজিদে প্রচুর ভিড় হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভালো যে, ঘটনাটি শুক্রবার ঘটেনি। কারণ সেদিন রাস্তায় মানুষের উপচেপড়া ভিড় থাকে।’

ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগোর পরিচালক ইমাম ত্বহা হাসান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘কোনো উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু করা অত্যন্ত জঘন্য ও আপত্তিকর। এই স্থাপনাটি একটি উপাসনালয়, কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নয়।

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি এই সহিংস হামলায় ‘স্তম্ভিত ও আতঙ্কিত’। এটি এমন একটি জায়গা ‘যেখানে পরিবার ও শিশুরা একত্রিত হয়। প্রতিবেশীরা শান্তিতে ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে উপাসনা করে। ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা ভীতি প্রদর্শন ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য সহ্য করবে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে একটি ‘ভয়াবহ পরিস্থিতি’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রাথমিক কিছু তথ্য পেয়েছি। আমরা এই বিষয়টি খুব জোরালোভাবে খতিয়ে দেখব।’

রাজনীতি আওয়ামী লীগের ফিরে আসার কল্পনা ও বাস্তবতা

বাংলাদেশের রাজনীতি এখন কার্যত একটি জোটের নিয়ন্ত্রণে। জোটটির একাংশ সরকার চালাচ্ছে, বাকি অংশ বিরোধী দলের ভূমিকায়। সংসদে কিংবা সংসদের বাইরে নানা রাজনৈতিক প্রশ্নে মতভেদ প্রকাশ পাচ্ছে বটে, তবে এগুলো কোনোটাই চূড়ান্ত বিচারে কোনো পক্ষের জন্য ‘রাজনৈতিক হুমকি’ নয়। সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে কিছু উত্তপ্ত কথাবার্তা হচ্ছে বটে; অনুমান করা যায়, কিছুদিনের মধ্যে এরও সমাধান হয়ে যাবে। যখন বিএনপি সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে ‘কার্ডগুলো’ ওপেন করতে শুরু করবে।

এটিও বোধগম্য, এই সময়ের মধ্যে বিএনপি সংগঠন গুছিয়ে নেবে; সরকারের আশপাশে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তৈরি করবে; সরকারি সুযোগ-সুবিধার ভেতর দিয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ‘প্যাট্রন ক্লায়েন্ট’ সম্পর্ক তৈরি এবং স্থানীয় পর্যায়ে নিজস্ব ‘ভোটব্যাংক’ শক্তিশালী করবে। এরপরই স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সম্পন্ন করে দেশব্যাপী দলের শক্তিশালী ভিত রচনা করবে।

অস্বীকারের উপায় নেই, বিএনপি-জামায়াতের ঐক্যের ভিত্তি নতুন মাত্রা পেয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভেতর দিয়ে। ‘জুলাই সনদ’ এই ঐক্যের পোশাকি দিক। অ-পোশাকি দিকটা বরং বেশি শক্তিশালী; আওয়ামী লীগ যাতে কোনোভাবে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে। এটিও সত্য, বিরাট জনসমর্থন থাকা রাজনৈতিক দলকে দীর্ঘদিন রাজনীতিতে ‘ব্রাত্য’ রাখা যায় না। আওয়ামী লীগ নিয়ে সদ্য গঠিত এনসিপির ক্রোধ যত বেশিই হোক, বিএনপি-জামায়াত এটি বোঝে যে, আওয়ামী লীগকে এক সময়ে রাজনীতিতে জায়গা করে দিতেই হবে। দল দুটি আশা করে, সেই আওয়ামী লীগ হবে পুনর্গঠিত। গণঅভ্যুত্থান-পূর্ব আওয়ামী লীগ নয়; তারা এমন আওয়ামী লীগ চায়; যার ভেতরে ‘বোধোদয়’ ঘটেছে। প্রতিশোধস্পৃহাসম্পন্ন আওয়ামী লীগকে জায়গা দিতে নারাজ বিএনপি-জামায়াত।

এটিও মনে রাখা দরকার, আওয়ামী লীগ এখন বিএনপি-জামায়াতের কাছে ‘চরম অবিশ্বস্ত’ দল। ২০১৪ সাল থেকে পরবর্তী ১০ বছর ধরে দল দুটির ওপর যে মাত্রার নিপীড়ন চলেছে; সেটি বাংলাদেশের ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া যাবে না। ফলে আওয়ামী লীগ যদি বোধোদয় নিয়েও রাজনীতিতে ফিরে আসে, তাহলেও বিএনপি-জামায়াত তাদের ‘চোখে চোখে’ রাখবে। কেননা, শক্তি সঞ্চয় করতে পারলেই আওয়ামী লীগ প্রতিশোধপ্রবণ হয়ে উঠতে পারে বলে তাদের ধারণা।

এই রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের সামনে এখনও ঘোর অমানিশা। বিদেশি শাসকগোষ্ঠীর কাছে আশ্রয় পেয়ে হয়তো টিকে থাকা যায়। কিন্তু নিজ দেশে রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন করা যায় না– এটি তারা ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করেছে বলে মনে হয়। কিন্তু কী কৌশলে তারা রাজনীতিতে প্রবেশ করবে; সেটি এখনও অজানা।

আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, এমপি, কেন্দ্রীয় নেতাসহ ক্ষমতাশালীদের বড় অংশই ভারতসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। অনেক নেতাকর্মীকে বিরূপ রাজনৈতিক পরিবেশে হিংসাত্মক ঘটনায় জীবন দিতে হয়েছে। দেশে হাজার হাজার নেতাকর্মী এখনও জেলে কিংবা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাদের অনেকেই এখন ঘর-সংসার, জীবন-জীবিকা হারিয়ে নিঃস্বপ্রায়। স্থানীয় পর্যায়ে যেখানে যতটুকু সম্ভব জামায়াত-বিএনপির সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করে টিকে আছে। গ্রাম-গঞ্জে-হাট-বাজারে এক সময় যেসব আওয়ামী নেতা-পাতি নেতার দাপটে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা মাথা নিচু করে হাঁটতে বাধ্য হতেন, সেই নেতারা এখন জামায়াত-বিএনপির নেতা-পাতিনেতাদের সামনে মাথা নিচু করে নীরবে হেঁটে যান!

ইউনূস সরকারের দেড় বছরের শাসনামলে শেখ হাসিনা চিরাচরিত কায়দায় ‘হুমকি-ধমকি’ দিয়েছেন। কর্মীদের মনোবল ঠিক রাখার জন্য প্রথম কয়েক মাস হয়তো এটি দরকার ছিল। কিন্তু তিনি দলটিকে গোপনে গুছিয়েছেন কিংবা সে প্রচেষ্টা নিচ্ছেন– এমন কোনো আলামত এখনও দেখা যায়নি। বিদেশের মাটিতে বসে কিছু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী সামাজিক মাধ্যমকে গরম রাখছেন বটে; দেশের মাটিতে বাস্তবতা একেবারে ভিন্ন। বিচ্ছিন্নভাবে এখানে সেখানে আওয়ামী কর্মীরা ভয়ানক রিস্ক নিয়ে ঝটিকা মিছিল করে গোপনে মিলিয়ে যাচ্ছে; ঠিক যেমন আওয়ামী শাসনামলে জামায়াতে ইসলামী ঝটিকা মিছিল করত।

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পরও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক জীবনে দুর্দিন নেমে এসেছিল; তবে সেটি আজকের মতো ঘোর দুর্দিন ছিল না। আওয়ামী এমপি-মন্ত্রীরা মোশতাকের মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছিলেন; নেতাকর্মী-বুদ্ধিজীবীরা কেউ পালিয়ে যাননি। সুতরাং সেই বৈরী পরিবেশেও দেশে থেকে দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করতে খুব বেগ পেতে হয়নি। এবারের আওয়ামী লীগের বিপর্যয় একেবারেই অন্যরকম। প্রায় দু’বছর হতে চলল; নেতৃত্বের কোনো দিশা পাওয়া গেল না। জামায়াত কিংবা বামপন্থি-চরমপন্থি দলের মতো আওয়ামী লীগ কোনো ‘ক্যাডারভিত্তিক’ দল নয় যে, তারা বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশে গোপনে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম। ফলে আওয়ামী লীগকে যে কোনোভাবেই হোক মুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার পথ খুঁজতে হবে।

কিন্তু দলটি সম্ভবত এখনও ঘোরের মধ্যে আছে। মনে করছে, বিএনপি-জামায়াতের দ্বন্দ্ব/মতপার্থক্য যদি মারামারি হানাহানিতে রূপ নেয়; বর্তমান সরকার যদি আওয়ামী শাসনামলের তুলনায় আরও বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তাদের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হবে এবং ‘টুক’ করে তারা রাজনীতিতে হাজির হবে। এটি খুবই বালখিল্য চিন্তা। অন্যদিকে এমন ধারণাও আছে, ভারত তাদের জন্য কিছু একটা করবে। সেটি এমন হতে পারে, ভারত সরকার নানা দিক দিয়ে চাপ সৃষ্টি করবে। এটিও খুব অপরিপক্ব চিন্তা। কারণ বাংলাদেশের সরকার এগুলো সম্পর্কে জ্ঞাত এবং হ্যান্ডল করার মতো ক্ষমতা রাখে। তা ছাড়া ভারত নিজে ডিল করতে চায় একটা নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে, যেটি তারা এখন পেয়েছে। ভারতের নজর এখন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের দিকে। কারণ বিগত দু’বছরে ব্যবসা-বাণিজ্যের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। এর বাইরে আছে আরও নানান আঞ্চলিক ইস্যু। ফলে আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করার পেছনে বিপুল সময় ব্যয় করার সময় কি ভারতের আছে?
তাহলে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসার পথ কী? সম্ভবত এখনও এটি কেউ জানে না। এমনকি খোদ আওয়ামী নেতৃত্বও নয়!

দুর্যোগে বড় ঝুঁকি ভোলার ২১ চরে

মহিষের বাথানিয়া (রাখাল) মো. মাকসুদের বাড়ি নেয়ামতপুর চরে। মধ্য মেঘনার চরটি পড়েছে ভোলার দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নে। বছর দুয়েক আগে জোয়ারে ভেসে যায় তাঁর ১০টি মহিষ। তিন দিন পর ৮টি ফিরে পেলেও বাকি দুটি আর পাননি। মাকসুদের ভাষ্য, বর্ষা, ঝড়-বাদলে আশ্রয় নেওয়ার মতো চরবাসীর জন্য নিরাপদ কোনো কেল্লা (শেল্টার) নেই। ফলে প্রতিবছরই জোয়ারের স্রোতে চরের অনেক বাথানিয়ার মহিষ ভেসে যায়।

চলতি বছরের দুর্যোগ মৌসুমের শুরুতেই নিরাপত্তা নিয়ে ভুগছেন উপকূলীয় জেলা ভোলার চরাঞ্চলের লাখো বাসিন্দা। এর মধ্যে বেশি ঝুঁকিতে আছেন মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর মধ্যবর্তী ২১টি চরে বসবাসকারী দরিদ্র মানুষ। এসবের ৯টিতেই কোনো সাইক্লোন শেল্টার নেই। ১২টি চরে দু-একটি করে আশ্রয়কেন্দ্র থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। সব মিলিয়ে দুর্যোগকালে জেলার ২০ লাখ মানুষের আশ্রয়ের জন্য ৯১৫টি ‘স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টার’ আছে। এতে সব মিলিয়ে পাঁচ লাখের মতো মানুষ আশ্রয় নিতে পারেন। যা জেলার মোট জনসংখ্যার চার ভাগের এক ভাগ, বাকি তিন ভাগ মানুষকে অরক্ষিত অবস্থায় কাটাতে হবে। চলতি মৌসুমের ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে বড় ক্ষতির আগেই অরক্ষিত এসব মানুষের আশ্রয় নিয়ে সরকাবি ব্যবস্থাপনার দাবি উঠেছে।

গত শুক্রবার সরেজমিন দেখা গেছে, চরগুলোর চারপাশের মেঘনার অথই পানি। এর মধ্যে ছোট ছোট কাঁচা ঘর আর সরকারি আশ্রয়ণে বসবাস করছেন মানুষ। যাতায়াতের কোনো রাস্তা নেই। ভরা বর্ষায়ও ছোট নৌকা দিয়েই যাতায়াত করতে হয়। শুকনো মৌসুমে খোলা মাঠ আর নালা-ডোবা হেঁটেই পাড়ি দিতে হয়।

নদীভাঙনে সব হারিয়ে বেশ কিছু মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন মদনপুর ইউনিয়নের চর মুন্সীতে। মেঘনার এই চরে বর্তমানে বাস করেন সাড়ে চার হাজার মানুষ। কৃষিনির্ভর এই চরে রয়েছে কয়েক হাজার গরু-মহিষ। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগে আশ্রয় নেওয়ার মতো কোনো সাইক্লোন শেল্টার নেই এখানে। এই চরের কিষানি মরিয়ম বিবি বলেন, একটানা কয়েক দিন ঝড়বৃষ্টি থাকলে তাদের ঘরেই বন্দি থাকতে হয়। বের হওয়ার উপায় থাকে না। ‘আল্লাহর ওপর ভরসা’ করেই তাদের মোকাবিলা করতে হয় বৈরী আবহাওয়া।

ব্যবসায়ী মিলন পাটোয়ারীর ভাষ্য, বর্ষার দুর্যোগে মেঘনার পানি স্বাভাবিকের চেয়ে সাত-আট ফুট উঁচু দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ সময় পুরো চর প্লাবিত হয়ে ঘরবাড়ি তলিয়ে যায়। তখন গবাদি পশু নিয়ে তাদের পড়তে হয় বিপাকে। স্রোতের তীব্রতা বাড়লে ঘরবাড়ি, গরু-ছাগলও ভেসে যায়। এই চরে জীবনধারণ পুরোপুরি অনিরাপদ উল্লেখ করে মিলন আরও বলেন, নদীভাঙনের শিকার দরিদ্র পরিবারের লোকজনই এখানে বসবাস করেন। তাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। দুর্যোগের সময় তাদের আশ্রয়েরও কোনো ব্যবস্থা নেই।

একই ইউনিয়নের চরপদ্মার কিষানি মর্জিনা বেগমের দুটি গরু ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসের জলোচ্ছ্বাসে মেঘনায় ভেসে গেছে। এতে দরিদ্র এই নারীর ক্ষতি হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকার। একই সময়ে একটি করে গরু হারিয়েছেন চরপদ্মার রফিক মাঝি, পারভেজ ও কবির।

স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, জেলার চরফ্যাসনের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত ঢালচর, পূর্ব ঢালচর, তজুমদ্দিন উপজেলার মেঘনার মধ্যবর্তী চর লাদেন, চর লক্ষ্মী, দৌলতখান উপজেলার চর হাজিপুর, মনপুরা উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চর সামসুদ্দিন, কলাতলী ইউনিয়নের কাজিরচর, সদর উপজেলার চর সুলতানি; তেঁতুলিয়া নদীর মধ্যবর্তী লালমোহন উপজেলার মোতাহারনগরের চর কচুয়াখালীতে কোনো আশ্রয়কেন্দ্র নেই। অথচ এসব চরে বসবাস করেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় খড়কুটো দিয়ে তৈরি নাজুক কাঁচা ঘরেই ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করতে হয়।

একইভাবে আশ্রয়কেন্দ্রের সংকট আছে মূল ভূখণ্ডের নদী তীরবর্তী এলাকায়ও। জানা গেছে, মূল ভূখণ্ড থেকে বিছিন্ন দুর্গম চর নিজামের তিন হাজার মানুষের জন্য একটি, কলতলীর চরের ২০ হাজার মানুষের জন্য দুটি, চর মোজাম্মেলের সাত হাজার মানুষের জন্য একটি, মেদুয়ার পাঁচ হাজার মানুষের জন্য দুটি, মদনপুরের ১০ হাজার মানুষের জন্য দুটি স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টার আছে।

ঢালচরের বাসিন্দা রফিক ফরাজী বলেন, দুর্যোগ শুরু হলে গবাদি পশু রেখে অনেকে অন্য জায়গায় যেতে চান না। দুর্যোগের সংকেত ৮ থেকে ১০ হলে প্রশাসনের পক্ষে এসব মানুষকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় না। তখন নদীতে কোনো নৌযান চলাচল করতে পারে না। এমন পরিস্থিতিতে জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়া বা ঘরে বসে প্রাণ দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকে না বিপুল সংখ্যক মানুষের।

ঢালচর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সালাম হাওলাদার বলেন, প্রতিটি ঘূর্ণিঝড়েই বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ও গবাদি পশুর ক্ষতি হয়। জোয়ারে গুরুত্বপূর্ণ মালপত্র ও ক্ষেতের ফসল ভেসে যায়।

ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের তথ্যমতে, জেলার সাত উপজেলায় আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা ৯১৫টি। সদর উপজেলার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের জন্য ১৩৭টি, দৌলতখানের এক লাখ ৭২ হাজার মানুষের জন্য ১১২টি, বোরহানউদ্দিনের দুই লাখ ৬৫ হাজার বাসিন্দার জন্য ১২২টি, তজুমদ্দিন উপজেলার প্রায় দেড় লাখ মানুষের জন্য ৭৬টি, লালমোহন উপজেলার দুই লাখ ৮৩ হাজার মানুষের জন্য ১৯৮টি, চরফ্যাসনের চার লাখ ৫৬ হাজার বাসিন্দার জন্য ১৬৫টি ও মনপুরার লক্ষাধিক মানুষের ৫৯টি আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে। এ ছাড়া নতুন করা হয়েছে ভোলা সদরে ৯টি, দৌলতখানে ছয়টি, বোরহানউদ্দিনে ছয়টি, তজুমদ্দিনে আটটি, চরফ্যাসনে ১১টি ও মনপুরায় ছয়টি কেন্দ্র।

এর মধ্যে শতাধিক কেন্দ্রে সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। চরফ্যাসনের চর কুকরি-মুকরি ইউনিয়নের চরপাতিলার প্রায় দুই হাজার বাসিন্দার জন্য একটি আশ্রয়কেন্দ্র। তিন দশক আগে নির্মিত কেন্দ্রটি ব্যবহারের অনুপযোগী বলে জানান সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কাশেম ও বাদশা মিয়া। তারা জানিয়েছেন, আশ্রয়কেন্দ্রের ছাদের পলেস্তারা খসে খসে পড়ছে। ভবনে আশ্রয় নেওয়ার মতো অবস্থা নেই।

মদনপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, তাঁর ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার মানুষের জন্য মাত্র দুটি আশ্রয়কেন্দ্র আছে। মেঘনায় মাছ ধরা আর গবাদি পশু পালন করেই চলে তাদের জীবিকা। চরমুন্সীর সাড়ে চার হাজার মানুষের জন্য একটিও নেই। যুগ যুগ ধরে চরের এসব বাসিন্দারা অরক্ষিত। তাদের নিরাপত্তা বলয়ে আনা জরুরি।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সৈয়দ মো. আজিম উদ্দিন গতকাল রোববার সমকালকে বলেন, যেসব চরে আশ্রয়কেন্দ্র নেই, সেখানে আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপনে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে সাতটি চরে মাটি কেটে উঁচু করাসহ একতলা অবকাঠামো নির্মাণের প্রকল্প চলছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে দুর্যোগের সময় পশুর পাশাপাশি মানুষও আশ্রয় নিতে পারবেন।

জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমানের ভাষ্য, যেসব চরে আশ্রয়কেন্দ্র নেই, সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কেন্দ্রে নির্মাণ করা হবে। এ বিষয় তিনি সম্প্রতি মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন। দুর্যোগে সবাইকে আশ্রয়ের আওতায় আনার লক্ষ্যে কাজ চলছে। যেসব আশ্রয়কেন্দ্র জরাজীর্ণ, সেগুলো ব্যবহার উপযোগী করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শহীদ মিনারে অশ্রুসিক্ত নয়নে কারিনাকে বিদায়

রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অশ্রুসিক্ত নয়নে কারিনা কায়সারকে বিদায় জানিয়েছেন নানা শ্রেণির মানুষ। এ সময় বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা জানাজায় অংশ নেন। রোববার রাত সোয়া দশটার দিকে শহীদ মিনারে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শতাধিক মানুষ জানাজায় অংশ নেন।

জানাজায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদ, এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, এ বি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় ছাত্রশক্তির আহবায়ক জাহিদ আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার প্রমুখ অংশ নেন। জানাজার নামাজ পড়ান এনসিপির সদস্য সচিব আকরাম হুসাইন।

জানাজা শুরুর আগে কারিনার বাবা মুহাম্মদ কায়সার হামিদ বলেন, “আমি সত্যি গর্বিত এই অল্প সময়ের মধ্যে আমার মেয়ে কারিনা কায়সার, সে এত মানুষের মন জয় করেছে।” তিনি আরও বলেন, “সে গত জুলাইতে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সঙ্গে ছিল, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলত, তার প্রতিবাদী কণ্ঠ ছিল।”

মেয়েকে নিয়ে মানুষের ভালোবাসার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এই কয়েকদিন ধরে হাজার হাজার ফোন পেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা বলছিল, আমরা জানাজায় পড়তে চাই।” তিনি বলেন, “যারা ওর শুভকামনা করেছে তাদের ধন্যবাদ। আর যারা বিরূপ মন্তব্য করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নাই। কোনো ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দিবেন।”

কারিনার মা লোপা কায়সার আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “এই জেনারেশন আমাকে চিনে কারিনা কায়সারের আম্মু। কারিনা আমাকে শূন্য করে দিয়ে গেছে। আপনারা কারিনার মতো কাউকে কখনো পাবেন না। এত ন্যাচারাল, এত হাসিখুশি, এত সাহসী, এত ক্রিয়েটিভ, ট্যালেন্টেড। ওর কাজের মতোই ও বেঁচে থাকবে।”

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা সবাই শোকাহত, অতি অল্প বয়সে তিনি অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছেন। আমরা আজকে মূলত শহীদ মিনারে সমাবেত হয়েছি ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন দল মতের লোকেরা একসাথে কারণ আমরা তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করতে চাচ্ছি। তিনি গণহত্যার বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, অন্যায়ের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তার মৃত্যুতে যারা উল্লাস করছে তাদের কাছেও একটা বার্তা যে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ আছি এবং যারা উল্লাস করছে তাদের বিচার এই বাংলার মাটিতেই হবে।