Home Blog Page 88

বিশ্লেষণ ট্রাম্প চীনে গেলেন, খেলেন, ঘুরলেন- কী নিয়ে ফিরলেন

চীনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের তিনদিনের সফরে কী কী হলো? আলোচিত সফরে তিনি বেইজিং পৌঁছান বুধবার সন্ধ্যায়। বৃহস্পতিবার বৈঠক করেন শি জিনপিংয়ের সঙ্গে। ঘুরতে যান ঐতিহাসিক ‘টেম্পল অব হেভেনে’। রাতে রাজকীয় ভোজে খান গরুর পাঁজরের মুচমুচে মাংস। ব্যাকগ্রাউন্ডে তখন বাজানো হয়েছিল ভিলেজ পিপল ব্যান্ডের তাঁর প্রিয় গান- ‘ওয়াইএমসিএ’।

বিশ্বের নজরকাড়া এই সফরে আতিথেয়তার ক্ষেত্রে যখন সবই হলো, তখন প্রশ্ন উঠছে- ‘ডিলমেকার’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট কী পেলেন? সে উত্তরে যাওয়ার আগে বলে রাখা প্রয়োজন- তিনদিন আগেও মার্কিন গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, সফরে গুরুত্ব পাবে- ইরান যুদ্ধ, তাইওয়ান প্রসঙ্গ, বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিরল খনিজ।

ট্রাম্প দাবি করেছেন চীনের সঙ্গে ‘অসাধারণ’ চুক্তি হয়েছে। তবে দুই দেশের প্রশাসন সুনির্দিষ্টভাবে কোনো চুক্তির কথা উল্লেখ করেনি বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি। সফর থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন কে কী পেল তা বোঝার একটি উপায় হতে পারে দুই দেশের গণমাধ্যম। কারণ, সফরের শুরু থেকে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণাধীন গণমাধ্যমগুলো নিজ নিজ সরকারের অর্জন তুলে ধরছে। বিশ্লেষণের সুবিধার্থে সরকারি বয়ানবিরোধী গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের তথ্যও পর্যালোচনা করা হয়েছে।

মার্কিন গণমাধ্যম: ট্রাম্পের অর্জনে ইরান প্রসঙ্গ
যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমগুলোর মধ্যে ফক্স নিউজ পরিচিত কট্টর ট্রাম্পপন্থী হিসেবে। প্রেসিডেন্ট নিজেও একাধিকবার ফক্স নিউজের প্রশংসা করেছেন। বেইজিংয়ে অবস্থানের সময় সফরের অর্জন নিয়ে গণমাধ্যমটিকে তিনি সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন।

শুক্রবার ওই সাক্ষাৎকারের বরাত দিয়ে ফক্স নিউজ লিখেছে, ইরানকে সামরিক সহযোগিতা না কারার ব্যাপারে ট্রাম্পকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন। পাশাপাশি তারা সংঘাত বন্ধে সহায়তারও প্রস্তাব দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় চীনের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।

ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেছেন, ‘তিনি (শি) কোনো সামরিক সরঞ্জাম দেবেন (ইরানকে) না। এটি একটি বড় ঘোষণা। শি অত্যন্ত জোরালোভাবে এই ঘোষণা দিয়েছেন।’

তবে বিপরীত বয়ান পাওয়া গেছে ট্রাম্পের অন্যতম সমালোচক হিসেবে পরিচিত গণমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে। শি’র সঙ্গে ইরান নিয়ে আলোচনার বিষয়ে তারা লিখেছে, ‘ধারণা করা হয়েছিল- তেহরান যাতে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেনে নেয় তা নিশ্চিত করতে বেইজিংকে চাপ দেওয়া হবে। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত ছাড়াই ট্রাম্প বৈঠক শেষ করেন।’

ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার ব্যাপারে শি জিনপিং একমত হয়েছেন।’ এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হোয়াইট হাউসও এমন দাবি করেছে। ওই পোস্টে বলা হয়েছে, চীন আমেরিকার কাছে থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে বার্তা সংস্থা এএফপি তাদের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, বৈঠক নিয়ে বেইজিং যে বিবৃতি দিয়েছে তাতে তেল কেনার বিষয়টি উল্লেখ নেই।

চীনা গণমাধ্যম যা দেখাচ্ছে
ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত ‘পিপলস ডেইলি’। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে শুক্রবার গণমাধ্যমটি লিখেছে, ‘দুই প্রেসিডেন্ট আগামী তিন বছর এবং পরবর্তী সময়ের জন্য একটি নতুন ভিশনে একমত হয়েছেন। যেটির লক্ষ্য দুই দেশের সম্পর্কের স্থিতিশীলতা, টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং বিশ্বে আরো বেশি শান্তি, সমৃদ্ধি ও প্রগতি নিয়ে আসা।’

গণমাধ্যমটি আরো লিখেছে, ‘দুই প্রেসিডেন্ট নিজ নিজ উদ্বেগের বিষয়গুলো যথাযথভাবে মোকাবিলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ বোঝাপড়ায় পৌঁছেছেন। তারা আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুগুলোতে যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন।’

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি ট্রাম্পের সফর পর্যালোচনায় একজন বিশ্লেষকের মতামত প্রকাশ করেছে। চীনের রেনমিন ইউনিভার্সিটির ন্যাশনাল একাডেমি অব ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজির ভাইস ডিন দিয়াও দমিং বলেছেন, চীন-মার্কিন সম্পর্কের বিষয়ে বেইজিংয়ের নীতি সবসময়ই স্পষ্ট ও ধারাবাহিক। তাই বেইজিংয়ের সঙ্গে মিলে কাজ করার বিষয়টি এখন ওয়াশিংটনের ওপরই নির্ভর করছে।

সফরে ট্রাম্পের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বাণিজ্য চুক্তি করা। তাই তিনি প্রযুক্তিখাতের সাতজন, আর্থিক পরিষেবার ছয়, অ্যারোস্পেসের দুই এবং কৃষিখাত সংশ্লিষ্ট কোম্পানির একজন সিইওকে সঙ্গে নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে বেশি আলোচনায় ছিলেন এনভিডিয়ার সিইও জেনসন হুয়াং ও টেসলার ইলন মাস্ক। বেসরকারি মালিকানাধীন (আলিবাবা গ্রুপ) গণমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট লিখেছে, বৈঠকে এনভিডিয়ার তৈরি ‘এইচ-২০০’ চিপের কথা আলোচনায় উঠেছিল। কিন্তু চীন নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরির আগ্রহ দেখিয়েছে।

‘এইচ-২০০’ চিপগুলো মূলত জেনারেটিভ এআই, লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল এবং উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিংয়ের জন্য বিশেষভাবে তৈরি। এগুলো বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম উন্নত ও বহুল আকাঙ্ক্ষিত সেমিকন্ডাক্টর। বর্তমানে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করছে তাইওয়ান। বিশ্বের ৯০ শতাংশেরও বেশি উন্নত সেমিকন্ডাক্টর সেখানে উৎপাদন হয়।

বার্তা সংস্থা: তাইওয়ান, এআই, বিরল খনিজ
এএফপি ও রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে পৃথকভাবে তাইওয়ান প্রসঙ্গ, এআই এবং বিরল খনিজের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েছে। দুটি সংস্থাই বলেছে, এসব খাতে ট্রাম্পের সফরে উল্লেখযোগ্য অর্জন নেই।

সফরের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দিয়েছিলেন, তাইওয়ানকে অস্ত্র সরবরাহের (১০ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজ) বিষয়ে তিনি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলাপ করবেন। তবে বৃহস্পতিবারের বৈঠকের শুরুতেই ট্রাম্পকে তাইওয়ান নিয়ে সতর্ক করেন চীনের নেতা। হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অঞ্চলটি ঘিরে ভুল পদক্ষেপ নিলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত বাঁধবে।

শি’র ওই হুঁশিয়ারির বিপরীতে বৈঠকে ট্রাম্পের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল তা জানা যায়নি। এএফপি জানিয়েছে, শুক্রবার দেশে ফেরার পথে এয়ারফোর্স ওয়ানে (উড়োজাহাজ) সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘শি’র সঙ্গে তাইওয়ান নিয়ে আলোচনা করেছি। কিন্তু কোনো প্রতিশ্রুতি দেইনি।’

রয়টার্স লিখেছে, সফরে ট্রাম্প যখন ‘বোয়িং জেট’ বিক্রির চুক্তির মতো তাৎক্ষণিক ব্যবসায়িক সাফল্যের অপেক্ষায় ছিলেন, তখন শি জিনপিং গুরুত্ব দিয়েছেন দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক পুনঃস্থাপন এবং স্থিতিশীল বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর। যা থেকে দুই নেতার ভিন্ন ভিন্ন অগ্রাধিকারের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

এছাড়া, বিরল খনিজ সরবরাহ সমস্যাটিরও কোনো আনুষ্ঠানিক সমাধান ছাড়াই ট্রাম্প ফিরে গেছেন। গত বছরের এপ্রিলে ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের জবাবে চীন খনিজ রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। এরপর থেকে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। সম্মেলনের দুই দিনের সংবাদ কাভারেজে চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম একবারের জন্যও এই খনিজ সংকট ইস্যুটি উল্লেখ করেনি।

আলোচিত এই সফরে কার কী অর্জন তা হয়তো সামনের দিনে আরো স্পষ্ট হবে। আপাতত গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন থেকে যা জানা যাচ্ছে সেটির পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্পের সেই প্রিয় গানের (ওয়াইএমসিএ) কয়েকটি লাইন দিয়েই লেখাটি শেষ করা যাক- ‘হে তরুণ, মন খারাপ করার কোনো দরকার নেই/ কারণ, তুমি এখন (পড়ুন-এসেছিলেন) এক নতুন শহরে।’

শাপলা চত্বরে হত্যা মামলা দীপু মনি, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে কারাগারে পাঠালেন ট্রাইব্যুনাল

তের বছর আগে মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজত ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি গোলাম মোর্তজা মজুমদারের নেতৃত্বে দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল ১ আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।

পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী আজ তাদেরকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। গত ৭ মে প্রসিকিউশন জানায়, ‘২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন দীপু মনি। ওই দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা একদল উচ্ছৃঙ্খল মানুষকে নির্মূল করেছেন বলে আন্তর্জাতিকভাবে প্রচার করেন তিনি। এছাড়া শুরু থেকেই হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশকে উসকানিমূলক বক্তব্য হিসেবে একাত্তর টেলিভিশনে প্রচার করেন সাংবাদিক ফারজানা ও মোজাম্মেল বাবু। ওই সময় মোজাম্মেল বাবু একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন, ফারজানা রুপা ছিলেন টেলিভিশনটির সাবেক প্রধান প্রতিবেদক।’

ওই দিন শুনানি শেষে তাদের ১৪ মে হাজির করার জন্য নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। পাশাপাশি আগামী ৭ জুন প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

বর্তমানে এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন ছয়জন। তারা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির ও সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর অভিযোগ করেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে তিনি এ অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

ভুল পদক্ষেপ চীন-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত বাঁধাবে, ট্রাম্পকে শির হুঁশিয়ারি তাইওয়ান প্রসঙ্গ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তাইওয়ান ইস্যুতে সতর্ক করেছেন চীনের নেতা শি জিনপিং। তিনি বলেছেন, তাইওয়ান প্রশ্নে কোনো ভুল পদক্ষেপ দুই দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবে।

বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে শীর্ষ সম্মেলনের শুরুতেই ট্রাম্পকে এই কঠোর বার্তা দেন চীনের প্রেসিডেন্ট। বৈঠক শুরুর কিছুক্ষণ পর চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে শির বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। শি বলেছেন, চীন-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাইওয়ান প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।

প্রায় দুই ঘণ্টা ১৫ মিনিট স্থায়ী হওয়া বৈঠকে শি আরো বলেন, যদি এই বিষয়টি ভুলভাবে মোকাবিলা করা হয়, তবে দুই দেশ একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হতে পারে বা সংঘাতেও জড়িয়ে যেতে পারে। এটি চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেবে।

বৈঠকে গ্রিক রাজনৈতিক তত্ত্বের অবতারণাও করেন শি। তিনি বলেন, ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কি তথাকথিত ‘থুসিডাইডস ট্র্যাপ’ এড়িয়ে বড় শক্তিগুলোর সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে? সহযোগিতা উভয় পক্ষের জন্যই মঙ্গলজনক, অন্যদিকে সংঘাত উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর।’

থুসিডাইডস ট্র্যাপ বলতে, উদীয়মান শক্তি যখন কোনো ক্ষমতাসীন শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে তখন যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হওয়াকে বোঝায়।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং। ছবি: এএফপি

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং। ছবি: এএফপি

তাইওয়ানকে চীন নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে। প্রেসিডেন্ট শি একাধিকবার প্রকাশ্যে দ্বীপটিকে চীনের ভূখণ্ডের সঙ্গে একীভূত করার বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। অপরদিকে সম্প্রতি তাইওয়ানের কাছে বড় অঙ্কের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যা নিয়ে এর আগে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বেইজিংয়ের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ও হয়েছে।

শির ‘রূঢ় ভাষা’র ব্যাখ্যা
বৃহস্পতিবারের বৈঠকে শি জিনপিংয়ের মন্তব্যের পর তাইপে (তাইওয়ানের রাজধানী) পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তারা চীনকে আঞ্চলিক শান্তির জন্য ঝুঁকি হিসেবে অভিহিত করেছে। জোর দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র বারবার তাইওয়ানের প্রতি তাদের স্পষ্ট ও দৃঢ় সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

সোমবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে শি-র সঙ্গে কথা বলবেন। তাঁর এমন বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থানের বিপরীত। কারণ, ওয়াশিংটন বরাবরই তাইওয়ান নিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে আলোচনা বা পরামর্শ করার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে আসছিল।

চীনা গণমাধ্যম ‘চায়না নেইকান’-এর সম্পাদক অ্যাডাম নি এএফপিকে বলেন, চীনের পররাষ্ট্রনীতিতে এ ধরনের ‘রূঢ় ভাষা’ খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। তবে শি জিনপিংয়ের মুখ থেকে এমন কথা শোনাটা ব্যতিক্রমী ঘটনা। বৈঠকের বক্তব্যের মাধ্যমে শি স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, তাইওয়ান ইস্যুটি দুই পরাশক্তির মধ্যে একটি ‘বারুদ ভর্তি ড্রাম’ হয়ে আছে।

ট্রাম্পের মুখে ‘বন্ধু’
চীন সফরে গিয়ে শির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প। শি-কে একজন মহান নেতা ও বন্ধু হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, দুই দেশের সামনে এক চমৎকার ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। তবে ট্রাম্পকে স্বাগত জানানোর রাজকীয় আড়ম্বরের আড়ালে শি জিনপিংয়ের সুর ছিল কিছুটা সংযত। তিনি বলেন, দুই দেশের আসলে প্রতিদ্বন্দ্বী নয় বরং অংশীদার হওয়া উচিত।

গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ ট্রাম্পকে স্বাগত জানান চীনা কর্মকর্তারা। ছবি: এএফপি

গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ ট্রাম্পকে স্বাগত জানান চীনা কর্মকর্তারা। ছবি: এএফপি

গত এক দশকের মধ্যে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের এটিই প্রথম বেইজিং সফর। যদিও ট্রাম্পকে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে, তবে এর নেপথ্যে দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত বাণিজ্য এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা রয়েই গেছে।

জাঁকজমকপূর্ণ ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ ট্রাম্পকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেন শি। এ সময় সামরিক ব্যান্ডের সুর, তোপধ্বনি এবং একদল স্কুলশিক্ষার্থীর উচ্ছ্বসিত ‘স্বাগতম’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। পুরো আয়োজনটি বেশ উপভোগ করতে দেখা যায় ট্রাম্পকে। তিনি বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক আগের চেয়ে আরো উন্নত হতে যাচ্ছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের নিখোঁজের একদিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার

ঠাকুরগাঁওয়ে রাণীশংকৈলে নিখোঁজের একদিন পর সাহিদা আক্তার লামিয়া নামে ৪ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের আনসার ডাঙ্গী পূর্বপাড়া গ্রাম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত লামিয়া ওই এলাকার শফিকুর রহমানের মেয়ে।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর থেকে নিখোঁজ ছিল লামিয়া। এরপর থেকে তার  স্বজন ও এলাকাবাসীরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান পাননি। পরে বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ভূট্টা ক্ষেতে তার মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও জেনালের হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী বলেন, ‘শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও জেনালের হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মোরসালিন নামে এক কিশোরকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসায় সে হত্যার দায়ী স্বীকার করেছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

খাওয়ার আগে না পরে? কখন তরমুজ খাওয়া ভালো

গরমে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে হিট স্ট্রোক এবং ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ে। গ্রীষ্মকালের মৌসুমি ফল তরমুজ অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যকর। এই ফলে প্রায় ৯০ শতাংশ পানি থাকে। গরমে প্রতিদিন তরমুজ খেলে শরীরের জলীয় ভারসাম্য থাকে এবং মাথা ঘুরে যাওয়ার বা দুর্বলতার সম্ভাবনা কমে যায়। নিয়মিত এই ফল খেলে গ্যাস, অ্যাসিডিটি, কোষ্ঠকাঠিন্য বা হজমের সমস্যা কমে যায়। বিভিন্ন সময়ে তরমুজ খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে। তবে প্রশ্ন হলো, খাবারের আগে না পরে তরমুজ কখন খেলে বেশি উপকার পাবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে তরমুজ খাওয়া সবচেয়ে উপকারী। খালি পেটে এটি খেলে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়। আবার দুপুরের খাবারের এক ঘণ্টা আগে ফলটি খাওয়া যেতে পারে। এটি হজম ব্যবস্থা ভালো করে, গ্যাস এবং অ্যাসিডিটি সমস্যা প্রতিরোধ করে।  ব্যায়ামের পরেও তরমুজ খাওয়া ভালো। এতে শরীরের পানির র এবং ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণ হয়। গ্রীষ্মে দুপুরে তরমুজ খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে এবং শরীরের তাপমাত্রা কমে।

খাবারের আগে পরে?
তরমুজে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকায় এটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে। এটি খেলে পেটও ভর্তি থাকে। খাবারের আগে তরমুজ খেলে পেট শান্ত এবং ঠান্ডা থাকে। এর ফলে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ এড়ানো যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, তরমুজ সবসময় খাবারের আগে খাওয়া উচিত।

কখন তরমুজ খাওয়া ঠিক নয়
রাতে তরমুজ খাওয়া একেবারেই ঠিক নয় কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকায় বারবার মূত্রত্যাগের কারণ হতে পারে। খাবারের পরে তরমুজ খাওয়া উচিত নয়, কারণ এটি গ্যাস এবং হজমের সমস্যা বাড়াতে পারে। গরমের দিনে খালি পেটে তরমুজ খেলে শরীর সতেজ থাকে। অনেকেরই ফ্রিজ থেকে বের করে সাথে সাথে তরমুজ খাওয়ার অভ্যাস আছে, এটা ঠিক নয়। কারণ এটি গলা এবং হজম ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

ওজন কমাতে চাইলে
যারা ওজন কমাতে চান, তাদের দুপুরে তরমুজ খাওয়া উচিত। এতে উচ্চ মাত্রায় ফাইবার থাকায় পেট দীর্ঘ সময় ভরা থাকে এবং হালকা অনুভূতি হয়। এতে কম ক্যালোরি থাকে, যা ওজন কমানোর ক্ষেত্রে সহায়ক। গ্রীষ্মকালে নিয়মিত তরমুজ খেলে ওজন কমানো সহজ হয়ে ওঠে।

এই ফলগুলোর সাথে তরমুজ খাবেন না
গরম ফলের সাথে তরমুজ খাওয়া উচিত নয়, কারণ এতে পেটের সমস্যা হতে পারে এবং সর্দি-কাশির ঝুঁকি বাড়তে পারে। অন্যান্য ফলের সাথেও তরমুজ খাওয়া উচিত নয়, কারণ এর প্রকৃতি শীতল এবং অন্যান্য ফলের প্রকৃতি গরম হতে পারে; অন্য ফলের সাথে খেলে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কলা, কমলা এবং আঙুরের সাথে তরমুজ  খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। এগুলোর সাথে তরমুজ খেলে পেটে গ্যাস, বদহজম এবং অ্যাসিডিটি হতে পারে। তাই, অন্যান্য ফলের সাথে তরমুজ খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ঈদের সিনেমার হালহকিকত জানালেন নির্মাতারা

ঈদুল আজহায় মুক্তির ঘোষণা দিয়েছে একাধিক সিনেমা। কোনোটির শুটিং হচ্ছে,কোনোটির আবার শুটিং শেষ চলছে পোস্ট প্রডাকশনের কাজ। ঈদে মুক্তি প্রতিক্ষিত সিনেমাগুলোর পরিচালকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানার চেষ্টা করা হয়েছে সিনেমাগুলোর সর্বশেষ পরিস্থিতি

আজমান রুশো রকস্টার পরিচালক
আমাদের রকস্টারের শুটিং শেষ। এখন পোস্টের কাজ করছি। প্রচার-প্রচারণাও চলছে। ইতোমধ্যে আমরা রকস্টারের লুক পোস্টার, অ্যানিমেশন টিজার, টিজার ও প্রথম গান ‘পিরিতি’ প্রকাশ করেছি। সবকিছুই দর্শক দারুণভাবে গ্রহণ করছে। প্রচারণার জন্য আগামীতে আরও যা আসবে সবকিছুতেই চমক থাকবে। আগামী সপ্তাহে আমরা সিনেমাটি সেন্সরে জমা দেব। রকস্টারে শাকিব খান বাংলাদেশের ঢাকার একটি ছেলের চরিত্র করেছেন। গল্পের ক্ষেত্রে তিনি দেশের বাইরেও যান। তবে গল্পের যে মানুষেরা রয়েছেন তারা প্রত্যেকেই বাংলাদেশি। সে কারণে জোরালোভাবে বলতে পারি রকস্টার বাঙালি ছেলের গল্প, এটি বাংলাদেশের গল্প। ছোটবেলা থেকে আমি কোনো নায়কের স্টাইল ফলো করিনি। সবসময় মিউজিশিয়ানদের লাইফস্টাইল ফলো করেছি। তাদের মতো পোশাক, চুলের স্টাইল করতাম। সেই আমার প্রথম সিনেমা হচ্ছে মিউজিক্যাল ফিল্ম।

মেজবাউর রহমান সুমন, রইদ পরিচালক
রইদ সিনেমার শুটিং বেশ আগেই শেষ হয়। মুক্তির আগে যথাযথ প্রচারণার জন্য সময় নেওয়া হয়েছে। আমরা চেয়েছিলাম, মুক্তির আগে দর্শকের কাছে ঠিকভাবে পৌঁছাতে। প্রচারণা এখানে বড় বিষয়। এ ছাড়া উৎসবে অংশগ্রহণ এবং ঈদুল ফিতরের আগের সময়টা উপযুক্ত মনে হয়নি। তাই আমরা ঈদুল আজহাকে মুক্তির জন্য বেছে নিয়েছি। তবে আমরা শুরুর দিকে ভেবেছিলাম, ঈদের পর নিরিবিলি সময়ে সিনেমাটি মুক্তি দেব। এতে দর্শকরা গল্পটি ভালোভাবে উপভোগ করতে পারবেন। তবে ঈদের পরপরই বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা শুরু হয়ে যাবে। তাই মুক্তির সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে ঈদুল আজহাতেই ‘রইদ’ মুক্তির সিদ্ধান্ত নিই। ইতোমধ্যে সিনেমার পোস্টার, ট্রিজার ও দুটি গান প্রকাশ করেছি। দর্শক সেগুলো দারুণভাবে গ্রহণও করছেন। আগামী ঈদের আগ পর্যন্ত এই প্রচারণা চলমান থাকবে।

সাইফ চন্দন 
মালিক পরিচালক
আমরা আমাদের সিনেমার আনুষ্ঠানিক কিছুর ঘোষণা এখনও দেয়নি। চেয়েছিলাম সিনেমাটি প্রপারভাবে সব শেষ করে করে এরপর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেব। এখনও আমরা সে পথেই আছি। আমাদের শুটিং, ডাবিং সব শেষ। এখন পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ চলছে। তবে এরই মধ্যে সিনেমাটির ফুটেজ ও শুটিংয়ের ছবি কারা যেন প্রকাশ করেছে। তাতেই দেখেছি দর্শকের কাছে সিনেমাটি নিয়ে দারুণ কৌতূহল। সিনেমাটির পোস্টার, গান ও ট্রেলার দেখে দর্শকরা আরও চমকে যাবে বলে আমার বিশ্বাস। আমরা সেন্সরে জমা দেওয়ার জন্য পরিপূর্ণ কাজ শেষ করে একযোগে প্রচারণায় নামতে চাই। প্রযোজকেরও একই পরিকল্পনা। এর মধ্যে আমরা সব গুছিয়ে এনেছি। প্রচারণা শুরু হওয়া মাত্রই একে একে সব প্রকাশ করা হবে। মূলত অ্যাকশন ঘরানার সিনেমা এটি। এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এর গল্প এগিয়ে যায়।

আলোক হাসান নাকফুলের কাব্য পরিচালক
সিনেমাটি অনেক আগেই আমি শেষ করে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কাছে জমা দিয়েছি। এরপর ‘নাকফুলের কাব্য’ ২০২৪ সালে সেন্সর ছাড়পত্র পায়। নানা কারণে মুক্তি দেওয়া হয়নি। এবার প্রযোজনা সংস্থা ঈদুল আজহায় মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পোস্টার প্রকাশ করে প্রচারণাও শুরু করেছে। সব কিছু ঠিক থাকলে ঈদেই সিনেমাটি মুক্তি পাবে। এ ক্ষেত্রে কেবল মাল্টিপ্লেক্সে মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। গ্রামীণ আবহ ও নিখাদ দেশীয় প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই সিনেমার কাহিনি আবর্তিত হয়েছে এক আবেগঘন প্রেম ও বিরহের গল্পকে কেন্দ্র করে। সমাজপতিদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে একটি অমর প্রেম ও বিরহের গল্প ‘নাকফুলের কাব্য’। এতে রয়েছে তিনটি গান। প্রেম, আবেগ, কমেডি–সবই রয়েছে। দর্শকরা একটি পরিচ্ছন্ন ও নিরেট বাংলাদেশি গল্পের সিনেমা পাবেন। পরিবারসহ উপভোগ করার মতো সিনেমা এটি।

ব্যাংকে নগদ টাকার সংকট

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ছাপানো টাকার চাহিদা বেড়ে যায়। এবার ঈদের আগে টাঁকশালের কাছে অন্তত ১৬ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে সেখান থেকে জানানো হয়েছে, কাগজ-কালির সংকটের কারণে সর্বোচ্চ আট হাজার কোটি টাকার নোট দেওয়া সম্ভব। অবশ্য সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনে বঙ্গবন্ধুর ছবিযুক্ত পুরোনো নকশার ১৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা পড়ে আছে। এই নোট চাইলে দুই সপ্তাহের মধ্যে বাজারে দেওয়া সম্ভব। যদিও আপাতত বঙ্গবন্ধুর ছবিযুক্ত নোট না ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রসঙ্গত, ছাপানো টাকার সংকট এবং তারল্য সংকট এক জিনিস নয়। সব মিলিয়ে এখন সঞ্চয় রয়েছে ২৪ লাখ কোটি টাকার মতো। ছাপানো টাকার চাহিদা রয়েছে তিন লাখ ২০ হাজার থেকে তিন লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। প্রতিবছর ঈদ সামনে রেখে ছাপানো নোটের চাহিদা বাড়ে। যে কারণে এ সময় সর্বোচ্চ সংখ্যক নতুন নোট বাজারে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বঙ্গবন্ধুর ছবিযুক্ত নোটের বদলে একযোগে নতুন নকশার নোট আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। নতুন নোট বাজারে আনতে প্রক্রিয়া শুরুর পর ১০ থেকে ১৮ মাস সময় লাগে। স্বাভাবিক সময়ে নোটের নকশা বদলের ক্ষেত্রে একযোগে না করে একটি-একটি করে বদল করা হতো। তবে এবার বিশেষ পরিস্থিতির কারণে একযোগে সব

মূল্যমানের নতুন ডিজাইনের নোট বাজারে আনার চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে পুরোনো নকশার নোট ছাড়া অনেক দিন বন্ধ রাখা হয়। এ কারণে চাহিদার সঙ্গে জোগানে বড় পার্থক্য তৈরি হয়ে এ রকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত দুই ঈদে কোনো নতুন নোটই বাজারে ছাড়া হয়নি।

ব্যাংকাররা জানান, ছাপানো নোটের বড় একটি অংশ ব্যবসায়িক কাজে কিংবা দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে মানুষের কাছে থাকে। আর ব্যাংকগুলোর ১২ হাজার মতো শাখার ভল্টে থাকে ১৬ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বিনিময় করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্ট এবং সোনালী ব্যাংকের চেস্ট শাখার কাছে থাকে ১৪ থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব হলো, বাজার থেকে প্রতিনিয়ত পুরোনো, ছেঁড়া-ফাটা, অধিক দাগ বা ময়লাযুক্ত টাকা তুলে তা বাংলাদেশ ব্যাংক বা সোনালী ব্যাংকে জমা দেওয়া। তবে ব্যাংকগুলো অনেক ক্ষেত্রে চাহিদামতো নোট না পাওয়ায় এখন বাজারে প্রচুর ছেঁড়া-ফাটা নোট পাওয়া যাচ্ছে।

জানা গেছে, এবার ঈদের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ বিভিন্ন মূল্যমানের অন্তত ১৬ হাজার কোটি টাকার নতুন নোটের চাহিদা দিয়েছে। এই চাহিদা দেওয়া হয় টাকা ছাপানোর একমাত্র প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন, যা টাঁকশাল নামে পরিচিত প্রতিষ্ঠানের কাছে। তবে টাঁকাশাল থেকে জানানো হয়েছে, ঈদের আগে সর্বোচ্চ আট হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করা সম্ভব।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরোনো নকশার বঙ্গবন্ধুর ছবিযুক্ত নোট বাজারে ছাড়তে চাইলে চাহিদার চেয়ে বেশি সরবরাহ করা সম্ভব। কেননা, বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর ছবিযুক্ত অর্ধপ্রস্তুত অবস্থায় ১৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকার মতো পড়ে আছে। এর বিপরীতে নতুন নকশার নোটের জন্য কালি-কাগজের সংকট রয়েছে। এ সংকট মেটাতে এখন বেশি খরচ করে বিমানযোগে কাগজ-কালি আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই নোট ছাপা শেষ করে ঈদের আগে বাজারে দেওয়া সম্ভব হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সমকালকে বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী নতুন নকশার নোট আনতে গিয়ে কিছুটা সময় লেগেছে। যে কারণে বাজারে নোটের কিছুটা সংকট দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, সাধারণভাবে ছেঁড়া-ফাটা বা ত্রুটিযুক্ত নোট বাজার থেকে তুলে পুড়িয়ে ফেলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে তা করতে না পারায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে শিগগিরই ব্যাংকগুলোকে নতুন টাকা দেওয়া শুরু হবে। ফলে এ সংকট আর থাকবে না।

ব্যাংকগুলোর বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা জমা ও উত্তোলন একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। আবার চাহিদার বিপরীতে নতুন টাকা ছাপানো হয়। এই টাকা যে নতুন নোট ইস্যুর বিপরীতে ছাপানো হয়, তেমন নয়। বরং পুরোনো নোটের বদলে নতুন টাকা বাজারে ছাড়া হয়। ছেঁড়া-ফাটা, ত্রুটিপূর্ণ ও ময়লাযুক্ত নোট ব্যাংকগুলোর কাছে এলে নতুন করে তা আর বাজারে দেওয়ার নিয়ম নেই। বরং কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ফেরত দিয়ে সমমূল্যের ‘ফ্রেশ’ নোট নিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত নভেম্বর মাসে ‘ক্লিন নোট পলিসি’ করেছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ত্রুটিযুক্ত নোট বদলে দেওয়ার বিভিন্ন নির্দেশনা রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। তবে ব্যাংকগুলো চাহিদামতো ‘ফ্রেশ’ নোট না পাওয়ায় প্রতিনিয়ত প্রচুর ছেঁড়া-ফাটা, অধিক দাগযুক্ত নোট আসছে।

কীভাবে নোট বদলাতে হবে এর একটি নীতিমালা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংক গ্রাহককে টাকা বদলে দেবে। আর ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বদলে নিয়ে আসবে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা পরিপালন করে না অনেক ব্যাংক। নানা অজুহাতে গ্রাহককে ফেরত দেওয়া হয়। ছোট নোটের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর এ অনীহা আরও বেশি। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সাধারণ গ্রাহকরা সরাসরি নোট বদলে নেওয়ার সুযোগ থাকলেও গত বছরের নভেম্বর থেকে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ভুল পদক্ষেপ চীন-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত বাঁধাবে, ট্রাম্পকে শির হুঁশিয়ারি তাইওয়ান প্রসঙ্গ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তাইওয়ান ইস্যুতে সতর্ক করেছেন চীনের নেতা শি জিনপিং। তিনি বলেছেন, তাইওয়ান প্রশ্নে কোনো ভুল পদক্ষেপ দুই দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবে।

বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে শীর্ষ সম্মেলনের শুরুতেই ট্রাম্পকে এই কঠোর বার্তা দেন চীনের প্রেসিডেন্ট। বৈঠক শুরুর কিছুক্ষণ পর চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে শির বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। শি বলেছেন, চীন-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাইওয়ান প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।

প্রায় দুই ঘণ্টা ১৫ মিনিট স্থায়ী হওয়া বৈঠকে শি আরো বলেন, যদি এই বিষয়টি ভুলভাবে মোকাবিলা করা হয়, তবে দুই দেশ একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হতে পারে বা সংঘাতেও জড়িয়ে যেতে পারে। এটি চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেবে।

বৈঠকে গ্রিক রাজনৈতিক তত্ত্বের অবতারণাও করেন শি। তিনি বলেন, ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কি তথাকথিত ‘থুসিডাইডস ট্র্যাপ’ এড়িয়ে বড় শক্তিগুলোর সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে? সহযোগিতা উভয় পক্ষের জন্যই মঙ্গলজনক, অন্যদিকে সংঘাত উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর।’

থুসিডাইডস ট্র্যাপ বলতে, উদীয়মান শক্তি যখন কোনো ক্ষমতাসীন শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে তখন যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হওয়াকে বোঝায়।

তাইওয়ানকে চীন নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে। প্রেসিডেন্ট শি একাধিকবার প্রকাশ্যে দ্বীপটিকে চীনের ভূখণ্ডের সঙ্গে একীভূত করার বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। অপরদিকে সম্প্রতি তাইওয়ানের কাছে বড় অঙ্কের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যা নিয়ে এর আগে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বেইজিংয়ের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ও হয়েছে।

শির ‘রূঢ় ভাষা’র ব্যাখ্যা
বৃহস্পতিবারের বৈঠকে শি জিনপিংয়ের মন্তব্যের পর তাইপে (তাইওয়ানের রাজধানী) পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তারা চীনকে আঞ্চলিক শান্তির জন্য ঝুঁকি হিসেবে অভিহিত করেছে। জোর দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র বারবার তাইওয়ানের প্রতি তাদের স্পষ্ট ও দৃঢ় সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

সোমবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে শি-র সঙ্গে কথা বলবেন। তাঁর এমন বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থানের বিপরীত। কারণ, ওয়াশিংটন বরাবরই তাইওয়ান নিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে আলোচনা বা পরামর্শ করার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে আসছিল।

চীনা গণমাধ্যম ‘চায়না নেইকান’-এর সম্পাদক অ্যাডাম নি এএফপিকে বলেন, চীনের পররাষ্ট্রনীতিতে এ ধরনের ‘রূঢ় ভাষা’ খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। তবে শি জিনপিংয়ের মুখ থেকে এমন কথা শোনাটা ব্যতিক্রমী ঘটনা। বৈঠকের বক্তব্যের মাধ্যমে শি স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, তাইওয়ান ইস্যুটি দুই পরাশক্তির মধ্যে একটি ‘বারুদ ভর্তি ড্রাম’ হয়ে আছে।

ট্রাম্পের মুখে ‘বন্ধু’
চীন সফরে গিয়ে শির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প। শি-কে একজন মহান নেতা ও বন্ধু হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, দুই দেশের সামনে এক চমৎকার ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। তবে ট্রাম্পকে স্বাগত জানানোর রাজকীয় আড়ম্বরের আড়ালে শি জিনপিংয়ের সুর ছিল কিছুটা সংযত। তিনি বলেন, দুই দেশের আসলে প্রতিদ্বন্দ্বী নয় বরং অংশীদার হওয়া উচিত।

গত এক দশকের মধ্যে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের এটিই প্রথম বেইজিং সফর। যদিও ট্রাম্পকে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে, তবে এর নেপথ্যে দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত বাণিজ্য এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা রয়েই গেছে।

জাঁকজমকপূর্ণ ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ ট্রাম্পকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেন শি। এ সময় সামরিক ব্যান্ডের সুর, তোপধ্বনি এবং একদল স্কুলশিক্ষার্থীর উচ্ছ্বসিত ‘স্বাগতম’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। পুরো আয়োজনটি বেশ উপভোগ করতে দেখা যায় ট্রাম্পকে। তিনি বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক আগের চেয়ে আরো উন্নত হতে যাচ্ছে।

খেলাপি হওয়ায় ফল স্থগিত দুই নেতা এমপির ভূমিকায়

চট্টগ্রামে খেলাপি ঋণের কারণে নির্বাচনের ফল স্থগিত থাকা দুই বিএনপি নেতা শপথ নিতে না পারলেও নির্বাচনী এলাকায় সংসদ সদস্যের (এমপি) মতো কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এমপি না হয়েও সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ও ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান এবং সরকারি উন্নয়ন ও সহায়তা প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের প্রার্থী আসলাম চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সরোয়ার আলমগীর উপস্থিত ছিলেন। কিছু অনুষ্ঠানে তারা প্রধান অতিথি ছিলেন। তবে ব্যানারে তাদের নাম ছিল না। বক্তৃতার সময় তাদের এমপি হিসেবে সম্বোধন করা হয়।

এদিকে, ফল ঘোষণা ও শপথের সুযোগ চেয়ে আসলাম চৌধুরী ও সরোয়ার আলমগীরের পৃথক আবেদনের ওপর আজ বৃহস্পতিবার আদেশের জন্য দিন ধার্য রেখেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ গতকাল বুধবার এই তারিখ ধার্য করেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঋণখেলাপির অভিযোগে আসলাম চৌধুরী ও সরোয়ার আলমগীরের বিরুদ্ধে রিট আবেদন করা হয়। পরে আপিল বিভাগ আসলাম চৌধুরীকে চট্টগ্রাম-৪ ও সরোয়ার আলমগীরকে চট্টগ্রাম-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ দেন। তবে আদালত আদেশ দিয়েছিলেন, নির্বাচন করতে পারলেও তারা ঋণখেলাপি নন– প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত ভোটের ফল প্রকাশ করা
যাবে না।

ফল প্রকাশ না করায় এ দুই বিএনপি নেতা এখনও সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারেননি। নির্বাচন কমিশনের স্থগিত ফল অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-২ আসনে সরোয়ার আলমগীর এক লাখ ৩৯ হাজার ৮৩১ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নুরুল আমিন পান ৬৫ হাজার ৫৫০ ভোট। চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির আসলাম চৌধুরী এক লাখ ৪৩ হাজার ৫৫২ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আনোয়ার সিদ্দিক পান ৯১ হাজার ৪০৪ ভোট।

এর আগে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ এবং ভোলা-২ আসনে জয়ী হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের তোফায়েল আহমেদ। তিনি ভোলা-১ আসন ছাড়লেও আদালতের স্থগিতাদেশে উপনির্বাচন না হওয়ায় পুরো পাঁচ বছর শূন্য থাকে।

খেলাপি হয়েও প্রার্থী
চট্টগ্রামের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসলাম চৌধুরী এবং সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতার বিরুদ্ধে জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিন নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। কমিশন এতে বিএনপি প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করে।

পাঁচটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সরোয়ার আলমগীরের ২১৪ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে তাঁর মালিকানাধীন ‘এনএফজেড টেরি টেক্সটাইল’-এর ২০১ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে বলে জামায়াত প্রার্থীর আপিলে বলা হয়েছিল। তবে এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ পান সরোয়ার আলমগীর। পরে হাইকোর্ট তাঁর প্রার্থিতা বহাল করলে জামায়াত প্রার্থী আপিল বিভাগে যান। সর্বোচ্চ আদালত লিভ টু আপিল মঞ্জুর করলেও সরোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেন।

আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যাংকের অর্থঋণ মামলা রয়েছে। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর মনোনয়নপত্রও বৈধ ঘোষণা করেছিলেন হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের কারণে। এতে ব্যাংকগুলো নির্বাচন কমিশনে আপিল করে। টাকা ফেরত দেওয়ার শর্তে কমিশন তাঁর প্রার্থিতা বহাল করে। হাইকোর্টও একই আদেশ দেন। এর বিরুদ্ধে জামায়াত প্রার্থীর আপিল সর্বোচ্চ আদালত মঞ্জুর করলেও আসলাম চৌধুরীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেন।

শপথ না নিয়েই এমপির ভূমিকায়
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী প্রার্থীদের নামের গেজেট প্রকাশিত হয় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি। আপিল বিভাগের নিষেধাজ্ঞা থাকায় আসলাম চৌধুরী ও সরোয়ার আলমগীরের নামে গেজেট জারি হয়নি। ফলে তারা তিন মাসেও শপথ নিতে পারেননি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস, ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখসহ বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আসলাম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে তাঁকে সংসদ সদস্য হিসেবে পরিচয়ও করিয়ে দেওয়া হয়। ১৭ এপ্রিল উপজেলার মহালঙ্কা এলাকায় জিন্নাত আলী চৌধুরী নুরানি মাদ্রাসায় নবনির্মিত মসজিদ ভবন উদ্বোধন করেন আসলাম চৌধুরী।

এর উদ্বোধন ফলকে লেখা ছিল, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের চট্টগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরী’। এ ছাড়া গত তিন মাসে উপজেলা পরিষদের একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডা. কমল কদর ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোরছালীন। আলোচনা-সমালোচনার মুখে তারা সামাজিক মাধ্যম থেকে এসব ছবি সরিয়ে ফেলেছেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ এপ্রিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে ত্রাণ সহায়তার (টিআর) ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে। একই দিন কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) কর্মসূচিতে ২৫ লাখ টাকা এবং কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচির জন্য ২০ টন চাল ও ২০ টন গম বরাদ্দ এসেছে। এগুলো এখনও বিতরণ করা হয়নি। গত রোজার ঈদের আগে আসা ভিজিএফের ১০ লাখ টাকা উপজেলা বিএনপির নেতাদের সমন্বয়ে বণ্টন করা হয়।

জানতে চাইলে কমল কদর সমকালকে বলেন, গত তিন মাস সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প দেখাশোনা করছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোরছালীন।
মোহাম্মদ মোরছালীন বলেন, ‘এখনও এমপির বরাদ্দ আসেনি। বিভিন্ন প্রকল্প তদারকি করছি, যাতে কোনো অনিয়ম না হয়। এমপির নির্দেশে করছি।’

আসলাম চৌধুরীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও সংযোগ বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, বিশেষ বরাদ্দগুলো এখনও বণ্টন হয়নি। এমপির নামফলকে প্রকল্প উদ্বোধনের সুযোগ নেই। দলীয় লোক যদি ছবি প্রচার করে, তা তাদের ব্যাপার।

সরকারি কর্মকর্তারাও ‘এমপি’ মানছেন 
২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে উপজেলা পরিষদের পক্ষে ‘সংসদ সদস্য’ হিসেবে সরোয়ার আলমগীরকে সঙ্গে নিয়ে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান ইউএনও সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম। অন্য সরকারি কর্মকর্তারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সেদিন সরোয়ার আলমগীর সরকারি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির চেয়ারেও বসেন।

পহেলা বৈশাখে উপজেলা প্রশাসনের শোভাযাত্রা ‘সংসদ সদস্য’ পরিচয়ে ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন সরোয়ার আলমগীর। ২৫ এপ্রিল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির খরিপ-১ মৌসুমে কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে সার ও আউশ ধানের বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানও উদ্বোধন করেন তিনি। একই দিন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল আলমসহ অন্য কর্মকর্তারা সরোয়ার আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তারা তাঁকে নিয়ে শহীদ মিনারে ফুল দিতে যান।

ইউএনও সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘সরওয়ার আলমগীর উপস্থিত থাকলেও প্রধান অতিথি ছিলেন না। বিএনপির একজন নেতা হিসেবে থাকতেই পারেন।’
কিছু অনুষ্ঠানে সরোয়ার আলমগীরের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার তথ্য জানানোর পর ইউএনও বলেন, ‘যদি হয়ে থাকে সেটি ভুল। আমার জানামতে, সংসদ সদস্য হিসেবে উনাকে কোথাও রাখা হয়নি।’

জানতে চাইলে সরোয়ার আলমগীর বলেন, ‘আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত এমপি। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আমার বিজয় ঠেকাতে সব রকম প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। আদালতে মামলাও করেছেন। যেহেতু আমি বেসরকারিভাবে নির্বাচিত এমপি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মনোনীত প্রার্থী; সুতরাং আমি সব কাজ করতেই পারি। মামলার বিষয়টি আদালত ফয়সালা করবেন।’

শপথের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আজ 
ঋণখেলাপির অভিযোগে মামলার নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই আসলাম চৌধুরী এবং সরোয়ার আলমগীর ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ এবং শপথ চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন। আসলাম চৌধুরীর আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান সমকালকে জানান, লিভ টু আপিলের অনুমতি দেওয়ার সময় আদালতে অন্তর্বর্তী আদেশ ছিল– যতক্ষণ পর্যন্ত আপিল শুনানি নিষ্পত্তি না হবে, ততদিন ফল প্রকাশ হবে না। সংশোধনী আবেদনে বলা হয়েছে, এই আদেশের কারণে নির্বাচিত হওয়ার পরও আসলাম চৌধুরী সংসদীয় এলাকার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে পারছেন না। আপিল শুনানি যদি বিলম্বিত হয়, তাহলে তিনি যেন শপথ নিয়ে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। এর ওপর গতকাল বুধবার শুনানি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার আদেশ দেওয়া হবে।

জামায়াত প্রার্থীর আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মনির সাংবাদিকদের বলেন, ‘আংশিক শুনানি হয়েছে। শুনানিতে বলেছি, মূল আপিলের নিষ্পত্তি না করে এ ধরনের আবেদন গ্রহণ করা হলে মূল আপিলের প্রয়োজনীয়তা থাকবে না।’

অনূর্ধ্ব-১৯ দলের মেন্টর মাহমুদউল্লাহ

জাতীয় দলের সাবেক বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাককে কয়েকদিন আগেই বিসিবি হাই-পারফরম্যান্স ইউনিটের (এইচপি) স্পিন বোলিং কোচ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এবার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের মেন্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার পাশাপাশি যুব দলের সঙ্গে মেন্টর হিসেবে কাজ করবেন জাতীয় দলের সাবেক এ অধিনায়ক।

বিসিবির একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে মাহমুদউল্লাহ নীতিগতভাবে অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলের মেন্টর হিসেবে কাজ করার ব্যাপারে। ২০২৮ সালের যুব বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তি হতে পারে মাহমুদউল্লাহর।