Home Blog Page 93

ঈদের পর রামিসা হত্যা মামলার বিচার শুরু: আইনমন্ত্রী

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ডিএনএ রিপোর্ট আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাওয়া গেলে পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে ঈদের পরপরই এ মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

আজ শনিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘আইনগত সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ: দায়িত্ব ও বাস্তবায়ন কৌশল’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের মামলায় ডিএনএ রিপোর্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ৭২ ঘণ্টার বেশি ডিএনএ রিপোর্ট তৈরি করতে সময় লাগার কথা নয়। সে ক্ষেত্রে দ্রুত সময়ের মধ্যে ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়া যাবে বলে আশা করি।’

তিনি বলেন, ডিএনএ রিপোর্ট ছাড়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করলে পরবর্তী সময়ে বিচার প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে। তাই ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরপরই পুলিশ চার্জশিট দাখিল করবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ঈদের আগেই চার্জশিট দেওয়া সম্ভব হবে।

মামলাটির বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার প্রত্যয় জানিয়ে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঈদের ছুটির পরপরই এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যার বিচার করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যত দ্রুত সম্ভব এই মামলার বিচার শেষ করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিচ্ছে। পুরো বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য রাখতে কাজ করা হচ্ছে। যাতে বিচার শেষে জনমনে কোনো ধরনের সংশয় বা প্রশ্ন না থাকে।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সরকারি আইনগত সহায়তা কেন্দ্রকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই। আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন। গরিব, অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে হবে।’

বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনজুরুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- আইন সচিব খাদেম উল কায়েস, লিগ্যাল এইডের উপ-পরিচালক মাসুদা ইয়াসমিন, সহকারী পরিচালক শাশ্বতী বিপ্লব প্রমুখ। মুক্ত আলোচনায় ব্লাস্ট, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, আইন সালিশ কেন্দ্র, ইউএনডিপিসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই সঙ্গে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সোহেল রানা।

এলপিএলে সাকিব ও তাসকিন, খেলবেন কোন দলে

আবারও প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরছেন সাকিব আল হাসান। লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) জাফনা কিংস দলের হয়ে খেলবেন তিনি। একই দলে খেলবেন আরেক অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন আহমেদ। শ্রীলঙ্কার এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে তাদের সরাসরি চুক্তিতে দলে নিয়েছে জাফনা কিংস।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেছে টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে ফিরছেন সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

এলপিএলের পক্ষ থেকে সাকিবের কার্ড–সংবলিত এক পোস্টে বলা হয়েছে, ‘টি-টুয়েন্টির অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান যোগ দিলেন জাফনা কিংসে। এলপিএল সামনে রেখে তাঁকে দলে নেওয়া হয়েছে। চাপের মুহূর্তে তাঁর অভিজ্ঞতা ও স্থিরতাই হয়ে ওঠে দলের বড় ভরসা।’

পৃথক পোস্টে তাসকিনকে দলে নেওয়ার কারণ ব্যাখা করে এলপিএল জানিয়েছে, ‘জাফনা পেস আক্রমণ যুক্ত করল আগুন ঝরানো শক্তি।’ কলম্বো স্ট্রাইকার্সের হয়ে ২০২৪ সালে খেলেছিলেন তাসকিন।

এর আগেও এলপিএলে খেলেছেন সাকিব। ২০২৩ সালের এলপিএলে গল টাইটানসের হয়ে ১০ ম্যাচে ব্যাট হাতে ১৩৮ রান করার পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছেন ১১ উইকেট। এলপিএলে পাঁচ আসরের চারবারই শিরোপা জেতে জাফনা। এবার বাংলাদেশি এই দুজন ছাড়াও সরাসরি চুক্তিতে দলটি নিয়েছে ভানুকা রাজাপাকসা ও দুনিথ ওয়েলালাগেকে।

গত দুই বছর বন্ধ থাকার পর এবার আবারও শুরু হতে যাচ্ছে এলপিএল। এবারের টুর্নামেন্ট শুরু হবে ১৭ জুলাই, চলবে ৮ আগস্ট পর্যন্ত। কলম্বোয় টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে সাকিবের জাফনা কিংস মুখোমুখি হবে গল মার্ভেলসের।

সাবিক আল হাসান সর্বশেষ স্বীকৃত টি-টুয়েন্টি খেলেছেন গত জানুয়ারিতে। তখন আইএলটি-টুয়েন্টিতে মুম্বাই এমিরেটসের হয়ে খেলেছিলেন এই অলরাউন্ডার।

ভারতের পর এবার পাকিস্তানে প্রকাশ্যে এলো ‘তেলাপোকা আওয়ামী লীগ’

ভারতে সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এবার সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানেও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে দেশটিতে বিভিন্ন সামাজিকমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে ‘তেলাপোকা আওয়ামী পার্টি’, ‘তেলাপোকা আওয়ামী লীগ’ ও ‘মুত্তাহিদা তেলাপোকা মুভমেন্ট’-এর মতো একাধিক ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক অ্যাকাউন্ট দেখা যাচ্ছে।

ভারতের তরুণদের হতাশা, বেকারত্ব ও রাজনৈতিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই ‘তেলাপোকা আন্দোলন’ এখন পাকিস্তানের অনলাইন রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

পাকিস্তানে তৈরি হওয়া এসব অ্যাকাউন্টের বায়ো ও রাজনৈতিক স্লোগান ভারতের মূল ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র ধাঁচেই তৈরি। ‘তেলাপোকা আওয়ামী পার্টি’ নামের একটি অ্যাকাউন্টের বায়োতে লেখা হয়েছে, তরুণদের রাজনৈতিক ফ্রন্ট, তরুণদের দ্বারা, পাকিস্তানের জন্য। আরেকটি অ্যাকাউন্টে লেখা হয়েছে, রাষ্ট্রব্যবস্থা যাদের তেলাপোকা ভেবেছে, আমরা সেই জনগণের কণ্ঠস্বর।

এসব পেজের লোগোও ভারতের ভাইরাল ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র সঙ্গে অনেকটাই মিল রয়েছে। তবে পাকিস্তানি সংস্করণগুলোতে সবুজ-সাদা রঙ ব্যবহার করা হয়েছে, যা দেশটির জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

কীভাবে শুরু হয়েছিল ভারতের ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’?

ভারতের ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। এর আগে তিনি ভারতের আম আদমি পার্টির (এএপি) রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ হিসেবেও কাজ করেছেন।

গত ১৬ মে এই ব্যঙ্গাত্মক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু হওয়ার পর কয়েক দিনের মধ্যেই এটি সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। দলটির নিজস্ব ওয়েবসাইট, ম্যানিফেস্টো ও সংগঠিত অনলাইন প্রচারণাও রয়েছে।

ভারতের প্রধান বিচারপতির মন্তব্য থেকে বিতর্ক

‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র জন্ম হয় ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। সুপ্রিম কোর্টের এক শুনানিতে তিনি বেকার তরুণ ও কিছু কর্মীকে ‘তেলাপোকা ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, কিছু তরুণ তেলাপোকার মতো। তাদের কোনো চাকরি নেই, পেশাতেও কোনো জায়গা নেই।

এই মন্তব্য সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। পরে সূর্য কান্ত ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি মূলত ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করে পেশায় প্রবেশকারীদের বোঝাতে চেয়েছিলেন। তবে এর মধ্যেই ‘তেলাপোকা’ প্রতীক ব্যবহার করে তরুণদের ক্ষোভ, বেকারত্ব, শিক্ষা সংকট ও রাজনৈতিক হতাশাকে ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় তুলে ধরতে শুরু করে সিজেপি।

যদিও এটি আনুষ্ঠানিক কোনো রাজনৈতিক দল নয়, তবুও ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ মাত্র এক সপ্তাহের কম সময়ে ইনস্টাগ্রামে দুই কোটিরও বেশি অনুসারী সংগ্রহ করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। মিম, রাজনৈতিক ব্যঙ্গ, অ্যানিমেশন ও তরুণদের ভাষায় তৈরি কনটেন্টের কারণে প্ল্যাটফর্মটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে বেকারত্ব, পরীক্ষা প্রশ্নফাঁস, শিক্ষা ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে তাদের পোস্ট তরুণদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

পাকিস্তানেও তরুণদের হতাশার প্রতিফলন?

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানে ‘তেলাপোকা’ ব্র্যান্ডের দ্রুত বিস্তার শুধু একটি অনলাইন ট্রেন্ড নয় বরং এটি দেশটির তরুণদের রাজনৈতিক হতাশা, অর্থনৈতিক সংকট ও প্রতিষ্ঠিত রাজনীতির প্রতি অনাস্থার প্রতিফলনও হতে পারে।

ভারতে যেমন ব্যঙ্গ ও মিমভিত্তিক ডিজিটাল আন্দোলন তরুণদের আকৃষ্ট করেছে, পাকিস্তানেও একই ধরনের অনলাইন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভাগ করতে নতুন আইন হচ্ছে

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব নীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব আহরণ আলাদা করতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশ নতুন করে যাচাই-বাছাই করছে বর্তমান সরকার। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর নেতৃত্বে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটি আগামীকাল শনিবার প্রথম বৈঠকে বসছে। যাচাই শেষে নতুন করে জাতীয় সংসদে নতুন বিল আকারে শিগগির উত্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। আগামী ৭ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনেই যাচাই-বাছাই শেষে নতুন বিল উত্থাপন করা হতে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ১২ মে ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে এনবিআরকে দুই ভাগে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। একটি বিভাগ রাজস্ব নীতি প্রণয়ন করবে এবং অন্যটি রাজস্ব প্রশাসন ও আদায় কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তবে অধ্যাদেশের কিছু কাঠামোগত বিষয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপত্তির মুখে প্রায় দুই মাস আন্দোলন চলে। পরে সরকার ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ দুটি তাৎক্ষণিকভাবে বিল আকারে উত্থাপন না করে আরও যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে চলমান ঋণ কর্মসূচির অন্যতম শর্ত হলো প্রতি বছর জিডিপির অন্তত দশমিক ৫ শতাংশ হারে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা। কিন্তু এখনও সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। এ কারণে রাজস্ব খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে এনবিআর বিলুপ্ত করে ‘রাজস্ব নীতি’ ও ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা’ নামে দুটি পৃথক বিভাগ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে এ সংস্কার বাস্তবায়নে ধীরগতির পাশাপাশি ব্যাংক খাতসহ অন্যান্য সংস্কারে অগ্রগতি না থাকায় আইএমএফ দুই কিস্তিতে প্রায় ১৩০ কোটি ডলার ঋণ ছাড় করেনি। একই সঙ্গে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আরও ঋণ সহায়তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

বৈঠকের জন্য প্রস্তুত করা অর্থ মন্ত্রণালয়ের কার্যপত্রে বলা হয়েছে, ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে গঠিত হওয়ার পর থেকেই এনবিআর একই সঙ্গে করনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কাজ করছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা অনুযায়ী একই প্রতিষ্ঠানের হাতে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকা কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয় না। এতে স্বার্থের সংঘাত, অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহির ঘাটতি তৈরি হয় বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে।

কার্যপত্রে আরও বলা হয়, করনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন একই প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকায় সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় রাজস্ব আহরণ এবং জনগণের প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিবকে এনবিআর চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করতে হওয়ায় তাঁকে রাজস্ব আহরণের চেয়ে নীতি প্রণয়নেই বেশি সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা গড়ে তোলাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

এতে বলা হয়, ২০০৮ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাজস্ব প্রশাসন ও রাজস্ব নীতি প্রণয়ন কার্যক্রম পৃথক করতে একটি আদেশ জারি করলেও তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। পরে ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর এনবিআরের দুই সাবেক চেয়ারম্যান ও তিন সাবেক সদস্যকে নিয়ে একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা, বিভিন্ন দলিল ও অংশীজনের মতামত পর্যালোচনা করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব প্রশাসন পৃথক করার সুপারিশ দেয়।

জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনেও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান হিসেবে একই কর্মকর্তার দ্বৈত দায়িত্ব আলাদা করার সুপারিশ করা হয়। কমিশন আয়কর, শুল্ক ও আবগারি এবং ভ্যাটের জন্য পৃথক অধিদপ্তর গঠনেরও পরামর্শ দেয়। এসব সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ রাজস্ব নীতি প্রণয়ন এবং নীতি বাস্তবায়নপূর্বক রাজস্ব আহরণ পৃথক করার বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেয়।

জানা গেছে, কমিটির সুপারিশে রাজস্ব নীতি বিভাগের সচিব নিয়োগের বিধানেও পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে অধ্যাদেশে বলা আছে, সরকার উপযুক্ত যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মকর্তাকে এ পদে নিয়োগ দিতে পারবে। তবে সংশোধনী প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সামষ্টিক অর্থনীতি, বাণিজ্য নীতি, পরিকল্পনা, রাজস্ব নীতি বা রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকেই এ পদে নিয়োগ দিতে হবে।

একইভাবে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব নিয়োগেও কঠোরতা আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। মূল অধ্যাদেশে রাজস্ব আহরণে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হলেও সংশোধনীতে বলা হয়েছে, রাজস্ব আহরণে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকেই এ পদে নিয়োগ দিতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নিয়োগ নিশ্চিত হবে।

কার্যপত্রে আরও বলা হয়েছে, নতুন দুটি বিভাগ সৃষ্টির জন্য অ্যালোকেশন অব বিজনেস, সাংগঠনিক কাঠামো ও প্রশাসনিক অনুমোদনের কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। এ কারণে অধ্যাদেশ কার্যকরের তারিখ পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছিল। তবে এ সংক্রান্ত রিট পিটিশন উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকায় কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও ঝুলে আছে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ গতকাল  গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিআরআই আয়োজিত এক সেমিনারে বলেন, একই সংস্থা যখন করনীতি নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করে, তখন সেখানে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়।

নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দেয়নি বিএনপিসহ ২৩টি দল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ৫০টি দলের মধ্যে ২৩টি নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি। এই তালিকায় রয়েছে ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট বেধে নির্বাচনে তৃতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাম। এসব দলকে এক মাস সময় বাড়িয়ে আগামী ১৩ জুন পর্যন্ত নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও জাতীয় পার্টিসহ নিবন্ধিত ৫০টি দল অংশ নেয়। ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের সরকারি ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হয়। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) বিধান অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে দলীয়ভাবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে হয়। গত ১৩ মে ছিল দলগুলোর হিসাব জমা দেওয়ার শেষ দিন। তবে ইসি আরও এক মাস সময় বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও আইনে বলা আছে।
ইসি সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময় পর্যন্ত জামায়াত ও জাতীয় পার্টিসহ ২৭ দল তাদের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়। বাকি ২৩ দল হিসাব জমা দেয়নি। সম্প্রতি ইসির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পর ১৩ জুন পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

যে ২৩টি দল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি, সেগুলো হচ্ছে- বিএনপি, এনসিপি, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল), গণতন্ত্রী পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণফোরাম, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি), নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি), ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, আমজনতার দল, বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (বিইপি) এবং বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি।
জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, যে দলগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচনে ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি, তাদের জন্য এক মাস সময় বাড়ানো হয়েছে। এরপরও তাদের কেউ জমা না দিলে আইনানুগভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জরিমানা হবে। ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিলে সংশ্লিষ্ট দলকে আরও ১৫ দিন সময় দেওয়া যাবে। তারপরও হিসাব না দিলে নিবন্ধন বাতিলের কথা বলা হয়েছে।

পল্লবীতে শিশু হত্যার বিচার শুরু ঈদের পর: আইনমন্ত্রী

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত পাওয়া গেলে ঈদের পরই মামলার বিচারকাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‌‘আমরা এমনভাবে এই মামলাটির বিচার অগ্রাধিকারভিত্তিতে শুরু করতে চাই যাতে কোনো প্রশ্ন না থাকে।’

আইনমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের মামলায় ডিএনএ রিপোর্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ৭২ ঘণ্টার বেশি ডিএনএ রিপোর্ট তৈরি করতে সময় লাগার কথা নয়। সেক্ষেত্রে দ্রুত সময়ের মধ্যে ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়া যাবে বলে আশা করেন তিনি।

শনিবার রাজধানীর মহাখালী ব্রাক সেন্টার অডিটরিয়ামে ‘আইনগত সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ দায়িত্ব ও বাস্তবায়ন কৌশল’ শীর্ষক মতবিনিময় কর্মশালায় এসব কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি নেত্রকোনায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্তার বিষয়টি সরকার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর এবং ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি এ কর্মশালার আয়োজন করে। বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনজুরুল হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আইন সচিব খাদেম উল কায়েস, লিগ্যাল এইডের উপ-পরিচালক মাসুদা ইয়াসমিন, সহকারী পরিচালক শাশ্বতী বিপ্লব প্রমুখ। মুক্ত আলোচনায় ব্লাস্ট, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, আইন সালিশ কেন্দ্র, ইউএনডিপিসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আমরা সরকারি আইনগত সহায়তা কেন্দ্রকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই। আমাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন। গরিব, অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে হবে।

তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী আইন নিয়ে কোনো বৈষম্য থাকলে সেটাকে আমরা বাদ দেওয়ার চেষ্টা করব। আমরা সমান্তরালভাবে কাজ করতে চাই।

দেশীয় প্রযুক্তির ইভি গাড়ি চালালেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর তেজগাঁও কার্যালয়ে আনা বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের তৈরি কয়েকটি ইভি গাড়ি শনিবার সকালে পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি একটি স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকল (এসইউভি) কার ও একটি কাভার্ড ভ্যান নিজে চালিয়ে দেখেন। প্রধানমন্ত্রী গাড়ি নির্মাতাদের প্রশংসা করেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান।

নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়, বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড দেশের প্রথম ইভি গাড়ি নির্মাতা। গাড়িগুলো সম্পূর্ণ ব্যাটারিচালিত ও পরিবেশবান্ধব। এতে জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হয় না এবং বিদ্যুৎ খরচও তুলনামূলক কম। একই সঙ্গে গাড়িগুলোর দামও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করেন, সব ধরনের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যদি ইভি গাড়ি উৎপাদন করা যায় এবং এর মাধ্যমে দেশ উপকৃত হয়, তাহলে সরকার সহযোগিতা করবে। প্রধানমন্ত্রীকে দেখানোর জন্য কার্যালয় প্রাঙ্গণে আনা হয় দুটি এসইউভি, একটি কাভার্ড ভ্যান, একটি ট্রাক, একটি অটোরিকশা এবং দুটি মোটরসাইকেল। আজ সকাল ১০টার দিকে কার্যালয়ে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী নিজ দপ্তরে প্রবেশের আগে গাড়িগুলো পরিদর্শন করেন।

প্রথমে তিনি একটি এসইউভি কার চালান। এ সময় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের একজন প্রতিনিধি তাঁর সঙ্গে ছিলেন এবং গাড়িটির বিভিন্ন প্রযুক্তিগত দিক তুলে ধরেন। পরে প্রধানমন্ত্রী একটি কাভার্ড ভ্যানও চালিয়ে দেখেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এ মান্নান হোসেন খান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মাসুদ কবিরকে নিয়ে নিজ দপ্তরে যান। সেখানে ইভি গাড়ির বাজারজাতকরণ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

নির্মাতাদের তথ্য অনুযায়ী, এসইউভি ধরনের একটি গাড়ি একবার চার্জে ৪৫০ কিলোমিটারের বেশি চলতে পারে। স্বাভাবিক চার্জে ব্যাটারি পূর্ণ হতে সময় লাগে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা, আর ফাস্ট চার্জিংয়ে লাগে আধা ঘণ্টা।

অন্যদিকে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান একবার চার্জে প্রায় ২০০ কিলোমিটার চলতে সক্ষম। এসব গাড়ির ব্যাটারি পূর্ণ চার্জ হতে সাধারণভাবে প্রায় ৬ ঘণ্টা এবং দ্রুত চার্জে প্রায় ৪০ মিনিট সময় লাগে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১৩ শিশুর প্রাণহানি

হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন করে আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে সারাদেশে আরও ১ হাজার ৯৬৭ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে।

আজ শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত হাম এবং হামের বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৫১২ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১৩ শিশুর মধ্যে একজনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছিল। বাকি ১২ শিশু হামের বিভিন্ন তীব্র উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। এই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সারা দেশে আরও এক হাজার ৯৬৭টি শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশালে হাম শনাক্ত হওয়া এক শিশু এবং হামের উপসর্গে আরও এক শিশুসহ মোট ২ জন; ঢাকায় হামের উপসর্গে ৪, সিলেটে ৪, চট্টগ্রামে ২ ও ময়মনসিংহে হামের উপসর্গে এক শিশু মারা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৪২৬টি শিশু। আর হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ৮৬টি শিশু। অর্থাৎ মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১২ জনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশজুড়ে মোট ৬২ হাজার ৫০৭ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে তীব্র জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে ৪৯ হাজার ৩৮৯ শিশুকে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর এ পর্যন্ত ৪৫ হাজার ১১টি শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে বাকি শিশুরা চিকিৎসাধীন।

চিকিৎসকরা শিশুদের সুরক্ষায় দ্রুত হামের টিকা নিশ্চিত করার এবং কোনো লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

রামিসা হত্যাকারীর প্রকাশ্যে ফাঁসি চাইলেন আমির হামজা

রাজধানীর পল্লবী‌তে আট বছ‌রের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ ক‌রে জ‌ড়িত‌দের প্রকা‌শ্যে ফাঁসি চেয়েছেন ইসলামী বক্তা কু‌ষ্টিয়া-৩ (সদর) আস‌নের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রাজশাহীর সিটি বাইপাস রোডে অনুষ্ঠিত এক তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

আমির হামজা বলেন, ‘দেশের যে আইন আছে, সেই আইনে রামিসা, আছিয়া, তানিয়ার বিচার হবে না। এই দেশে যদি সত্যিই ধর্ষণের বিচার করা লাগে তাহলে কোরআনে সুরা আন-নূরের আয়াতের আলোকে বিচার করা লাগবে। এই আয়াতটা সংসদে কার্যকর করে দেন। তাহলে বাংলাদেশের যুবকদের ধর্ষণ তো দূরের কথা স্বপ্নদোষও বন্ধ হয়ে যাবে।’

আমির হামজা বলেন, ‘এটা কোনো ওয়াজ মাহফিল, তফসিরুল মাহফিল না, সংসদে গলাবাজি করা না, কোনো মঞ্চে বক্তব্য, বিবৃতি কিংবা মানববন্ধন করা না। ধর্ষণ জীবনেও বন্ধ হবে না, যদি শরিয়তের আইন বাংলাদেশে কায়েম না করা যায়।’

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনারও একটা মেয়ে আছে। এই রামিসাকেও নিজের মেয়ের মতো মনে করেন তো? রামিসার জায়গায় যদি আপনার মেয়েটা হতো। তাহলে বাংলাদেশে কী অবস্থা হয়ে যেত এতক্ষণ? আমার মনে হয়, ধর্ষক যেখানেই থাকুক তাকে ধরে নিয়ে এসে ১৪ টুকরা করে ফেলতেন। আমিও বাবা। আমারও তিনটা মেয়ে আছে। রামিসার দিকে তাকালে আমার মেজো মেয়ের কথা মনে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ এত নিচে নামে কী করে। আপনি কোন রুচিতে পাঁচ-ছয় বছরের মেয়েকে ধর্ষণ করলেন, আবার মেরেও ফেললেন। মানুষ নামের এই জানোয়ার গুলোর বিচার শুধু জেল দিয়ে, জরিমানা দিয়ে হবে না। এদের প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া লাগবে।’

মিরসরাইয়ে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে বাবা খুন

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
১৬ মে ২০২৬, ০২:০০ পিএম
Image not found

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে বৃদ্ধ বাবার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে ইব্রাহীম হোসেন মিলনকে আটক করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ।

গতকাল শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে নিজ বাড়িতে মাদক সেবন নিয়ে বাবা আহমদ ডিলারের সঙ্গে মিলনের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মিলন লাঠি দিয়ে তার বাবাকে মারধর করে। এতে গুরুতর আহত হন আহমদ ডিলার। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করার আগেই ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

জানা গেছে, নিহত আহমদ ডিলার (৭০) উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের পূর্ব অলিনগর বিশ্বটিলা এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ইব্রাহীম হোসেন মিলন মাদকাসক্ত জীবনযাপন করছিল। এছাড়া বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সে ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

ঘটনার খবর পেয়ে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত ১২টার দিকে অভিযুক্ত মিলনকে আটক করে। একই সঙ্গে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল হালিম বলেন, ‘পিতাকে মারধর করে হত্যার অভিযোগে ছেলেকে আটক করা হয়েছে। অভিযুক্ত ছেলে মাদকাসক্ত। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে মিরপুর-১০ গোলচত্বর অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর গোলচত্বরে অবস্থান করে বিভিন্ন স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। এতে মিরপুর-১০ ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বিক্ষোভকারীরা ‘জাস্টিস ফর রামিসা’, ‘ফাঁসি চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের দাবি, শিশু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা বন্ধেরও আহ্বান জানান তারা।

গত ১৯শে মে রাজধানীর পল্লবী এলাকার একটি বাসা থেকে ৭ বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। পরে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রতিবেশী সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মামলার তদন্ত দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রামিসার বাসায় গিয়ে তার পরিবারকে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন।