Home Blog Page 98

নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দলের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দলের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা চেয়েছেন। দলের নেতাকর্মী‌দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দলের সমর্থন ও সমন্বয় ছাড়া সরকার সফল হতে পারবে না। তাই নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে করা সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জন্য আমাদের নতুন সংগ্রামে নামতে হবে।

শনিবার সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (কেআইবি) মিলনায়তনে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের একটি যুদ্ধ শেষ হয়েছে। এখন আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়েছে। সেটা হলো-আমরা মানুষকে যে কথা দিয়েছিলাম তার বাস্তবায়ন করা।

তিনি আরো বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আপনারা মাঠে ছিলেন। আমি বলেছিলাম নির্বাচন কিন্তু কঠিন হবে। আপনারা প্রত্যেকেই পরতে পরতে সেটা অনুভব করেছেন। মানুষ আমাদের দলের পক্ষে, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের পক্ষে সমর্থন দিয়েছে।

নির্বাচনের আগে দেওয়া ইশতেহার এখন জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত আমাদের দেওয়া ইশতেহার ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ম্যানিফেস্টো। নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পরে বিশেষ করে আমরা সরকার গঠন করার পরে এই ইশতেহারটি আমাদের সরকারের তথা বাংলাদেশের জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, ভোট দেওয়া দেশের ৫২ শতাংশ মানুষ মূলত আমাদের এই ম্যানিফেস্টোর পক্ষেই রায় দিয়েছেন। কাজেই এই ম্যানিফেস্টোতে যা যা বলেছিলাম আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে তা বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা মানুষকে বলেছিলাম যে আমরা সুশাসন দেবো। আমরা এমন একটি দেশ তৈরি করতে চাই যেখানে শিক্ষার্থীরা একটি সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ পাবে। নারী পুরুষ শিশু সবাই নিরাপদে রাস্তায় চলতে পারবে।

তিনি বলেন, আমরা যখন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছিলাম তখন বলেছিলাম যে, আমাদের উপরে যেরকম অত্যাচার নির্যাতন হচ্ছে, গুম খুনের শিকার হতে হচ্ছে তাতে আমরা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা চাই দেশে এমন একটি রাজনৈতিক পরিস্থিতি হোক যেখানে আমরা বিতর্ক করবো, স্বাধীনভাবে নিজেদের মত প্রকাশ করবো।

তারেক রহমান বলেন, আমরা বলি বর্তমান সরকার বিএনপি সরকার। অর্থাৎ সরকার ঠিকই আছে। কিন্তু বিএনপি সরকার। সেজন্য বিএনপি যদি সহযোগিতা না করে অনেক ক্ষেত্রেই সরকার সফল হতে পারবে না।

দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও এজেডএম জাহিদ হোসেনও এতে উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি এয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরে দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এটি প্রথম মতবিনিময় সভা।

শিক্ষাই হবে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের সেতুবন্ধন: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষাই হবে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের সেতুবন্ধন।

আজ শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর চায়না স্টাডিজ (সিসিএস) আয়োজিত ‘চায়না-বাংলাদেশ রাউন্ড টেবিল অন গভর্নেন্স এক্সপেরিয়েন্স এক্সচেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে সেতুবন্ধন আরও সুদৃঢ় করে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। সেই সেতুর মূল উপকরণ কী হবে, সেটাই হচ্ছে বড় কথা। এই সেতুবন্ধনের মূল উপকরণ কংক্রিট, সিমেন্ট বা রড নয়। বরং এই সেতুবন্ধনের মূল উপাদান হবে শিক্ষা।’

ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বাংলাদেশ ও চীনের সুসম্পর্কের কথাও উল্লেখ করে বলেন, ‘চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এ সম্পর্ক বিনির্মাণে জোর দিয়েছিলেন। এ সম্পর্ক আগামীর প্রত্যাশিত বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের শিক্ষা ক্ষেত্রের উন্নয়নে চীন আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। আমরা যদি এই জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরিত করতে পারি, তাহলে দেশকে আরও উন্নত পর্যায়ে নিতে সক্ষম হব।

এজন্য আমাদেরকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাখাতের ওপর অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের বর্তমান প্রজন্মকে দক্ষ ও বৈশ্বিক মানের মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা ও কারিগরি খাতে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং সিসিএস একাডেমিক বোর্ডের চেয়ারম্যান চেন ডংশিয়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) মহাপরিচালক আ স ম রিদওয়ানুর রহমান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

আইসিসির মাসসেরার লড়াইয়ে নাহিদ রানা

সাম্প্রতিক সময়ে ২২ গজে গতির আগুন ঝরাচ্ছেন পেসার নাহিদ রানা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিং করে সিরিজসেরার পুরস্কার জেতেন তিনি। তিন ম্যাচের সিরিজে ৮ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি দুর্দান্ত ইকোনমি রেট ধরে রাখেন। সেরা পারফরম্যান্স করেন কিউইদের বিপক্ষে মিরপুরের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে। সেদিন ৩২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং ধস নামিয়েছিলেন নাহিদ। তার বিধ্বংসী বোলিংয়ের ওপর ভর করেই বাংলাদেশ পেয়েছিল ৫৫ রানের দাপুটে জয়। পরে চট্টগ্রামে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচেও নিজের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে আরও দুটি উইকেট শিকার করেন তিনি।

সিরিজে তার কার্যকর বোলিং বাংলাদেশের ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ে বড় ভূমিকা রাখে। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে আইসিসির এপ্রিল মাসের সেরা ক্রিকেটারের মনোনয়ন পেয়েছেন নাহিদ। আজ এক বিবৃতিতে আইসিসি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আইসিসির মাসসেরা হওয়ার লড়াইয়ে নাহিদ রানার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন ওমানের জাতিন্দার সিং ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অজয় কুমার। আইসিসি ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ লিগ-২ এ ওমানের অধিনায়ক জাতিন্দার সিং ৫ ওয়ানডেতে ২৬৬ রান করেছেন। বিশেষ করে নেপালের বিপক্ষে তার ৯৬ বলে ১৩০ রানের ইনিংস খেলেছেন। অন্যদিকে, আরব আমিরাতের পেসার অজয় কুমার ২ ওয়ানডেতে ৯ উইকেট নিয়ে আলোচনায় এসেছেন। ওমানের বিপক্ষে ৩৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ওমানকে একাই গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

এদিকে নারী বিভাগে এপ্রিল মাসের সেরা ক্রিকেটারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন শ্রীলঙ্কার ইমেশা দুলানি, দক্ষিণ আফ্রিকার লরা উলভার্ট এবং ব্রাজিলের লরা কার্ডোসা। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে নজর কাড়েন দুলানি। ওয়ানডেতে ১১৬ রান এবং টি-টোয়েন্টিতে আরও ৮২ রান করে সিরিজসেরার পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি। অন্যদিকে ব্রাজিলের লরা কার্ডোসা সম্প্রতি এক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে ইতিহাস গড়ে আলোচনায় এসেছেন।

রবীন্দ্র জয়ন্তীতে মাকসুরা অন্তরার ‘দিলে আমারে জাগায়ে’

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আজ প্রকাশিত হচ্ছে রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী মাকসুরা অন্তরার প্রথম একক অ্যালবাম ‘দিলে আমারে জাগায়ে’।আজ সকাল ৯টায় বেঙ্গল ফাউন্ডেশন-এর ইউটিউব চ্যানেলে অ্যালবামটি উন্মুক্ত করা হয়।

আটটি ভিন্ন ধারার রবীন্দ্রসংগীত নিয়ে সাজানো এই অ্যালবামে কণ্ঠ দিয়েছেন মাকসুরা অন্তরা। গানগুলোর বাণী ও সুর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর। সংগীতায়োজন করেছেন অম্লান হালদার। এছাড়া তবলা, সেতার, সরোদ, বাঁশি ও বেহালায় অংশ নিয়েছেন কলকাতা ও ঢাকার একদল গুণী সংগীতশিল্পী।

অ্যালবামটির রেকর্ডিং হয়েছে কলকাতার রেনেসাঁ স্টুডিও এবং ঢাকার পটমঞ্জরী স্টুডিওতে। মিক্সিং ও মাস্টারিংয়ের দায়িত্বেও ছিলেন চন্দন ঘোষ।

শিল্পী মাকসুরা অন্তরার সংগীতজীবনের শুরু মাত্র সাত বছর বয়সে। মানিকগঞ্জের ‘সূচনা সংগীত বিদ্যানিকেতন’-এ দীর্ঘদিন শাস্ত্রীয় সংগীত, রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুলসংগীতে তালিম নেন তিনি। পরে ছায়ানট সংগীতবিদ্যায়তন-এ রবীন্দ্রসংগীতে শিক্ষা সম্পন্ন করেন কৃতিত্বের সঙ্গে।

বর্তমানে তিনি মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। পাশাপাশি ছায়ানট সংগীতবিদ্যায়তনের রবীন্দ্রসংগীত বিভাগেও শিক্ষকতা করছেন। এছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার-এর তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবেও নিয়মিত সংগীতচর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন।বাংলাদেশ সংবাদ আপডেট

রবীন্দ্রজয়ন্তীতে প্রকাশিত হতে যাওয়া এই অ্যালবামকে ঘিরে ইতোমধ্যেই সংগীতাঙ্গনে তৈরি হয়েছে আগ্রহ। সংশ্লিষ্টদের আশা, রবীন্দ্রসংগীতপ্রেমীদের কাছে ‘দিলে আমারে জাগায়ে’ হয়ে উঠবে এক বিশেষ উপহার।

রক্তচাপ কমাতে কোন বয়সে কতটা হাঁটা প্রয়োজন?

সুস্থ থাকতে চিকিৎসকেরা প্রতিদিন হাঁটার পরামর্শ দেন। এটি খুব সহজ শরীরচর্চা। হাঁটলে শরীর ভালো থাকে, রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় এবং হার্ট ভালো থাকে। কিন্তু কোন বয়সে কতটা হাঁটা উচিত তা ভেবেছেন কি?

ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেঁটেই উচ্চ রক্তচাপ কমানো যায়। তবে হাঁটতে হবে নিয়ম মেনে ও সময় ধরে। বয়স অনুপাতে হাঁটার সময়ও আলাদা। ১৮ বছরের তরুণ বা তরুণী যতটা হাঁটবেন, ষাট বছর বয়সীদের হাঁটার হিসাব ভিন্ন। কোন বয়সে কতটা হাঁটলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তার নির্দিষ্ট হিসাব আছে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা বলছে, ২০ থেকে ৪০ বছর বয়স যাদের, তারা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিন ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা হাঁটুন। শুরুটা হতে পারে ৩০ মিনিট দিয়ে, ধীরে ধীরে ৪৫ মিনিট ও তারপর ১ ঘণ্টায় পৌঁছোবেন। দিনে ১০ হাজার পা হাঁটতেই হবে এমন কড়া নিয়ম নেই।

যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা নেই, তাদেরও (১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সীরা) ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা হাঁটা উচিত। বয়স কম হলে ব্রিস্ক ওয়াকিং বা দ্রুতগতিতে হাঁটা ভালো। তবে ইন্টারভাল ওয়াকিংও ভালো। বিশেষ করে ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সে ইন্টারভাল ওয়াকিং বেশি উপকারী। শুরুটা দ্রুত গতিতে করে তারপর খানিক বিশ্রাম নিয়ে আবার হাঁটতে হবে।

৪০+ থেকে ৬০ বছর বয়সে দিনে ৩০ মিনিট থেকে ৪৫ মিনিট হাঁটা ভালো। মাঝারি থেকে দ্রুত গতিতে হাঁটতে পারেন। চাইলে কেউ ৪৫ মিনিটও হাঁটতে পারেন। নির্ভর করবে শারীরিক সক্ষমতার উপর। কারণ, এই বয়সে অনেকেরই হাড় দুর্বল হতে শুরু করে, গোড়ালি, হাঁটুতে ব্যথা শুরু হয়। তাই শরীর বুঝে হাঁটার সময় নির্ধারণ করতে হবে।

ষাটের উপরে বয়স হলে দিনে ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটলেও হবে। সে ক্ষেত্রে হাঁটার গতি ধীরে হতে হবে। খুব দ্রুত গতিতে হাঁটা যাবে না।

খেলাপি ঋণ পুনঃতপশিলের সময় আরেক দফা বাড়ল

নামমাত্র ডাউনপেমেন্ট দিয়ে খেলাপি ঋণ পুনঃতপশিলের মেয়াদ আরেক দফা বাড়াল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে আগামী জুন পর্যন্ত দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরের জন্য ঋণ পুনঃতপশিল করা যাবে। এর আগে বিশেষ পুনঃতপশিলের মাধ্যমে গত বছরের শেষ তিন মাসে ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ কম দেখানো হয়। এভাবে খেলাপি ঋণ কম দেখানোর পুরোনো সংস্কৃতিতে ফেরা নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই আরেক দফা বাড়ানো হলো। গতকাল বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে সব ব্যাংকে পাঠানো হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক এ সার্কুলারের মাধ্যমে সময় বাড়ানোর পাশাপাশি এককালীন এক্সিট সুবিধা পাওয়া প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে ঋণ নেওয়ার সুযোগ রেখেছে। আগের নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, এককালীন এক্সিট সুবিধা পাওয়া ঋণ সম্পূর্ণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনূকূলে কোনো ঋণ সুবিধা দেওয়া যাবে না। গতকালের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে বিদ্যমান ঋণ সুবিধা ছাড়া কোনো নতুন ঋণ সুবিধা দেওয়া যাবে না। ফলে এ ধরনের সুবিধা পাওয়া প্রতিষ্ঠান অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবে।
গতকালের সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত অশ্রেণীকৃত এবং মার্চ পর্যন্ত বিরূপ মানে খেলাপি হওয়া ঋণে বিশেষ পুনঃতপশিল সুবিধা দেওয়া যাবে। আবেদন নেওয়ার পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে হবে। ডাউনপেমেন্টের অর্থ নগদায়নের আগ পর্যন্ত নীতি-সহায়তার আবেদন কার্যকর করা যাবে না। আর নীতি-সহায়তার জন্য গঠিত বাছাই কমিটির মাধ্যমে ইতোমধ্যে বিশেষ সুবিধা পাওয়া প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনঃতপশিল করা যাবে না।

বিশেষ সুবিধায় খেলাপি ঋণ পুনঃতপশিল বা পুনর্গঠনের জন্য গত বছরের জানুয়ারিতে প্রথমে একটি কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই কমিটির কাছে প্রায় ১ হাজার ২০০ আবেদন জমা পড়ে। সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না করে কমিটির মাধ্যমে বিশেষ সুবিধা দেওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। ওই কমিটিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাইরের প্রতিনিধিও ছিলেন। যাদের একজন আবার ঋণখেলাপি হিসেবে বিশেষ সুবিধা নেন। এ ছাড়া পুনঃতপশিল সুবিধা পাইয়ে দিতে কমিটির একজন সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের পর বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করে। প্রথম দফায় গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বরের নির্দেশনায় বলা হয়, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত খেলাপি ঋণে বিশেষ সুবিধার জন্য আবেদন করা যাবে। এর পর গত বছরের ২৪ নভেম্বর অপর এক সার্কুলারের মাধ্যমে ওই বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণ পুনঃতপশিল, পুনর্গঠন ও এককালীন এক্সিটের জন্য আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়। এখন আবার সময় বাড়ানো হলো।

অর্থনীতির প্রধান তিন খাতে সম্প্রসারণ, নির্মাণে অবনতি এপ্রিলের পিএমআই

অর্থনীতিতে সম্প্রসারণের গতি কিছুটা বেড়েছে। গত এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের সার্বিক পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) স্কোর মার্চের তুলনায় ১ দশমিক ১ পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে ৫৪ দশমিক ৬। এই উন্নতির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল কৃষি খাতের ভালো অগ্রগতি। একই সময়ে শিল্প খাত আবারও সম্প্রসারণে ফিরে এসেছে। তবে সেবা খাতে সম্প্রসারণের গতি ধীর হয়েছে।  নির্মাণ খাতে সংকোচন আরও বেড়েছে।
মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ঢাকা ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি) প্রকাশিত পিএমআই সম্পর্কিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনটি গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়।

উল্লেখ্য, পিএমআই ১০০ নম্বরের মধ্যে পরিমাপ করা হয়। স্কোর ৫০-এর বেশি হলে অর্থনীতির সম্প্রসারণ হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। ৫০-এর নিচে হলে সংকোচন বোঝায়। আর স্কোর ৫০ থাকার অর্থ ওই মাসে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
এমসিসিআই ও পিইবির প্রতিবেদন বলছে,  কৃষি খাত টানা আট মাস ধরে সম্প্রসারণে রয়েছে। এমনকি এ খাতের সম্প্রসারণের গতি আগের চেয়ে বেড়েছে। শিল্প খাত আগের মাসের সংকোচন কাটিয়ে আবার সম্প্রসারণে ফিরে এসেছে। নির্মাণ খাত টানা তৃতীয় মাস সংকোচনে রয়েছে এবং এই সংকোচনের গতি আরও বেড়েছে। সেবা খাত টানা ১৯ মাস ধরে সম্প্রসারণ আছে। তবে গত মাসে সম্প্রসারণের গতি কমেছে। ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সূচক অনুযায়ী কৃষি, শিল্প, নির্মাণ ও সেবাসহ সব প্রধান খাতে আরও দ্রুত সম্প্রসারণের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, যা ব্যবসায়িক আস্থার ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।

রাজনীতিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার বার্তা পেলেন ডিসিরা

দেশে চলমান সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিলেমিশে এবং সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা। চার দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন শেষে এমন বার্তা নিয়ে কর্মস্থলে ফিরছেন তারা। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার পরামর্শও পেয়েছেন ডিসিরা।

বিএনপির সরকার গঠনের পর এটি ছিল প্রথম ডিসি সম্মেলন। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি ত্বরান্বিত করা, প্রশাসনকে আরও কার্যকর, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ ছাড়া জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাদক, কিশোর গ্যাং ও মব সন্ত্রাস দমনে প্রশাসনকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায় বাড়াতে মাঠ প্রশাসনের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করা হয়।

ডিসি সম্মেলন শুরু হয় গত ৩ মে। চার দিনের সম্মেলনে ২৮টি কর্ম-অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দিন সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়াও রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম ও প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তারা।

গতকাল বুধবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন ডিসিরা। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভা অনুষ্ঠিত হয়। শেষ দিন সম্মেলনের প্রতিক্রিয়া ও মূল্যায়ন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এবারের সম্মেলনে জেলা প্রশাসকরা ৪৯৮টি প্রস্তাব পেশ করেন। এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পৃথক কর্ম-অধিবেশনগুলোয় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা, জ্যেষ্ঠ সচিব, সচিব ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

সম্মেলনের প্রথম দিন রাজনীতিকদের সমন্বয়ে জেলা পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি বৈঠক নিয়মিত করার তাগিদ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। এ বৈঠকের মূল লক্ষ্য মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়; মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির মাধ্যমে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। সম্মেলনে ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনাররা গত কয়েক বছরের মতো এবারও বিচারিক ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার আবেদন করেন। তবে এ প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান। ফলে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।

মাঠ প্রশাসনে ভালোভাবে কাজ করতে ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে– প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার তাগিদ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণপূর্বক প্রতিরোধ ও দমনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ। অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা পরিহার করে দ্রুত, বাস্তবসম্মত ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়। সব উন্নয়ন প্রকল্প নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়ন নিশ্চিত এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে গুণগত মান নিশ্চিতকল্পে কার্যকর তদারকি জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে অনুসরণ করতে হবে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে সততা, মেধা ও দক্ষতাকে। শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, প্রশাসন ও নির্বাচিত সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করে কীভাবে কার্যকর এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়েও অধিবেশনে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসকদের কাছে আমরা একটি জিনিস চেয়েছি– দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে তারা যেন নজরদারি বাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখেন।

ওই দিন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন অনেকাংশেই নির্ভর করে ডিসিদের কার্যকর ভূমিকার ওপর। সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকরা সরাসরি মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় তারা নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন, যা সম্মেলনে তুলে ধরা হয়েছে। তাদের সমস্যা, প্রত্যাশা ও প্রস্তাবনা শুনে সমাধানের উপায় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

সম্মেলনের তৃতীয় দিন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে নেওয়া সরকারি সিদ্ধান্ত মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করেন ডিসিরা। এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নে তাদের উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া সমকালকে বলেন, জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ডিসিরা মিলেমিশে কাজ করলে সব সমস্যা সহজেই সমাধান করা যাবে। এবার যে ডিসি-এসপিদের সমন্বয়ে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি বৈঠক প্রতি মাসে হওয়ার কথা বলা হয়েছে, এটা ভালো উদ্যোগ। এতে বিচারপ্রার্থী জনগণ যেসব সমস্যার মুখোমুখি হয়, সেগুলো ওঠে আসবে। সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাবে।

তিনি আরও বলেন, জেলা পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি বৈঠক হলো মামলা-মোকদ্দমার বিষয়। এখানে রাজনীতিবিদদের অন্তর্ভুক্ত করলে তদন্তে প্রভাব পড়তে পারে। এই বৈঠকে বাইরের লোক যুক্ত না করাই ভালো।

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তৎপর হওয়ার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
সম্মেলনের শেষ দিন অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জেলা প্রশাসকদের আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় ইস্যু করা প্রায় ১০ হাজার লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র এখনও জমা পড়েনি। সেসব অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করার জন্য ডিসিদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ডিসি সম্মেলনের শেষ দিনের তৃতীয় অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর লাইসেন্স করা অস্ত্র জমা দেওয়ার যে নির্দিষ্ট সময়সীমা ছিল, তা পার হওয়ার পরও একটি বড় অংশের অস্ত্র এখনও মাঠ পর্যায়ে রয়ে গেছে। এই অস্ত্রগুলো উদ্ধার করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রয়োজনে মামলা করার জন্য মাঠ প্রশাসনকে তৎপর হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের নেওয়া কার্যক্রম বাস্তবায়ন
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, মন্ত্রণালয়ের নেওয়া কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবেন ডিসিরা। সে ব্যাপারে তাদের পূর্ণ উদ্যমে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

গতকাল মন্ত্রী বলেন, আমাদের জেলা পরিষদ অতটা সক্রিয় বা শক্তিশালী নয়। আমাদের মূল চাবিকাঠি এখনও জেলা প্রশাসক। তাই তাদের সঙ্গে এমন একটা সংযোগ দরকার, যাতে আমরা যে কার্যক্রম হাতে নিই, তা সহজেই বাস্তবায়ন করা যায়।

গণমাধ্যমকে ডিজিটাল বাস্তবতার উপযোগী করতে হবে 
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যমের সমস্যাটা অনেক ব্যাপক। এটি একটি পুরোনো অ্যানালগ জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, যাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে গতকাল তিনি জেলা প্রশাসকদেরও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, অনলাইন ও ডিজিটাল গণমাধ্যমের দ্রুত বিকাশের কারণে সাংবাদিকতায় সুস্পষ্ট নীতিমালা ও আচরণবিধি প্রয়োজন।

দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদকের সহযোগিতার আহ্বান
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ জেলা পর্যায়ে সবখানে দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রচারাভিযানের জন্য ডিসিদের  সহযোগিতা চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সম্মেলনের শেষ দিনে ডিসিদের সঙ্গে অধিবেশন শেষে দুদকের সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

তিনি বলেন, দুদকের বর্তমান কাঠামোতে আমরা যে কাজগুলো করছি, সে সম্পর্কে জেলা প্রশাসকদের ধারণা দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি প্রতিরোধমূলক যে কাজগুলো আছে, সেখানে জেলা প্রশাসকদের ভূমিকা রয়েছে।

পশুর হাট বিএনপি নেতাদের প্রভাবে ইজারা মূল্য কমছে ছয় জেলার ৮ হাট ইজারা। ৬টিতে রাজস্ব কমেছে ৬ কোটি ৮২ লাখ টাকা। দুটিতে বেড়েছে এক কোটি ৭৩ লাখ টাকা

দরপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের প্রভাবের কারণে এ বছর পশুর হাট ইজারায় রাজস্ব কমছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর এক-তৃতীয়াংশ মূল্যে হাট ইজারা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। দেশের চারটি মহানগর ও দুটি জেলার আটটি হাটের ইজারা পর্যালোচনা করে এ চিত্র পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, ছয়টি হাটে রাজস্ব গতবারের তুলনায় কমেছে। দুটি হাটে রাজস্ব কিছুটা বেড়েছে।

যে ছয়টি হাটে রাজস্ব গতবারের চেয়ে কমেছে, সেগুলো হলো– চট্টগ্রামের সাগরিকা, রাজশাহী সিটি হাট ও বানেশ্বর, টঙ্গী পশুর হাট, খুলনার তেরখাদার ইখড়ি ও মানিকগঞ্জের আরিচা পশুর হাট। এসব হাটে গতবারের চেয়ে রাজস্ব কমেছে ৬ কোটি ৮২ লাখ টাকার বেশি। আর চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনাইচণ্ডী ও তক্তিপুর হাটে রাজস্ব বেড়েছে এক কোটি ৭৩ লাখ টাকার বেশি।

ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের মধ্যেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিহিত: মাহফুজ আনাম

দেশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা যথেষ্ট হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম। ‘সাংবাদিকরা যেন নৈতিকতার ভিত্তিতে ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম করেন, ইনস্টিটিউশনগুলোকে দায়বদ্ধ রাখেন এবং পাবলিক ফান্ডের খরচগুলোকে ট্রান্সপারেন্ট করেন। ইলেকটেড গভর্ন্যান্স ভার্সেস ইন্ডিপেন্ডেন্ট জার্নালিজম— এটি একে অপরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আমরা আশা করি, এটি বিকশিত হবে। ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের মধ্যেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিহিত।’ শুক্রবার রাজধানীর র‌্যাডিশন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যথেষ্ট অতীতে হয় নাই এবং আগামীতে হবে কিনা সেটার একটা মূল, বলতে পারেন যে প্রি-কন্ডিশন হচ্ছে রোল অফ এডিটর। সেখানে একজন এডিটরের সেই নৈতিকতা আছে কিনা, তার সেই সাহস আছে কিনা, তার সেই পেশাগত রেপুটেশন আছে কিনা। রাইজ অফ এডিটোরিয়াল ইনস্টিটিউশন ইজ ইন্ডিপেন্ডেন্ট জার্নালিজম। ইন্ডিপেন্ডেন্ট জার্নালিজম ইজ প্রি-কন্ডিশন ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম।’

দেশে যে সমস্ত দুর্নীতি হয়েছে, এনভায়রনমেন্টাল ডিগ্রেডেশন হয়েছে, এমনকি বিভিন্ন বিষয়ে দুর্নীতির বিষয়ে যে সমস্ত পাবলিক ডিবেট হয়েছে- তার জন্য অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা কিন্তু ক্রেডিট নিতেই পারেন। মিডিয়া ক্রেডিট নিতেই পারে। তারা সেই ডিবেট তৈরি করেছে বা গতি বাড়িয়েছে। সে সমস্ত ডিবেটে অনিয়মের, দুর্নীতির— আপনার পত্রিকাও ক্রেডিট নিতে পারে কিছু। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে যে, ক্ষমতায় যারা থাকে তাদের প্রতি এই অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা যতটা প্রশ্ন করা উচিত ততটা কি হচ্ছে? কনফারেন্স এই প্রশ্নে মাহফুজ আনাম আরও বলেন, ‘রিপোর্টার যখন ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম করবে, প্রথমে একটা বিষয় আসবে যে, যারা করাপশন করছে তাদের কে এক্সপোজ করবেন। এই করাপশনের অনেক সোর্স হচ্ছে বিজ্ঞাপন, অনেক সোর্স হচ্ছে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তাদের প্রেসার আসবে। সেই প্রেসারটা কে সহ্য করবে? এডিটর। ইন মাই ভিউ, ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম, রোল অফ এডিটর বিকামস প্রিন্সিপাল। আনফরচুনেটলি, আওয়ার এডিটরস আর নট রাইজিং টু দ্যাট কন্ডিশন। আমি একটি কলাম লিখেছিলাম যে, এডিটর শুড নট বি পিআরও অফ ওনার। ওনার ডেফিনেটলি— দেয়ার শুড বি আ ডিস্টিংশন বিটুইন রোল অফ ওনার অফ মিডিয়া ইনস্টিটিউশন অ্যান্ড রোল অফ এডিটর।’

দেশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা যথেষ্ট হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে আনফরচুনেটলি এডিটোরিয়াল ইনস্টিটিউশনটা গড়ে ওঠে নাই। আগে আমরা অনেক বিখ্যাত সম্পাদকের নাম জানি— আবদুস সালাম, তারপরে অনেক নাম মনে পড়ছে এই মুহূর্তে, পাওয়ারফুল এডিটর। আলটিমেটলি হচ্ছে পলিটিসাইজেশন অফ মিডিয়া। আমরা যারা সাংবাদিকতা করি, আমরা পেশাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছি না বলে আমার ধারণা। আমরা খুব সহজেই সাংবাদিকতা করতে করতে রাজনীতির মধ্যে ঢুকে যাই। আমরা দেখেছি যে, একটা রিজিম যখন থাকে, তখন একদল সাংবাদিক সেই রিজিমের যারা পক্ষে তারা বেশ নেতৃত্বের মধ্যে থাকে। আর অন্যদলের সাংবাদিকরা চুপি চুপি ঘুরে বেড়ায়, তাদের অস্তিত্বই প্রশ্নে থাকে। আবার রিজিম যখন বদলায়, তখন সাংবাদিকদের নেতৃত্ব বদলে যায়। এটা হয়, ওটা হয়।’

ডেইলি স্টার সম্পাদক বলেন, ‘ফান্ডামেন্টাল প্রিন্সিপল অফ ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম ইজ রোল অফ এডিটর, এথিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড অফ ইনস্টিটিউশন এবং সাংবাদিকদের নিজেদের পেশার প্রতি আনুগত্য ও ডিভোশন। আমি এটা মনে করি প্রি-কন্ডিশন। আমি আজকে ৩৫ বছর ধরে ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর সঙ্গে আছি। আমি অনেক উত্থান-পতন দেখেছি। আমি দেখেছি রাজনৈতিক ক্ষমতায় কে আসছেন বা কে পেছনে পড়ে গেছেন এবং পলিটিক্যাল পাওয়ার পরিবর্তনের সাথে সাংবাদিকতার ইমপ্যাক্টও দেখেছি।’

মাহফুজ আনাম বলেন, আজকে দেশের সামনে ফান্ডামেন্টাল ইস্যু হচ্ছে— আমাদের যদি প্রগ্রেস করতে হয়, তবে মিসইউজ অফ পাওয়ার, করাপশন এবং পাবলিক ফান্ডের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে লড়তে হবে। বাংলাদেশের প্রগ্রেস নির্ভর করে গভর্ন্যান্স, অ্যাকাউন্টেবিলিটি ও ট্রান্সপারেন্সির ওপর। আর সেই প্রত্যাশাটি ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের ওপর ভিত্তি করেই তৈরি হয়। ক্ষমতাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনাই হলো অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মূল কাজ। এটি গভর্ন্যান্স প্রসেসে ট্রান্সপারেন্সি নিশ্চিত করে। শুধুমাত্র অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাই আমাদের সমাজে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারে।

এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এই অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি গণতান্ত্রিক বিকাশের প্রাণকেন্দ্র। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে এটা অত্যন্ত জরুরিভাবে প্রয়োজন। আমরা অনেক রিজিম চেঞ্জ এবং উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে এখন এক জায়গায় এসেছি। আমাদের এখন ক্ষমতায় একটি নির্বাচিত সরকার আছে, পার্লামেন্ট আছে। আমরা আশা করব যে, এই নতুন পার্লামেন্ট এবং নতুন সরকার অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিখবেন। বিগত সরকারগুলোর পতন এবং দুর্বলতার অন্যতম কারণ ছিল তারা স্বাধীন মিডিয়াকে বিকশিত হতে দেয় নাই। কারণ স্বাধীন মিডিয়া প্রশ্ন তোলে, অ্যাকাউন্টেবিলিটি যাচাই করে এবং তাদের এক্সপোজ করে।’

তিনি বলেন, ‘নতুন সরকারের বোঝা উচিত তাদের সাফল্যের জন্যই স্বাধীন সাংবাদিকতা প্রয়োজন। একজন নির্বাচিত সরকার যার জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা আছে, তাদের মানসিকতা আরও দৃঢ় হতে পারে যদি তারা স্বাধীন সাংবাদিকতাকে বিকশিত হতে দেন। সাংবাদিকরা যেন নৈতিকতার ভিত্তিতে ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম করেন, ইনস্টিটিউশনগুলোকে দায়বদ্ধ রাখেন এবং পাবলিক ফান্ডের খরচগুলোকে ট্রান্সপারেন্ট করেন। ইলেকটেড গভর্ন্যান্স ভার্সেস ইন্ডিপেন্ডেন্ট জার্নালিজম— এটি একে অপরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আমরা আশা করি, এটি বিকশিত হবে। মোট কথা, ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের মধ্যেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিহিত।

তাহলে আপনি মনে করছেন সমস্যা দুই তরফেই। এক হচ্ছে এক্সটারনাল প্রেসার আছেই, সেই সাথে সম্পাদকদের যে সাহস দরকার সেটাও তারা ঠিকমতো দেখাতে পারছেন না- এই প্রশ্নে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘দেখাতে পারছেন না একটা কারণ হচ্ছে— তারা কি সততার অনেক উপরে আছেন? এডিটররা নির্ভর করেন সমাজ কতটা ট্রান্সপারেন্ট তার ওপর। মিডিয়াকে অ্যাকাউন্টেবল হতে হলে এডিটর ইম্পর্টেন্ট এবং এডিটরের এথিকস ইম্পর্টেন্ট। আমি এখানে জাফর আব্বাসকে উদাহরণ হিসেবে আনতে পারি। বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের ভেতরে অনেক আইডেন্টিক্যাল এলিমেন্ট আছে।