তানজিদ হাসান তামিমের মাথায় টেস্ট ক্যাপ পরিয়ে দেওয়া ব্যাটার দেশের ক্রিকেটের আইকন। তার নামের পাশে ১০২ টি টেস্ট ম্যাচ লেখা হয়েছে আজ। সেই কিংবদন্তি মুশফিকুর রহিমের কাছ থেকে টেস্ট ক্যাপ পাওয়া একজন ব্যাটারের জন্য দারুণ ব্যাপার। এই খুশিতে হলেও নবাগতর ভালো কিছু করার কথা। অভিষেকে সেটা তিনি পারেননি। লেগে থাকলে হয়তো পারবেন। যেমন লেগে রয়েছেন মুশফিক সেই ২০০৫ সাল থেকে।
অভিষিক্ত তানজিদ ৩৪ বলে ২৬ রান করেন। তিনটি বাউন্ডারি মেরেছেন তিনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে কিছুটা বাধ্য হয়েই তাকে খেলিয়েছে দল। সাদমান ইসলাম চোট না পেলে ওপেনিং জুটিতে পরিবর্তন করা হতো না। এই পরিবর্তনে টেস্টের ওপেনিং জুটি আবারও কিছুটা অনভিজ্ঞ হলো। তবে তানজিদকে দেখে নেওয়ার সুযোগও এসেছে।
২৫টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলা তানজিদকে টেস্ট দলে নেওয়ার কারণ আক্রমণাত্মক ব্যাটিং। তার ওপর তামিম ইকবালের ছায়া দেখতে পায় কোচিং স্টাফ। এ কারণে টেস্ট দলে নেওয়া। যদিও প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার বলেছিলেন, বাঁহাতি এ ব্যাটারকে কিছুটা সময় দিয়ে খেলাতে চেয়েছিলেন। তিনি যাতে নিজেকে লাল বলের ক্রিকেটের সঙ্গে মানসিক সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে নিয়ে খেলতে পারেন।
তামিম ইকবাল-ইমরুল কায়েসের পর টেস্টে ‘সেটেলড’ ওপেনিং জুটি পায়নি বাংলাদেশ। সাদমান ইসলাম, মাহমুদুল হাসান জয়, জাকির হাসানের মধ্যেই লড়াই চলছিল। এই তালিকায় যোগ হলেন তানজিদ। মুমিনুল হক এক আড্ডায় বলেছিলেন, এক বছর ধরে তানজিদকে টেস্ট দলে নেওয়ার আলোচনা ছিল। এই সুযোগ তানজিদের কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি হলেও তার দায়িত্বও বেড়ে গেলো। তিন সংস্করণে খেলার জন্য অনেক ফিট থাকতে হবে তাকে। যাপিত জীবনে শৃঙ্খলা থাকতে হবে চোট মুক্ত থাকার জন্য।
বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটারের তালিকায় ১০৯ নম্বর নাম তানজিদ হাসান। তার আগের নামটি বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদ। এক সিরিজ আগেই অভিষেক হয়েছে তার। অভিষেকে ভালোও করেছিলেন। বোলিং ইউনিট সাজাতে গিয়ে ১৫ জনে জায়গা হয়নি তার। ব্যাটিং কিভাগ কিছুটা আলাদা। ওপেনিং জায়গাটি বেশি নিরাপদ। একটু ভালো করলেই ক্যারিয়ার বড় করার সুযোগ। কারণ তামিম, ইমরুলের পর জাতীয় দল ভালো মানের ওপেনার পায়নি দল। সাদা বলের মতো লাল বলের ক্রিকেটেও তানজিদ থিতু হয়ে গেলে মাহমুদুল হাসান জয়ের জায়গা নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে। তাতে লাভ বেশি। ক্রিকেটারদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়বে। স্বাস্থ্যকর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে সবার জন্যই লাভ। দলে জায়গা ধরে রাখতে বড় ইনিংস খেলার চেষ্টা থাকবে সবার।
তবে তানজিদকে নিয়ে একটা শংকা করা হচ্ছে- আক্রমণাত্মক ব্যাটার হওয়ায় টেস্টে ধারাবাহিক হওয়া কঠিন। কারণ টেস্টে সেট হওয়ার জন্য মানসিক ধৈর্য্যের ব্যাপার থাকে। বোলার একই চ্যানেলে বল করেন। শট খেলার নেশা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে আউট হওয়ার ঝুঁকি থাকবে বেশি। অভিষেক ইনিংস বড় না হওয়ার পেছনে শট খেলার লোভ কাজ করেছে। শূন্য রাতে ওপেনিং জুটি ভাঙার পর বড় ইনিংসের চিন্তা করতে হতো তাকে। সেটা না করে স্বভাবসুলভ ব্যাটিং করতে গিয়ে দ্রুত আউট হয়েছেন।




