বিশ্বকাপের মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্নই দেখেন সব ফুটবলার। কেউ এই পরম সুযোগের জন্য বছরের পর বছর চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকেন, আবার সুযোগ না পেয়ে কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন। অথচ তিউনিসিয়ার ১৯ বছর বয়সী উদীয়মান স্ট্রাইকার লুয়ি বেন ফারহাতের ক্ষেত্রে ঘটল এক অদ্ভুত ঘটনা। বাবার একটিমাত্র ফোনকলের কারণে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড থেকে বাদ পড়তে হলো এই তরুণ তুর্কিকে!
তিউনিসিয়া ফুটবলের ভবিষ্যৎ তারকা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল বেন ফারহাতকে। বিশ্বকাপের আগে তিউনিসিয়ার কোচ সাবরি লামুচির মূল পরিকল্পনা জুড়েই ছিলেন এই তরুণ। ধারণা করা হচ্ছিল, শুধু ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দলেই নয়, বরং বিশ্বকাপের মূল একাদশেও দেখা যেতে পারত তাকে।
কিন্তু তিউনিসিয়ার চূড়ান্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণায় নাম ছিল না এই তরুণ স্ট্রাইকারের। সংবাদ সম্মেলনে স্বাভাবিকভাবেই কোচের দিকে ধেয়ে যায় ফারহাতের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন। আর তখনই কোচ লামুচি ফাঁস করে বলেন, ‘আজ সকালে হুট করেই ফারহাতের বাবার কাছ থেকে একটি ফোনকল পাই। তিনি আমাকে সাফ জানিয়ে দেন, এখনই তাঁ ছেলেকে বিশ্বকাপে নেওয়া খুব তাড়াহুড়ো হয়ে যাবে। এত অল্প বয়সে তিনি তার ছেলেকে বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের চাপ ও স্পটলাইটে খেলাতে রাজি নন।’
কোচ আরও যোগ করেন, এই ফোন পাওয়ার পর তিনি নিজে বেন ফারহাতের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ওই ফুটবলারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। পুরো বিষয়টিকে জাতীয় দলের প্রতি ‘অসম্মানজনক’ বলেও মন্তব্য করেন কোচ।
দেশটির শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, বিশ্বকাপে দল ভালো না করলে বা ছেলে ব্যক্তিগতভাবে ব্যর্থ হলে ইউরোপীয় ফুটবলে তার বাজারমূল্য কমে যেতে পারে। এমন আশঙ্কা থেকেই এই অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফারহাতের পরিবার। তাদের ধারণা, বড় মঞ্চে এই বয়সে ব্যর্থতার দায় চেপে বসলে ইউরোপের জায়ান্ট ক্লাবগুলো ফারহাতের ওপর থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে।
তবে এর পেছনে অন্য একটি সমীকরণও দেখছেন অনেকে। জার্মানিতে জন্ম নেওয়া বেন ফারহাতের দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। ভবিষ্যতে বেন ফারহাত জার্মান জাতীয় দলের ডাক পাওয়ার আশায় আছেন বলেও আলোচনা চলছে।+




