Home Blog

করণের অনুষ্ঠানে ফিরে রসিকতা, শেষ সিজন নিয়ে কী বললেন কারিনা

০

শেষ হয়ে যাচ্ছে জনপ্রিয় সেলিব্রিটি শো ‘কফি উইথ করণ’– এ খবরে অনেকে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি দর্শকের অনেকে সঞ্চালক, বলিউড চলচ্চিত্র নির্মাতা করণ জোহরকে অনুরোধ জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানটি যেন তিনি চালিয়ে যান। অথচ বিষয়টি নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নন্দিত অভিনেত্রী কারিনা কাপুর খান। বলেছেন, ‘এই খবরে আমি খুব খুশি হয়েছি এবং স্বস্তি পেয়েছি। কারণ একটাই, আমাদের বারবার ‘কফি উইথ করণ’-এ আসতে হবে না।”

করণের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়া সত্ত্বেও কারিনার মুখে এমন কথা শুনে বিস্মিত হয়েছেন অনেকে। নেটিজেনরা প্রশ্ন ছুড়েছেন, আসলেই কি কারিনা বন্ধুর আলোচিত এই অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে খুশি? নাকি মজা করে এ কথা বলেছেন? সামাজিক মাধ্যমে এসব প্রশ্ন উঠে আসলেও এ নিয়ে আর কোনো মন্তব্য করেননি কারিনা।

আনন্দবাজারসহ ভারতের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবার স্বামী, অভিনেতা সাইফ আলি খানকে নিয়ে ‘কফি উইথ করণ’ অনুষ্ঠানে হাজির হচ্ছেন কারিনা কাপুর খান। ইতোমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে অনুষ্ঠানের ঝলক; যা নিয়ে দর্শকের কৌতূহল তুঙ্গে। নির্মাতাদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ‘কফি উইথ করণ’-এর শেষ সিজনের চতুর্থ পর্বে দেখা যাবে বলিউডের এই তারকা দম্পতিকে। আজ বুধবার জিও হটস্টারে মুক্তি পাবে এই পর্বটি। যার ঝলক প্রকাশ পাওয়ার পর দর্শকের মধ্যে নানারকম প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে।

নির্মাতাসূত্রে জানা গেছে, অনুষ্ঠানের শুরুতে করণ জোহরকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি বন্ধু কারিনা। শেষ সিজনের কথা শুনে এখন পর্যন্ত অতিথিরা দুঃখ প্রকাশ করেছেন। সবাই কর্ণকে এই অনুষ্ঠান চালিয়ে নিয়ে যেতে বলছেন। কিন্তু কারিনা তাঁর চেনা কায়দায় বলেছেন, ‘আমি খুব খুশি হয়েছি এবং স্বস্তি পেয়েছি। কারণ আমাদের বারবার ‘কফি উইথ করণ’-এ আসতে হবে না।’ কারিনার এমন মন্তব্যে পাল্টা রসিকতা করেছেন করণ। তাঁর জবাব, ‘অনুষ্ঠানের শেষ সিজন নিয়ে তোমার এই সংবেদনশীলতার জন্য ধন্যবাদ!’

অন্যদিকে, এই অনুষ্ঠানের জাঁকজমক পরিবেশের সঙ্গে সাইফকে খুব একটা মানানসই লাগে না বলেই মনে করেন অনেকে। এবার সে কথা মেনে নিয়েছেন অভিনেতা নিজেই। স্ত্রী ও করণের কথোপকথনের মাঝখানে বলে ফেলেছেন, এই অনুষ্ঠানে নিজেকে তাঁর ‘বেমানান’ মনে হয়।

অনুষ্ঠানের ঝলকে দেখা গেছে, কারিনাকে একটি মজার প্রশ্ন করেছেন করণ। বর্তমান বলিউডের অভিনেতাদের মধ্যে এক নম্বরে কাকে রাখবেন তিনি? কারিনার উত্তর অবশ্য ঝলকে প্রকাশ করা হয়নি। তবে স্ত্রীর জবাব শুনে সাইফের মন্তব্য, ‘অন্য অভিনেতাদের প্রশংসাও করতে পারো তুমি।’ এমনই নানা হাসির মুহূর্ত ধরা পড়েছে এই পর্বের ঝলকে। তারকাসন্তানদের প্রসঙ্গও উঠে আসে এবং তা নিয়ে হাসাহাসিও করেন তিনজন।

বলিউডে তারকা সন্তানদের সুযোগ দেওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন করণ। তাঁর প্রযোজনায় একাধিক তারকা সন্তান অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন। সেই প্রসঙ্গেই যে সাইফও একটি খোঁচা দিয়েছেন। সব মিলিয়ে নতুন এই পর্বে থাকছে যে, জমজমাট কথার লড়াই– তার আভাসও পাওয়া গেছে প্রথম ঝলক থেকে।

আসল কাজুবাদাম কেনার টিপস

পুষ্টিগুণের কথা বিবেচনা করে অনেকেই নিয়মিত কাজুবাদাম খান। কেউ সরাসরি খান, কেউ আবার মিষ্টি , সালাদ কিংবা বিভিন্ন রান্নায় ব্যবহার করেন। কিন্তু বাজার থেকে কাজুবাদাম কেনার সময় অনেকেই বুঝতে পারেন না, সেটি আসল নাকি নিম্নমানের বা ভেজাল মেশানো। শুধু প্যাকেটের চকচকে ভাব দেখে ভালো কাজুবাদাম চেনা সম্ভব নয়। এ কারণে কেনার আগে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। যেমন-

রং দেখে চিনুন: যেসব কাজুবাদাম ভালো মানের সেগুলোর রং সাধারণত হালকা সাদা বা ক্রিমের মতো হয়। অতিরিক্ত হলদেটে, কালচে দাগযুক্ত কিংবা অস্বাভাবিক রঙের কাজুবাদাম দেখলে সতর্ক হন। এগুলি পুরনো বা নিম্নমানের হতে পারে।

গন্ধ পরীক্ষা করুন: কাজুবাদাম যদি আসল হয় তাহলে হালকা প্রাকৃতিক বাদামের গন্ধ থাকে। কিন্তু কেনার সময় যদি তেলচিটে, বাসি বা অস্বাভাবিক গন্ধ পান, তা হলে সেটা কেনা থেকে বিরত থাকুন।

দাম খুব কম হলে সতর্ক থাকুন: বাজারদরের তুলনায় দাম যদি অস্বাভাবিক কম হয় তাহলে তা কেনার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। অনেক সময় কম দামের নিম্নমানের কাজুবাদাম উন্নত মানের বলে বিক্রি করা হয়।

প্যাকেটের দিকে নজর দিন: প্যাকেটজাত কাজুবাদাম কেনার সময় সিল আছে কি না, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ এবং প্রস্তুতকারক সংস্থার নাম দেখে নিন। প্যাকেট খোলা বা সিল নষ্ট থাকলে তা কেনা ঠিক নয়।

দাগ ও গঠন পরীক্ষা করুন: ভালো কাজুবাদামের চেহারা সাধারণত পরিষ্কার ও স্বাভাবিক থাকে। কালো দাগ, ছত্রাকের চিহ্ন কিংবা অস্বাভাবিক তেলতেলে ভাব থাকলে সেই কাজুবাদাম এড়িয়ে চলুন।

কী করবেন?

কাজুবাদাম কেনার ক্ষেত্রে সব সময় পরিচিত ও বিশ্বস্ত দোকানের উপর ভরসা করুন। শুধু দেখতে চকচকে হলেই সেটি ভালো হবে, এমনটা কোনো কথা নেই। মনে রাখবেন, চোখে দেখে বা হাতে পরীক্ষা করে সব ধরনের ভেজাল নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব নয়। তাই প্যাকেটের তথ্য, সংরক্ষণের অবস্থা এবং বিক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

মধ্যবর্তী নির্বাচন ফল মেনে নেব, ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আপত্তি নেই: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অগ্রগতির মধ্যে নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে বিরোধী দলের সঙ্গে কাজ করতেও প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনের ফল মেনে নিতে তিনি ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’। বিরোধী দলের সঙ্গে কাজ করার বিষয়েও তার আপত্তি নেই।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি অবশ্যই ওই ফলাফল মেনে নিতে প্রস্তুত।’ ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় থাকব। সম্ভবত আমরা কোনো একটা সমাধানে পৌঁছাতে পারব।’

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা এমন কয়েকটি আসনে জয় পেয়েছেন, যেগুলোকে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। এসব ফলের মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দলের লড়াই নতুন মাত্রা পেয়েছে।

নির্বাচনের ফলের ওপর নির্ভর করছে আগামী দুই বছর ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম কতটা নির্বিঘ্নে এগোবে। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ওপর নজরদারি ও তদন্তের সুযোগও বাড়বে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদে ২৪৮টি আসন পেতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের আসনসংখ্যা দাঁড়াতে পারে ১৮৭টিতে। এর মধ্য দিয়ে নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পাচ্ছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি।

সিনেটেও বড় অগ্রগতি হয়েছে দলটির। নির্বাচনে পাঁচটি আসন বাড়িয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। টেক্সাস, কানসাস, সাউথ ক্যারোলাইনা, ওহাইও ও নর্থ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকানদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ আসন ছিনিয়ে নিয়েছে তারা। এর ফলে সিনেটের নিয়ন্ত্রণও দলটির হাতে যাচ্ছে।

টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকো রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে হারিয়েছেন। প্রায় তিন দশক পর অঙ্গরাজ্যটিতে কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রাজ্যব্যাপী নির্বাচনে জয় পেলেন। কানসাসে রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটন। অন্যদিকে ওহাইওতে সাবেক সিনেটর শেরড ব্রাউন এবং নর্থ ক্যারোলাইনায় সাবেক গভর্নর রয় কুপার জয় পেয়েছেন।

আগামী ৩ জানুয়ারি থেকে নতুন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হবে। ফলে ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে আইন প্রণয়ন, সরকারি ব্যয় এবং বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে রিপাবলিকানদের।

নির্বাচনের ফল নিয়ে ট্রাম্প অবশ্য নিজের অবস্থানও ব্যাখ্যা করেছেন। নিউইয়র্ক টাইমসকে তিনি বলেছেন, নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের একটি কারণ হলো, তিনি নিজে ব্যালটে ছিলেন না। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি দাবি করেন, নিজে প্রার্থী হলে রিপাবলিকানরা বড় ব্যবধানে জয়ী হতো।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় ও ইরান যুদ্ধের প্রভাব ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন তিন দশক পর টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটদের জয়

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে প্রায় তিন দশক পর গভর্নর পদে জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। রিপাবলিকান প্রার্থী ও বর্তমান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে হারিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনোজোসা। ১৯৯৫ সালে অ্যান রিচার্ডসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এই প্রথম অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর পদে ফিরছেন কোনো ডেমোক্র্যাট। একই সঙ্গে টেক্সাসের প্রথম লাতিনা গভর্নর হতে যাচ্ছেন ৫২ বছর বয়সী হিনোজোসা।

মঙ্গলবারের নির্বাচনে হিনোজোসার কাছে পরাজিত হয়েছেন টানা তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা অ্যাবট। তিনি চতুর্থ মেয়াদের জন্য লড়ছিলেন। নির্বাচনের রাতে অ্যাবট পরাজয় মেনে নেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) ফল ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে টেক্সাসের এই ফলকে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

টেক্সাস দীর্ঘদিন ধরেই রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৯৪ সালে ডেমোক্র্যাট গভর্নর অ্যান রিচার্ডস রিপাবলিকান জর্জ ডব্লিউ বুশের কাছে হেরে যান। এরপর আর কোনো ডেমোক্র্যাট অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর নির্বাচিত হননি। ফলে হিনোজোসার জয় শুধু গভর্নর পদে ক্ষমতার পালাবদল নয়, টেক্সাসের রাজনীতিতে ডেমোক্র্যাটদের নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিতও দিচ্ছে।

অস্টিনের রাজ্য আইনপ্রণেতা ও সাবেক স্কুল বোর্ড সভাপতি হিনোজোসা নির্বাচনী প্রচারে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন এবং রাজনীতিতে করপোরেট ও ধনকুবেরদের প্রভাব কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন। তার প্রচারের অন্যতম বিষয় ছিল রাজ্যের অর্থনৈতিক সঞ্চয় থেকে প্রত্যেক বাসিন্দাকে এককালীন ১ হাজার ৫০০ ডলার ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব।

অন্যদিকে অ্যাবট তাঁর দীর্ঘদিনের শাসনামলের সাফল্য তুলে ধরেন। অর্থনীতি, সম্পত্তিকর কমানো এবং জনশিক্ষায় অর্থায়নের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেন তিনি। তবে প্রচারের শেষ দিকে হিনোজোসার বিরুদ্ধে উচ্চ কর আরোপ ও অর্থনীতির ক্ষতি করার অভিযোগ তোলেন অ্যাবট।

নির্বাচনী প্রচারে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও দুই প্রার্থীর মধ্যে বড় ব্যবধান ছিল। হিনোজোসার তুলনায় অ্যাবটের প্রচারে কয়েক গুণ বেশি অর্থ ব্যয় করা হয়। তবু জীবনযাত্রার ব্যয়, শিক্ষা ও সরকারি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ কাজে লাগিয়ে জয় পান হিনোজোসা। এপির প্রতিবেদনে তাঁর প্রচারকে জনতুষ্টিবাদী (পপুলিস্ট) প্রতিশ্রুতিনির্ভর প্রচার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটদের এই জয়কে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকেরা। এবারের নির্বাচনে অঙ্গরাজ্যটির বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই এবং ডেমোক্র্যাটদের ভালো ফল রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের আধিপত্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

নতুন গভর্নরের চার বছর মেয়াদি দায়িত্ব শুরু হবে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে।

টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবনে পুরস্কার পেল পাঁচ উদ্যোগ

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে নতুন উদ্ভাবনী ধারণার স্বীকৃতি দিতে আয়োজিত ‘স্ফুরণ: সাসটেইনেবল এনার্জি আইডিয়া কনটেস্ট ২০২৬’-এর বিজয়ীদের পুরস্কৃত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তিনি।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ, টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা), ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জার্মান উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা জিআইজেড যৌথভাবে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০) বাস্তবায়নে উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করাই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তরুণ উদ্ভাবক ও পেশাজীবীদের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, একটি উদ্ভাবনী ধারণাই বাংলাদেশের জন্য পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
জার্মান উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা জিআইজেডের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিযোগিতায় কয়েক ধাপের যাচাই-বাছাই এবং বিশেষজ্ঞ বিচারকমণ্ডলীর সামনে সরাসরি উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনটি বিভাগে পাঁচটি উদ্ভাবনী উদ্যোগকে পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়। বিচারকমণ্ডলীতে সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, উন্নয়ন সহযোগী ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা ছিলেন।

শিক্ষার্থীদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগে প্রথম হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সানজিদা আফরিন ও তাসফিয়া তাহিয়াতের ‘রোদ্দুর এআই’। এটি স্যাটেলাইট তথ্য ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো স্থানে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রযুক্তি। একই বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) শেখ সাজিদুল ইসলাম ও লামিয়া তাবাসসুম নবনীর ‘সূর্য ঘাট’। এ উদ্যোগে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করে ডিজেলচালিত মাছ ধরার নৌকাকে রূপান্তর এবং ঘাটে চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের জ্বালানি দক্ষতা বিভাগে প্রথম হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জারা তাসনুভা আলম ও হুমায়রা তাবাসসুম তুরাসার ‘টিপেকো ফ্রেমওয়ার্ক’। এটি ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনার একটি মডেল। দ্বিতীয় হয়েছে বুয়েটের লাবিবা আনিকা ও খন্দকার রুহামা আমিনের ‘ছাদগ্রিড’। এতে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবনের ছাদকে কেন্দ্র করে নগর এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী যন্ত্রপাতির সমন্বিত ব্যবস্থাপনার ধারণা তুলে ধরা হয়েছে।

পেশাজীবী বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন মাল্টিফ্যাবস লিমিটেডের মো. টিপু সুলতান। শিল্প কারখানায় বয়লারের তাপ পুনরুদ্ধার এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে বর্জ্যপানির অম্লতা নিয়ন্ত্রণের সমন্বিত প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য তিনি এ পুরস্কার পেয়েছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আবাসিক, শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে ১৫ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্য রয়েছে।

ব্যর্থতা আড়ালে বিরোধীদের চরিত্রহনন করছে সরকার: জামায়াত আমির

সরকার নিজের ব্যর্থতা, অযোগ্যতা, অদক্ষতা আড়ালে বিরোধীদলকে অপপ্রচারের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান এ মন্তব্য করেন।

সরকারের উদ্দেশ্যে শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধী দলের চরিত্রহনন বাদ দিয়ে আপনাদের ব্যর্থতা সমাধানের চেষ্টা করুন। যদি  দুঃখ-দুর্দশা দূর হয়, মানুষ আপনাদের সমর্থন করবে।

এক মাস কারাভোগ শেষে দলের সহযোগী সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের মুক্তিতে সেখানে এক সংবর্ধনার আয়োজন করে জামায়াত।

সরকারের উদ্দেশ্যে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন,  ‘যদি মনে করেন যে অতীতের মতো স্বৈরাচারী কায়দায় প্রতিবাদী কণ্ঠকে দমিয়ে দেবেন, স্তব্ধ করে দেবেন, তাহলে আপনাদের দুঃসংবাদ দিচ্ছি, এটি বাংলাদেশে আর হবে না।’

জামায়াতের ৩৪ জন সংসদ সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা ওমরাহ শেষে গত ১ অক্টোবর দেশে ফেরার পর লাগেজ পেতে বিলম্ব হওয়ায় বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চবাচ্য হয় মেজর আখতারের। শফিকুর রহমান বলেন, আখতারুজ্জামান কারও গায়ে হাত দেননি। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগে মিথ্যা মামলা করা হয়।

জামায়াত আমির বলেন, মেজর আখতারের প্রতিবাদের পর বিমানবন্দরের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে কিছু দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুই দফায় নতুন ট্রলি সংযোজন, লাগেজ বেল্টে ক্যামেরা স্থাপন এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মীদের শরীরে বডি ক্যামেরা সংযুক্ত করা হয়েছে। এসব পরিবর্তন প্রমাণ করে, তিনি যেসব সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন, সেগুলোর বাস্তবতা ছিল।

রিমান্ডে জামায়াতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রশ্ন

২ অক্টোবর আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাঁকে এই মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয়। তিনি বলেন, রিমান্ডে চোখ বেঁধে জামায়াতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়, যা মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ তথ্য জানার এখতিয়ার ডিবির আছে কি না, এই প্রশ্ন তুলে আখতারুজ্জামান বলেন, ‘পুলিশ হয়ে, ডিবি হয়ে একটি রাজনৈতিক দলের ভেতরের খবর জানার ন্যাক্কারজনক সাহস কোথায় পেল? একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব কীভাবে চলে, এই প্রশ্ন করার অধিকার পুলিশকে কে দিয়েছে?’

গত সোমবার হাইকোর্ট থেকে জামিন পান আখতারুজ্জামান। গতকাল  সকালে তিনি কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।

কারাফটকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করেন ঢাকা উত্তর মহানগর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন, ঢাকা দক্ষিণ মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন, ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামাল হোসেন প্রমুখ।

এদিকে গতকাল সকালে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার ডেরেক লোহ।

শ্রমমন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দিনের মধ্যে মজুরি বৃদ্ধির দাবি শ্রমিক শক্তির

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছে এনসিপির অঙ্গ সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তি’। শ্রমমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং তিন দিনের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণার দাবি জানিয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলা মোটরে এনসিপি কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন সংগঠনটির নেতারা। এতে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ এমপি, শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম ফকির, সদস্য সচিব ঋয়াজ মোর্শেদ, মুখ্য সংগঠক আরমান হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

মাজহারুল ফকির বলেন, বিএনপি সরকার ৯ মাস আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন করেছে, তাদের সঙ্গে ঝুট ব্যবসার ভাগবাটোয়ারা করেছে। আর এখন শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগ খুঁজছে। শ্রমিকদের স্বতস্ফুর্ত আন্দোলনে আওয়ামী লীগের অনুপ্রবেশের দায় সরকারের।

আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, মজুরিবোর্ড গঠনের নামে দলীয়করণ করে নিজেরদের লোক বসানো হয়েছে। শ্রমিকরা মানছে না। সরকারের অপরিপক্ক সিদ্ধান্তের কারণে আন্দোলন এই পর্যায়ে গড়িয়েছে। শিল্প রক্ষার স্বার্থেই বাজারের সাথে সঙ্গতি রেখে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি করতে হবে। বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতাকর্মী ও পুলিশের যৌথ মদদে শ্রমিকদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। এ ধরনের দমনপীড়ন অব্যাহত থাকলে সাধারণ শ্রমিকদের এই আন্দোলন আরও বৃহত্তর ও ভিন্ন রূপ নিতে পারে।

গাজীপুরে যৌথ বাহিনীর ২৫ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন, পর্যবেক্ষণে ২৫ ম্যাজিস্ট্রেট

গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চলমান শ্রমিক আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যৌথ বাহিনীর ২৫ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও দায়িত্ব পালনে মাঠে রয়েছেন ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত গাজীপুর জেলা ও মহানগর এলাকার ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ কোনো আঞ্চলিক সড়কে শ্রমিকদের অবস্থান বা পিকেটিংয়ের খবর পাওয়া যায়নি। গুরুত্বপূর্ণ এই দুই মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাইন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, পোশাকশ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধিসহ অন্যান্য দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চলমান শ্রম অসন্তোষ নিরসনে ১২ প্লাটুন বিজিবি, ৫ প্লাটুন আনসার ও ৮ প্লাটুন এসআরবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সকাল ৬টা থেকে মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন।

মঙ্গলবার ১২ প্লাটুন বিজিবি ও ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে ১২ প্লাটুন বিজিবির পাশাপাশি ৮ প্লাটুন এসআরবি ও ৫ প্লাটুন আনসার সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। এ ছাড়া গাজীপুর মহানগর পুলিশ, জেলা পুলিশ, শিল্প পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, এপিবিএন ও আনসার সদস্যরাও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করছেন। এসব বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরেজমিনে উপস্থিত থেকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. তাহেরুল হক চৌহান জানান, আন্দোলনের নামে যাতে কোনো রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও মানুষের জানমালের ক্ষতি না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সর্বোচ্চ ধৈর্য ও পেশাদারত্বের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে দায়িত্ব পালন করছেন তারা।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, আশুলিয়ায় ৭ কারখানায় ছুটি

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ ও অন্যায়ভাবে ছাঁটাই বাতিলের দাবিতে সাভারের হেমায়েতপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। বুধবার সকাল ৯টার দিকে হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অবরোধের কারণে মহাসড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী।

এদিকে শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সাভার ও আশুলিয়ার তৈরি পোশাকশিল্প এলাকায় দুই প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার সাতটি পোশাক কারখানায় বুধবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

সকাল ৯টার দিকে হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একাধিক পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা জড়ো হয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করেন। পুলিশ মাইকিং করে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়।

আন্দোলনরত শ্রমিকেরা জানান, বর্তমানে জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। সাড়ে ১২ হাজার টাকা মজুরিতে পরিবার নিয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, বেআইনিভাবে শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করা বন্ধ এবং অযৌক্তিক ছাঁটাই বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন তাঁরা।

পুলিশ জানায়, বুধবার সকালে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের পদ্মার মোড় এলাকার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে একেএইচ পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিয়ে কিছু সময় পর কারখানা থেকে বেরিয়ে আসেন। এরপর তাঁরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন।

এ বিষয়ে সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান নূর জানান, শ্রমিকেরা তিন দফা দাবি নিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছিলেন। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

অন্যদিকে আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলেও শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে। সকালে শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিয়ে হাজিরা দেওয়ার পর প্রথমে কারখানার ভেতরে অবস্থান নেন। পরে তারা কারখানা থেকে বেরিয়ে আসেন। এর মধ্যে আদিয়াস ফ্যাশন কারখানার শ্রমিকেরাও বেরিয়ে আসেন।

আশুলিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহিবুল্লাহ আকন বিজিবি মোতায়েন ও সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আশুলিয়ায় কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতিমধ্যে এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

জামগড়া এলাকার যে সাতটি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলো হলো ফ্যাশন ফোরাম লিমিটেড, সাফা সোয়েটার লিমিটেড, উঁচু ফ্যাশন লিমিটেড, দিপস অ্যাপারেলস লিমিটেড, এফ এন এফ অ্যান্ড ট্রেড ফ্যাশন, ফ্যাশন ইট কোম্পানি লিমিটেড এবং আয়েশা ক্লোথিং (পলমল গ্রুপ)।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে অতিরিক্ত পুলিশ ও শিল্প পুলিশের পাশাপাশি সাভার ও আশুলিয়ায় দুই প্লাটুন বিজিবি সতর্ক অবস্থানে থেকে টহল দিচ্ছে।

মিস অ্যান্ড মিসেস ডাক্তার সিজন ১-এর মুকুট জিতলেন ছোঁয়া

০

নারী চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতা, মেধা, আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বগুণ ও বহুমুখী প্রতিভাকে তুলে ধরতে আয়োজিত ‘মিস অ্যান্ড মিসেস ডাক্তার সিজন ১’ প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ডা. কানিজ ফাতেমা ছোঁয়া। রাজধানীর একটি হোটেলে ৩১ অক্টোবর জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার প্রথম আসরে বিজয়ের মুকুট ওঠে তাঁর মাথায়। প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছেন মেডিকেল শিক্ষার্থী নাবিলা তোরা এবং দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন ডা. রিফা তামান্না।

আয়োজকদের দাবি, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এ ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত নারী চিকিৎসকদের পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি তাঁদের ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বগুণ তুলে ধরাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নারী চিকিৎসকেরা এতে অংশ নেন।

বিজয়ের মুহূর্তটি ডা. ছোঁয়ার কাছে ছিল ভীষণ আবেগের। মুকুট মাথায় নিয়ে সবার সামনে দাঁড়িয়েও যেন নিজের অর্জন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তিনি। সেই মুহূর্তে বারবার বাবার মুখ ভেসে উঠছিল তাঁর চোখের সামনে। বাবা পাশে থাকলে হয়তো মেয়ের সাফল্যে গর্বে বুক ভরে উঠত তাঁর। তাই বিজয়ের আনন্দের পাশাপাশি বাবাকে কাছে না পাওয়ার কষ্টও অনুভব করেছেন ছোঁয়া। প্রতিযোগিতায় সফলতার পর তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শো ডিরেক্টর সাকিব সনেট এবং শোয়ের সিইও ও অর্গানাইজার ড. হাসান মাহমুদের প্রতি।

chowa 1793632409

খুলনার মেয়ে কানিজ ফাতেমা ছোঁয়া ২০২৫ সালে রাশিয়ার রস্তভ স্টেট মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই তাঁর মধ্যে রয়েছে শিল্পীসত্তা। অভিনয়, গান, নাচ ও ছবি আঁকার প্রতি তাঁর বিশেষ ভালোবাসা। চিকিৎসাবিদ্যায় পড়াশোনার সময়ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে দূরে রাখেননি তিনি। দেশের বাইরে পড়াশোনার সময় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরার চেষ্টা করতেন।

ছোঁয়ার ভাষায়, ‘আমার কেন যেন মনে হতো, আমার ভেতরে একটা শিল্পীসত্ত্বা রয়েছে। যে কারণে সংস্কৃতির প্রতি আমার একটা আলাদা টান অনুভব করি। আমার অভিনয় করতে ভালো লাগে, গাইতে ভালো লাগে, নাচতে ভালো লাগে। ছবি আঁকতেও ভালো লাগে।’ছোঁয়ার পারিবারিক জীবনেও রয়েছে সংগ্রামের গল্প। তাঁর বাবা জি এম কামরুল হুদা একসময় ব্যাংকে চাকরি করতেন। কিন্তু দেড় বছর আগে স্ট্রোক করার পর থেকে অসুস্থ অবস্থায় বাসায় রয়েছেন। মা ফিরোজা হুদা। বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি ছোট ভাই তানজিমকে মানুষের মতো মানুষ করার দায়িত্ববোধও রয়েছে তাঁর কাঁধে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে ছোঁয়া জানান, চিকিৎসক হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অভিনয়ও চালিয়ে যেতে চান তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন রয়েছে তাঁর। তাঁর মতে, চিকিৎসক পরিচয়ের বাইরেও একজন মানুষের নিজস্ব প্রতিভা ও সৃজনশীল পরিচয় বিকাশের সুযোগ থাকা প্রয়োজন।

চিকিৎসক পরিচয়ের পাশাপাশি নিজের শিল্পীসত্তাকে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে নতুন এক অধ্যায়ে পা রাখলেন ছোঁয়া। ভবিষ্যতে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি অভিনয়েও নিয়মিত হতে চান তিনি। আর সে লক্ষ্যেই  এগিয়ে চলছেন এই চিকিৎসক।