যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে প্রায় তিন দশক পর গভর্নর পদে জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। রিপাবলিকান প্রার্থী ও বর্তমান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে হারিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনোজোসা। ১৯৯৫ সালে অ্যান রিচার্ডসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এই প্রথম অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর পদে ফিরছেন কোনো ডেমোক্র্যাট। একই সঙ্গে টেক্সাসের প্রথম লাতিনা গভর্নর হতে যাচ্ছেন ৫২ বছর বয়সী হিনোজোসা।
মঙ্গলবারের নির্বাচনে হিনোজোসার কাছে পরাজিত হয়েছেন টানা তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা অ্যাবট। তিনি চতুর্থ মেয়াদের জন্য লড়ছিলেন। নির্বাচনের রাতে অ্যাবট পরাজয় মেনে নেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) ফল ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে টেক্সাসের এই ফলকে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
টেক্সাস দীর্ঘদিন ধরেই রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৯৪ সালে ডেমোক্র্যাট গভর্নর অ্যান রিচার্ডস রিপাবলিকান জর্জ ডব্লিউ বুশের কাছে হেরে যান। এরপর আর কোনো ডেমোক্র্যাট অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর নির্বাচিত হননি। ফলে হিনোজোসার জয় শুধু গভর্নর পদে ক্ষমতার পালাবদল নয়, টেক্সাসের রাজনীতিতে ডেমোক্র্যাটদের নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিতও দিচ্ছে।
অস্টিনের রাজ্য আইনপ্রণেতা ও সাবেক স্কুল বোর্ড সভাপতি হিনোজোসা নির্বাচনী প্রচারে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন এবং রাজনীতিতে করপোরেট ও ধনকুবেরদের প্রভাব কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন। তার প্রচারের অন্যতম বিষয় ছিল রাজ্যের অর্থনৈতিক সঞ্চয় থেকে প্রত্যেক বাসিন্দাকে এককালীন ১ হাজার ৫০০ ডলার ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব।
অন্যদিকে অ্যাবট তাঁর দীর্ঘদিনের শাসনামলের সাফল্য তুলে ধরেন। অর্থনীতি, সম্পত্তিকর কমানো এবং জনশিক্ষায় অর্থায়নের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেন তিনি। তবে প্রচারের শেষ দিকে হিনোজোসার বিরুদ্ধে উচ্চ কর আরোপ ও অর্থনীতির ক্ষতি করার অভিযোগ তোলেন অ্যাবট।
নির্বাচনী প্রচারে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও দুই প্রার্থীর মধ্যে বড় ব্যবধান ছিল। হিনোজোসার তুলনায় অ্যাবটের প্রচারে কয়েক গুণ বেশি অর্থ ব্যয় করা হয়। তবু জীবনযাত্রার ব্যয়, শিক্ষা ও সরকারি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ কাজে লাগিয়ে জয় পান হিনোজোসা। এপির প্রতিবেদনে তাঁর প্রচারকে জনতুষ্টিবাদী (পপুলিস্ট) প্রতিশ্রুতিনির্ভর প্রচার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটদের এই জয়কে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকেরা। এবারের নির্বাচনে অঙ্গরাজ্যটির বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই এবং ডেমোক্র্যাটদের ভালো ফল রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের আধিপত্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
নতুন গভর্নরের চার বছর মেয়াদি দায়িত্ব শুরু হবে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে।


