।।শিতাংশু গুহ, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, নিউইয়র্ক।।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জন্মাষ্টমী উপলক্ষে হিন্দুদের বলেছেন, ‘সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নয়, আমরা সবাই বাংলাদেশী’। বেগম খালেদা জিয়া, হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ, জিয়াউর রহমান-র মুখে এমন কথা দেশবাসী বারংবার শুনেছে। শেখ হাসিনা’র মুখে দেশবাসী শুনেছে, ‘সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নয়, আমরা সবাই বাঙ্গালী’। বক্তব্য একই, তফাৎ শুধু বাঙ্গালী ও বাংলাদেশিতে -ওদিকে যাচ্ছিনা, কথা হচ্ছে, সরকার প্রধানরা যখন বারবার জেনেশুনে অসত্য বলেন, তখন ঐদেশের আর কিছু থাকেনা, এ মুহূর্তে বাংলাদেশের অবস্থা তাই মাদ্রাসার বলাৎকার হওয়া অবোধ শিশুটি’র মত!
এমন দৃষ্টান্ত কেন দিলাম? কারণ, হুজুরের আক্রমনের কাছে মাদ্রাসার শিশুটি যেমন ‘অসহায়’, তেমনি রাজনৈতিক দলগুলোর ‘রাষ্ট্রধর্ম’ নামক অত্যাচারে রাষ্ট্রযন্ত্রটি অসহায়- এরশাদ, বেগম জিয়া, শেষ হাসিনা পুন্:পুন্: ধর্মের নামে রাষ্ট্রের শ্লীলতাহানি করেছেন। শেখ হাসিনা সুযোগ পেয়েছিলেন এ যন্ত্রনা থেকে রাষ্ট্রকে মুক্তি দিতে, তিনি সেই সুযোগ নেননি, ফলশ্রুতিতে তিনি দেশান্তরী, এবং রাষ্ট্রের চেহারাটি অতি ‘কদর্য’। এ মুহূর্তে দেশে পরাজিত শক্তির যে আস্ফালন, কলেমার পতাকা উত্তোলন, তালেবানি হুঁশিয়ারি, সবই শেষ হাসিনা’র উদারতার অবদান ও আত্মপ্রবঞ্চনার ফলশ্রুতি।
শেখ হাসিনা দেশকে অনেক কিছু দিয়েছেন, ইসলামী মৌলবাদী শক্তি উত্থানের সুযোগও তিনিই করে দিয়েছেন। তিনি দেশকে ‘মদিনা সনদ’ অনুসারে চালাতে চেয়েছেন, দেশ এখন মদিনা সনদ অনুসারে চলছে, যেখানে তিনি অবাঞ্ছিত। এতকিছুর পরও দেশ এখন আবার তাঁকেই চায়, তিনিই ভরসা, হয়তো তিনি তার ভুল উপলব্ধি করেছেন, হয়তো করেননি, হয়তো ভবিষ্যতে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে, আসলে কি ঠিক হবে? বাংলাদেশের মানুষ বুঝবে কবে যে, ধর্ম দিয়ে রাষ্ট্র চলে না, এজন্যে বিশ্বের সবগুলো মুসলিম রাষ্ট্র ব্যর্থ, এঁরা হয় আমেরিকা বা চীনের ‘পা’ ধরে বসে আছে?
যাহোক, জন্মাষ্টমী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচলিত গৎবাঁধা কথাবার্তা। বিএনপি’র ২০০১-২০০৬ শাসনামল হিন্দুদের জন্যে ‘আতঙ্কের’ ছিলো। বর্তমান শাসনামলে হিন্দুরা পথেঘাটে খুন হচ্ছে, রংপুরের একই পরিবারে ৪খুনে সরকারের ভূমিকা হতাশাব্যঞ্জক ও বিতর্কিত। চিন্ময় কৃষ্ণ দাস-কে জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়েছে। রংপুরে হরিদাস চন্দ্র তরনিদাসকে ভুয়া মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। রামমুর্ক্তি নির্মাণ অবৈধভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, যারা বলেন, ‘মাটির পুতুল’ তারা মাটির তৈরী রামে এত ভয় পাচ্ছেন কেন, বোঝা যাচ্ছেনা?
প্রয়াত: সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত অনেকদিন আগে বলেছিলেন, হিন্দু বিতারণ কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি-জাতীয় পার্টি বা জামাত সবাই একজোট। তারেক জিয়ার আমলেও সেটি থেমে নেই? তারেক জিয়ার উপদেষ্টা সচিব জনাব রাশেদ একদা রাজপথে শ্লোগান দিয়েছিলেন, ‘ভারত যাদের মামা বাড়ী, বাংলা ছাড়ো তাড়াতাড়ি’। সরকারের মধ্যে ‘ভুত’ থাকলে, কোন সর্ষে-তেই কাজ হয়না, এটি বিএনপি সরকার, জামাত বা জাতীয় পার্টি বা এমনকি আওয়ামী লীগ সরকারের জন্যেও প্রযোজ্য, কারণ বাংলাদেশে কোন সরকারই অসাম্প্রদায়িক ছিলোনা, এখনো নয়?


