পুলিশ সদস্যের বুদ্ধিমত্তায় রক্ষা পেলেন যুবক, গ্রেপ্তার ৫

ময়মনসিংহে গোয়েন্দা সংস্থার (ডিবি ও ডিজিএফআই) সদস্য পরিচয় দিয়ে এক যুবককে অপহরণ করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অপহরণের শিকার যুবককেও উদ্ধার করা হয়েছে। টহল পুলিশের এএসআই কাদিরুল ইসলামের তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা ও সতর্ক দৃষ্টির কারণে চক্রটি ধরা পড়ে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন– দিনাজপুরের খানসামা এলাকার শামীম ইসলাম সবুজ, ময়মনসিংহ নগরীর আল-আমীন, পিয়াস মিয়া, দিদারুল ইসলাম ও শেরপুরের নকলা এলাকার ফারুক আহম্মেদ।
অভিযানকালে আসামিদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল, সাতটি মোবাইল ফোন ও একটি ভুয়া পরিচয়পত্র জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুস সামাদ বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এই মামলায় গতকাল শনিবার দুপুরে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আব্দুস সামাদ ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার পনঘাগড়া এলাকার বাসিন্দা। গত শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে চুরখাই এলাকা থেকে নিজেদের ডিবি ও ডিজিএফআই সদস্য পরিচয় দিয়ে তাঁকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে নগরীর জালালের মোড় এলাকায় নটর ডেম কলেজের পেছনে নিয়ে গিয়ে মাদকের মিথ্যা মামলায় চালান দেওয়ার হুমকি দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
ঘটনার দিন দুপুরে নটর ডেম কলেজের পেছনে একটি নির্মাণাধীন ভবনের কাছে নিয়মিত টহলে ছিলেন কোতোয়ালি থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) কাদিরুল ইসলাম। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে তিনজনকে যেতে দেখে সন্দেহ হয় তাঁর।

অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে এএসআই কাদিরুল ইসলাম বলেন, মাঝে বসা যুবকটির সঙ্গে চোখাচোখি হতেই তাঁর চোখের দৃষ্টি ও অবয়বে চরম বিপদগ্রস্ততার ছাপ ফুটে ওঠে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় মোটরসাইকেলটির গতিবিধি অনুসরণ করতে শুরু করেন তিনি। প্রায় ১৫-২০ মিনিট অনুসরণের পর ভুক্তভোগীর আকুতি ও চিৎকার শুনতে পেয়ে সেখানে অভিযান চালান তারা। ঘটনাস্থল থেকে আব্দুস সামাদকে উদ্ধারসহ অপহরণকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার শামীম ইসলাম নিজেকে সেনাসদস্য পরিচয় দেন। তথ্য যাচাই করে জানা গেছে, ২০০৯ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর ২০২১ সালে দুই মাসের ছুটিতে গিয়ে তিনি আর কর্মস্থলে ফেরেননি। এ ছাড়া গ্রেপ্তার দিদারুল ইসলাম ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের একজন কম্পিউটার অপারেটর বলে জানা গেছে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, অপহরণ মামলার পর আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এই চক্রটি আগেও একই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় খবর