কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির তলে তলে যোগাযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, জামায়াতকে গুপ্ত বলার আগে নিজের এবং নিজের দলের চেহারা আয়নায় দেখুন।
দলের সহযোগী সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের মুক্তির দাবিতে গতকাল শনিবার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতে যোগ দেওয়ায় আখতারকে সরকার গ্রেপ্তার করেছে বলে অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার।
বিএনপি নেতারা আঁতাত করে চলায় শেখ হাসিনাকে সরাতে ১৫ বছর লেগে যায় বলে দাবি করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ঘোষিত কর্মসূচিতে বিএনপির নেতারা লুকিয়ে থাকলেও জামায়াত-শিবির রাজপথে জীবন দিয়েছিল। রাজপথের কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাদের পাওয়া যেত না। অনেকে মোবাইল ফোন পর্যন্ত বন্ধ রাখতেন। ক্ষমতায় এসে সরকারপ্রধানসহ তাঁর মন্ত্রীদের কেউ কেউ জামায়াত-শিবিরকে গুপ্ত বলছেন, স্বাধীনতা বিরোধী বলছেন।’
প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি অভিযোগ করেন, জামায়াত এবং আওয়ামী লীগের তলে তলে যোগাযোগ রয়েছে। তা নাকচ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপি সরকারের তলে তলে যোগাযোগ ও সখ্য রয়েছে। সে কারণে আওয়ামী লীগ রাজপথে মিছিলের সুযোগ পাচ্ছে।’
গত বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরে কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চবাচ্য করে তাদের ঘাড় ধরে বের করে দেওয়ার যে হুমকি দিয়েছিলেন তা সমর্থন করেন জামায়াত সেক্রেটারি। তিনি বলেন, একজন জ্যেষ্ঠ নাগরিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক এমপি হিসেবে মেজর আখতার বিমানবন্দরে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অদক্ষতা নিয়ে কথা বলতেই পারেন। অন্যায়ের প্রতিবাদ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর আখতার সাহসিকতা দেখিয়েছেন।
ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বলেন, আখতারুজ্জামানকে রিমান্ডে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করেছে সরকার। হাতকড়া পরানোর কথা ছিল বিএনপি নেত্রী মিষ্টিকে। রিমান্ডে নেওয়ার কথা ছিল মিষ্টি ও তাঁর অনুসারী দখলবাজ সন্ত্রাসীদের।
সমাবেশ শেষে কয়েক হাজার নেতাকর্মীর মিছিল পল্টন মোড়-প্রেস ক্লাব হয়ে মৎস্য ভবন মোড় পর্যন্ত যায়। তারা সরকারকে স্বৈরাচার আখ্যা দিয়ে স্লোগান দেয়।
এদিকে আখতারুজ্জামানের মুক্তির দাবিতে গতকাল বিকেলে তাঁর নিজ জেলা কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা শহরে উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে ও সন্ধ্যার পর কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।


