চট্টগ্রামে সম্প্রতি কোকেন জব্দের ঘটনায় তদন্ত চলছিল। এক পর্যায়ে গোয়েন্দাদের নজরে আসে একটি আটতলা ভবন। সেখানে ৬৩ বিদেশি নাগরিক অবস্থান করছিলেন। তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়। সংগ্রহ করা হয় গোয়েন্দা তথ্য। এর পর অভিযান চালিয়ে জব্দ করা হয় ১৭০ ধরনের ডিজিটাল ডিভাইস। অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয় ৬৩ বিদেশিকে। থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫ সেপ্টেম্বর রাতে নগরীর দক্ষিণ খুলশী ২ নম্বর রোডের বিশ্রাম ভবনের নিচতলায় অবস্থিত ‘স্টেড ফাস্ট কুরিয়ার লিমিটেডের’ মাধ্যমে কোকেনের একটি চালান ঢাকায় পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছিল। এই তথ্য পান গোয়েন্দারা। রাতেই কাউন্টার টেররিজম, এলআইসি শাখা ও জেলা পুলিশ যৌথভাবে কুরিয়ার সার্ভিস অফিসে অভিযান চালায়। ৫ সেপ্টেম্বর বুকিংয়ে থাকা সব মালপত্র তল্লাশি করা হয়। এ সময় দুটি পলিব্যাগ থেকে মোট ১১৮ গ্রাম কোকেন জব্দ করা হয়। এই কোকেনের মূল্য প্রায় ২৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
কোকেন চোরাচালানের এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের রিয়াদুল আহম্মেদ ও ঢাকার উত্তরা দক্ষিণখানের খলিল বক্স রোডের মো. আলমগীর নামে দুই ব্যক্তিকে আসামি করে খুলশী থানায় মামলা হয়। পরে রিয়াদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু আলমগীর পলাতক।
কোকেনের চালান ধরা পড়ার পর গোয়েন্দারা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করেন। এক পর্যায়ে এলআইসি শাখার গোয়েন্দারা খুলশীর থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের আটতলা ভবনে অবস্থানরত বিদেশিদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য পান। পাঁচ দিন গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এর পর থানা পুলিশ, কাউন্টার টেররিজম ইউনিট, এলআইসি শাখা, র্যাবসহ বিভিন্ন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা মিলে ওই ভবনে অভিযান যায়। ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে সার্ভার স্টেশন তৈরি করে অনলাইনে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালানোর প্রমাণ পাওয়া যায়। গোয়েন্দারা নানা ডিভাইস জব্দ করেন। এ ছাড়া ওই ভবনে থাকা ৬৩ বিদেশি নাগরিকের কারও কাছেই পাসপোর্ট পাননি। তাদের গ্রেপ্তার করে সাইবার সুরক্ষা আইনে আদালতে পাঠালে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। তারা চীন, পাকিস্তান, লাউস, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিক। তারা প্রায় দেড় মাস ধরে ওই ভবনে অবস্থান করছিলেন। ভবনটি এক দুবাই প্রবাসীর।
৬৩ পাসপোর্ট জমা রাখা সেই ব্যক্তি গ্রেপ্তার
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ এলাকার বাসিন্দা এস এম মহসিন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কোকেন চোরাচালানের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা আছে। তা ছাড়া গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে মহসিনের যোগাযোগ ছিল। তিনি ওই আটতলা ভবনটি তাদের ভাড়া করে দেন। তাদের পাসপোর্ট নিজের কাছে জমা রাখেন। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে করা সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় মহসিনকে গ্রেপ্তার দেখাতে আদালতে আবেদন করা হবে। প্রতারক চক্রটির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য তার বিরুদ্ধে রিমান্ডেরও আবেদন করা হবে।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, গ্রেপ্তার বিদেশি নাগরিকদের নিজ নিজ দেশের দূতাবাস থেকে চট্টগ্রামের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য সংগ্রহ করছেন। এই বিদেশি নাগরিকদের বিস্তারিত তথ্য পুলিশের কাছে নেই। তাদের পাসপোর্ট উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
কোকেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ তানভীর ভূঁইয়া বলেন, কোকেন চোরাচালানের ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও কয়েকজনকে খোঁজা হচ্ছে।


