মানি লন্ডারিং ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাংবাদিক আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা

সাংবাদিক আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের অনুসন্ধানে তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য পাওয়ার পর এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে কমিশনের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দুদকের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান বাদী হয়ে সাংবাদিক আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছেন।
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়, আনিস আলমগীরের নামে ২৫ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। এতে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকা। পাশাপাশি পারিবারিক ও অন্যান্য খাতে ব্যয় হিসেবে হিসাব করা হয়েছে আরও ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে তার মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা।
অন্যদিকে দুদকের হিসাব অনুযায়ী, বৈধ উৎস থেকে আনিস আলমগীরের মোট আয় পাওয়া গেছে ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা। এর মধ্যে অতীত সঞ্চয় হিসেবে ৫৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮২১ টাকা, টক শো ও কনসালটেন্সি থেকে ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টাকা, প্লট বিক্রি থেকে ২২ লাখ টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক সুদ বাবদ ৩ লাখ ২৪ হাজার ৫৩ টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই হিসাবে ঘোষিত ও গ্রহণযোগ্য আয়ের তুলনায় তার কাছে অতিরিক্ত ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে, যা মোট অর্জিত সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ। দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অর্থ ও সম্পদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় মানি লন্ডারিং ও দুর্নীতি দমন আইনে মামলা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাংবাদিক আনিস আলমগীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগ এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বৈশাখী টেলিভিশনের সাংবাদিক এবং আরটিভির চিফ নিউজ এডিটর হিসেবেও কাজ করেছেন। দুদকের এই মামলাকে ঘিরে সাংবাদিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় খবর