সিনেমায় চরিত্রের প্রয়োজনে সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করতে আপত্তি নেই রাধিকা আপ্তের। তবে শুধু দৃশ্যকে আকর্ষণীয় করে তুলতে অপ্রয়োজনীয় নগ্নতা বা ঘনিষ্ঠ দৃশ্য যুক্ত করার পক্ষপাতী নন এই অভিনেত্রী। এবার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের এমনই কিছু অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার কথা জানালেন তিনি।
‘পার্চড’, ‘হান্টার’, ‘ম্যাডলি’, ‘লাস্ট স্টোরিজ’-এর মতো সিনেমায় সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করে আলোচনায় এসেছেন রাধিকা। তবে তার বক্তব্য, সিনেমার প্রয়োজনে কোনো দৃশ্যে নগ্নতা থাকলে তাতে আপত্তি নেই। আপত্তি তখন, যখন এর প্রয়োজনীয়তা নেই।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে রাধিকা জানান, ক্যারিয়ারের শুরুতে চার-পাঁচটি সিনেমায় নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় করেছিলেন তিনি। এরপর ইন্ডাস্ট্রির কিছু মানুষের ধারণা তৈরি হয়, ভবিষ্যতেও হয়তো সহজে এমন দৃশ্যে রাজি হয়ে যাবেন অভিনেত্রী।

রাধিকা আপ্তে। ছবি: ফেসবুক
রাধিকার ভাষায়, ‘অনেকে ভাবতেন—এ তো করে দেবে। তখন আমাকেই বলতে হতো, শুনুন, আমি এগুলো করব না। আগে আমি জানতে চাই, আপনি কেন এ ধরনের দৃশ্য চাইছেন?’
অভিনেত্রী জানান, এমন প্রশ্নের জবাবে অনেক সময় তাকে বলা হতো, ‘করে দাও না একটু।’ এমনকি এক পরিচালক তাকে চিত্রনাট্যে না থাকা ১৫ সেকেন্ডের একটি চুম্বনের দৃশ্য ইম্প্রোভাইজেশন হিসেবে করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এমন প্রস্তাবে বিস্মিত হয়ে রাধিকা পাল্টা প্রশ্ন করেছিলেন, ‘সরি, আপনি কী বললেন?’
আরেকটি ঘটনার কথা জানিয়ে রাধিকা বলেন, শুটিংয়ের সময় তাকে শার্টের বোতাম খোলা অবস্থায় একটি অ্যাকশন দৃশ্যের শট দিতে বলা হয়েছিল। এতে তিনি রাজি হননি। তার যুক্তি ছিল, অ্যাকশন দৃশ্যে দৌড়ঝাঁপ করতে হবে। ফলে শার্টের বোতাম খোলা থাকলে পোশাকের ভেতরের অংশ দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

রাধিকা আপ্তে। ছবি: ফেসবুক
২০১৬ সালে ‘পার্চড’ ছবির একটি নগ্ন দৃশ্য ভাইরাল হওয়া নিয়েও কথা বলেছেন রাধিকা। তাঁর আক্ষেপ, ছবির মূল বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনার বদলে শুধু ওই সাহসী দৃশ্য নিয়েই বেশি আলোচনা হয়েছিল।
রাধিকার মতে, পর্দায় চমক তৈরি করার নামে অভিনেত্রীদের নানা ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে সেই দিকটিই সামনে আনলেন এই অভিনেত্রী।


