Home Blog Page 101

বাংলাদেশের ম্যাচ, বিশ্বকাপসহ আজ আরও যা দেখবেন

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আজ বৃহস্পতিবার মাঠে নামছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। অন্যদিকে আজ রাতেই ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এর পর্দা উঠতে যাচ্ছে। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। আসরের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র।

এক নজরে দেখে নিন আজকের খেলার সময়সূচি-

  • ২য় ওয়ানডে

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া
বেলা ১১টা, টি স্পোর্টস ও নাগরিক

  • বিশ্বকাপ ফুটবল

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
রাত ১১টা ৩০ মিনিট, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা
রাত ১টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

দক্ষিণ কোরিয়া-চেক প্রজাতন্ত্র
আগামীকাল সকাল ৮টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিন দেশের বর্ণাঢ্য আয়োজন

আর মাত্র কয়েক মুহূর্তের অপেক্ষা। শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপের নতুন আসর। এবারের প্রতিযোগিতা ইতিহাসের সবচেয়ে বৃহৎ ও ব্যতিক্রমী আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রথমবারের মতো তিনটি স্বাগতিক দেশে পৃথক তিনটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। আর এসব অনুষ্ঠানের প্রতিটিতেই উত্তর আমেরিকার বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, সংগীত ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে।

প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে মেক্সিকোর স্থানীয় সময় ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) বেলা সাড়ে ১১টায়। প্রথম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে। উদ্বোধনী ম্যাচের ৯০ মিনিট আগে শুরু হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে নাচে-গানে সুরে-তালে তুলে ধরা হবে মেক্সিকোর সংস্কৃতি, সংগীত এবং ঐতিহ্যের নানা দিক। এরপর স্বাগতিক মেক্সিকো মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার।

দ্বিতীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে ১২ জুন (শুক্রবার) ক্যালিফোর্নিয়ার ইঙ্গলউডে অবস্থিত সোফাই স্টেডিয়ামে। এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্বের জনপ্রিয় তারকা শিল্পী কেটি পেরি, ফিউচার, অনিতা, লিসা, রেমা ও টাইলা পরিবেশনা করবেন। বর্ণাঢ্য এই আয়োজনের পর নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র।

আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বিশ্বকাপের ব্যাপ্তি ও মহিমার প্রতিফলন। শিল্পীদের বৈচিত্র্যময় উপস্থিতি দেশটির সাংস্কৃতিক বৈচিত্রকে তুলে ধরবে, যা মানুষকে একত্রিত করার অসাধারণ ক্ষমতা রাখে।

তিনটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতা সম্পূর্ণ করবে কানাডা। ১২ জুন (শুক্রবার) টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে অনুষ্ঠিত হবে দেশটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, যেখানে কানাডার প্রতিভাবান শিল্পীদের পরিবেশনা তুলে ধরা হবে। কানাডার প্রথম ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে অ্যালানিস মরিসেট, আলেসিয়া কারা, এলিয়ানা, জেসি রেয়েজ, মাইকেল বুবলে, নোরা ফাতেহি, সানজয়, ভেজিড্রিম এবং উইলিয়াম প্রিন্স মঞ্চে পরিবেশনা করবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময়সূচি:

মেক্সিকোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

তারিখ: ১১ জুন, বৃহস্পতিবার

সময়: বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে এগারোটা

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

তারিখ: ১২ জুন, শুক্রবার

সময়: বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে পাঁচটা (শনিবার)

কানাডার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

তারিখ: ১২ জুন, শুক্রবার

সময়: বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে এগারোটা

তিন দেশ, তিন সংস্কৃতি এবং এক বিশ্বমঞ্চ- এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়েই শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত উৎসব।

সীমান্তবর্তী সব জেলায় কাল ১১ দলের সমাবেশ

বাংলাদেশে পুশইন ও সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে আগামীকাল শুক্রবার দেশের সীমান্তবর্তী সব জেলায় এবং পয়েন্টে প্রতিবাদ সমাবেশ করবে ১১ দলীয় ঐক্য। একই সঙ্গে সারাদেশে খুন ও ধর্ষণ এবং আইনশৃঙ্খলা অবনতির প্রতিবাদে আগামী ১৫ জুন রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ করবে তারা।

গতকাল বুধবার মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, সীমান্ত হত্যা দেশের স্বাধীনতা ও

সার্বভৌমত্বের জন্য ভয়াবহ হুমকি। গত তিন মাসে সীমান্তে ৫০টির বেশি পুশইনের চেষ্টা হয়েছে এবং গত ১০০ দিনে ভারতীয় বাহিনীর গুলিতে ১৯ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। সরকার এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উদাসীনতা দেখাচ্ছে। একই সঙ্গে সীমান্ত হত্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে জাতীয় নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন তিনি।

১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ সরকারকে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিরোধী দলগুলো সবসময় সজাগ থাকবে। সরকার যাতে জাতীয় স্বার্থে কোনো ধরনের উদাসীনতা দেখাতে না পারে, সেজন্য সাধারণ জনগণকেও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী তার সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করে বলেন, সীমান্ত অঞ্চলের মানুষেরা অত্যন্ত মানবেতর ও ঝুঁকিপূর্ণ জীবনযাপন করছেন। সীমান্তে সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভূমিকা অত্যন্ত অপ্রতুল উল্লেখ করে তিনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করার তাগিদ দেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত ও পলাতকরা ভোটে অযোগ্যই থাকছেন

জাতীয় সংসদের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন বা সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও পলাতক আসামিরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগও বন্ধ রাখা হচ্ছে।

এমন সব বিধান যুক্ত করে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনী আচরণবিধি সংশোধনীর খসড়া চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী সপ্তাহে জনমতের জন্য খসড়াটি ইসির ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করা হবে। স্থানীয় সরকারের অন্য চারটি প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদাভাবে প্রণয়নের অপেক্ষায় থাকা নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আচরণ বিধিমালার খসড়ায়ও একই ধরনের বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে বলে ইসি সূত্র জানিয়েছে।

ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সমকালকে বলেছেন, আগামী সপ্তাহের শুরুতে কমিশন সভা হবে বলে আশা করছি। সেখানেই ইউপি নির্বাচনী আচরণবিধির খসড়া নিয়ে আলোচনার পর সবার মতামতের জন্য এটি ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে।

আচরণবিধিতে আনা অন্যান্য পরিবর্তন সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্বাচন নির্দলীয় হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহের প্রয়োজন হবে না। নির্বাচনের জামানত বাড়বে। আর নির্বাচনী প্রচারে পোস্টারের ব্যবহার ও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ এবং পোস্টাল ব্যালটের ব্যবহার বাদ দেওয়া হবে।
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) সংশোধনী এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন বা সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও পলাতক আসামিদের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগও বন্ধ রাখা হয়। সেটা আচরণ বিধিমালায়ও যুক্ত করা হয়।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, ইউপি নির্বাচন আচরণ বিধিমালার খসড়া ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে অংশীজন ও নাগরিকদের মতামত দেওয়ার জন্য ১৫ দিন সময় বেঁধে দেওয়া হবে। নির্দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন হলেও এটি মতামতের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেও পাঠানো হবে। এ ছাড়া এ বিষয়ে সংবাদপত্রে সার্কুলার জারি ও গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় করবে ইসি। এরপর খসড়াটি সংযোজন-বিয়োজন ও কমিশনের চূড়ান্ত অনুমোদন শেষে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। ভেটিং শেষে আচরণ বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করবে ইসি।
দেশে বর্তমানে স্থানীয় সরকারের চার হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা এবং ১৩টি সিটি করপোরেশন রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মধ্যে তিন হাজার ৬৩২টি আগামী আগস্টের শেষ নাগাদ এবং আরও ৩৪৩টি ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের জন্য যোগ্য হবে। বিভিন্ন জটিলতার কারণে ১০৪টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য অনুপযুক্ত। যার মধ্যে ৭৯টি আইনি বিরোধ, ১৮টি সীমানা-সংক্রান্ত সমস্যা এবং সাতটি ভোটার তালিকা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে স্থগিত রয়েছে।

১২ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে ৩ মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত এফ-৩৫, এফ-১৫ ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা। তাদের দাবি, দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ঘাঁটির একাধিক স্থাপনায় সফল আঘাত হানা হয়েছে।

এই হামলার দাবি আসে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের পরপরই। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, রাডার ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এর জবাবে ইরান জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করে।

তবে ইরানের এই দাবির স্বাধীন কোনো যাচাই এখনো পাওয়া যায়নি। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আল-আজরাক এলাকায় ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা ভূপাতিত করেছে এবং এতে কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নেই। একইভাবে মার্কিন কর্মকর্তারাও অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছেন।

হরমুজ প্রণালী বন্ধের আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জের ধরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। হরমুজ বন্ধের আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। আজ বৃহস্পতিবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

বিশ্ববাজারে মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে এক ডলারেরও বেশি বেড়েছে। ব্রেন্ট তেলের ভবিষ্যৎ মূল্য ১ দশমিক ৪৮ ডলার বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৪ দশমিক ৫৮ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৭১ ডলার বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯১ দশমিক ৭৪ ডলারে ওঠে। দিনের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের ভবিষ্যৎ মূল্য ৩ ডলারেরও বেশি বৃদ্ধি পায়।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। এ আশঙ্কায় বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যৎ সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো শান্তি চুক্তি না হলে আরও হামলা চালানো হবে। এর জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুশিয়ারি দেয়, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

৯০ দিনের জ্বালানি মজুদের উদ্যোগ

দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে এবার ন্যূনতম ৯০ দিনের কৌশলগত জ্বালানি তেল মজুদ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা, যুদ্ধ, সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্ন ও বৈদেশিক মুদ্রার চাপের মতো ঝুঁকি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ এ উদ্যোগ নিয়েছে।

এর আওতায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানো, নতুন স্টোরেজ নির্মাণ, ভূগর্ভস্থ মজুতের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং রেলওয়ে ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আলাদা জ্বালানি মজুত গড়ে তোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতের বৈশ্বিক সংকটেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও স্থিতিশীল ও নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা। জ¦ালানি বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ নিজস্ব চাহিদার অধিকাংশ পরিশোধিত ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের জ্বালানি সরবরাহে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৮০ লাখ টন জ¦ালানি তেলের চাহিদা, যার অধিকাংশই আমদানিনির্ভর।

২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। একই সময়ে ডলার সংকট ও আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের ওপরও চাপ তৈরি হয়। তখন জ্বালানি খাতে ব্যয় মেটানো এবং পর্যাপ্ত মজুত ধরে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বিশ্বের অনেক দেশ ইতোমধ্যে কৌশলগত জ্বালানি মজুত গড়ে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো কয়েক মাসের চাহিদা পূরণের সক্ষমতা রেখে তেল সংরক্ষণ করে। এর উদ্দেশ্য হলোÑ জরুরি পরিস্থিতিতে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা। বাংলাদেশে এতদিন এ ধরনের পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত মজুত নীতিমালা ছিল না।

বর্তমান মজুত সক্ষমতা কত

বাংলাদেশে জ্বালানি তেল সংরক্ষণের প্রধান দায়িত্বে রয়েছে বিপিসি এবং এর অধীনস্থ তিন তেল বিপণন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানি। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন ডিপো, অয়েল ইনস্টলেশন ও বিপণন কোম্পানির ট্যাঙ্কে জ্বালানি তেল সংরক্ষণ করা হয়। তবে দেশের মোট সংরক্ষণ সক্ষমতা এখনও আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় সীমিত বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। বর্তমানে গড়ে ১৫ থেকে ২৫ দিনের জ¦ালানি তেল মজুত সক্ষমতা রয়েছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখন বিদ্যমান ট্যাঙ্কের পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত বা অতিরিক্ত সংরক্ষণ সুবিধাও ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বিপিসি, বাংলাদেশ রেলওয়ে, সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিটিকে ৯০ দিনের রোডম্যাপ প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ‘জাস্ট-ইন-টাইম’ আমদানি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল ছিল। অর্থাৎ প্রয়োজন অনুযায়ী, নিয়মিত আমদানি করে সরবরাহ বজায় রাখা হতো। কিন্তু কয়েকটি কারণে এ পদ্ধতির ঝুঁকি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে; যার মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের বাজারের অস্থিরতা, বৈশ্বিক তেলের মূল্যবৃদ্ধি; ডলার সংকট; জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন; ভূরাজনৈতিক সংঘাত; অভ্যন্তরীণ আর্থিক সংকট। প্রাকৃতিক দুর্যোগে সরবরাহ ব্যবস্থায়ও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারী এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা সামনে আসে। তখনই দেশে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়।

সরকারের নতুন পরিকল্পনা

জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের নির্দেশনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। দেশে ন্যূনতম তিন মাসের জ্বালানি তেল মজুত নিশ্চিত করতে একটি পৃথক নীতিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে নতুন স্টোরেজ নির্মাণের জন্য উপযুক্ত জায়গা চিহ্নিত করতে বলা হয়। আন্ডারগ্রাউন্ড স্টোরেজ ট্যাঙ্ক নির্মাণের সম্ভাবনা যাচাইয়ে বিস্তারিত ফিজিবিলিটি স্টাডি করার উদ্যোগ নিতে বলা হয়। প্রসঙ্গত, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কৌশলগত মজুতের জন্য ভূগর্ভস্থ গুহা বা ট্যাঙ্ক ব্যবহৃত হয়; যা যুদ্ধ বা দুর্যোগের সময় তুলনামূলক নিরাপদ থাকে। মোংলা অয়েল ইনস্টলেশনের ট্যাঙ্ক সংস্কার করে সেখানে অধিক পরিমাণ জ্বালানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। নির্মাণাধীন ও সংস্কারাধীন ট্যাংকগুলো দ্রুত ব্যবহার উপযোগী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিপণন কোম্পানিগুলোকে নিজস্ব সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিতে বলা হয়।

রেলওয়ে ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভূমিকা

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ রেলওয়েকে তাদের নিজস্ব চাহিদার কমপক্ষে এক মাসের জ্বালানি মজুত রাখতে হবে। অন্যদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী, ন্যূনতম দুই মাসের জ্বালানি সংরক্ষণ করতে হবে। এতে জাতীয় পর্যায়ের মোট মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছে, তিন মাসের কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা সহজ কাজ নয়। অতিরিক্ত তেল কিনে সংরক্ষণ করতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে এ ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া বৃহৎ আকারের ট্যাঙ্ক, পাইপলাইন, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও পরিবহন অবকাঠামো গড়ে তুলতে সময় লাগবে। নতুন স্টোরেজ নির্মাণের জন্য উপযুক্ত জায়গা নির্বাচনও বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষিত জ্বালানির মান বজায় রাখা এবং কার্যকর রোটেশন ব্যবস্থা চালু করাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দরকার দক্ষ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন, শিল্প ও কৃষি খাত জ্বালানি তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে যে কোনো অস্থিরতা দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে তিন মাসের কৌশলগত জ্বালানি মজুত গড়ে তোলার উদ্যোগকে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জ্বালানি বিভাগ ইতোমধ্যে বিপিসিকে কৌশলগত মজুত নীতিমালার খসড়া প্রস্তুত করে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক সংকট, যুদ্ধ, সরবরাহ বিঘ্ন কিংবা বৈদেশিক মুদ্রার চাপের মধ্যেও বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে নিরাপদ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখতে সক্ষম হবে।

নতুন করদাতা খোঁজার বড় মিশনে নামছে সরকার

অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বাড়াতে সরকার আগামী অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্য অর্জনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) করভিত্তি সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি রোধ এবং রাজস্ব ব্যবস্থায় পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন নিশ্চিত করার মাধ্যমে নতুন করদাতা শনাক্ত ও করের আওতায় আনার একটি বড় মিশন হাতে নিচ্ছে সংস্থাটি। তবে অনেক ক্ষেত্রে করছাড় ও বিশেষ সুবিধাও থাকছে।

আজ বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য যে বাজেট প্রস্তাব করতে যাচ্ছেন, তাতে কর ও ভ্যাটের আওতা বাড়ানোর নানা প্রস্তাব থাকবে। এর অংশ হিসেবে ব্যবসায়-সংক্রান্ত ব্যাংক হিসাব খোলা, ব্যাংক ঋণ গ্রহণ এবং ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ভ্যাট নিবন্ধন বা বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হতে পারে।

জানা গেছে, সাধারণ ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন দাখিল বাধ্যতামূলক করা এবং খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহের ওপর শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ অগ্রিম কর সংগ্রহের মাধ্যমে পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেন্ট্রাল ডেটা ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে এনবিআরের তথ্যভান্ডারকে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক, ইউটিলিটি সেবা, ভূমি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় এসব বিষয়ে ঘোষণা থাকছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ক্ষুদ্র করভিত্তি ও কর ফাঁকির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তুলতে করভিত্তি সম্প্রসারণ এবং পদ্ধতিগত সংস্কারের কোনো বিকল্প

নেই। এ লক্ষ্যে এনবিআর সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নেবে। এসব বহুমুখী পদক্ষেপ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের করদাতার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও টেকসই ভিত্তি পাবে বলে আশা করছে এনবিআর।

আগামী ৫ বছরের জন্য একটি পূর্বানুমানযোগ্য প্রগতিশীল কর কাঠামো ঘোষণা করবেন অর্থমন্ত্রী, যাতে করদাতারা ভবিষ্যতে তাদের করের বোঝা সম্পর্কে নিশ্চিত থাকতে পারেন। ব্যক্তি এবং কোম্পানি উভয় ক্ষেত্রে ২০২৬-২৭ থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত করহারের প্রস্তাব করবেন অর্থমন্ত্রী।

ব্যবসায়িক লেনদেনে বাধ্যতামূলক হবে ‘বিন’
ভ্যাটের জাল বিস্তার করতে সরকার নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ব্যবসায় শনাক্তকরণ সংখ্যা বা বিন উপস্থাপন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব বাজেটে থাকছে। এর মধ্যে রয়েছে–যেকোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব বা এসটিডি হিসাব খোলা ও পরিচালনা, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন এবং আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক হিসেবে নিবন্ধন, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলা, বাণিজ্যিক সংগঠনের সদস্যপদ গ্রহণ বা নবায়ন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ গ্রহণ এবং বিআরটিএ থেকে বাণিজ্যিক যানবাহনের নিবন্ধন গ্রহণ।

ব্যাংক হিসাব খোলা ও সরকারি সেবায় টিআইএন
নতুন করদাতা শনাক্তে টিআইএন ব্যবহারের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে এনবিআর। এক্ষেত্রে স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্ট ও নো-ফ্রিলস অ্যাকাউন্ট ছাড়া অন্য যেকোনো ব্যাংক হিসাব খোলার সময় টিআইএন সনদ দাখিল বাধ্যতামূলক হবে। এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া, জমি কেনাবেচা এবং নির্দিষ্ট কিছু পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যপদ লাভের ক্ষেত্রেও টিআইএন ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকছে।

খুচরা পর্যায়ে কর আদায়ের নতুন কৌশল
সরকার করভিত্তি সম্প্রসারণের জন্য নতুন বাজেটে অর্থমন্ত্রী উৎপাদক, আমদানিকারক বা পরিবেশকদের কাছ থেকে খুচরা বিক্রেতারা যখন পণ্য কিনবেন, তখন সরবরাহ মূল্যের ওপর শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ অগ্রিম আয়কর সংগ্রহের প্রস্তাব করতে পারেন। এর ফলে খুচরা বিক্রেতাদের লেনদেনের তথ্য এনবিআরের কাছে চলে আসবে, যা নতুন করদাতা শনাক্ত করতে সহায়তা করবে।

সেন্ট্রাল ডেটা ইন্টিগ্রেশন ও ডিজিটাল নজরদারি
এনবিআর তার তথ্যভান্ডারকে অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত করারও একটি বড় ও উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নেবে। এর অংশ হিসেবে সেন্ট্রাল ডেটা ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক লেনদেন, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির বিল এবং সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের তথ্য এনবিআরের সিস্টেমে চলে আসবে।

এনবিআর চাইলে যেকোনো কর্তৃপক্ষ বা ব্যক্তিকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্যের এক্সেস দিতে বাধ্য করতে পারবে–এমন ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাবও বাজেটে থাকবে বলে জানা গেছে। তামাক পণ্যের অবৈধ বাণিজ্য রোধে ‘ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস’ পদ্ধতি চালুরও প্রস্তাব করা হয়েছে।

স্টক ডিভিডেন্ড ও সংরক্ষিত আয়ের কর
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি স্টক ডিভিডেন্ড ও সংরক্ষিত আয়ের (রিটেইন্ড আর্নিংস) ওপর কর ওপর করারোপ আরও বাড়াতে চায় সরকার। এক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য যেকোনো কোম্পানি যদি নগদ লভ্যাংশের পরিবর্তে স্টক ডিভিডেন্ড বা বোনাস শেয়ার ঘোষণা করে, তবে সেই স্টক ডিভিডেন্ডের ওপর ১০ শতাংশ হারে কর প্রদানের প্রস্তাব করা হচ্ছে।

এ ছাড়া কোনো কোম্পানি যদি তার কর-পরবর্তী নিট মুনাফার অন্তত ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ হিসেবে না দেয়, তবে অর্জিত নিট মুনাফার বিপরীতে রাখা সংরক্ষিত আয়, তহবিল বা উদ্বৃত্তের ওপর ১০ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর আরোপের বিধান রাখা হচ্ছে।

স্বর্ণ ব্যবসাকে আনুষ্ঠানিক খাতে আনার উদ্যোগ 
উৎসে করের উচ্চ হারের কারণে স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকারের বাজার অনানুষ্ঠানিক থাকায় সরকার এই খাত থেকে তেমন রাজস্ব পায় না। এবার স্বর্ণ সরবরাহে উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হতে পারে, যাতে ব্যবসায়ীরা আনুষ্ঠানিক খাতে আসতে আগ্রহী হন। জুয়েলারি খাতে ভ্যাট নির্ধারণে বড় পরিবর্তন এনে ৫ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে প্রতি ভরিতে ২ হাজার ৫০০ টাকা নির্দিষ্ট হারে ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হতে পারে।

তরুণ ও নতুন উদ্যোক্তাদের করজালে আনতে ছাড়
নতুন উদ্যোক্তাদের করের আওতায় আনতে কর ছাড়ের প্রণোদনাকেও হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে এনবিআর। এক্ষেত্রে স্টার্টআপ, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের সম্পূর্ণ ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত।

আয়করের ক্ষেত্রে স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ব্যবসায় টার্নওভার ট্যাক্স শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করা হতে পারে। আইটি ফ্রিল্যান্সিং থেকে সম্প্রসারিত করে সব ধরনের ফ্রিল্যান্সিং আয়ে কর অব্যাহতি দেওয়া এবং সব ধরনের কনটেন্ট ক্রিয়েশন থেকে আয়কে করমুক্ত করার প্রস্তাব করা হতে পারে।

সীমিত সম্পদের মধ্যে মানুষকে স্বস্তি দিতেই এবারের বাজেট: অর্থমন্ত্রী

সীমিত সম্পদের মধ্যে দেশের সব মানুষকে স্বস্তি দিতেই সরকার এবারের বাজেট করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের রূপরেখা তুলে ধরতে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনে পৌঁছে অর্থমন্ত্রী এ কথা জানান।

এর আগে বাজেট অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমানের উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেটের সব বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে।

এবারের বাজেটের প্রেক্ষাপটও কিছুটা ভিন্ন উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন পর একটি নির্বাচিত সরকারের অধীনে জাতীয় বাজেট উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে। ফলে জাতির প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাও অনেক বেশি। সেই প্রত্যাশা, চিন্তা-ভাবনা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বাজেট প্রণয়নের চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যতটুকু সামর্থ্য রয়েছে, তার মধ্যেই বাজেট করতে হয়েছে। একটি বিধ্বস্ত ও ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে দেশকে স্থিতিশীলতার পথে নিয়ে গিয়ে আগামী দিনে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি প্রচেষ্টা এই বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে।

এ বাজেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দেশের সব নাগরিককে এর অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে, যোগ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতীয় ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে সবাই যাতে অংশ নিতে পারে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল যেন সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের লক্ষ্য নিয়েই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। সীমিত সম্পদের মধ্যেও সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এই বাজেট বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।

বিনা প্রশ্নে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে

অবশেষে কোনো প্রশ্ন করা ছাড়াই সুনির্দিষ্ট খাতে কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত অর্থ সাদা করার সুযোগ দিতে যাচ্ছে সরকার। বিশেষ করে আবাসন খাতে জমি, বিল্ডিং বা ফ্ল্যাট কেনাবেচার ক্ষেত্রে দলিল মূল্যের চেয়ে প্রকৃত মূল্য বেশি হলে স্বপ্রণোদিত হয়ে ঘোষণা দিলে অপ্রদর্শিত অতিরিক্ত অর্থ নিয়মিত কর দিয়ে বৈধ করা যাবে।

ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের ক্ষেত্রেই এই সুবিধা থাকবে।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এমন সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রাখতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। এ জন্য অর্থবিলে আলাদা একটি ধারা সংযুক্ত হতে যাচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ধারাটি যুক্ত করার প্রস্তাব পাস হলে কোনো করদাতার জমি, ভবন বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনাবেচার প্রকৃত মূল্য দলিল মূল্যের চেয়ে বেশি হলে তিনি ওই অপ্রদর্শিত অর্থের ওপর ব্যক্তি শ্রেণির জন্য প্রযোজ্য নিয়মিত করহারে আয়কর পরিশোধ করতে পারবেন। অর্থ আইন বা বাংলাদেশে প্রচলিত অন্য কোনো আইনে যাই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তি স্বপ্রণোদিত হয়ে এই কর পরিশোধ করলে সে বিষয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন বা কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না।

জানা গেছে, যদি অর্থ আইনের অধীনে কোনো ব্যক্তির এ ধরনের বিষয়ে কোনো কার্যক্রম ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়ে থাকে তাহলে অতিরিক্ত ক্রয় বা বিক্রয়মূল্যের ওপর প্রযোজ্য করের সঙ্গে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ কর পরিশোধ করতে হবে। এ ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রমের জন্য আদালতে আগে থেকেই দোষী প্রমাণিত হওয়া কোনো ব্যক্তি এই ধরনের সুবিধা পাবেন না।

আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ করার সুযোগ দিলে টাকা পাচার কমে আসবে। অচল মূলধন অর্থনীতির মূলধারায় ফিরবে। ফলে স্থবিরতা কাটবে বেসরকারি বিনিয়োগে।

এ বিষয়ে আবাসন খাতের সংগঠন রিহ্যাবের সভাপতি ড. আলী আফজাল সমকালকে বলেন, রিহ্যাবের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট এবং সময়োপযোগী। অর্থনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন খাতে যে বিপুল পরিমাণ অপ্রদর্শিত বা অলস অর্থ জমে আছে, সেগুলোকে উৎপাদনশীল খাতে প্রবাহিত করার বাস্তব সুযোগ তৈরি করা জরুরি। আবাসন শিল্প এমন একটি খাত, যেখানে বিনিয়োগ দ্রুত অর্থনৈতিক চক্রে ফিরে এসে নির্মাণ শিল্প, ইস্পাত, সিমেন্ট, সিরামিক, পরিবহনসহ অসংখ্য লিংকেজ শিল্পকে সক্রিয় করে তোলে।

তিনি বলেন, সরকার যদি স্বচ্ছ নীতিমালার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে অপ্রদর্শিত অর্থ আবাসন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়, তাহলে তা একদিকে যেমন রিয়েল এস্টেট বাজার গতিশীল হবে, অন্যদিকে সামগ্রিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে আবাসন সংকট মোকাবিলা, নগর উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয় বলে মনে করেন আলী আফজাল। তাঁর মতে, দীর্ঘ মেয়াদে এমন করব্যবস্থা প্রয়োজন, যেখানে করহার যৌক্তিক হবে, কর প্রদান সহজ হবে এবং মানুষ স্বেচ্ছায় কর প্রদানে উৎসাহিত হবে। করের বোঝা অতিরিক্ত হলে মানুষ কর ফাঁকির পথ খোঁজে, কিন্তু করহার যৌক্তিক হলে রাজস্ব আদায়ও বাড়ে এবং অপ্রদর্শিত অর্থ সৃষ্টির প্রবণতাও কমে।

তবে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়াকে অসাংবিধানিক, দুর্নীতি সহায়ক ও বৈষম্যমূলক বলে মনে করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। জানতে চাইলে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সমকালকে বলেন, এমন সুযোগ দেওয়ার অর্থ হচ্ছে, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতিকে আইনগত সুরক্ষা দেওয়া ও বিচারহীনতার শামিল। তিনি বলেন, আবাসন খাতে ব্যবসায় স্থবিরতা দূর, শিল্প খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার অজুহাতে এ জাতীয় দুর্নীতি সহায়ক সুযোগ দেওয়া সরকারের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে। এমন সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতি ও অনিয়মকে স্বাভাবিকতায় পরিণত করার সমান মন্তব্য তিনি এই সুযোগ চিরতরে বন্ধ করার আহ্বান জানান।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ সমকালকে বলেন, যদি এই সুযোগ দিতেই হয়, তবে দুর্নীতি বা অন্যায়ের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থকে কোনোভাবেই সাদা করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। কিন্তু যারা নানা কারণে রিটার্নে তার অর্থ দেখাতে পারেননি, তাদের এই সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ, বৈধ পথে উপার্জিত কিন্তু কর ফাঁকি দেওয়া অর্থকে নিয়মিত করের চেয়ে কিছুটা বেশি হারে কর ও জরিমানা দিয়ে সাদা করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।

তিনি বলেন, আবাসন বা স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে কালো টাকা রোধ করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো মৌজা রেট বা সরকারি নির্ধারিত মূল্যকে বাজারমূল্যের কাছাকাছি নিয়ে আসা। এর জন্য বাজারভিত্তিক একটি নির্দিষ্ট ফর্মুলা তৈরি করে সময় সময় তা হালনাগাদ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।