Home Blog Page 11

সরকারকে জামায়াত আমির শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধার পূর্ণাঙ্গ তালিকা করুন

শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা হলো না। শুনেছি, স্বল্প সংখ্যক শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পান। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সামনে আনতে হবে; এটা সরকারের দায়িত্ব।  উদ্যোগ নিন, পরিবারগুলোকে স্বীকৃতি দিতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ওয়ান ইনিশিয়েটিভ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের প্রকাশিত ‘আজাদী সংগ্রামের পটভূমিতে জুলাই বিপ্লব ২০২৪’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

জামায়াত আমির বলেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে রাজনীতিবিদদের কণ্ঠে যে সুর ছিল, তা আস্তে আস্তে বদলে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির পর তা ব্যাপকভাবে বদলে গেছে। একটি বিশেষ রাজনৈতিক মহল নতুন বয়ান তৈরি করছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করছেন জামায়াত আমির। তিনি বলেছেন, গণভোটে ৭০ ভাগ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে। সরকারি দল তা মানবে না, হতে পারে না। মানতেই হবে। ইনশাআল্লাহ, মানতে বাধ্য করা হবে।

সরকারকে প্রতি হুঁশিয়ার করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের গায়ে হাত দেবেন না। যাঁদের কারণে আজ আপনারা সরকারে, সেই জুলাই যোদ্ধাদের চোখগুলো কেড়ে নেবেন না, হাত-পা ভাঙবেন না, এক ফোঁটাও রক্ত ঝরাবেন না। যদি রক্ত ঝরান, এটি অবশ্যই চরম নিমকহারামি হবে।

জ্বালানি গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের উন্নতি নেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় লোডশেডিং

দেশজুড়ে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের তেমন উন্নতি হয়নি। কক্সবাজারের মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনাল বন্ধ থাকার প্রভাব এখনও কাটেনি। জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কম থাকায় চাহিদামতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় লোডশেডিং অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে আবাসিক এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ, শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভোগান্তিও কমেনি।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, বর্তমানে লোডশেডিং এবং জ্বালানি সংকট সমাধানে সরকার সচেষ্ট। এ ব্যাপারে সরকার কাজ করছে। আশা করি, দ্রুতই সমাধান হবে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় ১৫ হাজার ৯৫৯ মেগাওয়াট। ওই সময়ে লোডশেডিং হয়েছে দুই হাজার ২৮৮ মেগাওয়াট। তবে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। গত সোমবার রাত ১২টায় ১৬ হাজার ৬৩৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে লোডশেডিং দাঁড়ায় তিন হাজার ২৩২ মেগাওয়াটে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের এক প্রকৌশলী সমকালকে বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে দৈনিক প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেত। বর্তমানে তা কমে প্রায় ৭০ কোটি ঘনফুটে নেমেছে। রোববার বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ৬৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস। এতে কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ড ও কারিগরি ত্রুটির পর একটি টার্মিনাল বন্ধ রয়েছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে। বর্তমানে দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ২১৫ কোটি ঘনফুটে, যা দৈনিক চাহিদার চেয়ে অনেক কম।

পেট্রোবাংলার একটি সূত্র জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালটির বয়লার মেরামত শেষ হয়েছে, তবে এখনও পরীক্ষামূলক চালানো হয়নি। আজকালের মধ্যে এটি পরীক্ষা করা হতে পারে। এই সংকটে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে শিল্পাঞ্চলে। গাজীপুর, সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও ফতুল্লার গ্যাসনির্ভর কারখানাগুলোতে প্রয়োজনীয় ১৫ পিএসআই চাপের বদলে মিলছে ২ থেকে ৩ পিএসআই। ফলে টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, স্পিনিং ও সিরামিক শিল্পে উৎপাদন সক্ষমতা অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। অনেক কারখানা দিনের বদলে রাতে উৎপাদন চালানোর চেষ্টা করছে। নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি পণ্য পাঠাতে না পেরে অতিরিক্ত ব্যয়ে উড়োজাহাজে পণ্য পাঠাতে হচ্ছে। শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ ও বিটিএমএ দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছে।

পরিবহন খাতেও সংকটের প্রভাব স্পষ্ট। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে এখনও দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। অনেক চালক রাতভর অপেক্ষা করেও ২০০ থেকে ৩০০ টাকার গ্যাস সংগ্রহ করতে পারছেন। এতে সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও বাসের সংখ্যা কমে গেছে। যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক এলাকায় বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
আবাসিক গ্রাহকদের দুর্ভোগও কমেনি। দিনের বড় একটি সময় চুলায় গ্যাস না থাকায় অনেক পরিবার হোটেলের খাবারের ওপর নির্ভর করছে। কেউ কেউ বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার শুরু করলেও লোডশেডিংয়ের কারণে সেটিও নিয়মিত ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে গ্যাস ও বিদ্যুতের যুগপৎ সংকট সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

চট্টগ্রামেও বাড়ছে লোডশেডিংয়ের দুর্ভোগ
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানিয়েছে, বন্দরনগরী চট্টগ্রামেও বিদ্যুতের ঘাটতি বেড়েছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, অফিস, আদালত–সবখানেই এর প্রভাব পড়ছে।

নগরীর আরকান হাউজিং সোসাইটির বাসিন্দা জেসমিন আক্তার বলেন, বিদ্যুৎ একবার গেলে এক থেকে দুই ঘণ্টার আগে আসে না। প্রচণ্ড গরমে ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।
পিডিবির কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় গ্রিড থেকেই চাহিদার চেয়ে কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। সোমবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে চাহিদা ছিল প্রায় এক হাজার ২৫০ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ পাওয়া গেছে ৯৫০ মেগাওয়াট। প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি কর্মকর্তারা।

 

বজ্রপাত ঠেকাতে প্রকল্পের পর প্রকল্প, নেই সুফল

বজ্রপাতে মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। এই জুনের প্রথম তিন সপ্তাহে বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন ৮৫ জন। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই মৃতের সংখ্যা দুই শতাধিক ছাড়িয়েছে। গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান বলছে, দেশে বছরে গড়ে প্রায় ৩০০ জন বজ্রপাতে মারা যান। অথচ নব্বইয়ের দশকে এই সংখ্যা ছিল গড়ে মাত্র ৩০ জন।

বজ্রপাতকে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৬ সালে। এরপর প্রাণহানি কমাতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নেওয়া হয়েছিল একের পর এক প্রকল্প। ৪০ লাখ তালগাছ রোপণ, বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন, আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার সেন্সর বসানোসহ সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে শত শত কোটি টাকা। তবে মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অধিকাংশ প্রকল্পই কার্যত ভেস্তে গেছে। কোথাও গাছের অস্তিত্ব নেই, কোথাও যন্ত্র অকেজো, আবার কোথাও প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে হয়েছে অনিয়ম ও অপচয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বজ্রপাত এখন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের অন্যতম প্রাণঘাতী দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। তবে বিজ্ঞানভিত্তিক ও কার্যকর পদক্ষেপের বদলে লোকদেখানো প্রকল্পের কারণে পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি।

৪০ লাখ তালগাছের প্রকল্পে নেই গাছ
বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণার পর ২০১৭ সালে কাবিখা ও টিআর কর্মসূচির আওতায় সারাদেশে ৪০ লাখ তালগাছের চারা রোপণের উদ্যোগ নেয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। এতে খরচ হয় প্রায় ১০০ কোটি টাকা। সরকারের যুক্তি ছিল, তালগাছের উচ্চতা ও গঠন বজ্রপাত মাটিতে নামিয়ে আনতে সহায়ক হবে। তবে দুই বছর না যেতেই দেখা যায় অধিকাংশ চারা নষ্ট হয়ে গেছে। কোথাও গবাদি পশু খেয়ে ফেলেছে, কোথাও পরিচর্যার অভাবে মরে গেছে। আবার কোথাও চারা না লাগিয়েই টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।

রাজশাহীতে ২০১৭ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ১৪ লাখ তালবীজ রোপণ করা হয়েছিল। খরচ হয়েছিল দুই কোটি ২০ লাখ টাকা। এখন সড়কের পাশে সেই গাছের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে।

রংপুর বিভাগের আট জেলায় দুই লাখের বেশি তালগাছের চারা ও বীজ রোপণে খরচ হয়েছিল ছয় কোটির বেশি টাকা। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, ৯৫ শতাংশ গাছই টেকেনি।
সুনামগঞ্জে ২০১৮ সালে এক লাখ এবং পরে আরও দুই হাজার তালগাছ লাগানোর কথা বলা হলেও মাঠ পর্যায়ে সেগুলোর অস্তিত্ব পাওয়া যায় না।

নেত্রকোনায় দুই লাখের বেশি তালগাছ লাগানোর কথা বলা হয়েছিল। স্থানীয় কৃষিবিদ ও বাসিন্দাদের ভাষ্য, সেই গাছগুলোরও কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। গাইবান্ধা, নেত্রকোনা, ঠাকুরগাঁওসহ বিভিন্ন জেলায় একই চিত্র পাওয়া গেছে।

কোটি টাকার বজ্রনিরোধক দণ্ড, অধিকাংশই অচল
তালগাছ প্রকল্প ব্যর্থ হওয়ার পর সরকার বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। ২০২১-২২ অর্থবছরে ১৫টি বজ্রপাতপ্রবণ জেলায় ৩৩৬টি বজ্রনিরোধক দণ্ড বসানোর জন্য সাড়ে ১৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা বলছে, এসব দণ্ডের বড় অংশই ঝুঁকিপূর্ণ কৃষিজমি বা হাওরে না বসিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, বাজার কিংবা মুজিবপল্লিতে বসানো হয়েছে।
সুনামগঞ্জে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এক কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৮টি দণ্ড স্থাপন করা হয়। সরেজমিন দেখা গেছে, সেই দণ্ড কোথায় আছে স্থানীয় লোকজনই জানেন না। বেশির ভাগ বজ্রনিরোধক দণ্ডের রক্ষণাবেক্ষণও হয় না। বগুড়ায় ২০২১ সালে প্রায় এক কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে ২১টি যন্ত্র বসানো হয়েছিল। এসবের ১৯টিই অকেজো বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

নেত্রকোনায় ২০২২ সালে স্থাপন করা ৩২টি দণ্ডের অধিকাংশই কার্যকারিতা হারিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ হাওরাঞ্চলের বদলে তুলনামূলক নিরাপদ এলাকায় বসানো হয়েছিল সেগুলো।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা বজ্রনিরোধক দণ্ডের যন্ত্রাংশ বসানোর ছয় মাসের মধ্যে চুরি হয়ে যায়।
বজ্রপাতের আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার জন্য ২০১৮ সালে ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের আটটি স্থানে ‘লাইটনিং ডিটেকশন সেন্সর’ স্থাপন করে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এই সেন্সরগুলো বজ্রপাতের ১০ থেকে ৩০ মিনিট আগে সতর্কবার্তা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট সংযোগ ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন অধিকাংশ সেন্সর কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

ব্যতিক্রমী উদ্যোগ কৃষক ছাউনি
সরকারি প্রকল্পগুলোর ব্যর্থতার মধ্যেও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে একটি ছোট উদ্যোগ আলোচনায় এসেছে। ২০২০ সালে উপজেলার শিবরাম গ্রামে প্রায় ৩৮ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় একটি কৃষক ছাউনি। ঝড়বৃষ্টি বা বজ্রপাতের সময় কৃষকরা সেখানে আশ্রয় নিতে পারেন।
স্থানীয় কৃষক আল আমিন বলেন, ‘আগে বৃষ্টি এলেই মাঠে আতঙ্কে থাকতাম। এখন অন্তত আশ্রয় নেওয়ার একটা জায়গা আছে।’
সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা বলেন, তালগাছ বড় হতে কয়েক দশক সময় লাগে। কিন্তু কৃষক ছাউনি দ্রুত নির্মাণ করা সম্ভব এবং তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণহানি কমাতে কার্যকর হতে পারে।

আবারও নতুন প্রকল্প
পুরোনো প্রকল্পগুলোর ব্যর্থতার মধ্যেই নতুন করে উদ্যোগ নিচ্ছে বর্তমান সরকার। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সম্প্রতি সংসদে জানিয়েছেন, হাওরাঞ্চলে সাইরেন স্থাপন, শক্তিশালী টাওয়ার নির্মাণ এবং কৃষকদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা চলছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুস ছোবহান জানান, আগে এক হাজার ৩০০ কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছিল। কমিশনের পরামর্শে সেটি ছোট পরিসরে পুনর্গঠন করা হচ্ছে।

তবে নতুন উদ্যোগ নিয়েও আশাবাদী নন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ গওহার নঈম ওয়ারা। তিনি বলেন, আগের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের নামে লুটপাট হয়েছে। সরকার বদলেছে, কিন্তু প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত অনেক কর্মকর্তা একই রয়েছেন। ফলে জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে নতুন প্রকল্পও ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি আছে।

কাঙ্ক্ষিত বিচারের আশায় শহীদ পরিবার

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ৪ আগস্টের ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী ঘটনার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সিরাজগঞ্জে এখনও কাটেনি শোকের ছায়া, মেলেনি প্রত্যাশিত ন্যায়বিচার। ২০২৪ সালের এই দিনে আওয়ামী লীগ, পুলিশ ও ছাত্র-জনতার ত্রিমুখী সংঘর্ষে সাংবাদিক, শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষসহ অনেকে প্রাণ হারান। ঘটনার দুই বছর পার হলেও এখনও উদ্ধার হয়নি খোয়া যাওয়া সব বৈধ অস্ত্র এবং ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে মামলার প্রধান প্রধান এজাহারভুক্ত আসামিরা।

এসব ঘটনায় পরে সরকারি গেজেটে ১৩ শহীদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ছিলেন এনায়েতপুরের কলেজ শিক্ষার্থী শিহাব হোসেন, মাদ্রাসা শিক্ষার্থী সায়েম হোসেন এবং তাঁত শ্রমিক ইয়াহিয়া আলীসহ একাধিক বীর আন্দোলনকারী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৪ আগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলায় দায়ের হওয়া ৯টি মামলার মধ্যে আলোচিত যুবদল নেতা সোহানুর রহমান রঞ্জু, সুমন শেখ ও আব্দুল লতিফ হত্যা মামলাসহ তিনটি মামলার চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। তবে বাকি ছয়টি মামলা এখনও তদন্তাধীন।

সংঘর্ষের দুই বছর অতিবাহিত হলেও চিকিৎসাধীন আহতদের অনেকে স্থায়ী পঙ্গুত্ববরণ করে চরম মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে স্বজনহারা পরিবারগুলোর মাঝে এখনও চলছে কান্নার রোল। শহীদ পরিবারের একটাই দাবি– প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
এদিকে ১৪ পুলিশ সদস্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এনায়েতপুর থানায় নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
এনায়েতপুর থানার ওসি জাহিদ হোসেন জানান, বেলকুচি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. শহিদুল হাসান এই মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে গেজেটভুক্ত ১৩ শহীদকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণে আজ (৫ আগস্ট) নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, বাজার স্টেশন স্বাধীনতা স্কয়ারের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনা সভা ও শহীদ স্বজনের সংবর্ধনা প্রদান, চিত্র প্রদর্শনী এবং বিশেষ প্রার্থনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্মারক অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

পুলিশের এ কেমন তদন্ত পিস্তল লোটেন সবুজ, ফাঁসলেন মানিক-কামাল

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ইপিজেড থানার পিস্তল লুট করেও তদন্তের ফাঁকফোকরে বেঁচে গেছেন মূল অভিযুক্ত মো. সবুজ। আর লুটের পিস্তল সবুজের কাছ থেকে এনে নিজেদের কাছে রেখে ফেঁসে গেলেন নাহিদ হাসান মানিক ও মো. কামাল। তারা দুজন সবুজের গ্রামের বাড়ি, চট্টগ্রাম শহরে ঠিকানা এবং মোবাইল ফোন নম্বরের তথ্য দিলেও ডিবি পুলিশ খুঁজেই পায়নি সবুজকে!
দায়সারা তদন্ত করে পিস্তল জমা রাখা মানিক-কামালকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। সঠিক নাম-ঠিকানা খুঁজে পাওয়া যায়নি– এমন অজুহাতে মূলহোতা সবুজকে তদন্তের বাইরে রাখা হয়।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অগ্নিসংযোগের মধ্যে ইপিজেড থানা থেকে পুলিশের বিদেশি পিস্তল লুট করেন মো. সবুজ। লুটের পিস্তলটি মানিক নামে এক বন্ধুর কাছে জমা রাখেন তিনি। মানিক কিছুদিন সেটি নিজের হেফাজতে রাখেন। নিষ্ক্রিয় পুলিশ সক্রিয় হতেই পিস্তলটি একটি মিউজিক বক্সে করে বাগেরহাটের মোংলায় তার ভাই মো. কামালের কাছে রেখে আসেন। কামাল তিন দিন পর মিউজিক বক্সটি খুলে দেখেন সেখানে পিস্তল। ফোন করেন চট্টগ্রামের মানিককে। পিস্তলটি কয়েকটি দিন রাখার অনুরোধ করে শিগগির নিয়ে যাবেন বলে জানান মানিক। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের জালে ধরা পড়েন মানিক। তার দেওয়া তথ্যে  বাগেরহাট থেকে কামালের ঘরের আলমারি থেকে উদ্ধার করা হয় চট্টগ্রামের থানা লুটের বিদেশি চায়না পিস্তলটি। তবে পুলিশ তদন্তে নেমে বরিশালের মঠবাড়িয়ার বাসিন্দা সবুজকে ধরতে ব্যর্থ হন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মো. কামরুল হুদা বলেন, সবুজের চট্টগ্রাম শহর ও গ্রামের ঠিকানা দিলেও সুনির্দিষ্টভাবে তার অবস্থানের তথ্য দুই আসামি দিতে পারেননি। শহরের র‍্যাব-৭ গলিতে খোঁজ নিলেও এ নামে কাউকে পাওয়া যায়নি। বরিশালে খোঁজ নিয়েও এ নামে কাউকে পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া অস্ত্র মামলায় ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার বাধ্যবাধকতা থাকায় দ্রুত প্রতিবেদন দিতে হয়েছে।
আইনজীবী জাফর ইকবাল বলেন, থানা লুটের বিষয়টি স্পর্শকাতর ঘটনা। সবুজ নামে যে ব্যক্তি থানা থেকে পিস্তল লুট করল, সে যদি তদন্তের বাইরে থেকে যায়, তাহলে এটি তদন্তের বড় ত্রুটি। মূল অপরাধী তদন্তের বাইরে থেকে যাওয়া তদন্তের বড় দুর্বলতাও। মামলাটি একজন দক্ষ কর্মকর্তা দিয়ে অধিকতর তদন্ত করা উচিত।

থানা লুটে অংশ নেওয়া তিন দুর্বৃত্তই অধরা
৫ আগস্ট ইপিজেড থানা থেকে অর্ধশত অস্ত্র লুট করে দুর্বৃত্তরা। এর মধ্যে এই অস্ত্র মামলার তদন্ত করতে গিয়ে তিন দুর্বৃত্তের নাম উঠে আসে। তারা হলেন– সবুজ, ইব্রাহীম ও মমিন। তদন্তে তাদের নাম এলেও অধরা থেকে যান তারা। পুলিশ সবুজের গ্রামের বাড়ি বরিশালের মঠবাড়িয়া ও চট্টগ্রাম শহরের র‍্যাব-৭ গলির ঠিকানা পেলেও তার হদিস পায়নি। তবে মানিকের মোবাইল ফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা করে সবুজ, ইব্রাহীম ও মমিনকে শনাক্ত করা খুব জটিল কাজ ছিল না বলে মনে করেন অপরাধবিষয়ক মামলা পরিচালনা করা জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চৌধুরী আবদুল্লাহ।

দুই আসামি জবানবন্দিতে যা বললেন
চট্টগ্রাম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নাহিদ হাসান মানিক উল্লেখ করেন, ‘৫ আগস্ট ঘটনার দিন আমরা চার বন্ধু ইপিজেড থানার সামনে আসি। অন্যদের নাম সবুজ, ইব্রাহীম ও মমিন। আমি আঘাত পেয়ে বাসায় ফিরে যাই। ঘটনার দুদিন পরে সবুজ আমাকে একটি পিস্তল রাখার জন্য দেয়। পরে জানতে পারি ইপিজেড থানা থেকে পিস্তলটি এনেছে। সবুজ নগরের স্টিল মিল র‍্যাব-৭ গলির ভেতরে ভাড়া বাসায় থাকে। পিস্তলটি পাঁচ মাস আমার বাসায় রাখি। পরে আমার নিরাপত্তার জন্য পিস্তটি মিউজিক বক্সের ভেতরে করে মোংলায় আমার এক ভাইয়ের কাছে রেখে আসি। পরে ডিবি মোংলার চাঁদপাই গিয়ে কামালের বাসা থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করে।’

আরেক আসামি কামাল জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন, ‘আমি জাহাজের শ্রমিক। চার মাস আগে মানিক চট্টগ্রাম থেকে একটি মিউজিক বক্স এনে আমাকে দেয়। তিন দিন পর বক্স খুলে দেখি ভিতরে পিস্তল। বিষয়টি আমি মানিককে বললে সে আমাকে বলে, সময়মতো পিস্তলটি নিয়ে যাবে। পরে আমি পিস্তলটি মিউজিক বক্স থেকে খুলে কাঠের আলমারিতে রাখি।’

পিস্তল লুটকারী তদন্তের বাইরে
দায়সারাভাবে তদন্ত শেষ করে মানিক ও কামালকে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। সবুজের সঠিক নাম-ঠিকানা না পাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে তাকে তদন্তের বাইরে রেখে দেয়। ২২ এপ্রিল চট্টগ্রাম সিনিয়র স্পেশান জজ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদনটি জমা হয়। যদিও পুলিশের অস্ত্র লুটের মতো গুরুত্বপূর্ণ মামলায় পুলিশের দায়সারা তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীরীরা।

সমঝোতায় পৌঁছাতে এটি ইরানের ‘শেষ সুযোগ’: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে নতুন করে সামরিক সংঘাতে না গিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখতে চান বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য এটি ইরানের ‘শেষ সুযোগ’। অন্যথায় দেশটিকে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

হোয়াইট হাউসে সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ পারস্য উপসাগরীয় কয়েকটি মিত্র দেশের অনুরোধে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলা স্থগিত রেখে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে একটি সমঝোতার কাঠামোও প্রস্তুত রয়েছে।

তবে ট্রাম্পের এ দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা চলছে না। যদিও ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, ‘ইরান স্বীকার করুক বা না করুক, বহু বছর ধরে চলা এই সংকটের সমাধান নিয়ে আমরা বাস্তবেই আলোচনা করছি।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এটি তাদের জন্য একটি ভালো চুক্তিতে পৌঁছানোর শেষ সুযোগ। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগে আমি শেষবারের মতো তাদের সুযোগ দিতে চাই।’

ট্রাম্প জানান, আলোচনায় দুটি বিষয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। একটি হলো বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী আবার উন্মুক্ত করা, অন্যটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত বা নিরস্ত্রীকরণ।

এদিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ নৌযান চলাচল নিশ্চিত করতে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে ইরান। তবে ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, সমঝোতা হলেও এখনই প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাঁর ভাষায়, দুই দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা বিবেচনায় একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের দিকে এগোচ্ছে আলোচনা।

এরই মধ্যে ওমান উপকূলসংলগ্ন হরমুজ প্রণালীতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও। হামলায় হতাহতের বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। ঘটনাটি তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সৌদি মালিকানাধীন ছয়টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার আফ্রিকা ঘুরে বিকল্প পথে চলাচল শুরু করেছে। হুথিরা সতর্ক করে দিয়েছে, বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী সৌদি জাহাজগুলোকে তারা লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।

ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবরোধ বহাল থাকবে। কোনো চুক্তি না হলে বা ইরান অবস্থান পরিবর্তন না করলে দেশটিতে প্রয়োজনীয় পণ্যও পৌঁছাতে দেওয়া হবে না।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। মাঝেমধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের কথা শোনা গেলেও সংঘাত পুরোপুরি থামেনি। পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে তেহরান বরাবরের মতোই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত। খবর- সিএনএন ও এএফপি

কানাডাজুড়ে দাবানল পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক

কানাডাজুড়ে দাবানল পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে বর্তমানে প্রায় ৯০০টি দাবানল সক্রিয় রয়েছে। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৩৭ লাখ হেক্টরেরও বেশি বনভূমি আগুনে পুড়ে গেছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে অন্টারিওসহ দেশের বিভিন্ন উত্তরাঞ্চল। এসব এলাকায় একাধিক আদিবাসী সম্প্রদায়ের হাজারো বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দাবানল নিয়ন্ত্রণে দমকলকর্মীরা দিনরাত কাজ করলেও তীব্র তাপপ্রবাহ, শুষ্ক আবহাওয়া ও দমকা হাওয়ার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

কানাডা সরকার জানিয়েছে, দাবানল মোকাবিলায় ফেডারেল সরকার প্রাদেশিক ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। আগুন নিয়ন্ত্রণ, উদ্ধার কার্যক্রম এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগণকে সহায়তা দিতে জরুরি সেবা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাতের ঘাটতি দাবানলের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিক বড় ধরনের দাবানলের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটিতে একটি জাতীয় দাবানল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা গঠনের দাবিও জোরালো হয়েছে।

এদিকে দাবানলের ধোঁয়ায় আলবার্টা, ব্রিটিশ কলম্বিয়া, অন্টারিও এবং টরন্টোসহ কানাডার বিভিন্ন অঞ্চলে বায়ুর মান মারাত্মকভাবে অবনতি হয়েছে। এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও পড়েছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, দাবানল পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফেডারেল সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। আগুনের বিস্তার ঠেকানো এবং ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

চাকায় হাওয়া দেওয়ার সময় পুলিশের গাড়ির ওপর ট্রাক উল্টে কনস্টেবল নিহত

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে সড়কে দাঁড়িয়ে পুলিশের গাড়ির চাকায় হাওয়া দেওয়ার সময় তার ওপর ধানের কুড়াবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে পড়ে এক হাইওয়ে পুলিশ কনস্টেবল নিহত হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কের কুলিয়ারচরের দ্বাড়িয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. পারভেজ আহমেদ (৩৪) ভৈরব হাইওয়ে থানায় কর্মরত ছিলেন। তিনি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার আনোয়ার আলীর ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভৈরব হাইওয়ে থানার ওসি সুমন কুমার চৌধুরী।

পুলিশ জানায়, এটিএসআই জাকির হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল নিয়মিত টহলে ছিল। এ সময় পুলিশের গাড়ির চাকায় হাওয়া কমে গেলে দ্বাড়িয়াকান্দি এলাকার একটি টায়ার মেরামতের দোকানে গাড়িটি থামানো হয়। চাকায় হাওয়া দেওয়ার সময় ভৈরব থেকে কিশোরগঞ্জগামী ধানের কুড়াবোঝাই একটি ট্রাক একটি সিএনজিকে পাশ দিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে পুলিশের গাড়ির ওপর পড়ে।

এ সময় গাড়িতে থাকা অন্য সদস্যরা বের হতে পারলেও কনস্টেবল পারভেজ আহমেদ ট্রাকের নিচে চাপা পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের গাড়ির চালক সাইফুল ইসলাম বলেন, গাড়ির চাকায় হাওয়া দেওয়ার জন্য তারা সড়কের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তখন হঠাৎ ট্রাকটি উল্টে পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ওসি সুমন কুমার চৌধুরী বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পর চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেছেন। নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ জানায়, পারভেজ আহমেদ প্রায় সাড়ে ১৫ বছর আগে বাহিনীতে যোগ দেন।

১৫ বছর ধরে বিনা বেতনে শিক্ষকতা ১০ শিক্ষকের

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ইউনিয়ন চাতলপাড়। হাওরবেষ্টিত এই প্রত্যন্ত জনপদে উচ্চশিক্ষার একমাত্র ভরসা চাতলপাড় ডিগ্রি কলেজ। এই কলেজের ডিগ্রি শাখার (পাস কোর্স) ১০ জন শিক্ষক ১৫ বছর ধরে বিনা বেতনে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রয়োজনীয় একাডেমিক অনুমোদন থাকলেও দীর্ঘদিন শিক্ষকরা এমপিওভুক্ত না হওয়ায় কলেজের ডিগ্রি শাখাটি বন্ধের ঝুঁকিতে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নাসিরনগরে রাষ্ট্রীয় সফরে আসেন। তখন স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে হাওরের জনগোষ্ঠীর শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে চাতলপাড়ে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে প্রাথমিক অবকাঠামো নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নগদ অর্থ অনুদানে কলেজটির ভিত্তি গড়া হয়। স্থানীয়দের দান করা প্রায় তিন একর জমির ওপর গড়ে ওঠে কলেজটি।

নাসিরনগর উপজেলা সদর থেকে কলেজটির দূরত্ব ২২ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ১৪ কিলোমিটার নৌপথ, বাকি অংশ কাঁচা সড়ক। বর্ষা মৌসুমে যাতায়াতে সময় লাগে ২-৩ ঘণ্টা। ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী আছে প্রায় সাড়ে পাঁচশ। এর মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিকে ৩৫০ জন ও ডিগ্রি পাস কোর্সে ২০০ জন। বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি মিলিয়ে চাতলপাড় কলেজে মোট ২৭ জন শিক্ষক কর্মরত। এর মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক শাখায় ১৭ জন ও ডিগ্রি শাখায় রয়েছেন ১০ জন শিক্ষক। ডিগ্রি শাখার শিক্ষকরা দীর্ঘদিনেও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

ডিগ্রি শাখার শিক্ষক আলফাজ উদ্দিন গত বুধবার আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘যখন কলেজে যোগদান করি তখন সরকারি চাকরিতে আবেদন করার বয়স ছিল। এখন সে বয়স চলে গেছে। বিয়ে করেছি; সংসার হয়েছে। টানা ১৫ বছর বিনা বেতনে শিক্ষকতা করে পরিবার নিয়ে চলতে পারছি না।’

আরেক শিক্ষক আব্দুল করিম (ছদ্মনাম) বলেন, তিনি ১৫ বছর আগে নেত্রকোনা থেকে এই কলেজে যোগদান করেন। কলেজটির প্রতি মায়া হয়ে গেছে তাঁর। তাই আর্থিক কষ্ট থাকার পরও কলেজ ছাড়তে পারছেন না। ডিগ্রি শাখার শিক্ষকরা কলেজ ছেড়ে দিলে অনেক শিক্ষার্থীই পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে না। তাই কষ্ট হলেও শিক্ষকতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

চাতলপাড় ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী হেনা আক্তার বলেন, ‘এইচএসসি পাস করার পর চাতলপাড় ডিগ্রি কলেজে পাস কোর্সে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু কলেজের নানা সংকটের কারণে পড়া শেষ করাই এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

চাতলপাড়ের বাসিন্দা ইকরাম আলী বলেন, ‘আমাদের সন্তানদের শহরে পাঠানোর সামর্থ্য নেই। এই কলেজই ভরসা। এটা বন্ধ হয়ে গেলে তারা আর পড়তে পারবে না।’

চাতলপাড় কলেজের অধ্যক্ষ মো. ওমর আলী জানান, ডিগ্রি শাখার শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির জন্য ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিনবার আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আশ্বাস পাওয়া যায়নি।

শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির জন্য শিক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার দিয়েছেন জানিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ নাসিরনগর আসনের সংসদ সদস্য এমএ হান্নান বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল অর্জন করে আসছে এ কলেজ। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও বিএ ও বিএসএস (পাস) কোর্স এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা বেতন-

ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে ডিগ্রি শাখার কার্যক্রম ব্যাহত বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যার ফলে হাওর ও ভাটি অঞ্চলের শিক্ষার্থী, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার ব্যাংকের টিটি ডিসকাউন্টিং লিয়েন সুবিধা বাতিল

ব্যাংকের চলতি হিসাব লিয়েন রেখে টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা বাতিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর স্বল্পমেয়াদি তারল্য চাহিদা মেটানোর অনেক ধরনের বিকল্প ও আধুনিক মাধ্যম তৈরি হওয়ায় প্রায় তিন দশক আগে দেওয়া ওই সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল সোমবার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, ১৯৯৪ সালের এক সার্কুলারের মাধ্যমে উপযুক্ত সিকিউরিটিজ না থাকলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রক্ষিত চলতি হিসাব লিয়েন মার্ক করে ব্যাংকগুলো এই বাট্টা সুবিধা পেত। পরে ১৯৯৯ সালের নির্দেশনায় মঞ্জুরিকৃত সীমার ২০ শতাংশ অর্থ লিয়েন রেখে বিধিবদ্ধ নগদ জমা (সিআরআর) হিসাবায়নের বাইরে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে বর্তমানে ব্যাংকগুলোর দৈনিক তারল্য চাহিদা মেটানোর জন্য কল মানি, রেপো, এসএলএফের মতো বিভিন্ন সুবিধা ও আন্তঃব্যাংক ধারের বিকল্প রয়েছে। যে কারণে ব্যাংকগুলোর এই লিয়েন সুবিধা নেওয়ার হার একেবারেই নগণ্য।