Home Blog Page 11

সমালোচনার পথ বন্ধ করলে বিপদে পড়বে সরকার

সাইবার অপরাধ দমনের নামে সরকারের সমালোচনা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ রাখা হলে তা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে উঠবে। কোনো ব্যক্তির অপরাধে সংবাদমাধ্যম বন্ধ, সন্দেহের ভিত্তিতে প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম জব্দ এবং সাংবাদিকদের বিচারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ক্ষমতা দেওয়ার মতো বিধান অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করবে। একই সঙ্গে অপতথ্য নিয়ন্ত্রণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জবাবদিহি নিশ্চিত না করে শুধু কঠোর আইন করেও সুফল পাওয়া যাবে না। প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন নিয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব উদ্বেগ জানিয়ে আইনটির নিবর্তনমূলক ধারা বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

আজ রোববার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। টিআইবি, ব্র্যাক, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), বাংলাদেশ মহিলা পরিষদসহ ১৯টি সংগঠনের আয়োজন করে।

সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি ও মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় আইন প্রয়োজন, তবে সরকারের সমালোচনা ও অপরাধকে এক করে দেখা যাবে না। গণতান্ত্রিক সমাজে সরকারের সমালোচনা হবেই। ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়—এ কথা বিবেচনায় রেখেই আইন প্রণয়ন করা উচিত।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দয়া করে আমাদের হাতটা আবার বাঁধবেন না। হাত বেঁধে দিলে আপনার ক্ষতি হবে। আপনার জন্য কিন্তু আমি আর লিখতে পারব না। আপনাকে একদিন আমাদের কাছে আবার আসতে হবে।’

প্রস্তাবিত আইনে কোনো ব্যক্তির অপরাধের কারণে পুরো সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার সুযোগ এবং সাংবাদিকদের বিচারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ক্ষমতা দেওয়ার বিরোধিতা করেন তিনি। তার আশঙ্কা, আইনের প্রয়োগ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত না হলে স্থানীয় পর্যায়ের ক্ষমতাসীন নেতার ফোনেও কাউকে গ্রেপ্তারের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। কোনো সংবাদ কারও অপছন্দ হলেই সেটিকে ভুল তথ্য বা মানহানিকর বলে দাবি করার ঝুঁকিও রয়েছে। তাই, ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্যের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং আইন প্রণয়নের আগে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জবাবদিহি জরুরি

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মুনাফাকেন্দ্রিক অ্যালগরিদম ও প্ল্যাটফর্মের জবাবদিহি নিশ্চিত না করে শুধু কঠোর আইন করে অপতথ্য নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তার অভিযোগ, ব্যবসায়িক স্বার্থে মেটা সংঘাত ও সহিংসতামূলক বক্তব্য বেশি প্রচার করে, অথচ ধর্মনিরপেক্ষ ও যৌক্তিক আলোচনাকে সেন্সর করে। এসব প্ল্যাটফর্মের জবাবদিহি নিশ্চিত না করে সাধারণ নাগরিকদের ওপর আইন চাপিয়ে দেওয়া টেকসই সমাধান নয়।

তিনি সতর্ক করে বলেন, অংশীজনদের মতামত উপেক্ষা করে বর্তমান কাঠামোয় আইন পাস করা হলে তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি সরকারের জন্যও বুমেরাং হতে পারে। অপতথ্য ঠেকানোর নামে নাগরিকদের মৌলিক অধিকারকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়।

ডেইলি ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম বলেন, রামুতে বৌদ্ধপল্লিতে হামলা, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের গণহত্যায় উসকানি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে সংঘবদ্ধ হামলার মতো ঘটনায় প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার দেখা গেছে। ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাৎক্ষণিক সমন্বয়ের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় এ ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ কঠিন হচ্ছে।

প্রস্তাবিত আইনের ২৬(ক) ধারা বাদ দেওয়া, ২৫ ধারায় মানহানিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য না করা, ৮(৩) ধারার অপব্যবহার রোধ এবং সাংবাদিকদের বিচারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ক্ষমতা বাতিলের দাবি জানান তিনি। মানহানির ক্ষেত্রে ফৌজদারি ব্যবস্থার পরিবর্তে দেওয়ানি আইনে ক্ষতিপূরণ ও বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান রাখার পরামর্শও দেন।

শফিকুল আলম আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সার ও ইউটিউবারদের মাধ্যমে চরিত্রহনন এবং লাগামহীন অপপ্রচার থেকে সুরক্ষার উপায় বের করতে হবে।

তদন্ত কর্মকর্তার ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত আইনে তদন্ত কর্মকর্তাদের শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে গণমাধ্যমের ডেটা সেন্টারসহ প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম জব্দ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এতে একটি পুরো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। আইনে মানহানির সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা না থাকাও উদ্বেগজনক। গ্রহণযোগ্য আইন প্রণয়নে তৃণমূল পর্যায়ের সংবাদকর্মীদের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

রাজনীতি ডটকমের সম্পাদক ও প্রকাশক শরীফুজ্জামান পিন্টু প্রস্তাবিত আইনের দায়মুক্তির বিধান, অপরাধের অস্পষ্ট সংজ্ঞা এবং অনলাইন কনটেন্ট ব্লকের প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানান। সাংবাদিকতা ও মূলধারার গণমাধ্যম যাতে আইনের অপপ্রয়োগের শিকার না হয়, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা দাবি করেন তিনি।

জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের গঠনকাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শরীফুজ্জামান পিন্টু। তার মতে, প্রস্তাবিত কাঠামোয় নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতার ভারসাম্য ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিত্ব নেই। কাউন্সিলের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ সদস্য হিসেবে মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তিনি।

বৈঠকে বক্তারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের সুরক্ষায় নাগরিক সমাজ এবং গণমাধ্যমের মধ্যে সমন্বয় ও ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দেন। তাদের দাবি, সাইবার অপরাধ মোকাবিলার পাশাপাশি আইনের অপপ্রয়োগ ঠেকানোর কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

ব্রিফিংয়ে দুদক সচিব বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার দেশে ফেরানোর উদ্যোগ

দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নানকে কাতারে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইন্টারপোলের মাধ্যমে পাঠানো অনুরোধের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে কাতার পুলিশ। দুদকের সচিব সাইদুর রহমান খান এ কথা জানিয়েছেন।

ঢাকায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে সাইদুর রহমান খান বলেন, শনিবার অনানুষ্ঠানিকভাবে হান্নানের গ্রেপ্তারের খবর পায় দুদক। আজ রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তিনি কাতারের দোহায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) শাখার মাধ্যমে ইন্টারপোলের কাছ থেকে এ তথ্য পেয়েছে দুদক।

শেখ আব্দুল হান্নানকে কাতার থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে দুদক সচিব সাইদুর বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে দুদকের কাছে কিছু তথ্য চেয়েছে। সেসব তথ্য সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করি, প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে।

আব্দুল হান্নান ২০২১ সালের ১২ জুন থেকে ২০২৪ সালের ১১ জুন পর্যন্ত বিমান বাহিনীর প্রধান পদে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে দুটি মামলা করে দুদক।

দুদকের উপপরিচালক মো. তানজির হাসিব সরকার বাদী হয়ে সংস্থাটির সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ মামলা দুটি দায়ের করেন। দুদকের পক্ষ থেকে তখন সাংবাদিকদের জানানো হয়েছিল যে, আব্দুল হান্নানের জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ প্রায় তিন কোটি ২৮ লাখ টাকার সম্পদের খোঁজ তারা পেয়েছে। সেইসঙ্গে, তার নামে থাকা ছয়টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ২৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকার ‘সন্দেহজনক’ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ অনুসন্ধানের মধ্যেই ২০২৫ সালের ৫ মে আব্দুল হান্নান ও তার স্ত্রী-সন্তানের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে আদালত। এরপর তাদের জমি, বাড়ি ও তিনটি ফ্ল্যাট জব্দ এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে, কাতারে অবস্থিত আব্দুল হান্নানকে ইন্টারপোলের সহায়তায় গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল দুদক।

ভারতে আমেরিকান ডলার দিয়ে যুবসমাজকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে

০

দুর্গা প্রতিমা সাজাতে চকলেট কয়েন

রাজশাহীর বাগমারার তাহেরপুরে গঙ্গামন্দির নামের একটি মন্দিরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিমা সাজানো হয়েছে ১০ হাজার গোল্ডেন চকলেটের কয়েন দিয়ে। প্রতিমায় অভিনব এই সাজ দেখতে মন্দিরে আসছেন বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থীরা। চকলেটের কয়েন দিয়ে প্রতিমা সাজানোর উদ্যোগ এবারের দুর্গোৎসবে যোগ করেছে ভিন্নমাত্রা।

মন্দিরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দুর্গোৎসবকে ঘিরে প্রতিবছরই নতুনত্ব আনার চেষ্টা করা হয়। দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় পরিবেশ তৈরি করা এবং উৎসবের আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়াই তাদের উদ্দেশ্য। সেই ভাবনা থেকে এবার প্রতিমার সাজসজ্জায় চকলেটের কয়েন ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগ দর্শনার্থীদের ভালো লাগবে এবং উৎসবের আনন্দ আরও বাড়িয়ে তুলবে।

গতকাল শুক্রবার দুর্গাপূজার ষষ্ঠীতে মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিমার সাজসজ্জায় চকলেটের কয়েন ব্যবহার করা হয়েছে। প্রচলিত সাজসজ্জার বাইরে এমন ব্যতিক্রমী উপস্থাপনা দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। মন্দিরের আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত নবজাগরণ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুজিত কুমার হালদার বলেন, ‘প্রতিবছরই আমরা পূজার আয়োজনে নতুনত্ব আনার চেষ্টা করি। এবার ১০ হাজার চকলেটের কয়েন দিয়ে প্রতিমা সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে খরচ হয়েছে ৮০ হাজার টাকা।’

গঙ্গামন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এবার চকলেটের কয়েন দিয়ে সাজানোর বিষয়টি দর্শনার্থীদের কাছে নতুন আকর্ষণ তৈরি করেছে। পূজার আয়োজন সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে আমরা কাজ করছি। দর্শনার্থীরা এসে প্রতিমা দেখে আনন্দ পাচ্ছেন–এটাই আমাদের সার্থকতা।’

মন্দিরে প্রতিমা দেখতে আসা অনুপ কুমার বলেন, ‘চকলেটের কয়েন দিয়ে প্রতিমা সাজানোর বিষয়টি আমার কাছে বেশ ব্যতিক্রমী মনে হয়েছে। সাজসজ্জা দেখতে খুব ভালো লাগছে। প্রতিবছরই পূজা দেখতে আসি, তবে এবারকার আয়োজনের মধ্যে আলাদা একটি আকর্ষণ রয়েছে।’

লতা রানী নামের অপর এক দর্শনার্থী বলেন, ‘পরিবার নিয়ে মন্দিরে এসেছি। প্রতিমার সাজসজ্জা সুন্দর হয়েছে। এমন নতুন আয়োজন দেখতে ভালো লাগে।’

কনভার্টার চুরি, দুই মাস ধরে বন্ধ সৌরবিদ্যুৎচালিত পাতকুয়া

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের ওমরগাড়ী এলাকায় সৌরবিদ্যুৎচালিত একটি পাতকুয়া (ডাগওয়েল) দুই মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। সোলার কনভার্টার চুরি হয়ে যাওয়ায় পাতকুয়া থেকে পানি উত্তোলন বন্ধ থাকায় সেচ সংকটে পড়েছেন শতাধিক কৃষক। বিকল্প উপায়ে সেচ দিতে গিয়ে তাদের বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। আসছে রবি মৌসুমের আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। কৃষকদের অভিযোগ, বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিয়েও পাতকুয়াটি চালু করা যাচ্ছে না।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাতকুয়া থেকে এক বিঘা জমিতে সেচ দিতে খরচ হতো ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। অথচ শ্যালো মেশিনের সাহায্যে একই পরিমাণ জমিতে সেচ দিতে ব্যয় হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। আমন ধানে বাড়তি খরচে সেচ দেওয়ার পাশাপাশি রবি মৌসুমের গম, রসুন, পেঁয়াজ ও বিভিন্ন সবজি চাষ নিয়েও উদ্বেগে রয়েছেন তারা।
চুরির আশঙ্কায় পাতকুয়ার অপারেটর সোলার প্যানেলগুলোও খুলে নিজের বাড়িতে রেখে দিয়েছেন অপারেটর। ফলে কনভার্টার কেনা ও পাতকুয়া পুনরায় চালুর উদ্যোগ না হওয়া পর্যন্ত সেচ সুবিধা ফেরার সম্ভাবনা দেখছেন না ভুক্তভোগী কৃষকরা। চুরি হওয়া কনভার্টারটির দাম প্রায় ৫০ হাজার টাকা।

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) সূত্রে জানা গেছে, চারঘাট খরাপ্রবণ এলাকা হওয়ায় প্রান্তিক কৃষকদের সেচ সুবিধা দিতে ২০১৯ সালে কৃষি মন্ত্রণালয় ‘জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ভূউপরিস্থ পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ প্রকল্প’ হাতে নেয়। ওই বছরের অক্টোবরে শুরু হওয়া প্রকল্পের আওতায় চারঘাটে ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সৌরবিদ্যুৎচালিত পাঁচটি পাতকুয়া নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি পাতকুয়ার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৪১ জন কৃষককে নিয়ে একটি করে সমিতি গঠন করা হয়।
বিএমডিএ আরও জানায়, এর আগে একই পাতকুয়ার সোলার প্যানেল চুরি হয়েছিল। তখন কৃষকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন প্যানেল দিয়ে পাতকুয়াটি চালু করা হয়। তবে ভবিষ্যতে আবার চুরি হলে নতুন করে সরঞ্জাম দেওয়া সম্ভব হবে না বলে কৃষকদের শর্ত হয়েছিল। যেন কৃষকরা নিজ দায়িত্বে পাতকুয়াটি পাহারার ব্যবস্থা করে। এবার কনভার্টার চুরি হওয়ায় নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে। বিএমডিএর সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে কনভার্টার মজুত না থাকায় কৃষকদের নিজ উদ্যোগে সেটি কিনতে বলা হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষক লালন আলী বলেন, রবি মৌসুম শুরু হচ্ছে। অনেক কৃষক আগাম গম, রসুন, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন সবজির আবাদ শুরু করেছেন। সেচের অভাবে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দুই মাস ধরে কৃষকরা সমস্যায় থাকলেও সমাধানে কেউ এগিয়ে আসছেন না।
কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, তাদের জমিতে ফুলকপি, বেগুন, মুলা, শিমসহ বিভিন্ন সবজি রয়েছে। এসব ফসলে নিয়মিত পানি দিতে হয়। রবি মৌসুম পুরোদমে শুরু হওয়ার আগে পাতকুয়াটি চালু করা না গেলে কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন। স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির সঙ্গে কথা বলে পাতকুয়ার আশপাশে নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদারের দাবি জানানো হয়েছে।
পাতকুয়ার অপারেটর আশরাফুল ইসলাম বলেন, এলাকার কৃষকরা অসহায়। অধিকাংশেরই দুই-এক বিঘা করে জমি। তারা সবজি ও ফল চাষের ওপর নির্ভরশীল। তাই পাতকুয়াটি চালু করা খুব জরুরি। কনভার্টার চুরির পর থানায় লিখিত অভিযোগও করেছি, কোনো অগ্রগতি নেই। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) উদ্যোগ নিয়ে কৃষকদের সঙ্গে বসে কনভার্টার কেনার ব্যবস্থা করলে সমস্যার সমাধান হতে পারে।

বিএমডিএর চারঘাট উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পাতকুয়াটি থেকে আশপাশের অনেক কৃষক সেচ সুবিধা পান। এটি বন্ধ থাকায় তারা সমস্যায় পড়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে কার্যালয়ে কনভার্টার সরবরাহ না থাকায় আপাতত দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কৃষকরা কনভার্টার কিনে দিলে পাতকুয়াটি চালু করতে সহযোগিতা করা হবে।
তবে কৃষকদের দাবি, পাতকুয়াটি জনশূন্য এলাকায় হওয়ায় শুধু তাদের পক্ষে চুরি ঠেকানো সম্ভব নয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। তাদের মতে, কৃষকদের অর্থায়নে কনভার্টার কেনা হলেও নিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকলে আবারও চুরির আশঙ্কা থেকে যাবে।
নিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগী কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। দ্রুত সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে কৃষকদের নিয়ে সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। দ্রুত পাতকুয়াটি চালু করা না গেলে রবি মৌসুমে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

মেসির নামে নতুন ফুল, পাপড়িতে আর্জেন্টিনার রং

০

ফুটবল মাঠে তার কীর্তি আগেই জায়গা করে নিয়েছে ইতিহাসে। এবার প্রকৃতির জগতেও অমর হয়ে থাকছেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন মহাতারকার প্রতি সম্মান জানিয়ে পেরুর বিজ্ঞানীরা আন্দিজ পর্বতমালায় আবিষ্কৃত একটি সুগন্ধি উদ্ভিদের নাম রেখেছেন ‘সালভিয়া মেসি’। ফুলটির নীল-সাদা পাপড়িতে যেন ফুটে উঠেছে মেসির দেশের পতাকা ও আর্জেন্টিনার জার্সির রং।

আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম লা নাসিওন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেরুর দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ৪০০ মিটার উচ্চতায় এই উদ্ভিদের সন্ধান পেয়েছেন গবেষকেরা। আন্দিজ পর্বতমালার পাথুরে ঢালে জন্মানো উদ্ভিদটি আগে বৈজ্ঞানিকভাবে পরিচিত ছিল না। গবেষণার পর নতুন প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক বর্ণনা প্রকাশ করা হয়েছে।

‘সালভিয়া মেসি’ ল্যামিয়াসি পরিবারের একটি গুল্মজাতীয় সুগন্ধি উদ্ভিদ। এই পরিবারেই রয়েছে তুলসী, পুদিনা, রোজমেরি ও সেজের মতো পরিচিত গাছ। উদ্ভিদটির আবিষ্কার ও বৈজ্ঞানিক বর্ণনায় যুক্ত ছিলেন পেরুর সান মার্কোস জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের পল গঞ্জালেস, আর্জেন্টিনার স্বাধীন গবেষক রোলান্দো উরিয়া এবং পেরুর হুরারাঙ্গো নেচারের জ্যঁ কাপচা-রামোস। তাদের গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ফাইটোতাক্সা-তে।

মেসির নামে উদ্ভিদটির নামকরণের পেছনে ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন গবেষকেরা। মায়মোনাইডস বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ন্যাচারাল, এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড অ্যানথ্রোপোলজিক্যাল সায়েন্সেস এবং আজারা ফাউন্ডেশনের গবেষক ক্লদিও বের্তোনাত্তির মতে, বিজ্ঞানীরাও সমাজ ও মানুষের আবেগ থেকে বিচ্ছিন্ন নন। তার ভাষায়, বৈজ্ঞানিক গবেষণা মানুষেরই সৃষ্টি। তাই মেসির মতো বিশ্বব্যাপী প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে সম্মান জানাতে গবেষকদের ভৌগোলিক দূরত্ব কিংবা কাজের ক্ষেত্রের পার্থক্য বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।

এমন ঘটনা অবশ্য মেসির ক্ষেত্রে নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন প্রাণী ও জীবের বৈজ্ঞানিক নামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তার নাম। আর্জেন্টিনার বারিতু জাতীয় উদ্যানে আবিষ্কৃত একটি ছত্রাকের নাম রাখা হয়েছে ‘সেরকোপেমসেস মেসি’। এ ছাড়া ‘আকান্থোগোনাটাস মেসি’ নামে একটি মাকড়সা, ‘লিওলায়েমুস মেসি’ নামে একটি টিকটিকি এবং ‘ভালচার মেসি’ নামে আন্দিজ অঞ্চলের একটি প্রাগৈতিহাসিক শকুনের নামকরণ করা হয়েছে। ‘ডিস্কনিস্কা মেসি’ নামেও পরিচিত একটি প্রাগৈতিহাসিক খোলসধারী প্রাণী।

দায়িত্ব নেওয়ার ৫ দিনেরও কম সময়ে পদ ছাড়ছেন কেটি জাকারিয়া

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটরির পদ ছাড়ছেন কেটি জাকারিয়া। দায়িত্বে যোগ দেওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তার অপ্রস্তুত উপস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনার জেরে শেষ পর্যন্ত তাকে সরে যেতে হচ্ছে। বিবিসি তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

শুক্রবার তার বিদায়ের খবর প্রকাশের কিছুক্ষণ আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় তিনি বলেন, জাকারিয়াকে তিনি বলেছিলেন, ‘তুমি যদি না চাও, তাহলে তোমাকে এই কাজ করতে হবে না।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি তোমার জায়গায় থাকলে বিষয়টি আরেকবার ভেবে দেখতাম।’

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন জাকারিয়া। সংবাদ সম্মেলনটি ১৫ মিনিটেরও কম সময় স্থায়ী হয়। সেখানে সাংবাদিকদের মাত্র তিনটি প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। এরপরের দিনগুলোতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কঠিন প্রশ্নের মুখে নিজের যোগ্যতা ও দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে হয় তাকে।

শুক্রবার মেরিন ওয়ানের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জাকারিয়ার বিদায়ের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, ‘আমি তাকে বলেছিলাম, কেটি, এটা কি তোমার জন্য? কারণ, সত্যি বলতে, তোমার এই কাজ করার প্রয়োজন নেই।’

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তোমাকে এভাবে আচরণের শিকার হতে হবে না।’ সংবাদমাধ্যম জাকারিয়ার সঙ্গে বেশ খারাপ আচরণ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কয়েক ঘণ্টা পর বিবিসি জানায়, জাকারিয়া পদ ছাড়ছেন।

নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ঘটনা রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ওই নির্বাচনের মাধ্যমে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে। জাকারিয়ার আকস্মিক বিদায়কে রিপাবলিকানদের নেতৃত্বাধীন হোয়াইট হাউসের ব্যর্থতার ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরছেন ডেমোক্র্যাটরা।

প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের শীর্ষ নেতা হাকিম জেফরিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি চলে যাচ্ছেন। মাগা উগ্রপন্থীরা ক্রমেই ভেঙে পড়ছে।’

মঙ্গলবার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে জাকারিয়াকে নার্ভাস দেখা যায়। প্রায় ১৪ মিনিটের ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি নোটবুক থেকে লিখিত বক্তব্য পড়েন, অল্প কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দেন এবং একপর্যায়ে নিজের স্বামীকে প্রেসিডেন্ট বলে উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক তার আইন পেশার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করেন। ট্রাম্পসহ কয়েকজন তাকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি পেপারডাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতকও হয়েছেন। সাংবাদিক জানতে চান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কোন অঙ্গরাজ্যে আইনজীবী হিসেবে সনদ পাওয়ার পরীক্ষা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে আইন পেশায় কাজ করতে হলে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের বার অ্যাসোসিয়েশনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অনুমোদন নিতে হয়।

জবাবে জাকারিয়া বলেন, ‘আমি যখন চীনে ছিলাম।’

পরে সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধান ও ব্যাপক সমালোচনার মুখে বৃহস্পতিবার জাকারিয়া স্বীকার করেন, তিনি বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হননি। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, চীনে যথাযথ যোগ্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক লেনদেনসংক্রান্ত আইনি কাজ করেছেন।

পুরো সপ্তাহজুড়েই তার আইন পেশার যোগ্যতা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন আলোচনায় ছিল। বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজের উপস্থাপক শন হ্যানিটির সাক্ষাৎকারেও বিষয়টি উঠে আসে। জাকারিয়া বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ার কথা জানালে হ্যানিটি তাকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনি সরাসরি কেন বলেননি, আমি কখনো আইন পেশায় কাজ করিনি?’

ওই সাক্ষাৎকারে জাকারিয়া জানান, প্রথম সংবাদ সম্মেলনের এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে তাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এরপর হ্যানিটি প্রশ্ন করেন, তিনি কি বলতে চাইছেন যে কর্মীদের তাকে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করা উচিত ছিল?

শুক্রবার ট্রাম্পের প্রায়ই দেখা অনুষ্ঠান ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস-এও একই ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েন জাকারিয়া। তিনি বলেন, নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় না দেওয়ার বিষয়টি তিনি ট্রাম্পকে আলাদাভাবে জানাননি, কারণ তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়নি। তার ভাষ্য, তাকে আইনি দায়িত্বের জন্য নয়, যোগাযোগসংক্রান্ত কাজের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

অনুষ্ঠানের উপস্থাপক লরেন্স জোনস তাকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনার কি মনে হয়, প্রেসিডেন্টের আস্থা এখনো আপনার ওপর আছে?’ সরাসরি উত্তর না দিয়ে জাকারিয়া বলেন, ‘আমার আশা, আশপাশের সবার আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে পারব।’

ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের প্রেস টিমে জাকারিয়ার বিদায়ই সবচেয়ে কম সময়ের মধ্যে দায়িত্ব ছাড়ার ঘটনা। এর আগে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক অ্যান্থনি স্কারামুচি মাত্র ১০ দিন দায়িত্ব পালনের পর পদ ছেড়েছিলেন।

রাশিয়ার ওপর নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করলেন ট্রাম্প

রাশিয়ার অর্থনীতির ওপর নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার এক নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প জানান, কংগ্রেসের পাস করা আইনের আওতায় রাশিয়ার ওপর প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা, বিধিনিষেধ ও শুল্ক কার্যকর করা থেকে আপাতত বিরত থাকছেন। জাতীয় স্বার্থের জন্য এ সিদ্ধান্ত প্রয়োজনীয়।

প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের উদ্যোগে আনা আইনটিতে গত মাসে স্বাক্ষর করেছিলেন ট্রাম্প। আইনটির আওতায় রাশিয়ার কর্মকর্তা ও ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি দেশটির জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে ব্যবহৃত ট্যাঙ্কারের গোপন বহরকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা ছিল। এ ছাড়া রাশিয়া থেকে তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করা শীর্ষ পাঁচটি দেশের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্টকে।

তবে যেসব দেশ তাদের মোট প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির ১৫ শতাংশের কম রাশিয়া থেকে নেয় এবং আমদানি কমাতে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে শুল্ক আরোপে ব্যতিক্রমের সুযোগ রাখা হয়েছিল। নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে ট্রাম্প সেগুলো স্থগিত করেন।

গত মাসে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দ্বিদলীয় সমর্থনে পাস হওয়া ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’-এর লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধের অর্থায়ন কমাতে দেশটির আর্থিক প্রবাহের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা।

ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এলো, যখন তিনি প্রকাশ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনা করছেন। একই সময়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতির খবরও সামনে এসেছে।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, রাশিয়া অবিলম্বে ৩ লাখ মেট্রিক টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। এরপর নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং তার পরপরই আরও ১০ লাখ টন ডিজেল আসবে। এ ছাড়া অল্প সময়ের মধ্যে রাশিয়া আরও ৩০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করবে।

এ ঘোষণার পর ছয়জন রিপাবলিকানসহ যুক্তরাষ্ট্রের ১২ জন সিনেটর ট্রাম্পের কাছে ডিজেল চুক্তি বাতিলের আহ্বান জানান। তাদের আশঙ্কা, এ চুক্তির মাধ্যমে রাশিয়া নতুন করে অর্থ পাবে, যা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে দেশটিকে সহায়তা করতে পারে।

মঙ্গলবার উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের একটি দল ট্রাম্পের কাছে চিঠি পাঠিয়ে গত মাসে পাস হওয়া আইন অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের আহ্বান জানায়। আইনটির আওতায় রাশিয়ার জ্বালানি খাতে নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপ করা হবে, নাকি অব্যাহতি দেওয়া হবে—সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য ট্রাম্পের হাতে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত সময় ছিল। তবে এ বিষয়ে প্রশাসন আইনপ্রণেতাদের কিছু জানায়নি।

ব্রাসেলসে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় শুক্রবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহের চুক্তির অর্থ হলো দেশটিতে আবারও অর্থপ্রবাহ শুরু হবে।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইউক্রেন ও রাশিয়া একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা না চালানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে। তাঁর আশঙ্কা, এতে মার্কিন সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এদিকে, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম গোয়েন্দা তথ্য কিয়েভের কাছ থেকে গোপন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন—এমন অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের সামরিক সংস্করণ ‘স্টারশিল্ড’-এর কার্যকারিতাও সীমিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যাতে ঘণ্টায় ১০০ মাইলের বেশি গতিতে চলা ড্রোনে এটি ব্যবহার করা না যায়। তবে এসব অভিযোগের কোনোটিই আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আইনটি লিন্ডসে গ্রাহামের বোন ডারলাইন গ্রাহামের নির্বাচনী প্রচারণারও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর পর তার অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য ডারলাইনকে সিনেটে নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সিনেটে ভাইয়ের স্থলাভিষিক্ত হতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এ সপ্তাহের শুরুতে সাউথ ক্যারোলিনার ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুসের সঙ্গে এক বিতর্কে ডারলাইন গ্রাহাম বলেন, আইনটি পাসে সহায়তা করতে পেরে তিনি ‘খুবই গর্বিত’। ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া ডারলাইন আগামী সপ্তাহে সাউথ ক্যারোলিনায় তাঁর সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে আইনটি কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা সম্পূর্ণ ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

কলম্বিয়ায় আয়োজিত ওই বিতর্কে ডারলাইন গ্রাহাম বলেন, এই আইনটি প্রেসিডেন্টকে এমন কিছু হাতিয়ার দেয়, যা তিনি চাইলে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করতে ব্যবহার করতে পারেন। তিনি এটি ব্যবহার করবেন কি করবেন না, কিংবা অন্য কোনো উপায় অবলম্বন করবেন কি না—তা তাঁর ওপরই নির্ভর করে। তবে আমার মতে, এর মূল উদ্দেশ্য হলো জ্বালানির দাম কমিয়ে আনা এবং শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধ করা। আর যুদ্ধ শেষ হলে জ্বালানির দামও কমে আসবে।

লন্ডনে বাংলার শরৎবন্দনা সংগীত, কবিতা ও নৃত্যমুখর ‘অরুণ আলোর অঞ্জলি’

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয়েছে আনন্দধারা আর্টসের শারদোৎসব ‘অরুণ আলোর অঞ্জলি’। গত শনিবার লন্ডনের রেডব্রিজ মেথডিস্ট চার্চ মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সংগীত, কবিতা, আবৃত্তি ও নৃত্যের পরিবেশনায় তুলে ধরা হয় বাংলার চিরচেনা শরৎকালকে। সোনালি ধানখেত, নীল আকাশে সাদা মেঘ, কাশফুল ও শরতের স্নিগ্ধ প্রকৃতির চিত্রকল্পের মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয় বাংলা সাহিত্য, সংগীত ও প্রকৃতির নিবিড় সম্পর্ক।

অনুষ্ঠানের শুরুতে আনন্দধারা আর্টসের পরিচালক ডা. ইমতিয়াজ আহমেদ সংগঠনটির ঋতুভিত্তিক সাংস্কৃতিক আয়োজনের উদ্দেশ্য তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘ঋতুভিত্তিক উৎসব উদ্‌যাপনের মধ্য দিয়ে আমরা প্রকৃতির প্রতি মানুষের গভীর ভালোবাসা ও মমত্ববোধ জাগিয়ে তুলতে চাই। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের একটি স্নেহময়, সংবেদনশীল ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলাই আমাদের অন্যতম উদ্দেশ্য।’

তিনি আরও বলেন, শিশুদের মধ্যে শৈশব থেকেই সংগীত, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক শিক্ষার মাধ্যমে প্রকৃতিপ্রেম এবং পরিবেশসচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি। বাংলার ষড়ঋতুকে কেন্দ্র করে এ ধরনের আয়োজন সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লেখক অধ্যাপক সেলিম জাহান। বাঙালির জীবন ও সংস্কৃতিতে উৎসবের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, উৎসবের প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত রয়েছে তার সর্বজনীনতায়। ধর্ম, বর্ণ ও সামাজিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে একত্র করার মধ্য দিয়েই উৎসব সম্প্রীতি, ঐক্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রকাশ হয়ে ওঠে।

প্রায় আড়াই ঘণ্টার এ আয়োজনে অংশ নেন সংগঠনটির শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সের শিল্পীরা। অতিথিশিল্পী হিসেবে সংগীত পরিবেশন করেন নূপুর কাজী। শিশু শিল্পীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও আত্মবিশ্বাসী পরিবেশনা দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়। গান, কবিতা ও নৃত্যের সমন্বয়ে তারা প্রকৃতির বিচিত্র রূপ, ঋতুপরিবর্তন ও শরতের সৌন্দর্য তুলে ধরে। আনন্দধারা আর্টসের জ্যেষ্ঠ শিল্পীরা পরিবেশন করেন বাংলা সাহিত্য ও সংগীতনির্ভর একটি সংগীতালেখ্য। এতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অতুলপ্রসাদ সেন ও সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের নির্বাচিত গান, কবিতা ও সাহিত্যকর্মের অংশ স্থান পায়।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল নৃত্য পরিবেশনা। এতে অংশ নেন আর্থিকা চৌধুরী, নিহারিকা ভৌমিক, মাটি সিদ্দিকী, আনিকা ফাতিহা, রওনক আলভী, ইউসুফ রাতুল ও মনিরুল ইসলাম মুকুল। নৃত্য পরিকল্পনা, পরিচালনা ও কোরিওগ্রাফির দায়িত্ব পালন করেন মনিরুল ইসলাম মুকুল। তাঁর পরিকল্পিত নৃত্যবিন্যাস সংগীত ও আবৃত্তির পরিবেশনায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অতিথিশিল্পী হিসেবে মঞ্চে আসেন সংগীতশিল্পী নূপুর কাজী। রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, বাংলা লোকসংগীত ও আধুনিক গানের সমন্বয়ে সাজানো তার একক পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। তার পরিবেশনার মধ্য দিয়েই শেষ হয় শারদোৎসবের সাংস্কৃতিক আয়োজন।

অনুষ্ঠানে যন্ত্রসংগীতে অংশ নেন কিবোর্ডে প্রীতম সাহা, তবলায় সন্দীপ চক্রবর্তী, পারকাশনে কিংশুক দাস, গিটারে অমি ইসলাম এবং সেতারে দেবীপ্রিয়া সরকার। তাঁদের যন্ত্রসংগত সংগীত পরিবেশনাগুলোকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

আয়োজনের শব্দ পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণে ছিলেন আরাফাত কীর্তি। মঞ্চসজ্জার দায়িত্ব পালন করেন গোলাম আকবর মুক্তা। আলোকচিত্র ধারণ করেন জিআর সোহেল। অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার ছিল এআরটিভি নেটওয়ার্ক।

দর্শকপূর্ণ মিলনায়তনে শিল্পীদের পরিবেশনা প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে স্বদেশের প্রকৃতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে।