Home Blog Page 110

বাংলাদেশে ফেরার জন্য ভারত সীমান্তে অপেক্ষা, জেরা এবং তারপর

যারা ভারতে অবৈধপথে গিয়েছিলেন, তারা যদি ‘স্বেচ্ছায়’ ফিরে যেতে চান তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে, ওই ঘোষণার আগেই সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য অনেক মানুষ প্রতিদিন হাজির হচ্ছেন সাতক্ষীরা আর পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত অঞ্চলে।

তাদেরই একজন বাচ্চু মুন্সি বলেন, ‘যখন আমার বছর দশেক বয়স, বাবা মায়ের হাত ধরে ভারতে চলে আসি। প্রায় ৩৮ বছর হয়ে গেল, এখানেই বিয়ে করেছি, ছেলেমেয়ে হয়েছে। তাদের বিয়েও দিয়েছি এখানে।’

কলকাতার দমদম বিমানবন্দর লাগোয়া এলাকায় থাকতেন বাচ্চু মুন্সি। তিনি সপরিবারে হাজির হয়েছিলেন বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলা লাগোয়া উত্তর ২৪ পরগনার একটি সীমান্ত চৌকি- হাকিমপুরে। বাচ্চু জানান, তিনি খুলনা জেলার বাসিন্দা।

বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য হাকিমপুর সীমান্তে প্রতিদিনই হাজির হচ্ছেন বাচ্চুর মতো আরও বহু নারী-পুরুষ ও শিশু। তাদের দাবি, তারা কেউ যশোর, কেউ খুলনা, কেউ সাতক্ষীরা থেকে ভারতে গিয়েছিলেন। কেউ যান বছর দুয়েক আগে, কেউবা পাঁচ-ছয় বছর আগে।

একটি ঘরে শিশুকে নিয়ে অপেক্ষায় এক নারী। ছবি: এএফপি

একটি ঘরে শিশুকে নিয়ে অপেক্ষায় এক নারী। ছবি: এএফপি

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি জয়ী হয়ে নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার কয়েকদিন পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা দেন, ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’দের আর থাকতে দেওয়া হবে না। তাদের ফেরত পাঠানো হবে। এরপর গত এক সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতিদিনই সাত সকালে সীমান্তে জড়ো হচ্ছেন নিজের দেশে ফিরে যেতে চাওয়া মানুষরা।

হাকিমপুরের স্থানীয় বাসিন্দা হাসানুর গাজি বলেন, শুরুর দিকে দৈনিক ১০-১২ জন করে আসছিল। এরপর প্রতিদিনই বাড়ছে এই সংখ্যা। দিন তিনেক আগে থেকে সংখ্যাটা কয়েকশোতে গিয়ে ঠেকেছে।

সীমান্তে যারা জড়ো হচ্ছেন তাদের অনেকেই বলছেন, তারা ‘চোরাই পথে’ ভারতে গিয়েছিলেন এবং পশ্চিমবঙ্গে ‘অবৈধভাবেই’ বসবাস ও কাজকর্ম করছিলেন।

সীমান্ত চৌকিতে একদিন
হাকিমপুর এলাকাটা উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর থানার অধীনে। বিএসএফের চেকপোস্ট পেরিয়ে কিছুটা গেলেই তারালি গ্রাম, তারপরই সোনাই নদী। নদীর ওপারে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলা।

সীমান্ত চৌকিতে দাঁড়িয়ে গত বুধবার বিবিসির সাংবাদিক অমিতাভ ভট্টশালী দেখেন, বাংলাদেশে চলে যাওয়ার জন্য সীমান্তে জড়ো হওয়া মানুষদের প্রথমে একটি পরিত্যক্ত ঘরে অপেক্ষা করতে বলা হচ্ছে। সেখান থেকে পুলিশ কর্মীরা একেকটি পরিবারকে ডেকে এনে নথি যাচাই করছেন। বাংলাদেশের পরিচয়পত্র দেখার পাশাপাশি লিখে নেওয়া হচ্ছে নাম ও স্থায়ী ঠিকানা। এরপর ছবি তোলা হচ্ছে।

সীমান্তে যাওয়া ব্যক্তিদের কীভাবে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে, সে ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন বা বিএসএফ আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলেনি। তবে স্থানীয় গ্রাম হাকিমপুরের বাসিন্দারা সব কার্যক্রমই দেখেছেন। তাদের একজন ব্যবসায়ী হাসানুর গাজি জানান, চেকপোস্টে নথি যাচাই হচ্ছে, বায়োমেট্রিক হচ্ছে। এরপর সীমান্তের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বিএসএফ। এখান থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে আমোদিয়া বলে একটা হাঁটা বর্ডার আছে, সেখান দিয়ে পার করে দিচ্ছে। দিনের বেলাতেও করছে, আবার অনেক সময়ে রাত হয়ে যাচ্ছে।

পরিচয় যাচাইয়ের অপেক্ষায় দুজন। ছবি: এএফপি

পরিচয় যাচাইয়ের অপেক্ষায় দুজন। ছবি: এএফপি

গত বুধবার হাকিমপুরের সীমান্ত চৌকিতে কয়েকজনের নথি যাচাইয়ের পর অপেক্ষা করতে বলা হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা সেখানেই অপেক্ষা করেন। এরপর তাদের বাসে করে নিয়ে যাওয়া হয় স্বরূপনগর থানা এলাকাতে গড়ে তোলা ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটক শিবিরে।

‘ভারতের ভোটার কার্ডও করিয়েছিলাম’
স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাফা শাওজি জানান, সীমান্ত পেরিয়ে যারা বাংলাদেশে চলে যাওয়ার জন্য জড়ো হয়েছিলেন, তাদের অনেকের কাছেই ভারতের নানাবিধ পরিচয়পত্র আছে। কারো কাছে সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্রও আছে। সবাই হয়তো এ বিষয়ে কথা বলছে না, কিন্তু পরিচয়পত্র দেখিয়েছে।

ভারতের ভোটার কার্ড থাকার কথা স্বীকার করেছেন সীমান্তে অপেক্ষায় থাকা কয়েকজন। এরকমই একজন বাচ্চু মুন্সি। তিনি বলেন, ‘অনেক চেষ্টা করে ভোটার কার্ড করিয়েছিলাম। আধার কার্ড, প্যান কার্ডও করিয়েছিল। প্রথমবার আমি এখানে ভোট দিয়েছিলাম ২০২৪ সালে।’

তবে বাধ সেধেছে ২০২৬ সালের ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর। সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বাচ্চুর পরিবারের নাম।

নাজমা নামের একজন বলেন, ‘বিজেপি এখানে সরকারে আসার পর থেকেই তো বলে দিয়েছে আমাদের আর থাকতে দেবে না। তাই বাধ্য হয়ে চলে যাচ্ছি নিজের দেশে। বাংলাদেশের লোক ধরলেই জেলে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। এখন সুযোগ দিয়েছে ফেরত চলে যাওয়ার, তাই চলে যাচ্ছি।’ নাজমার দাবি তিনি যশোরের আদি বাসিন্দা।

‘ভারতে আর ফিরব না’
নিজেকে সাতক্ষীরার বাসিন্দা বলে দাবি করা রাইসা পারভিন বলেন, ‘বিজেপি যখন থেকে জিতে এসেছে, তারপর থেকেই বলছে বাংলাদেশিদের আর থাকতে দেবে না। তাই আমি, আমার স্বামী, সন্তানদের নিয়ে চলে যেতে চাই। এসআইআরের সময়ে যখন অনেকে বাংলাদেশে চলে গেছে, সেই সময়েই আমার বাবা-মা ফিরে গেছেন।’

শেখ মাসুদ রানা নামে আরেকজন বলেন, ‘সরকারি ঘোষণা তো আছেই, একই সঙ্গে তারা যে অঞ্চলে থাকতেন, সেখানকার পুলিশ কড়াকড়ি করছে। বাড়িওয়ালারাও আর থাকতে দিতে চাইছে না।’

সীমান্তে জড়ো হওয়া আরও কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি বাংলা। তাদের মধ্যে আছেন আখতারুল মোড়ল। তিনি বলেন, ‘পুলিশ এসে ঝামেলা করছে, বলছে বাংলাদেশিরা ভাগো। আগেরবার যখন এসআইআর হলো, সেই সময়ে চলে গেলেই ভালো হতো।’ শাহিন আলম মোল্লা নামে আরেকজন বলেন, তিনি আর ‘অবৈধ পথে’ ভারতে ফিরবেন না। ফিরলেও বৈধভাবে পাসপোর্ট নিয়ে বেড়াতে যাবেন।

৭০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার লন্ডনে ব্যালন ডি’অর আয়োজন

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর এবার গড়তে যাচ্ছে নতুন ইতিহাস। দীর্ঘদিনের প্যারিসের ঐতিহ্য ভেঙে প্রথমবারের মতো এই জমকালো আয়োজন বসবে লন্ডনে।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, ব্যালন ডি’অরের ৭০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ২৬ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে অনুষ্ঠিত হবে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। ১৯৫৬ সালে ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিনের হাত ধরে যাত্রা শুরু হওয়া এই পুরস্কারের প্রথম বিজয়ী ছিলেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি স্ট্যানলি ম্যাথিউজ।

উয়েফা জানিয়েছে, প্রথম ব্যালন ডি’অরজয়ী স্ট্যানলি ম্যাথিউজের প্রতি সম্মান জানাতেই এবারের বিশেষ আয়োজনের জন্য লন্ডনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। যদিও অনুষ্ঠানটি লন্ডনের ঠিক কোন ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

ফুটবল বিশ্বে ব্যক্তিগত অর্জনের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত ব্যালন ডি’অর গত দেড় দশক ধরে ছিল দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দখলে। মেসি রেকর্ড আটবার এই পুরস্কার জিতেছেন, আর রোনালদোর ঝুলিতে রয়েছে পাঁচটি ব্যালন ডি’অর।

সবশেষ আসরে পুরুষদের বিভাগে বিজয়ী হন ফরাসি তারকা উসমান দেম্বেলে এবং নারীদের বিভাগে বর্ষসেরা নির্বাচিত হন স্পেনের আইতানা বনমাতি।

দীর্ঘদিনের প্যারিস অধ্যায়ের বাইরে গিয়ে লন্ডনে ব্যালন ডি’অরের এবারের আয়োজন ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি করেছে বাড়তি কৌতূহল ও উচ্ছ্বাস। ঐতিহ্য আর নতুনত্বের মিশেলে ৭০তম আসরকে ঘিরে এখন থেকেই বাড়ছে বিশ্বজুড়ে আলোচনা।

উত্তর প্রদেশে ঝড়ে নির্মাণাধীন সেতু ধস, নিহত ৬

ভারতের উত্তর প্রদেশে প্রবল ঝড়ে নির্মাণাধীন ভবন ধসে অন্তত ছয় শ্রমিক নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। শুক্রবার রাত প্রায় ২টার দিকে উত্তর প্রদেশের হামিরপুর জেলায় এ ঘটনা ঘটে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,বেতওয়া নদীর উপরের নির্মাণাধীন সেতুটি কুরারা এলাকার মার্কান্দার পার্সনির সঙ্গে নেথি গ্রামকে সংযুক্ত করেছিল। কিন্তু প্রবল ঝড়ে মধ্যে সেতুটির একটি অংশ ধসে পড়ে। এ সময় সেতুটির বড় একটি স্ল্যাব নিচে পড়ে যায়। এতে নিচে থাকা শ্রমিকদের ওপর কংক্রিটের বিশাল অংশ ও লোহার কাঠামো ধসে পড়ে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল এসে অভিযান শুরু করে।

পুলিশ, জরুরি দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনী এসডিআরএফ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আটকাপড়াদের উদ্ধারে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে। উদ্ধারকারী দলগুলো ক্রেন ও ভারী মেশিনপত্র ব্যবহার করে ধসে পড়া স্ল্যাবের নিচে আটকা পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

এদিকে তিনজন শ্রমিক সেতুটির একটি পিলারের উপরে আটকা পড়েছেন। তাদের নিরাপদে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কী কারণে সেতুটির একটি অংশ ধসে পড়ল তা বের করতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

ট্রাম্প কি ইরানের সঙ্গে চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছেন?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে যুদ্ধ সংক্রান্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর আগে এখনো বেশ কিছু জটিল বিষয় নিয়ে সমাধানে আসতে হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

বিবিসির পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিল, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কি চুক্তি স্বাক্ষরের কাছাকাছি পৌঁছেছেন কি না। জবাবে ভ্যান্স বলেন, দুই পক্ষ ‘কখন বা আদৌ’ কোনো চুক্তি চূড়ান্ত করবে এটি বলা এখনো বলা যাচ্ছে না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হতে পারে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে।

এর আগে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানান, ট্রাম্প ও ইরানের নেতৃত্বের অনুমোদনের অপেক্ষায় থেকে দুই দেশ একটি চুক্তির কাঠামোয় সম্মত হয়েছে। তবে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত বা নিশ্চিত হয়নি।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কথা বলতে গিয়ে ভ্যান্স বলেন, আলোচকরা ‘ভাষাগত কয়েকটি বিষয় নিয়ে বার বার আলোচনা’ করছেন, যার মধ্যে ইউরেনিয়াম ‘সমৃদ্ধকরণ’ প্রসঙ্গও রয়েছে।

সমঝোতার বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এখনও সেখানে পৌঁছাইনি, কিন্তু আমরা খুব কাছাকাছি এবং আমরা কাজ চালিয়ে যাব’।

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে ইরানকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন বন্ধ করতে হবে এবং তাদের বিদ্যমান মজুদের নিষ্পত্তি করতে হবে, যা তাত্ত্বিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে।

ওয়াশিংটন ডিসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ভ্যান্স আশাবাদী সুরে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে ইরান ‘সৎ উদ্দেশ্যে’ আলোচনা করছে।

৮ই এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে দুই পক্ষ চুক্তির কাছাকাছি এবং আলোচনা এগোচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া যায়নি।

যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের মিত্র দেশগুলো, যুদ্ধবিরোধী ডেমোক্র্যাটরা এবং কংগ্রেসের কিছু রিপাবলিকান সদস্যও এর মধ্যে রয়েছেন, যারা সংঘাত কতদিন চলবে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে বৃহস্পতিবারের পরস্পরবিরোধী প্রতিবেদনগুলো দেখিয়েছে যে আলোচনা এখনো পরিবর্তনশীল অবস্থায় রয়েছে।

দুই দেশই একে অপরের দাবিকে অস্বীকার করেছে এবং প্রস্তাবিত চুক্তি সম্পর্কে খুব কম তথ্য দিয়েছে, ফলে বাস্তবে এই দুই পক্ষ কতটা কাছাকাছি অবস্থান করছে – তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে।

ট্রাম্প ও অন্যান্য কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, ‘অপশন বি’, অর্থাৎ আবার সামরিক অভিযান এখনো বিবেচনায় রয়েছে।

অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা আরও জটিল ও প্রযুক্তিগত বিষয়, বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং তাদের অবশিষ্ট উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম মজুদ নিয়ে আলোচনা করতে পারবে।

ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র সেটি নিজেদের দখলে নিতে পারে, অথবা ইরানের সঙ্গে মিলিয়ে সেখানেই কিংবা তৃতীয় কোনো স্থানে তা হ্রাস করতে পারে।

বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন বলছে, সম্ভাব্য এই চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ‘নিরবচ্ছিন্ন’ যাতায়াতের অনুমতি থাকতে পারে এবং ইরানকে ৩০ দিনের মধ্যে এই সংকীর্ণ নৌপথ থেকে মাইন অপসারণ করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ অবরোধ তুলে নেবে এবং নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দেবে, যাতে ইরান আবার তেল বিক্রি শুরু করতে পারে।

মার্কিন সংবাদ মাধ্যম অ্যাক্সিওস, যারা বৃহস্পতিবার প্রথম যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতার খবর দেয়, জানিয়েছে ট্রাম্পকে প্রস্তাবটি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে, তবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অনুমোদন দেননি এবং বিবেচনার জন্য কয়েক দিন সময় নেবেন।

বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দুই দেশের মধ্যে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকের অনানুষ্ঠানিক খসড়ার বিভিন্ন দিক প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনটিতে ওয়াশিংটনের আরোপিত ইরানি বন্দর অবরোধ তুলে নেওয়া, ‘ইরানের নিকটবর্তী অঞ্চল’ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেসামরিক চলাচল পুনরুদ্ধারের কথা উল্লেখ ছিল যেখানে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় ইরান ও ওমান যুক্ত থাকবে।

হোয়াইট হাউস এই তথাকথিত খসড়াকে ‘সম্পূর্ণ মনগড়া’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

বিশ্বের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলের এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয় এবং এই পথ বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যে প্রভাব পড়েছে।

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ব্রিফিংয়ে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট কোনো চুক্তি হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানান।

তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের আগে কোনো বিষয়ে এগিয়ে কথা বলা সবসময়ই ভুল এবং শেষ সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্টই নেবেন’।

ইরানের জন্য সম্ভাব্য শান্তিচুক্তিতে ‘পুনর্গঠন’ অন্তর্ভুক্ত থাকবে কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চুক্তিতে পৌঁছানোর আগেই অন্য দিক নিয়ে কথা বলা যাবে না’।

এদিকে সাম্প্রতিক কয়েক দিনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই একে অপরের বিরুদ্ধে নাজুক অবস্থায় থাকা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানে নতুন মার্কিন হামলার পর বৃহস্পতিবার তারা অঞ্চলের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।

ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির বাহিনী একটি মার্কিন বিমান, সম্ভবত ড্রোন, ভূপাতিত করেছে।

তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এই দাবি নাকচ করে সামাজিক মাধ্যমে বলেছে, ‘কোনো মার্কিন বিমান ভূপাতিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সকল আকাশযান হিসাবমতোই আছে’।

ঈদের দিন রামিসার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন রিজভী

রামিসাদের পল্লবীর বাসায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার শিশু রামিসা আক্তারের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। আজ বৃহস্পতিবার ঈদুল আজহার দিনে রামিসাদের পল্লবীর বাসায় যান তিনি। এ সময় তিনি রামিসার পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন।

এ সময় রামিসার বাবার কান্নায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়ে রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে রামিসার পরিবারের খোঁজ নিতে এসেছি। হত্যাকারী ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন। বড় মেয়ে রাইসার পড়ালেখার দায়িত্বও নিয়েছেন তিনি। আমরা সবাই রাইসার আত্মীয় হিসেবে তাদের পরিবারের পাশে থাকব।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম, সদস্য মাহবুবুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক ড. ইকবালুর রহমান রোকন।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ৮ বছর বয়সী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সোহেল রানা নামে এক ব্যক্তি ও তার স্ত্রীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ২৪ মে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট আমলে গ্রহণ করে আগামী ১ জুন চার্জ গঠনের শুনানির দিন ঠিক করেছেন।

ঈদের ছুটিতে দর্শনার্থীদের নতুন আকর্ষণ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’

রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানায় সম্প্রতি আনা বিরল প্রজাতির বিরল অ্যালবিনো জাতের সাদা মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ দেখতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঈদের পরদিন বিকেল থেকেই চিড়িয়াখানার এল-৭ নম্বর খাঁচার সামনে দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদের দিন দর্শনার্থীর উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও দ্বিতীয় দিন থেকে সাদা মহিষটি দেখতে মানুষের আগ্রহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। ফলে চিড়িয়াখানার অন্যান্য প্রাণীর খাঁচার তুলনায় মহিষটির খাঁচার সামনেই সবচেয়ে বেশি ভিড় পরিলক্ষিত হচ্ছে।

দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে খাঁচার সামনে একটি পরিচিতিমূলক ট্যাগ সংযুক্ত করা হয়েছে। সেখানে বাংলা ভাষায় ‘সাদা মহিষ’ এবং ইংরেজিতে ‘Albino Buffalo’ লেখা রয়েছে। প্রাণীটির ব্যতিক্রমী রং ও বিরল বৈশিষ্ট্য দর্শনার্থীদের মধ্যে বাড়তি কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, গত বুধবার রাতে মহিষটি জাতীয় চিড়িয়াখানায় আনা হয়। পরদিন সকাল থেকেই এটিকে ঘিরে দর্শনার্থীদের আগ্রহ বাড়তে শুরু করে। নতুন ও বিরল বৈশিষ্ট্যের প্রাণী হওয়ায় প্রতিদিনই এটি দেখতে মানুষের ভিড় বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমেও আলোচিত এই অ্যালবিনো মহিষটি বর্তমানে জাতীয় চিড়িয়াখানার অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। এর ফলে ঈদের ছুটিতে চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীর উপস্থিতিও বেড়েছে এবং পুরো পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।

কোরবানির বর্জ্য অপসারণ দেখতে ঢাকায় ঘুরছেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর কোরবানির পশুবর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালিয়ে বিভিন্ন সড়কের পরিস্থিতি দেখেন।

তিনি বলেন, রাজধানীর কুরবানির বর্জ্য অপসারণ প্রক্রিয়া ভালোভাবে হচ্ছে কিনা তা দেখতে বেরিয়েছেন তিনি। নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি গুলশান এভিনিউয়ের বাসা থেকে বেরিয়ে গুলশান-১ নম্বর মোড় হয়ে হাতিঝিল, রামপুরা রোড, মালিবাগের আবুল হোটেল দিয়ে তালতলা মার্কেট হয়ে বাসাবোর দিকে গেছে বলে জানান উপ প্রেস সচিব।

এরপর কমলাপুর স্টেডিয়াম, সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড, যাত্রাবাড়ী মোড়, ধোলাই খাল হয়ে শহীদ ফারুক সড়ক, দয়াগঞ্জ সড়ক দিয়ে নারিন্দা হয়ে রায়সাহেব বাজার মোড় দিয়ে আদালত সড়ক দিয়ে নয়া বাজার, বংশাল রোড হয়ে গুলিস্তান, শাহবাগ, এলিফেন্ট রোড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে নিউ মার্কেট হয়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে ডান দিকে কলাবাগান, মিরপুর রোড, সিটি কলেজের সামনে দিয়ে সীমান্ত স্কয়ার হয়ে জিগাতলা বাসস্ট্যান্ড দিয়ে ধানমন্ডি সাত মসজিদ রোড, ২৭ নম্বর সড়ক দিয়ে মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে পান্থপথ, ফার্মগেট, বিজয় সরণি হয়ে মহাখালী সড়কের পরিস্থিতিও প্রধানমন্ত্রী দেখবেন।

উপ প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় সিগন্যাল মেনে গাড়ি থামিয়েছেন।

বাবা-মা ও ভাইয়ের কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী

পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজ আদায়ের পর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ শেষে সকাল ৮টা ৩৮ মিনিটে শেরেবাংলা নগরে বাবা-মায়ের সমাধিস্থলে যান প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। প্রথমে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণী একান্তে কবর জিয়ারত করেন। পরে ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেন।

এরপর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের নেতাদের নিয়ে বাবা-মায়ের কবরে ফাতেহা পাঠ করেন এবং বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। পরে নেতাদের সঙ্গে নিয়ে কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা একেএম শামসুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান এবং সংসদ সদস্য এসএম জাহাঙ্গীর।

পরে প্রধানমন্ত্রী বনানীতে ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর কবরে যান। সেখানেও ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেন এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

ঝুম বৃষ্টিতে শোলাকিয়া ঈদগায় ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জর ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহে এবার ১৯৯তম ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে কয়েকদিন ধরে বৃষ্টির কারণে মাঠ ছিল নামাজের অনুপযুক্ত। এর মধ্যে ঈদের জামাতের দ্বিতীয় রাকাত থেকেই মুষলধারে শুরু হয় বৃষ্টি। ফলে মুসল্লিরা জুবুথুবু হয়েই নামাজ আদায় করেন।

সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত জামাতে ইমামতি করেন শহরের বড় বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। জামাতের আগে মুসল্লিদের ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের এমপি মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের এমপি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইশতিয়াক ইমন।

শোলাকিয়ার সুদীর্ঘকালের ঐহিত্য অনুসারে জামাত শুরুর ১০ মিনিটি আগে তিনটি, পাঁচ মিনিট আগে দু’টি এবং এক মিনিট আগে একটি শটগানের গুলি ফুটিয়ে জামাত শুরুর সংকেত দেওয়া হয়। প্রথম তিনটি গুলি ছোড়েন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।

7 1779944562

জামাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিপুল সংখ্যক পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন ছিল দুই প্লাটুন বিজিবি র‌্যাব, সিআইডি ও পিবিআই। ব্যবহার করা হয় ড্রোন ক্যামেরা। ছিল পুলিশ ও র‌্যাবের ওয়াচটাওয়ার, পর্যাপ্ত সংখ্যক সিসি ক্যামেরা, আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর ও এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের বোমা নিষ্ক্রীয়করণ দল।

বরাবরের মত এবারও দূরবর্তী মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে সকালে দু’টি শোলাকিয়া স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করে রেলওয়ে বিভাগ। তবে পশু কোরবানির বিষয় থাকে বলে ঈদুল আজহার জামাতে ঈদুল ফিতরের তুলনায় মুসল্লির সমাগম কম হয়েছে। নামাজ শেষে মোনাজাতে ইমাম মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। উপস্থিত মুসল্লিদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদসহ প্রয়াত জাতীয় নেতাদের আত্মার শান্তি কামনা করেন। সরকার পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাফল্য কামনা করেন।

আসিফ ইকবালের কথায় গাইলেন কনা ও পারভেজ, রোমান্সে মাতলেন শুভ-মিম

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে আসতে চলেছে সাইফ চন্দন পরিচালিত অ্যাকশন সিনেমা ‘মালিক’। সদ্য প্রকাশ পাওয়া ট্রেলার ও প্রথম গান ‘গুলগুলি পিঠা’ ইতোমধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে দর্শকমহলে। সেই সিনেমারই দ্বিতীয় গান ‘দিলাম তোমায় কথা’ প্রকাশ্যে এলো সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। নতুন এই রোম্যান্টিক গানে দেখা গেছে আরিফিন শুভ ও বিদ্যা সিনহা মিম জুটির দারুণ রসায়ন।

বুধবার (২৭ মে) টাইগার মিডিয়ার ইউটিউব চ্যানেলে অবমুক্ত করা হয়েছে সিনেমাটির এই দ্বিতীয় গান। গানটি লিখেছেন অসংখ্য জনপ্রিয় গানের গীতিকার আসিফ ইকবাল। বিশেষ করে সিনেমায় তার লেখা ‘প্রিয়তমা’ ছবির ‘ও প্রিয়তমা’গানটি প্রকাশের পর টানা দুই মাস গ্লোবাল মিউজিক ভিডিও বিভাগে সেরা ১০০ গানের তালিকায় ছিল। প্রহেলিকা ছবির ‘মেঘের নৌকা’ গানটিও দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার তিনি গান লিখেছেন ঈদের সিনেমা মালিকে।

গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন অদিত রহমান। আর এতে কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী দিলশাদ নাহার কনা ও পারভেজ খান।

অ্যাকশন ও গ্যাংস্টার আবহের বাইরে গানটিতে শুভ ও মিমের ভরপুর রোম্যান্স ফুটে উঠেছে। মিউজিক ভিডিওর দৃশ্যগুলোতে এই জুটির একে অপরের চোখের ভাষায় যেন অন্যরকম এক মুগ্ধতা ছড়াতে দেখা গেছে। সিনেমার অ্যাকশন হিরোর এমন প্রেমিক অবতার এবং মিমের সঙ্গে তার নিখুঁত খুনসুটি ও আবেদনময়ী এক্সপ্রেশন গানটিতে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে, যা দর্শক-শ্রোতাদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করছে।

এর আগে গত সোমবার (২৫ মে) সিনেমাটির প্রথম আইটেম সং ‘গুলগুলি পিঠা’ প্রকাশ পেয়েছিল, যা মুহূর্তেই বেশ সাড়া ফেলে। ট্রেলারের পর আইটেম গান দিয়ে ঈদের বাজারে যে শক্ত অবস্থান তৈরির আভাস মিলেছিল, এবার ‘দিলাম তোমায় কথা’ গানটি দিয়ে সেই উন্মাদনা আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিল ‘মালিক’ সিনেমা।