Home Blog Page 109

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টাইব্রেকারে আর্সেনালের স্বপ্ন ভেঙে চ্যাম্পিয়ন পিএসজি

কয়েক দিন আগেই ২২ বছরের দীর্ঘ খরা কাটিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিল আর্সেনাল। গানার্সদের সামনে সুযোগ ছিল একই মৌসুমে ঘরোয়া ও ইউরোপসেরার ‘ডাবল’ জয়ের ইতিহাস গড়ার। কিন্তু মিকেল আর্তেতার সেই স্বপ্নপূরণ হতে দিল না প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি)। নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং এরপর আরও ৩০ মিনিটের অতিরিক্ত সময়েও কোনো দল জয়সূচক গোল না পাওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে আর্সেনালকে ৫-৪ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ইউরোপীয় শিরোপা ধরে রাখে ফরাসি ক্লাবটি।

শনিবার হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শুরু হয় ইউরোপ সেরার মুকুট নির্ধারণের এই মহারণ। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই পিএসজির জালে বল জড়ায় আর্সেনাল। কাই হার্ভেজের গোলে এগিয়ে যায় আর্সেনাল। প্রথমার্ধে দুদল একাধিক সুযোগ পেলেও গোলের দেখা পায়নি। দ্বিতীয়ার্ধে গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে উঠে পিএসজি। ৬৫ মিনিটে ডিবক্সে ফাউলের জেরে পেনাল্টি পায় ফরাসি ক্লাবটি। উসমান দেম্বেলে গোল করতে কোনও ভুল করেননি। আর এতেই সমতা ফেরে।

পুরো ম্যাচ জুড়ে ফরাসি ক্লাবটি একের পর এক আক্রমণ চালায়। আর্সেনাল মূলত মেতেছিল তাদের অতি-রক্ষণাত্মক ‘বাস পার্কিং’ কৌশলে। শেষ পর্যন্ত এই অতি-রক্ষণাত্মক ফুটবলই কাল হলো আর্তেতার দলের জন্য। নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচ।

সেখান থেকে টাইব্রেকারে দুই দলের খেলোয়াড়দের ওপর জেঁকে বসে পাহাড়সম চাপ। পিএসজির হয়ে গনজালো রামোস এবং আর্সেনালের ভিক্টর গিওকেরেস প্রথম শটেই গোল করেন। পিএসজি তাদের দ্বিতীয় শটেও সফল হয়। তবে আর্সেনালের ইংলিশ মিডফিল্ডার এবেরেচি এজে বল গোলপোস্টের বাইরে মারলে পেনাল্টিতেই শিরোপার সুবাস পেতে শুরু করে ফরাসিরা।

ঠিক পরের শটে পিএসজির মেন্দেসের শট রুখে দিয়ে আর্সেনালকে আবারও লাইফলাইন এনে দিয়েছিলেন গানার্স গোলকিপার ডেভিড রায়া। এরপর আর্সেনালের ডেকলান রাইস ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি এবং পিএসজির আশরাফ হাকিমিরা যার যার শটে জাল কাঁপায়। শেষ পর্যন্ত ৫-৪ ব্যবধানের জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপসেরা হওয়ার বন্য উল্লাসে মাতে পিএসজি।

সামান্থাকে প্রতারণার অভিযোগ, আইনি লড়াইয়ে নাগা চৈতন্য

সাবেক স্ত্রী অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভুকে প্রতারণা করা এবং তার ক্যারিয়ার নষ্ট করার মতো অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তেলুগু অভিনেতা নাগা চৈতন্য। নিজের নাম, ছবি ও পরিচয় অনলাইনে অপব্যবহার করে প্রচারিত বিভিন্ন কনটেন্টের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা চেয়েছেন তিনি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নাগা চৈতন্য আদালতে দায়ের করা আবেদনে অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তার নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এর মধ্যে সাবেক স্ত্রী সামান্থা রুথ প্রভুর সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদকে কেন্দ্র করে নানা দাবি ও পরকীয়ার অভিযোগও রয়েছে।

গত ২৯ মে বিচারপতি জ্যোতি সিংয়ের বেঞ্চে বিষয়টির শুনানি হয়। শুনানিতে নাগা চৈতন্যের আইনজীবী বৈভব গগ্গর আদালতকে বলেন, কিছু অনলাইন কনটেন্টে অভিনেতাকে সামান্থার সঙ্গে প্রতারণাকারী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে এবং দাবি করা হয়েছে যে তিনি তার সাবেক স্ত্রীর ক্যারিয়ার ধ্বংস করেছেন।

আইনজীবীর ভাষ্য, এসব বিষয় ন্যায্য সমালোচনার মধ্যে পড়ে না, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ট্রলিং। তিনি আরও জানান, অভিনেতার সম্মতি ছাড়া তার পরিচয় ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ভিডিও ও আপত্তিকর কনটেন্টও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

আদালতে নাগা চৈতন্যের পক্ষ থেকে বলা হয়, এক দশকের বেশি সময় ধরে তিনি তেলুগু চলচ্চিত্রে কাজ করছেন এবং ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তার বিপুল ভক্ত রয়েছে। এ ধরনের অননুমোদিত কনটেন্ট তার সুনাম, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও জনসম্মুখের ভাবমূর্তির ক্ষতি করছে।

শুনানি শেষে দিল্লি হাইকোর্ট বিবাদীপক্ষকে সমন জারি করেছে। একই সঙ্গে নাগা চৈতন্যের ব্যক্তিগত অধিকার সুরক্ষায় অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে আদালত।

২০১৭ সালে নাগা চৈতন্য ও সামান্থা রুথ প্রভুর বিয়ে হয়। ২০২১ সালে তারা বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই তাদের বিচ্ছেদ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা ছড়িয়ে পড়ে।

নামাজের সময় মেলার মাইক বন্ধের অনুরোধ, ইমামের ওপর হামলা

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এশার নামাজের সময় উচ্চ স্বরে মাইকিংয়ের প্রতিবাদ করায় এক মসজিদের ইমামের ওপর বর্বর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৯ মে) রাতে উপজেলার যশরা ইউনিয়নের বখুরা সরদারবাড়ি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

হামলায় সরদারবাড়ি মসজিদের ইমাম মাওলানা ইউসুফ হোসেনের বাঁ চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শনিবার সকালে গফরগাঁও পৌর শহরের জামতলা মোড়ে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় আলেম-ওলামারা।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে বখুরা সরদারবাড়ি এলাকায় মসজিদের ঠিক পাশেই স্থানীয় কিছু যুবক মেলার আয়োজন করেন। গতকাল শুক্রবার রাতে এশার নামাজের ওয়াক্ত চলাকালীন মেলায় উচ্চ স্বরে মাইক বাজানো হচ্ছিল। এতে মসজিদের ভেতরে নামাজের প্রচণ্ড ব্যাঘাত ঘটায় ইমাম মাওলানা ইউসুফ হোসেন মেলার আয়োজকদের সাময়িকভাবে মাইকটি বন্ধ করার অনুরোধ করেন। কিন্তু এই অনুরোধে ক্ষিপ্ত হয়ে মেলার আয়োজকেরা ইমামের ওপর চড়াও হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ইমামের ওপর বেধড়ক হামলা চালানো হয়। এতে তার বাঁ চোখে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এদিকে, ইমামের ওপর এই হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে শনিবার সকালে গফরগাঁও পৌর শহরের জামতলা মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন আলেম-ওলামারা। সমাবেশে বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নামাজের সময় মাইক বন্ধের অনুরোধ করা কোনো অপরাধ নয়। একজন ইমামের ওপর এমন বর্বর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দোষী ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মানবাধিকার ও সাংবাদিক সংস্থার চেয়ারম্যান একরাম উল্লাহ, খায়রুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি জহিরুল ইসলাম উসমানী, ময়মনসিংহ জেলা দক্ষিণ বিএনপির সদস্য ফজলুল হক, মাদকবিরোধী ইসলামী সাংস্কৃতিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাওলানা ইউসুফ বিন মনির এবং ইত্তেফাকুল উলামা গফরগাঁও শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হুমায়ুন কবিরসহ স্থানীয় ওলামা মাশায়েখ ও সাধারণ মুসল্লিরা।

জানতে চাইলে গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আতিকুর রহমান বলেন, এই হামলার ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। জড়িতরা পলাতক রয়েছে। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যে মাঠে কাজ শুরু করেছে।

গোপালগঞ্জে শিশুকে বলৎকারের অভিযোগ, কিশোর গ্রেপ্তার

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বিসিক ব্রিজ মোড় সংলগ্ন এলাকায় ৮ বছরের শিশুকে বলৎকারের অভিযোগে এক কিশোরকে (১৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন।

আটক কিশোর বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার ভান্ডারখোলা গ্রামের মো. সিদ্দিক মোল্লার ছেলে। তিনি গোপালগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরী এলাকার মধুমতি বেকারিতে কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিসিক ব্রিজ মোড় সংলগ্ন মধুমতি বেকারির দ্বিতীয় তলায় ২০ টাকার লোভ দেখিয়ে শিশুটিকে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করে। ঘটনাটি টের পেয়ে স্থানীয়রা শফিকুলকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে ভিকটিম শিশুকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পাঠায় এবং অভিযুক্তকে আটক করে।

এ ঘটনায় শিশুটির মা সাংবাদিকদের বলেন, আমার ছেলে বাসা থেকে পাশেই তার দাদার বাড়িতে যাচ্ছিল। এ সময় বিসিক ব্রিজের ওপর থেকে তাকে টাকা ও খাবারের লোভ দেখিয়ে বেকারি কর্মচারী বেকারির দোতলায় নিয়ে যায়। সেখানে আমার ছেলের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হয়। আমি তার কঠোর শাস্তির দাবি জানাই।

এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) নয়ন চন্দ্র দেবনাথ  বলেন, শিশু নির্যাতনের ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। খবর পেয়ে শুক্রবার (২৯ মে) সন্ধ্যার আগে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। অসুস্থ শিশুটিকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় এবং ঘটনার মূল অভিযুক্তকে (১৫) আটক করা হয়।

তিনি আরও জানান, আসামি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রক্রিয়া শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ মোকাম রাজারহাটে চামড়া বিক্রি হচ্ছে ২৫-২৮ টাকা ফুট

হাটের এক কোণে কাঠফাটা রোদ্দুরে মাথায় গামছা প্যাঁচিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে আছেন নড়াইলের লক্ষীপাশার রনজিত দাস। পাশেই দাঁড়িয়ে তার বড় ছেলে রোমেন দাস। ৯০ পিস গরু ও ৫৫ পিস খাসির চামড়া নিয়ে এসেছেন তারা। আড়ৎদাররা চামড়া উল্টে পাল্টে দেখছেন। কিন্তু তারা যে দাম বলছেন; তাতে বিক্রি করতে রাজি হচ্ছেন না রনজিত।

তিনি জানান, বাড়ি বাড়ি ঘুরে ৫ শ’ থেকে ৯ শ’ টাকা পর্যন্ত গরুর চামড়া কিনেছি। আর খাসির চামড়া ৫০ থেকে দেড় শ’ টাকা পর্যন্ত। এরপর প্রতিটি গরুর চামড়ায় লবণ লেগেছে একশ টাকার। খাসির চামড়ায় ২০ টাকা। লবণ শ্রমিক, বাজারে আনতে সব মিলিয়ে প্রতিটি চামড়ায় খরচ হয়েছে দেড় শ’ থেকে দুই শ’ টাকা পর্যন্ত। অথচ হাটে গরুর চামড়া সর্বোচ্চ বলছে আটশ’ টাকা। আর খাসি ৫০ টাকা।

রনজিত বলেন, সরকারের বেধে দেওয়া দর অনুযায়ী আমার প্রতিটি গরুর চামড়ার দাম হয় ১৫ শ’ থেকে ১৭ শ’ টাকা। অথচ বাজারে এনে দাম বলছে অর্ধেক। তাদের দামে চামড়া দিলে আসলও থাকবে না!

দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ চামড়ার মোকাম যশোরের রাজারহাটে কুরবানি পরবর্তী প্রথম হাট ছিল শনিবার। কাঁকডাকা ভোর থেকেই খুলনা বিভাগের ১০ জেলা ও ঢাকার গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ি থেকে মৌসুমী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন যানবাহন ভর্তি করে চামড়া নিয়ে এসেছেন। অন্তত ১৫ হাজার চামড়া উঠলেও বাইরের পাইকার ও ট্যানারি মালিকের প্রতিনিধিরা না আসায় বেচাকেনা জমেনি। সরকার নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষা করে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অর্ধেকেরও কম দামে চামড়া কিনছেন বলে অভিযোগ করেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলোও। সরকার এবার জেলা পর্যায়ে গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে। এ ছাড়া খাসির চামড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরির চামড়া ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সে হিসাবে মাঝারি গরুর চামড়ার মূল্য হওয়ার কথা ৯৫০ থেকে ১২০০ টাকা এবং বড় গরুর চামড়া ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত। অথচ যশোরের বাজারে মাঝারি গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ আর বড় সর্বোচ্চ ৮০০ টাকা। সেই অনুযায়ী সরকারের নির্ধারিতের চেয়ে যশোরের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা ফুট।

চামড়া বিক্রেতাদের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। সরকারি রেট কার্যকরে প্রশাসনের কোনো তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করছে। তবে চামড়া ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, সরকার দাম বাড়ালেও ট্যানারি মালিকরা সেই দামে চামড়া কিনতে রাজি নন।

বাগেরহাট থেকে আমজেদ বিশ্বাস নামে এক মৌসুমি ব্যবসায়ী বলেন, পিকআপ ভ্যানে করে ৪০০ গরুর চামড়া এনেছি। প্রতিটি চামড়া আড়তদাররা দিতে চাচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা করে। সরকারি বেঁধে দেওয়া দামে বিক্রি হলে প্রতি গরুর চামড়ার দাম পেতাম ১ হাজার ২৫০ টাকার বেশি। কিন্তু চামড়ার পাইকারি ব্যবসায়ীরা নিজেদের মতো দাম বলে চামড়া কেনাবেচা করছে। প্রতিটি গরুর ৩০ থেকে ৩৫ ফুট পর্যন্ত চামড়া হয়। সেই ক্ষেত্রে সরকারি রেটে চামড়ার দাম হবে ২১০০ টাকা। অথচ যশোরের বাজারে সর্বোচ্চ বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে এক হাজার। তাহলে ফুট পড়ছে ২৮ টাকা পর্যন্ত। সরকারি রেট কার্যকর হলে ছোট ব্যবসায়ীরা লাভবান হতো।

রমেন দাস নামে আরেক মৌসুমি ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলেন, প্রতি বছর লোকসান করে ব্যবসা করে যাচ্ছি। সিন্ডিকেটে আমাদের ব্যবসাটা একটি গোষ্ঠী শেষ করে দিচ্ছে। কোনো সরকারই এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল না।

তবে আড়তদার গিয়াজ উদ্দিন বলেন, সরকারি দরের চেয়ে ২০ টাকা কমে আমাদের চামড়া কিনতে হয়। কেননা কাঁচা চামড়া কিনে লবণজাত, শ্রমিক ও ঢাকাতে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি চামড়া দুই শ’ টাকা পর্যন্ত পড়ে যায়। আমরা ট্যানারি মালিকদের কাছে সরকারি বেঁধে দেওয়া দামে বিক্রি করতে পারছি না। যে কারণে সরকারি বেঁধে দেওয়া দামে চামড়া কেনাও আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ কেমিক্যালের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে ট্যানারি মালিকরা সরকারি দামে চামড়া কিনছেন নজ। ফলে দিন দিন চামড়ার দাম কমে যাচ্ছে।

রাজারহাট চামড়া মোকামের ইজারাদার রাজু আহম্মেদ বলেন, ঈদ-পরবর্তী প্রথম হাট হওয়াতে এদিন চামড়া উঠেছে কম, আবার বাইরের আড়তদার বা ট্যানারি মালিকের প্রতিনিধিরাও আসেননি। ফলে এদিন হাটে বিক্রিও হয়নি ভালো। আগামী কয়েকটি হাটে বেচাকেনা বাড়বে বলে আশা করা যায়।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার বসে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল সর্ববৃহৎ এই হাট। তিন শতাধিক আড়তদারের মাধ্যমে ঈদ মৌসুমে লক্ষাধিক পিস চামড়া বিক্রি হয় এখানে।

স্তন ক্যান্সারের লাখ লাখ রোগীর কেমোথেরাপি এড়ানো যেতে পারে: গবেষণা

স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত লাখ লাখ রোগীর সামনে কেমোথেরাপি এড়ানোর একটা সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার কথা জানিয়েছেন একদল গবেষক। তাদের দাবি, এমন এক ডিএনএ পরীক্ষা তারা উদ্ভাবন করেছেন, যেটা বলে দেবে, কেমোথেরাপি কোন রোগীর ক্ষেত্রে কাজ করবে, কার ক্ষেত্রে করবে না।

ইংল্যান্ডের ইউনিভার্টি কলেজ অব লন্ডনের (ইউসিএল) নেতৃত্বে এ গবেষণা হয় বলে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি।

গবেষণায় স্তন ক্যান্সার শনাক্ত হওয়া চার হাজারের বেশি রোগীকে যুক্ত করা হয়। এ তালিকায় যুক্তরাজ্য, নরওয়ে, সুইডেন, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও থাইল্যান্ডের রোগীরা ছিলেন, যাদের বয়স ৪০ বছরের বেশি।

আন্তর্জাতিক এই গবেষণায় দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষকে কেমোথেরাপি এড়িয়ে শুধু হরমোন থেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।

কেমোথেরাপি দেওয়ার ফলে সাধারণত একজন রোগীর মধ্যে ক্লান্তি, বমিভাব, চুল পড়া, প্রজননসংক্রান্ত সমস্যা কিংবা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো নানা স্বাস্থ্য জটিলতা দেখা দিতে পারে।

গবেষকরা এ পরীক্ষার নাম দিয়েছেন ‘প্রোসিগনা’। এই পরীক্ষায় ৫০টি জিনের গতিবিধি বিশ্লেষণ করা হয়, যেগুলো মূলত ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। বিশ্লেষণে মূলত এটাই হিসাব করা হয়, রোগটি ফিরে আসার সম্ভাবনা কতটা।

স্কোর যাদের কম, তাদের কেমোথেরাপি নেওয়া ছিল না। এই হার চার হাজারের দুই-তৃতীয়াংশ। এই দলে পাঁচ বছর পর্ন্ত বেঁচে থাকার হার ছিল ৯৩ দশমিক ৭ শতাংশ। আর কেমোথেরাপি নেওয়া রোগীদের মধ্যে এই হার ৯৪ দশমিক ৯ শতাংশ।

স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে সাধারণত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমারটি সরিয়ে ফেলা হয়। এরপর ক্যান্সার কোষ ফিরে আসার ঝুঁকি কমাতে কেমোথেরাপি দেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

ক্যান্সার কোষ শুধু লিম্ফ নোডের আশপাশে ছড়িয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা এমন রোগীদেরও কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। ইউসিএল বলেছে, চিকিৎসকরা একটা বিষয় নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। সেটা হলো- স্তন ক্যান্সারের অনেক রোগীর ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি সামান্যই কাজে আসে।

ইংল্যান্ডের এ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থার (এনএইচএস) অধীনে থাকা ৫ হাজারের বেশি রোগীর সামনে কেমোথেরাপি এড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এই গবেষণায় অংশগ্রহণ করেছিলেন কার্ডিফের বাসিন্দা কারেন বনহ্যাম। তিনি বলেন, গবেষণার ফল তার জন্য ‘খুবই স্বস্তির’ একটা খবর; অনেকটা ‘বড়দিনের উপহার’ পাওয়ার মতো।

‘প্রোসিগনা’ পরীক্ষার কারণে কেমোথেরাপি এড়াতে পেরেছেন ৬৪ বছরের এই রোগী। তিনি গত আট বছর রেডিওথেরাপি ও হরমোন থেরাপি নিয়েছেন।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ক্যান্সার শনাক্ত হওয়া এবং এর চিকিৎসা শুরু হওয়া— দুটোই জীবনে ধাক্কা দেওয়ার মতো ঘটনা। এটি আপনাকে অনিশ্চয়তার এক জগতে ঠেলে দেয়। জীবনের অগ্রাধিকারের তালিকা বদলে যায়; একটাই ইচ্ছা বেঁচে থাকে, সেটা বেঁচে থাকা।’

গবেষণার ফল যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে বিশ্বের বৃহত্তম ক্যান্সারবিষয়ক সম্মেলন— আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজির’ বার্ষিক সভায় তুলে ধরার কথা।

পরীক্ষা কার্ক্রমের প্রধান ছিলেন ইউসিএল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের স্তন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রোব স্টেইন। তিনি বলেন, এই ফল ক্যান্সার চিকিৎসাকে ব্যক্তিভেদে আলাদা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা যেতে পারে। এই গবেষণায় শুধু প্রচলিত ক্লিনিক্যাল বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করা হয়নি। পাশাপাশি টিউমারের জৈবিক বৈশিষ্ট্যকে ব্যবহার করা হয়েছে।

গবেষক রোব স্টেইন আরও বলেন, রোগীদের জন্য এর অর্থ হলো, অনেকেই কেমোথেরাপির শারীরিক ও মানসিক ধকল এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে মুক্তি পেতে পারেন। স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য এটি সম্পদের আরও যথাযথ ও প্রমাণভিত্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করবে।

তবে ইউসিএলের মতে, ৪০ বছরের কম বয়সী রোগীদের ক্ষেত্রে একই ফল প্রযোজ্য কি না, তা এখনও পরীক্ষা করে দেখা হয়নি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত ফল পেতে আরও কয়েক বছর লাগতে পারে।

ঈদের ছুটি শেষে সোমবার খুলছে অফিস-আদালত

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিনের ছুটি শেষে সোমবার খুলছে সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত, ব্যাংক-বিমা প্রতিষ্ঠান এবং দেশের পুঁজিবাজার।

এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা সাত দিনের ছুটি ভোগ করেছেন। দীর্ঘ ছুটি শেষে সোমবার থেকে কর্মস্থলে ফিরবেন লাখো চাকরিজীবী।

ছুটি শেষে দেশের সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস, ব্যাংক-বিমা কোম্পানি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং শেয়ারবাজারে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হবে। ঈদের আগে সীমিত পরিসরে কিছু ব্যাংক শাখা খোলা থাকলেও সোমবার থেকে দেশের সব ব্যাংকে স্বাভাবিক লেনদেন চলবে। একইসঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও নিয়মিত লেনদেন শুরু হবে।

এদিকে ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীমুখী মানুষের ফিরতি যাত্রা শুরু হয়েছে। শনিবার ও রোববার দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সড়ক, রেল ও নৌপথে কর্মজীবী মানুষ ঢাকায় ফিরছেন। ফলে রাজধানীর সড়কগুলোতেও ধীরে ধীরে যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করেছে।

মরিচক্ষেতে পড়ে ছিল ককটেল, বিস্ফোরণে আহত শিশু

শরীয়তপুরের জাজিরায় মরিচক্ষেতের পাশে পড়ে থাকা ককটেলসদৃশ বস্তু বিস্ফোরণে রাহাত মাদবর (১০) নামের এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। বিস্ফোরণের ফলে তার হাতের কবজি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে জাজিরা উপজেলার চরধুপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত রাহাত ওই এলাকার সামসু মাদবরের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সকালে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত ভিটায় লাগানো মরিচক্ষেত থেকে মরিচ আনতে যায় রাহাত। এ সময় বাবুল মাদবরের ভিটার মধ্যে পড়ে থাকা ককটেলসদৃশ একটি বস্তু দেখতে পেয়ে সেটি হাতে তুলে নেয়। পরে নাড়াচাড়ার একপর্যায়ে বিকট শব্দে সেটি বিস্ফোরিত হয়। এতে রাহাতের হাতের কবজি ছিটকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় রাহাতকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

আহত শিশুর চাচা বাবুল মাদবর বলেন, ‘কে বা কারা মরিচক্ষেতে ককটেল রেখে গেছে, তা তদন্ত করে বের করা প্রয়োজন। আমার ভাতিজা গুরুতর আহত হয়েছে।’

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ বলেন, শিশুটি কুড়িয়ে পাওয়া ককটেলটি খোলার চেষ্টা করলে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তার দুই হাতের কবজি পর্যন্ত গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যমুনা সেতুতে ৭ দিনে টোল আদায় ২২ কোটি টাকা পারাপার ২ লাখ ৮১ হাজার যানবাহন

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ঘরমুখী মানুষের ঢলে যমুনা সেতু ও এর দুই প্রান্তের মহাসড়কে তৈরি হয় বাড়তি চাপ। গত সাতদিনে সেতু দিয়ে পারাপার হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৮২ হাজার যানবাহন, টোল আদায় হয়েছে প্রায় ২২ কোটি টাকা। তবে এই রেকর্ড পারাপারের বিপরীতে যাত্রী ও চালকদের সঙ্গী হয়েছে দীর্ঘ অপেক্ষা, ধীরগতি ও যানজটের ভোগান্তি। অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে কয়েক দফায় টোল কার্যক্রমও বন্ধ রাখতে হয়।

যমুনা সেতু সাইট অফিস ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ থেকে ২৮ মে পর্যন্ত সাতদিনে সেতু দিয়ে মোট ২ লাখ ৮১ হাজার ৭৭৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে টোল আদায় হয়েছে ২১ কোটি ৭৪ লাখ ৯ হাজার ৭৫০ টাকা।

সবচেয়ে বেশি চাপ ছিল ২৬ মে। ওই দিন ২৪ ঘণ্টায় সেতু ব্যবহার করে ৫৬ হাজার ৩১৭টি যানবাহন, যা চলতি ঈদযাত্রায় সর্বোচ্চ। সেদিন টোল আদায় হয় ৩ কোটি ৮২ লাখ ৯২ হাজার ২৫০ টাকা। এর আগের দিন ২৫ মে পারাপার হয় ৫৩ হাজার ২৬৫টি যানবাহন; টোল আদায় হয় ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৩৯ হাজার ৯০০ টাকা।

সাতদিনের হিসাবে, ২২ মে পারাপার হয় ৩৪ হাজার ৯৬৬টি যানবাহন, ২৩ মে ৩২ হাজার ৬৪০, ২৪ মে ৩৯ হাজার ৯২৩, ২৭ মে ৪৫ হাজার ৯৪২ এবং ২৮ মে ১৮ হাজার ৭২১টি যানবাহন। শেষ দিনে চাপ কিছুটা কমলেও অস্বস্তি ছিল।

ঈদযাত্রার চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পূর্ব টোল প্লাজা পর্যন্ত কয়েক দিন যানবাহনের ধীরগতি ও যানজট দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক দফায় ৪০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার বেশি সময় টোল আদায় ও যানবাহন পারাপার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এর প্রভাব পড়ে উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী লেনেও। সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ, কড্ডা ও মুলিবাড়ী এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। অনেক পরিবহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধীরগতিতে চলে। তীব্র গরম, মাঝেমধ্যে বৃষ্টি এবং দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকায় দুর্ভোগ বাড়ে যাত্রী ও চালকদের।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হচ্ছে সেতুর ওপরে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, লেন পরিবর্তনের প্রতিযোগিতা, ওভারটেকের চেষ্টা ও অসতর্ক চলাচলের কারণে গত কয়েক দিনে প্রায় ৫০–৬০টি ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। যদিও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবে দুর্ঘটনার পরপরই সেতুর ওপর নতুন করে ধীরগতি ও যানজট তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চার লেন মহাসড়ক ও হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ চালু হওয়ায় পরিস্থিতি আগের তুলনায় কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও মূল সংকট এখনো যমুনা সেতুর সক্ষমতা। সেতুর সম্প্রসারণ বাস্তবায়ন না হলে প্রতি ঈদেই একই ধরনের চাপ ও ভোগান্তি ফিরে আসবে।

চামড়ার বাজারে এবারও ধস, সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম কেউ মানেনি

গত কয়েক বছরের মতো এবারও কোরবানির পশুর চামড়া বাজারে ধস নেমেছে। সরকারের বেঁধে দেওয়া দর মানেননি ট্যানারি মালিক ও বড় আড়ৎদাররা। চামড়ার বাজারগুলো থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক কমে কাঁচা চামড়া কিনেছেন তাঁরা। ফলে বিভিন্নস্থান থেকে সংগৃহীত চামড়া বিক্রি করতে এসে মৌসুমি ও ছোট চামড়া ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিভিন্ন মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও এতিমখানা সংশ্লিষ্টরাও পর্যাপ্ত দাম পাননি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদুল আজহায় কাঁচা চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রতি বছরের মতো এবারও দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল সরকার। এবার ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা গত বছরের তুলনায় ২ টাকা বেশি। তবে চামড়ার বাজারে সেই দামের প্রতিফলন দেখা যায়নি। রাজধানীসহ সারাদেশের বিভিন্ন এলাকায় বাজারগুলোতে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া বিক্রি হয়েছে সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক কমে। গত বছরের চেয়ে প্রতি পিস ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে মৌসুমি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। এছাড়া এবারও ছাগলের চামড়া কেনায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা।

মাঠপর্যায়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া বিক্রির জন্য মূলত ট্যানারি ও বড় আড়তদারদের ওপর নির্ভরশীল। ফলে তারা বাধ্য হয়েই কম দামে চামড়া কিনছেন এবং বিক্রি করছেন।

রাজধানীর বৃহত্ত্বম চামড়ার বাজার লালবাগের পোস্তার আড়ৎগুলো ঘুরে কাঁচা চামড়ার দর পতনের চিত্র পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর সেখানে দেখা গেছে, মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া নিয়ে এলেও সরকার নির্ধারিত মূল্য পাননি। তাদের অভিযোগ, প্রতি বছর ঈদের আগে সরকার দাম ঘোষণা করলেও বাজার তদারকিতে কার্যকর ভূমিকা দেখা যায় না। ফলে কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও ট্যানারি মালিক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন।

চামড়া ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ করতে লবণ, শ্রমিক ও পরিবহন মিলিয়ে গড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা খরচ হয়। সে হিসাবে সরকারি নির্ধারিত দাম অনুযায়ী বাজারে যে দর থাকার কথা, বাস্তবে তার অর্ধেকেরও কমে বিক্রি হচ্ছে অধিকাংশ চামড়া।

পোস্তা বাজারে ২০ পিস গরুর চামড়া বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছিলেন মৌসুমি ব্যবসায়ী আকমল হোসেন। তিনি প্রতি পিস চামড়ার দাম ১ হাজার টাকা চাইলে আড়ৎ মালিকরা ৬৫০ টাকার বেশি দিতে রাজি হননি। পরে তিনি দাম কমিয়ে ৮০০ টাকা করলেও ক্রেতা মেলেনি।

আকমল বলেন, গত বছর এই ধরনের চামড়া ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি করেছি। এবার সবাই ৬০০-৬৫০ টাকার বেশি বলতে চাচ্ছে না। সরকার দাম বাড়ালেও বাজারে তো তার কোনো প্রভাব নেই।

রাজধানীর অন্যান্য চামড়ার বাজারগুলোতেও সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মালিবাগ, মগবাজার, মুগদা, ধানমন্ডি, কলাবাগান, সায়েন্স ল্যাব ও শেওড়াপাড়া ঘুরে দেখা গেছে, ছোট আকারের গরুর কাঁচা চামড়া ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়, মাঝারি আকারের চামড়া ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায় এবং বড় আকারের চামড়া ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অথচ সরকার ঘোষিত দরে একটি মাঝারি আকারের চামড়ার মূল্য হওয়ার কথা ছিল ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা। একইভাবে বড় আকারের চামড়ার সম্ভাব্য মূল্য ছিল প্রায় ২ হাজার টাকা থেকে আড়াই হাজার টাকার বেশি।

মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকার দাম বাড়ালেও ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে সেই দাম পাননি তারা। ট্যানারি থেকে যে দর নির্ধারণ করা হয়, তার ভিত্তিতেই তারা মাঠপর্যায়ে চামড়া কেনাবেচা করেন। এতে শেষপর্যন্ত ক্ষতির মুখে পড়েন কোরবানিদাতা ব্যক্তি, মসজিদ-মাদরাসা ও এতিমখানাগুলো।

তবে তাঁরা বলছেন, এবার কোরবানির সংখ্যা কিছুটা কম হতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই ট্যানারি মালিকরা এবার ৭৫ থেকে ৮০ লাখ পিস চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, যা গত বছরের তুলনায় কম। তাছাড়া চামড়ার বাজারে দীর্ঘদিন ধরেই এক ধরনের অস্বচ্ছতা কাজ করছে। সরকার দাম নির্ধারণ করলেও বাস্তবে সেই দাম কার্যকর করার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই।

জানতে চাইলে পোস্তা এলাকায় কাঁচা চামড়ার আড়তদারদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএইচএসএমএ) সভাপতি টিপু সুলতান দাবি করেছেন, সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের মধ্যেই বেশির ভাগ বেচাকেনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা তো চোখের দেখায় কাঁচা চামড়া কিনি। এ জন্য দামে ৫০ টাকা কমবেশি হতে পারে।’

তবে ট্যানারি মালিকরা কম দামে চামড়া কেনার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সাখাওয়াত উল্লাহর দাবি, গত বছরের তুলনায় চামড়ার দাম কমেনি, বরং ২০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। তিনি নিজেই ৬৫০ থেকে ৯৫০ টাকা পর্যন্ত দামে চামড়া কিনেছেন।

তিনি বলেন, রাজধানীর কাঁচা চামড়ার বাজার স্থিতিশীল রাখতে অনেক ট্যানারি এবার সরাসরি মাঠপর্যায়ে চামড়া কিনছেন। তবে বাজার পুরোপুরি জমতে সময় লাগে। ঈদের দিন দুপুর পর্যন্ত কেনাবেচা জমে না ওঠায় কোথাও কোথাও কম দামে বিক্রি হয়ে থাকতে পারে। বিকেল থেকে সন্ধ্যার পর দাম আরও বাড়তে পারে।

তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলেই মনে করছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর পোস্তাসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর চামড়ার বাজার কিছুটা জমে উঠলেও দামে খুব বেশি পরিবর্তন আসেনি। বড় আকারের চামড়া ৭৫০ থেকে ৯০০ টাকায়, মাঝারি আকারের চামড়া ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় এবং ছোট চামড়া ১৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

এদিকে, গরুর মতো ছাগলের চামড়ার বাজারেও ধস নামে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতি পিস ছাগলের চামড়া মাত্র ৫ থেকে ১০ টাকায়ও বিক্রি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কোনো দাম ছাড়াই চামড়া নিয়ে নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

মৌসুমি ব্যবসায়ীরা জানান, ছাগলের চামড়া এখন অনেকের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ চামড়া বিক্রি করে সংরক্ষণ খরচও তুলতে পারছেন না তারা। এই কারণে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করেও লোকসানের মুখে পড়েছেন।

চামড়ার বাজারে এই অস্থিরতার বড় ভুক্তভোগী দেশের মাদরাসা ও এতিমখানাগুলোও। কারণ অনেক মাদরাসার খরচের বড় একটা অংশ আসে প্রতিবছর সংগৃহীত কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি থেকে। সবচেয়ে বেশি চামড়া সংগ্রহ করে থাকে বিভিন্ন মাদরাসা ও এতিমখানা। অনেক কোরবানিদাতাই স্বেচ্ছায় তাদের পশুর চামড়া এসব প্রতিষ্ঠানে দান করেন। এই চামড়া বিক্রির অর্থ দিয়েই মূলত লিল্লাহ বোর্ডিং, এতিমখানা এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও অন্যান্য ব্যয়ের একটি বড় অংশ পরিচালিত হয়। কিন্তু কয়েক বছর ধরেই চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠান আর্থিক সংকটে পড়ছে। দাম কম থাকায় মাদরাসাগুলোর মধ্যেও চামড়া সংগ্রহে কিছুটা অনীহা দেখা যাচ্ছে। এ বছরও পর্যাপ্ত দাম না পাওয়ায় আগামী দিনগুলোতে তারা প্রতিষ্ঠান চালাতে হিমশিম খাবেন বলে ধারণা করছেন।

খিলগাঁওয়ের নাজমুল হক মদিনাতুল উলুম কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাহবুবুল্লাহ বলেন, প্রতি বছর পরিকল্পিতভাবে চামড়া খাতকে ধ্বংস করা হচ্ছে। চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পেলে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।