Home Blog Page 112

খাওয়ার আগে না পরে? কখন তরমুজ খাওয়া ভালো

গরমে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে হিট স্ট্রোক এবং ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ে। গ্রীষ্মকালের মৌসুমি ফল তরমুজ অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যকর। এই ফলে প্রায় ৯০ শতাংশ পানি থাকে। গরমে প্রতিদিন তরমুজ খেলে শরীরের জলীয় ভারসাম্য থাকে এবং মাথা ঘুরে যাওয়ার বা দুর্বলতার সম্ভাবনা কমে যায়। নিয়মিত এই ফল খেলে গ্যাস, অ্যাসিডিটি, কোষ্ঠকাঠিন্য বা হজমের সমস্যা কমে যায়। বিভিন্ন সময়ে তরমুজ খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে। তবে প্রশ্ন হলো, খাবারের আগে না পরে তরমুজ কখন খেলে বেশি উপকার পাবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে তরমুজ খাওয়া সবচেয়ে উপকারী। খালি পেটে এটি খেলে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়। আবার দুপুরের খাবারের এক ঘণ্টা আগে ফলটি খাওয়া যেতে পারে। এটি হজম ব্যবস্থা ভালো করে, গ্যাস এবং অ্যাসিডিটি সমস্যা প্রতিরোধ করে।  ব্যায়ামের পরেও তরমুজ খাওয়া ভালো। এতে শরীরের পানির র এবং ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণ হয়। গ্রীষ্মে দুপুরে তরমুজ খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে এবং শরীরের তাপমাত্রা কমে।

খাবারের আগে পরে?
তরমুজে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকায় এটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে। এটি খেলে পেটও ভর্তি থাকে। খাবারের আগে তরমুজ খেলে পেট শান্ত এবং ঠান্ডা থাকে। এর ফলে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ এড়ানো যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, তরমুজ সবসময় খাবারের আগে খাওয়া উচিত।

কখন তরমুজ খাওয়া ঠিক নয়
রাতে তরমুজ খাওয়া একেবারেই ঠিক নয় কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকায় বারবার মূত্রত্যাগের কারণ হতে পারে। খাবারের পরে তরমুজ খাওয়া উচিত নয়, কারণ এটি গ্যাস এবং হজমের সমস্যা বাড়াতে পারে। গরমের দিনে খালি পেটে তরমুজ খেলে শরীর সতেজ থাকে। অনেকেরই ফ্রিজ থেকে বের করে সাথে সাথে তরমুজ খাওয়ার অভ্যাস আছে, এটা ঠিক নয়। কারণ এটি গলা এবং হজম ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

ওজন কমাতে চাইলে
যারা ওজন কমাতে চান, তাদের দুপুরে তরমুজ খাওয়া উচিত। এতে উচ্চ মাত্রায় ফাইবার থাকায় পেট দীর্ঘ সময় ভরা থাকে এবং হালকা অনুভূতি হয়। এতে কম ক্যালোরি থাকে, যা ওজন কমানোর ক্ষেত্রে সহায়ক। গ্রীষ্মকালে নিয়মিত তরমুজ খেলে ওজন কমানো সহজ হয়ে ওঠে।

এই ফলগুলোর সাথে তরমুজ খাবেন না
গরম ফলের সাথে তরমুজ খাওয়া উচিত নয়, কারণ এতে পেটের সমস্যা হতে পারে এবং সর্দি-কাশির ঝুঁকি বাড়তে পারে। অন্যান্য ফলের সাথেও তরমুজ খাওয়া উচিত নয়, কারণ এর প্রকৃতি শীতল এবং অন্যান্য ফলের প্রকৃতি গরম হতে পারে; অন্য ফলের সাথে খেলে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কলা, কমলা এবং আঙুরের সাথে তরমুজ  খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। এগুলোর সাথে তরমুজ খেলে পেটে গ্যাস, বদহজম এবং অ্যাসিডিটি হতে পারে। তাই, অন্যান্য ফলের সাথে তরমুজ খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ঈদের সিনেমার হালহকিকত জানালেন নির্মাতারা

ঈদুল আজহায় মুক্তির ঘোষণা দিয়েছে একাধিক সিনেমা। কোনোটির শুটিং হচ্ছে,কোনোটির আবার শুটিং শেষ চলছে পোস্ট প্রডাকশনের কাজ। ঈদে মুক্তি প্রতিক্ষিত সিনেমাগুলোর পরিচালকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানার চেষ্টা করা হয়েছে সিনেমাগুলোর সর্বশেষ পরিস্থিতি

আজমান রুশো রকস্টার পরিচালক
আমাদের রকস্টারের শুটিং শেষ। এখন পোস্টের কাজ করছি। প্রচার-প্রচারণাও চলছে। ইতোমধ্যে আমরা রকস্টারের লুক পোস্টার, অ্যানিমেশন টিজার, টিজার ও প্রথম গান ‘পিরিতি’ প্রকাশ করেছি। সবকিছুই দর্শক দারুণভাবে গ্রহণ করছে। প্রচারণার জন্য আগামীতে আরও যা আসবে সবকিছুতেই চমক থাকবে। আগামী সপ্তাহে আমরা সিনেমাটি সেন্সরে জমা দেব। রকস্টারে শাকিব খান বাংলাদেশের ঢাকার একটি ছেলের চরিত্র করেছেন। গল্পের ক্ষেত্রে তিনি দেশের বাইরেও যান। তবে গল্পের যে মানুষেরা রয়েছেন তারা প্রত্যেকেই বাংলাদেশি। সে কারণে জোরালোভাবে বলতে পারি রকস্টার বাঙালি ছেলের গল্প, এটি বাংলাদেশের গল্প। ছোটবেলা থেকে আমি কোনো নায়কের স্টাইল ফলো করিনি। সবসময় মিউজিশিয়ানদের লাইফস্টাইল ফলো করেছি। তাদের মতো পোশাক, চুলের স্টাইল করতাম। সেই আমার প্রথম সিনেমা হচ্ছে মিউজিক্যাল ফিল্ম।

মেজবাউর রহমান সুমন, রইদ পরিচালক
রইদ সিনেমার শুটিং বেশ আগেই শেষ হয়। মুক্তির আগে যথাযথ প্রচারণার জন্য সময় নেওয়া হয়েছে। আমরা চেয়েছিলাম, মুক্তির আগে দর্শকের কাছে ঠিকভাবে পৌঁছাতে। প্রচারণা এখানে বড় বিষয়। এ ছাড়া উৎসবে অংশগ্রহণ এবং ঈদুল ফিতরের আগের সময়টা উপযুক্ত মনে হয়নি। তাই আমরা ঈদুল আজহাকে মুক্তির জন্য বেছে নিয়েছি। তবে আমরা শুরুর দিকে ভেবেছিলাম, ঈদের পর নিরিবিলি সময়ে সিনেমাটি মুক্তি দেব। এতে দর্শকরা গল্পটি ভালোভাবে উপভোগ করতে পারবেন। তবে ঈদের পরপরই বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা শুরু হয়ে যাবে। তাই মুক্তির সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে ঈদুল আজহাতেই ‘রইদ’ মুক্তির সিদ্ধান্ত নিই। ইতোমধ্যে সিনেমার পোস্টার, ট্রিজার ও দুটি গান প্রকাশ করেছি। দর্শক সেগুলো দারুণভাবে গ্রহণও করছেন। আগামী ঈদের আগ পর্যন্ত এই প্রচারণা চলমান থাকবে।

সাইফ চন্দন 
মালিক পরিচালক
আমরা আমাদের সিনেমার আনুষ্ঠানিক কিছুর ঘোষণা এখনও দেয়নি। চেয়েছিলাম সিনেমাটি প্রপারভাবে সব শেষ করে করে এরপর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেব। এখনও আমরা সে পথেই আছি। আমাদের শুটিং, ডাবিং সব শেষ। এখন পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ চলছে। তবে এরই মধ্যে সিনেমাটির ফুটেজ ও শুটিংয়ের ছবি কারা যেন প্রকাশ করেছে। তাতেই দেখেছি দর্শকের কাছে সিনেমাটি নিয়ে দারুণ কৌতূহল। সিনেমাটির পোস্টার, গান ও ট্রেলার দেখে দর্শকরা আরও চমকে যাবে বলে আমার বিশ্বাস। আমরা সেন্সরে জমা দেওয়ার জন্য পরিপূর্ণ কাজ শেষ করে একযোগে প্রচারণায় নামতে চাই। প্রযোজকেরও একই পরিকল্পনা। এর মধ্যে আমরা সব গুছিয়ে এনেছি। প্রচারণা শুরু হওয়া মাত্রই একে একে সব প্রকাশ করা হবে। মূলত অ্যাকশন ঘরানার সিনেমা এটি। এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এর গল্প এগিয়ে যায়।

আলোক হাসান নাকফুলের কাব্য পরিচালক
সিনেমাটি অনেক আগেই আমি শেষ করে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কাছে জমা দিয়েছি। এরপর ‘নাকফুলের কাব্য’ ২০২৪ সালে সেন্সর ছাড়পত্র পায়। নানা কারণে মুক্তি দেওয়া হয়নি। এবার প্রযোজনা সংস্থা ঈদুল আজহায় মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পোস্টার প্রকাশ করে প্রচারণাও শুরু করেছে। সব কিছু ঠিক থাকলে ঈদেই সিনেমাটি মুক্তি পাবে। এ ক্ষেত্রে কেবল মাল্টিপ্লেক্সে মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। গ্রামীণ আবহ ও নিখাদ দেশীয় প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই সিনেমার কাহিনি আবর্তিত হয়েছে এক আবেগঘন প্রেম ও বিরহের গল্পকে কেন্দ্র করে। সমাজপতিদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে একটি অমর প্রেম ও বিরহের গল্প ‘নাকফুলের কাব্য’। এতে রয়েছে তিনটি গান। প্রেম, আবেগ, কমেডি–সবই রয়েছে। দর্শকরা একটি পরিচ্ছন্ন ও নিরেট বাংলাদেশি গল্পের সিনেমা পাবেন। পরিবারসহ উপভোগ করার মতো সিনেমা এটি।

ব্যাংকে নগদ টাকার সংকট

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ছাপানো টাকার চাহিদা বেড়ে যায়। এবার ঈদের আগে টাঁকশালের কাছে অন্তত ১৬ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে সেখান থেকে জানানো হয়েছে, কাগজ-কালির সংকটের কারণে সর্বোচ্চ আট হাজার কোটি টাকার নোট দেওয়া সম্ভব। অবশ্য সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনে বঙ্গবন্ধুর ছবিযুক্ত পুরোনো নকশার ১৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা পড়ে আছে। এই নোট চাইলে দুই সপ্তাহের মধ্যে বাজারে দেওয়া সম্ভব। যদিও আপাতত বঙ্গবন্ধুর ছবিযুক্ত নোট না ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রসঙ্গত, ছাপানো টাকার সংকট এবং তারল্য সংকট এক জিনিস নয়। সব মিলিয়ে এখন সঞ্চয় রয়েছে ২৪ লাখ কোটি টাকার মতো। ছাপানো টাকার চাহিদা রয়েছে তিন লাখ ২০ হাজার থেকে তিন লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। প্রতিবছর ঈদ সামনে রেখে ছাপানো নোটের চাহিদা বাড়ে। যে কারণে এ সময় সর্বোচ্চ সংখ্যক নতুন নোট বাজারে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বঙ্গবন্ধুর ছবিযুক্ত নোটের বদলে একযোগে নতুন নকশার নোট আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। নতুন নোট বাজারে আনতে প্রক্রিয়া শুরুর পর ১০ থেকে ১৮ মাস সময় লাগে। স্বাভাবিক সময়ে নোটের নকশা বদলের ক্ষেত্রে একযোগে না করে একটি-একটি করে বদল করা হতো। তবে এবার বিশেষ পরিস্থিতির কারণে একযোগে সব

মূল্যমানের নতুন ডিজাইনের নোট বাজারে আনার চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে পুরোনো নকশার নোট ছাড়া অনেক দিন বন্ধ রাখা হয়। এ কারণে চাহিদার সঙ্গে জোগানে বড় পার্থক্য তৈরি হয়ে এ রকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত দুই ঈদে কোনো নতুন নোটই বাজারে ছাড়া হয়নি।

ব্যাংকাররা জানান, ছাপানো নোটের বড় একটি অংশ ব্যবসায়িক কাজে কিংবা দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে মানুষের কাছে থাকে। আর ব্যাংকগুলোর ১২ হাজার মতো শাখার ভল্টে থাকে ১৬ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বিনিময় করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্ট এবং সোনালী ব্যাংকের চেস্ট শাখার কাছে থাকে ১৪ থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব হলো, বাজার থেকে প্রতিনিয়ত পুরোনো, ছেঁড়া-ফাটা, অধিক দাগ বা ময়লাযুক্ত টাকা তুলে তা বাংলাদেশ ব্যাংক বা সোনালী ব্যাংকে জমা দেওয়া। তবে ব্যাংকগুলো অনেক ক্ষেত্রে চাহিদামতো নোট না পাওয়ায় এখন বাজারে প্রচুর ছেঁড়া-ফাটা নোট পাওয়া যাচ্ছে।

জানা গেছে, এবার ঈদের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ বিভিন্ন মূল্যমানের অন্তত ১৬ হাজার কোটি টাকার নতুন নোটের চাহিদা দিয়েছে। এই চাহিদা দেওয়া হয় টাকা ছাপানোর একমাত্র প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন, যা টাঁকশাল নামে পরিচিত প্রতিষ্ঠানের কাছে। তবে টাঁকাশাল থেকে জানানো হয়েছে, ঈদের আগে সর্বোচ্চ আট হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করা সম্ভব।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরোনো নকশার বঙ্গবন্ধুর ছবিযুক্ত নোট বাজারে ছাড়তে চাইলে চাহিদার চেয়ে বেশি সরবরাহ করা সম্ভব। কেননা, বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর ছবিযুক্ত অর্ধপ্রস্তুত অবস্থায় ১৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকার মতো পড়ে আছে। এর বিপরীতে নতুন নকশার নোটের জন্য কালি-কাগজের সংকট রয়েছে। এ সংকট মেটাতে এখন বেশি খরচ করে বিমানযোগে কাগজ-কালি আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই নোট ছাপা শেষ করে ঈদের আগে বাজারে দেওয়া সম্ভব হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সমকালকে বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী নতুন নকশার নোট আনতে গিয়ে কিছুটা সময় লেগেছে। যে কারণে বাজারে নোটের কিছুটা সংকট দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, সাধারণভাবে ছেঁড়া-ফাটা বা ত্রুটিযুক্ত নোট বাজার থেকে তুলে পুড়িয়ে ফেলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে তা করতে না পারায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে শিগগিরই ব্যাংকগুলোকে নতুন টাকা দেওয়া শুরু হবে। ফলে এ সংকট আর থাকবে না।

ব্যাংকগুলোর বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা জমা ও উত্তোলন একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। আবার চাহিদার বিপরীতে নতুন টাকা ছাপানো হয়। এই টাকা যে নতুন নোট ইস্যুর বিপরীতে ছাপানো হয়, তেমন নয়। বরং পুরোনো নোটের বদলে নতুন টাকা বাজারে ছাড়া হয়। ছেঁড়া-ফাটা, ত্রুটিপূর্ণ ও ময়লাযুক্ত নোট ব্যাংকগুলোর কাছে এলে নতুন করে তা আর বাজারে দেওয়ার নিয়ম নেই। বরং কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ফেরত দিয়ে সমমূল্যের ‘ফ্রেশ’ নোট নিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত নভেম্বর মাসে ‘ক্লিন নোট পলিসি’ করেছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ত্রুটিযুক্ত নোট বদলে দেওয়ার বিভিন্ন নির্দেশনা রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। তবে ব্যাংকগুলো চাহিদামতো ‘ফ্রেশ’ নোট না পাওয়ায় প্রতিনিয়ত প্রচুর ছেঁড়া-ফাটা, অধিক দাগযুক্ত নোট আসছে।

কীভাবে নোট বদলাতে হবে এর একটি নীতিমালা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংক গ্রাহককে টাকা বদলে দেবে। আর ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বদলে নিয়ে আসবে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা পরিপালন করে না অনেক ব্যাংক। নানা অজুহাতে গ্রাহককে ফেরত দেওয়া হয়। ছোট নোটের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর এ অনীহা আরও বেশি। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সাধারণ গ্রাহকরা সরাসরি নোট বদলে নেওয়ার সুযোগ থাকলেও গত বছরের নভেম্বর থেকে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ভুল পদক্ষেপ চীন-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত বাঁধাবে, ট্রাম্পকে শির হুঁশিয়ারি তাইওয়ান প্রসঙ্গ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তাইওয়ান ইস্যুতে সতর্ক করেছেন চীনের নেতা শি জিনপিং। তিনি বলেছেন, তাইওয়ান প্রশ্নে কোনো ভুল পদক্ষেপ দুই দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবে।

বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে শীর্ষ সম্মেলনের শুরুতেই ট্রাম্পকে এই কঠোর বার্তা দেন চীনের প্রেসিডেন্ট। বৈঠক শুরুর কিছুক্ষণ পর চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে শির বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। শি বলেছেন, চীন-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাইওয়ান প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।

প্রায় দুই ঘণ্টা ১৫ মিনিট স্থায়ী হওয়া বৈঠকে শি আরো বলেন, যদি এই বিষয়টি ভুলভাবে মোকাবিলা করা হয়, তবে দুই দেশ একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হতে পারে বা সংঘাতেও জড়িয়ে যেতে পারে। এটি চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেবে।

বৈঠকে গ্রিক রাজনৈতিক তত্ত্বের অবতারণাও করেন শি। তিনি বলেন, ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কি তথাকথিত ‘থুসিডাইডস ট্র্যাপ’ এড়িয়ে বড় শক্তিগুলোর সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে? সহযোগিতা উভয় পক্ষের জন্যই মঙ্গলজনক, অন্যদিকে সংঘাত উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর।’

থুসিডাইডস ট্র্যাপ বলতে, উদীয়মান শক্তি যখন কোনো ক্ষমতাসীন শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে তখন যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হওয়াকে বোঝায়।

তাইওয়ানকে চীন নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে। প্রেসিডেন্ট শি একাধিকবার প্রকাশ্যে দ্বীপটিকে চীনের ভূখণ্ডের সঙ্গে একীভূত করার বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। অপরদিকে সম্প্রতি তাইওয়ানের কাছে বড় অঙ্কের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যা নিয়ে এর আগে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বেইজিংয়ের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ও হয়েছে।

শির ‘রূঢ় ভাষা’র ব্যাখ্যা
বৃহস্পতিবারের বৈঠকে শি জিনপিংয়ের মন্তব্যের পর তাইপে (তাইওয়ানের রাজধানী) পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তারা চীনকে আঞ্চলিক শান্তির জন্য ঝুঁকি হিসেবে অভিহিত করেছে। জোর দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র বারবার তাইওয়ানের প্রতি তাদের স্পষ্ট ও দৃঢ় সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

সোমবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে শি-র সঙ্গে কথা বলবেন। তাঁর এমন বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থানের বিপরীত। কারণ, ওয়াশিংটন বরাবরই তাইওয়ান নিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে আলোচনা বা পরামর্শ করার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে আসছিল।

চীনা গণমাধ্যম ‘চায়না নেইকান’-এর সম্পাদক অ্যাডাম নি এএফপিকে বলেন, চীনের পররাষ্ট্রনীতিতে এ ধরনের ‘রূঢ় ভাষা’ খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। তবে শি জিনপিংয়ের মুখ থেকে এমন কথা শোনাটা ব্যতিক্রমী ঘটনা। বৈঠকের বক্তব্যের মাধ্যমে শি স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, তাইওয়ান ইস্যুটি দুই পরাশক্তির মধ্যে একটি ‘বারুদ ভর্তি ড্রাম’ হয়ে আছে।

ট্রাম্পের মুখে ‘বন্ধু’
চীন সফরে গিয়ে শির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প। শি-কে একজন মহান নেতা ও বন্ধু হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, দুই দেশের সামনে এক চমৎকার ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। তবে ট্রাম্পকে স্বাগত জানানোর রাজকীয় আড়ম্বরের আড়ালে শি জিনপিংয়ের সুর ছিল কিছুটা সংযত। তিনি বলেন, দুই দেশের আসলে প্রতিদ্বন্দ্বী নয় বরং অংশীদার হওয়া উচিত।

গত এক দশকের মধ্যে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের এটিই প্রথম বেইজিং সফর। যদিও ট্রাম্পকে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে, তবে এর নেপথ্যে দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত বাণিজ্য এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা রয়েই গেছে।

জাঁকজমকপূর্ণ ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ ট্রাম্পকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেন শি। এ সময় সামরিক ব্যান্ডের সুর, তোপধ্বনি এবং একদল স্কুলশিক্ষার্থীর উচ্ছ্বসিত ‘স্বাগতম’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। পুরো আয়োজনটি বেশ উপভোগ করতে দেখা যায় ট্রাম্পকে। তিনি বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক আগের চেয়ে আরো উন্নত হতে যাচ্ছে।

খেলাপি হওয়ায় ফল স্থগিত দুই নেতা এমপির ভূমিকায়

চট্টগ্রামে খেলাপি ঋণের কারণে নির্বাচনের ফল স্থগিত থাকা দুই বিএনপি নেতা শপথ নিতে না পারলেও নির্বাচনী এলাকায় সংসদ সদস্যের (এমপি) মতো কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এমপি না হয়েও সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ও ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান এবং সরকারি উন্নয়ন ও সহায়তা প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের প্রার্থী আসলাম চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সরোয়ার আলমগীর উপস্থিত ছিলেন। কিছু অনুষ্ঠানে তারা প্রধান অতিথি ছিলেন। তবে ব্যানারে তাদের নাম ছিল না। বক্তৃতার সময় তাদের এমপি হিসেবে সম্বোধন করা হয়।

এদিকে, ফল ঘোষণা ও শপথের সুযোগ চেয়ে আসলাম চৌধুরী ও সরোয়ার আলমগীরের পৃথক আবেদনের ওপর আজ বৃহস্পতিবার আদেশের জন্য দিন ধার্য রেখেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ গতকাল বুধবার এই তারিখ ধার্য করেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঋণখেলাপির অভিযোগে আসলাম চৌধুরী ও সরোয়ার আলমগীরের বিরুদ্ধে রিট আবেদন করা হয়। পরে আপিল বিভাগ আসলাম চৌধুরীকে চট্টগ্রাম-৪ ও সরোয়ার আলমগীরকে চট্টগ্রাম-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ দেন। তবে আদালত আদেশ দিয়েছিলেন, নির্বাচন করতে পারলেও তারা ঋণখেলাপি নন– প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত ভোটের ফল প্রকাশ করা
যাবে না।

ফল প্রকাশ না করায় এ দুই বিএনপি নেতা এখনও সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারেননি। নির্বাচন কমিশনের স্থগিত ফল অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-২ আসনে সরোয়ার আলমগীর এক লাখ ৩৯ হাজার ৮৩১ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নুরুল আমিন পান ৬৫ হাজার ৫৫০ ভোট। চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির আসলাম চৌধুরী এক লাখ ৪৩ হাজার ৫৫২ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আনোয়ার সিদ্দিক পান ৯১ হাজার ৪০৪ ভোট।

এর আগে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ এবং ভোলা-২ আসনে জয়ী হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের তোফায়েল আহমেদ। তিনি ভোলা-১ আসন ছাড়লেও আদালতের স্থগিতাদেশে উপনির্বাচন না হওয়ায় পুরো পাঁচ বছর শূন্য থাকে।

খেলাপি হয়েও প্রার্থী
চট্টগ্রামের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসলাম চৌধুরী এবং সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতার বিরুদ্ধে জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিন নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। কমিশন এতে বিএনপি প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করে।

পাঁচটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সরোয়ার আলমগীরের ২১৪ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে তাঁর মালিকানাধীন ‘এনএফজেড টেরি টেক্সটাইল’-এর ২০১ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে বলে জামায়াত প্রার্থীর আপিলে বলা হয়েছিল। তবে এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ পান সরোয়ার আলমগীর। পরে হাইকোর্ট তাঁর প্রার্থিতা বহাল করলে জামায়াত প্রার্থী আপিল বিভাগে যান। সর্বোচ্চ আদালত লিভ টু আপিল মঞ্জুর করলেও সরোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেন।

আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যাংকের অর্থঋণ মামলা রয়েছে। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর মনোনয়নপত্রও বৈধ ঘোষণা করেছিলেন হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের কারণে। এতে ব্যাংকগুলো নির্বাচন কমিশনে আপিল করে। টাকা ফেরত দেওয়ার শর্তে কমিশন তাঁর প্রার্থিতা বহাল করে। হাইকোর্টও একই আদেশ দেন। এর বিরুদ্ধে জামায়াত প্রার্থীর আপিল সর্বোচ্চ আদালত মঞ্জুর করলেও আসলাম চৌধুরীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেন।

শপথ না নিয়েই এমপির ভূমিকায়
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী প্রার্থীদের নামের গেজেট প্রকাশিত হয় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি। আপিল বিভাগের নিষেধাজ্ঞা থাকায় আসলাম চৌধুরী ও সরোয়ার আলমগীরের নামে গেজেট জারি হয়নি। ফলে তারা তিন মাসেও শপথ নিতে পারেননি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস, ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখসহ বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আসলাম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে তাঁকে সংসদ সদস্য হিসেবে পরিচয়ও করিয়ে দেওয়া হয়। ১৭ এপ্রিল উপজেলার মহালঙ্কা এলাকায় জিন্নাত আলী চৌধুরী নুরানি মাদ্রাসায় নবনির্মিত মসজিদ ভবন উদ্বোধন করেন আসলাম চৌধুরী।

এর উদ্বোধন ফলকে লেখা ছিল, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের চট্টগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরী’। এ ছাড়া গত তিন মাসে উপজেলা পরিষদের একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডা. কমল কদর ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোরছালীন। আলোচনা-সমালোচনার মুখে তারা সামাজিক মাধ্যম থেকে এসব ছবি সরিয়ে ফেলেছেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ এপ্রিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে ত্রাণ সহায়তার (টিআর) ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে। একই দিন কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) কর্মসূচিতে ২৫ লাখ টাকা এবং কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচির জন্য ২০ টন চাল ও ২০ টন গম বরাদ্দ এসেছে। এগুলো এখনও বিতরণ করা হয়নি। গত রোজার ঈদের আগে আসা ভিজিএফের ১০ লাখ টাকা উপজেলা বিএনপির নেতাদের সমন্বয়ে বণ্টন করা হয়।

জানতে চাইলে কমল কদর সমকালকে বলেন, গত তিন মাস সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প দেখাশোনা করছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোরছালীন।
মোহাম্মদ মোরছালীন বলেন, ‘এখনও এমপির বরাদ্দ আসেনি। বিভিন্ন প্রকল্প তদারকি করছি, যাতে কোনো অনিয়ম না হয়। এমপির নির্দেশে করছি।’

আসলাম চৌধুরীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও সংযোগ বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, বিশেষ বরাদ্দগুলো এখনও বণ্টন হয়নি। এমপির নামফলকে প্রকল্প উদ্বোধনের সুযোগ নেই। দলীয় লোক যদি ছবি প্রচার করে, তা তাদের ব্যাপার।

সরকারি কর্মকর্তারাও ‘এমপি’ মানছেন 
২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে উপজেলা পরিষদের পক্ষে ‘সংসদ সদস্য’ হিসেবে সরোয়ার আলমগীরকে সঙ্গে নিয়ে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান ইউএনও সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম। অন্য সরকারি কর্মকর্তারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সেদিন সরোয়ার আলমগীর সরকারি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির চেয়ারেও বসেন।

পহেলা বৈশাখে উপজেলা প্রশাসনের শোভাযাত্রা ‘সংসদ সদস্য’ পরিচয়ে ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন সরোয়ার আলমগীর। ২৫ এপ্রিল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির খরিপ-১ মৌসুমে কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে সার ও আউশ ধানের বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানও উদ্বোধন করেন তিনি। একই দিন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল আলমসহ অন্য কর্মকর্তারা সরোয়ার আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তারা তাঁকে নিয়ে শহীদ মিনারে ফুল দিতে যান।

ইউএনও সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘সরওয়ার আলমগীর উপস্থিত থাকলেও প্রধান অতিথি ছিলেন না। বিএনপির একজন নেতা হিসেবে থাকতেই পারেন।’
কিছু অনুষ্ঠানে সরোয়ার আলমগীরের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার তথ্য জানানোর পর ইউএনও বলেন, ‘যদি হয়ে থাকে সেটি ভুল। আমার জানামতে, সংসদ সদস্য হিসেবে উনাকে কোথাও রাখা হয়নি।’

জানতে চাইলে সরোয়ার আলমগীর বলেন, ‘আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত এমপি। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আমার বিজয় ঠেকাতে সব রকম প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। আদালতে মামলাও করেছেন। যেহেতু আমি বেসরকারিভাবে নির্বাচিত এমপি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মনোনীত প্রার্থী; সুতরাং আমি সব কাজ করতেই পারি। মামলার বিষয়টি আদালত ফয়সালা করবেন।’

শপথের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আজ 
ঋণখেলাপির অভিযোগে মামলার নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই আসলাম চৌধুরী এবং সরোয়ার আলমগীর ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ এবং শপথ চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন। আসলাম চৌধুরীর আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান সমকালকে জানান, লিভ টু আপিলের অনুমতি দেওয়ার সময় আদালতে অন্তর্বর্তী আদেশ ছিল– যতক্ষণ পর্যন্ত আপিল শুনানি নিষ্পত্তি না হবে, ততদিন ফল প্রকাশ হবে না। সংশোধনী আবেদনে বলা হয়েছে, এই আদেশের কারণে নির্বাচিত হওয়ার পরও আসলাম চৌধুরী সংসদীয় এলাকার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে পারছেন না। আপিল শুনানি যদি বিলম্বিত হয়, তাহলে তিনি যেন শপথ নিয়ে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। এর ওপর গতকাল বুধবার শুনানি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার আদেশ দেওয়া হবে।

জামায়াত প্রার্থীর আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মনির সাংবাদিকদের বলেন, ‘আংশিক শুনানি হয়েছে। শুনানিতে বলেছি, মূল আপিলের নিষ্পত্তি না করে এ ধরনের আবেদন গ্রহণ করা হলে মূল আপিলের প্রয়োজনীয়তা থাকবে না।’

অনূর্ধ্ব-১৯ দলের মেন্টর মাহমুদউল্লাহ

জাতীয় দলের সাবেক বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাককে কয়েকদিন আগেই বিসিবি হাই-পারফরম্যান্স ইউনিটের (এইচপি) স্পিন বোলিং কোচ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এবার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের মেন্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার পাশাপাশি যুব দলের সঙ্গে মেন্টর হিসেবে কাজ করবেন জাতীয় দলের সাবেক এ অধিনায়ক।

বিসিবির একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে মাহমুদউল্লাহ নীতিগতভাবে অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলের মেন্টর হিসেবে কাজ করার ব্যাপারে। ২০২৮ সালের যুব বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তি হতে পারে মাহমুদউল্লাহর।

২০২৭ সালের এসএসসি শুরু ৭ জানুয়ারি, এইচএসসি ৬ জুন

২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন প্রস্তাব করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। প্রস্তাবিত রুটিন থেকে জানা গেছে, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে ৭ জানুয়ারি এবং এইচএসসি শুরু হবে ৬ জুন।

প্রস্তাবিত এ রুটিনটি অনুমোদনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। যদি মন্ত্রণালয় কোনো সংশোধনী বা পরিবর্তন করে তাহলে সেগুলো সংশোধন করে রুটিন চূড়ান্ত করা হবে। বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডগুলো থেকে যৌথভাবে জারিকৃত দুটি পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

​এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি

প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী, ৭ জানুয়ারি বাংলা (আবশ্যিক) ১ম পত্র এবং সহজ বাংলা-১ম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই পরীক্ষা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে শুরু হবে। এসএসসির তত্ত্বীয় বা লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ৬ ফেব্রুয়ারি। এরপর ১১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংগীতসহ অন্যান্য সকল বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

​এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি

৬ জুন সকালে বাংলা (আবশ্যিক) ১ম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এইচএসসির তত্ত্বীয় বা লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ১৩ জুলাই। রুটিন অনুযায়ী, এইচএসসি পরীক্ষা প্রতিদিন দুটি শিফটে অনুষ্ঠিত হবে; সকালের শিফট সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত এবং বিকালের শিফট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। লিখিত পরীক্ষা শেষে ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে এইচএসসির সকল বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

​শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ তাদের বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, বিশেষ প্রয়োজনে বোর্ড কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় এই সময়সূচি পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে। পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া নদী ভাঙনে দিশেহারা দুই জেলার মানুষ, বিলীন হচ্ছে জনপদ ও ফসলি জমি

নদী ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার নদীপাড়ের মানুষ। মেঘনা, ধলেশ্বরী ও লঙ্গন নদীর পানি বৃদ্ধি ও প্রবল স্রোতের কারণে দুই জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে নতুন মানচিত্র পরিবর্তনের শঙ্কাও দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

স্থানীয়রা জানান, উজানের ঢল, টানা বৃষ্টি, নদীতে চর জেগে ওঠা এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের কারণে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে। এতে এক সময়ের জনবহুল এলাকা ও শত বছরের পুরোনো জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।

নাসিরনগরের গোয়ালনগর ও ভলাকুট ইউনিয়নের মেঘনা নদীতে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ চর জেগে উঠেছে। অন্যদিকে অষ্টগ্রামের নোয়াগাঁও এলাকায় একটি ইটভাটার প্রভাবে দীর্ঘদিন ধরে চর পড়তে শুরু করে, যা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

২০১৪ সালে নদী ভরাট করে রাস্তা নির্মাণের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। বর্তমানে মেঘনার মূল স্রোত লোকালয়ের দিকে ধাবিত হয়ে ভাঙন তীব্র করছে।

ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

ভাঙনের কারণে ইতোমধ্যে নোয়াগাঁও এলাকায় নবনির্মিত পাকা সড়কের অংশ নদীতে বিলীন হয়েছে। স্থানীয় বাজার, দোকানপাটসহ প্রায় দুই হাজার বিঘা ফসলি জমি হারিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষতিতে প্রায় চার হাজার গ্রাহক সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী রহমত খান বলেন, “যেভাবে ভাঙন চলছে, কয়েক দিনের মধ্যে পুরো নোয়াগাঁও গ্রাম মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে।”

প্রশাসনের উদ্যোগ ও মতভেদ

কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. সেলিম মিয়া জানান, উজানের ঢল ও নদীর তলদেশের মাটি সরে যাওয়ায় দ্রুত ভাঙন দেখা দিয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে।

তবে পরিবেশবিদরা বলছেন ভিন্ন কথা। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জের সহসভাপতি তোফাজ্জল সোহেল বলেন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং দীর্ঘদিন ড্রেজিং না হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

নাসিরনগরের চাতলপাড়ে ভয়াবহ ভাঙন

একই ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে নাসিরনগরের চাতলপাড় ইউনিয়নেও। চকবাজার, বিলেরপাড় ও অফিসপাড়ায় নদী ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বাজার, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি মেঘনায় বিলীন হয়ে অনেক পরিবার এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অষ্টগ্রামের একটি ইটভাটার কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে এই ভাঙনের সূত্রপাত হয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে ভাঙন শুরু হলেও কার্যকর কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও তারা অভিযোগ করেন।

চকবাজার এলাকার বাসিন্দা ইমরান আলী বলেন, “প্রতিবারই কিছু জিও ব্যাগ ফেলে আশ্বাস দেওয়া হয়, কিন্তু স্থায়ী বাঁধের কোনো উদ্যোগ নেই।”

স্থায়ী বাঁধের দাবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আকাশ দত্ত জানান, চাতলপাড়সহ আশপাশের ভাঙন রোধে প্রায় দেড় কিলোমিটার স্থায়ী বাঁধের প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করা হবে।

জনজীবনে বিপর্যয়

ভাঙনে বিলেরপাড় জামে মসজিদসহ বহু স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে বলে জানান স্থানীয়রা। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে নিঃস্ব হয়ে এলাকা ছেড়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ হান্নান বলেন, হাওরাঞ্চলের তিনটি ইউনিয়নের মানুষের দুর্ভোগ কমাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলমান রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না করা হলে দুই জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়বে।

বড় ঋণ কারা পাচ্ছে যাচাই করছে বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশের ব্যাংকগুলো থেকে বড় ঋণ কারা পাচ্ছে, তা যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে বিতরণ করা প্রতিটি ব্যাংকের ২০ কোটি টাকা বা এর বেশি ঋণ কোন কোন গ্রাহককে দেওয়া হয়েছে, তার তথ্য এরই মধ্যে সংগ্রহ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এখন গ্রাহক ধরে ধরে দেখা হবে জালিয়াতি ও অর্থ পাচারে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কেউ নতুন করে ঋণ পেয়েছে কিনা।
জানা গেছে, গভর্নরের নির্দেশে প্রতিটি ব্যাংকে টেলিফোন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি-সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো এ তথ্য সংগ্রহ করেছে। এখন নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে ঋণের আসল সুবিধাভোগীর যাবতীয় তথ্য যাচাই করা হবে। কোনো গ্রাহকের বিষয়ে আগে ঋণ নিয়ে অপব্যবহারের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঋণ শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে এবং সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্রহীতারা ঋণ  পাওয়ার যোগ্য কিনা, জামানত কতটুকু রয়েছে এবং যে উদ্দেশ্যে ঋণ নিয়েছেন, সেখানে ব্যবহার করেছেন কিনা, খতিয়ে দেখা  হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আলোচ্য সময়ে বিতরণ করা প্রতিটি ঋণের তথ্য যাচাই করবে না। পরীক্ষামূলক প্রতিটি ব্যাংকের কিছু গ্রাহকের তথ্য যাচাই হবে। এ ক্ষেত্রে বড় ঋণ অগ্রাধিকার পাবে।

নতুন করে বিতরণ করা ঋণের প্রকৃত সুবিধাভোগী বের করতে বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ আগেই এমন পরিকল্পনা করেছিল। গত বছরের ডিসেম্বরে তৎকালীন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ব্যাংক খাতের ২০ কোটি টাকার বেশি সব নতুন ঋণের তথ্য যাচাই করা হবে। কাদের ঋণ দেওয়া হয়েছে, ঋণের জামানত ঠিক আছে কিনা, দেখা হবে। এসব ঋণে কোনো অপব্যবহার হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা, ব্যাংক পরিচালকদের জবাবদিহি করতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সেই পরিকল্পনা এখন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রবৃদ্ধি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৮৫ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।

ঋণের বিপরীতে আরোপিত সুদসহ এই স্থিতি হিসাব করা হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংক খাতের আমানতের গড় সুদহার ছিল ৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। আর ব্যাংকগুলো গড়ে ১১ দশমিক ৯৬ শতাংশ সুদে ঋণ দিয়েছে। এর মানে প্রকৃত সুদহার বিবেচনায় নিলে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি এখন ঋণাত্মক। এ রকম সময়ে কোনোভাবেই যেন ঋণের অপব্যবহার না হয়, সে জন্য তদারকি বাড়ানো এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং আমানতকারীদের সুরক্ষা দিতে চলতি বছর থেকে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রথাগত পরিদর্শন না করে ঝুঁকির মাত্রার ভিত্তিতে এ তদারকি হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১২টি তদারকি বিভাগের অধীনে ব্যাংকগুলোর সব তথ্য সংগ্রহ ও তদারকি করা হয়। এর বাইরে কারিগরি ও ডিজিটাল ব্যাংকিং তদারকি, ডেটা ব্যবস্থাপনা ও বিশ্লেষণ, তদারকি-সংশ্লিষ্ট নীতি প্রণয়ন, পেমেন্ট সিস্টেম সুপারভিশন, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ নামে আরও পাঁচটি বিভাগ কাজ করছে।

গত বছরের জুলাই থেকে এ পর্যন্ত বড় ঋণের তথ্য যাচাইয়ের কারণ জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ঋণ জালিয়াতির অনেক তথ্য বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান। এখন লক্ষ্য, নতুন করে যাতে জালিয়াতি না হয়।

Arif Hazra 1778640491

বেসরকারি একটি ব্যাংকের একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক সমকালকে বলেন, এরই মধ্যে তারা বড় ঋণের তথ্য দিয়েছেন। তবে এ তথ্য কেন নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কিছু বলা হয়নি। তিনি জানান, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থার ফলে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ ও কর্মকর্তাদের জবাবদিহি বেড়েছে। ঋণের অপব্যবহার হলে

তাদের শাস্তির বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে আন্তর্জাতিক রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড বা আইএফআরএস-৯ চালু হবে। এসব বিষয়ে প্রস্তুতির দরকার আছে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক এমন উদ্যোগ নিতে পারে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচার হয়। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী যা ২৮ লাখ কোটি টাকার বেশি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এ অর্থ বাইরে নেওয়া হয়।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকার পাচার করা অর্থ ফেরত আনতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবার ও ১০টি ব্যবসায়ী গ্রুপের দেশে-বিদেশে পাচারের অর্থ উদ্ঘাটনে চার সংস্থার উদ্যোগে ১১টি যৌথ তদন্ত দল গঠন করা হয়।

বিএফআইইউর তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার পরিবার ও ১০ ব্যবসায়ী গ্রুপের দেশে-বিদেশে ৫৭ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা জব্দ করা হয়। এর মধ্যে বিদেশে পাচার হওয়া ১০ হাজার ৪৫২ কোটি এবং দেশে জব্দ হয়েছে ৪৬ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা। জব্দ করা ৫৭ হাজার ২৫৭ কোটি টাকার মধ্যে স্থাবর সম্পত্তি ১৩ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিদেশে রয়েছে ৬ হাজার ৯৭ কোটি টাকা এবং দেশে আছে ৭ হাজার ৭৭৫ কোটি। আর ৪৩ হাজার ৩৮৫ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে দেশে রয়েছে ৩৯ হাজার ৩১ কোটি টাকা। বিদেশে রয়েছে ৪ হাজার ৩৫৪ কোটি টাকা।

বিদেশে জব্দ হওয়া অর্থের মধ্যে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের ১৫ কোটি পাউন্ড এবং বেক্সিমকো গ্রুপের সালমান এফ রহমানের ছেলে ও ভাতিজার ৯ কোটি পাউন্ড অন্তর্ভুক্ত। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) গত বছর এ অর্থ জব্দ করে। ছয়টি গ্রুপের কারণে বর্তমানে ২৮টি ব্যাংক ভুগছে। এসব অর্থ ফেরত আনতে বিদেশি ল ফার্মের সঙ্গে ১৬টি নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (এনডিএ) করেছে আটটি ব্যাংক। সন্দেহভাজন পাচারকারী যে ব্যবসায়ী গ্রুপ যে ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিয়েছে, তাকে লিড ব্যাংক নির্বাচন করা হয়েছে।

বেসরকারি খাতের এনসিসি ও মেঘনা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নূরুল আমিন সমকালকে বলেন, ব্যাংকগুলো নিজ থেকে সব ধরনের নিয়ম মেনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে ঋণ বিতরণ করবে– এটাই হওয়া উচিত। কিন্তু বিগত সময়ে বড় ঋণের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, কোনো না কোনো ত্রুটি নিয়ে ঋণ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বেনামি, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কিংবা ভুয়া জামানতের বিপরীতে ঋণ দেওয়া হয়েছে। তাই যাচাই-বাছাই করা ভালো।

প্রেক্ষাগৃহের পর ওটিটিতে আসছে ‘দম’

ঈদুল ফিতরে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় আফরান নিশো ও পূজা চেরি অভিনীত সিনেমা ‘দম’। এখনও দেশে বিদেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে প্রদর্শিত হচ্ছে সিনেমাটি। এবার ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ‘দম’ মুক্তির ঘোষণা এলো।

আজ দুপুরে চরকি জানিয়েছে, আসছে ঈদ উপলক্ষে ২১ মে চরকিতে মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি। অর্থাৎ ঘরে বসে ‘দম’ উপভোগ করতে পারবেন দর্শক।

আফগানিস্তানে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা এক বাংলাদেশীর সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত ’দম’ সিনেমার ট্যাগ লাইন ‘আনটিল দ্য লাস্ট ব্রেথ’।

রেদওয়ান রনি পরিচালিত সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো, চঞ্চল চৌধুরী, পূজা চেরি। প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি দেখে দর্শক থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র সমালোচক—সবাই একবাক্যে স্বীকার করেছেন ‘দম’ সিনেমাটি নির্মাণের মুন্সিয়ানার কথা।

পরিচালক রেদওয়ান রনি বলেন, ‘আমি বরাবরই বলে এসেছি ‘দম’ বাংলাদেশের এবং বাংলাদেশীদের জয়ের গল্প। চরকিতের মুক্তির মাধ্যমে এই জয়ের গল্প সবার ঘর বা হাতে পৌঁছে যাবে। আশা করব দশে–বিদেশের সবাই এই জয় উপভোগ করবেন। ঈদের আনন্দে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘরে বসেই ‘দম’ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন দর্শকরা। আশা করছি সবার ঈদ হবে দমদার।’

এসভিএফ আলফা–আই এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার শাকিল আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘প্রেক্ষাগৃহের দর্শকরা বলছেন ‘দম’ সিনেমা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে লেভেল আপ করেছে। প্রতি সিনেমায় এটাই আমাদের চেষ্টা থাকে। এই চেষ্টাটা এবার সবাই দেখার সুযোগ পাবেন, সে জন্য ভালো লাগছে। প্রেক্ষাগৃহ নাই বা বিদেশ বলে এখন আরও কোনো বাঁধা থাকছে না। চরকিতে যে কোনো জায়গা থেকে সিনেমাটি দেখতে পারবেন দর্শকরা। এটাই আনন্দের।