Home Blog Page 128

ইরানের সঙ্গে চুক্তির খুবই কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি করার ‘খুবই কাছাকাছি’ অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন যে, তেহরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরসহ ‘প্রায় সব কিছুতেই রাজি হয়েছে’।

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এমন অনেক কিছুই ইরান এখন করতে রাজি, যেগুলো তারা এতদিন করতে রাজি ছিল না।

যদি ইরানের সাথে চুক্তি সম্পন্ন হয় এবং ইসলামাবাদে তা স্বাক্ষরিত হয়, তবে তিনি পাকিস্তানে যেতে পারেন বলেও জানান ট্রাম্প।

ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধবিরতি ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা, তার মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন নাও হতে পারে; কারণ ওই তারিখের আগেই একটি চুক্তি হয়ে যেতে পারে।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে পরবর্তী বৈঠকটি এই সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

যদি ইরানের সাথে কোনো চুক্তি না হয়, তবে যুদ্ধ আবারও শুরু হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ ‘বেশ কার্যকরভাবে বজায় রয়েছে’।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরান হামলা শুরু করে। এতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে প্রায় তিন হাজার মানুষের। নিহতের তালিকায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও আছেন।

এদিকে পাল্টা হামলায় ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে নিশানা বানিয়েছে ইরান।

জর্ডান, ইরাক, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ প্রায় এক ডজন দেশে হামলা চালিয়েছে তারা।

প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলা এ যুদ্ধে প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি স্থবির হয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বিমান পরিবহন ব্যবস্থা; অস্থিরতা তৈরি হয়েছে জ্বালানি পণ্যের বৈশ্বিক বাজারে।

শুভ নববর্ষ

শুভ নববর্ষ ১৪৩৩, পহেলা বৈশাখ। বাংলাদেশে নববর্ষ ১৪ই এপ্রিল, পশ্চিমবঙ্গে ১৫ই এপ্রিল। এরশাদ সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে এ ঘাপলা লাগিয়ে দিয়েছেন। আর একদল ভন্ড যারা চিৎকার করে বলেন, আকবর নাকি বাংলাবর্ষের প্রবক্তা। এটি বাংলা ১৪৩৩, আকবর ভারত শাসন করেছেন হাজার খানেক বছর আগে (১৫৪২-১৬০৫), অর্থাৎ আকবরের প্রায় ৫শ’ বছর আগেই বাংলা সন চালু ছিলো। আর অবাঙ্গালী আকবরের বাংলা সনের প্রতি কি প্রেম ছিলো কেজানে? রাজা শশাঙ্ক প্রণীত বাংলা সনের পহেলা বৈশাখ ১৫ই এপ্রিল।

তারেক রহমান বেইলি রোডে স্ত্রীকন্যাকে নিয়ে নাটক দেখেছেন। এরআগে তিনি ম্যুভি দেখতে গিয়েছিলেন, এনিয়ে অযথা ট্রল হয়েছে। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর নামের এক সুফী পীরকে তৌহিদী জনতা পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। বাংলাদেশে ধর্ম অবমাননা নামক যন্ত্রনা কবে শেষ হবে কেজানে? বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননার যত নাটক হয় পৃথিবীর অন্যদেশে তা দেখা যায়না। অনেক মুসলিম দেশে ধর্ম রক্ষায় ‘ব্লাসফেমী’ আইন রয়েছে, বাংলাদেশ তা নেই কিন্তু সিএসএ (সাইবার সিকিউরিটি এক্ট) এজন্যে ব্যবহার করা হয়।

বাগেরহাটে কন্টেন্ট ক্রিয়েট করতে কুমিরের টোপ হিসাবে একটি কুকুরকে বেঁধে রাখা হয়েছিলো, কুমির কুকুরটি খেয়ে ফেলেছে। আমাদের দেশে পশুকে ‘ইতর’ প্রাণী বলা হয়, এঘটনায় কুকুরটি ইতর না কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ইতর তা বলা ততটা কঠিন নয়? দেশে হামে শিশুরা ভুগছে ও মরছে, প্রথম আলোর একটি হেডিং, ‘মেয়ের শেষ আবদার, বাবা আমাকে বুকে নাও, পানি দাও’ হৃদয় বিদারক। ইউনুস শাসনামলের এটি আর একটি অপকর্ম, এজন্যে কি মামলা বা কারো শাস্তি হবে? কুকুরকে টোপ হিসাবে ব্যবহার করা এবং শিশুদের হামের টিকা বন্ধের মধ্যে নিষ্ঠূরতা স্পষ্ট।

ছাত্রদল নেতা আবিদ বলেছেন, বেগম রোকেয়ার চেয়ে জাইমা রহমান নারীদের অনেক বেশি এগিয়ে নিয়ে গেছেন। এই হলো দেশের ছাত্রনেতা, এই চামচারাই নাকি দেশের ভবিষ্যৎ? ইউনুস আমলে দেশবাসী বেগম রোকেয়ার ছবির ওপর ‘মাগী’ লেখা পোষ্টার দেখেছে। হয়তো একই কারণে কবি নজরুল ইসলামের পাশে সন্ত্রাসী হাদী ঘুমিয়ে আছে! এটি ভন্ড রাজনীতি। কোথাকার এক কবি ও ভাষাশিল্পী কাজী জহিরুল ইসলাম বলেছেন, হাদির আদর্শেই আগামীর বাংলাদেশ নির্মিত হবে। মনে হয়, এই ভাষাশিল্পীর ভাষাও হাদির মতই? দেশটা চামচা ও জঙ্গীতে ভরে গেছে।

ট্রাম্প নিশ্চিত ছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ভেঙ্গে যাবে, তাই হয়তো তিনি ঐসময়ে মায়ামীতে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে নিয়ে ফাইটিং দেখছিলেন। নিকট ভবিষ্যৎ বলবে, ইরানী নেতাদের গর্ত থেকে বের করে নিয়ে আসা কি এ বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিলো কিনা? ইউএসনেভি হরমুজে মাইন্ পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছে। ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে হরমুজে টোল নিতে দেয়া হবেনা। মিডিয়া জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ শুরু করেছে। অনেক দিন আগে জহুর হোসেন চৌধুরী লিখেছিলেন যে, ‘কার্টারের বিচি ফাঁটা বাঁশে আটকে গেছে, ট্রাম্পের অবস্থা কি তাই? ট্রাম্প আজ বলেছেন, ইরান নুতন আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। পাকিস্তানও চায় আলোচনা নুতন করে শুরু হোক। তবে এটি স্পষ্ট যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে চায়? ইসরাইল যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও’র মধ্যস্থতায় আজ মঙ্গলবার ওয়াশিন্টনে ইসরাইল-লেবানন আলোচনা শুরু হয়েছে।

শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক
১৪ই এপ্রিল ২০২৫

ভূত বাংলো’ বাস্তবতার সঙ্গে মিশে আছে কুসংস্কার-ভয়াবহ কিছু বিশ্বাস

প্রায় দেড় দশক পর বলিউডের বরেণ্য নির্মাতা প্রিয়দর্শন আর অভিনেতা অক্ষয় কুমার জুটির পুনর্মিলন। একসময় যাদের হাতে ‘হেরা ফেরি’, ‘গরম মসালা’, ‘ভুলভুলাইয়া’র মতো হাস্যরসের ক্লাসিক সিনেমা তৈরি হয়েছিল, সেই জুটি আবার ফিরছে ‘ভূত বাংলো’ নিয়ে। টিজার আর ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই দর্শকের মনে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে– এটা কি শুধুই পুরোনো ফর্মুলার আধুনিক সংস্করণ, নাকি এই ঘরানাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার এক আন্তরিক চেষ্টা?

‘ভূত বাংলো’ সিনেমার গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে মঙ্গলপুর নামে এক গ্রাম। নাম শুনলেই বোঝা যায়, এটি সাধারণ কোনো গ্রাম নয়। এখানে বাস্তবতার সঙ্গে মিশে আছে লোককথা, কুসংস্কার এবং ভয়াবহ কিছু বিশ্বাস। গ্রামের সবচেয়ে ভয়ংকর গল্পগুলোর একটি হলো– বিয়ের সানাই বাজলেই নাকি জেগে ওঠে এক অশুভ শক্তি, ‘বধাসুর’। সেই শক্তির উপস্থিতি শুধু আতঙ্কই নয়, পুরো সমাজ ব্যবস্থাকেই যেন স্থবির করে দেয়। যার কারণে গ্রামের মানুষরা যেন এক অদৃশ্য কারাগারে বন্দি, যেখানে বিবাহ উৎসব মানেই মৃত্যুর অশনিসংকেত।

এ ধরনের গল্পের বড় শক্তি হলো এর ‘কালচারাল হরর’ টোন। অর্থাৎ এখানে ভূতের ভয় শুধু অতিপ্রাকৃত নয়; বরং সামাজিক বিশ্বাস ও যৌথ মানসিক আতঙ্কের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। প্রিয়দর্শন এই জায়গাটিতেই তাঁর পুরনো দক্ষতা প্রয়োগ করতে পারেন। যেখানে ভয়কে অত্যন্ত সিরিয়াসলি না নিয়েও তার ভেতর থেকে স্বাভাবিকভাবে কমেডি বের করে আনা হয়। ‘ভুলভুলাইয়া’য় তিনি সেটা করেছিলেন; ‘ভূত বাংলো’য় তা আরেকবার দেখার অপেক্ষা।

সিনেমার টিজার ইঙ্গিত দিচ্ছে, একদল শহুরে মানুষ কোনো না কোনো কারণে এই ‘অভিশপ্ত’ গ্রামে এসে পড়ে এবং সেখান থেকেই গল্পের শুরু হয়। তাদের কাছে ‘বধাসুর’ একটি অবিশ্বাস্য কাহিনি মাত্র, গ্রামের মানুষের কুসংস্কারের আরেকটি নাম। কিন্তু ধীরে ধীরে তারা বুঝতে শুরু করে যে, এখানকার প্রচলিত ভয়গুলো কেবল কল্পনা নয়; বরং এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক অন্ধকার সত্য। এই ‘আউটসাইডার ইন অ্যা কনফিউজিং সিস্টেম’ ফর্মুলা প্রিয়দর্শনের জন্য একেবারেই পরিচিত। এখানে কমেডি তৈরি হয় অজ্ঞতা, ভুল বোঝাবুঝি এবং পরিস্থিতির চাপ থেকে। শহুরে চরিত্ররা যখন গ্রামীণ রীতিনীতি ও কুসংস্কার বুঝতে ব্যর্থ হয়, তখন স্বাভাবিকভাবে সৃষ্টি হয় হাসির পরিস্থিতি। ফলে দর্শক একদিকে ভয় অনুভব করে, আবার অন্যদিকে চরিত্রগুলোর অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে হাসে। এই দ্বৈত অনুভূতিই সফল হরর-কমেডির প্রাণ।

এই সিনেমার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নিঃসন্দেহে অভিনেতা অক্ষয় কুমার। তাঁর কমেডি টাইমিং একসময় বলিউডের অন্যতম শক্তিশালী ফর্মুলা ছিল। বিশেষ করে প্রিয়দর্শনের পরিচালনায় তিনি যে ধরনের ‘অ্যাবসার্ড সিচুয়েশনাল কমেডি’ তৈরি করেছেন। দ্রুত সংলাপ, শারীরিক কমেডি, ভুল বোঝাবুঝির ওপর ভিত্তি করে গড়া পরিস্থিতি। তা আজও দর্শকের স্মৃতিতে জীবন্ত। ‘ভূত বাংলো’য় তাঁর চরিত্র ঘিরে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে, তা সম্ভবত একাধিক স্তরে কাজ করবে।

তবে বড় প্রশ্ন হলো– আজকের দর্শকের রুচি কি সেই পুরোনো স্টাইলকে আগের মতো উৎসাহের সঙ্গে গ্রহণ করবে? ওটিটি প্ল্যাটফর্মে আন্তর্জাতিক মানের কনটেন্টে অভ্যস্ত দর্শক এখন আর শুধু ‘অতিরঞ্জিত অভিনয়’ আর ‘চিৎকারে’ হাসেন না। তারা চান স্মার্ট কমেডি, প্রাসঙ্গিক সংলাপ এবং আপডেটেড হাস্যরস। প্রিয়দর্শন-অক্ষয়কে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

এই ছবির আরেকটি বড় শক্তি হলো এর অভিনয়শিল্পীদের তালিকা। পরেশ রাওয়াল, রাজপাল যাদব এবং আসরানি। এই তিনজনই ভারতীয় সিনেমায় কমেডির ভিন্ন ভিন্ন ধারার প্রতিনিধিত্ব করেন। পরেশ রাওয়াল সাধারণত ‘রিয়েলিস্টিক কমিক রিঅ্যাকশন’ দিয়ে দৃশ্যকে ভর ও বাস্তবতা দেন। তাঁর সংযত অভিনয় অক্ষয়ের উন্মাদনার সঙ্গে চমৎকার কনট্রাস্ট তৈরি করে। রাজপাল যাদব বিশৃঙ্খলা ও অতিরঞ্জনের মাধ্যমে হাস্যরস তৈরি করেন। তাঁর অপ্রেডিক্টেবল টাইমিং এবং অদ্ভুত শারীরিক ভঙ্গি প্রায়শই সিনেমার সবচেয়ে হাসির মুহূর্ত তৈরি করে।

আসরানি পুরোনো বলিউড কমেডির সেই আইকনিক রিদম বহন করেন, যেখানে অভিনয়ের চেয়ে উপস্থিতি ও ডায়লগ ডেলিভারি বেশি কাজ করে। এই তিনজন একসঙ্গে থাকলে কমেডির সম্ভাবনা প্রায় ‘এক্সপ্লোসিভ’। তবে সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও পর্দাভাগ না থাকলে সেটি আবার অতিরিক্ত কোলাহল ও অপ্রয়োজনীয় ‘ওভারঅ্যাক্টিংয়ে’ পরিণত হতে পারে। প্রিয়দর্শনের চ্যালেঞ্জ হলো এই তিনটি ভিন্ন কমিক স্টাইলকে একটি সুসংহত সুরে বাঁধা।

রোম্যান্স ও রহস্যের জন্য এই সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন ওয়ামিকা গাব্বি। অক্ষয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গল্পে একটি হালকা আবেগের স্তর যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রিয়দর্শনের সিনেমায় রোম্যান্স সাধারণত খুব বেশি থাকে না; বরং এটি কমেডির মধ্যে মানবিকতা ও আবেগের ভারসাম্য তৈরি করতে আসে। খুব বেশি প্রেমের সাব প্লট কমেডির গতিকে ধীর করে দিতে পারে।

এই সিনেমায় টাবুর উপস্থিতি আরও জটিল ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে বলে অনেকেই মনে করছেন। কারণ ‘ভুলভুলাইয়া’য় তিনি যেমন রহস্যময়ী মনজুলিকার চরিত্রে দর্শকের প্রত্যাশা ভেঙেছিলেন, এখানেও তাঁর চরিত্র ঘিরে রয়েছে রহস্য ও আবেগের এক চমৎকার মিশ্রণ। তিনি কি এই গ্রামের কোনো আত্মা? নাকি বধাসুরের গল্পের চাবিকাঠি?

অন্যদিকে পশ্চিমবাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত এখানে পারিবারিক বা সামাজিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রয়েছেন। বাংলার স্থানীয় অভিনেতার উপস্থিতি গল্পের লোকাল রিয়েলিজমকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।

প্রিয়দর্শন বরাবরই একটি নির্দিষ্ট সিনেম্যাটিক ভাষার জন্য পরিচিত। তাঁর সিনেমায় ক্যামেরা সাধারণত চরিত্রের গতি অনুসরণ করে, খুব বেশি ভিজ্যুয়াল এক্সপেরিমেন্ট নয়। দ্রুত কাট, ক্লোজআপে চরিত্রের রিঅ্যাকশন এবং লং টেক যেখানে কমেডিক টাইমিং কাজ করে, এটাই তাঁর স্বাক্ষর। তিনি চাকচিক্যের চেয়ে কাহিনি ও অভিনয়ের ছন্দকে বেশি গুরুত্ব দেন। এই সিনেমায় তিনি তাই করেছেন বলে ধারণা করছেন সিনেমাবোদ্ধারা।

‘ভূত বাংলো’য় প্রশ্ন হলো– তিনি কি সেই পুরোনো ভাষাতেই থাকছেন, নাকি নতুন প্রজন্মের দর্শকের জন্য কিছু আধুনিক ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিং যোগ করেছেন? প্রিয়দর্শন যদি অতিরিক্ত পুরোনো ঢঙে ‘কমেডি’ করেন, তবে তা হয়তো যুব দর্শকের কাছে ‘ব্যাকডেটেড’ মনে হতে পারে। অন্যদিকে, তিনি যদি নিজের মৌলিক শক্তিকে অস্বীকার করে সম্পূর্ণ নতুন কিছু করার চেষ্টা করেন, তবে তা হয়তো পুরোনো ভক্তদের মন ভাঙাবে। উত্তর জানা যাবে আগামীকাল। কারণ সেদিনই ভারতজুড়ে মুক্তি পাবে সিনেমাটি।

মেয়েকে মানবিক মানুষ বানাতে চান ঝিনাইদহের মীম

পহেলা বৈশাখের প্রথম প্রহরে চারপাশে যখন আনন্দধ্বনি বইছে, ঠিক তখনই ঝিনাইদহের মীম খাতুনের ঘর আলো করে এলো ফুটফুটে কন্যা সন্তান। মুহূর্তেই নববর্ষের আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে গেল। বছরের প্রথম দিনে জন্ম নেওয়া কন্যাকে মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চান মা।
মঙ্গলবার সকালে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারিতে জন্ম নেয় শিশুটি। সন্তানের মুখ দেখে খুশিতে আত্মহারা পেশায় গ্যারেজ শ্রমিক বাবা ইয়াসিন আহমেদ।
মীমের পরিবারের সদস্যরা জানায়, ২৫ এপ্রিল সন্তান জন্ম নেওয়ার কথা থাকলেও, আগেই প্রসব বেদনা ওঠে তার। সন্তানের মুখ দেখে সব ব্যথা-দুঃখ যেন মুহূর্তেই উবে গেল তার। শিশুকে কোলে নিয়ে আদর করেন স্বজনরা। নানি কিনে দেন লাল রঙের জামা।
জানা যায়, ঝিনাইদহ সদরের পাগলাকানাই ইউনিয়নের ঝিনুকমালা আবাসন প্রকল্পে বেড়ে ওঠেন মীম। ২০২৫ সালের ১০ জানুয়ারি ১৮ বছর বয়সে বিয়ে হয় যশোর জেলার পশ্চিম বারান্দি গ্রামের ইয়াসিন আহমেদের সঙ্গে।
মীম জানান, সন্তান সম্ভবা অবস্থায় কয়েকমাস আগে স্বামীর বাড়ি থেকে আবাসন প্রকল্পে মা’র কাছে আসেন মীম। রবিবার রাত ১২ টার দিকে প্রসব বেদনা উঠলে পরদিন সকালে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। তিনি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখে সন্তান হবে এমন ধারণাই ছিল না। বাংলা বছরের প্রথম দিন একমাত্র কন্যা সন্তান পৃথিবীর আলো দেখেছে ভেবে ভালো লাগছে।’
তিনি আরো জানান, চিকিৎসকেরা নরমাল ডেলিভারির আশ্বাস দিয়েছিলেন। ভর্তি হওয়ার পর থেকে সবসময় খোঁজ-খবর রেখেছেন।
‘ব্যাথা ওঠার পর প্রায় ৬ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। শারীরিক দুর্বলতা বেশি ছিল, খাবার রুচিও ছিল কম। অনেক শঙ্কা ছিল, তবে স্বামীর যত্ন দেখে সেসব শঙ্কাকে পাত্তা দিইনি।’- বলেন মীম
শিশুর নানি আফরোজা বেগম বলেন, ‘নাতনি হওয়ায় মনে হচ্ছে স্বর্গ পেয়েছি। সব সময়ই ওকে কোলে নিয়ে আদর করি।’
শিশুর বড় বাবা-মা আব্দুল মান্নান ও সাজেদা বেগম জানান, এই শিশু তাদের কলিজার টুকরা। তারা চান লেখাপড়া শিখে শিশুটি যেন মানুষের মতো মানুষ হয়।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. মার্ফিয়া খাতুন জানান, হাসপাতালে ভর্তির সময় থেকে মীমের শরীরে ওয়াটার লিকেজ ছাড়া তেমন কোন জটিলতা ছিল না। সব পরীক্ষা নিরীক্ষা করে মনে হয়েছে তিনি নরমাল ডেলিভারির উপযুক্ত। চিকিৎসক-নার্সদের চেষ্টায় তার সুস্থ কন্যা সন্তান হয়েছে।
জানা যায়, সন্তান জন্মের পর মীম ঝিনাইদহ সদর উপজেলার খাজুরা গ্রামে মামা মাসুদ শেখের বাড়িতে আছেন। এখনো শিশুটির নাম রাখা হয়নি।

ইরান যুদ্ধ একটি ‘ভুল’: ব্রিটিশ চ্যান্সেলর

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধকে একটি ‘ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ব্রিটিশ চ্যান্সেলর রাচেল রিভস। তিনি বলেছেন, এই সংঘাত বিশ্বকে আগের চেয়ে নিরাপদ করেছে কিনা, সে বিষয়ে তিনি মোটেও নিশ্চিত নন।

বুধবার ওয়াশিংটনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

রাচেল রিভস বলেন, ‘বর্তমান সংকট নিরসনে একটি কূটনৈতিক পথ খোলা ছিল, আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছিল। কিন্তু সেই আলোচনার পথ বন্ধ করে যুদ্ধে জড়ানো একটি বড় ভুল।’

তিনি বলেন, ‘প্রশ্নটি ইরান সরকারকে পছন্দ বা অপছন্দ করার নয়, প্রশ্ন হলো- আপনি যে পরিবর্তন চাইছেন, সেটি অর্জনের উপায় কী?’ তবে ইরান সরকারকে ব্যক্তিগতভাবে অপছন্দ করেন বলে এ সময় উল্লেখ করেন রিভস।

ব্রিটিশ চ্যান্সেলর জানান, বিশ্ব আগে যে অবস্থায় ছিল, যুদ্ধের পর পরিস্থিতি তার চেয়ে নিরাপদ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না।

তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন, তার সামরিক অভিযানে ইরান প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পর দেশটির চ্যান্সেলর রাচেল রিভসের এই বক্তব্য স্পষ্ট করে, ইরানের সঙ্গে এই সংঘাত নিয়ে যুক্তরাজ্যের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে অস্বস্তি ও দ্বিমত কাজ করছে। বিশেষ করে ওয়াশিংটনে মাটিতে ব্রিটিশ চ্যান্সেলরের এই মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্কে নতুন টানাপড়েনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বদহজমের সমস্যা দূর করতে ঘরেই বানান পানীয়

গরমে পেটের সংক্রমণ বাড়ে। এর মধ্যে বিভিন্ন দাওয়াত, অনুষ্ঠান তো লেগেই থাকে। সব মিলিয়ে এ সময় ভারী খাবার খেলে বদহজমের ঝুঁকি বাড়ে। অনেকেই বদহজম এড়াতে দোকানের কেনা কোমল পানীয় খান। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। যারা বদহজমের সমস্যায় ভুগছেন তারা আরাম পেতে বাড়িতেই বানানাতে পারেন বিশেষ পানীয়।  এতে পেট ঠান্ডা হবে, খাবার হজম হবে। এর পাশাপাশি শরীরও ভাল থাকবে৷

যা যা প্রয়োজন
১০০ গ্রাম মৌরি , ১০ গ্রাম গোটা গোলমরিচ , ৩০-৪০ গ্রাম মিছরি ,একটা লেবু , পানি ,সামান্য বিট লবণ

যেভাবে বানাবেন : মৌরি, গোলমরিচ আর মিছরি ভাল করে ব্লেন্ডারে গুঁড়ো করে নিতে হবে৷ এবার এক গ্লাস পানি নিতে হবে৷ পানির মধ্যে এই গুঁড়ো মিশ্রণটি ২ চা চামচ মিশিয়ে নিন৷ একটা পাতিলেবুর রস আর স্বাদমতো লবণ দিন৷ এবার ভাল করে সবটা মিশিয়ে নিন৷ ঠান্ডা খেতে চাইলে অল্প বরফ দিতে পারেন৷ এই পানীয় খেলে গ্যাস, পেটফাঁপা, বদহজমের সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে।

আজ স্বাধীনতা পদক হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পদক তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

এ বছর স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে সার্বিক অবদানের জন্য প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এছাড়াও ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বেগম খালেদা জিয়া ছাড়াও স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত অন্য ১৪ ব্যক্তি হলেন— মুক্তিযুদ্ধে মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক জহুরুল করিম, সাহিত্যে আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত), বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী বশীর আহমেদ (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় দেশের টেবিল টেনিসের কিংবদন্তি জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজসেবায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক, রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং চ্যানেল আইয়ের পরিচালক আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু)।

এছাড়া স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো— মুক্তিযুদ্ধে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), সমাজসেবায় এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় পুরস্কার। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এ পুরস্কার দিয়ে আসছে। স্বাধীনতা পুরস্কারের ক্ষেত্রে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ৫ লাখ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রামের স্বর্ণপদক, পদকের একটি রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।

বৈশাখের গরমে অস্বস্তি নিউজিল্যান্ডের

নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটারদের কাছে মনে হতে পারে মেরু থেকে মরুতে এসেছেন। এই তো কয়েক দিন আগেও ঠান্ডা ফুরফুরে হাওয়ায় অনুশীলন করেছেন দেশে। ৭ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ভেতরে ওঠানামা করেছে তাপমাত্রা।  সে রকম একটি সহনশীল আবহাওয়া থেকে ঢাকার ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস টম ল্যাথামদের জন্য মরুর উত্তাপের মতোই। দেশটির কোচ পল ওয়াইজম্যান গতকাল মিরপুরে অনুশীলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে সে ধারণাই দিলেন। তাঁর মতে, ঢাকায় বৈশাখের গরমও নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটারদের জন্য প্রতিপক্ষ। প্রখর রোদে ক্লান্ত হয়ে পড়ার একটা ভয় কাজ করছে কিউইদের মধ্যে। তবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই ভালো ক্রিকেট খেলতে চায় দলটি। পেশাদার ক্রিকেট দল হিসেবে সেভাবে মানসিক প্রস্তুতিও নিচ্ছে তারা।

ল্যাথামরা সোমবার রাতে ঢাকায় পৌঁছান। এক দিন বিশ্রাম নিয়ে গতকাল বুধবার প্রথম অনুশীলন করেন তারা। মূল মাঠে ফিল্ডিং সেশন ছিল লম্বা সময়। এরপর আউটার নেটে ব্যাটিং সেশন হয়েছে পালা করে। পেস এবং স্পিন বোলারদের নেট ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল। এই সেশনগুলো করার সময় একেকজন ব্যাটার ও বোলার যে কত বোতল পানি আর শক্তিবর্ধক পানি পান করেছেন, তার ইয়াত্তা নেই। এই এক দিনের অনুশীলনেই কিউই কোচ বুঝে গেছেন বৈশাখের গরম ভোগাবে। তাঁর মতে, ‘প্রস্তুতির দিক থেকে দেখলে দুয়েক দিনে খুব বেশি কিছু করার থাকে না। আমাদের শুধু পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে, গরম মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। গরম একটি চ্যালেঞ্জ। অন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রতিপক্ষ। আমাদের বেশ কিছু বিষয় বিবেচনা করতে হবে– গরম তার মধ্যে অন্যতম। গরম পিচের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। উইকেট কিছুটা ধীরগতির হতে পারে।’

ওয়ানডে ক্রিকেটের বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় স্থানে। সেদিক থেকে দেখলে বাংলাদেশের জন্য কঠিন একটি সিরিজ মোকাবিলা করতে হবে বলে মনে হতে পারে। বাস্তবে তেমন হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, কিউইরা সেরা দল নিয়ে খেলছে না। কোচ পল জানান, এ মুহূর্তে বিশ্বে তাদের ৫৪ জন ক্রিকেটার খেলছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ, ‘এ’ দল ও জাতীয় দলের সিরিজ মিলে এই বিশাল সংখ্যক ক্রিকেটার তাও উপমহাদেশে খেলছে। শ্রীলঙ্কায় খেলছে দেশটির এ দল। যেখান থেকে তিন ক্রিকেটার বাংলাদেশে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে এসেছেন। আইপিএল ও পিএসএল টি২০ ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলছেন সবচেয়ে বেশি এবং দেশটির তারকা ক্রিকেটারা। এ কারণেই দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে বাংলাদেশে খেলতে এসেছে টম ল্যাথামের নেতৃত্বে। এই দল নিয়েই লড়াই গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন পল ওয়াইজম্যান, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হলো পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়া। খেলাটা কেমন হবে, তা আমরা আগে থেকে ঠিক করে ফেলি না। কারণ, ক্রিকেট সব সময় বদলায় এবং খেলার মাঝেই তা বদলে যায়।’ ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে বোলিং লাইনআপকে কাজে লাগাতে চান কোচ, ‘খেলার মাঝের পর্যায়ে প্রভাব ফেলার জন্য যদি আমাদের স্পিনারদের ব্যবহার করার সুযোগ থাকে, আমরা তা করব। আমাদের কিছু ভালো ফাস্ট বোলারও আছে। তাই পরিস্থিতি অনুযায়ী মানিয়ে নিয়ে খেলার চেষ্টা করব। আর সেটাই খেলায় জয়-পরাজয় নির্ধারণ করবে।’

এনবিআর চেয়ারম্যানের নাম ও ছবি দিয়ে ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ খুলে প্রতারণা, সতর্ক থাকার আহ্বান

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের নাম ও ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি প্রতারক চক্র। সম্প্রতি তার নম্বরটি ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে অর্থ দাবি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ বৃহস্পতিবার এনবিআরের পক্ষ থেকে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র সুকৌশলে এনবিআর চেয়ারম্যানের পরিচয় ধারণ করে সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন সেবাগ্রহীতাদের বিভ্রান্ত করছে। তারা ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইল তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে মেসেজ পাঠাচ্ছে এবং নানা অজুহাতে অবৈধভাবে টাকা দাবি করছে। এই চক্রটি এর আগেও এনবিআরের চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর হ্যাক করে একইভাবে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার চেষ্টা চালিয়েছিল। এ বিষয়ে তখন শের-এ বাংলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। বারবার একই ধরনের ঘটনা ঘটায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এনবিআর কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এনবিআরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরও এই চক্রের বিষয়ে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে।

এনবিআর জানিয়েছে, এই প্রতারক চক্রের কার্যক্রম তাদের নজরে আসার পরপরই আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জনগণকে এই ধরনের প্রতারণার ফাঁদে পা না বাড়ানোর জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় ইরানি পরিচালক জাফর পানাহি

চলতি বছর টাইম ম্যাগাজিনের শীর্ষ প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন ইরানের চলচ্চিত্র পরিচালক জাফর পানাহি। রাষ্ট্রীয় চাপ ও সেন্সরশিপ জটিলতার মুখেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় অবিচল এই নির্মাতার অদম্য স্পৃহাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে টাইম ম্যাগাজিনে।

জাফর পানাহিকে নিয়ে টাইমের ফিচারে বলা হয়, ‘বহু বছর ধরেই সিনেমার সেন্সরশিপ নিয়ে জটিলতা ও রাষ্ট্রীয় চাপের মুখে তিনি সিনেমা নির্মাণ করে চলেছেন। নিজের দেশেই তিনি সিনেমা নির্মাণ করতে গিয়ে বারবার ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। সিনেমা বানানোর জন্য বেশ কয়েকবার জেল খেটেছেন এই নির্মাতা।’

আরও বলা হয়, ‌‌‘এমন এক সময়ে, যুদ্ধের ভয়াবহতার আগেও, স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনরত হাজার হাজার ইরানিকে যখন হত্যা করা হয়েছিল, তখন তাঁর শিল্পকর্ম সততার সঙ্গে জরুরি অবস্থার সেসব মুহূর্ত তুলে ধরেছিল। শিল্পের জন্য বারবার কারারুদ্ধ হলেও তিনি থেমে থাকেননি।’

সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হলে, এক সাক্ষাৎকারে মাতৃভূমি ইরানে ফেরার ব্যকুলতা প্রকাশ করেন পানাহি। তখন তিনি সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টিও আঁচ করেছিলেন। এক প্রশ্নে তাঁর ভাষ্য ছিল, ‘একবছরের জন্য জেলে যাব, বেরিয়ে আসব একটি নতুন চিত্রনাট্য নিয়ে!’

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মধ্যে থাকা একটি জাতির ন্যায়বিচারের সীমিত প্রত্যাশা ও মানসিক ক্ষতের চিত্র তুলে ধরেন।এই পরিপ্রেক্ষিতে পানাহিকে আবারও একবছরের কারাদণ্ড এবং তাঁর শিল্পকর্মের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন ইরানের আদালত।

বিষয়টি উল্লেখ করে টাইম লিখেছে, ‘প্রত্যাশিতভাবেই শাসকগোষ্ঠী তাঁর অনুপস্থিতিতে একবছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেয় এবং সেইসঙ্গে তাঁর জীবন ও কর্মের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তবুও তিনি অবিচল। অকপট ও গভীর মানবিক গল্প বলার মাধ্যমে জাফর আমাদের মনে করিয়ে দেন যে, শিল্প তাঁর সর্বোচ্চ শক্তিশালীরূপে স্বাধীনতারই এক প্রকাশ।’

১৯৯৫ সালে মুক্তি পায় তার প্রথম ফিচার ফিল্ম ‘দ্য হোয়াইট বেলুন’। ছবিটি কান চলচ্চিত্র স্বর্ণপাম পুরস্কার জিতেছিল। ১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তার ‘দ্য মিরর’ দর্শকরা খুব পছন্দ করেন। ২০০০ সালে দর্শককে তিনি উপহার দেন আরেক মাস্টারপিস ‘দ্য সার্কেল’। সব ক’টি সিনেমায় রূপক হিসেবে প্রতিবাদী গল্প উঠে আসে।