Home Blog Page 13

জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধীদের বিচার এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি। আজ মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ষষ্ঠ কমিটিতে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবিত সনদে তিনটি সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা রাখার আহ্বান জানান নওশাদ জমির। তিনি অপরাধের আলামত সংরক্ষণ ও সাক্ষীদের সুরক্ষায় সহযোগিতা, ভুক্তভোগীদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর দায়িত্ব ভাগাভাগিতে আন্তর্জাতিক সংহতি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে নওশাদ জমির বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে আন্তর্জাতিক কাঠামোতে ভুক্তভোগীদের আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর ভূমিকার যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদনে ওই সময়ে শিশুসহ প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের প্রাণহানির তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে কি না, তা নির্ধারণে ফৌজদারি তদন্তের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যাতে কোনো দেশে নিরাপদ আশ্রয় না পান, সে জন্য সর্বজনীন বিচারিক এখতিয়ার প্রতিষ্ঠা, অপরাধীদের প্রত্যর্পণ এবং আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান নওশাদ জমির। একই সঙ্গে নারী ও শিশুদের ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নে আপসের বিষয়ে সতর্ক করে নওশাদ জমির বলেন, ‘সবাইকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে সনদকে দুর্বল করা হলে তা শেষ পর্যন্ত কাউকেই সুরক্ষা দিতে পারবে না।’

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সমস্যা সমাধানে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন জামায়াত আমির

জন্মভূমি প্রতিনিধিঃ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ কথা জানিয়েছেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সমস্যা, বৈষম্য ও বঞ্চনার কথা শুনেছেন জামায়াত আমির এবং এসব সমস্যা সমাধানে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডের ২৯ নম্বর সরকারি বাসভবনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে হিন্দু ধর্মাবলম্বী নেতাদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় শেষে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন গোলাম পরোয়ার।

তিনি বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের যত সংগঠন আছে, জাতীয় ভাবে তার প্রায় সব সংগঠনের প্রতিনিধিত্বকারী নেতারা সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, পূজা উদযাপন ফ্রন্ট, জাতীয় হিন্দু মহাজোট, হিন্দু ধর্ম কল্যাণ ট্রাস্টসহ আরও অনেক সংগঠন ও সংস্থার নেতৃবৃন্দ এখানে উপস্থিত ছিলেন।
গোলাম পরোয়ার বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে শুধু নয়, লিডার অব দ্য অপজিশন হিসেবে একটি সাংবিধানিক দায়িত্বের কথা তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। আমাদের এই প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে কথা বলা সরকারের যেমন দায়িত্ব, তেমনি বিরোধীদলীয় নেতারও সাংবিধানিক কর্তব্য। তিনি সেটি স্মরণ করেছেন এবং এ ব্যাপারে তার ভূমিকা যতটুকু তিনি পালন করেন, সেটিও ব্রিফ করেছেন।

Jamat Amir 1791975111

তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতের পক্ষ থেকে, বিশেষ করে ৫ আগস্টের জুলাই অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান, পূজা ও মন্দির রক্ষায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের সাহসী এবং দিনরাত নিরবচ্ছিন্ন ভূমিকার প্রশংসা করেছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ।
তিনি আরও বলেন, এই মতবিনিময় সভায় নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন জায়গায় কিছু বৈষম্য, বঞ্চনা, অসুবিধা, দুঃখ-কষ্ট ও ডিসক্রিমিনেশনের কথা উল্লেখ করেছেন। তারা সহযোগিতা চেয়েছেন। সরকার ও বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের পাশে থেকে এসব সমস্যার সমাধান করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন আমাদের নেতা। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, আমরা আপনাদের সঙ্গে আরও মতবিনিময় করব, আরও কথা শুনব এবং আমাদের এই কর্তব্য ও দায়িত্ব পালনে আপনাদের পাশে আমরা সব সময় থাকব।

বিফ্রিংয়ে সিনিয়র আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রাক্কালে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সনাতন সমাজের নেতৃবৃন্দকে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য আজ যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, এজন্য সনাতন সমাজের পক্ষ থেকে আমি আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই। সবাই মিলেমিশে বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে পারি এবং একে অপরের সহমর্মিতায় পাশে থাকতে পারি, সেটিই আজ আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর শ্রদ্ধেয় আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা।

সুব্রত চৌধুরী বলেন, আমরা সনাতন সমাজের পক্ষ থেকে তার এই গ্রহণযোগ্যতা ও বক্তব্যে সন্তুষ্ট। আগামী দিনে জামায়াতে ইসলামী এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, তবে আমি একটি কথা বলতে চাই, যখনই আমাদের কোনো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান হয়, তখন রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ এবং পৃথিবীর বুকে আমরা খুব উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করি। আমি বলতে চাই, এই কথাটা আমাদের মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতা-নেত্রীরা যদি মসজিদে খুতবার মাধ্যমে এই সম্প্রীতির আহ্বান জানান, তাহলে বাংলাদেশ সত্যি সত্যি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হয়ে উঠবে।

হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিতে জাতীয় কমিটি গঠনের পরামর্শ রাষ্ট্রপতির

জন্মভূমি প্রতিনিধিঃ রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়গুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়গুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা গেলে তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবিদাওয়া যথাযথভাবে সরকারের কাছে তুলে ধরা সহজ হবে।
আজ বুধবার দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি ও ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারের মহাধ্যক্ষ শ্রীসদ্ধম্মসাসনধ্বজ বুদ্ধপ্রিয় মহাথেরের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ পরামর্শ দেন।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এই তথ্য জানান।
এ সময় হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃগোষ্ঠীবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে আরও গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে তারা কোনোভাবেই পিছিয়ে না পড়ে। এ ক্ষেত্রে সম্প্রদায়ের শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বিভিন্ন বিষয় ও সমস্যা রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরে এবং তাদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করে।
সমস্যা সমাধানের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি তাদেরকে আশ্বস্ত করে বলেন, সব সম্প্রদায়ের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং বৈষম্য দূর করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
এ সময় তারা আগামী নভেম্বরে কমলাপুরের ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে অনুষ্ঠেয় কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সুশীল চন্দ্র বড়ুয়া, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি পার্থ প্রতিম বড়ুয়া, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সহ-সভাপতি ও সাবেক যুগ্ম সচিব রণজিৎ কুমার বড়ুয়া, জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ফোরামের সভাপতি ও কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য দিলীপ কুমার বড়ুয়া, বাসাবো ধর্মরাজিক মহাবিহারের উপাধ্যক্ষ সুমিত্তানন্দ ভিক্ষু (অনুপম বড়ুয়া) এবং রীটন কান্তি বড়ুয়া (স্বরূপানন্দ ভিক্ষু)-সহ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ।
এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।

দুর্গাপূজায় শ্লোগান উঠুক, ‘চিন্ময় প্রভু’র মুক্তি চাই’

০

শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক, ১০ই অক্টবর ২০২৬।। দুর্গাপূজা এসে গেছে। পূঁজার লেখা নিয়ে অনুরোধ থাকে, কি লিখবো? নিউইয়র্কে দুর্গাপূজা নিয়ে লিখে লাভ নেই, এখানে কেউ মুর্ক্তি ভাঙ্গেনা। পুলিশ প্রহরা লাগেনা। দলীয় ও পাড়ার মাস্তানদের দৌরাত্ম নেই! নারীর গায়ে কেউ হাত দেয়না। নাবালিকা অপহরন হয়না। মারামারি নাই। তবে কোন্দল আছে। একটি মন্দিরে পাল্টাপাল্টি দুই গ্রূপ একই সময়, একই জায়গায় পূজা দেয়ার ঘোষণা দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী প্রতিটি পূজা মণ্ডপে ‘চিন্ময় প্রভু’র মুক্তি চাই’ ও ‘ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অজুহাতে বন্দী সকল হিন্দু’র মুক্তি চাই’, এবং ‘বাংলাদেশে হিন্দু হত্যা ও হিন্দু নির্যাতন বন্ধ হউক’ ইত্যাদি ব্যানার ও পোষ্টার থাকা উচিত।

বাংলাদেশে হিন্দুরা নির্যাতিত, অবহেলিত, নিউইয়র্কের পূজা কমিটিগুলো এগিয়ে আসতে পারেন। প্রতি পূজায় সামান্য কিছু ডলার বাঁচিয়ে দেশে অন্তত: একটি পরিবারকে সাহায্য দিয়ে রোজগারের ব্যবস্থা করে দিলে মানুষগুলো বেঁচে যায়। বিশ্বব্যাপী প্রতিটি পূজামণ্ডপ এ ব্যবস্থা নিলে বাংলাদেশে বহু হিন্দু’র কাজের ব্যবস্থা হতে পারে। নিউইয়র্কে অনেকগুলো পূজা হয়, মানুষের ঢল নামে, এটি ভাল। কিন্তু এই মানুষগুলো বা কোন সংগঠন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এলে জাতিসংঘের সামনে হিন্দু নির্যাতনের বিরুদ্ধে বা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভু’র মুক্তির দাবিতে কোন সমাবেশ করেনি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে দু’একজন চিন্ময় প্রভু’র ছবি নিয়ে দাঁড়িয়েছেন।

বাংলাদেশে মুর্ক্তিভাঙ্গা জানান দেয় যে দুর্গাপূজা এসে গেছে। বিভিন্ন স্থানে ইতিমধ্যে বেশ কিছু মুর্ক্তি ভেঙ্গেছে। আচ্ছা, ধর্মীয় জিঘাংসা ব্যতিত কি মুর্ক্তি ভাঙ্গা সম্ভব? না, সম্ভব নয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে হাজার হাজার মুর্ক্তি ভেঙ্গেছে, মন্দির আক্রমন হয়েছে, বিচার হয়নি। মুর্ক্তিভাঙ্গা জায়েজ, বিচার করে সাধ্য কার? বাংলাদেশে পুলিশ প্রহরায় পূজা হয়, পুলিশ পাহারা ছাড়া পূজা কি সম্ভব? না, কেন নয়? দুর্গাপূজায় পুলিশ লাগে, ঈদের নামাজে লাগেনা। এমনকি ভারতেও হজ্বযাত্রীদের ওপর আক্রমণ হয়না, অমরনাথ মন্দিরে যাত্রীদের ওপর আক্রমন হয়, তাই সেখানে পাহারা লাগে। মমতা ব্যানার্জীর আমলে কলকাতায় মন্দিরে আক্রমণ হয়েছে।

বাংলাদেশে পূজার সময় প্রতিটি কমিটিকে কিছু অনুদান (ভিক্ষা) দেয়, তাই পূজার সংখ্যা বাড়ে। সরকার এটিকে ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’র নমুনা বলে প্রচার করে। দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নেই, কখনো ছিলোনা। যেমন দেশে গণতন্ত্র নেই, কখনো ছিলোনা। ইসলাম ও গণতন্ত্র যেমন একসাথে চলতে পারেনা, তেমনি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলে অন্যরা টিকতে পারেনা। বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা পুরো মুসলিম বিশ্ব এর উদাহরণ। বাংলাদেশ ধীরে ধীরে কট্টর ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে, এবং এজন্যে দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দল, নেতানেত্রীরা দায়ী। মুসলিম রাষ্ট্রগুলো হয় আমেরিকা, নয়তো চীনের পা-ধরে বসে আছে, বাংলাদেশও তাই।

বাংলাদেশ সোসাইটির ৫০ বছরের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচনী বিতর্ক

বাংলাদেশ সোসাইটির ৫০ বছরের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচনী বিতর্কের আয়োজন করল ফাউন্ডেশন ফর বেটার ওয়ার্ল্ড
জবাবদিহিতা, আর্থিক স্বচ্ছতা, ভোটার পদ্ধতির সংস্কার ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রথমবারের মতো নির্বাচনী বিতর্কের আয়োজন করেছে ফাউন্ডেশন ফর বেটার ওয়ার্ল্ড (এফবিডব্লিউ)। গত ৭ অক্টোবর, বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় জ্যাকসন হাইটসের সানাই রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি হলে এ বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক ও উপস্থাপক খালেদ মহিউদ্দিন। অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

‘আমরা ভবিষ্যতে একটি জনকল্যাণমূলক বাংলাদেশ সোসাইটি দেখতে চাই’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে আয়োজিত বিতর্কে বাংলাদেশ সোসাইটিকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণমুখী সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

বিতর্কে সভাপতি পদে দুই প্যানেলের প্রার্থী আথাউর রহমান সালিম ও আজমল হোসেন কুনু অংশ নেন। সাধারণ সম্পাদক পদে দুই প্যানেলের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী ও ফিরোজ আহমেদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রব্বি সৈয়দ অংশগ্রহণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী বিতর্কের আদলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রার্থীরা সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, নেতৃত্বের দায়বদ্ধতা এবং কমিউনিটির প্রত্যাশা নিয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ সোসাইটির ৫০ বছরের ইতিহাসে এ ধরনের নির্বাচনী বিতর্ককে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন আয়োজকেরা। তাঁদের মতে, নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের পরিকল্পনা, দৃষ্টিভঙ্গি ও অঙ্গীকার সম্পর্কে ভোটারদের সরাসরি জানার সুযোগ তৈরি করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
বিতর্কে বাংলাদেশ সোসাইটিকে আরও কার্যকর করার জন্য সাংগঠনিক উন্নয়ন, নতুন কর্মসূচি গ্রহণ, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্মিলিত শক্তিকে জনকল্যাণে কাজে লাগানো এবং নতুন প্রজন্মকে সংগঠনের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি ভোটার পদ্ধতির সংস্কার, আর্থিক স্বচ্ছতা, ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরে সদস্যদের কল্যাণে বেশি অর্থ ব্যয়, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা এবং অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়।

প্রার্থীরা বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি সংগঠনের সম্পদ ও অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং সদস্যদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। একটি আধুনিক, কার্যকর ও জনকল্যাণমুখী সংগঠন প্রতিষ্ঠায় পরিকল্পিত উদ্যোগ এবং নেতৃত্বের জবাবদিহিতা অপরিহার্য বলেও আলোচনায় উঠে আসে।

অনুষ্ঠানটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার ও অনলাইনে প্রচার করা হয়। ঠিকানা টিভি এবং টাইম টিভি পুরো অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করে। এ ছাড়া আইবিটিভিসহ অন্যান্য গণমাধ্যম, ব্লগার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠানটির প্রচার হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঠিকানা পত্রিকার এম এম শাহীন, ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটসের সভাপতি শহিদুল হক, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক নির্বাচন কমিশনার নাসির খান পল, শাহজাহান শেখ, তরিকুল হোসাইন বাদল, এম এ আজিজসহ কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে ফাউন্ডেশন ফর বেটার ওয়ার্ল্ডের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সুবহান এবং পরিচালক মাহবুবুর রহমান উপস্থিত অতিথি, বিতর্কে অংশগ্রহণকারী প্রার্থী, গণমাধ্যমকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও আয়োজন সফল করতে সহযোগিতাকারী সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পরে উপস্থিত অতিথিদের সানাই রেস্টুরেন্টের নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

উল্লেখ্য, আগামী ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে সচেতনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক হারুন চৌধুরীকে দেখতে গেলেন বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ ভার্জিনিয়া — বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রবীণ সাংবাদিক ও লেখক হারুন চৌধুরীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে এবং তাঁর প্রতি সহমর্মিতা জানাতে সম্প্রতি একদল বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতা ও সাংবাদিক ভার্জিনিয়ায় তাঁর বাসভবনে যান।

প্রতিনিধিদলে ছিলেন শিব্বীর আহমেদ, জেডআই রাসেল, শেখ সেলিম, সাদেক এম. খান এবং জুয়েল বড়ুয়া। তাঁরা ৭৭ বছর বয়সী সাবেক এই যুদ্ধকালীন কমান্ডারের সঙ্গে কিছু সময় কাটান এবং তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন। বয়সজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার কারণে বর্তমানে তিনি অনেকটাই ঘরবন্দি জীবনযাপন করছেন।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, হারুন চৌধুরী ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল ও উচ্চ রক্তচাপসহ একাধিক দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। এসব শারীরিক জটিলতার কারণে তাঁর চলাফেরা অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছে এবং দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজের জন্য তাঁকে অন্যের সহায়তা নিতে হয়।

সাক্ষাতের সময় দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সম্পর্কের নানা স্মৃতি এবং পুরোনো দিনের গল্প নিয়ে আলোচনা হয়। বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে প্রাণবন্ত স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে সময় কাটান হারুন চৌধুরী। দীর্ঘদিনের পরিচিতজনদের এই সাক্ষাৎ তাঁর জন্য স্বস্তি ও মানসিক সমর্থনেরও উপলক্ষ হয়ে ওঠে।

হারুন চৌধুরীর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। ১৯৭১ সালে তিনি ভারতের আগরতলার মেলাঘরে সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পরে তিনি সেক্টর-২-এর কে ফোর্সে মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ ও মেজর হায়দারের অধীনে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি শ্রীনগর থানার এলাকায় পরিচালিত সামরিক অভিযানের নেতৃত্ব দেন।

স্বাধীনতার পর হারুন চৌধুরী সাংবাদিকতা ও লেখালেখিকে তাঁর পেশাগত জীবনের প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেন। দীর্ঘদিন তিনি সাপ্তাহিক ঠিকানা-এর ওয়াশিংটন, ডিসি প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে তিনি সাংবাদিকতা ও সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে পরিচিত ও সম্মানিত হয়ে ওঠেন।

মুক্তিযুদ্ধ ও সাংবাদিকতা নিয়ে তাঁর বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আমার মুক্তিযুদ্ধ আমার অহংকার ১৯৭১, যেখানে তিনি তাঁর মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন, এবং সাংবাদিকের সংবাদ, যেখানে সাংবাদিকতা-জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ স্থান পেয়েছে। বই দুটি প্রকাশ করেছে অনন্যা প্রকাশনী।

সাক্ষাৎ শেষে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বাংলাদেশের জন্য হারুন চৌধুরীর মুক্তিযুদ্ধকালীন ত্যাগ এবং পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকতা ও প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজে তাঁর দীর্ঘদিনের অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য, সাংবাদিক এবং তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের প্রতি এই প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক এবং তাঁর পরিবারের জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানানোর আহ্বান জানান।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা রিয়াদে হামলা-পাল্টা হামলা চলছে, বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ দেশটির বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রেন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীটি। এতে একসময় নিজেকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ঘোষণা দেওয়া সৌদির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাহীনতা চরম আকার ধারণ করেছে। খবর রয়টার্স ও মিডল ইস্ট আইয়ের।

এদিকে, রিয়াদসহ দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলে প্রভাব পড়েছে। গত শনিবার রাত থেকে গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ১০০টি ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরবের সঙ্গে সরাসরি চলাচলকারী ৪১টি এবং বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর হয়ে পরিচালিত ৫৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে। এ কারণে এসব ফ্লাইটের ১৫ হাজার ৩৯৩ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সমকাল প্রতিবেদক জানিয়েছেন, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি এবং সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ও রিয়াদ এয়ারওয়েজের সাতটি করে ফ্লাইট রয়েছে। এ ছাড়া ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, সালাম এয়ারের সাতটি, কাতার এয়ারওয়েজের সাতটি, ফ্লাই দুবাইয়ের ছয়টি, এয়ার ইন্ডিয়ার দুটি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট রয়েছে।

ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন, বিলম্ব ও যাত্রা বাতিলের মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় কর্মস্থলে ফেরা প্রবাসী, ছুটি শেষে সৌদি আরবে যেতে চাওয়া যাত্রীরা ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন। এ অবস্থায় যাত্রীদের বিমানবন্দরে রওনা হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা ও নতুন সময়সূচি নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এয়ারলাইন্সগুলো টিকিট থাকা সাপেক্ষে রিয়াদ ও দাম্মামের যাত্রীদের মদিনা ও জেদ্দায় নিয়ে যাচ্ছে। বিমানের একজন কর্মকর্তা বলেন, ভিসার মেয়াদ যাদের শেষের দিকে, তেমন যাত্রীদের বিনামূল্যে টিকিট পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

আরামকোর প্রধান কার্যালয়ে হুতিদের হামলা

ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও অন্যান্য তেল স্থাপনায় হামলা জোরদার করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী। জোটটি সানায় ইয়েমেন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির তেল ডিপোসহ হুতি নিয়ন্ত্রিত একাধিক ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালায়। এ হামলার পর গতকাল হুতিরা সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলোয় হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

তেল জায়ান্ট সৌদি আরামকোর পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানের প্রধান কার্যালয়ে গত মঙ্গলবার রাতে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। একাধিক তলায় ছড়িয়ে পড়া এই আগুনে কার্যালয়টি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, আগুনে ক্ষতি সীমিত ছিল এবং কর্মীরা বাসা থেকে কাজ করছে।

তেল স্থাপনা ছাড়াও রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক সপ্তাহে চারবার হামলা চালিয়েছে হুতিরা। এর মধ্যে শনিবারের হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হন, যা গত এক দশকের মধ্যে সৌদিতে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা।

সৌদির প্রতিরক্ষা বিভাগ গতকালও রিয়াদমুখী একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করে। আকাশে বিকট শব্দের পর রিয়াদে সাময়িক বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।

‘রিয়াদ আর নিরাপদ মনে হচ্ছে না’

এতদিন ধরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যেও রিয়াদ নিজেকে এক নিরাপদ ও শান্ত আশ্রয়স্থল হিসেবে তুলে ধরেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলা সেই নিরাপত্তার মিথকে মুহূর্তেই গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

সৌদিতে বসবাসরত প্রবাসীরা এখন চরম আতঙ্কে আছেন। রিয়াদে সাত বছর ধরে থাকা ব্রিটিশ নাগরিক বিলাল বলেন, ‘ওমরাহ বা হজ করতে আসা যাত্রীদের কখনও এভাবে জীবনের ঝুঁকিতে পড়া উচিত নয়। পরিস্থিতির যদি আরও অবনতি ঘটে, তবে আমি আমার পরিবারকে দেশে ফেরত পাঠাতে বাধ্য হব।’

দীর্ঘদিন ধরে রিয়াদে থাকা আরেকজন বিদেশি নাগরিক মোহাম্মদ বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেভাবে বিমানবন্দর রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাতে প্রবাসীরা উদ্বিগ্ন। সত্যি বলতে, রিয়াদ আর আগের মতো নিরাপদ মনে হচ্ছে না।’

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দেশকে শুধু তেলের ওপর নির্ভর না রেখে পর্যটন, বিনোদন ও বৈশ্বিক বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। এই সংঘাত তাঁর ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনা সরাসরি ধাক্কা দিয়েছে। চলতি মাসে দেশটিতে ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু তার আগেই এমন হামলায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

ইয়েমেনে মানবিক বিপর্যয় 

চলমান যুদ্ধে ইয়েমেনের ভেতরের পরিস্থিতি আরও শোচনীয়। দেশটিতে নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় হাসপাতালগুলো আহত লাশের চাপে পিষ্ট হচ্ছে। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস জানিয়েছে, মারিব, তাইজ ও লোহিত সাগর উপকূলীয় ফ্রন্টলাইনের হাসপাতালগুলোয় শুধু এক সপ্তাহেই সাত শতাধিক রক্তাক্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। পর্যাপ্ত অক্সিজেন, অ্যানেসথেশিয়া ও সার্জিক্যাল উপকরণের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সতর্ক করেছে, হুতিরা তাইজ শহর অবরুদ্ধ করে ফেলায় প্রায় আট লাখ মানুষের জন্য জীবনরক্ষাকারী ত্রাণ সহায়তা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের বিমানকর্মীদের ওপর ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলবে এয়ার ফ্রান্স

জাতীয়তার ভিত্তিতে ইসরায়েলে ও এর আকাশসীমায় ফ্লাইট পরিচালনাকারী ক্রুদের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইসরায়েল। ফরাসি বিমান পরিবহন সংস্থা এয়ার ফ্রান্স এই বিধিনিষেধ মেনে চলার কথা নিশ্চিত করেছে। নতুন এই বিধিনিষেধে বাংলাদেশ, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ইরান, ওমান, সৌদি আরব, পাকিস্তান এবং নাইজারসহ ৩১টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের তালিকা দেওয়া হয়েছে। এসব দেশের নাগরিকদের এখন থেকে ইসরায়েলের আকাশসীমায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

ইসরায়েলি গণমাধ্যম এবং ফরাসি অনুসন্ধানী প্রকাশনা মিডিয়াপার্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ফরাসি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিতর্কিত এই নীতির কারণে এয়ারলাইনটি কর্মসংস্থান আইনে বৈষম্যমূলক মামলার মুখে পড়তে পারে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে একজন ওমানি কো-পাইলটের কথিত ছিনতাই চেষ্টার ঘটনার পর ১ অক্টোবর ইসরায়েলি পরিবহন মন্ত্রণালয় এই নির্দেশনা জারি করে। ওই ঘটনায় বিমানের ভারতীয় পাইলটকে আক্রমণের অভিযোগ ওঠে এবং তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে, অন্যান্য সব এয়ারলাইন্সের মতো তারাও গ্রাহক ও কর্মীদের স্বার্থে সেবা প্রদানকারী দেশের কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত প্রবেশ বিধিনিষেধ মেনে চলতে বাধ্য। তেল আবিবগামী ফ্লাইটের ক্ষেত্রে নতুন এই বিধিনিষেধ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে।

চেক প্রজাতন্ত্রের শীর্ষ এয়ারলাইন স্মার্টউইংসও ইসরায়েলের এই বিধিনিষেধ মেনে চলার কথা নিশ্চিত করেছে। তবে মার্কিন এয়ারলাইন ইউনাইটেড এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। মিডিয়াপার্টের হাতে আসা এয়ার ফ্রান্সের একটি অভ্যন্তরীণ মেমোতে সতর্ক করা হয়েছে যে, এই নির্দেশনা অমান্য করলে এয়ারলাইনটি ও এর কর্মীদের সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে।

প্যারিসভিত্তিক বৈষম্যবিরোধী আইনজীবী ক্লারা গ্যান্ডিন মনে করেন, এই পদক্ষেপ এয়ার ফ্রান্সকে ফরাসি কর্মসংস্থান আইনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়াতে পারে। এটিকে একটি ‘বৈষম্যমূলক পক্ষপাত’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট ৩১টি দেশের নাগরিকদের কেবল জাতীয়তা বা ধর্মের ভিত্তিতে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যা সরাসরি বৈষম্যমূলক হয়রানির শামিল।

ফরাসি শ্রম বিধির অনুচ্ছেদ এল১১৩২-১ অনুযায়ী, প্রকৃত বা অনুভূত জাতীয়তার ওপর ভিত্তি করে দায়িত্ব প্রদান বা বেতনের ক্ষেত্রে যেকোনো বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

এই আইনজীবী আরও ব্যাখ্যা করেন, বিমান চালানোর জন্য নির্দিষ্ট জাতীয়তা কোনো আবশ্যক শর্ত হতে পারে না। এয়ার ফ্রান্সের এই নীতি গ্রহণের পেছনে আইনি বৈধতার চেয়ে ইসরায়েলি বাজার ধরে রাখার বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যই বেশি কাজ করেছে। কিন্তু ফরাসি বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইন অনুযায়ী, অর্থনৈতিক বিবেচনা কখনোই বৈষম্যকে বৈধতা দিতে পারে না।

তিনি জানান, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা মূল্যায়নের (ভেটিং) মাধ্যমেই নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা করা উচিত, সামষ্টিকভাবে কেবল জাতীয়তার ভিত্তিতে নয়।

আসামি বিএনপির তিন নেতা, মামলা নিতে গড়িমসি

নওগাঁর ধামইরহাটে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গভীর রাতে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনার ১২ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ মামলা নেয়নি বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

দক্ষিণ ফার্সিপাড়া এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তাণ্ডবের ভয়াবহ চিত্র। গত ১ অক্টোবর রাত দেড়টার দিকে ৫০-৬০ জনের একটি সশস্ত্র দল আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে সোলাইমান আলীর বাড়িতে হামলা চালায়। পাঁচটি ইটের ঘর, আসবাব, বৈদ্যুতিক মিটার ও টয়লেট ভাঙচুরের পাশাপাশি ১২০টি কলাগাছসহ বেশ কিছু ফলদ গাছ কেটে ফেলা হয়। হামলাকারীরা ঘরের মালপত্র, টাকা-পয়সা, সিলিং ফ্যান ও পানির মোটর লুট করে নিয়ে যায়। বাধা দিলে সোলাইমান আলী ও তাঁর বড়মা গুলছিয়ারা বেগমকে মারধর করা হয়। এমনকি ভাড়াটিয়াদের মারধর করে বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মাঝরাতে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মেহেরুল হাসান মেবু এবং রিকশা ও অটোরিকশা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুল হামিদসহ অভিযুক্তদের নামে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করছে।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, আব্দুল কুদ্দুস ও শরীফ উদ্দিন আমাইতাড়া মৌজায় হাজেরা বিবি ও ময়েন উদ্দিন মণ্ডলের কাছ থেকে দুই দাগে মোট ১ দশমিক ০২ একর জমি কেনেন। একই জমি তোজাম্মেল হকও কিনেছেন বলে দাবি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে ভূমি অফিসে শুনানি হয়। জমিসংক্রান্ত নথিপত্রে দেখা যায়, বিবাদীপক্ষ তোজাম্মেল হকের দাখিল করা ৩৫৮/১৯৭৪ নম্বর দলিলের স্বাক্ষর ও সিলে গুরুতর গরমিল থাকায় এবং সার্টিফায়েড কপি দেখাতে না পারায় ২০২১ সালের ৪ নভেম্বর তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব্বির আহমেদ ওই নামজারি বাতিল করেছিলেন।

বাড়িটির দীর্ঘদিন ধরে থাকা ভাড়াটিয়া দুলাল হোসেন ও প্রতিবেশী আরিফুল ইসলাম জানান, প্রায় ছয় বছর ধরে তারা এই বাড়িতে বসবাস করছেন এবং জমিটি সবসময় সোলাইমানদের দখলেই ছিল। ভাঙচুরের পর থেকে দরজা-জানালাহীন খোলা ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

ভুক্তভোগী সোলাইমান আলী বলেন, ‘ভূমি অফিসের কাগজপত্রে আমরা বৈধ মালিক এবং বহু বছর ধরে ভোগদখলে আছি। অথচ সন্ত্রাসী কায়দায় বাড়ি ভেঙে আমাদের পথে বসানো হলো। থানায় গিয়েও বিচার পাচ্ছি না, উল্টো আসামিরা প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে। ’

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা রিকশা ও অটোরিকশা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুল হামিদ দাবি করেন, জায়গাটির দখল মূলত তাদেরই ছিল এবং প্রতিপক্ষই তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে। একই সংগঠনের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মেহেরুল হাসান মেবুর ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি।

ঘটনার বিষয়ে ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিন্টু রহমান রাজনৈতিক চাপের কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি আইনি জটিলতা ও আদালতের রায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। আদালতের সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ ও রায়ের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ওই জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তের বাইরে পুলিশের এককভাবে কিছু করার সুযোগ নেই।’ তবে বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও মারধরের লিখিত অভিযোগের বিষয়ে ফৌজদারি অপরাধের আওতায় মামলা কেন নেওয়া হয়নি, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী এনামুল হক বলেন, ‘ঘটনার পরদিন আমি প্রতিনিধি পাঠাই এবং পরে নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ধামইরহাটে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। আমি প্রশাসনকে নিরপেক্ষ তদন্তসাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছি।’

মানবাধিকারকর্মী নাইস পারভীন বলেন, ‘জমির মালিকানা নিয়ে দেওয়ানি মামলা বা আদালতের রায় থাকতে পারে, কিন্তু গভীর রাতে বাড়িঘর ভাঙচুর, মারধর বা লুটপাট সম্পূর্ণ ফৌজদারি অপরাধ। আদালতের রায়ের অজুহাতে এমন সহিংস অপরাধের মামলা না নেওয়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বিপজ্জনক।’