Home Blog Page 139

লিবিয়ায় জিম্মি হবিগঞ্জের যুবক রায়হান হত্যা করে লাশ সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দালাল চক্রের

ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় আটকে রাখা নবীগঞ্জের যুবক রায়হান চৌধুরীকে (৩০) নিয়ে নতুন করে আতঙ্কে পড়েছে তার পরিবার। রায়হানের বাবার অভিযোগ, মানবপাচার মামলার প্রধান আসামির জামিনে বাধা দিলে রায়হানকে হত্যা করে লাশ সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে দালাল চক্র।

সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় লিবিয়া থেকে দালাল শামীম ও রাকিব ফোন করে রায়হানের বাবা আবু তাহের চৌধুরীকে এই হুমকি দেন। এদিকে, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ঢাকা সিআইডির অ্যান্টি-ট্র্যাকিং মনিটরিং সেল বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

রায়হান চৌধুরীর বাবা আবু তাহের চৌধুরী জানান, গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় তাকে ফোন করেন মানবপাচার চক্রের সদস্য শামীম ও রাকিব। তারা বলেন, তোমার পুত্রকে পেতে চাইলে আগামী ১১ মে মানবপাচার মামলার প্রধান আসামি নজরুল ইসলামের জামিন শুনানি হবে হবিগঞ্জ জেলা দায়রা জজ আদালতে যে জামিন শুনানি হবে তাতে বিরোধিতা করা যাবে না।

গতকাল সোমবার সকালে হবিগঞ্জ জেলা জজ আদালত থেকে প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মামলার বাদী আবু তাহের চৌধুরীকে জামিন শুনানিতে থাকার জন্য চিঠি প্রেরণ করা হয়। উক্ত চিঠিতে বলা হয়েছে, আসামির জামিনে যেতে তার কোনো আপত্তি থাকলে আদালতে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য প্রদান করার জন্য। এই চিঠি পাওয়ার পরই গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ফোন আসে।

নবীগঞ্জের যুবক রায়হান চৌধুরী (৩০)-কে ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে লিবিয়ায় আটকে রেখে ২৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পরও ছেড়ে দেওয়া হয়নি। বরং আবারও ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার জন্য মারপিট করে হাতের আঙুল কেটে দিয়ে  হাতের কবজি কাটার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এখন নির্যাতনের পর গত দুই মাস ধরে সে নিখোঁজ রয়েছে। এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা।

গত রোববার মানবপাচার মামলার প্রধান আসামি গোপনে জামিন নেওয়ার চেষ্টা করলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।

এ বিষয়ে মামলার বাদী আবু তাহের চৌধুরী বলেন, আমি মামলা করে বিপাকে পড়েছি। আমি এখন আমার ছেলের কোনো সন্ধান পাচ্ছি না। গতকাল আদালতের চিঠি পাওয়ার পরই দালাল ও মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা ফোন করে আমাকে বাড়াবাড়ি না করতে বলেছে। তারা বলছে, এ নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি না করার জন্য এবং শামীমের বাবা নজরুলের জামিনে বাধা না দিতে। অন্যথায় রায়হানকে হত্যা করে লাশ সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, গতকাল দৈনিক সমকালসহ বিভিন্ন পত্রিকায় রায়হানের নিউজ প্রকাশের পর দালাল রাকিব ও শামীম আবারও ফোন করেছে। এ সময় তারা তাকে বলেন, “এসব বিষয়ে মিডিয়ায় কেন প্রচার করা হলো—পরিণাম ভালো হবে না।”

এদিকে গতকাল সোমবার বিকেলে মানবপাচার রোধে ঢাকা সিআইডির অ্যান্টি ট্র্যাকিং মনিটরিং সেল থেকে এসপি কাওসার আহমদ ফোন করেন। তিনি বলেন, আমরা জাতীয় দৈনিক সমকালে প্রকাশিত নিউজ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে মামলার বাদী আবু তাহের চৌধুরীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছি। তার কাছ থেকে জবানবন্দি নেওয়ার কথাও জানান তিনি। কীভাবে আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায় এবং দেশে যারা আছে তারা যেন বিদেশে পালিয়ে না যায়—এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তিনি দৈনিক সমকালকে জানান, আমরা এখনও মামলার নথিপত্র পাইনি। আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ শুরু করেছি, যাতে আসামিরা দেশের বাইরে পালিয়ে যেতে না পারে। যারা বিদেশে আছে তাদের ব্যাপারেও কাজ করছি।

ছাত্রদলের কমিটিতে বিবাহিত অছাত্র ও ছাত্রলীগ

ছাত্রদল ঘোষিত জেলা, মহানগর কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা, অছাত্র ও বিবাহিতরা। এ নিয়ে বিভিন্ন জেলায় সংঘাত ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। কোথাও সড়ক অবরোধ, কোথাও ঝাড়ু মিছিল করেন বঞ্চিতরা। এতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গতকাল সোমবার রাঙামাটিতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।

সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গত শনিবার মধ্যরাতে একযোগে ৪৫ কমিটি ঘোষণা করে ছাত্রদল। দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ এবং জেলা ও মহানগরে এসব কমিটি ঘোষণা করা হয়। ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেন বঞ্চিতরা।

ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ চার ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পদবঞ্চিতদের একটি বিরাট অংশ গত রোববার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে।
তাদের অভিযোগ, কমিটিতে অছাত্র, ব্যবসায়ী এবং নব্যদেরও পদায়ন করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে পদ বিক্রি করা হয়েছে। সেখানে বিগত দিনের ত্যাগী, নির্যাতিত অনেককে বাদ দেওয়া হয়েছে।

রাঙামাটিতে পুলিশ-সেনাবাহিনীর লাঠিচার্জ
জেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাঙামাটিতে গতকাল নবনির্বাচিত কমিটি ও পদবঞ্চিত পক্ষের মধ্য সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, দীর্ঘ আট বছর পর রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার পরদিন রোববার সকাল থেকেই কমিটি বাতিলের দাবিতে পদবঞ্চিতরা শহরের দলীয় কার্যালয়ের সামনে সড়ক অবরোধ করেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা। তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছাত্রদলের কমিটি বাতিল; জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও পার্বত্য মন্ত্রীর আশ্বাসে সড়ক অবরোধ তুলে নেন নেতাকর্মীরা।

গতকাল দুপুর থেকে আবারও পদবঞ্চিত সভাপতি প্রার্থী ফজলুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল শাকুর জাবেদের অনুসারী নেতাকর্মীরা জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন। অন্যদিকে পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে নবনির্বাচিত সভাপতি অলি আহাদ ও সাধারণ সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম রনির অনুসারীরা আনন্দ মিছিল বের করার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষ লাঠিসোটা নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ-সেনাবাহিনী লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষে অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হন।

শহরের শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন ১৪৪ ধারা জারি করেন। এতে রাঙামাটি শহরের পৌরসভা, কাঁঠালতলী, বনরূপা ও আশপাশ এলাকায় অনির্দিষ্টকাল ১৪৪ ধারা জারি থাকবে।

নোয়াখালীতে কমিটির ১৮ জন বিবাহিত
সদ্য ঘোষিত নোয়াখালী জেলা ও পৌর ছাত্রদলের কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও সমাবেশ করেছেন সংগঠনের বঞ্চিত নেতাকর্মীরা। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে শহরের সোনাপুর-বেগমগঞ্জ চৌরাস্তা আঞ্চলিক মহাসড়কের মাইজদী টাউন হল মোড় এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় চার লেন সড়কের উভয় পাশে সড়কের ওপর টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করা হয়।

পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নোয়াখালী প্রেস ক্লাব গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন পদবঞ্চিত ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তারা কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিনকে নোয়াখালীতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। তাদের অভিযোগ, নাছির তাঁর অনুগতদের যোগ্যতা ছাড়াই দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে কমিটি গঠন করেছেন। কমিটির ১৮ জন বিবাহিত।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ কমিটিতে ছাত্রলীগ
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ২২ সদস্যের কমিটিতে ৮ জন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পদধারী সাবেক নেতা রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের কমিটিতে দুঃসময়ের ত্যাগী কর্মীদের পদ না দেওয়া হলেও ছাত্রলীগের নেতাদের পদ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া দীর্ঘ দুই বছর পর ঘোষিত কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটিতে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের স্থান হয়নি দাবি করে রোববার রাতে শহরের প্রধান সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। একই অভিযোগে সোমবার সন্ধ্যায় বরিশাল নগরীর আমতলার মোড়ে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা।
(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা)

দয়া করে আমার গায়ে কোনো রাজনৈতিক রঙ লাগাবেন না: প্রসেনজিৎ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গন যেমন সরগরম, তেমনি আলোচনায় উঠে এসেছেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তবে নিজেকে ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক জল্পনা একেবারেই নাকচ করে দিয়েছেন এই তারকা।

ভোট গণনা শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রসেনজিৎ লেখেন, ‘আমি দীর্ঘ বহু বছর ধরে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে অভিনয় করে আসছি এবং আগামী দিনেও একইভাবে কাজ করে যেতে চাই। আপনাদের সকলের কাছে আমার একটাই বিনীত অনুরোধ—দয়া করে আমার গায়ে কোনো রাজনৈতিক রঙ লাগাবেন না।’

তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গা থেকেই একটি ফোনালাপ হয়েছে, যার সঙ্গে রাজনীতির কোনো যোগ নেই। ‘আমি কাউকে ফোন করিনি; বরং আমার ছোট ভাই ফোন করেছিল আমাকে। বড় দাদা হিসেবে কাউকে আশীর্বাদ করা আমার কর্তব্য, আর আমি সেটুকুই করেছি—লেখেন তিনি।

মূলত শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী রুদ্রনীল ঘোষ বিপুল ভোটে জয়লাভ করার পর এই বিতর্কের সূত্রপাত। জয়ী হওয়ার খবরটি নিজেই প্রসেনজিৎকে জানান রুদ্রনীল। এরপর তাদের কথোপকথন প্রকাশ্যে এলে অনেকেই ধারণা করতে থাকেন, হয়তো রাজনীতিতে নাম লেখাতে যাচ্ছেন এই অভিনেতা। এমনকি তাকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে। তবে সেই সব জল্পনা একেবারে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

এদিকে, নির্বাচনের আগেও প্রসেনজিতের পরিবারকে ঘিরে রাজনৈতিক গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে তার ছেলে তৃষাণজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের একটি কথিত ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়। ওই পোস্টে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার-এর সঙ্গে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে।

তবে সে সময়ই প্রসেনজিৎ বিষয়টি খণ্ডন করে জানান, সেটি তার ছেলের আসল প্রোফাইল নয়, বরং একটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে তৈরি করা পোস্ট। তিনি বলেন, ‘এখন সহজেই বোঝা যায় কোন ছবি আসল আর কোনটা সম্পাদিত। অদ্ভুত লাগে, একটি ২০ বছরের ছেলেকে নিয়েও এমন ভুয়া প্রচার করা হচ্ছে, এমনকি আমাকে জড়িয়েও।’

প্রতিভার ঝলক দেখাও মার্কস অল রাউন্ডারে, ঢাকায় চলছে আঞ্চলিক পর্ব

প্রতিভাবান শিশু-কিশোরদের উজ্জ্বল প্রতিভার ঝলক দেখতে সারাদেশ ঘুরে মার্কস অল রাউন্ডার এখন ঢাকায়। আগামী ৮ ও ৯ মে ঢাকার ধানমন্ডি থানার একাংশ, সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দর ও সোনারগাঁও থানা, রমনা, হাতিরঝিল ও তেজগাঁও থানা, মিরপুর থানার একাংশ, উত্তরা পশ্চিম থানার একাংশ, তেজগাঁও থানা, তেজগাঁও ইন্ডাস্ট্রিয়াল থানা এবং শেরে বাংলা নগর থানায় অনুষ্ঠিত হবে মার্কস অল রাউন্ডারের আঞ্চলিক পর্ব।

৮ মে, শুক্রবার ধানমন্ডি থানার একাংশ (ধানমন্ডি, জিগাতলা, রায়ের বাজার, শেরে বাংলা রোড) ও হাজারীবাগ থানার সকল স্কুল ও কলেজ নিয়ে জরিনা সিকদার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ প্রাঙ্গণে; সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দর ও সোনারগাঁও থানার সকল স্কুল ও কলেজ নিয়ে গিয়াসউদ্দিন ইসলামিক মডেল কলেজ প্রাঙ্গণে; রমনা, হাতিরঝিল ও তেজগাঁও থানার সকল স্কুল ও কলেজ নিয়ে আবুজর গিফারী কলেজ প্রাঙ্গণে মার্কস অলরাউন্ডার অনুষ্ঠিত হবে।

ভারতে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, সম্পর্ক একই থাকবে: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

ভারতে যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক একই থাকবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাংসদ গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

মঙ্গলবার রাজধানীর জিয়া উদ্যানে কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এ কথা বলেন তিনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ভারতে কোন দল ক্ষমতায় এলো, তা দেখার বিষয় নয়। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করি, তাই যে-ই ক্ষমতায় আসুক না কেন, সম্পর্ক একই থাকবে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভার নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, ভারতের জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নেতা নির্বাচন করেছেন—নির্বাচিতদের আমি অভিনন্দন জানাই।

ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে নিজ দেশের জনস্বার্থকেই গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। নানা সংকটের মধ্যে বর্তমান সরকার দেশের দায়িত্ব নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশে সুদিন ফিরিয়ে আনা হবে।

স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, সরকারকে জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। নারী নেতৃত্বকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। এখন আর একদলীয় শাসনব্যবস্থা নেই—যা ইচ্ছা তা করা যাবে না। বিরোধী দলের সমালোচনাকেও দেশ পরিচালনায় গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে মনে করেন ক্ষমতাসীন দলের এমপি গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে আমাকে মূল্যায়ন করায় দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে যারা দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে আমার পাশে ছিলেন, বিশেষ করে ঢাকা জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের কাছেও কৃতজ্ঞ।

প্রধানমন্ত্রী আমার ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন, আমি তার প্রতিদান দিতে চাই। তাই আগামী দিনে আমার রাজনীতি হবে গণমানুষের কল্যাণ করা। আমাদের দেশের পররাষ্ট্রনীতি হবে দেশের মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে। দেশের মানুষের স্বার্থের বাইরে কোনো কাজ এই সরকার করবে না—এমন বিশ্বাস রয়েছে দলের নেতাকর্মী ও দেশের জনগণের।

ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এ উপলক্ষে এ কর্মসূচির আয়োজন করে ঢাকা জেলা ও দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এ সময় ঢাকা জেলা, উপজেলা ও পৌর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির খোরশেদ আলম, মোজাদ্দেদ আলী বাবু, আশিকুর রহমান স্বপন; স্বেচ্ছাসেবক দলের নাজমুল হাসান অভি, আসাদুজ্জামান; যুবদলের মোকাররম হোসেন সাজ্জাদ; ছাত্রদলের পাভেল মোল্লা, তমিজ উদ্দিন; তাঁতী দলের হিরা হোসেন প্রমুখ।

আসামে ফের বিজেপি, পালাবদল কেরালায়, তামিলনাড়ুতে বিজয়ের চমক

ভারতে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে এল চমকের পর চমক। পশ্চিমবঙ্গে ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটানোর পাশাপাশি অন্য দুই রাজ্যও সাক্ষী থাকল পালাবদলের। আসামে বিজেপিই থাকল, তবে আরও শক্তিশালী হয়ে। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পদুচেরিতে মসনদ টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে আবার সফল হলো ক্ষমতাসীন এনডিএ জোট।

পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি আসামে ১২৬টি আসনের মধ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট জয় পেয়েছে ৯২টিতে। কংগ্রেস পেয়েছে ২১টি; এআইইউডিএফ ২টি ও অন্যরা ১১টি আসনে জয়ী হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের ৩৫ মন্ত্রীর ২২ জনই হেরেছেন নিজ আসনে, তালিকায় মমতাও

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে বড় ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির সরকারে থাকা ৩৫ জন মন্ত্রীর মধ্যে ২২ জনই নিজ আসনে পরাজিত হয়েছেন। অর্থাৎ, প্রায় ৬৩ শতাংশ মন্ত্রীই ভোটে জিততে পারেননি।

পরাজিতদের তালিকায় রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও। কলকাতার ভবানীপুর আসনে তিনি পরাজিত হয়েছেন।

নাহিদ রানার গতি নিয়ে বাবরকে সতর্ক করলেন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটার

রোববার রাতে পিএসএল ফাইনালে যেন আগুনের গোলা ছুড়ছিলেন নাহিদ রানা। হায়দরাবাদ কিংসমানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ৯ বছরের দীর্ঘ শিরোপা খরা ঘুচিয়েছে পেশোয়ার জালমি। আর এই রাজকীয় জয়ে বল হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশের গতিতারকা নাহিদ রানা। ৪ ওভারে মাত্র ২২ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করা এই পেসারের গতি দেখে রীতিমতো স্তম্ভিত সবাই। সতীর্থ অ্যারন হার্ডি তো হেসেই বললেন, আসন্ন টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানি অধিনায়ক বাবর আজম হয়তো এই গতির মুখে পড়তে চাইবেন না।

ফাইনালের মঞ্চে নাহিদ রানার ৪ ওভারের স্পেলে একটি ছিল মেইডেন। তার প্রতিটি ডেলিভারিই ব্যাটারদের জন্য ছিল আতঙ্কের নাম। এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে মাঠে এসেই নাহিদ রানাকে বুকে জড়িয়ে ধরেন পেশোয়ার জালমির মালিক জাভেদ আফ্রিদি। বাংলাদেশি এই পেসারের পিঠ চাপড়ে দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি। ম্যাচশেষে নাহিদ রানা পান ‘সুপার পাওয়ার অব দ্য ম্যাচ’ স্বীকৃতি।

ম্যাচসেরা অ্যারন হার্ডি সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ রানার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন। তিনি বলেন, ‘সে মাত্র তিন দিন আগে বিমান থেকে নামল এবং আজকেও দুর্দান্ত গতিতে বল করল। করাচিতে যখন সে ১৫১ কিমি গতিতে বল করছিল, তখন ব্যাটারদের সেটা এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।’

আসন্ন বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট সিরিজকে ইঙ্গিত করে হার্ডি আরও বলেন, ‘আমি জানি, এক সপ্তাহ পরেই তার টেস্ট ম্যাচ আছে। এটাও জানি যে, বাবর সম্ভবত তার মুখোমুখি হতে চাইবে না। তাদের মধ্যে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। আমি দেখতে পাচ্ছি, সে বিশ্বের যেকোনো প্রতিযোগিতায় ঘুরে ঘুরে খেলছে; তার মতো মাপের একজন খেলোয়াড়কে সবাই সানন্দে গ্রহণ করবে।’

ফাইনালে শিরোপা জেতার পর নাহিদ রানা বলেন, ‘আমি এটি সত্যিই উপভোগ করলাম। গত বছর আমি এসেছিলাম কিন্তু খেলিনি। এ বছর আমি এসেছি এবং এটি সত্যিই উপভোগ করেছি। আমি কেবল আমার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলাম এবং দলের জন্য এমন পারফর্ম্যান্স করতে চাইছিলাম, যা একটা বড় প্রভাব রাখে। আমি আমার পারফরম্যান্সে সে লক্ষ্যটা ভালোভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছি, তাই আমি খুশি।’

সিংড়ায় মৎস্য ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী ও ছেলে গ্রেফতার

নাটোরের সিংড়ায় রফিকুল ইসলাম (৪৫) নামের এক মৎস্য ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী শিউলি বেগম ও ছেলে সাইফুদ্দিন সিদ্দিক ওরফে রয়েল (১৯) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার সকালে উপজেলার ইটালী ইউনিয়নের বিষ্ণপুর গ্রামে ওই ব্যবসায়ীর নিজ শয়ন কক্ষ থেকে এই লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যবসায়ী একই গ্রামের মৃত কেরামত আলীর ছেলে। পেশায় মৎস্য ব্যবসায়ী ছিলেন।

দুই বছরে দেশে গরু-ছাগল কমেছে সাড়ে ৬ লাখ

দুই বছরের ব্যবধানে দেশে কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা কমেছে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৫২৭টি। ২০২৪ সালে যেখানে কোরবানির জন্য প্রস্তুত পশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ৩৬৭টি, সেখানে চলতি বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টিতে। দুই বছরে দেশে গবাদি পশুর সংখ্যা এত কমে যাওয়ার ঘটনাকে অস্বাভাবিক মনে করছেন প্রাণিসম্পদ খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এই সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। খামারিরা বলছেন, কেন পশুর সংখ্যা কমছে, এর কারণ বের করা দরকার।

গতকাল রোববার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কোরবানির পশুর চাহিদা নিরূপণ ও সরবরাহের বিষয় তুলে ধরেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি জানান, এ বছর কোরবানির জন্য দেশে পশুর সম্ভাব্য চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। এর বিপরীতে দেশে প্রাপ্যতা রয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি পশু। সে হিসাবে প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫০৬টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। এবার কোরবানিযোগ্য ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি গরু-মহিষ, ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি ছাগল-ভেড়া ও ৫ হাজার ৬৫৫টি অন্যান্য প্রজাতির প্রাণীর প্রাপ্যতা রয়েছে।

গত বছর কোরবানির হাটের জন্য গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয় ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৭টি। এর মধ্যে ৫৬ লাখ ২ হাজার ৯০৫টি গরু-মহিষ, ৬৮ লাখ ৩৮ হাজার ৯২০টি ছাগল-ভেড়া এবং ৫ হাজার ৫১২টি অন্য প্রজাতির। গত বছর ৩৩ লাখ ১০ হাজার ৬০৩টি কোরবানির পশু অবিক্রীত ছিল।

২০২৪ সালে কোরবানির পশু প্রস্তুত ছিল ১ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ৩৬৭টি। ২০২৩ সালে প্রস্তুত ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৩৩টি। ২০২২ সালে ১ কোটি ২১ লাখ ২৪ হাজার ৩৮৯টি পশু প্রস্তুত করা হয়। ২০২১ সালে করোনাকালে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৭৬৫টি।

তবে দেশে করোনা মহামারি দেখা দেওয়ার আগে যে পরিমাণ পশু কোরবানি হতো, তা এখন হয় না। ২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনার সংক্রমণ দেখা দেয়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, ২০১৬ সালে ৯৮ লাখ ১৩ হাজার পশু কোরবানি হয়। এরপর থেকে ক্রমাগত বেড়ে ২০১৭ সালে ১ কোটি ৪ লাখ, ২০১৮ সালে ১ কোটি ৬ লাখ, ২০১৯ সালে দেশে ১ কোটি ৬ লাখ পশু কোরবানি হয়েছিল। করোনা দেখা দিলে ২০২০ সালে ৯৪ লাখ ৫০ হাজার পশু কোরবানি হয়। ২০২১ সালে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৭৬৫টি। এর মধ্যে কোরবানি হয় ৯০ লাখ ৯৩ হাজার ২৪২টি পশু। প্রায় ২৮ লাখ গবাদিপশু বিক্রি হয়নি। গত বছর কোরবানি হয় ৯১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৪টি পশু।

চুয়াডাঙ্গা সদরের খামারি আব্দুর রহমান বলেন, করোনার পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ গবাদিপশুর দানাদার খাদ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। এখনও খামারিরা বাড়তি দামেই দানাদার খাদ্য কিনে পশুকে খাওয়াচ্ছেন। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দাম, শ্রমিক খরচসহ আনুষঙ্গিক ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে কোরবানিযোগ্য পশুপালন অনেকটাই ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

কুড়িগ্রাম সদরের ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে চর পার্বতীর কৃষক মাহফুজুল হক জানান, বেশি দামে খাদ্য কিনে গরু পালন করে লাভ হচ্ছে না। ফলে গরু পালন ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপজেলা পর্যায়ে কার্যালয় রয়েছে। সেসব কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাঠপর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা নির্ধারণ করেছে অধিদপ্তর। এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘরে ঘরে গিয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে এই হিসাব তৈরি করেছেন।

মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর মূলত পশু কোরবানির হিসাব করে থাকে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, স্তরায়িত দৈব নমুনায়নের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ করে এবারের হিসাব করা হয়েছে। প্রতি উপজেলার অন্তত ১ শতাংশ নমুনা সংগ্রহ করে তৈরি করা হয়েছে হিসাবটি। যেমন– এক উপজেলায় ১০০টি গ্রাম থাকলে এর মধ্যে অন্তত একটি গ্রামে কোরবানি দেওয়া পশুর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ও কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গত কয়েক বছর কোরবানির পশু পালনের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত, তাদের অনেকেরই লোকসান হয়েছে। এর কারণ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া। এ কারণে মাংস ও পশুর দাম বাড়ছে। এতে উৎপাদিত গরু-ছাগলের একটা অংশ ঈদে অবিক্রীত থাকছে। এ জায়গায় সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। পশুখাদ্য ও পশুর ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

তবে পশুর সংখ্যা কমলেও কোরবানি ঘিরে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং বিস্তৃত অর্থনৈতিক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ঈদুল আজহা ঘিরে দেশে যে বিপুল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হয়, তা কয়েক দিনের মধ্যেই হাজার হাজার কোটি টাকার লেনদেনে রূপ নেয়। যার প্রভাব পড়ে গ্রামীণ অর্থনীতি থেকে শুরু করে শহরের বাজার পর্যন্ত। বিশ্বের অন্যান্য মুসলিমপ্রধান দেশের সঙ্গে তুলনা করলে এই পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে প্রতিবছর ৭০-৮০ লাখ পশু কোরবানি হয়। ২০২৫ সালে দেশটিতে কোরবানির পশুর সংখ্যা ছিল প্রায় ৭৪ লাখ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহৎ মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়ায় ২০২৫ সালে প্রায় ১৮ লাখ ৫৬ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে। দেশটির মুসলিম জনসংখ্যা বিপুল হলেও কোরবানির বাজারের অর্থনৈতিক কাঠামো তুলনামূলকভাবে ছোট। মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরবে কোরবানির সময় ১০ থেকে ১৫ লাখ পশু জবাই হলেও দেশটি মূলত আমদানিনির্ভর। সুদান, সোমালিয়া ও ব্রাজিল থেকে বড় অংশের পশু সরবরাহ করা হয়। তুরস্কে গত ঈদে প্রায় ৩৮ লাখ পশু কোরবানি হয়েছে, আর মিসরে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১৩ লাখ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশের কোরবানিকেন্দ্রিক অর্থনীতির বড় শক্তি হলো এর বিস্তৃত গ্রামীণ সংযোগ। দেশের প্রায় প্রতিটি গ্রাম পশু পালনের সঙ্গে যুক্ত, ফলে উৎপাদন থেকে শুরু করে বিক্রি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি স্থানীয় অর্থনীতিকে সক্রিয় রাখে। এ ছাড়া মৌসুমি হলেও এই খাতে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হয়। যেমন– হাট পরিচালনা, পরিবহন, পশু পরিবহন শ্রমিক, চামড়া সংগ্রহ ও প্রাথমিক প্রক্রিয়াকরণ, পশুখাদ্য সরবরাহ ইত্যাদি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অর্থনীতি মূলত একটি ‘সার্কুলার ইকোনমি’ তৈরি করে, যেখানে শহরের অর্থ গ্রামে প্রবাহিত হয় এবং গ্রামীণ আয় নগর বাজারে ফেরত আসে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নীতিসহায়তা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন করা গেলে কোরবানিকেন্দ্রিক এই অর্থনীতি আরও বড় পরিসরে রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে ছোট খামারি ও উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ঋণ, বাজার সংযোগ এবং পশু স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা জরুরি।