Home Blog Page 14

জিন্নাহর স্থলে গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ছবি ডাকসুর সংগ্রহশালা

০

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় মোহাম্মদ আলি জিন্নাহর ছবি রাখা নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক একজন শিক্ষার্থী গিয়ে জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলেন। পরে সে জায়গায় গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ছবি স্থাপন করেন একটি ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা।

ছাত্রদলসহ একাধিক ছাত্র সংগঠন ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি রাখার প্রতিবাদ করেছে। জিন্নাহর ছবি স্থাপনসহ আরও কিছু বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও।

ডাকসু সংগ্রহশালায় বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামের আলোকচিত্র ও নিদর্শনের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গৌরবোজ্জ্বল কিছু ছবি ছিল। গত রোববার সংগ্রহশালা উন্মুক্ত করার পর দেখা যায়, বঙ্গবন্ধুর একক ছবি বাদ দেওয়া হয়েছে। আর পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলি জিন্নাহর তিনটি ছবি যুক্ত করা হয়েছে।

সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি রাখার ঘটনায় গতকাল দুপুরে প্রতিবাদ সমাবেশ করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। এর কিছুক্ষণ পর ডাকসুর সংগ্রহশালায় গিয়ে জিন্নাহর ছবিগুলোর ফ্রেম ভেঙে ছিঁড়ে ফেলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার।

জিন্নাহর ছবি রাখার প্রতিবাদে জামায়াতের সাবেক আমির, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত (পরে প্রয়াত) গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ছবি সংগ্রহশালায় টানিয়ে দেন ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা।

আবু তৈয়ব বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহ যখন বলেছিলেন– ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’; তখনই প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার জিন্নাহকে পুনর্বাসনের চেষ্টা বড় চক্রান্ত।

গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ছবি টানিয়ে প্রতিবাদ 
গতকাল বিকেল ৩টায় ছাত্র ফেডারেশনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অর্ক বড়ুয়ার নেতৃত্বে এক দল শিক্ষার্থী ডাকসুর সংগ্রহশালায় গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ছবি স্থাপন করেন। সংগ্রহশালায় গিয়ে দেখা যায়, যে স্থানে জিন্নাহর ছবি লাগানো হয়েছিল, তার ওপরে আশির দশকে বায়তুল মোকাররমে গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ছবি লাগানো হয়েছে।

ছাত্র ফেডারেশনের নেতা অর্ক বড়ুয়া বলেন, ‘ইতিহাসের একপক্ষীয় উপস্থাপন কেউ মেনে নেবে না। আর গোলাম আযমরা একাত্তরে যা করেছেন, তার ফলে আশিতে তাঁকে মানুষ জুতাপেটা করেছে। আমরা এ দেশের আপামর মানুষ সেই ইতিহাস সংরক্ষণ করেছি।’

ডাকসু বিতর্কিত কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে: ছাত্রদল
ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ সমাবেশে ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশচন্দ্র রায় সাহস বলেন, ‘বিতর্কিত ডাকসু থেকে একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। বাংলাদেশের ইতিহাসের অধিকাংশ ঘটনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িত। সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতর্কিত ব্যক্তিদের ছবি তারা টানিয়েছে। আমরা এটা সহ্য করতে পারি না। এটা অপসারণ করা না হলে ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অফিস এবং ডাকসু সংগ্রহশালায় কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।’
জিন্নাহর ছবি সরানোর জন্য ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটামও দেয় ছাত্রদল।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (একাংশ) ঢাবি সংসদের সভাপতি মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন করা ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহ্যের প্রতি স্পষ্ট অবমাননা। আমাদের চাওয়া ছিল, মহান মুক্তিযু্দ্ধকে আওয়ামী দখলদারিত্ব এবং হেয় করা– এই দ্বিমুখী অপতৎপরতার বিপরীতে ডাকসু এ দেশের মানুষের প্রকৃত লড়াইয়ের ইতিহাস ছাত্র-জনতার কাছে তুলে ধরবে। ডাকসুকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আদর্শ চর্চার স্থান হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না; ডাকসু হবে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর। কিন্তু ডাকসু এ দেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস সামনে আনার পরিবর্তে মুছে দেওয়ার অপতৎপরতা চালাচ্ছে।’

‎ছাত্র ফেডারেশন ও অন্যান্য
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের আহ্বায়ক সৈকত আরিফ বলেন, “ডাকসু লজ্জাজনকভাবে ইতিহাসকে বিকৃতি করেছে। বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ে যে ভাষা আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা জিন্নাহর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়াতেই তৈরি হয়েছিল। রেসকোর্স ময়দানের ভাষণে তিনি বলেছিলেন– ‘উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।’ সেখানে ডাকসু জিন্নাহকে নায়ক হিসেবে উত্থাপন করেছে। তা ইতিহাস বিকৃতি। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। ডাকসু সংগ্রহশালায় ইতিহাসকে যেভাবে উত্থাপন করা হয়েছে, তা ইতিহাসের বিকৃতি। এ ঘটনায় ডাকসুর নেতৃবৃন্দের জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।”

জিন্নাহর ছবি টানানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর মোর্চা গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট।

ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ সমকালকে বলেন, ‘আমরা জিন্নাহকে দায়মুক্তি দিইনি। জিন্নাহ যে বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন, আমরা সেটাই তুলে ধরেছি। বরং যারা জিন্নাহর ছবি ছিঁড়েছে, তারাই জিন্নাহ-প্রেম দেখাচ্ছে।’

সোমবার রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা অবগত হয়েছি (জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলার বিষয়ে)। আমরা বলব, যারা রাজনীতির ইতিহাস জানেন না; শুধু প্রথাগত দলীয় রাজনীতিতে যারা অন্ধ, তারা এ ধরনের আচরণ করতে পারেন।’

সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্বেগ 
ডাকসু সংগ্রহশালায় ঐতিহাসিক আলোকচিত্র ও দলিলের উপস্থাপন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। সংগঠনটির অভিযোগ, মোহাম্মদ আলি জিন্নাহর ছবি সংযোজন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু আলোকচিত্রের উপস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

তারা ভাষা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা অর্জনের ধারাবাহিক ইতিহাস যথাযথ প্রেক্ষাপটে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইতিহাসবিদ, মুক্তিযুদ্ধের গবেষক, সংস্কৃতিকর্মী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতামত নিয়ে সংগ্রহশালার প্রদর্শনী সাজানোর দাবি জানিয়েছে।

এর আগে রোববার ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণআন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা ডাকসু ভবনের নিচতলায় সংস্কার করা এ সংগ্রহশালার উদ্বোধন করেন। ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদসহ অন্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের নেতা মোহাম্মদ আলি জিন্নাহর তিনটি ছবি দেখা যায়। এর মধ্যে একটি ছবি ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক অনুষ্ঠানের, যেখানে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন– ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। আরেকটি ১৯৪০ সালের মার্চ মাসে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি গ্রুপ ছবি, যাতে জিন্নাহ রয়েছেন। ওই সম্মেলনে ভারতীয় উপমহাদেশে বসবাসকারী মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক রাষ্ট্রের দাবি-সংবলিত প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছিল। অন্য ছবিটি ১৯৭০ সালের নির্বাচন নিয়ে জিন্নাহর ছবি-সংবলিত পাকিস্তানের ‘ডন’ পত্রিকার প্রতিবেদনের কাটিং।

ডাকসুর কর্মকাণ্ডে প্রশাসনের আপত্তি 
ডাকসু সংগ্রহশালায় মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ এবং তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আবদুল মালেকের ছবি প্রদর্শন বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও। ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ব্যক্তিদের ছবি প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে গতকাল ওক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য ডাকসুর উদ্যোগে অনুমোদন ছাড়া একটি ওয়েবসাইট চালুর বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তারা বলেছে, শিক্ষক মূল্যায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষণ মূল্যায়ন নীতিমালা রয়েছে এবং তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুমোদিত। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত কাঠামোর বাইরে পৃথক কোনো শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর সুযোগ নেই।

ইউপি নির্বাচন নেতাদের সমর্থন আদায়ে ব্যস্ত বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা

০

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার পর বিএনপির প্রার্থীরা দলীয় সমর্থনের আশায় নেতাদের কাছে ছুটতে শুরু করেছেন। এমন অবস্থা খুলনার কয়রা উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের। অন্যদিকে দলীয় প্রার্থিতা চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা আগে থেকেই প্রচার ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত সোমবার ইউপি নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রাক-প্রস্তুতি সভা শেষে সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা হয়। ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপে এ উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এমন ধারণায় প্রার্থীরা তৎপর হয়ে উঠেছেন। প্রায় এক দশক পর এবার নির্দলীয়ভাবে ইউপি নির্বাচন হবে।

জানা গেছে, কয়রার সাতটি ইউনিয়নে বিএনপির সমর্থন পেতে চেষ্টা করছেন ২৪ জন সম্ভাব্য প্রার্থী। তারা হলেন– আমাদি ইউনিয়নে আবুল কালাম আজাদ, আব্দুল হামিদ, জাহিদুর রহমান শোভন, জোবায়ের হোসেন, দিলরুবা মিজান; বাগালি ইউনিয়নে আব্দুর রহিম সানা, সাইফুজ্জামান, আশরাফ হোসেন পল্টু; মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নে রফিকুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, পীর আলী, হাসান শেখ, নাজমুল হুদা; মহারাজপুর ইউনিয়নে মনিরুজ্জামান বেল্টু, শরীফুল ইসলাম, কোহিনুর ইসলাম, নুরুল ইসলাম খোকা, আবু সাঈদ বিশ্বাস; কয়রা সদর ইউনিয়নে নুরুল আমীন বাবুল, এমএ হাসান; উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নে সরদার মতিয়ার রহমান, সিরাজুল ইসলাম; দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নে মনজুর আলম, সিরাজুল ইসলাম ও ওসমান গনি খোকন।

সম্ভাব্য এসব প্রার্থীর বেশির ভাগই এখন খুলনা জেলা শহরে অবস্থান করছেন। বিএনপির জেলা পর্যায়ের নেতাদের পাশাপাশি দুজন কেন্দ্রীয় নেতার বাসা খুলনা শহরে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের নিজ নিজ পছন্দের নেতাদের সমর্থন পাওয়ার আশায় তাদের কাছে ধর্না দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

কয়রা উপজেলায় বিএনপির কমিটি নেই প্রায় দুই বছর। যে কারণে স্থানীয়ভাবে ইউপি নির্বাচনে ‘দলীয় প্রার্থী’ হিসেবে কাউকে সমর্থন দেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে সম্ভাব্য প্রার্থীরা জেলা পর্যায়ের নেতাদের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মওলা বকস বলেন, ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থিতা চূড়ান্তের ব্যাপারে কেন্দ্রীয়ভাবে সঠিক কোনো দিকনির্দেশনা নেই। ফলে যিনি যেভাবে পারছেন, দলীয় সমর্থনের আশায় ছুটে বেড়াচ্ছেন। অনেকেই নানাভাবে নেতাদের নজর কাড়ার চেষ্টা করছেন।

উপজেলা বিএনপির সাবেক আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা নজরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় দলীয় শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। কেউ কারও নির্দেশনা মানতে চাইছেন না। ফলে সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে এখানে। তারা মনে করছেন, দলীয় সমর্থন পেয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারলেই সহজে জয়লাভ করা যাবে। এ কারণে এলাকার জনসমর্থনের চেয়ে নেতাদের কাছে ছুটছেন তারা।

এদিকে অনেক আগে থেকেই জামায়াতে ইসলামী ইউপি নির্বাচনে তাদের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করে রেখেছে। এসব প্রার্থী প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি এলাকার মানুষের আস্থা অর্জনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ইউপি নির্বাচনে জামায়াতের সমর্থন পাওয়া প্রার্থীরা হলেন– আমাদি ইউনিয়নে মাওলানা সাজ্জাদুল ইসলাম, বাগালি ইউনিয়নে মাওলানা সালাউদ্দীন, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নে এম আয়ুব আলী, মহারাজপুর ইউনিয়নে সাইফুল্লাহ হায়দার, কয়রা সদরে সরদার জুলফিকার আলম, উত্তর বেদকাশিতে নুর কামাল, দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নে গাজী বেলাল হোসেন।

কয়রা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, কয়েক মাস আগে সংগঠনের বৈঠকে ইউপি নির্বাচনের জন্য দলীয় প্রার্থী বাছাই চূড়ান্ত করে গণসংযোগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী প্রার্থীরা মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপি নেতা বলেন, এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে না পারলেও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা মাঠে থাকবেন। তাদের সাংগাঠনিক শক্তি এ উপজেলায় বিএনপির চেয়ে বেশি। বিএনপির প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাই না করলে ফল বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু বলেন, দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী খুব শিগগির ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য দলীয়ভাবে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা হবে। এ মুহূর্তে অনেকেই মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে দলীয় সমর্থনের আশায় লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। তবে এলাকার মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা আছে, কেবল তাদেরই সমর্থন দেওয়া হবে।

সামাজিক মাধ্যমে মানহানিকর বক্তব্য, ভুল ও অপতথ্য বিস্তারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: তথ্যমন্ত্রী

০

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মানহানিকর বক্তব্য, ভুল তথ্য ও অপতথ্যের বিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান। তবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন গণমাধ্যমের পরিবেশ সমুন্নত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর বলেও জানান তিনি।

আজ বুধবার সকালে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় আন্দালিভ রহমানকে অভিনন্দন জানান।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) বিরোধী দলের সংবাদ প্রচারের বিষয়টি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে আমাদের অভিজ্ঞতা ভালো ছিল না। তবে বর্তমান সরকার সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল ও অপতথ্য ছড়ানোর বিষয়ে আলোচনায় প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ভুল তথ্য ও অপতথ্যের কারণে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেক অ্যাকাউন্ট তৈরি করে অপপ্রচার চালানো হয়। নাগরিকরা যাতে এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে নিরাপদ বোধ করেন, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ক্রমাগত শক্তিশালী হচ্ছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত অর্থনৈতিক সহায়তার কথাও উল্লেখ করেন ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, তাদের সহায়তায় স্বাস্থ্য খাতে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে বিশেষ সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়েও আলোচনা হয়। এ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার সমুন্নত রেখেই সরকার দায়িত্বশীল ও সৎ উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।

সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে মৃত্যু সর্বোচ্চ

০

দেশের সামগ্রিক ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৫৯৩ জন।

এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ১৬৪-তে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরের প্রথমার্ধে মৃত্যু হলো ৬৭ জনের। এটা চলতি বছর এক মাসে সর্বোচ্চ মৃত্যুর চেয়েও বেশি।

সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৭১ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ১৩২ জন ভর্তি হয়েছেন। দুই সিটির বাইরে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৮৩ জন। ঢাকার বাইরে বরিশালে ১৫৯, চট্টগ্রামে ১৬৫, খুলনায় ২৯০, ময়মনসিংহে ৮২, রাজশাহীতে ১৩৭, রংপুরে ৬৫ ও সিলেটে ৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন এক হাজার ৫৬৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছর এ পর্যন্ত ৫৫ হাজার ১৬৩ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৫০ হাজার ৯৪১ জন।

এদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ছে। রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ৬০টি নির্ধারিত শয্যার বিপরীতে সোমবার ভর্তি ছিলেন ১৮৭ জন। শয্যা না পেয়ে অনেকে মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। একই চিত্র রাজধানীর আরও কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে। এর মধ্যেই দেশে ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার রেকর্ড হয়েছে। দুদিন আগে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭৩৩ জন। চলতি বছর এক দিনে এটাই সর্বোচ্চ হাসপাতালে ভর্তি।

অক্টোবরে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কীটতত্ত্ববিদরা। মঙ্গলবার মুগদা জেনারেল হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত শয্যাগুলোর পাশাপাশি মেঝে ও বারান্দাতে রোগীদের চিকিৎসা চলছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি শয্যায় একাধিক রোগীকে রাখতে হচ্ছে। এতে রোগীদের পর্যবেক্ষণ, ওষুধ দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

হাসপাতালটির উপপরিচালক ডা. নূরুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীর চাপ বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত শয্যা, চিকিৎসক ও নার্স প্রয়োজন।

শয্যা না পেয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটছেন রোগী ও স্বজনরা। রাজধানীর মাতুয়াইলের বাসিন্দা নুরজাহান বেগমের ২০ বছর বয়সী নাতনি জাহিন এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ডেঙ্গুতে ভুগছেন। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি করানোর চেষ্টা করেন স্বজনরা। তিন-চারটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ঘুরে শয্যা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত মুগদা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় জাহিনকে। শয্যা না থাকায় মেঝেতেই চলছে তাঁর চিকিৎসা। নুরজাহান বলেন, অনেক হাসপাতালে ঘুরেছেন, কোথাও শয্যা পাননি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৭৩৩ জনের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৯১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯১, ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় ৩৮৮, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭০, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৪৩, খুলনা বিভাগে ৩০২, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১০, রাজশাহী বিভাগে ১৪৫, রংপুর বিভাগে ৮৬ ও সিলেট বিভাগে সাতজন রয়েছেন। চলতি বছর এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৫৩ হাজার ৫৭০ জনের মধ্যে ৪৯ হাজার ৩৭৫ জন চিকিৎসা নিয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১ হাজার ২৮২ জন। দেশে চলতি বছর ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ সংক্রমণ হয়েছিল গত আগস্ট মাসে। ওই মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৫৩৬। আগস্টে মারা গেছেন ৪৩ জন। চলতি বছর ৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ডেঙ্গু রোগীর হাসপাতালে ভর্তির হার দ্রুত বাড়ছে। এতে সরকারি হাসপাতালগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালেও রোগীর চাপ তৈরি হয়েছে। অনেক হাসপাতালে নির্ধারিত সক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতালে রোগী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস সমকালকে বলেন, সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় শয্যা বা সুযোগ-সুবিধার সংকট হলে প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতালে রোগী পাঠিয়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। সক্ষমতা অনুযায়ী হাসপাতালগুলোতে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। শুধু রাজধানীতে নয়; ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি এমন এলাকাগুলোতে উপজেলা পর্যায়েও চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাজধানীমুখী রোগীর চাপ কমিয়ে স্থানীয় পর্যায়েই ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা স্বাস্থ্য বিভাগের লক্ষ্য।

অক্টোবরে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক সেমিনারে তিনি বলেন, তাদের পূর্বাভাস মডেল অনুযায়ী অক্টোবর মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। বিভিন্ন সময় পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এডিস মশা রাতেও কামড়ায়।

শীতে কিউলেক্স মশা বেশি দেখা গেলেও এডিস মশা তুলনামূলক কম চোখে পড়ে। এ কারণে মানুষ এডিস মশাকে অবহেলা করে। তাই মশার আচরণ সম্পর্কে মানুষকে জানতে হবে। বাংলাদেশকে ‘মশার দেশ’ উল্লেখ করে অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, দেশের ঘাড়ে ডেঙ্গু চেপে বসেছে। দেশে ১২৬ প্রজাতির মশা আছে। এর মধ্যে সাত থেকে আট প্রজাতির মশার কলোনি রয়েছে।

একই অনুষ্ঠানে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই সহজ নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রায় দুই হাজার বছরের পুরোনো রোগ। এ রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে আপাতদৃষ্টিতে সহজ মনে হলেও বাস্তবে তা কঠিন।

হবু বউয়ের সঙ্গে দেখা করতে এসে বাসচাপায় যুবক নিহত

০

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে হবু বউয়ের সঙ্গে দেখা করতে এসে বাসচাপায় শুভঙ্কর মণ্ডল (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার সোনারমোড় এলাকায় শ্যামনগর-বংশীপুর সংযোগ সড়কের লস্কর ফিলিং স্টেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শুভঙ্কর খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশপুর গ্রামের দুর্গাপদ মণ্ডলের ছেলে। তিনি রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন।

নিহতের স্বজন হরিপদ মণ্ডল জানান, শ্যামনগর উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের নিপা মণ্ডলের সঙ্গে সম্প্রতি শুভঙ্করের বিয়ে ঠিক হয়। তবে পরিবারের এক সদস্যের আকস্মিক মৃত্যুতে বিয়ে পিছিয়ে যায়। এর মধ্যে নিপার সঙ্গে দেখা করতে শ্যামনগরে এসেছিলেন শুভঙ্কর। পথে বাসচাপায় তার মৃত্যু হয়। শুভঙ্করের মৃত্যুর খবর শুনে নিপা সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

শ্যামনগর থানার ওসি সাফিউল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শুভঙ্করের মরদেহ উদ্ধার করেছে। দুর্ঘটনার পর বাস নিয়ে চালক পালিয়ে গেছেন। তাকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ইয়েমেনে লড়াইয়ের মুখে ঘরছাড়া ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষ

০

ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে লড়াইয়ের মধ্যে এক লাখ ২৫ হাজারের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত এসব মানুষের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।

সংঘাতের কারণে অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এলাকা ছাড়লেও অনেক পরিবার এখনো যুদ্ধের মধ্যে আটকা পড়ে আছে। বিশেষ করে মোচা বন্দরনগরীর আশপাশের এলাকায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।

বাস্তুচ্যুত নারী আয়েশা মুহাম্মদ জানান, গত সপ্তাহে তার গ্রামের নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে চলে যাওয়ার পর তিনি পাঁচ সন্তানকে সেখানে রেখেই পালিয়ে আসতে বাধ্য হন।

আয়েশা বলেন, সন্তানদের গ্রামে আটকে রাখা হয়েছে এবং সেখানে গ্রামবাসীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হচ্ছে। তাই কেউ ঘরের বাইরে বের হতে পারছেন না। কেবল ভাত রান্না করে খেতে হচ্ছে। রুটি বা অন্য কোনো খাবার নেই।

হোদেইদাহ থেকে পালিয়ে আসা হুসেইন হায়দারা বলেন, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তাকে হঠাৎ করেই ঘর ছাড়তে হয়েছে।

তিনি বলেন, সন্তানদের সঙ্গে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সামান্য কিছু জিনিসপত্র নেওয়ারও সুযোগ ছিল না। গোলাবর্ষণ ও স্নাইপারের গুলির ভয়ে সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে দ্রুত পালিয়ে যেতে হয়েছে।

তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে সংঘাত ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হুতিরা দাবি করেছে, সৌদি আরব ইয়েমেনে কয়েক ডজন বিমান হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, হুতিদের দ্রুত অগ্রযাত্রায় বেসামরিক মানুষ নিহত ও বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার পর ওমানের নৌবাহিনী ২৩ জন নাবিককে উদ্ধার করেছে। আরও দুজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে।

সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার পর দেশটির ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ রয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি কমানোর উদ্যোগ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে তেলের দাম আরও বাড়ছে। সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-গাজীপুর রুটে চলবে বৈদ্যুতিক ট্রেন

০

বৈদ্যুতিক ট্রেনের যুগে প্রবেশ করছে দেশ। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে যুক্ত করে নারায়ণগঞ্জ সদর থেকে জয়দেবপুর রুটে চলবে এই ট্রেন। এতে রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী দুই জেলা নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের মধ্যে যোগাযোগ অবকাঠামো সহজ, সাশ্রয়ী হবে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রেন পরিচালনার খরচ এবং ভ্রমণের সময় উভয় উল্লেখযোগ্য হারে কমবে। এই ট্রেন চলাচল শুরু করবে ২০৩০ সালের মধ্যে।

এ-সংক্রান্ত একটি প্রকল্পটি অনুমোদনের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদনের সুপারিশ করেছে পরিকল্পনা কমিশন। আগামীকাল বুধবার অনুষ্ঠেয় একনেক বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এই উদ্যোগটি অবশেষে আলোর মুখ দেখছে। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা বা ডিপিপি অনুসারে, ঢাকা ও দুই শিল্পঘন অঞ্চল গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের মধ্যে যানজট ও পরিবহনের চাপ কমাতে এ প্রকল্পটি নেওয়া হচ্ছে। পুরোনো ডিজেলচালিত ইঞ্জিনের কারণে বর্তমানে ট্রেনগুলো কাঙ্ক্ষিত গতিতে চলতে পারে না। যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত ট্রিপও দেওয়া সম্ভব হয় না।

এ বাধাগুলো দূর করতে রেলওয়ে প্রকল্পটির প্রস্তাব করা হয়েছে। বৈদ্যুতিক ট্রেনে ৪০ শতাংশ বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী হবে। বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু হলে এখনকার তুলনায় পরিচালনা ব্যয় ৩৫ শতাংশ এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমবে। পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমবে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ। প্রাথমিক পর্যায়ে এই ট্রেন চলবে তিন জেলাকে কেন্দ্র করে। ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যেও বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

ডিপিপিতে বলা হয়েছে, বৈদ্যুতিক ট্রেন অর্থনীতি ও পরিবহন খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। ডিজেল ইঞ্জিনের চেয়ে বৈদ্যুতিক ট্রেন অনেক দ্রুতগতিতে চলতে ও থামতে পারে। ফলে স্টেশনে থামার পর দ্রুত সর্বোচ্চ গতিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এতে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে যাতায়াতের সময় অর্ধেকের বেশি কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি)। বাকি প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন।

প্রকল্পের আওতায় ট্রেনের পরিচালনা ব্যবস্থা পুরোপুরি ডিজেল থেকে বিদ্যুতে রূপান্তরিত হবে। রেললাইনের ওপর দিয়ে ‘ওভারহেড ওয়্যার’ বা বিদ্যুতের তার স্থাপন করা হবে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট দূরত্বে বিশেষায়িত ‘ট্রাকশন সাবস্টেশন’ নির্মাণ করা হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়েতে ডিজেলচালিত ইঞ্জিন ব্যবহার হয়। নিরাপদ ও মসৃণ চলাচল নিশ্চিত করতে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (ইএমইউ) ট্রেন, বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন এবং কম্পিউটারভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং ব্যবস্থা যুক্ত করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট শীর্ষ একজন কর্মকর্তা গতকাল সোমবার সমকালকে বলেন, রেলের পরিচালন ব্যয় দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় প্রতি বছর বাংলাদেশ রেলওয়ের লোকসানের পরিমাণ বাড়ছিল। ফলে এ ধরনের ট্রেন অনেক দিন ধরে অত্যন্ত প্রয়োজন। গত ছয় বছর ধরে বারবার চেষ্টা করা সত্ত্বেও এ পদক্ষেপটি স্থগিত হয়ে ছিল।
ডিপিপি থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ের আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান ছিল ১ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা, যেখানে পরিচালন ব্যয় দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫০ কোটি টাকা। বর্তমানে ডিজেল চালিত ইঞ্জিনের মাধ্যমে ট্রেন পরিচালিত হচ্ছে, যা পরিবেশ দূষণের জন্যও দায়ী। এছাড়া ২০২০ ও ২০২১ সালে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে একাধিকবার ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় লোকসানের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ে ৩ হাজার ৯৩ কিলোমিটার নেটওয়ার্কে ডিজেলচালিত ট্রেন পরিচালনা করছে। পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, বৈদ্যুতিক ট্রেনে প্রাথমিক বিনিয়োগ তুলনামূলক বেশি হলেও এর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অনেক কম। এ ব্যবস্থা অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব।
অন্য পরিবহন মাধ্যমের তুলনায় বিদ্যুৎচালিত ট্রেন অনেক বেশি সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব এবং দ্রুত ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাহিদার উপযোগী। এটি ট্রেনের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি ভ্রমণের সময় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনবে।

দাবি পরিশোধে প্রয়োজনে সম্পদ বিক্রি করুন

০

বীমা খাতে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি গভীরে শিকড় গেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, গ্রাহকের বৈধ দাবি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। প্রয়োজনে গ্রাহকের পাওনা পরিশোধে বীমা কোম্পানির সম্পদ বিক্রি করতে হবে। দাবি পরিশোধ না করে কোনো কোম্পানিকে জমি বা অন্য সম্পদ কেনা, বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ কিংবা সরকারি সিকিউরিটিজে অর্থ রাখার সুযোগ দেওয়া হবে না।

গতকাল সোমবার রাজধানীতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কার্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। একইদিন কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে আইডিআরএ চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন জানান, দেশের বীমা খাতে গ্রাহকদের সাত হাজার কোটি টাকার দাবি বকেয়া রয়েছে। বর্তমানে সামগ্রিকভাবে দাবি নিষ্পত্তির হার ৫৭ শতাংশ। এ হার ৭৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে তাদের।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মানুষ নিজের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য বীমা করেন। অথচ অনেক কোম্পানি গ্রাহকের দাবি পরিশোধ করছে না। বর্তমানে প্রায় ৫৭ শতাংশ বীমা দাবি অনিষ্পন্ন। অর্থাৎ ১০০টি দাবির মধ্যে ৫৭টিই নিষ্পত্তি হয়নি। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মন্ত্রী বলেন, ‘যে মানুষ নিরাপত্তার জন্য ইন্স্যুরেন্স করে, নিজের কষ্টের অর্জিত টাকা থেকে দেয়, তাঁকে আপনি কীভাবে সেই টাকা থেকে বঞ্চিত করবেন?’ ইতোমধ্যে কিছু দাবি পরিশোধ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আইডিআরএর চেয়ারম্যান নিজেও একটি দাবি পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছেন, যা মূলত একটি দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য। তবে দাবি পরিশোধ করা নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নয়; সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানিকেই গ্রাহকের পাওনা পরিশোধ করতে হবে।

সাত-আটটি কোম্পানির অবস্থা উদ্বেগজনক
অর্থমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর বীমা খাতে ব্যাপক অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অনিয়ন্ত্রণ দেখা গেছে। ব্যাংকিং খাতের মতো এ খাতেও অনিয়ম ও দুর্নীতি রয়েছে। বীমা খাতকে নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠিন পদক্ষেপ নিতে হবে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা আরও শক্তিশালী করতে হবে।
তিনি জানান, সাত-আটটি বীমা কোম্পানির অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এসব কোম্পানি কীভাবে এখনও কার্যক্রম চালাচ্ছে, সেটিই চিন্তার বিষয়। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আইডিআরএর নির্দেশনা মেনে স্বল্প সময়ের মধ্যে সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে। যারা তা পারবে না, তাদের বিরুদ্ধে অন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কোনো কোম্পানিকে একীভূত করার বিষয়ে এখনই কিছু বলতে চান না মন্ত্রী। তিনি বলেন, বীমা কোম্পানির জন্য যা প্রয়োজন, সেটিই করা হবে। প্রয়োজনীয় নিয়ম-কানুন ও কাঠামো প্রস্তুত হওয়ার আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা
বীমা খাতে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, আইডিআরএর পক্ষ থেকে আগে প্রয়োজনীয় তদারকি ব্যবস্থা না থাকায় বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এখন প্রত্যেক বীমা কোম্পানিকে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার আওতায় এনে অনলাইনে লেনদেন করতে হবে।
আইডিআরএর জনবল ঘাটতি
আইডিআরএর জনবল সংকটের পাশাপাশি দক্ষ ও পেশাদার জনবলের ঘাটতি রয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তাঁর মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থায় জনবলের সংখ্যা ও মান-দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে দুটির ঘাটতি রয়েছে। আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ধীরে ধীরে সরকারের ডেপুটেশনে থাকা কর্মকর্তার সংখ্যা কমিয়ে আইডিআরএর নিজস্ব জনবল গড়ে তোলা হবে। তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে বীমা খাতের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি করতে পারেন। বীমা একটি বিশেষায়িত পেশা হওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা ও অভিজ্ঞতা আছে এমন দক্ষ লোকজনকে আইডিআরএর সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৫৭ মেধাবী শিক্ষার্থী

০

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে সেরা ফলাফল অর্জনকারী ৫৭ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে ‘ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিতসহ ৪ হাজার ৯২১ শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ও বৃত্তির অর্থ তুলে দেওয়া হয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক।

স্নাতক (পাস), স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা ছয় বছরে সেরা ফলাফল অর্জনকারী ৩৭টি কলেজের ৫৭ জন শিক্ষার্থীকে ‘ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়। প্রত্যেককে সম্মাননা সনদ, ক্রেস্ট ও ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এ খাতে মোট ১৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য নির্বাচিত ১ হাজার ৫২৫টি কলেজের ৪ হাজার ৯২১ শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরা।

২০২৫ সালের জন্য নির্বাচিত ৮৩০টি কলেজের ২ হাজার ৮৯৭ শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি ৬ হাজার টাকা করে মোট ১ কোটি ৭৩ লাখ ৮২ হাজার টাকা এবং ২০২৪ সালের জন্য নির্বাচিত ৭২৫টি কলেজের ২ হাজার ২৪ শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি ৬ হাজার টাকা করে মোট ১ কোটি ২১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সহায়তার উদ্যোগকে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মেধা ও সাফল্যকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষকদের দায়িত্বপালনে মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদারের নির্দেশ দেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দেশের উচ্চশিক্ষার একটি বিশাল অংশের দায়িত্ব পালন করছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

তিনি কলেজগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন, শিক্ষার মান যাচাই এবং আয়-ব্যয়ের অডিট নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে কলেজগুলোতে কী ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের কী পড়ানো হচ্ছে এবং কারিকুলাম কতটা যুগোপযোগী—এসব বিষয়ে কার্যকর নজরদারি ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান ও দক্ষতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্কিলবেইজড কারিকুলাম প্রণয়ন করতে হবে। শিক্ষার্থীরা মেধাবী হলেও যথাযথ দিকনির্দেশনার অভাবে অনেক সময় তাদের সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ ঘটছে না। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের দক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানো প্রয়োজন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর ল্যাব সংস্কারের জন্য যথাযথ প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাজেট কোনো বাধা হবে না। কার্যকর ও বাস্তবসম্মত যেকোনো প্রস্তাব সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আদলে দক্ষতা ও মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের বৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি হলেও এর শিক্ষার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিয়ে যেতে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে মডেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে পরীক্ষা পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার, অনলাইন ব্যবস্থাপনার সম্প্রসারণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনসহ পেশাগত পরীক্ষাগুলোতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং অসদুপায় অবলম্বনের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে পেছন থেকে নয়, সামনে থেকে এক নম্বরে যেতে হবে। এ জন্য দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং শিক্ষাবৃত্তি পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে সহায়তা করে। মানবসম্পদ উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বলেন, শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের কার্যকর ব্যবহার জরুরি। তবে বিদ্যুৎ সংকটসহ নানা কারণে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসব ক্লাসরুম প্রত্যাশিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। এ সমস্যা সমাধানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা হবে।

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি দেওয়া যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব, তেমনি আর্থিক ও সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোও বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈতিক দায়িত্ব।

শিক্ষার্থীদের মেধা, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশের মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম তুলে ধরে ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, নানা প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান লক্ষ্য শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন। এ লক্ষ্যে কারিকুলাম উন্নয়ন এবং দক্ষতাভিত্তিক ও বাজারমুখী কোর্স চালুর কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ কারিকুলাম সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শিক্ষার কার্যক্রম ইতোমধ্যে চালু হয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে দেশি-বিদেশি ১৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

দেশের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে সৌর প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগের কথাও জানান ভাইস-চ্যান্সেলর। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি বিনা খরচে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর লুৎফর রহমান। আরও বক্তব্য দেন প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নাজমুল হোসাইন।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কর্মকাণ্ড ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। কলেজ মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন দপ্তরের পরিচালক মো. সাহাব উদ্দিন আহাম্মদ ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ দপ্তরের পরিচালক সালমা পারভীন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগ যুবলীগ ছাত্রলীগের ৭ নেতার মৃত্যুদণ্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

০

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির সাত নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-২ আজ মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অপর আসামিরা হলেন- কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। এই মামলার সব আসামি পলাতক রয়েছেন।

আগের দিন সোমবার রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এ মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত চেয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। অপরদিকে ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক সাত আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত দুই আইনজীবী হাসান ইমাম ও ইসরাত জাহান অনি আসামিদের এ মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন।

এ বছরের জানুয়ারিতে শীর্ষস্থানীয় এই সাত নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ আসামিদের অব্যাহতি আবেদন নাকচ করে চার্জ গঠন করেন। একইসঙ্গে মামলার সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ১৭ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন। ওই অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

গত ১৮ জানুয়ারি প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। শুনানিতে তারা আসামিদের ব্যক্তিগত দায় তুলে ধরেন এবং ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে আনা তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পড়ে শোনান।

অন্যদিকে পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী  হাসান ইমাম ও ইশরাত জাহান শুনানি করেন। শুনানিতে তারা দাবি করেন, তাদের মক্কেলদের সঙ্গে এসব অভিযোগের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। যথাযথ তথ্যপ্রমাণ না থাকায় তারা আসামিদের অব্যাহতি দিয়ে অভিযোগ গঠন না করার আবেদন জানান।

এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করলে ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেন। পরোয়ানা জারির পর গত ২৯ ডিসেম্বর আসামিদের গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে আনার কথা থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের কোনো ঠিকানায় খুঁজে পায়নি। এরপর ৩০ ডিসেম্বর তাদের হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।