Home Blog Page 151

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-১ | পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু’র কুম্ভকর্ণের ঘুম ভেঙ্গেছে?

০

শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক।।
ফেইসবুকে ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ দেখছিলাম, একটি মেয়ে রাস্তায় পড়ে থাকা একটি পদ্মফুলের পতাকা উঠিয়ে এক জায়গায় টাঙ্গিয়ে দিলেন। আরো একটি ছোট্ট ভিডিওতে দেখলাম মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী রাস্তা দিয়ে সদলবলে হন্হন্ করে হেটে যাচ্ছেন, হটাৎ একটি ছেলে তাঁকে প্রণাম করতে ব্যারিকেডে ঢুকে পরে, মুখ্যমন্ত্রী ঘাবড়ে দু’পা পিছিয়ে যান? তাঁকে বেশ ভীত ও রুগ্ন দেখাচ্ছিলো। কেন জানি মনে হলো, এতো পরাজিত প্রার্থীর দৃশ্যপট। সম্ভবত: পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু’র কুম্ভকর্ণের ঘুম ভেঙ্গেছে। বাংলাদেশের হিন্দু, পাকিস্তানের হিন্দু ও কাশ্মীরের হিন্দুর দুরবস্থা দেখে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু হয়তো নিজেদের দুরবস্থা টের পাচ্ছে। বিষয়টি বিজেপি বা তৃণমূল নয়, ২০২৬’র নির্বাচন পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু’র বাঙ্গালী হিন্দু হিসাবে টিকে থাকার সংগ্রাম।

আমি ভারতীয় নই, পশ্চিমবাংলার অধিবাসী নই, বিজেপি-কংগ্রেস-তৃণমূল নই, পশ্চিমবাংলায় কে জিতলো তাতে আমার কিছু আসে-যায় না, তবু আমার মাথাব্যথা আছে, আমি বাংলাদেশের মানুষ, থাকি আমেরিকায়, দূর থেকে অনেক কিছু স্পষ্ঠ দেখতে পাই বিধায় এ লেখা। এবার তৃণমূল জিতলে পশ্চিমবাংলা ‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ হবে, তা গ্যারান্টি দিয়ে বলা যায়? একটি ঘটনা বলি: পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিয়ে আমার একটি বই কলকাতায় ছাপাতে চেষ্টা করি, এতে তেমন কিছু নেই, অন্তত: দু’জন প্রকাশক বইটি ছাপতে রাজি হননি। এতে এমন কিছু নেই, শুধু বিভিন্ন ঘটনার বিশ্লেষণ করে বোঝানোর চেষ্টা হয়েছে যে, তৃণমূল হটাও, বাংলা বাঁচাও। কেন তাঁরা ছাপাতে সাহস পাননি? কারণ, তাদের ধারণা, নির্বাচনের আগে এটি প্রকাশ হলে ‘দুধেল গাইরা’ হামলা করতে পারে?

তৃণমূল জিতলে বাঙ্গালী হিন্দু বাঁচবে না, পশ্চিমবঙ্গকে বাঁচাতে হবে, বাঙ্গালী হিন্দুকে বাঁচাতে হবে। বাঙ্গালী হিন্দু না থাকলে বাংলাভাষা থাকবে না, বাঙ্গালী সংস্কৃতি থাকবে না, আপনার অস্তিত্ব থাকবে না, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নামগোত্রহীন হয়ে পড়বে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গুরুত্বহীন হয়ে যাবেন। তাই বাংলাদেশে ইসলামী মৌলবাদের জয়জয়কার, পশ্চিমবঙ্গ সেই দিকেই হাটছে। ইসলামী মৌলবাদের উত্থান মানে হিন্দুদের বিদায়। পাকিস্তানে ১৯৪৭ সালে ২৯.৭% হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘু ছিলো, এখন প্রায় নেই, কারণ মুসলমানরা সংখ্যায় ,বেশি হলে অন্যদের সেখানে থাকতে দেয়না। বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডে ১৯৭০-এ দেড়কোটি হিন্দু ছিলো, ৫৫ বছরে এ সংখ্যা বাড়েনি, তবে মুসলমানের সংখ্যা বেড়েছে আড়াই গুন্। কথা একটা-ই, মুসলমান বাড়লে আপনি (হিন্দু) আউট। সমগ্র মুসলিম বিশ্বের এটিই ইতিহাস।

আমি হিন্দু হিসাবে বাঁচতে চাই, আমি ধর্মান্তরিত হতে চাইনা, আরব্য সংস্কৃতি নয় আমি বঙ্গ-সংস্কৃতিকে ধারণ করতে চাই, আমি ভারতীয় সংস্কৃতিকে লালন করতে চাই, এটি অপরাধ নয়? ২০২৬-এ আপনার ভাগ্য আপনাকেই গড়তে হবে, আপনার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে পশ্চিমবঙ্গকে বসবাসযোগ্য করে তুলতে হবে, এনআরসি, এসআইআর পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে, অনুপ্রবেশ ঠেকাতে হবে, ইউনিফর্ম সিভিল কোড চালু করতে হবে, তৃণমূল কংগ্রেসকে বিদায় করতে হবে। কন্যাশ্রী ও লক্ষ্মীশ্রী’র ওপর ভরসা করে থাকলে সময় আসবে যখন কন্যাও থাকবেনা, লক্ষীও থাকবেনা। সামনের নির্বাচনে বিজেপি জিতলে বাঙ্গালী হিন্দু বাঁচবে, তৃণমূল জিতলে হিন্দু মরবে। আগের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি হেরেছে, হিন্দুরা মুর্শিদাবাদ থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে। আসামে বিজেপি জিতেছে রোহিঙ্গারা বিদায় হচ্ছে। আত্মঘাতী বাঙালী হিন্দু বাঁচবে না মরবে তা নির্ধারণ হবে ২০২৬-এ, এটি হিন্দুদের লাষ্ট চান্স।

বাংলাদেশ ফুটবল কোচের সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকবেন ২০-২৫ জন

০

জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে পড়েছে তিন শতাধিক আবেদন। হামজা চৌধুরী-শমিত সোমদের কোচ নিয়োগের জন্য কাজ শুরু করে দিয়েছে চার সদস্যের বিশেষ কমিটি। বাফুফের টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান কামরুল হাসান হিলটনের সঙ্গে কমিটিতে আছেন সাবেক ফুটবলার ছাইদ হাসান কানন, ইকবাল হোসেন ও টেকনিক্যাল ডিরেক্টর সাইফুল বারী টিটু। দায়িত্ব পাওয়ার পর বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে কাজও শুরু করে দিয়েছে কোচ নিয়োগে বিশেষ এই কমিটি।

এই কমিটির কাজ হলো ৩০০ বায়োডাটা থেকে সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করা। জাতীয় দলের কোচ হওয়ার জন্য ২০-২৫ জনের শর্টলিস্ট হবে বলে গতকাল সংবাদ মাধ্যমকে জানান কমিটির অন্যতম সদস্য ছাইদ হাসান কানন, ‘আমরাও কোচ। আমরা জানি কোন ধরনের কোচ আমাদের লাগবে। আর আমাদের কোন ধরনের কোচ অতীতে ছিল। আমাদের বলা হয়েছে, শর্টলিস্ট করার জন্য। সেই থেকে আমরা চেষ্টা করব ২০-২৫-এর ভেতরে একটা লিস্ট করে জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটিকে দিতে। তারা যাচাই-বাছাই করবেন। যেহেতু আমাদের ন্যাশনাল টিম ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান হচ্ছেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। তিনি সিভিগুলো দেখবেন, তার পর নির্বাহী কমিটিতে যাবে। এরপর আমরা সিদ্ধান্ত নেব আগামী দিনের আমাদের বাংলাদেশের কোচ হবেন কে।’

দীর্ঘ তালিকা থেকে সংক্ষিপ্ত তালিকা করা কঠিন। সেই কঠিন কাজটি শুরু করতে যাচ্ছে বাফুফের বিশেষ কমিটি। ঠিক কোন মানদণ্ডে কোচদের সংক্ষিপ্ত তালিকা হবে, তা নিয়েই চলছে আলোচনা। এই প্রসঙ্গে কাননের ব্যাখ্যা, ‘আমরা মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেব কোন ক্রাইটেরিয়ায় কোচদের শর্টলিস্ট করব। আমরা অনেক বড় বড় কোচের সিভি পেয়েছি। তবে এটা বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য বিরাট অধ্যায়। যে বাংলাদেশের ফুটবলে বড় মাপের কোচরা কোচিং করতে আগ্রহী। ওই ধরনের কোচ হতে হবে যে হামজা চৌধুরী-শমিত সোমদের মতো খেলোয়াড়দের হ্যান্ডল করতে পারে।’

বাংলাদেশের কোচ হতে আবেদন করেছেন বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের সাবেক ফুটবলার এবং দলটির সহকারী কোচ বেনার্ড স্টর্ক। আবেদন করেছেন পর্তুগালের অ্যান্তোনিও কনসিসাও। এ দুজনের সিভি অনেক বেশি হাইপ্রোফাইল। বেনার্ড স্টর্কের হাত ধরে হাঙ্গেরি ৪৪ বছর পর ইউরোতে কোয়ালিফাই করেছে এবং রাউন্ড অব সিক্সটিনে খেলেছিল। কনসাসিও ক্যামেরুনকে তিন বছরে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৫৩ থেকে ৩৩ নম্বরে তুলেছেন। এ দুজনকে নিয়ে আলাদা কোনো চিন্তা করছেন কিনা– এমন প্রশ্নে কাননের উত্তর, ‘আমরা প্রথমে অগ্রাধিকার দেব প্রো-লাইসেন্স আছে কিনা। অবশ্যই তাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে চিন্তা করব। অভিজ্ঞ কোচদেরই আমরা আনার চেষ্টা করব।’

রাশিয়ার তেল সরবরাহ সচলের পর ইইউ থেকে ঋণ পাচ্ছে ইউক্রেন

হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ায় রুশ তেল সরবরাহের পাইপলাইন সচল করেছে ইউক্রেন। এর পরপরই কিয়েভের অভ্যন্তরীণ ব্যয় মেটানোর জন্য ৯০ বিলিয়ন ইউরো ঋণ অনুমোদন করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

ঋণের পাশাপাশি মস্কোর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি প্যাকেজও অনুমোদন দিয়েছে ইইউ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কিয়েভ নিজ তহবিল থেকে ঋণ শোধ করবে না। যুদ্ধ শেষে রাশিয়া ক্ষতিপূরণ দিতে শুরু করলে সেখান থেকে অর্থ কেটে রাখা হবে। তা না করলে, ইউরোপে জব্দ হওয়া মস্কোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ২১০ বিলিয়ন সম্পদকে ঋণ পরিশোধে কাজে লাগানো হতে পারে।

কিয়েভকে ঋণ অনুমোদনের ঘোষণাটি এসেছে হাঙ্গেরি তাদের দেওয়া ভেটো প্রত্যাহারের পর। ইইউ-এর বর্তমান সভাপতি দেশ সাইপ্রাস জানিয়েছে, সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরা ঋণ ও নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ‘লিখিত প্রক্রিয়া’ শুরু করতে রাজি হয়েছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যে উভয় বিষয়ে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর হওয়ার কথা আছে।

ইইউ গত ডিসেম্বরেই এই ঋণের বিষয়ে একমত হয়েছিল। তবে একটি ক্ষতিগ্রস্ত তেলের পাইপলাইন নিয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয় হাঙ্গেরির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের। সে বিরোধ থেকেই ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অরবান ইউক্রেনের ঋণ প্রস্তাবে ভেটো দেন। তখন স্লোভাকিয়াও তাঁকে সমর্থন দেয়।

রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল দ্রুজবা নামের পাইপলাইনের মাধ্যমে হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ায় সরবরাহ করা হয়। যুদ্ধের কারণে সেই লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। অরবান অভিযোগ তুলেছিলেন, ইউক্রেন ইচ্ছাকৃতভাবে পাইপলাইন মেরামতে দেরি করছে।

এই পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করা হয়। ইউক্রেনের দাবি, এটি রুশ ড্রোনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। হাঙ্গেরির তেল কোম্পানি এমওএল স্থানীয় সময় বুধবার জানায়, তেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার নাগাদ তা হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ায় পৌঁছাতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর এক সপ্তাহ ধরে খোঁজ মিলছে না। বিশ্ববিদ্যালয়টির পুলিশ বিভাগ এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশে থাকা স্বজনরা দাবি করেছেন, দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

২৭ বছর বয়সী নিখোঁজ দুজনের নাম জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি। গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) তাঁদের সবশেষ দেখা গিয়েছিল বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ। ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের প্রধান আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ে তাঁদের নিখোঁজের বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের চেষ্টা করছেন। টাম্পা এলাকায় নিজ বাসায় তাঁর সবশেষ অবস্থান ছিল। এরপর থেকে কারও সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি। অন্যদিকে বৃষ্টিকে সবশেষ দেখা গিয়েছিল একইদিন (বৃহস্পতিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের টাম্পা ক্যাম্পাসের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ভবনে। তিনি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করছেন।

নিখোঁজের পরদিন গত শুক্রবার এক পারিবারিক বন্ধু লিমন ও বৃষ্টির সঙ্গে যোগাযোগে ব্যর্থ হওয়ার পর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। বাংলাদেশে থাকা স্বজনরা এনবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, এর আগে কখনো এমন হয়নি। হঠাৎ করে স্বেচ্ছায় উধাও হওয়ার মতো মানুষ তারা নন।

লিমনের ছোট ভাই জুবায়ের আহমেদ বুধবার এনবিসি নিউজকে বলেন, লিমন ও বৃষ্টি ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সম্ভবত তাদের মধ্যে প্রেমও ছিল। ভবিষ্যতে বিয়ের পরিকল্পনাও করেছিলেন। তবে বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত বলেন, এই দুজনের মধ্যে এক সময় প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে খুব বেশি যোগাযোগ ছিল না।

জুবায়ের জানান, দুজনেরই বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা ছিল। ফ্লাইটের রিটার্ন টিকিটও কেটেছিলেন লিমন। নিখোঁজের পর পুলিশ তাঁর বাসা থেকে পাসপোর্ট উদ্ধার করেছে।

স্বজনরা জানিয়েছেন, লিমন ও বৃষ্টিকে উদ্ধারে এফবিআইয়ের পদক্ষেপের অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) নিশ্চিত করেছে, নিখোঁজ দুজনের কেউই তাদের হেফাজতে নেই।

ফ্রিজ ছাড়াই তরমুজ ঠান্ডা রাখার কৌশল জেনে নিন

দিনের তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। প্রচণ্ড গরমে এক টুকরো ঠান্ডা তরমুজ মুহূর্তের মধ্যে শরীর শীতল করে দেয়। কিন্তু ফ্রিজে না রাখলে তরমুজ কিছুতেই ঠান্ডা হয় না। কিন্তু বাইরে থেকে কিনে আনা তরমুজ সাথে সাথে খেতে চাইলে ভেতরটা গরমই লাগবে । তবে বিজ্ঞানের সহজ একটি ফর্মুলা অনুসরণ করে কয়েক মিনিটের মধ্যে তরমুজ ঠান্ডা করার উপায় জানানো হয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘এই সময়ে’র এক প্রতিবেদনে।

তরমুজ দ্রুত ঠান্ডা করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো একটি বিশেষ ‘আইস বাথ’। এটি তৈরে করবেন যেভাবে-

একটি বড় বালতি বা গামলায় অনেকটা ঠান্ডা পানি ঢেলে ফেলুন। এতে প্রচুর পরিমাণে বরফ কুচি এবং ২-৩ কাপ লবণ মিশিয়ে দিন। এ বার আস্ত তরমুজটি ওই লবণ মেশানো বরফ-পানিতে ১০ মিনিটের জন্য ডুবিয়ে রাখুন। সম্ভব হলে তরমুজটিকে এ পিঠ-ও পিঠ করে একটু ঘুরিয়ে দিন, যাতে সব দিক সমানভাবে ঠান্ডা হয়।

বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

রসায়নের ভাষায় এই পদ্ধতিকে বলা হয় ‘ফ্রিজিং পয়েন্ট ডিপ্রেশন’। সাধারণ পানি জিরো বা শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসে বরফ হয়, কিন্তু পানিতে লবণ মেশালে তার হিমাঙ্ক আরও খানিকটা কমে যায়। ফলে লবণাঙ্কিত পানি সাধারণ বরফ-পানির চেয়ে অনেক বেশি ঠান্ডা হয়ে যায়। বায়ুর তুলনায় পানি দ্রুত তাপ পরিবহন করতে পারে, এ কারণে ফ্রিজারের বাতাসের চেয়ে এই বরফ-পানিতে তরমুজ দ্রুত তাপ বিনিময় করতে পারে। এতে ফল দ্রুত শীতল হয়ে ওঠে।

দ্রুত ঠান্ডা তরমুজ খেতে চাইলে যা করবেন

ফলটি ছোট টুকরো করে কেটে নিতে পারেন। তরমুজের টুকরোগুলো একটা জিপলক ব্যাগে ভরে নিন। লবণ পানি যেন সরাসরি তরমুজের গায়ে না লাগে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। তরমুজটি যদি পানির উপর ভেসে থাকে, তাহলে ঠান্ডা না-ও হতে পারে। লবণ পানির মধ্যে পুরোপুরি নিমজ্জিত অবস্থায় থাকলেই বরফের মতো ঠান্ডা হবে তরমুজ।

ভারত থেকে পাইপলাইনে এল আরও ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল

বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে আরও ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে এসেছে। এই চালানটি ভারতের আসামে অবস্থিত নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোতে পৌঁছায়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এই চালানটির সরবরাহ সম্পন্ন হয়। এর আগে সোমবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহের পাম্পিং কার্যক্রম শুরু হয়।

এই কার্যক্রমে নিয়োজিত মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশন্স) কাজী মো. রবিউল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, চলতি এপ্রিল মাসে এখন পর্যন্ত তিনটি চালানে মোট ২০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে এসেছে। এর মধ্যে ১১ এপ্রিল ৮ হাজার, ১৯ এপ্রিল ৫ হাজার এবং ২৩ এপ্রিল ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করা হয়েছে। আগামী ২৬ বা ২৭ এপ্রিল আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে আসার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পুরো এপ্রিল মাসে মোট চারটি চালানের মাধ্যমে প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত চারটি চালানে মোট ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হয়েছে। ফলে এ বছর এখন পর্যন্ত মোট ৪২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এসেছে পাইপলাইনের মাধ্যমে।

এই জ্বালানি তেল পার্বতীপুরের রিসিপ্ট টার্মিনালে থেকে জ্বালানি রেলহেড অয়েল ডিপোর পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা এই তিন কোম্পানিতে এসব তেল সরবরাহ করা হয়।

উল্লেখ্য, উত্তরাঞ্চলে জেলাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে। ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ১৩১ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, ভারত আগামী ১৫ বছর বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করবে এবং বছরে ২ থেকে ৩ লাখ টন পর্যন্ত জ্বালানি আমদানি করা যাবে। প্রয়োজন অনুযায়ী এই পরিমাণ আরও বাড়ানো সম্ভব। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে সর্বোচ্চ ১০ লাখ মেট্রিক টন তেল আমদানি করার সক্ষমতা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এর ফলে আগে যেখানে খুলনা বা চট্টগ্রাম থেকে রেলপথে উত্তরাঞ্চলে তেল পৌঁছাতে ৬ থেকে ৭ দিন সময় লাগত, এখন পাইপলাইনের মাধ্যমে তা অনেক দ্রুত সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মুক্তির দিনে বাংলাদেশেও মুক্তি পাচ্ছে ‘মাইকেল’

০

মাইকেল জ্যাকসন। বিশ্বজুড়ে অগণিত ভক্ত অনুরাগীদের কাছে নামটি এক দুর্নিবার আকর্ষণের। কোটি মানুষের হৃদয়ের সম্রাট হয়ে আছেন তিনি। ২০০৯ সালে মাত্র ৫০ বছর বয়সে মৃত্যুর পরও তার জনপ্রিয়তা কমেনি। জেনে অবাক এখন মৃত্যুর এতো বছর পরও আন্তর্জাতিক মিউজিক প্লাটফর্ম স্পটিফাইয়ে তার মাসিক শ্রোতা প্রায় ৬৫ মিলিয়ন।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যেমন কৌতুহল ছিলো তাকে নিয়ে, মৃত্যুর পরও কৌতুহলের শেষ নেই। যার প্রমাণ মিলে তার জীবনী নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণার পর। যেদিন ঘোষণা আসে তার পর থেকে সেটা দেখার জন্য বিপুল উচ্ছ্বাসে উদগ্রীব হয়ে আছে সবাই। শুধুই অপেক্ষা-কবে আসবে সিনেমাটি।

অবশেষে অপেক্ষার অবসান ঘটছে। ২৪ এপ্রিল আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ‘মাইকেল’ নামের এই সিনেমা। বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য সুখবর হলো, আন্তর্জাতিক মুক্তির দিনেই সিনেমাটি মুক্তি পাবে স্টার সিনেপ্লেক্সে।

অ্যান্টনি ফুকো পরিচালিত এই সিনেমায় মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তার ভাইয়ের ছেলে জাফার জ্যাকসন। আরও অভিনয় করেছেন মাইলস টেলার, কোলম্যান ডোমিঙ্গো, ক্যাট গ্রাহাম, নিয়ালং, লরা হ্যারিয়ার, কেনড্রিক স্যাম্পসন ও জুলিয়ানো ক্রু ভ্যালদি।

সিনেমাটিতে তুলে ধরা হবে সংগীতের বাইরেও মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের গল্প, যেভাবে জ্যাকসন ফাইভ ব্যান্ডের তরুণ প্রতিভা থেকে তিনি হয়ে ওঠেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিনোদনশিল্পী। মঞ্চের বাইরের জীবন ও একক সংগীতজীবনের সোনালী মুহূর্তগুলো দর্শক দেখবেন একেবারে কাছ থেকে, যেখানে শুরু হয়েছিল তার পথচলা।

মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের চরিত্রও তুলে ধরা হয়েছে এখানে। তার বাবা জো জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন কোলম্যান ডমিংগো। মা ক্যাথরিন জ্যাকসনের চরিত্রে দেখা যাবে নিয়া লংকে। বোন লাটোয়া জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জেসিকা সুলা। এ ছাড়া সংগীত জগতের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছেন মোটাউন রেকর্ডসের প্রতিষ্ঠাতা বেরি গর্ডি, সংগীত নির্বাহী সুজান দে পাসে এবং ডায়ানা রসের চরিত্রও। এই চরিত্রগুলোর মাধ্যমে মাইকেলের ক্যারিয়ারের পেছনের মানুষদের ভূমিকা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

ছোট বয়সে জ্যাকসন ফাইভ ব্যান্ডের প্রধান কণ্ঠশিল্পী হিসেবে মাইকেলের যাত্রা শুরু হয়। সেখান থেকে ধীরে ধীরে একক শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে তিনি হয়ে ওঠেন বিশ্বসংগীতের সবচেয়ে বড় তারকা। এই বায়োপিকে তুলে ধরা হবে মাইকেল জ্যাকসনের অজানা অনেক গল্প। থাকবে তার বিখ্যাত কিছু পারফরম্যান্সও।

মাইকেল জ্যাকসনের ভক্তদের জন্য এই সিনেমা নিঃসন্দেহে বড় একটি আয়োজন। ট্রেলার দেখেই বোঝা যায়, নির্মাতা তার সংগীত, নাচ ও তারকাখ্যাতির রূপকথার মতো যাত্রাকে বড় পর্দায় জাঁকজমকপূর্ণভাবে তুলে ধরতে চেয়েছেন। গত বছরের নভেম্বের মাইকেলের বায়োপিক ‘মাইকেল’ এর টিজার মুক্তির পর ভিউয়ের রেকর্ড গড়েছিল। মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ১১৬.২ মিলিয়ন ভিউ। এর আগে অন্য কোনো মিউজিক্যাল বায়োপিক সিনেমার টিজার ২৪ ঘণ্টায় এত ভিউ হয়নি।

ঝড় উঠেছে ট্রেলার মুক্তির পরও। গেল ফেব্রুয়ারিতে মুক্তির একদিনের মধ্যেই ট্রেলারটি ৫ মিলিয়নের বেশি ভিউ ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, মুক্তির পর ব্যাপক ব্যবসায়িক সাফল্য পেতে যাচ্ছে ‘মাইকেল’।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় বিসিআই সভাপতি জ্বালানি নিয়ে শঙ্কায় পোশাকের অর্ডার স্থগিত করছেন ক্রেতারা

আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে জ্বালানিশূন্য হয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ– এমন আশঙ্কায় তৈরি পোশাকের অর্ডার বা ক্রয়াদেশ স্থগিত করেছেন অনেক বিদেশি ক্রেতা। বাংলাদেশ ছেড়ে এসব অর্ডার ভারতসহ অন্য দেশে চলে যাচ্ছে। এতে করে বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত এক গভীর সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে। বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ) গতকাল বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) বিভিন্ন ব্যবসায়ী চেম্বারের সঙ্গে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এমন বক্তব্য দেন।

বিসিআই সভাপতি বলেন, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা, বিদ্যুৎ সংকটসহ অভ্যন্তরীণ কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এ কারণে অনেক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এখন ভারত বা অন্য দেশের দিকে ঝুঁকছে। আগামী জুলাই এবং আগস্ট মাসের জন্য যে পরিমাণ অর্ডার আসার কথা ছিল, তা অত্যন্ত ধীর হয়ে গেছে। অনেক বড় ক্রেতা ইতোমধ্যে নেতিবাচক বার্তা দেওয়া শুরু করেছে। তিনি বলেন, বড় ক্রেতাদের ঢাকা অফিসগুলো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও তাদের ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বর্তমানে বাংলাদেশে নতুন অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে পিছু হটছে।
আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী বলেন, বর্তমান কর ব্যবস্থা অবাস্তব। লাভ বা লোকসান হোক, ১ শতাংশ হারে ন্যূনতম কর পরিশোধ করতে হয়। এই বিধান অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য কঠিন, বিশেষত ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য অনেক বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুনাফা না থাকলেও কর দিতে হয়, যা ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অস্তিত্ব সংকটে ফেলছে।

তিনি বলেন, কর যাচাইয়ের নামে যে কোনো প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেম বা নথিপত্র জব্দ করার ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি করছে। বিসিআই সভাপতি রপ্তানি আয়ের ওপর উৎস কর কমানোর অনুরোধ জানান। তবে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান জানান, উৎসে কর কমানো হবে না।

সভায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ব্যক্তি করদাতার করমুক্ত আয়ের সীমা বর্তমান তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেয়। ডিসিসিআই মনে করে, এতে নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ মূল্যস্ফীতির চাপ সামলাতে পারবে এবং নতুন করদাতারা করজালের আওতায় আসতে উৎসাহিত হবে। এ ছাড়া পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয়, এমন কোম্পানির করহার সাড়ে ২৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি। ডিসিসিআইর পক্ষে প্রস্তাব তুলে ধরেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব একেএম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের জন্য সিকিউরিটিজের সুদের ওপর উৎসে কর কর্তনের হার ১০ শতাংশ এবং কোম্পানির ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ নির্ধারিত রয়েছে। অনেক দেশে কর আহরণের বেশির ভাগ উৎসে কর থেকে আসে। ভবিষ্যৎ রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য বিবেচনায় এটি কমানোর সুযোগ নেই, বরং বাড়ানোর চিন্তা করতে হবে। তিনি বলেন, প্রযোজ্য করের তুলনায় উৎসে বেশি কাটা হলে তা পরের বছর সমন্বয় বা রিফান্ড করার সুযোগ থাকছে।

শনিবার ঢাকায় জামায়াতের সমাবেশ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের নি‌য়ে আগামী শনিবার রাজধানীর সমাবেশের ডাক দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ সমাবেশ হবে। এতে জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা এতে উপস্থিত থাকবেন।

গতকাল বুধবার দলটির বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জামায়াত জোটে দ্বিতীয় ধাপের কর্মসূচি চলছে। গত শনিবার রাজধানীতে গণমিছিল করেছে। আগামী শনিবার সব মহানগরে গণমিছিল হবে। একই দিনে জুলাই শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের সমাবেশ হতে যাচ্ছে। আগামী ২ মে পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।

বাসের ভাড়া বাড়ল কিলোমিটারে ১১ পয়সা, আজ থেকে কার্যকর

ঢাকা এবং চট্টগ্রামের মধ্যে দূরপাল্লার গাড়িতে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ১১ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে শ্রমিক মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, আজ থেকেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

সড়ক মন্ত্রী বলেন, ঢাকা এবং চট্টগ্রামের মধ্যে দূরপাল্লার গাড়িতে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ১১ পয়সা এবং আন্তঃজেলার প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ টাকা ৫৩ পয়সা। অন্যদিকে দূরপাল্লার পথে বাসভাড়া কিলোমিটারে ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ টাকা ২৩ পয়সা।

ভাড়া বাড়নোর সিদ্ধান্ত আজ থেকেই কার্যকর হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ডিজেল চালিত বাসের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত  কার্যকর হবে। সিএনজিচালিত বাসের ক্ষেত্রে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচিত হবে না। জ্বালানি তেলের দাম কমে গেলে বাস ভাড়া আবার কমবে। তবে রেল ও নৌ পরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

বর্তমানে দেশের দূরপাল্লার রুটের জন্য সরকার নির্ধারিত রয়েছে বাসভাড়া কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে বাসের বর্তমান ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৪২ পয়সা।

এর আগে গত ২২ এপ্রিল সচিবালয়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে নতুন বাস ভাড়া নির্ধারণ সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সভায় পরিবহনের নতুন ভাড়া নির্ধারণ হয়নি। বাস-ট্রাকসহ পরিবহনের নতুন ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে বৃহস্পতিবার সিদ্ধান্ত হবে।

এদিকে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি বলছে, পরিবহন খাত বর্তমানে ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপের মুখে রয়েছে। সম্প্রতি ডিজেলে লিটার প্রতি ১৫ টাকা বৃদ্ধি এবং ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানিকৃত খুচরা যন্ত্রাংশ ও সামগ্রিক যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অনেক বেড়ে গেছে।

এ অবস্থায় পরিবহন খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জ্বালানির দাম ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত ও যৌক্তিকভাবে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল পরিবহন নেতারা।