Home Blog Page 26

এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়াতে নতুন কর্মপরিকল্পনা

এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে বাংলাদেশের বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আওতাধীন এনহ্যানসড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক-এর তৃতীয় পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করা কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্ট বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসব লক্ষ্য অর্জনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আজ রোরবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্টের ভ্যালিডেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। একদিকে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি, অন্যদিকে রপ্তানি খাতে নন-ট্যারিফ বাধা, আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘এনহ্যানসড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক-এর পূর্ববর্তী ফেইজসমূহে যে সুপারিশ দিয়ে আসছে, কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্টে সেই বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখানে ১২টি কার্যক্রম রাখা হয়েছে, যার প্রতিটিই বাংলাদেশের বাণিজ্য সক্ষমতা উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’

বাণিজ্য সচিব বলেন, শুধু নীতিমালা বা গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করলেই হবে না, এর সফল বাস্তবায়নই মূল বিষয়। তিনি বলেন, ‘স্টাডির পাশাপাশি বাস্তবায়ন পর্যায়ে কীভাবে সংস্কারগুলো কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকতে হবে। মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত এসব সংস্কারের সুফল পৌঁছাতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ, উদারীকরণ, সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিমালা ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কর্মশালায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিউটিও) খাদিজা নাজনীন বলেন, ডব্লিউটিওর এনহ্যানসড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক কর্মসূচির মাধ্যমে এলডিসি দেশগুলোকে বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা দেওয়া হয়। এই কর্মসূচিতে যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সুইডেনসহ কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগী দেশ অর্থায়ন করে থাকে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ এনহ্যানসড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক-এর আওতায় ইতোমধ্যে দুটি পর্যায়ে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। প্রথম পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে এবং শেষ হয় ২০১৫ সালে। দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয় ২০১৬ সালে, যা ২০২৪ সালে শেষ হয়েছে। এখন তৃতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হবে। তৃতীয় পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করা কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্টের ভিত্তিতে বাংলাদেশ অর্থায়ন সহায়তা পাবে। পাঁচ বছর মেয়াদি এই কার্যক্রম চলতি বছর থেকেই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও এনহ্যানসড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক-এর পরামর্শক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিদ্যমান নীতি, কৌশল ও পূর্ববর্তী গবেষণার সুপারিশগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ডিটিআইএস, রপ্তানি নীতি, শিল্পনীতি, বাণিজ্য নীতি, ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন অ্যাগ্রিমেন্ট এবং বিনিয়োগ সুবিধা বিষয়ক উদ্যোগ থেকে প্রাধান্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫২টি প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে উন্নয়ন সহযোগীদের সম্ভাব্য সহায়তা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা বিবেচনা করে সেগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১২টি কার্যক্রমে সীমিত করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমের মধ্যে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য সহজীকরণ, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর ব্যবহারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’

কর্মশালায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার, অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি) শিবির বিচিত্র বড়ুয়া এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, এনহ্যানসড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক-এর তৃতীয় পর্যায়ের এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের পরও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ইসিতে হিসাব জমা এবারও ব্যয়ের চেয়ে আয় বেশি বিএনপির

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) তাদের বার্ষিক আয় ও ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে বিএনপি। দলটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ অর্থবছরে তাদের মোট আয় হয়েছে ২২ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। বর্তমানে বিএনপির দলীয় তহবিলে উদ্বৃত্ত বা জমা রয়েছে ৬ কোটি ৭ লাখ টাকা।

রোববার দুপুর ১২টার পর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই হিসাব জমা দেয় বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল এই হিসাব জমা দেন। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও সহ-দপ্ত‌র সম্পাদক মনির হোসেন।

তারা নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার হোসেনের কাছে দলটির নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন (অডিট রিপোর্ট) হস্তান্তর করেন।

বিএনপির আয়ের হিসাব অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় ২০২৬ সালে দলটির আয় ও ব্যয় উভয়ই বেড়েছে। সর্বশেষ অর্থবছরে তাদের মোট আয় হয়েছে ২২ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। বর্তমানে বিএনপির দলীয় তহবিলে উদ্বৃত্ত বা জমা রয়েছে ৬ কোটি ৭ লাখ টাকা। ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিএনপির মোট আয় ১৫ কোটি ৬৫ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪২ টাকা। একই সময়ে দলটির ব্যয় ৪ কোটি ৮০ লাখ ৪ হাজার ৮২৩ টাকা। আগের বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে বিএনপির আয় হয়েছিল ১ কোটি ১০ লাখ ৮০ হাজার ১৫১ টাকা। ব্যয় হয়েছিল ৩ কোটি ৬৫ লাখ ২৩ হাজার ৯৭০ টাকা।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিবন্ধিত প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জন্য প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পূর্ববর্তী পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের অডিট রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কোনো দল পরপর তিন বছর হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের নিবন্ধন বাতিলের আইনি বিধান রয়েছে।

সাধারণত দলের সদস্যদের নিয়মিত চাঁদা, বিভিন্ন ব্যক্তি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দেওয়া অনুদান এবং দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির অর্থ থেকে আয় দেখায় রাজনৈতিক দলগুলো। অন্যদিকে, দলের সারা বছরের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, প্রচারপত্র ও পোস্টার প্রকাশনা, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কার্যালয়গুলোর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন এবং দুস্থ নেতাকর্মীদের সহায়তার খাতে ব্যয়ের হিসাব দেখায়।

শিশুর কান্না নিয়ে ‘মজা’, নির্যাতনের ভিডিও নিজেই পোস্ট করলেন শিক্ষক

মাদ্রাসায় পড়তে আসা একটি শিশুকে নির্যাতন করার দৃশ্য ভিডিও করে নিজেই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন এক শিক্ষক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক শিশুর মুখে বারবার বেত ঢুকিয়ে তাকে নির্যাতন করা হচ্ছে। ভিডিওটি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করে তিনি ক্যাপশনে লেখেন, ‘পিচ্চি পোলাপানকে কান্না করাতে ভালোই লাগে।’

ভিডিওটি প্রকাশের সঙ্গে জড়িত ইমরান হোসেন নামের এক সাবেক মাদ্রাসাশিক্ষক পরে লাইভে এসে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান। সমালোচনার মুখে ইমরান হোসেন ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, শিশুটিকে আঘাত করার উদ্দেশ্য তার ছিল না। তবে নিজের আচরণ ভুল ছিল বলে স্বীকার করে তিনি ক্ষমা চান।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় দুই মাস আগে ইমরান হোসেনকে প্রতিষ্ঠান থেকে বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, অকারণে শাস্তি দেওয়া এবং অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া শিশুদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের অভিযোগ ছিল।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সামাজিক সংগঠন আলফা স্টারের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ হওয়া উচিত। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

মানবাধিকারকর্মী জাকির মাহমুদ জুয়েল বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের ভিডিও প্রকাশ শিশুর মর্যাদা ও অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আরও কার্যকর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

হামের উপসর্গে আরও চার শিশুর মৃত্যু

দেশে হামের উপসর্গে আজ রোববার সকাল আটটা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১১৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে ও আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৮৮ জনে।

আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া চার শিশুর মধ্যে তিনজন ঢাকায় এবং একজন সিলেট বিভাগে মারা গেছে।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মোট মৃত ৭৮৮ জনের মধ্যে পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়ে মারা গেছে ৯৫ শিশু। বাকি ৬৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে হামের উপসর্গে সবচেয়ে বেশি ৩০২ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর সিলেটে ৯৮, রাজশাহীতে ৮৯, ময়মনসিংহে ৬৬, চট্টগ্রামে ৫৫, বরিশালে ৪৩, খুলনায় ৩১ এবং রংপুর বিভাগে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ১৩৭ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৯৬ হাজার ৫২১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৪৮। এ সময় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৪ হাজার ৪৩১ জনের শরীরে।

ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শরীরে বিষধর সাপ ছেড়ে স্বামীকে হত্যার অভিযোগ

ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাটে স্বামীকে হত্যায় বিষধর সাপ ব্যবহার করার অভিযোগে এক নারী ও তার কথিত প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ২০ লাখ রুপির বিমার অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং তাদের সম্পর্কের পথে বাধা দূর করতেই এ হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

নিহত অতুল পানওয়ার স্ত্রী দামিনীর সঙ্গে হস্তিনাপুরে একটি শিশু বিদ্যালয় পরিচালনা করতেন। ২০১৯ সালে তাদের বিয়ে হয়।

পুলিশের দাবি, বিদ্যালয়ের চালক তুষার ওরফে নিক্কির সঙ্গে দামিনীর সম্পর্ক ছিল। প্রথমে তারা সড়ক দুর্ঘটনা ঘটিয়ে অতুলকে হত্যার চেষ্টা করেন। সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে নতুন কৌশল নেন।

তদন্তকারীদের অভিযোগ, ঘটনার রাতে দামিনী স্বামীর দুধে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন। অতুল অচেতন হয়ে পড়লে তার বিছানায় একটি বিষধর সাপ ছেড়ে দেওয়া হয়। সাপের কামড়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রথমে ঘটনাটি স্বাভাবিক সাপের কামড়ে মৃত্যু বলে মনে হলেও পরে মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য ও আলামত বিশ্লেষণ করে কথিত হত্যার ষড়যন্ত্রের সূত্র পাওয়া যায়।

পুলিশের ভাষ্য, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে দুটি উদ্দেশ্য ছিল-২০ লাখ রুপির বিমার অর্থ দাবি করা এবং পরকীয়ার সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়া। এ ঘটনায় দামিনী ও তুষারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।

পুলিশ আরও জানায়, তুষারও বিবাহিত। অভিযোগ, তিনি নিজের স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পরিকল্পনাও করেছিলেন।

জর্ডানে দুই মার্কিন সেনা নিহতের পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা

জর্ডানে দুই মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। শনিবার রাতে ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে কুয়েতে থাকা দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরান। এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, জর্ডানে শুক্রবার মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার জন্য দায়ী ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির কৌশলগত কেশম দ্বীপে থাকা উপকূলীয় নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আঘাত হানা হয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে কুয়েতে অবস্থিত দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে বাহরাইন জানিয়েছে, তারা নিজেদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা কয়েকটি আকাশীয় হামলা প্রতিহত করেছে।

গত কয়েক দিনে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার মাত্রা বেড়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার অভিযোগ তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বন্দর অবরোধ কার্যকর করেছে। অন্যদিকে তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছে। ফলে গত জুনে হওয়া প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে।

রোববার আইআরজিসি দাবি করেছে, তাদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করায় দুটি জাহাজ ‘দুর্ঘটনার’ শিকার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবাধীন এবং ‘অনিরাপদ নৌপথ’ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোও একই ধরনের পরিণতির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে তারা।

এদিকে জর্ডানের রাজধানী আম্মানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, ‘নির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য হুমকির’ কারণে দেশটির কর্তৃপক্ষ আকাবা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দর খালি করেছে। একই সঙ্গে মার্কিন নাগরিকদের ওই এলাকায় ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সেন্টকম জানিয়েছে, টানা অষ্টম রাতের মতো পরিচালিত এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হুমকি দেওয়ার সক্ষমতা দুর্বল করা এবং জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার জন্য দায়ী আইআরজিসি বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করা।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জর্ডানে নিহত দুই সেনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন, তাদের আত্মত্যাগ যুক্তরাষ্ট্রের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে।

এই সংঘাতে নিখোঁজ থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর এক পাইলটকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। এতে চলমান সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটিতে অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সিলিন্ডারের মেয়াদ শেষ, ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বিভিন্ন একাডেমিক ভবন ও হলের দেয়ালে স্থাপন করা অধিকাংশ অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডারের মেয়াদ আট মাস আগে শেষ হয়েছে। সেগুলো সরিয়ে নতুন সিলিন্ডার রাখার বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তারা বলছে, এ বিষয়ে কিছুই জানে না। এর ফলে নিরাপত্তা শঙ্কায় ভুগছেন শিক্ষার্থীরা।

তারা বলছেন, আবাসিক হলগুলোর প্রতিটি কক্ষেই ইলেকট্রিক চুলায় রান্নার সুবিধা আছে। এই চুলা থেকে যে কোনো দুর্ঘটনার সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রাথমিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডার। আট মাস আগে মেয়াদ শেষ হলেও এ বিষয়ে উদাসীন প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রতিটি আবাসিক হলে একাধিক অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডার স্থাপন করে প্রশাসন। এক বছর মেয়াদি এই সিলিন্ডারগুলোর মেয়াদ ছিল গত বছরের ২ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রায় আট মাস আগে মেয়াদ শেষ হওয়া সিলিন্ডারগুলো পুনঃস্থাপনের জন্য এখনও সরিয়ে নেওয়া হয়নি।
সরেজমিন দেখা গেছে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডার আছে ছয়টি, সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনে আটটি, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ একাডেমিক ভবন ও মমতাজ উদ্দীন একাডেমিক ভবনে আছে সাতটি করে। এ ছাড়া হলগুলোতে প্রতিটি ব্লকের আলাদা আলাদা তলায় একটি করে সিলিন্ডার রয়েছে। এর মধ্যে সৈয়দ আমীর আলী হল, শাহ মখদুম হল, নবাব আব্দুল লতিফ হল ও শহীদ ড. শামসুজ্জোহা হল। ওই চারটি একাডেমিক ভবনের মোট ২৫টি অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডারের  মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। প্রতিটি সিলিন্ডার ‘বেঙ্গল ফায়ার টেকনোলজি’ সরবরাহ করেছে।
শাহ মখদুম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী দুলাল সরকার বলেন, আমাদের হলের অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডারের  মেয়াদ শেষ। আমাদের ব্লকের সিলিন্ডারটি একদিন চেক করার জন্য আমরা লক খুলে পুশ করি। কিন্তু মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ায় কোনো গ্যাস বের হয়নি।

উদ্বেগ প্রকাশ করে সৈয়দ আমীর আলী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সাকিব মল্লিক বলেন, আমাদের ১৭টি হলে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী থাকেন। তাদের প্রত্যেকের কক্ষের সামনে চুলার ব্যবস্থা আছে। এতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার সৃষ্টি হতে পারে। অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডারগুলো প্রাথমিকভাবে আমাদের নিরাপত্তা দেয়। কিন্তু সব জায়গার সিলিন্ডারেরই মেয়াদ শেষ।
প্রশাসনের উদাসীনতা নিয়ে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী পুশরাম চন্দ্র বলেন, এটা একটা শোপিসের মতো সাজানো রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়ে প্রশাসন বরাবরই উদাসীন। তাদের এ বিষয়ে আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক ও মাদার বখশ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক শাহ হুসাইন আল মাহদী সমকালকে বলেন,  অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডারগুলোর মেয়াদ শেষ হয়েছে– এটি আমার জানা ছিল না। আমি দ্রুতই পরীক্ষা করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, হল ও একাডেমিক ভবনের অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডারগুলোর মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। আমরা খুব শিগগিরই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে সিলিন্ডারগুলো রিফিলের ব্যবস্থা করব।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান মিলনের খোঁজ এখনও মেলেনি, বাবাকে খুঁজছে ছোট্ট মারিয়াম মিলন ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ঢাকার আশুলিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন

সেই সময় মানসুরা মারিয়ামের বয়স ছিল ১১ মাস। বাবা-মেয়ের সম্পর্কের গভীরতা বোঝার মতো বয়স হয়নি তার। মানসুরার বয়স এখন প্রায় তিন বছর। কথা বলতে শিখেছে, প্রশ্ন করতে শিখেছে। আশপাশের সমবয়সী শিশুরা যখন বাবার হাত ধরে হাঁটে, খেলাধুলা করে, আদর পায়, তখন অপলক তাকিয়ে থাকে মারিয়াম। বাবার আদরের জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠে। বাবার স্নেহের আকাঙ্ক্ষায় ছুটে গিয়ে মাকে জিজ্ঞেস করে, ‘সবার বাবা আছে। আমার নেই কেন? ওদের বাবা আদর করে। কোলে নেয়। আমি বাবার কাছে যাবে।’

ছোট্ট মেয়ের এমন প্রশ্নে বাকরুদ্ধ হয়ে যান মা সুবিতা খাতুন। ডুকরে কাঁদেন। মেয়েকে কীভাবে বোঝাবেন, তার বাবা আর কখনও ফিরে আসবে না।
মারিয়ামের বাবা মনিরুজ্জামান মিলন ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার পর নিখোঁজ হন। তাঁর মরদেহও মেলেনি।

মনিরুজ্জামান মিলন ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ঢাকার আশুলিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন। মিলনের খোঁজে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতাল-মর্গসহ কত জায়গায় যে গেছেন, তবুও মেলেনি সন্ধান। পরিবার বলছে, জীবিত থাকলে অবশ্যই মিলন ফিরে আসতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুরের পর আশুলিয়ায় জনতার আনন্দ মিছিলে গুলি চালিয়েছিল পুলিশ। আশুলিয়া ও সাভার এলাকায় সেদিন ৪৬ জনের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসে। অনেকেই নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া যায়। ৪৬ লাশের মধ্যে আশুলিয়া থানার সামনে একটি পিকআপে ১১টি লাশে আগুন ধরিয়ে দেয় পুলিশ। মিলনের গ্রামের বাড়ি বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার জোড়গাছায়।

মরদেহ না পাওয়া এবং কবর দেখাতে না পারায় জুলাই শহীদের তালিকায়ও নাম ওঠেনি মিলনের। অবশ্য এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের তেমন আক্ষেপ নেই। মিলনের বড় ভাই কলেজশিক্ষক সামিউল ইসলাম মিল্টন সমকালকে জানান, সেই সময় জুলাই শহীদের তালিকায় মিলনের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তারা মৃত্যুসনদ ও কবর কোথায় জানতে চেয়েছিলেন। মরদেহ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

সামিউল বলেন, শুভাকাঙ্ক্ষী অনেকেই আমাকে বলেছিল, জাল মৃত্যুসনদ বানিয়ে নিতে। রাজি হইনি। মিথ্যার আশ্রয় কেন নেব? আমার ভাইয়ের লাশই যখন পেলাম না, তখন এসব নিয়ে কী করব? লাশ না পাওয়ায় আশুলিয়া থানা মামলা কিংবা সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) নেয়নি।

ছেলের শোকে কাতর মেরিনা বেগম। প্রায়ই কান্নাকাটি করেন। গ্রামের বাড়িতেই থাকেন তিনি। সম্প্রতি মোবাইল ফোনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে সমকাল। মিলনের প্রসঙ্গে কথা বলতেই কেঁদে ওঠেন। কান্না করতে করতে বলেন, ছেলের লাশটাও পেলাম না। আর পাব বলে মনেও হয় না। আমি কত হতভাগা, শেষবারের মতো ছেলের মুখটা দেখতে পেলাম না।
তিনি আরও বলেন, ‘সেদিন মিছিলে যাওয়ার আগে ছেলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়েছিল। বলেছিলাম, যাসনে বাবা। শুনছি অনেক জায়গায় গোলাগুলি হচ্ছে। গুলিটুলি লাগবে। কথা বলতে বলতে ছেলে মিছিলে চলে যায়। পরে বিকেলে কল দিই আবার কথা বলার জন্য। আর কল ধরেনি।

জানা যায়, মিলনরা দুই ভাই ও এক বোন। বাবা প্রয়াত সুরুজ্জামাল ওরফে মজিরদ্দীন কৃষিকাজ করতেন। মিলন এইচএসসি পাস করার পর ঢাকার মিরপুরে গার্মেন্টস মেশিনারিজের ওপর প্রশিক্ষণ নেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বগুড়ায় বিয়ে করেন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তিনি আশুলিয়ার একটি ডাইং কারখানায় সিনিয়র মেকানিক পদে  কাজ করতেন। স্ত্রী ও একমাত্র শিশু মেয়েকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। আন্দোলন চলাকালে ২৮ জুলাই মিলনের স্ত্রী মেয়েকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে যান। তখন মিলন বাসায় একাই থাকতেন। প্রায় প্রতিদিন আন্দোলনে অংশ নিতেন। আন্দোলনে যাওয়ার আগে স্ত্রী সুবিতা খাতুনকে মোবাইল ফোনে জানিয়ে যেতেন।

৫ আগস্ট দুপুরে শেখ হাসিনার দেশত্যাগ করার খবর ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে আনন্দে মাতে মানুষ। আনন্দ মিছিল বের হয় সড়ক থেকে মহল্লা– সবখানে। আশুলিয়ায় আনন্দ মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন মিলন। ওই মিছিলে হামলা ও গুলি চালায় পুলিশ। এই খবর পেয়ে স্বজনরা মিলনের মোবাইল ফোনে কল দেন। তবে তারা সাড়া পাননি। একসময় ফোন বন্ধ হয়ে যায়।
স্বজনদের দাবি, পুলিশ গুলি করে মিলনকে মারার পর লাশ গুম করে দিয়েছে।
মিলনের স্ত্রী সুবিতা গাজীপুরের টঙ্গীর একটি কলেজ থেকে এবার অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েছেন। মেয়ে মারিয়ামকে নিয়ে তিনি কখনও শ্বশুরবাড়ি, কখনও একই এলাকায় বাবার বাড়ি থাকেন। চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সুবিতা জানান, মারিয়াম এখন বুঝতে শিখেছে। প্রায়ই বাবার খোঁজ করে। যখন খুব কান্নাকাটি করে তখন মোবাইল ফোনে বাবার ছবি দেখানো হয় মারিয়ামকে। ছবিতে চুমু দেয় আর বাবা-বাবা বলে ডাকতে থাকে। তখন তিনি চোখের পানি ধরে রাখতে পারেন না।
সমকালের সঙ্গে কথা বলার সময় সুবিতার গলা ভারী হয়ে যায়। কান্না করতে করতে বলেন, আমি স্বামী হারিয়েছি আর আমার মেয়ে বাবাকে। ওর কষ্টটা বুঝি। কিন্তু কিছুই করার নেই। মেয়ে আমার চোখের মুছে দিয়ে জানতে চায়, আম্মু– কী হয়েছে?

কানাডার দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রে আসায় অতিরিক্ত শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের

কানাডার ভয়াবহ দাবানলের ধোঁয়া এবার আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বাণিজ্য বিরোধে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দাবানলের ধোঁয়ায় উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহরের আকাশ ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বায়ুদূষণের জন্য কানাডাকে দায়ী করে দেশটি থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই পরিস্থিতিকে কানাডা সরকারের বন ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার ফল বলে মন্তব্য করেছেন।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বায়ুর মান নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বর্তমানে কানাডাজুড়ে ৮৯৬টি সক্রিয় দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন দমকলকর্মীরা। এর মধ্যে প্রায় ২০০টি আগুন অন্টারিও প্রদেশে জ্বলছে। অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড জানিয়েছেন, এসবের মধ্যে ৮১টি দাবানল এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে।

ট্রাম্পের অভিযোগ, কানাডা তাদের বনাঞ্চল ও ঝোপঝাড় যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তার ভাষ্য, এই অব্যবস্থাপনার কারণেই বিপুল পরিমাণ ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছে এবং দেশটির নাগরিকরা অস্বাস্থ্যকর ও দূষিত বাতাসে শ্বাস নিতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি বলেন, এই বায়ুর মান অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি শিগগিরই কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে আলোচনা করবেন। ট্রাম্পের দাবি, দাবানলের ধোঁয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্র যে ক্ষতির মুখে পড়েছে, তার আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা কঠিন। তবে সেই ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কানাডা থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর বিদ্যমান শুল্কের সঙ্গে অতিরিক্ত শুল্ক যোগ করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কানাডার প্রতি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প। সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্যনীতি এবং অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে তিনি একাধিকবার কানাডার ওপর চাপ প্রয়োগ করেছেন। এর আগে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও বাণিজ্য নীতিতে পরিবর্তনের দাবিতে শুল্ক বৃদ্ধির হুমকি দেন তিনি। এমনকি একপর্যায়ে কানাডাকে সার্বভৌমত্ব ত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন।

অনশনের ২০তম দিনে হাসপাতালে নেওয়া হলো সোনম ওয়াংচুককে

ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ২০ দিন ধরে অনশনরত পরিবেশকর্মী ও উদ্ভাবক সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। শনিবার ভোরে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে নেওয়া হয়।

দিল্লি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ওয়াংচুককে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক বর্তমানে সচেতন রয়েছেন এবং তার শারীরিক গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলো স্থিতিশীল।

এদিকে যন্তর মন্তরে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। তাদের দাবি, আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে গিয়ে কিছু বিক্ষোভকারী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সামান্য উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে পুলিশ সংযমের সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে।

শুক্রবার ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা চিকিৎসকেরা তার অবস্থাকে জরুরি বলে উল্লেখ করেন। তাদের আশঙ্কা, অনশন অব্যাহত থাকলে তার বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে জানানো হয়েছে, গত কয়েক দিনে তার ওজন ৮ কেজির বেশি কমেছে এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে।

দুই দিন আগে দিল্লি হাইকোর্ট ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য প্রতিদিন পরীক্ষা করার নির্দেশ দেন। আদালত বলেন, ‘যেকোনো নাগরিকের জীবনই মূল্যবান।’ একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারকে তার জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ওয়াংচুক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনশন করছেন। তার অভিযোগ, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।

গত কয়েক দিনে কংগ্রেস নেতা পবন খেরা, সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ডিম্পল যাদব এবং আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালসহ বিরোধী দলের কয়েকজন নেতা ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করে তার প্রতি সংহতি জানান। একই সঙ্গে তারা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে অনশন ভাঙার আহ্বান জানান।

যন্তর মন্তরের এই আন্দোলনের আয়োজক অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনটির দাবি, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে পদত্যাগ করতে হবে এবং ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার আনতে হবে।