Home Blog Page 250

ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম জানাজা দেখলো বাংলাদেশ!

আপসহীন নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায় রাঙিয়ে দিল লাখো মানুষের ভালোবাসা। আজ বুধবার বাদ জোহর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ জুড়ে অনুষ্ঠিত তাঁর জানাজা পরিণত হয়েছিল এক বিশাল জনসমুদ্রে। যে দেশের মানুষের অধিকারের জন্য তিনি আজীবন লড়াই করেছেন, সেই মানুষেরাই আজ প্রিয় নেত্রীকে অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় জানাতে সমবেত হয়েছিলেন।

দুপুর হওয়ার আগেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ছাড়িয়ে জনস্রোত বিজয় সরণি, ফার্মগেট, শাহবাগ ও কারওয়ান বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। যতদূর চোখ যায়, শুধু মানুষের মাথা আর শোকার্ত মুখ। অসুস্থ শরীর নিয়ে কেউ স্ক্র্যাচে ভর দিয়ে, আবার কেউ দেশের দূর-দূরান্ত থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসেছেন তাঁদের প্রিয় নেত্রীকে একনজর দেখতে। জানাজাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ছিল শোকের মাতম; অনেককেই অঝোরে কাঁদতে দেখা গেছে।

গত কয়েকদিনের হাড়কাঁপানো শীত কাটিয়ে আজ যেন প্রকৃতিও এই নেত্রীকে বিদায় জানাতে শান্ত রূপ ধারণ করেছে। কনকনে ঠান্ডার বদলে নগরীতে আজ ছিল মিষ্টি রোদের আনাগোনা, যা দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের মাঝে কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়।

উপস্থিত জনতার মতে, খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য তাঁর যে ত্যাগ, আজ এই বিশাল উপস্থিতি তারই বহিঃপ্রকাশ। দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের এই ঢল প্রমাণ করে দেশবাসীর হৃদয়ে তাঁর স্থান কতটা উঁচুতে।
জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ শেরেবাংলা নগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। দেশের ইতিহাসে এটি অন্যতম বৃহত্তম জানাজা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

স্মরণকালের রেকর্ড মানুষের অংশগ্রহণে সম্পন্ন হল খালেদা জিয়ার জানাজা

০

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। এতে অংশগ্রহণ করেছেন স্মরণকালের সর্বাধিক সংখ্যক মানুষ। দুপুর ২টায় শুরু হওয়া জানাজা শেষ হয় বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে। জানাজার ইমামতি করেছেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীসহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা। এছাড়া বন্ধুপ্রতিম বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন।

জানাজার আগে ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মানুষ মানিক মিয়া এভিনিউ ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেন। জনস্রোত আশেপাশের বিজয় সরণি, খামারবাড়ি মোড়, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, পান্থপথ, শেরে বাংলা নগর, কলেজগেট, আসাদগেট ও শাহবাগসহ শহরের অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের ছাদ, ওভার ব্রিজসহ যেখানে যেখানে সুযোগ পেয়েছেন, সেখানে মানুষ দাঁড়িয়ে থাকেন। অনেকেই চাপ ও ভিড়ের কারণে জানাজায় সময়মতো পৌঁছাতে পারেননি।

পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জানাজার পর বিকেল সাড়ে ৩টায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে। দাফন কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সেখানে শুধুমাত্র পরিবারের সদস্য, উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মকর্তা, রাষ্ট্রীয় অতিথি ও অনুমোদিত ব্যক্তিবর্গ প্রবেশ করতে পারবেন। শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে সাধারণ জনতার চলাচল সীমিত রাখা হবে।

জরুরি বৈঠকে অংশ নিতে গুলশান কার্যালয়ে তারেক রহমান

০

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠকে অংশ নিতে গুলশানের কার্যালয়ে পৌঁছেছেন তাঁর বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার কিছু পর তিনি গুলশানে অবস্থিত চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে যান। খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দলের করণীয়, জানাজার সময়সূচি এবং পরবর্তী রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে এই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

বৈঠক শেষ হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনসহ আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি সম্পর্কে দলীয়ভাবে ঘোষণা আসবে বলেও জানা গেছে।

এ সময় গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমান উল্লাহ আমানসহ দলের শীর্ষ ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরাও সেখানে জড়ো হন।

এর আগে, ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোর ৬টায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

তার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্ট নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে বিএনপি দলের পক্ষ থেকে সাত দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের প্রায় ১৬ বছরের শাসনামলে বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক নির্যাতনের মুখে পড়েন। তিনি কারাবরণ করেন এবং সে সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হলেও তাকে গুলশানের ভাড়া বাসভবন ‘ফিরোজা’য় কার্যত গৃহবন্দি অবস্থায় রাখা হয়। দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় তার শরীরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনি জটিলতাসহ একাধিক জটিল রোগ দেখা দেয়।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে শুরু হওয়া গণআন্দোলন শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। টানা ৩৫ দিনের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন। এর পরদিন ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন।

পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি তিনি লন্ডনে যান। সেখানে ১১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৬ মে দেশে ফেরেন। যদিও তার স্বাস্থ্যের কিছুটা উন্নতি হয়েছিল, তবে বয়সজনিত দুর্বলতা ও দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতা তাকে ক্রমেই দুর্বল করে তোলে।

সবশেষ গত ২৩ নভেম্বর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এক মাসের বেশি সময় সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি ইন্তেকাল করেন।

খালেদা জিয়ার অবদান, ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে

০

জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দেশের রাজনীতির আপোষহীন এক প্রতীক বেগম খালেদা জিয়া আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুসংবাদে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশমাতৃকার প্রতিটি প্রান্তে।

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরেও বিষাদের ছোঁয়া। দলীয় নেতা-কর্মীদের চোখে জল, কণ্ঠে কেবলই প্রিয় নেত্রীকে হারানোর ব্যথা।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বেগম জিয়া ছিলেন দৃঢ়চেতা, সাহসী ও আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন, ভোটাধিকারের সংগ্রাম কিংবা স্বৈরাচারবিরোধী লড়াইবাংলাদেশের রাজনীতির প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে রয়েছে তাঁর দৃপ্ত পদচিহ্ন। ইতিহাসের পাতায় তাঁর অবদান স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এমনটাই বলছেন তাঁর দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।

মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস ছালাম খান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন রাজপথের লড়াকু নেত্রী। তাঁর মৃত্যুতে আমরা একজন আদর্শিক অভিভাবককে হারালাম। তিনি আমাদের অনুপ্রেরণা ছিলেন, চিরকাল থাকবেন।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম রাজু স্মরণ করেন নেত্রীর সংগ্রামী জীবনকে, তিনি কারাবরণ করেছেন, জীবন বাজি রেখে রাজনীতি করেছেন, কিন্তু কোনোদিন অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। তাঁর মতো নেত্রীর অভাব অপূরণীয়।

যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা মাহামুদুল হাসান বাপ্পী জানান, বেগম খালেদা জিয়া শুধু রাজনৈতিক নেতা নন, ছিলেন মমতাময়ী অভিভাবকের মতো। দলের প্রতিটি নেতা-কর্মীকে তিনি পরিবারের সদস্যের মতো আগলে রাখতেন। তাঁর ত্যাগ, আদর্শ ও দেশপ্রেম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে শিক্ষার অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

নেত্রীর মৃত্যুতে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দোয়া মাহফিল, শোকসভা ও কোরআনখানি। সর্বত্রই বইছে শোকধারা। গ্রামের প্রবীণ, তরুণ-তরুণী, নারী সবাই  বলছেন, তিনি ছিলেন আমাদের আস্থা আর ভরসার জায়গা।

জাতি হারালো এক আপোষহীন দেশপ্রেমিক নেত্রীকে। যিনি গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে আজীবন আপসহীন ছিলেন। তাঁর নাম জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়ের সঙ্গে।
যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন বেগম খালেদা জিয়ার নাম উচ্চারিত হবে শ্রদ্ধা, সংগ্রাম ও সাহসিকতার বাতিঘর হয়ে। তাঁর প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

প্রোটিনের ভাণ্ডার ডিম! কিন্তু কারা ভুলেও খাবেন না? জেনে নিন সতর্কতা

সুস্থ শরীর গঠনে প্রোটিনের গুরুত্ব অপরিসীম। সেই তালিকায় ডিমকে ধরা হয় অন্যতম সেরা ও সহজলভ্য প্রোটিন উৎস হিসেবে। ডিমে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিনের পাশাপাশি ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এ, ডি, বি-১২, আয়রন ও নানা প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান। তাই অনেকেই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডিম রাখেন—সকালের নাস্তা থেকে রাতের খাবার পর্যন্ত।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম যতই পুষ্টিকর হোক না কেন, কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক সমস্যা বা রোগে এটি খাওয়া উল্টো ক্ষতির কারণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ডিম খাওয়ার আগে সতর্ক হওয়া জরুরি। তাহলে জেনে নেওয়া যাক—কোন কোন সমস্যায় ডিম খাওয়া উচিত নয়।

🔹 হজমজনিত সমস্যা থাকলে
মায়ো ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, ডিম তুলনামূলকভাবে ধীরে হজম হয়। যাঁদের আগে থেকেই বদহজম, গ্যাস, অ্যাসিডিটি বা পরিপাকজনিত সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ডিম খাওয়ার পর পেটব্যথা, বমি ভাব, বমি বা মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে। তাই হজমের সমস্যা থাকলে ডিম এড়িয়ে চলাই ভালো।

🔹 উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলে
যাঁদের শরীরে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের (LDL) মাত্রা বেশি, তাঁদের ডিম খাওয়ার বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি থাকে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে শুধুমাত্র ডিমের সাদা অংশ খাওয়া যেতে পারে।

🔹 হৃদরোগের ঝুঁকি থাকলে
হার্টের সমস্যা বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য অতিরিক্ত ডিম খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ডিমের কুসুম নিয়মিত খেলে ধমনীতে চর্বি জমার আশঙ্কা বাড়ে, যা রক্ত সঞ্চালনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ডিম না খাওয়াই শ্রেয়।

🔹 ডায়রিয়া বা পেট খারাপ হলে
ডায়রিয়া বা তীব্র পেট খারাপের সময় ডিম খেলে সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। এতে হজমে চাপ পড়ে এবং শরীর আরও দুর্বল হয়ে যায়। এই অবস্থায় ডিম সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।

🔹 ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকলে
একসঙ্গে একাধিক ডিম খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। কিন্তু অতিরিক্ত ডিম খাওয়ার ফলে শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এর ফলে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

ডিম নিঃসন্দেহে একটি পুষ্টিকর খাবার। তবে সবার শরীরের চাহিদা ও শারীরিক অবস্থা এক নয়। কারও জন্য এটি উপকারী হলেও, কারও জন্য হতে পারে ক্ষতিকর। তাই নিয়মিত ডিম খাওয়ার আগে নিজের শারীরিক সমস্যা, চলমান রোগ ও হজমক্ষমতার বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় রাখা জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলেই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক, বুধবার সারাদেশে সাধারণ ছুটি

০

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার আগামী বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত (৩১ ডিসেম্বর ও ১ ও ২ জানুয়ারি) তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সারাদেশে সাধারণ ছুটি থাকবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য জানান।

উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

আপনি কি ডিপ্রেশনের শিকার? এই উপসর্গগুলোকে কখনো উপেক্ষা করবেন না

বর্তমান ব্যস্ত ও প্রতিযোগিতামূলক জীবনে মানসিক চাপ যেন নিত্যসঙ্গী। কিন্তু এই চাপ ধীরে ধীরে কখন যে ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতায় রূপ নেয়, তা অনেকেই বুঝতে পারেন না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ ডিপ্রেশনে ভুগছেন, অথচ বড় একটি অংশ চিকিৎসার বাইরে থেকে যাচ্ছে। সময়মতো লক্ষণ চিনতে পারলে এই মানসিক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

১. দীর্ঘদিন ধরে মন খারাপ থাকা
কয়েক ঘণ্টা বা একদিন মন খারাপ হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু টানা দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে মন খারাপ, হতাশা বা শূন্যতা অনুভব করলে তা ডিপ্রেশনের লক্ষণ হতে পারে।

২. আগ্রহ ও আনন্দ হারিয়ে ফেলা
যে কাজগুলো একসময় আনন্দ দিত—গান শোনা, বই পড়া, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো—সেগুলোতে আর আগ্রহ না থাকলে সতর্ক হওয়া জরুরি। এটি ডিপ্রেশনের অন্যতম প্রধান উপসর্গ।

৩. ঘুমের সমস্যা
ডিপ্রেশনে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অনেক সময় অতিরিক্ত ঘুমান বা একেবারেই ঘুমাতে পারেন না। মাঝরাতে ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যাওয়া বা ভোরে ঘুম ভেঙে যাওয়াও লক্ষণ হতে পারে।

৪. ক্ষুধা ও ওজনের পরিবর্তন
খাবারে অনীহা বা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। এর ফলে হঠাৎ করে ওজন কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়াও ডিপ্রেশনের ইঙ্গিত দেয়।

৫. সারাক্ষণ ক্লান্তি ও শক্তিহীনতা
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরও যদি সব সময় ক্লান্ত লাগে, শরীরে শক্তি না থাকে এবং ছোট কাজও কষ্টকর মনে হয়—তাহলে তা মানসিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

৬. নিজেকে মূল্যহীন মনে হওয়া
বারবার নিজেকে দোষারোপ করা, অপরাধবোধে ভোগা বা মনে হওয়া—‘আমি কিছুই পারি না’, ‘আমি বোঝা’—এই ভাবনাগুলো ডিপ্রেশনের গুরুতর লক্ষণ।

৭. মনোযোগ ও সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা
ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হলে মনোযোগ কমে যায়, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয় এবং ছোট সিদ্ধান্ত নিতেও অসুবিধা দেখা দেয়।

৮. মৃত্যু বা আত্মহত্যার চিন্তা
সবচেয়ে ভয়ংকর লক্ষণ হলো—মৃত্যু নিয়ে বারবার চিন্তা করা বা আত্মহত্যার কথা ভাবা। এমন চিন্তা মাথায় এলে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া জরুরি।

কী করবেন?
ডিপ্রেশন কোনো দুর্বলতা নয়, এটি একটি চিকিৎসাযোগ্য মানসিক রোগ। পরিবারের সঙ্গে কথা বলা, বিশ্বস্ত বন্ধুর সহায়তা নেওয়া এবং প্রয়োজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের শরণাপন্ন হওয়াই সুস্থতার প্রথম ধাপ।

মনে রাখবেন: সময়মতো চিকিৎসা নিলে ডিপ্রেশন থেকে পুরোপুরি সুস্থ হওয়া সম্ভব।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শোক প্রকাশ

০

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশ অফিসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় বলা হয়, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমরা বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৩ নভেম্বর রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে গত ১৫ অক্টোবরও তিনি একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সে সময় তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী জানিয়েছিলেন, তার বুকে সংক্রমণ ছিল এবং হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুস আক্রান্ত হয়েছিল।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির গভীর শোক প্রকাশ

০

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
মঙ্গলবার এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি।”

রাষ্ট্রপতি তার শোকবার্তায় বলেন, “গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন ভূমিকা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।” জাতির এই অপূরণীয় ক্ষতির মুহূর্তে তিনি মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গ ও অনুসারীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “মরহুমার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে তার জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করার জন্য আমি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
এর আগে, মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন বেগম খালেদা জিয়া। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনি জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে গত ২৩ নভেম্বর তাকে জরুরি ভিত্তিতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিএনপির জরুরি বৈঠক

০

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দলের স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
দলীয় সূত্র জানায়, বৈঠকে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার জানাজার সময় নির্ধারণসহ পরবর্তী কর্মসূচি ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এরই মধ্যে বৈঠকে অংশ নিতে বিএনপির শীর্ষ নেতারা গুলশান কার্যালয়ে উপস্থিত হতে শুরু করেছেন। সকাল সাড়ে ১০টার পর স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ ছাড়া সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা সেখানে উপস্থিত হন।
এদিকে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সাতদিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।
মঙ্গলবার সকাল ৯টায় দলীয়ভাবে মৃত্যুর খবর জানানো হয়। এরপর এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—
আগামী সাতদিন দলের সব কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন
নেতাকর্মীদের কালো ব্যাজ ধারণ
নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানের চেয়ারপারসনের কার্যালয়সহ সব কার্যালয়ে শোক বই খোলা রাখা
এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন,
“এগুলো প্রাথমিকভাবে নেওয়া কর্মসূচি। পরবর্তীতে আরও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”