Home Blog Page 251

৫ ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য বড় সুখবর

০

একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের লাখো গ্রাহকের জন্য বড় স্বস্তির খবর দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। আলোচিত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের হিসাব নতুনভাবে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এ স্থানান্তরের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলেই গ্রাহকরা নিজ নিজ ব্যাংকের বিদ্যমান চেক বই ব্যবহার করে টাকা তুলতে পারবেন। শনিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য জানান।

অনিয়ম, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও ঋণ খেলাপির চাপে দেশের কয়েকটি ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে তীব্র তারল্য সংকটে পড়ে। এর মধ্যে সবচেয়ে সংকটে থাকা পাঁচটি ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠনের অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই ব্যাংকগুলো হলো এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই আমানত স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন হতে পারে। প্রক্রিয়া শেষ হলে এই পাঁচ ব্যাংকের সব গ্রাহকের জমা অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের হিসাবে স্থানান্তরিত হবে। এরপর গ্রাহকরা তাদের পুরোনো চেক বই ব্যবহার করে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত তুলতে পারবেন। অবশিষ্ট আমানত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে এবং তাতে প্রচলিত হারে মুনাফাও দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, নতুন এই ব্যাংক রাষ্ট্র মালিকানাধীন হওয়ায় আমানতকারীদের আস্থা ধীরে ধীরে ফিরে আসবে। এতে অতিরিক্ত টাকা তোলার চাপও অনেকটাই কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে একজন গ্রাহক একবারে দুই লাখ টাকার বেশি তুলতে পারবেন না। তবে ধাপে ধাপে উত্তোলনের সীমা বাড়ানো হবে। যাদের হিসাবে দুই লাখ টাকার কম রয়েছে, তারা একবারেই পুরো টাকা তুলতে পারবেন। আর যাদের হিসাবে দুই লাখ টাকার বেশি জমা আছে, তারা চাইলে প্রতি তিন মাস অন্তর এক লাখ টাকা করে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত টাকা তুলতে পারবেন। ৬০ বছরের বেশি বয়সী ও গুরুতর রোগে আক্রান্ত আমানতকারীদের ক্ষেত্রে এই সীমা শিথিল রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে তারা যেকোনো পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে রাজধানীর সেনাকল্যাণ ভবনে। ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিচ্ছে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং আমানতকারীদের শেয়ার থেকে আসবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। অনুমোদিত মূলধন ধরা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকে বর্তমানে প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর মোট জমা রয়েছে এক লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে ঋণের পরিমাণ এক লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা, যার বড় অংশই খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। সারা দেশে এসব ব্যাংকের রয়েছে ৭৬০টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৯৭৫টি এটিএম বুথ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা, এই একীভূতকরণের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং গ্রাহকদের আস্থার সংকট কাটবে।

একদিনের ব্যবধানে সোনার দামে ফের রেকর্ড, ভরি কত?

০

দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ১ হাজার ৫৭৫ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। যা দেশের ইতিহাসে মূল্যবান এই ধাতুর সর্বোচ্চ দাম।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৩১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে, বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানায়, সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।

এ নিয়ে চলতি বছর মোট ৯১ বার দেশের বাজারে সমন্বয় করা হলো সোনার দাম। যেখানে দাম বাড়ানো হয়েছে ৬৪ বার, আর কমেছে মাত্র ২৭ বার। আর ২০২৪ সালে দেশের বাজারে মোট ৬২ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৩৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৭ বার।

সোনার দাম বাড়ানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। দেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৬৫ টাকায়। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৭৩২ টাকায়।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। এর মধ্যে বেড়েছে ১০ বার, আর কমেছে মাত্র ৩ বার। আর গত বছর সমন্বয় করা হয়েছিল ৩ বার।

শোবিজ থেকে সরে গেলেন শিশুশিল্পী সিমরিন লুবাবা

০

শিশুশিল্পী হিসেবে পরিচিত সিমরিন লুবাবা মিডিয়ায় কাজ করা থেকে বিদায় নিয়েছেন। তিনি অভিনয় ও মডেলিংসহ সব ধরনের কাজে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে আর কখনো প্রকাশ্যে মুখ দেখাবেন না বলে জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে তিনি নেকাব পরা শুরু করেছেন।

লুবাবার জন্ম একটি সংস্কৃতিমনা পরিবারে, তার দাদা ছিলেন খ্যাতনামা মঞ্চ ও টেলিভিশন অভিনেতা প্রয়াত আব্দুল কাদের। দাদার প্রেরণায় অল্প বয়সে তিনি ক্যামেরার সামনে এসে শিশুশিল্পী হিসেবে নাটক ও বিজ্ঞাপনে নিয়মিত কাজ করতেন এবং জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তবে হঠাৎ করে জীবনের পথ পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

লুবাবার মা, জাহিদা ইসলাম জেমি সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, লুবাবার নিজস্ব অনুভূতির ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত এসেছে। তিনি বলেন, ‘লুবাবা আর মিডিয়ায় কাজ করতে চায় না, এজন্য সে নেকাব পরেছে। এই অবস্থায় মিডিয়ায় কাজ করা সম্ভব নয়।’

জাহিদা ইসলাম জেমি আরও জানান, ধর্মীয় বই পড়ার মাধ্যমে লুবাবার জীবনে এই পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন, ‘লুবাবা কোরআন খতম দিয়েছে এবং নিয়মিত বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থ ও হাদিস পড়ছে। এসব পড়াশোনার মাধ্যমেই সে নিজের জীবনধারা পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

যদিও মিডিয়া থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, তবে লুবাবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু সীমিত প্রচারণামূলক কাজে অংশ নিতে পারেন, তবে এসব কাজে তিনি নেকাব পরেই অংশগ্রহণ করবেন বলে তার মা জানিয়েছেন।

এদিকে, তিনি আগামী রমজানে ওমরাহ পালন করতে মক্কা যাওয়ার পরিকল্পনাও করেছেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ধর্মীয় জীবনধারা অনুসরণ করতে নতুনভাবে জীবন শুরু করার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লুবাবা।

ছড়িয়ে পড়েছে শিল্পা শেঠির ‘আপত্তিকর’ ভিডিও, নিলেন আইনি পদক্ষেপ

০

প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেঠির ছবি ও ভিডিও বিকৃতি, পাশাপাশি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিনেত্রী।

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তার বিকৃত ছবি ছড়িয়ে পড়ে। যার প্রেক্ষিতে তিনি এই আইনি পদক্ষেপ নেন।

অভিনেত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে বোম্বে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে দ্রুত ওইসব আপত্তিকর কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন।

শিল্পা শেঠির দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, অনুমতি ছাড়াই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা অন্যান্য প্রযুক্তির সহায়তায় তার চেহারা, কণ্ঠস্বর ও অঙ্গভঙ্গি নকল করে অসংখ্য ছবি, ভিডিও এবং ডিজিটাল বই তৈরি করা হয়েছে। এসব কন্টেন্ট বিভিন্ন ওয়েব প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়ায় তার ব্যক্তিগত জীবন এবং সামাজিক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আদালতের কাছে নিজের ব্যক্তিগত সুরক্ষা এবং এসব অপতৎপরতা বন্ধের আবেদন জানান।

মামলার শুনানি শেষে বিচারপতি অদ্বৈত শেঠনা পুরো বিষয়টিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে অভিহিত করেন। আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানায়, অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবন এভাবে জনসমক্ষে আনা বা বিকৃত করা দণ্ডনীয় অপরাধ। বিচারপতি বলেন, নারী বা পুরুষ কাউকেই এভাবে জনসমক্ষে হেনস্তা করার অধিকার কারও নেই।

শিল্পা শেঠির পক্ষ থেকে জমা দেওয়া বিকৃত ছবির স্ক্রিনশটগুলো পর্যালোচনার পর আদালত ডিজিটাল ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে অবিলম্বে সেই সব আপত্তিকর লিঙ্ক ও ভিডিও মুছে ফেলার নির্দেশ দেন।

বরিশাল-১ আসনে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল

০

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশাল-১ (গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এম জহির উদ্দিন স্বপন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকালে তিনি গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীমের কাছে তার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

এসময় গৌরনদী থানা মসজিদের ইমাম ও খতিব আলহাজ্ব ক্বারী আব্দুল আজিজ, বরিশাল জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান খান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর লিগ্যাল টিমের প্রধান সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট রেজাউল ফিরোজ রিন্টু, প্রচার বিষয়ক উপ-কমিটির প্রধান সমন্বয়ক রফিকুল ইসলাম কাজল, অ্যাডভোকেট এসএম মনিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি নির্বাচিত হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সবচেয়ে গুরুত্বারোপ করবে:মির্জা ফখরুল

০

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাচিত হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের দীর্ঘদিনের সমস্যার কার্যকর সমাধানই হবে বিএনপির মূল লক্ষ্য।
সোমবার ঠাকুরগাঁওয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।
মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনে যদি বিএনপি সরকার গঠনের সুযোগ পায়, তাহলে ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, এই এলাকার সামাজিক পরিবেশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে শক্তিশালী করা এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই হবে আমাদের অগ্রাধিকার। পাশাপাশি কৃষকদের যেসব সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে জমে আছে, সেগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধানে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
নিজের মনোনয়ন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি তিনি গভীর কৃতজ্ঞ। তাদের আস্থার কারণেই আবারও ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে এই দায়িত্ব পাওয়াকে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বড় সুযোগ হিসেবেও উল্লেখ করেন ফখরুল।
তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন, ত্যাগ, নির্যাতন ও রক্তপাতের পর বাংলাদেশের মানুষ আবার ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সেই অধিকার বাস্তবায়নের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। এই নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দল আমাকে মনোনীত করেছে, যা আমার জন্য বড় সম্মানের।
এ সময় এলাকার ভোটারদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতের মতো এবারও ধানের শীষে ভোট দিয়ে তাকে সমর্থন জানাতে তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি বলেন, জনগণের দোয়াই আমাদের শক্তি। আল্লাহ যেন আমাদের সেই তৌফিক দেন, যাতে আমরা মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করতে পারি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই দেশ গণতন্ত্রের পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে এবং মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে।

তারেক রহমানের পক্ষে ঢাকা-১৭ আসনে মনোনয়ন জমা

০

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে এই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। বিএনপির প্রধান নির্বাচন সমন্বয়ক ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আব্দুস সালাম এবং সহকারী নির্বাচন সমন্বয়ক অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার তাঁর পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

মনোনয়ন জমা শেষে আব্দুস সালাম বলেন, জনগণ যেভাবে তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়েছে, ভোটের দিনও সেভাবেই তাঁকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান দেশের চলমান সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে জনগণের প্রত্যাশা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঢাকা-১৭ আসনের ভোটার হওয়ায় তারেক রহমান এই আসন থেকেই প্রার্থী হয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অনুরোধেই তিনি এখান থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বলে জানান আব্দুস সালাম।

একই দিনে বগুড়া-৬ সংসদীয় আসন থেকেও তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। এ উপলক্ষে দুপুরে বগুড়া জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে যাবেন জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশাসহ স্থানীয় নেতারা।

এর আগে গত রোববার সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনের দলীয় সমন্বয়কদের উপস্থিতিতে তারেক রহমান নিজে মনোনয়নপত্রে সই করেন। এর মাধ্যমে এই দুটি আসনে তাঁর প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা হয়।

ভোটের মাঠে নয়া মেরুকরণ

০

আদর্শগত এবং ভোটের রাজনীতিতে পরস্পর বিপরীত মুখী ছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এমনকি জামায়াত নেতাদের এবং তাদের আদর্শকে ভ্রান্ত বলে প্রচার করত দলটির শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূল  পর্যন্ত।
আবার শুরু থেকেই নিজস্ব রাজনৈতিক বলয় তৈরি করতে চাওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টি নিজেদেরকে বিপ্লবের নেতৃত্বদানকারী বলে প্রচার চালিয়েছে।  এমনকি দলের নেতাকর্মীরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক জয় পেয়ে সরকার গঠনেরও স্বপ্ন দেখতেন। দলটির নেতারা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সঙ্গে লবিং করে কিছু আসন দাবি করছিল। কিন্তু বিএনপি তাদের পর্যাপ্ত আসন দিতে নারাজ ছিল।
আবার দলটি প্রথম থেকেই জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এক ধরনের দূরত্ব বজায় রেখেই চলত। এমনকি এনসিপি গঠনের পর শিবিরের কয়েক নেতা দলে যুক্ত হয়নি এনসিপির নেতাদের জামায়াত বিরোধিতার কারণে।
অন্যদিকে এক সময়ের বিএনপির হাতিয়ার এবং পরবর্তীতে বিএনপি জোটের শক্তিশালী অংশীদার কর্নেল অলি আহমদও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হয়েছেন।
এমনি পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতির নয়া মেরুকরণ শুরু হয়েছে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে মোটা দাগে বেশিরভাগ
দলই হলো ধর্মীয় রাজনৈতিক দল। ফলে এমন জোট রাজনীতিতে এবং আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে কিছুটা হলে চাপে ফেলে দিয়েছে।
আবার এনসিপি থেকে বেশ কিছু কেন্দ্রীয় নেতার পদত্যাগের কারণে বিপ্লবের শক্তি বলে পুরো রেজাল্ট পাওয়া বর্তমান এনসিপির পক্ষে অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় আগামী নির্বাচনে ভোটের মাঠে যাদের কৌশল ভালো হবে তাদের জয়লাভ করার পথ সুগম হবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে আগামী নির্বাচনে জোট কিংবা প্রতীক নয়, ব্যক্তিই হবে মূল। প্রার্থী ভালো না হলে যে কোনো জোট থেকে জয়লাভ করা কঠিন হবে বলে তারা মনে করেন।
গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী জামায়াতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এই ছয়টি দল আসন সমঝোতার ভিত্তিতে সব আসনে একক প্রার্থী দেওয়ার আলোচনা শুরু করে। পরে এতে যোগ দেয় বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি। জামায়াতসহ এই আটটি দল বিভিন্ন দাবিতে অভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে টানা অনেক দিন মাঠে ছিল। নতুন করে এনসিপি ও এলডিপি নির্বাচনী সমঝোতায় যুক্ত হওয়ায় এখানে দলের সঙ্গে সংখ্যা দাঁড়াল ১০টিতে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. কাজী মাহবুবুর রহমান জনকণ্ঠকে বলেন, জামায়াতের জোটের কারণে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, ভোটের মাঠে প্রতিযোগিতা হবে। তবে বিএনপির দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, জামায়াতের জোটের ফলে রাজনীতিতে এক ধরনের নয়া মেরুকরণ হয়েছে। তবে অতীতেও এমন মেরুকরণের ইতিহাস রয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন খুবই প্রতিযোগিতামূলক হবে। এখানে জোট বা দল নয় বরং প্রার্থীর কাজ এবং ব্যক্তিগত ইমেজ হবে নির্ধারক। প্রায় ৩৫ ভাগ তরুণ ভোটার তারা কাকে ভোট  দেবে এটা এখনো অনিশ্চিত। সুতরাং আমি মনে করি,
যে দলে বা জোটে জনপ্রিয় প্রার্থী বেশি সে জোটই নির্বাচনে ভালো করার সম্ভাবনা বেশি।
এদিকে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের পদত্যাগ নতুন জোটকে কিছুটা বেকায়দায় ফেলে দেবে বলে মনে করেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তারা মনে করেন, এনসিপির মধ্যে যারা প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী এবং জনগণের মধ্যে যারা প্রগতিশীলতাকে লালন করেন তাদের ভোট বিদ্যমান এনসিপির ঘরে আর যাবে না। এতে ইসলামিক জোট থেকে প্রগতিশীল অংশটি বিএনপি জোটের দিকে ধাবিত হবে বলে মনে করেন তারা।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন। তিনি তার ফেসবুকে লিখেছেন, বিএনপি, এই জামায়াতের সঙ্গে জোট করে ১৭ বছর ক্ষমতা থেকে দূরে ছিল। আর বিএনপির অধীনে জামায়াতের সঙ্গে জোট হয়েছিল। জামায়াতের অধীনে নাম যেখানে এনসিপিকে বলাই হয় জামায়াতের আরেকটা দোকান; তাহলে কেন এনসিপি আগে নিজের স্বকীয়তা, নিজের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা না করে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জামায়াতকে বেছে নিতে মরিয়া হয়ে যাচ্ছে? তিনজন মন্ত্রী ছিল না ক্ষমতায়? পারেনি তো।
‘জামায়াতের সঙ্গে জোট না চাওয়া মানে বিএনপির সঙ্গে চাওয়া না। আমার রাজনীতিই সংস্কারের পক্ষে। নতুন সংবিধানের পক্ষে। আমি চেয়েছিলাম স্বতন্ত্র একটা নির্বাচন হোক, তৃতীয় জোট করে, বিএনপি/জামায়াতের বাইরে গিয়ে।’
অন্যদিকে বিএনপি নেতারা মনে করছেন, শেষ মুহূর্তে এসে এমন জোট বিএনপির ভোটের মাঠে কোনো প্রকার প্রভাব ফেলবে না। ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন এবং এনসিপি শেষ পর্যন্ত জামায়াতের সঙ্গেই ভোটে যাবেন, এটা বিএনপির হাইকমান্ড জানত। ফলে  ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন এবং এনসিপিকে বাদ দিয়েই বিএনপি ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
বিএনপি সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনের মাঠে ধর্মকে ব্যবহার করে ইসলামিক জোট জনগণের ভোট টানার চেষ্টা করবে- এটিও বিএনপি হাইকমান্ড ভালো করেই জানে। বিএনপিও যে কোনোভাবেই ইসলামের বিপক্ষের কোনো দল নয়, সেটাও তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন দিবসের বক্তব্যে প্রমাণিত হয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রবিবার ঠাকুরগাঁওয়ে বলেছেন, বিএনপির অঙ্গীকার; কুরআন-সুন্নাহর বাইরে কোনো আইন আমরা করতে দেব না। কিন্তু কিছু মানুষ বিভ্রান্ত ছড়ানোর চেষ্টা করে; আমরা নাকি কুরআন- সুন্নাহর আলোকে থাকতে চাই না। কিন্তু আমরা সব সময় কুরআন-সুন্নাহর পক্ষে ছিলাম ও আছি।
তবে রাজনীতির মাঠে এখনো ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশ এখন ক্রান্তিকাল পার করছে। দেশকে অস্থিতিশীল করতে কিছু লোক পেছন থেকে কাজ করছে। এই নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমাদের ঐক্য নষ্ট হলে দেশের ক্ষতি হবে। তাই, সবাইকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
তবে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের দিনের সবকটি কর্মসূচিই মানুষের মনকে ছুঁয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে বিমান থেকে নেমে জুতা খুলে মাটিকে স্পর্শ করার মধ্য দিয়ে দল-মত, ডান-বাম সকলের মন জয় করেছেন তিনি। এরপর রাজধানীর ৩০০ ফুট এলাকায় আয়োজিত বিশাল গণসংবর্ধনায় তারেক রহমান বিশ্বখ্যাত নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের ঐতিহাসিক উক্তি ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’-এর প্রসঙ্গ টেনে ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ বাক্য জাতির সামনে তুলে ধরেন। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন নতুন মাত্রা যোগ করেছে, তেমনি জনমনে সৃষ্টি করেছে কৌতূহল । অনেকে বলছেন, আসলে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনায় তার দৃষ্টিভঙ্গি। তার এ বক্তব্যের পর বিদেশি সংবাদপত্রেও তাকে আগামীর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
তারেক রহমানের পরিকল্পনায় একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ার রূপরেখা আছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি এমন একটি নীতিনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছে, যা আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে পারলে তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। তাই বিএনপি প্রস্তুত করেছে, আটটি বিশেষ খাতভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা। এগুলো হলো- ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্যকার্ড, কর্মসংস্থান তৈরি, বেকার যুবকদের জন্য ভাতা, শিক্ষা, ক্রীড়া ও পরিবেশ এবং ধর্মীয় নেতাদের উন্নয়ন সেবা যার প্রতিটিই মানুষের  দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, তারেক রহমানের পরিকল্পনা জাতির মধ্যে আশার খোড়াক জুগিয়েছে। মানুষের মধ্যে প্রত্যাশা বেড়েছে। তিনি দেশে আসার পর প্রতিটি কাজই দারুণভাবে করতে পেরেছেন। তবে ভোটের মাঠে জোটের ফলে নয়া মেরুকরণে বিএনপির সামনে চ্যালেঞ্জ বেড়ে গেল। বিএনপিকে সতর্কতার সঙ্গে ভোটের মাঠে সক্রিয় থাকতে হবে।
বাংলাদেশে রাজনীতির মাঠে জোট নতুন নয়। গত দুই দশকে এটি প্রধান রাজনৈতিক দলের জন্য অপরিহার্য উপাদান হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৮০’র দশকের গোড়ায় সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন থেকেই জোট রাজনীতির সূচনা। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তিনটি বড় জোটের সমন্বিত ভূমিকা পরবর্তীতে বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে জোটকে প্রধান করে কৌশল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রথম নির্বাচনেও জোট রাজনীতির প্রভাব ছিল স্পষ্ট। জামায়াতে ইসলামীকে সঙ্গে না নিলে বিএনপির পক্ষে সরকার গঠন সম্ভব হতো না। একই চিত্র দেখা যায় ১৯৯৬ সালে যখন আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টির সহায়তা ছাড়া সরকার গঠন করতে পারেনি। ২০০১ সালেও জোটের দাপটে বিএনপি-জামায়াত সরকার গঠন করে। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও জোট ছিল অন্যতম নিয়ামক। পরবর্তী বিতর্কিত সকল নির্বাচনেই জোটের প্রভাব ছিল। এবারের জোটের প্রেক্ষাপট একটু ভিন্ন। একদিকে ইসলামপন্থি জোট অন্যদিকে মধ্যপন্থি জোট। তবে বিএনপি জোটে কিছুটা হলেও বামপন্থিদের অবস্থান রয়েছে এবং ইসলামপন্থি একাংশেরও সমর্থন রয়েছে।

বিএনপির এক আসনে প্রার্থী বদল, চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন যিনি

০

চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে দলীয় প্রার্থী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। এই আসনে কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান (বর্তমানে পদ স্থগিত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে বাদ দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য গোলাম আকবর খোন্দকারকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোলাম আকবর খোন্দকারের ছেলে তারেক আকবর খোন্দকার। তিনি জানান, বিএনপির পক্ষ থেকে আজই রাউজান আসনের জন্য গোলাম আকবর খোন্দকারকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি সংগ্রহ করেন গোলাম আকবর খোন্দকার।
এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর একই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চট্টগ্রাম-৬ আসনে প্রাথমিকভাবে দলটির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান (বর্তমানে পদ স্থগিত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর নাম ঘোষণা করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে দলীয় সিদ্ধান্তে সেই মনোনয়ন পরিবর্তন করা হলো।

মাঠে হার্ট অ্যাটাক করলেন ঢাকা ক্যাপিটালসের সহকারী কোচ

০

রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর আগে ক্রিকেটারদের সঙ্গে গরম করার সময় আচমকাই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ঢাকা ক্যাপিটালসের সহকারী কোচ মাহবুব আলী জাকি। অনুশীলন সেশন চলাকালীন তার অসুস্থতার ঘটনা ঘটে।

মাঠে সঙ্গে সঙ্গে তাকে সিপিআর দেওয়া হয় এবং দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মাহবুব আলী জাকিকে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে।