Home Blog Page 3

৮০০ যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনের পথে মৌসুমের প্রথম জাহাজ

দীর্ঘ অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা ও নানা জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শুরু হয়েছে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল। মৌসুমের প্রথম দিনেই ৮০০ জনের বেশি পর্যটক নিয়ে দ্বীপের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে জাহাজ। এতে পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মধ্যে ফিরেছে স্বস্তি, আর দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হওয়ায় উচ্ছ্বসিত পর্যটকেরা। তবে যাত্রার প্রথম দিনেই টিকিটের বাড়তি দাম ও ভোগান্তি নিয়ে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন যাত্রী। অন্যদিকে দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ঘাটে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক, পলিথিন ও সাউন্ডবক্স বহনে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে ৮০০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে এমভি বার আউলিয়া। এর আগে ভোর ৬টা থেকেই ঘাটে জড়ো হতে থাকেন পর্যটকেরা।

সরকারের পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক নির্দেশনা বাস্তবায়নে ঘাটে দায়িত্ব পালন করেন জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিআইডব্লিউটিএ ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। এ সময় পর্যটকদের সঙ্গে থাকা একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন ও সাউন্ডবক্স জাহাজে নিতে বাধা দেওয়া হয়। পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা তৈরিতে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে মাইকিংও করা হয়।

সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, ‘আজ ৮০০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে এ মৌসুমের প্রথম জাহাজ যাত্রা শুরু করেছে। এর মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তের অবসান হতে যাচ্ছে।’

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটকদের নির্ধারিত নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। দ্বীপের কেয়াবনে প্রবেশ, ছেঁড়াদ্বীপে যাওয়া, পার্টি আয়োজন ও উচ্চ শব্দ সৃষ্টি নিষিদ্ধ। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর এমন কোনো কর্মকাণ্ডও করা যাবে না।

তিনি বলেন, পর্যটকদের সঙ্গে থাকা একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতল ও অন্যান্য সামগ্রী ঘাটে নির্ধারিত স্থানে রেখে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কয়েকটি সাউন্ডবক্সও পর্যটকদের কাছ থেকে বুঝে নিয়ে জাহাজ মালিকদের কাছে রাখা হয়েছে। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে চলতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, প্রথম দিন প্রায় ৮০০ টিকিট বিক্রি হয়েছে, যা জাহাজটির মোট ধারণক্ষমতার প্রায় এক-চতুর্থাংশ। পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারের নির্দেশনা এবং প্লাস্টিক ও সাউন্ডবক্স বহন না করার বিষয়ে পর্যটকদের সচেতন করা হয়েছে।

এদিকে প্রথমবার সেন্টমার্টিন যাওয়ার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন পর্যটক পপি সাবরিন জেসি। তিনি বলেন, আগে কখনো সেন্টমার্টিন যাওয়া হয়নি। এবার প্রথমবারের মতো দ্বীপে যাচ্ছেন। মৌসুমের প্রথম দিন হওয়ায় আনন্দ ও উত্তেজনা আরও বেশি। অফিসারদের একটি দলের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গাইড হিসেবেও তিনি দ্বীপে যাচ্ছেন।

তবে যাত্রার আনন্দের মধ্যেও ভোগান্তির অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন পর্যটক। ঢাকা থেকে আসা পর্যটক হৃদয় বলেন, ‘এবারের মতো হয়রানি আগে কখনো হয়নি। অনলাইনে টিকিট কাটার পরও যদি ভোগান্তিতে পড়তে হয়, তাহলে সাধারণ পর্যটকদের কী অবস্থা হবে? এবার সর্বনিম্ন টিকিটের দাম ৪ হাজার ২০০ টাকা। আগে ছিল ৩ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ টিকিটপ্রতি ৭০০ টাকা বেড়েছে। সবকিছুর দাম শুধু বাড়ছেই, কমছে না। এতে আমরা মর্মাহত।’

অন্যদিকে দ্বীপের পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. এস এম মোজাম্মেল হোসেন। তিনি বলেন, সেন্টমার্টিন পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দ্বীপ। এর জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় সরকার যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে পর্যটকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

স্কোয়াব সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলের অনুমতি পেয়েছে তিনটি জাহাজ। এগুলো হলো এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলি ও এমভি টেকনাফ। তিনটি জাহাজের মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে এমভি বার আউলিয়ার ধারণক্ষমতা ৮৫০, এমভি কর্ণফুলির ৭৩২ এবং এমভি টেকনাফের ৭১৬ জন।

WhatsApp%20Image%202026 11 05%20at%209.38.18%20AM%20(1) 1793850555

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, এমভি বার আউলিয়া সকাল ৭টায়, এমভি কর্ণফুলি সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে এবং এমভি টেকনাফ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা। ফিরতি যাত্রায় জাহাজ তিনটি যথাক্রমে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট, দুপুর ২টা ১৫ মিনিট ও বিকেল সাড়ে ৩টায় সেন্টমার্টিন ঘাট ছাড়বে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর থেকে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এ সময় দ্বীপে ভ্রমণের পাশাপাশি ৩ হাজার ৫০০ পর্যটকের রাতযাপনের সুযোগ রয়েছে। দ্বীপে প্রবেশের জন্য প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। এ ছাড়া ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দ্বীপে বেশ কিছু বিধিনিষেধও বহাল রয়েছে। রাতে সৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টি আয়োজন নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচা এবং সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয়—এমন কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

দীর্ঘ অনিশ্চয়তা কাটিয়ে জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় সেন্টমার্টিনে পর্যটন মৌসুম ঘিরে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে বলে আশা করছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

রাজীবের প্রথম সিনেমায় নিশো-মেহজাবীন

০

নাটক ও বিজ্ঞাপন নির্মাণে পরিচিত আদনান আল রাজীব এবার নাম লেখাচ্ছেন বড় পর্দায়। তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করবেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় দুই তারকা আফরান নিশো ও মেহজাবীন চৌধুরী। প্রেমের গল্প নিয়ে নির্মিতব্য এই সিনেমার নাম ‘অপলক’।

বুধবার রাতে সিনেমাটিতে অভিনয়ের জন্য নির্মাতা ও দুই অভিনয়শিল্পীর মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে নিজের প্রথম সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন আদনান আল রাজীব। জানিয়েছিলেন, এটি হবে প্রেমের গল্প। তবে তখন সিনেমার নাম কিংবা অভিনয়শিল্পীদের পরিচয় প্রকাশ করেননি তিনি। অবশেষে বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে সিনেমার নাম ও কেন্দ্রীয় দুই অভিনয়শিল্পীর নাম জানান নির্মাতা।

আদনান আল রাজীব, মেহজাবীন চৌধুরী ও আফরান নিশো

আদনান আল রাজীব, মেহজাবীন চৌধুরী ও আফরান নিশো

পোস্টে আদনান আল রাজীব লিখেছেন, ‘আমার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘অপলক’। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পুরো টিমের অনেকখানি স্বপ্ন আর ভালোবাসা। সেই ভালোবাসার পৃথিবীতে এবার যুক্ত হলেন আফরান নিশো এবং মেহজাবীন চৌধুরী। আমরা একটা সৎ, সরল আর মন ছুঁয়ে যাওয়া রোমান্টিক ফিল্ম বানাতে চাই। যেখানে মানুষ ভালোবাসার পাশাপাশি নিজেদেরও খুঁজে পাবেন। আশা করি, যে মায়া নিয়ে ছবিটা বানাতে যাচ্ছি, সেই মায়াটুকু আপনাদের কাছেও পৌঁছাবে।’

‘কাছে আসার গল্প’, ‘বিকেল বেলার পাখি’ ও ‘মিডল ক্লাস সেন্টিমেন্ট’-এর মতো নাটক নির্মাণ করে দর্শকের কাছে পরিচিতি পেয়েছেন আদনান আল রাজীব।

নাটকের পাশাপাশি বিজ্ঞাপন নির্মাণেও রয়েছে তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজ। এবার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় নতুন যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছেন তিনি।

শীতের আগমনে প্রতিদিনের খাবারে রাখুন ৬ উপাদান

দিনের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের সঙ্গে বাড়ছে সর্দি, কাশি, নাক বন্ধ, গলা ব্যথা ও ঠান্ডাজনিত নানা সমস্যা। বিশেষ করে সকাল ও রাতের ঠান্ডা এবং দিনের তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় ধুলাবালি ও শুষ্ক বাতাসও শ্বাসতন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

শীতের শুরুতে সুস্থ থাকতে তাই পোশাকের পাশাপাশি প্রতিদিনের খাবারের দিকেও বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো রাখা, প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি পূরণ এবং পানিশূন্যতা এড়াতে সুষম খাবারের বিকল্প নেই। এজন্য দামি বা বিশেষ কোনো খাবার খাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিদিনের পরিচিত খাবারেই কিছু পরিবর্তন আনতে পারেন। খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ভিটামিন, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকলে শরীর সুস্থ রাখতে তা সহায়ক হতে পারে। শীতের আগমনে প্রতিদিনের খাবারে যে ছয় ধরনের উপাদান রাখবেন, সেগুলো জেনে নেওয়া যাক।

ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার রাখুন

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক রাখতে ভিটামিন সি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিনের খাবারে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল ও সবজি রাখুন। পেয়ারা, আমলকী, কমলালেবু, লেবু ও টমেটো এ ক্ষেত্রে ভালো উৎস। বিশেষ করে মৌসুমি ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন পাবে। তবে ফলের রসের পরিবর্তে আস্ত ফল খাওয়া বেশি ভালো, কারণ এতে আঁশও পাওয়া যায়।

প্রোটিনযুক্ত খাবার খান

শরীরের কোষ গঠন ও মেরামত এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য প্রোটিন প্রয়োজন। এ সময় প্রতিদিনের খাবারে ডিম, মাছ, মুরগির মাংস, ডাল ও দুধ রাখতে পারেন। বিশেষ করে যারা নিয়মিত খাবার খান না, তাদের প্রতিটি প্রধান খাবারে প্রোটিনের কোনো না কোনো উৎস রাখা জরুরি। এতে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাবে এবং কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

আদা, হলুদ ও রসুনের ব্যবহার বাড়ান

শীতের সময়ে রান্নায় আদা, হলুদ ও রসুন ব্যবহার করতে পারেন। আদা ও হলুদে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে, যা প্রদাহ কমাতে সহায়ক। অন্যদিকে রসুনেও রয়েছে বিভিন্ন উপকারী যৌগ। গলা খুসখুস করলে আদা দিয়ে হালকা গরম চা পান করতে পারেন। আবার রাতে এক কাপ গরম দুধে সামান্য হলুদ মিশিয়েও খাওয়া যায়। তবে এসব উপাদান ঠান্ডা বা সংক্রমণের চিকিৎসার বিকল্প নয়।

বাদাম ও স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার খান

শরীরের শক্তি ও প্রয়োজনীয় পুষ্টির জন্য স্বাস্থ্যকর চর্বি গুরুত্বপূর্ণ। কাঠবাদাম, আখরোট, চিনাবাদাম ও বিভিন্ন বীজে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। এগুলো পরিমিত পরিমাণে প্রতিদিনের নাশতায় রাখতে পারেন। এ ছাড়া রান্নায় পরিমিত পরিমাণে ভালো মানের উদ্ভিজ্জ তেল ব্যবহার করুন। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।

অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এমন খাবার খান

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে অন্ত্রের স্বাস্থ্যের সম্পর্ক রয়েছে। তাই খাবারের তালিকায় টক দইয়ের মতো গাঁজন প্রক্রিয়ায় তৈরি খাবার রাখতে পারেন। পাশাপাশি ডাল, শাকসবজি, ফল ও গোটা শস্যে থাকা আঁশ অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্য ভালো। নিয়মিত এসব খাবার খেলে হজমের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতেও সহায়তা পাওয়া যায়।

পর্যাপ্ত পানি ও উষ্ণ তরল খাবার গ্রহণ করুন

শীতকালে তৃষ্ণা কম পেলেও শরীরের পানির প্রয়োজন কমে না। তাই তৃষ্ণা না পেলেও নিয়মিত পানি পান করুন। পাশাপাশি সবজির স্যুপ, মুরগির ঝোল, ডাল ও হালকা গরম পানীয় খেতে পারেন। গলা শুকিয়ে গেলে বা অস্বস্তি হলে কুসুম গরম পানি পান করলে আরাম পাওয়া যায়। চাইলে হালকা গরম পানিতে মধু ও লেবু মিশিয়েও পান করতে পারেন। তবে অতিরিক্ত চিনি দেওয়া পানীয় এড়িয়ে চলুন।

শীতে সুস্থ থাকতে আরও কিছু অভ্যাস

খাবারের পাশাপাশি প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ধুলাবালি ও ধোঁয়া থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকুন। বাইরে থেকে ফিরে হাত-মুখ পরিষ্কার করুন এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। ঠান্ডা লাগা, গলা ব্যথা বা কাশি দীর্ঘদিন থাকলে কিংবা জ্বর ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, কোনো একটি বিশেষ খাবার খেলেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায় না। বরং নিয়মিত সুষম খাবার, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সুস্থ থাকার অন্যতম উপায়।

শীতের শুরুতেই খাদ্যাভ্যাসে সচেতন হলে অনেক মৌসুমি স্বাস্থ্যসমস্যা মোকাবিলা করা সহজ হয়। তাই প্রতিদিনের খাবারে পুষ্টিকর ও সুষম খাবার রাখার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ঘুম এবং শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তুলুন। নিজের শরীরের প্রয়োজন বুঝে খাবার নির্বাচন করুন। মনে রাখবেন, সুস্থ থাকতে কোনো একটি বিশেষ খাবারের ওপর নির্ভর না করে সারা বছরই সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা জরুরি।

গাজীপুরে কর্মস্থলে ফিরছেন শ্রমিকেরা, কারখানায় ফিরছে কর্মচাঞ্চল্য

০

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে কয়েক দিনের অস্থিরতা কাটিয়ে স্বাভাবিক হচ্ছে পরিস্থিতি। ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে টানা কয়েক দিন সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভের পর কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সড়কে বিক্ষোভের পরিবর্তে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। দলবেঁধে কারখানায় প্রবেশ করছেন শ্রমিকেরা। তাঁদের উপস্থিতিতে ফিরতে শুরু করেছে শিল্পাঞ্চলের কর্মচাঞ্চল্য।

আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলার কোনো মহাসড়ক বা আঞ্চলিক সড়কে শ্রমিকদের অবস্থান নিতে দেখা যায়নি। ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক ছিল। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মাঠে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তাঁদের মধ্যে বিজিবির ১২ প্লাটুন, আনসারের পাঁচ প্লাটুন ও এসআরবির আট প্লাটুন সদস্য রয়েছেন।

গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাঈন জানান, শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাঁদের লক্ষ্য।

তিনি আরও জানান, আন্দোলনের নামে যাতে কোনো ধরনের নাশকতা বা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক রয়েছে প্রশাসন। বিজিবি সদস্যরা ইতোমধ্যে মাঠে অবস্থান নিয়েছেন। অন্য বাহিনীর সদস্যরাও প্রস্তুত রয়েছেন।

এর আগে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে কয়েক দিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন তাঁরা। এতে গুরুত্বপূর্ণ এসব সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারের ঘটনা ঘটে।

নিরাপত্তায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা

নিরাপত্তায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা

আন্দোলনের মধ্যে পুলিশ বক্স, পুলিশের গাড়ি ও কারখানার গুদামে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে। সংঘর্ষে শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আহত হন। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে।

টানা আন্দোলন ও সংঘাতের কারণে শিল্পাঞ্চলের অনেক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে আন্দোলন চলাকালে মারধরের শিকার হয়ে তৌফিক হোসেন শেখ নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর ঘটনাও শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে।

কয়েক দিনের উত্তেজনা ও অস্থিরতার পর বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফেরার মধ্য দিয়ে শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরার আভাস মিলছে। তবে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

করণের অনুষ্ঠানে ফিরে রসিকতা, শেষ সিজন নিয়ে কী বললেন কারিনা

০

শেষ হয়ে যাচ্ছে জনপ্রিয় সেলিব্রিটি শো ‘কফি উইথ করণ’– এ খবরে অনেকে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি দর্শকের অনেকে সঞ্চালক, বলিউড চলচ্চিত্র নির্মাতা করণ জোহরকে অনুরোধ জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানটি যেন তিনি চালিয়ে যান। অথচ বিষয়টি নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নন্দিত অভিনেত্রী কারিনা কাপুর খান। বলেছেন, ‘এই খবরে আমি খুব খুশি হয়েছি এবং স্বস্তি পেয়েছি। কারণ একটাই, আমাদের বারবার ‘কফি উইথ করণ’-এ আসতে হবে না।”

করণের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়া সত্ত্বেও কারিনার মুখে এমন কথা শুনে বিস্মিত হয়েছেন অনেকে। নেটিজেনরা প্রশ্ন ছুড়েছেন, আসলেই কি কারিনা বন্ধুর আলোচিত এই অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে খুশি? নাকি মজা করে এ কথা বলেছেন? সামাজিক মাধ্যমে এসব প্রশ্ন উঠে আসলেও এ নিয়ে আর কোনো মন্তব্য করেননি কারিনা।

আনন্দবাজারসহ ভারতের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবার স্বামী, অভিনেতা সাইফ আলি খানকে নিয়ে ‘কফি উইথ করণ’ অনুষ্ঠানে হাজির হচ্ছেন কারিনা কাপুর খান। ইতোমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে অনুষ্ঠানের ঝলক; যা নিয়ে দর্শকের কৌতূহল তুঙ্গে। নির্মাতাদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ‘কফি উইথ করণ’-এর শেষ সিজনের চতুর্থ পর্বে দেখা যাবে বলিউডের এই তারকা দম্পতিকে। আজ বুধবার জিও হটস্টারে মুক্তি পাবে এই পর্বটি। যার ঝলক প্রকাশ পাওয়ার পর দর্শকের মধ্যে নানারকম প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে।

নির্মাতাসূত্রে জানা গেছে, অনুষ্ঠানের শুরুতে করণ জোহরকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি বন্ধু কারিনা। শেষ সিজনের কথা শুনে এখন পর্যন্ত অতিথিরা দুঃখ প্রকাশ করেছেন। সবাই কর্ণকে এই অনুষ্ঠান চালিয়ে নিয়ে যেতে বলছেন। কিন্তু কারিনা তাঁর চেনা কায়দায় বলেছেন, ‘আমি খুব খুশি হয়েছি এবং স্বস্তি পেয়েছি। কারণ আমাদের বারবার ‘কফি উইথ করণ’-এ আসতে হবে না।’ কারিনার এমন মন্তব্যে পাল্টা রসিকতা করেছেন করণ। তাঁর জবাব, ‘অনুষ্ঠানের শেষ সিজন নিয়ে তোমার এই সংবেদনশীলতার জন্য ধন্যবাদ!’

অন্যদিকে, এই অনুষ্ঠানের জাঁকজমক পরিবেশের সঙ্গে সাইফকে খুব একটা মানানসই লাগে না বলেই মনে করেন অনেকে। এবার সে কথা মেনে নিয়েছেন অভিনেতা নিজেই। স্ত্রী ও করণের কথোপকথনের মাঝখানে বলে ফেলেছেন, এই অনুষ্ঠানে নিজেকে তাঁর ‘বেমানান’ মনে হয়।

অনুষ্ঠানের ঝলকে দেখা গেছে, কারিনাকে একটি মজার প্রশ্ন করেছেন করণ। বর্তমান বলিউডের অভিনেতাদের মধ্যে এক নম্বরে কাকে রাখবেন তিনি? কারিনার উত্তর অবশ্য ঝলকে প্রকাশ করা হয়নি। তবে স্ত্রীর জবাব শুনে সাইফের মন্তব্য, ‘অন্য অভিনেতাদের প্রশংসাও করতে পারো তুমি।’ এমনই নানা হাসির মুহূর্ত ধরা পড়েছে এই পর্বের ঝলকে। তারকাসন্তানদের প্রসঙ্গও উঠে আসে এবং তা নিয়ে হাসাহাসিও করেন তিনজন।

বলিউডে তারকা সন্তানদের সুযোগ দেওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন করণ। তাঁর প্রযোজনায় একাধিক তারকা সন্তান অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন। সেই প্রসঙ্গেই যে সাইফও একটি খোঁচা দিয়েছেন। সব মিলিয়ে নতুন এই পর্বে থাকছে যে, জমজমাট কথার লড়াই– তার আভাসও পাওয়া গেছে প্রথম ঝলক থেকে।

আসল কাজুবাদাম কেনার টিপস

পুষ্টিগুণের কথা বিবেচনা করে অনেকেই নিয়মিত কাজুবাদাম খান। কেউ সরাসরি খান, কেউ আবার মিষ্টি , সালাদ কিংবা বিভিন্ন রান্নায় ব্যবহার করেন। কিন্তু বাজার থেকে কাজুবাদাম কেনার সময় অনেকেই বুঝতে পারেন না, সেটি আসল নাকি নিম্নমানের বা ভেজাল মেশানো। শুধু প্যাকেটের চকচকে ভাব দেখে ভালো কাজুবাদাম চেনা সম্ভব নয়। এ কারণে কেনার আগে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। যেমন-

রং দেখে চিনুন: যেসব কাজুবাদাম ভালো মানের সেগুলোর রং সাধারণত হালকা সাদা বা ক্রিমের মতো হয়। অতিরিক্ত হলদেটে, কালচে দাগযুক্ত কিংবা অস্বাভাবিক রঙের কাজুবাদাম দেখলে সতর্ক হন। এগুলি পুরনো বা নিম্নমানের হতে পারে।

গন্ধ পরীক্ষা করুন: কাজুবাদাম যদি আসল হয় তাহলে হালকা প্রাকৃতিক বাদামের গন্ধ থাকে। কিন্তু কেনার সময় যদি তেলচিটে, বাসি বা অস্বাভাবিক গন্ধ পান, তা হলে সেটা কেনা থেকে বিরত থাকুন।

দাম খুব কম হলে সতর্ক থাকুন: বাজারদরের তুলনায় দাম যদি অস্বাভাবিক কম হয় তাহলে তা কেনার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। অনেক সময় কম দামের নিম্নমানের কাজুবাদাম উন্নত মানের বলে বিক্রি করা হয়।

প্যাকেটের দিকে নজর দিন: প্যাকেটজাত কাজুবাদাম কেনার সময় সিল আছে কি না, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ এবং প্রস্তুতকারক সংস্থার নাম দেখে নিন। প্যাকেট খোলা বা সিল নষ্ট থাকলে তা কেনা ঠিক নয়।

দাগ ও গঠন পরীক্ষা করুন: ভালো কাজুবাদামের চেহারা সাধারণত পরিষ্কার ও স্বাভাবিক থাকে। কালো দাগ, ছত্রাকের চিহ্ন কিংবা অস্বাভাবিক তেলতেলে ভাব থাকলে সেই কাজুবাদাম এড়িয়ে চলুন।

কী করবেন?

কাজুবাদাম কেনার ক্ষেত্রে সব সময় পরিচিত ও বিশ্বস্ত দোকানের উপর ভরসা করুন। শুধু দেখতে চকচকে হলেই সেটি ভালো হবে, এমনটা কোনো কথা নেই। মনে রাখবেন, চোখে দেখে বা হাতে পরীক্ষা করে সব ধরনের ভেজাল নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব নয়। তাই প্যাকেটের তথ্য, সংরক্ষণের অবস্থা এবং বিক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

মধ্যবর্তী নির্বাচন ফল মেনে নেব, ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আপত্তি নেই: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অগ্রগতির মধ্যে নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে বিরোধী দলের সঙ্গে কাজ করতেও প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনের ফল মেনে নিতে তিনি ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’। বিরোধী দলের সঙ্গে কাজ করার বিষয়েও তার আপত্তি নেই।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি অবশ্যই ওই ফলাফল মেনে নিতে প্রস্তুত।’ ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় থাকব। সম্ভবত আমরা কোনো একটা সমাধানে পৌঁছাতে পারব।’

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা এমন কয়েকটি আসনে জয় পেয়েছেন, যেগুলোকে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। এসব ফলের মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দলের লড়াই নতুন মাত্রা পেয়েছে।

নির্বাচনের ফলের ওপর নির্ভর করছে আগামী দুই বছর ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম কতটা নির্বিঘ্নে এগোবে। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ওপর নজরদারি ও তদন্তের সুযোগও বাড়বে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদে ২৪৮টি আসন পেতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের আসনসংখ্যা দাঁড়াতে পারে ১৮৭টিতে। এর মধ্য দিয়ে নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পাচ্ছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি।

সিনেটেও বড় অগ্রগতি হয়েছে দলটির। নির্বাচনে পাঁচটি আসন বাড়িয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। টেক্সাস, কানসাস, সাউথ ক্যারোলাইনা, ওহাইও ও নর্থ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকানদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ আসন ছিনিয়ে নিয়েছে তারা। এর ফলে সিনেটের নিয়ন্ত্রণও দলটির হাতে যাচ্ছে।

টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকো রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে হারিয়েছেন। প্রায় তিন দশক পর অঙ্গরাজ্যটিতে কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রাজ্যব্যাপী নির্বাচনে জয় পেলেন। কানসাসে রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটন। অন্যদিকে ওহাইওতে সাবেক সিনেটর শেরড ব্রাউন এবং নর্থ ক্যারোলাইনায় সাবেক গভর্নর রয় কুপার জয় পেয়েছেন।

আগামী ৩ জানুয়ারি থেকে নতুন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হবে। ফলে ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে আইন প্রণয়ন, সরকারি ব্যয় এবং বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে রিপাবলিকানদের।

নির্বাচনের ফল নিয়ে ট্রাম্প অবশ্য নিজের অবস্থানও ব্যাখ্যা করেছেন। নিউইয়র্ক টাইমসকে তিনি বলেছেন, নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের একটি কারণ হলো, তিনি নিজে ব্যালটে ছিলেন না। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি দাবি করেন, নিজে প্রার্থী হলে রিপাবলিকানরা বড় ব্যবধানে জয়ী হতো।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় ও ইরান যুদ্ধের প্রভাব ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন তিন দশক পর টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটদের জয়

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে প্রায় তিন দশক পর গভর্নর পদে জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। রিপাবলিকান প্রার্থী ও বর্তমান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে হারিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনোজোসা। ১৯৯৫ সালে অ্যান রিচার্ডসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এই প্রথম অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর পদে ফিরছেন কোনো ডেমোক্র্যাট। একই সঙ্গে টেক্সাসের প্রথম লাতিনা গভর্নর হতে যাচ্ছেন ৫২ বছর বয়সী হিনোজোসা।

মঙ্গলবারের নির্বাচনে হিনোজোসার কাছে পরাজিত হয়েছেন টানা তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা অ্যাবট। তিনি চতুর্থ মেয়াদের জন্য লড়ছিলেন। নির্বাচনের রাতে অ্যাবট পরাজয় মেনে নেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) ফল ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে টেক্সাসের এই ফলকে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

টেক্সাস দীর্ঘদিন ধরেই রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৯৪ সালে ডেমোক্র্যাট গভর্নর অ্যান রিচার্ডস রিপাবলিকান জর্জ ডব্লিউ বুশের কাছে হেরে যান। এরপর আর কোনো ডেমোক্র্যাট অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর নির্বাচিত হননি। ফলে হিনোজোসার জয় শুধু গভর্নর পদে ক্ষমতার পালাবদল নয়, টেক্সাসের রাজনীতিতে ডেমোক্র্যাটদের নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিতও দিচ্ছে।

অস্টিনের রাজ্য আইনপ্রণেতা ও সাবেক স্কুল বোর্ড সভাপতি হিনোজোসা নির্বাচনী প্রচারে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন এবং রাজনীতিতে করপোরেট ও ধনকুবেরদের প্রভাব কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন। তার প্রচারের অন্যতম বিষয় ছিল রাজ্যের অর্থনৈতিক সঞ্চয় থেকে প্রত্যেক বাসিন্দাকে এককালীন ১ হাজার ৫০০ ডলার ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব।

অন্যদিকে অ্যাবট তাঁর দীর্ঘদিনের শাসনামলের সাফল্য তুলে ধরেন। অর্থনীতি, সম্পত্তিকর কমানো এবং জনশিক্ষায় অর্থায়নের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেন তিনি। তবে প্রচারের শেষ দিকে হিনোজোসার বিরুদ্ধে উচ্চ কর আরোপ ও অর্থনীতির ক্ষতি করার অভিযোগ তোলেন অ্যাবট।

নির্বাচনী প্রচারে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও দুই প্রার্থীর মধ্যে বড় ব্যবধান ছিল। হিনোজোসার তুলনায় অ্যাবটের প্রচারে কয়েক গুণ বেশি অর্থ ব্যয় করা হয়। তবু জীবনযাত্রার ব্যয়, শিক্ষা ও সরকারি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ কাজে লাগিয়ে জয় পান হিনোজোসা। এপির প্রতিবেদনে তাঁর প্রচারকে জনতুষ্টিবাদী (পপুলিস্ট) প্রতিশ্রুতিনির্ভর প্রচার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটদের এই জয়কে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকেরা। এবারের নির্বাচনে অঙ্গরাজ্যটির বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই এবং ডেমোক্র্যাটদের ভালো ফল রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের আধিপত্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

নতুন গভর্নরের চার বছর মেয়াদি দায়িত্ব শুরু হবে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে।

টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবনে পুরস্কার পেল পাঁচ উদ্যোগ

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে নতুন উদ্ভাবনী ধারণার স্বীকৃতি দিতে আয়োজিত ‘স্ফুরণ: সাসটেইনেবল এনার্জি আইডিয়া কনটেস্ট ২০২৬’-এর বিজয়ীদের পুরস্কৃত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তিনি।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ, টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা), ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জার্মান উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা জিআইজেড যৌথভাবে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০) বাস্তবায়নে উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করাই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তরুণ উদ্ভাবক ও পেশাজীবীদের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, একটি উদ্ভাবনী ধারণাই বাংলাদেশের জন্য পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
জার্মান উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা জিআইজেডের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিযোগিতায় কয়েক ধাপের যাচাই-বাছাই এবং বিশেষজ্ঞ বিচারকমণ্ডলীর সামনে সরাসরি উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনটি বিভাগে পাঁচটি উদ্ভাবনী উদ্যোগকে পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়। বিচারকমণ্ডলীতে সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, উন্নয়ন সহযোগী ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা ছিলেন।

শিক্ষার্থীদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগে প্রথম হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সানজিদা আফরিন ও তাসফিয়া তাহিয়াতের ‘রোদ্দুর এআই’। এটি স্যাটেলাইট তথ্য ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো স্থানে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রযুক্তি। একই বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) শেখ সাজিদুল ইসলাম ও লামিয়া তাবাসসুম নবনীর ‘সূর্য ঘাট’। এ উদ্যোগে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করে ডিজেলচালিত মাছ ধরার নৌকাকে রূপান্তর এবং ঘাটে চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের জ্বালানি দক্ষতা বিভাগে প্রথম হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জারা তাসনুভা আলম ও হুমায়রা তাবাসসুম তুরাসার ‘টিপেকো ফ্রেমওয়ার্ক’। এটি ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনার একটি মডেল। দ্বিতীয় হয়েছে বুয়েটের লাবিবা আনিকা ও খন্দকার রুহামা আমিনের ‘ছাদগ্রিড’। এতে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবনের ছাদকে কেন্দ্র করে নগর এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী যন্ত্রপাতির সমন্বিত ব্যবস্থাপনার ধারণা তুলে ধরা হয়েছে।

পেশাজীবী বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন মাল্টিফ্যাবস লিমিটেডের মো. টিপু সুলতান। শিল্প কারখানায় বয়লারের তাপ পুনরুদ্ধার এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে বর্জ্যপানির অম্লতা নিয়ন্ত্রণের সমন্বিত প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য তিনি এ পুরস্কার পেয়েছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আবাসিক, শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে ১৫ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্য রয়েছে।

ব্যর্থতা আড়ালে বিরোধীদের চরিত্রহনন করছে সরকার: জামায়াত আমির

সরকার নিজের ব্যর্থতা, অযোগ্যতা, অদক্ষতা আড়ালে বিরোধীদলকে অপপ্রচারের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান এ মন্তব্য করেন।

সরকারের উদ্দেশ্যে শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধী দলের চরিত্রহনন বাদ দিয়ে আপনাদের ব্যর্থতা সমাধানের চেষ্টা করুন। যদি  দুঃখ-দুর্দশা দূর হয়, মানুষ আপনাদের সমর্থন করবে।

এক মাস কারাভোগ শেষে দলের সহযোগী সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের মুক্তিতে সেখানে এক সংবর্ধনার আয়োজন করে জামায়াত।

সরকারের উদ্দেশ্যে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন,  ‘যদি মনে করেন যে অতীতের মতো স্বৈরাচারী কায়দায় প্রতিবাদী কণ্ঠকে দমিয়ে দেবেন, স্তব্ধ করে দেবেন, তাহলে আপনাদের দুঃসংবাদ দিচ্ছি, এটি বাংলাদেশে আর হবে না।’

জামায়াতের ৩৪ জন সংসদ সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা ওমরাহ শেষে গত ১ অক্টোবর দেশে ফেরার পর লাগেজ পেতে বিলম্ব হওয়ায় বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চবাচ্য হয় মেজর আখতারের। শফিকুর রহমান বলেন, আখতারুজ্জামান কারও গায়ে হাত দেননি। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগে মিথ্যা মামলা করা হয়।

জামায়াত আমির বলেন, মেজর আখতারের প্রতিবাদের পর বিমানবন্দরের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে কিছু দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুই দফায় নতুন ট্রলি সংযোজন, লাগেজ বেল্টে ক্যামেরা স্থাপন এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মীদের শরীরে বডি ক্যামেরা সংযুক্ত করা হয়েছে। এসব পরিবর্তন প্রমাণ করে, তিনি যেসব সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন, সেগুলোর বাস্তবতা ছিল।

রিমান্ডে জামায়াতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রশ্ন

২ অক্টোবর আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাঁকে এই মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয়। তিনি বলেন, রিমান্ডে চোখ বেঁধে জামায়াতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়, যা মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ তথ্য জানার এখতিয়ার ডিবির আছে কি না, এই প্রশ্ন তুলে আখতারুজ্জামান বলেন, ‘পুলিশ হয়ে, ডিবি হয়ে একটি রাজনৈতিক দলের ভেতরের খবর জানার ন্যাক্কারজনক সাহস কোথায় পেল? একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব কীভাবে চলে, এই প্রশ্ন করার অধিকার পুলিশকে কে দিয়েছে?’

গত সোমবার হাইকোর্ট থেকে জামিন পান আখতারুজ্জামান। গতকাল  সকালে তিনি কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।

কারাফটকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করেন ঢাকা উত্তর মহানগর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন, ঢাকা দক্ষিণ মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন, ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামাল হোসেন প্রমুখ।

এদিকে গতকাল সকালে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার ডেরেক লোহ।