Home Blog

বগুড়ায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনতাই, আটক ৪ নারী

বগুড়ার সোনাতলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে আটকের পর পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ সময় পুলিশের পিকআপ ভ্যানও ভাঙচুর করা হয়। হামলায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে চার নারীকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফুলবাড়িয়া গ্রামের সালাম মাস্টারের ছেলে গোলাম কবির সুমন (৩৬)-এর বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। শুক্রবার সকালে সোনাতলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শিমুল কুমার দাস ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মেহেদী হাসান পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে যান। পরে পুলিশ সদস্যরা সুমনকে আটক করে পিকআপে তোলার সময় স্থানীয় কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় পুলিশ সদস্যদের মারধর করে সুমনকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। হামলাকারীরা পুলিশের পিকআপ ভ্যানটিও ভাঙচুর করেন।

খবর পেয়ে সোনাতলা থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে আহত দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে চার নারীকে আটক করে থানায় রাখা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রপ্তানির দ্বিগুণ প্রবৃদ্ধি আমদানিতে

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রপ্তানির তুলনায় আমদানিতে দ্বিগুণের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাণিজ্য ঘাটতির ওপর। দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ৭৪৭ কোটি ডলারে উঠেছে। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৫৭১ কোটি ডলার। এ সময়ে আমদানিতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় বেড়েছে পেট্রোলিয়াম পণ্যে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ১০৫ শতাংশ। এর পরে রয়েছে ভোগ্যপণ্য। সব মিলিয়ে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাব ও সামগ্রিক লেনদেনে বড় অঙ্কের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল বৃহস্পতিবার চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ের বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্য প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে আমদানিতে ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৯৩৩ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১৫ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। এ সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছে এক হাজার ১৮৬ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৭ শতাংশ।
এমনিতেই বাংলাদেশের রপ্তানির তুলনায় আমদানি ব্যয় বেশি হয়। এর মধ্যে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দর অনেক বেড়ে গেছে। যে কারণে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। গত কয়েক দিনে অনেক বেড়ে আন্তঃব্যাংকে ডলারের দর ১২৪ টাকা ৩৫ পয়সায় উঠেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ত্রৈমাসিকে পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানিতে খরচ হয়েছে ৪২২ কোটি ডলারের বেশি। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে যেখানে ব্যয় ছিল ২০৬ কোটি ডলারের কম। ভোগ্যপণ্য আমদানিতে খরচ ২৬ দশমিক ৫০ শতাংশ বেড়ে ১৪০ কোটি ডলার হয়েছে। প্রাথমিক পণ্যের আমদানি প্রায় ২৩ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৩৫৯ কোটি ডলারে উঠেছে। তবে আরএমজি সংশ্লিষ্ট পণ্যের আমদানি মাত্র ২ দশমিক ৭০ শতাংশ বেড়ে ৪৬১ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। তবে মূলধনি পণ্যের আমদানি ১৩ দশমিক ৬০ শতাংশ কমে ২৪৬ কোটি ডলারে নেমেছে। অন্য পণ্যে বেড়েছে ১১ দশমিক ৩০ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের আরেক প্রধান উৎস রেমিট্যান্সে ভালো প্রবৃদ্ধি আছে। তবে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় বৃদ্ধির তুলনায় তা কম। প্রথম তিন মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৮৫৯ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১৩ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি।
এরপরও চলতি হিসাবে ঘাটতি তৈরি হয়েছে ১৩৩ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ঘাটতি ছিল মাত্র ৮২ কোটি ডলার। এ সময়ে আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত কমে মাত্র ৩২ কোটি ডলারে নেমেছে। গত বছরের একই সময়ে উদ্বৃত্ত ছিল ১৮০ কোটি ডলার। প্রথম তিন মাসে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ এক কোটি ডলার কমে ৩৫ কোটি ডলারে নেমেছে। অন্য বিনিয়োগ আগের ১৪৮ কোটি ডলার থেকে কমে মাত্র চার কোটি ডলারে নেমেছে।

প্রথম ত্রৈমাসিকে বিদেশি ঋণও কমেছে ব্যাপকভাবে। মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ আগের অর্থবছরের ১০৪ কোটি ডলার থেকে কমে মাত্র ৫৪ কোটি ডলারে নেমেছে। অন্য দীর্ঘমেয়াদি নিট ঋণ ঋণাত্মক ১৭ কোটি ডলারে নেমেছে। আগের অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে যা প্রায় আট কোটি ডলার ছিল। অবশ্য ট্রেড ক্রেডিট আগের ১০৮ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ১৩৪ কোটি ডলারে উঠেছে।
সব মিলিয়ে সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে ১১৬ কোটি ডলার ঘাটতি দাঁড়িয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যেখানে উদ্বৃত্ত ছিল ৮৫ কোটি ডলার। এ রকম পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ডলারের দর স্থিতিশীল থাকার পর গত কয়েক দিনে বাড়ছে। গত তিন দিন ধরে আন্তঃব্যাংকে ডলার বিক্রি হয়েছে ১২৪ টাকা ৩৫ পয়সা। এর আগের দুই দিন বিক্রি হয় ১২৪ টাকা ৩০ পয়সা। এর আগে গত অক্টোবরের শুরুতে ডলারের দর ১২৩ টাকা ছিল। সেখান থেকে বাড়তে বাড়তে অক্টোবরের শেষ কর্মদিবসে ১২৩ টাকা ৯৯ পয়সা হয়। আওয়ামী লীগ পতনের পর থেকে দেড় বছর আন্তঃব্যাংকে ডলারের দর ১২১ থেকে ১২২ টাকা ৩০ পয়সার মধ্যে স্থিতিশীল ছিল।

বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে বুধবার ১০ কোটি ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত সপ্তাহে বিক্রি করা হয় আরও ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার। এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগ পর্যন্ত তিন বছর রিজার্ভ থেকে প্রচুর ডলার বিক্রি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। যে কারণে ২০২১ সালের আগস্টে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর পেরোনো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। সেখান থেকে বেড়ে গত ২৯ জুন ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে। গত জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে আরও বেড়ে হয় ৩৭ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার। তা আবার কমে গতকাল ৩৪ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে।

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতের নারী কর্মীদের হাঁড়ি-পাতিল মিছিল

সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তর। এতে দলটির নারী নেতাকর্মীরা হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে অংশ নেন। সিলিন্ডারের কাট-আউট নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। খালি সিলিন্ডার রেখে সমাবেশ করে বিক্ষোভ দেখায় জামায়াত।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় এ বিক্ষোভ মিছিল হয়। এতে নেতৃত্ব দেন মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। মিছিল পূর্ব সমাবেশে তিনি বলেন, দুই বছর তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধি না করার ওয়াদা দিয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপি আট মাসে গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে ৭০০ টাকা। এক হাজার ৩০০ টাকার গ্যাসের দাম দুই হাজার টাকা হয়েছে।

সেলিম উদ্দিন বলেন, মানুষের আয় এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে সামঞ্জস্য নেই। দফায় দফায় জ্বালানি তেল, বিদ্যুত, গ্যাসের দাম বাড়ছে। কিন্তু মানুষের আয় সেই অনুপাতে বাড়ছে না। দেশের জনগণকে অস্তিত্বসংকট ও অনিরাপত্তার মধ্যে রেখে উন্নয়নের ফানুস উড়ানো যাবে না। কৃষক ও শ্রমিক ও মা বোনদের মুখে হাসি ফোটাতে হবে এবং আয় ব্যয়ের সামর্থ্যের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছু রাখতে হবে।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশ পরিচালনা এত সহজ বিষয় নয়। আপনারা দেশ চালাতে পারছেন না। কার্ড বিতরণ করেন আর যা ই করেন, এসব দিয়ে জনগণকে বোঝাতে পারবেন না। জনগণকে ক্ষুব্ধ করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না।

সরকার শ্রমিকদের ওপর অবৈধ বলপ্রয়োগ করছে বলে অভিযোগ করেছেন সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, শ্রমিক ভাই-বোনেরা তাদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। তারা কি অন্যায় করেছেন? বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কষ্ট বুঝলে শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ করতেন না। একজন শ্রমিক ভাইকে জীবন দিতে হতো না। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি অবিলম্বে মেনে নিতে হবে। শ্রমিকদের হয়রানি ও ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে। বেতন যথাসময়ে পরিশোধ করতে হবে।

শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে সেলিম উদ্দিন বলেন, আপনাদের আন্দোলন ন্যায্য। কিন্তু গাড়ি ভাঙচুর কিংবা কারখানায় আগুন দেওয়ার মতো কাজ করে তৃতীয় পক্ষ যেন আপনাদের ব্যবহার করতে না পারে। ন্যায্য দাবিকে জনসমর্থন থেকে দুর্বল করে দিতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জামায়াত শ্রমিকদের পাশে আছে।

সমাবেশে বক্তব্য দেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আতিকুর রহমান, মহানগরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, ইয়াসিন আরাফাত, প্রচার সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার প্রমুখ। মিছিল বিভিন্ন সড়ক ঘুরে বাড্ডা ইউলুপের সামনে এসে শেষ হয়।

মেজর আখতারের ছেলের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জামায়াত আমিরের

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা শাহরিয়ার জামানের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা গ্রহণ ও জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শাহরিয়ার জামানকে দেখতে গিয়ে বৃহস্পতিবার এ দাবি জানান তিনি। শাহরিয়ার মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের ছেলে। গত বুধবার কিশোরগঞ্জে তার ওপর হামলা ও ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আখতারুজ্জামান এলাকায় খেলাধুলার জন্য বড় মাঠ করে দিয়েছেন। কিছুদিন ধরে মাদকচক্রের সদস্যরা সেখানে গিয়ে উৎপাত করছিলেন। শাহরিয়ার তাদের আগে সতর্ক করেছিলেন। তার অভিযোগ, মাদকসেবীরা রাজনৈতিক দলের আশ্রয়-প্রশ্রয় পান।

মাদকচক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কারণে হামলা হয়ে থাকলে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘কিন্তু রহস্যজনক কারণে মামলা নেওয়া হচ্ছে না।’

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিমানবন্দরে অনিয়ম, অন্যায় ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা ও এক কর্মকর্তাকে মারধরের মামলা করা হয়েছিল। ওই মামলায় তাঁকে এক মাস কারাগারে থাকতে হয়।

তিনি আরও বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামানকে হাতকড়া, ভেস্ট ও হেলমেট পরিয়ে আদালতে তোলা হয়েছিল, যা মানবতার প্রতি অবজ্ঞা ও উপহাসের শামিল।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আখতারুজ্জামানের প্রতিবাদকে স্বীকার না করে সরকার ‘নোংরামি’ করেছে। তাঁর ছেলের ওপর হামলার সঙ্গে আগের ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা তিনি জানেন না। তবে দ্রুত মামলা গ্রহণ করে হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

এ সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানসহ জামায়াতের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

হামের উপসর্গে আরও ৪ জনের মৃত্যু

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৩১৪ জন।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগেই হামের উপসর্গ নিয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ২৭৬ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৫ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ১৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ২৩৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৩৬ হাজার ৭১৪ জনে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৫ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ২৯৪ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে দুই লাখ ১০ হাজার ৯৮২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ লাখ দুই হাজার ৩৯৪ জন।

ইরানের প্রস্তাবের পর যুদ্ধ বন্ধে কাতারের আমিরকে ট্রাম্পের ফোন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানিকে ফোন করেছেন। তাদের মধ্যে ইরান যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দোহার মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে তেহরানের একটি প্রস্তাব পাঠানোর পর দুই নেতার ফোনালাপ হলো।

আমিরের দপ্তরের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, ট্রাম্পের ফোন পেয়েছেন শেখ তামিম। আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারের নেওয়া কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিষয়ে তারা কথা বলেন। আমির সংলাপ অব্যাহত রাখা, বিরোধ নিষ্পত্তি ও উত্তেজনা না বাড়ানোর জন্য কূটনৈতিক পন্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বৃহস্পতিবার এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন পারমাণবিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। এতে সাতটি শর্ত দেওয়া হয়েছে। সেগুলো পূরণ না হলে তেহরান আলোচনায় বসবে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে। তবে প্রস্তাবের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে তিনি রাজি হননি।

কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদারের ইঙ্গিত দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে ইরানের বাকি অংশও ধ্বংস করে দিতে হতে পারে। এ বিষয়ে শিগগিরই জানা যাবে।

সাংবাদিকরা ইরানের পারমাণবিক প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের অনুমোদন ছাড়া তারা কিছুই করতে পারবে না।’

উৎসব ও সম্প্রীতির আবহে বাংলাদেশ পূজা সমিতির দুর্গোৎসব

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ পূজা-সমিতি নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রথম সংগঠন। ১৯৮৯ সালে গঠিত এই সংগঠন ১৯৯০ সালেই নিউইয়র্কে প্রথম বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করে উডসাইডের করপাস কৃষ্টি চার্চে। তারপর দেখতে দেখতে চোখের পলকেই ৩৭ বছর। আজ নিউইয়র্কে হাজার হাজার হিন্দু বাংলাদেশী যাঁরা উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশী হিন্দুদের প্রথম সংগঠন ও প্রথম দুর্গাপূজার প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বাংলাদেশ পূজা সমিতির জন্য গর্ববোধ করতে পারে। বাংলাদেশ পূজা সমিতি শুরু থেকেই হপ্তাহপ্তে শনিবার ও রবিবার পূজার আয়োজন করে।
বাংলাদেশ পূজা সমিতি শুরু থেকেই উৎসব ও সম্প্রীতির নিয়েই পূজা অর্চনার আয়োজন করে। সার্বজনীন এই পূজা অনেকাংশে মিলন মেলা ও উৎসবে পরিণত হয়।

WhatsApp Image 2026 11 05 at 8.00.27 PM 6
বাংলাদেশ পূজা-সমিতি এবার ৩১ শে অক্টোম্বর ও ১লা নবেম্বর দু’দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করে। স্থানীয় গুজরাটী-সমাজ কমিউনিটি সেন্টারে এই দুর্গোৎসবের আয়োজন ছিলো বর্ণিল। দুর্গাপূজার রেশ কাটলেও পূজা-সমিতির পূজা সকলকে রাঙ্গিয়ে দিয়ে যায়। হাজার দর্শক শ্রোতা ও ভক্ত মন উজার করে বাংলাদেশ পূজা সমিতির সিঁদুর দান ও ধামাইল নৃত্য উপভোগ করে। শুরু থেকেই পূজা সমিতির পূজায় সিলেটের আঞ্চলিক লোকগীতি ধামাইল নৃত্যে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠে। বাংলাদেশ পূজা সমিতির দুর্গোৎসবে ষষ্ঠী, সপ্তমী ও অষ্টমী পূজা ও রবিবার মহানবমী ও বিজয়া দশমী পালন করে। শনিবার দুপুর থেকেই পূজার শুরু। পূজা অর্চনা ও অঞ্জলীর মাধ্যমে দেবী বন্দনা করা হয়। প্রতিদিনেই পূজার আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াও প্রসাদ বিতরণ করা হয় মধ্যরাত পর্যন্ত। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পশরা ছিলো অতি মনমাতানো। ঢাকা ও কলকাতা শিল্পীদের দিয়ে গানের অনুষ্ঠানে ছিলো উত্তাল হাওয়া।
নতুন প্রজন্মের প্রবাসী বাংলাদেশী আমেরিকান তরুনদের উৎসাহ উদ্দীপনা ছিলো চোখে পড়ার মতো। পাঞ্জাবী, মোদী কোট ও রং-বেরং এর শাড়ীর বাহারে নতুন প্রজন্ম রঙ্গিন হয়ে উঠে। এটাই সম্ভবত পূজা সমিতির বড় স্বার্থকতা।
বাংলাদেশ পূজা সমিতির দুর্গোৎসবে সাংস্কৃতিক পর্ব বরাবরেই আকর্ষণীয়। দুই বাংলার সাংস্কৃতিক পাগল মানুষ, হিন্দু মুসলমানের সম্প্রীতির মিলন দেখা যায় পূজা সমিতির মহাযজ্ঞে। দেখা যায় নতুন প্রজন্মের উচ্ছ্বাস। সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তিকে পিছনে ফেলে পূজা সমিতির পূজায় মিলিত হয় সকল বর্ণ ও ধর্মের মানুষ। বাংলাদেশ পূজা সমিতির সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ঢাকা, কলকাতার শিল্পী ছাড়াও ছিলো স্থানীয় শিল্পী, নতুন প্রজন্মের আমেরিকান বাঙালি শিল্পীরা সংগীত পরিবেশ করে।
নতুন প্রজন্ম ও মধ্যবয়সী সবাই এক ফ্লোরে এসে সঙ্গীতে আবহে নৃত্যে শামিল হয়। বিজয়া দশমীর প্রকৃত বিজয় তারাই এনেছে দিয়েছে। পূজার প্রাঙ্গণে এনেছে উল্লাস জেগেছে প্রাণ। সবশেষে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে সাংস্কৃতিক পর্বের ইতি টেনে বাংলাদেশ পূজা সমিতির আগামী পূজার আগাম আবেদন জনিয়ে সকল সমাপ্তি ঘটায়।
পূজা সমিতির এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলো সভাপতি বিশ্বজিৎ সাহা, সাধারণ সম্পাদক জগদীশ চৌধুরী, বিজু পুরকায়ে, বিপ্লব রায়, পার্থ প্রতীম তালুকদার, রনজিৎ পুরকায়স্থ বিজু, সাবেক সভাপতি বিভূতিভূষণ দাশগুপ্ত, অমিত কুমার ঘোষ, অমল কান্তি দেব, বিষ্ণু গোপ, শিবব্রত দে চৌধুরী, উপদেষ্টা নরেন্দু বিকাশ দত্ত, পরেশ সাহা, চন্দন সেনগুপ্ত, চম্পা রায়, বাবুল কুমার সাহা, রিনি দাশগুপ্ত, বিমল চৌধুরী, রানা দত্ত রঞ্জু, নান্নু চৌধুরী, সুভেন রায়, ডা. প্রদীপ পাল, দীপক দে, রাজীব নন্দী, অশ্রু দাশ ও শন্তুলাল চন্দ প্রমুখ।

বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘ন্যাশনাল ইমিগ্রান্টস ডে’ উদযাপন

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ বর্ণাঢ্য আয়োজনে নিউইয়র্কে উদযাপিত হলো আমেরিকার ‘ন্যাশনাল ইমিগ্রান্টস ডে’। কমিউনিটির পরিচিত মুখ, বিশিষ্ট সমাজসেবী, ইমিগ্রান্টস ইন্টারন্যাশনাল-এর এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর এটর্নী মঈন চৌধুরী’র উদ্যোগে ‘ইমিগ্র্যান্টস ইন্টারন্যাশনাল’-এর ব্যানারে বুধবার (২৮ অক্টোবর) সিটির উডসাইডের কুইন্স প্যালেসে প্রথমবারের মতো এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ইউএস কংগ্রেসের প্রভাবশালী সদস্য গ্রেস মেং সহ নিইয়র্কের বিভিন্ন কোর্টের জজ, মূলধারার রাজনীতিক ও কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে অভিবাসীদের অর্জন ও কমিউনিটি সহ স্ব স্ব ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য বিভিন্ন পেশার ৭জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মানিত করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ভোট দেয়ার জন্য সকল ভোটারের প্রতি আহ্বান জানান।
নতুন প্রজন্মের নৃত্যশিল্পীর চমৎকার একক নৃত্যের মধ্যদিয়ে শুরু হওয়ার পর স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক এটর্নী মঈন চৌধুরী। এরপর বিভিন্ন পেশার ৭জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মানিত করা হয়। এরা হলেন- নিউইয়র্ক ষ্টেট সুপ্রীম কোর্টের মাননীয় জজ কারেন গোপ, কুইন্স কাউন্টি সারোগেঁস কোর্টের মাননীয় জজ ক্যাসান্দ্রা এ. জনসন, রিয়েল এষ্টেট ইন্ড্রাষ্ট্রি লীডার রব চৌধুরী, এনওয়াইপিডি’র ইন্সপেক্টর আদিল রানা, জ্যাকসন হাইটস ইন্ডিয়ান মার্চেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি শিব দাস, এনওয়াইপিডি’র ইন্সপেক্টর খন্দকার আব্দুল্লাহ ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ এনামুল হক। এটর্নী মঈন সহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাদের হাতে প্ল্যাক তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ও সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে কুইন্স কাউন্টি সুপ্রীম কোর্টের বিচারক পদপ্রার্থী জজ এডউইন আই. নোভিলো, কুইন্স কাউন্টি সিভিল কোর্টের জজ পদপ্রার্থী এমন্ড উং, নিউইয়র্কের সিভিল কোর্টের জজ পদপ্রার্থী জেসমিন ভ্যালে-বুইনো এবং টাইম টেলিভিশন-এর সিইও আবু তাহের, সাপ্তাহিক প্রথম আলো সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সমগ্র অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রকি অ্যালিয়ান।
অনুষ্ঠানে ইউএস কংগ্রেস সদস্য গ্রেস মেং-এর পক্ষ থেকে সম্মানিত ৭জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সাইটেশন প্রদান করা হয়। এসময় গ্রেস মেং তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এটর্নী মঈন চৌধুরীর কর্মকান্ডের প্রশংসা এবং ইমিগ্র্যান্ট ল’ বিষয়ক তার লেখা বইয়ের কথা স্মরণ করে বলেন, আমেরিকা ইমিগ্র্যান্টদের দেশ। ইমিগ্র্যান্টরাই এই দেশ গড়ে তুলেছেন। এই দেশকে সমৃদ্ধ করতে নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচিত করতে হবে এবং ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে অংশ নিতে হবে।
গ্রেস মেং তার বক্তব্যে এনওয়াইপিডি’র ইন্সপেক্টর আদিল রানার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করে বলেন, আশি দীর্ঘদিন ধরে তাকে চিনি। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ইউনিয়ন ভাষণে রানা আমার ষ্পেশাল অতিথি ছিলেন। প্রেসিডেন্ট ওবামা বিদায় বেলায় রানাকে হ্যালোও বলেন। তিনি বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকা কুইন্সের মুসলিম কমিউনিটির সন্তানরা আমেরিকান হিসেবে গৌরবের সাথে বেড়ে উঠছেন এবং দায়িত্ব পালন করছেন।
স্বাগত বক্তব্যে এটর্নী মঈন চৌধুরী বলেন, আমেরিকা ইমিগ্র্যান্টদের দেশ। এখানে বৈধভাবে থাকার সুযোগ রয়েছে। কোন বৈধ অভিবাসীকে ডিপোর্ট করার সুযোগ নেই, যারা আমেরিকান নাগরিক তাদের তো নয়ই। তিণি বলেন, বৈধ কাগজপত্র থাকলে এদেশে বসবাসের জন্য কারো কোন সমস্যা হবে না। তিনি আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীদের ভোট দেয়ার জন্য সকল ভোটারের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি ইমিগ্রেশন বিষয়ক যেকোন সমস্যায় সংশ্লিস্ট ব্যক্তিদের তার সাথে যোগযোগ করার আনুরোধ করেন।
রিয়েল এষ্টেট ইন্ড্রাষ্ট্রি লীডার রব চৌধুরী তার সম্মাণনা গ্রহণের সময় বিশিষ্ট রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী গিয়াস আহমেদ সহ সাউথ এশিয়ান আমেরিকান রিয়েলটর এসোসিয়েশন (সারা)-এর সাধারণ সম্পাদক নূরুজ্জামান সরদারের নেতৃত্বে রিয়েল এষ্টেট ব্যবসায় সম্পৃক্তদের মধ্যে ফেরদৌস খান, সারোয়ার খান বাবু, মোহাম্মদ মাসুদ সিরাজী প্রমুখ তাকে অভিনন্দন জানান এবং সারা’র পক্ষ থেকে সম্মানসূচক প্ল্যাক প্রদান করা হয়। এর আগে তারা রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় আব্দুর রব-এর সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিলো মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পী শাহ মাহবুব, কামরুজ্জামান বকুল, প্রেমা রহমান, মিটুল হক, নাসির প্রমুখ সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এই পর্ব সঞ্চালনায় ছিলেন বাবু জামান। সবশেষে ছিলো কেক কাটা পর্ব। অনুষ্ঠানের মাঝে দেশ ও প্রবাসে এটর্নী মঈন চৌধুরী ও ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ইমিগ্র্যান্টস ইন্টারন্যাশনাল’ সংগঠনের বিভিন্ন কর্মকান্ড ডিজিটাল পর্দায় তুলে ধরা হয়। কর্মকান্ডের বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী-আমেরিকান অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সংগঠনটির প্রশাসনিক পরিচালক তরিকুল ইসলাম মিঠু।

নিউইয়র্কে ঢাবি অ্যালামনাইদের বার্ষিক ডিনারে ঐক্যের প্রত্যয়

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ স্মৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণের ক্যাম্পাস, কণ্ঠে গান আর আড্ডায় পুরোনো দিনের গল্প—এমন আবহে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব ইউএসএ ইনকের বার্ষিক ডিনার। গত ৩১ অক্টোবর উডসাইডের গুলশান টেরেসে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধারণ করে প্রবাসে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ঐক্য জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। উদ্বোধন করেন সংগঠনের সভাপতি এম এস আলম। আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক বেলাল মাহমুদের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সরকারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চিকিৎসক চৌধুরী সারোয়ারুল হাসান।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন সাবেক সভাপতি সাঈদা আক্তার লিলি, মোহাম্মদ হোসেন খান, সাঈদ-উর বর, মুর্শেদ আলম এবং আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব ইকবাল মুর্শেদসহ অন্যরা।
বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের শেকড় ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন তাঁরা। এ সময় তাঁর পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকারও করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, সিনিয়র সহসভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট জামাল আহমেদ জনিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা।
নৈশভোজের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। গান পরিবেশন করেন লিলীমা শশী, কাজী আরিফ, ফাতেমা খান, রুহুল আমিনসহ সংগঠনের সদস্য ও নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা। কবিতা আবৃত্তি করেন গোলাম মোস্তফা, প্রীতি, ফারুক ও আজিজুল হক মুন্না। এ ছাড়া ‘সংসার-সমাচার’ শিরোনামের বিশেষ পরিবেশনা উপস্থিত অতিথিদের আনন্দ দেয়।
নিউইয়র্কে বসবাসরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা ১৯৯৪ সালে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রবাসে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ, ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো সংগঠনটির অন্যতম লক্ষ্য।

শান্তি প্রতিষ্ঠায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণ জরুরি: আইরিন খান

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি পর্যায়ে নারীর কার্যকর ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান। বুধবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক (ডব্লিউপিএস) এক উন্মুক্ত বিতর্কে বক্তব্য দানকালে তিনি এ আহ্বান জানান। নিরাপত্তা পরিষদেও ১৩২৫ নম্বর প্রস্তাবের অন্যতম মূল সহ-উদ্যোক্তা হিসেবে বাংলাদেশের ভূমিকা তুলে ধওে আইরিন খান নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক এজেন্ডা বাস্তবায়নে দেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সহিংসতা প্রতিরোধ, বিরোধের বিস্তার রোধ এবং টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় তৃণমূল পর্যায়ে নারীদেও উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ছয় বছর আগে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে। প্রথম পর্যায়ের বাস্তবায়ন সম্পন্ন হওয়ার পর বর্তমানে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ চলছে। এ পর্যায়ে নাগরিক সমাজ ও নারী সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, হিংসতা প্রতিরোধে কিশোরী ও তরুণীদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধিও পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি ও মধ্যস্থতায় তাঁদেও সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। তৃণমূল পর্যায়ে নারীদের উদ্যোগ বিরোধের বিস্তার রোধ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। রাষ্ট্রদূত খান নারী অধিকার কর্মী ও সংগঠনগুলোর জন্য বাড়তি সহায়তা, সংঘাত কবলিত এলাকায় নারীদের সুরক্ষা এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রম ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য ধারাবাহিক অর্থায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, শান্তি ও নিরাপত্তাকে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব পর্যায়ে নারীর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।