Home Blog Page 2

রিপাবলিকানদের হটিয়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিল ডেমোক্র্যাটরা

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা টেক্সাস, জর্জিয়া, ওহাইও, আইওয়া ও নেভাদার গভর্নর পদে জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। এর মধ্য দিয়ে ১৬ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকের বেশি রাজ্যের গভর্নর পদ দলটির নিয়ন্ত্রণে আসছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউর বেসরকারি ফলাফল ও বিজয়ী ঘোষণার ভিত্তিতে সংবাদমাধ্যম স্টেটলাইন এ তথ্য জানিয়েছে। শেষ খবর পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা ২৮টি এবং রিপাবলিকানরা ২০টি রাজ্যের গভর্নর পদ পেতে যাচ্ছে। তখনো আলাস্কা ও কানসাসে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়নি। ফলে এই হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যয়িত চূড়ান্ত ফল নয়। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মধ্যবর্তী নির্বাচনে দেশটির ৫০টি রাজ্যের মধ্যে ৩৬টিতে গভর্নর পদে ভোট হয়। নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের হাতে ছিল ২৬টি এবং ডেমোক্র্যাটদের হাতে ২৪টি গভর্নর পদ। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ২৬টি পদের সীমা এবার অতিক্রম করেছে ডেমোক্র্যাটরা।
এবারের অন্যতম বড় পরিবর্তন এসেছে টেক্সাসে। সেখানে তিন মেয়াদের রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট রাজ্য আইনপ্রণেতা জিনা হিনোহোসা। এর মধ্য দিয়ে তিন দশকের বেশি সময় পর টেক্সাসের গভর্নর পদে ফিরছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। হিনোহোসা হতে যাচ্ছেন রাজ্যটির প্রথম লাতিনা গভর্নর। চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অ্যাবট পরাজয় মেনে নিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তরে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। জর্জিয়ায় রিপাবলিকান ব্যবসায়ী রিক জ্যাকসনকে হারিয়েছেন আটলান্টার সাবেক মেয়র কিশা ল্যান্স বটমস। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো রাজ্যের গভর্নর পদে নির্বাচিত প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী হতে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি হবেন জর্জিয়ার প্রথম নারী গভর্নর। তাঁর জয়ে দুই দশকের বেশি সময় পর রাজ্যটির শীর্ষ নির্বাহী পদে ফিরছে ডেমোক্র্যাটরা। ওহাইওতে রিপাবলিকান বিবেক রামাস্বামীকে পরাজিত করেছেন চিকিৎসক ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যামি অ্যাক্টন। ২০০৬ সালের পর এই প্রথম রাজ্যটির গভর্নর নির্বাচনে জয় পেলেন কোনো ডেমোক্র্যাট। অ্যাক্টন ওহাইওর প্রথম নির্বাচিত নারী গভর্নরও হতে যাচ্ছেন। আইওয়ায় রিপাবলিকান ব্যবসায়ী জ্যাক লানকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট রব স্যান্ড। দুই মেয়াদের এই রাজ্য নিরীক্ষক বিদায়ী রিপাবলিকান গভর্নর কিম রেনল্ডসের স্থলাভিষিক্ত হবেন। রেনল্ডস এবার পুনর্র্নিবাচনে অংশ নেননি। স্যান্ডের জয়ে ২০১১ সাল থেকে চলা রিপাবলিকানদের গভর্নর পদে নিয়ন্ত্রণের অবসান হচ্ছে।
নেভাদাও রিপাবলিকানদের কাছ থেকে ডেমোক্র্যাটদের দখলে যাওয়া পাঁচ রাজ্যের তালিকায় রয়েছে। পাশাপাশি মেইন, মিশিগান ও উইসকনসিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ গভর্নর নির্বাচনেও নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে দলটি।
নিউইয়র্কে রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রুস ব্লেকম্যানকে হারিয়ে গভর্নর ক্যাথি হোকুল পুনর্র্নিবাচিত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সিবিএস নিউজ। উইসকনসিনে ডেমোক্র্যাট ডেভিড ক্রাউলি, ক্যালিফোর্নিয়ায় একই দলের জেভিয়ার বেসেরা এবং ফ্লোরিডায় রিপাবলিকান বায়রন ডোনাল্ডসকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে ফক্স নিউজ। এসব ফল কার্যকর হলে রাজ্য পর্যায়ে ডেমোক্র্যাটদের প্রশাসনিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। তবে গভর্নর পদে জয়কে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের আইনসভার নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার সমার্থক হিসেবে দেখা যাবে না; আইন প্রণয়ন ও নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইনসভার দলীয় অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ।

চট্টগ্রাম সমিতির কার্যকরি কমিটির মেয়াদ বৃদ্ধি

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা ইনকের বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৬ গত ১ নভেম্বর রোববার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয় ‘চট্টগ্রাম ভবনে’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোটে বর্তমান কমিটির মেয়াদ এক বছর বৃদ্ধিসহ চারটি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ আবু তাহের। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন ক্রীড়া সম্পাদক মোহাম্মদ ঈছা এবং গীতা পাঠ করেন কার্যকরী কমিটির সদস্য পল্লব রায়। এরপর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।
সমিতির প্রয়াত নেতৃবৃন্দ ও সদস্যদের স্মরণে নীরবতা পালন এবং তাঁদের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের জ্যেষ্ঠ সদস্য মুনীর আহমেদ।
সভার প্রথম পর্বে কোষাধ্যক্ষ শফিকুল আলম আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব উপস্থাপন করেন। সদস্যদের অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হলে হিসাব বিবরণী সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম তাঁর প্রতিবেদনে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সংগঠনের সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরেন। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সদস্যদের সহযোগিতায় কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
উল্লেখযোগ্য আয়োজনের মধ্যে ছিল দুটি বৃহৎ বনভোজন, দুটি ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান, বৈশাখী উৎসব, অভিবাসন ও করবিষয়ক সেমিনার, নিউইয়র্ক সিটির ডিস্ট্রিক্ট ৩৯-এর কাউন্সিল সদস্য শাহানা হানিফ এবং বাংলাদেশের সংসদ সদস্য সারওয়ার আলমগীরকে সংবর্ধনা। এ ছাড়া সমিতির আটজন প্রয়াত সদস্যের দাফনের জন্য বিনামূল্যে কবরের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
সভাপতি মোহাম্মদ আবু তাহের তাঁর প্রতিবেদনে সদস্যদের সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, নির্বাচনের নয় দিন আগে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় প্রচারে সরাসরি অংশ নিতে পারেননি। ওই সময় চট্টগ্রামবাসীর ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য তিনি নিজের ও পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। নির্বাচনী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণার অভিযোগও তোলেন তিনি।
সমিতির আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতিসাধনের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সভাপতি। এ প্রসঙ্গে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা দুটি মামলার বিষয়েও তাঁর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
এরপর সংবিধান সংশোধনী কমিটির প্রধান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ সেলিম প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো উপস্থাপন করেন। সংশ্লিষ্ট ধারা ও উপধারার ব্যাখ্যা দেন কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নুরুল আনোয়ার।
ট্রাস্টি বোর্ডের কো-চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিঠু সাধারণ সভায় চারটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রস্তাবগুলো হলো- আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুমোদন, বর্তমান কমিটির মেয়াদ ৩ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ৩ নভেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত বৃদ্ধি, সংবিধানের প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুমোদন, সমিতির আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতিসাধনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংগঠনের বিধান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ।
উপস্থিত সদস্যদের ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে চারটি প্রস্তাবই গৃহীত হয়। সভায় জানানো হয়, গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো অনুমোদনের দিন থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।
সভায় বক্তব্য দেন- সাবেক ট্রাস্টি চেয়ারম্যান ও সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ; সাবেক সভাপতি কাজী শাখাওয়াত হোসেন আজম; প্রতিষ্ঠাতা কোষাধ্যক্ষ ও বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শামসুল আলম চৌধুরী; জ্যেষ্ঠ ট্রাস্টি সদস্য মুনীর আহমেদ; ট্রাস্টি সদস্য ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহজাহান; ট্রাস্টি সদস্য সৈয়দ মোশাররফ হোসেন বাবর ও আবুল কাশেম চট্টলা; সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও বর্তমান ট্রাস্টি সদস্য মিজানুর রহমান জাহাঙ্গীর; ট্রাস্টি সদস্য আবু তালেব চৌধুরী চান্দু; উপদেষ্টা সদস্য সাহাবুদ্দিন চৌধুরী লিটন; মোহাম্মদ দিদারুল আলম, মোহাম্মদ জামালাউদ্দিন, মতিউর রহমান চৌধুরী, কানেকটিকাটের মোহাম্মদ আবুল কালাম এবং নিউজার্সির আব্দুল্লাহ আল মামুন।
সাবেক নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য দেন আরিফ চৌধুরী, খোকন কে চৌধুরী, আশ্রাব আলী খান লিটন, মোহাম্মদ রুমি, অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ, কাজী ইকবাল, মোহাম্মদ আমিন, মেজেবাউদ্দিন আহমেদ, মোহাম্মদ কাউসার চৌধুরী, বাসন আলী ও উত্তম দাস।
বর্তমান নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য দেন কলিমুল্লাহ মাস্টার, তানিম মহসিন, হাজী তৌহিদুল আলম, জাবের শফি, মোহাম্মদ নুরুল আমিন, আক্তার হোসেন, অজয় প্রসাদ তালুকদার, ইমরুল কায়সার, নাসিরুদ্দিন ও মোহাম্মদ মহিম উদ্দিন।

মৌলভীবাজারবাসীর মধ্যে ঐক্য প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ নানা কারণে বিভক্ত নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মৌলভীবাজারবাসীর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এগিয়ে চলছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিভক্ত সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দের মধ্যে ইতিমধ্যে একাধিক সভা হয়েছে। এসব সভায় পারস্পরিক বিরোধ ও ভুল বোঝাবুঝি ভুলে বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ নভেম্বর রোববার সন্ধ্যায় মৌলভীবাজারের নেতৃস্থানীয় প্রবাসীদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ঐক্য প্রক্রিয়ার অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।
নিউইয়র্ক সিটির অ্যাস্টোরিয়ার হ্যালো বাংলাদেশ রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রবীণ প্রবাসী হাজী আব্দুল মোসব্বির। সভা পরিচালনা করেন কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট মিনহাজ আহমেদ শাম্মু।
সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন আজমল এইচ. খান, মামুনুর রশিদ শিপু, মো. কাইয়ুম, চৌধুরী সালেহ, বদরুন নাহার খান মিতা, দুলাল তরফদার, সৈয়দ ইলিয়াস খসরু, জালাল চৌধুরী, সোহান আহমেদ টুটুল, ফজলুর রহমান, মোহাম্মদ জাবেদ উদ্দিন, তাজাম্মুল হুসাইন, ইমরান হুসাইন, এমদাদ রহমান তরফদার, মঈনুর রহমান শুয়েব, মজিবুর চৌধুরী, মোহাম্মদ কুতুব, সৈয়দ এস. আলী, শাহ-জাবের আহমেদ, জুয়েল খান, সৈয়দ গওসুল হুসাইন, মোহাম্মদ শামীম ইসলাম, এম. ডি. ইন্তাজ খান, এম. আশরাফুর রহমান, সৈয়দ আলী, জাবেদ আহমেদ, সৈয়দ রুহুল আলী, শাহীন হাসনাত, সৈয়দ ফয়সাল আহমেদ, আল আমিন জিল্লা, শাহীন খান, হেলালুর খান, সৈয়দ মামুন, শামসুল আলম খান, মিসবা মজিদ এবং চৌধুরী মুনিথ (তানিম) প্রমুখ।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত : সভায় প্রাথমিকভাবে সদস্য ফি ৫০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত ফি প্রদানকারীদের নিয়ে একটি সদস্যমণ্ডলী গঠন করা হবে।
পরবর্তী সাংগঠনিক কার্যক্রমে এই সদস্যমণ্ডলী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ করে সংগঠনের গঠনতন্ত্র প্রণয়ন, নির্বাচন প্রক্রিয়া নির্ধারণ এবং নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেবে।
এ ছাড়া ৫০ ডলার সদস্য ফি দিয়ে সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। নতুন কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত ফি প্রদানকারী সবাই সদস্যমণ্ডলীতে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
সভায় জানানো হয়, ঐক্য প্রক্রিয়ার পরবর্তী সভা আগামী ৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।
সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ দলমত-নির্বিশেষে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বৃহত্তর মৌলভীবাজারের সব অধিবাসীর সহযোগিতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি শক্তিশালী, কার্যকর ও ঐক্যবদ্ধ সংগঠন গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

পার্কে আইসের ঘাঁটি, মামলার হুঁশিয়ারি মামদানির

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ নিউইয়র্ক সিটির পার্ক ও সিটি-মালিকানাধীন পার্কিং লট অভিবাসন অভিযানের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার বন্ধ না হলে ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি বলেছেন, সিটি প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া নগরীর সম্পত্তি এ ধরনের কাজে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। ২ নভেম্বর সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাঠানো এক চিঠিতে এ অবস্থান জানান মেয়র। একই সঙ্গে ফেডারেল কর্মকর্তাদের প্রবেশ ও কার্যক্রমের বিষয়ে সিটির পার্কস বিভাগের কর্মীদের জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে তার প্রশাসন। সিটি প্রশাসনের অভিযোগ, ব্রঙ্কসের ভ্যান কর্টল্যান্ড পার্ক এবং কুইন্সের ফ্লাশিং মেডোজ করোনা পার্কের পশ্চিম পাশে ১১১ স্ট্রিটসংলগ্ন কয়েকটি সিটি-মালিকানাধীন পার্কিং লটে আইস কর্মকর্তারা গাড়ি রাখছেন এবং অভিবাসন অভিযানের প্রস্তুতিমূলক বৈঠক করছেন। কুইন্সের সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পার্কিং লট সিটি পরিচালিত একটি প্রাক্বিদ্যালয় ও শিশুদের যাতায়াত রয়েছে এমন কয়েকটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি অবস্থিত।
চিঠিতে মামদানি বলেন, এসব সম্পত্তি ব্যবহারের জন্য আইসকে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। নগরীর পার্ক ও পার্কিং লট বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত। সেগুলো অভিবাসন অভিযানের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়। মেয়র বলেন, পরিবার বিচ্ছিন্ন করার কাজে সিটির সম্পত্তি ব্যবহারের অধিকার আইসের নেই। নগরীর প্রতিটি পার্ক ও পার্কিং লটের ক্ষেত্রে এ অবস্থান প্রযোজ্য। অননুমোদিত ব্যবহার অবিলম্বে বন্ধ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরিয়ে নিতে ডিএইচএসের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। কর্মকর্তারা আবার ফিরে এলে সিটি প্রশাসন আদালতে যাবে বলেও সতর্ক করেন। ডিএইচএস সচিব মার্কওয়েন মুলিন, আইসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডেভিড জে. ভেনচুরেলা এবং নিউইয়র্ক ফিল্ড অফিসের পরিচালক কেনেথ জেনালোকে পাঠানো চিঠিতে সংস্থাটির কর্মকর্তাদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, নিউইয়র্ক সিটির কোনো সম্পত্তি যেন অভিবাসন অভিযান পরিচালনা কিংবা অভিযানের প্রস্তুতিতে ব্যবহার করা না হয়।মামদানি প্রশাসনের দাবি, গত ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত ১৩ নম্বর নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, বিচারিক পরোয়ানা বা আইনসম্মত বিশেষ অনুমতি ছাড়া সিটির বাইরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা নগরীর সম্পত্তি অভিযানের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে না। নিউইয়র্ক সিটির করপোরেশন কাউন্সেল স্টিভেন ব্যাংকস বলেন, বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ডিএইচএসকে জানানো হয়েছে।
এরপরও সিটি-মালিকানাধীন সম্পত্তি ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আদালতে যেতে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। তবে সিটি প্রশাসনের আইনি ব্যাখ্যার সঙ্গে দ্বিমত জানিয়েছে ডিএইচএস। সংস্থাটির এক মুখপাত্রের বক্তব্য, ফেডারেল আইন অনুযায়ী জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত পার্কিং লটে আইস কর্মকর্তাদের উপস্থিতি বৈধ। দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো এভাবে পার্কিং লট ব্যবহার করে থাকে। আইসের অভিযান বন্ধ হবে না বলেও জানান তিনি। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ফেডারেল কর্মকর্তারা পার্কের জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ বা সীমিত কোনো এলাকায় ঢুকতে চাইলে কর্মীদের তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চাইতে হবে এবং বিভাগের জেনারেল কাউন্সেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। কোনো কর্মকর্তা বিচারিক পরোয়ানা দেখালে কর্মীরা নিজেরা সেটির বৈধতা নির্ধারণ না করে বিভাগের আইনজীবীদের কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠাবেন।
বৈধ বিচারিক পরোয়ানা বা অন্য কোনো আইনসম্মত অনুমতি না থাকলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনুমতি ছাড়া কেউ প্রবেশ করলে পরিস্থিতি নিরাপদ থাকলে ৯১১ নম্বরে ফোন করে ঘটনাটি নথিভুক্ত করতে বলা হয়েছে। তবে ফেডারেল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের শারীরিক বা মৌখিক সংঘাতে না জড়াতেও কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মামদানি বলেন, অভিবাসীসহ সব নিউইয়র্কবাসীর সুরক্ষায় নগরীর কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের একা ছেড়ে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নতুন নীতিমালা অমান্য করলে সাময়িক বরখাস্ত থেকে চাকরিচ্যুতি পর্যন্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এদিকে মামদানির উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল। তিনি বলেন, সরকারি সম্পত্তি অভিবাসন অভিযানে ব্যবহারের খবর উদ্বেগজনক। পার্কে যাওয়া কিংবা নিজ এলাকায় চলাচলের সময় কোনো পরিবারকে যেন স্বজনদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কায় থাকতে না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসও অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় সিটি প্রশাসনের উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন। পাবলিক অ্যাডভোকেট জুমানে উইলিয়ামস, বিভিন্ন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। অভিবাসী অধিকার সংগঠন ডেসিস রাইজিং আপ অ্যান্ড মুভিংয়ের (ড্রাম) নির্বাহী পরিচালক ফাহদ আহমেদ বলেন, জনসাধারণের জন্য বরাদ্দ সম্পদ নিউইয়র্কবাসীর সেবায় ব্যবহৃত হওয়া উচিত। অভিবাসন অভিযানের প্রস্তুতিতে এসব সম্পত্তির ব্যবহার বন্ধ করতে নগর প্রশাসনের সব আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করা প্রয়োজন। নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী মুরাদ আওয়াওয়াদেহ বলেন, পার্ক, স্কুল ও আশপাশের সরকারি স্থানগুলো প্রতিটি পরিবারের জন্য নিরাপদ থাকা উচিত। নতুন নির্দেশনা নগরীর কর্মীদের আইন ও নীতিমালা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।

২০০ কোটি ডলারের সার্বভৌম তহবিল গঠনের প্রস্তাব

অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অবকাঠামোসহ বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক খাতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ আকর্ষণে কোরিয়া ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশনের (কেআইসি) সঙ্গে আলোচনা করেছে দক্ষিণ কোরিয়া সফররত বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল। ১০০ থেকে ২০০ কোটি ডলারের একটি সার্বভৌম তহবিলকে বিনিয়োগের সম্ভাব্য মাধ্যম হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে আলোচনায়। এ ছাড়া কোরিয়ার ফান্ড ম্যানেজারদের মাধ্যমে কেআইসির বিনিয়োগের পাশাপাশি কোরিয়া এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়ন পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া সফর করছে। প্রতিনিধি দলটি গত মঙ্গলবার কোরিয়ার সরকারি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক সংস্থা, শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে। গতকাল বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পুঁজি কীভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে আনা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন দুইপক্ষ। কেআইসির ইকুইটি বিনিয়োগের সঙ্গে কোরিয়া এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের (কেএক্সিম) অর্থায়ন যুক্ত করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হয়। কোরীয় ফান্ড ম্যানেজারদের মাধ্যমে এ ধরনের বিনিয়োগের বিষয়টি আলোচনায় আসে।
উল্লেখ্য, সার্বভৌম সম্পদ তহবিল হলো সরকারের মালিকানাধীন বিশেষ বিনিয়োগ তহবিল। দেশের আর্থিক সম্পদ থেকে দীর্ঘমেয়াদে মুনাফা অর্জন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে এ তহবিলের অর্থ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করা হয়। বাংলাদেশ ২০১৭ সালে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবহার করে এ ধরনের তহবিল গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে তা বাতিল করা হয়।

কোরিয়া এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোয়াং কিয়নের সঙ্গে বৈঠকে ২০২৩-২০২৭ মেয়াদের ৩০০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিলের (ইডিসিএফ) ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি পর্যালোচনা করেছে দুইপক্ষ। এ কাঠামোর আওতায় কয়েকটি অগ্রাধিকার প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা এমআরটি লাইন-৫-এর দক্ষিণ রুট, মতলব উত্তর-গজারিয়া সেতু এবং ২৬০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী রেলকোচ সংগ্রহ।

ইডিসিএফের অবশিষ্ট অর্থ ব্যবহারে বাংলাদেশ একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা প্রস্তাব করেছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল রূপান্তর, স্মার্ট অবকাঠামো ও সরবরাহব্যবস্থার মতো নতুন খাতে অর্থায়নের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। কেএক্সিম জানিয়েছে, ইডিসিএফের অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কোরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রকল্প প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করা হবে।
কোরিয়ার অর্থ ও অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় ভাইস মিনিস্টার চ্যাং হুহর সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও কৌশলগত পর্যায়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নত উৎপাদন, জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইজিএনডি) উদ্যোগের মাস্টারপ্ল্যান তৈরিতে কোরিয়ার কারিগরি সহায়তার বিষয়টিও স্বাগত জানানো হয়। এ উদ্যোগের অর্থায়ন ও বাস্তবায়নে আরও বিস্তৃত অংশগ্রহণের আহ্বান জানায় বাংলাদেশ
এআই সহযোগিতার ক্ষেত্রেও আলোচনা হয়েছে। এলজি এআই রিসার্চের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের ভাষা ও সংস্কৃতির উপযোগী লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) তৈরির বিষয়ে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উৎপাদন ও সরকারি সেবায় এআই ব্যবহারের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। পাশাপাশি বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এআই ও ডেটা সেন্টার হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
কোরিয়ার বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ আকর্ষণেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল। স্যামসাং সিঅ্যান্ডটির সঙ্গে অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নগর উন্নয়ন, পর্যটন ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। রুফটপ ও বড় পরিসরের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগ সাবেক মন্ত্রী, এমপিসহ ২০ ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দ হচ্ছে

মজুরি বাড়ানোর দাবিতে চলমান তৈরি পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে অর্থায়ন ও জনবল দিয়ে সহায়তা করার গোয়েন্দা তথ্য ধরে অন্তত ২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সব ব্যাংকে নির্দেশনা পাঠিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ তালিকায় দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকটি শিল্প গ্রুপের মালিক, সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং রাজনৈতিক কর্মীও আছেন। এদের বেশির ভাগ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বা আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী ছিল। এদের কারও কারও ব্যাংক হিসাব ৫ আগস্টের পর দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) একাধিাক সংস্থার মামলায় জব্দ করা হয়। কেউ কেউ কারাগারে আছেন; কেউ দেশের বাইরে। ফলে অভিযোগ বিষয়ে তাৎক্ষণিক তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

গত মঙ্গলবার এনবিআরের এক অনুষ্ঠানে সংস্থাটির চেয়ারম্যান আহসান হাবিব কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, বিশেষ একটি কারণে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও আয়কর গোয়েন্দা বিভাগ ৩৪ ব্যক্তি ও ৩৪টি পরিবারের ব্যাংক হিসাব জব্দ করছে।

রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ১২টি গ্রুপের মালিক এ আন্দোলনে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করার জন্য অর্থায়ন করছেন। এ তালিকায় রয়েছেন সিপাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিপু মুনশি। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন।

একই অভিযোগে ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হচ্ছে বেক্সিমকো গ্রুপের মালিক সালমান এফ রহমানেরও। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বেসরকারি বিনিয়োগ-বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন।

এ ছাড়া যাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছেন– এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদী, রেনেসাঁ গ্রুপের মালিক ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, হামিদ গ্রুপের মালিক এবং সাবেক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, ফেবিয়ান গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, তুসুকা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়জুর রহমান বাদল, ওয়েল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আবদুস ছালাম, নিপা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খসরু চৌধুরী, অ্যাক্সিস নিটওয়্যারস লিমিটেডের পরিচালক জাহিদ আহমেদ টুলু, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম মোশাররফ হোসেন, গিভেন্সি গ্রুপের চেয়ারম্যান মাসুমা খাতুন লিপা।

এ ছাড়া মিরপুর এলাকায় আন্দোলনে অর্থ জোগান দেওয়ার অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি ও শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলমের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কিছু ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হচ্ছে। তারা হলেন– সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহর ভাগনে আলিফ মোল্লা, শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলমের সহযোগী মাহবুবুর রহমান জুয়েল, স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মী কামাল গাজী ও শুভ নামে এক ব্যক্তি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অনলাইনে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। তাঁর নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫টি হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, ফেসবুক পেজে আন্দোলনের বিভিন্ন স্থানের ভিডিও, ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করছেন প্রায় ১৫০ ব্যক্তি। এদের মধ্যে বাহাউদ্দিন নাছিমের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, পোশাক খাতের চলমান অস্থিরতার পেছনে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের ইন্ধন রয়েছে। এ কাজে কিছু শিল্প মালিকও জড়িত– সরকারের কাছে এমন তথ্য-প্রমাণ আছে।

ব্যাংক হিসাব জব্দের বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআরের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এরই মধ্যে ব্যাংকগুলোকে এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার জন্য ইমেইলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গাজীপুরে সিলিন্ডারের গ্যাস লিকেজ থেকে আগুন, দগ্ধ ৪

গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার রি-টেস্টিং সেন্টারে গ্যাস লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। দগ্ধদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মহানগরের নাওজোড় এলাকায় রিয়াজ ফিলিং স্টেশনসংলগ্ন ইউনাইটেড সিলিন্ডার রি-টেস্টিং সেন্টার-২-এ এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া সেলের সদস্য তালহা বিন জসিম জানান, অগ্নিকাণ্ডে চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে- আব্দুল্লাহর(১৮) শরীরের ২০ শতাংশ, ১৯ বছর বয়সী আহাদের ৫৫ শতাংশ, ২৬ বছর বয়সী আশরাফুলের ১৫ শতাংশ এবং ২৫ বছর বয়সী নাঈমের ৪ শতাংশ পুড়ে গেছে।

তিনি আরও জানান, দগ্ধদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আব্দুল্লাহ ও আহাদকে মেডিকেল হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এমএইচডিইউ) রাখা হয়েছে। নাঈমকে জরুরি বিভাগে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। শরীরের ৫৫ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় আহাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ভোগড়া মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. হিরণ মিয়া জানান,  রাত ৮টা ৪০ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। প্রথমে দুজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

মুশফিক-তাসকিনকে ফিরিয়ে সিলেট টেস্টে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

০

সিলেট টেস্টে টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। একাদশে দুটি পরিবর্তন এনেছে স্বাগতিকেরা। চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন মুশফিকুর রহিম। পেসার শরীফুল ইসলামের জায়গায় একাদশে সুযোগ পেয়েছেন তাসকিন আহমেদ।

মিরপুরের মতো সিলেটেও তিন স্পিনার ও দুই পেসার নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। একাদশে মেহেদী হাসান মিরাজ, নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলামের সঙ্গে পেস আক্রমণে রয়েছেন তাসকিন ও হাসান মাহমুদ।

বাংলাদেশের একাদশ: তানজিদ হাসান, সাদমান ইসলাম, নাজমুল হোসেন, তাওহিদ হৃদয়, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাঈম হাসান, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ।

অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের একাদশেও এসেছে দুটি পরিবর্তন। ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে টেস্ট অভিষেক হয়েছে কেভিন উইকহ্যামের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে টেস্ট খেলতে নামা ৩৪৯তম ক্রিকেটার তিনি। একাদশে ফিরেছেন উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান জশুয়া ডা সিলভাও। ক্যারিবীয়দের একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন জন ক্যাম্পবেল ও তেজনারাইন চান্দারপল।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের একাদশ: ব্র্যান্ডন কিং, জশুয়া ডা সিলভা, কেভিন উইকহ্যাম, কাভেম হজ, জাস্টিন গ্রিভস, আমির জাঙ্গু, রস্টন চেইস, শামার জোসেফ, জেডেন সিলস, জশুয়া বিশপ ও জোমেল ওয়ারিক্যান।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নতুন বাস্তবতার মুখে ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে তুলে দেওয়ায় সম্পূর্ণ বদলে যাওয়া এক রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রতি বড় ধরনের অনাস্থা প্রকাশ করে এই রায় দিয়েছেন ভোটাররা।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন বলছে, ৮০ বছর বয়সী ট্রাম্পের জন্য এই ফলাফল ব্যক্তিগতভাবে বড় ধরনের অপমান। জ্বালানির আকাশছোঁয়া দাম এবং ইরানের সঙ্গে তাঁর ব্যয়বহুল ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের বিরুদ্ধে জন-অসন্তোষের জেরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতেও ডেমোক্র্যাটরা বিজয়ী হয়েছেন।

সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ– কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ার অর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ট্রাম্পের একচ্ছত্র প্রভাবের অবসান ঘটেছে। এখন ডেমোক্র্যাটরা বিভিন্ন আইন প্রণয়নে বাধা দিতে পারবেন, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে পারবেন এবং তাঁর মনোনীত বিভিন্ন পদে নিয়োগ আটকে দিতে পারবেন।

প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের নেতা হাকিম জেফ্রিস বলেছেন, ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা মাগা আন্দোলন এখন পিছু হটছে। আগামী জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে জেফ্রিস প্রতিনিধি পরিষদের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হওয়ার সুযোগ পাবেন।

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি নিজে নির্বাচনে প্রার্থী হলে রিপাবলিকানরা ‘বিশাল ব্যবধানে’ জয়ী হতো। অথচ নির্বাচনী প্রচারের পুরো সময় তিনি সমর্থকদের বারবার বলেছিলেন, তারা যেন ধরে নেন তিনিও ব্যালটে রয়েছেন। ডেমোক্র্যাটদের পাস করা বিলে প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগের হুমকিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লাল রঙের একটি বেসবল ক্যাপের ছবি পোস্ট করেন, যাতে শুধু ‘ভেটো’ শব্দটি লেখা ছিল। তবে নতুন কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

একক কৃতিত্ব নেই 

মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ব্যবধানে এই জয়ের কৃতিত্ব ডেমোক্রেটিক পার্টির কোনো একটি নির্দিষ্ট অংশ এককভাবে দাবি করতে পারবে না। বরং দলের সব অংশই এই জয়ের কৃতিত্বের দাবিদার। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন বলছে, ৪৩৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদে ২২৮ আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। অন্যদিকে রিপাবলিকান পার্টি পেয়েছে ১২৬ আসন। আর সিনেটে ৫৪টি আসন পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। মঙ্গলবার রাতে ডেমোক্রেটিক পার্টির সব ধারার নেতাকেই বিজয়ী হতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে ছিলেন মধ্যপন্থি, প্রগতিশীল, জনতুষ্টিবাদী এবং গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন বলছে, ডেমোক্র্যাটদের জয় এতটাই ব্যাপক ও বড় ব্যবধানের ছিল যে, দলের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য দিয়ে এই ফলাফল ব্যাখ্যা করা কঠিন। এ বছর নির্বাচনে জিততে ডেমোক্র্যাটদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে পরিচয়টি প্রয়োজন ছিল, তা হলো তারা রিপাবলিকান নন।
ডেমোক্র্যাটদের জন্য একের পর এক রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন ট্রাম্প নিজেই। ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয় যুদ্ধের কারণে বেড়েছে পণ্যমূল্য। তাঁর বিশৃঙ্খল শুল্কনীতি ক্ষুদ্র ব্যবসা, কৃষক এবং আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা খাতে বরাদ্দ কমানো, অভিবাসনবিরোধী বহিষ্কার অভিযান, ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির চেষ্টা এবং লিংকন মেমোরিয়ালের রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কার নিয়ে অন্তহীন বিতর্ক– সবকিছুই তাঁর বিরুদ্ধে গেছে।

ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের গভর্নরের পদেও জয় পেয়েছেন তারা। একই সঙ্গে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে আইনসভা ও গভর্নরের পদ– দুইয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্য তৈরি করেছেন ডেমোক্র্যাটরা। রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। এমন অনেক এলাকায় তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, যেগুলো ছয় মাস আগেও দলটির সম্ভাব্য জয়ের তালিকায় ছিল না।
ক্যানসাস ও সাউথ ক্যারোলাইনা থেকে নতুন ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন। বিশেষ করে ক্যানসাস ৯৪ বছর পর প্রথম ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত করেছে। সাউথ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকান প্রার্থী ও বর্তমান সিনেটর ডারলাইন গ্রাহামকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। অঙ্গরাজ্যটি থেকে প্রায় তিন দশক পর কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। ১৯৯৮ সালের পর সাউথ ক্যারোলাইনা থেকে আর কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হননি।

টেক্সাসেও ডেমোক্র্যাটরা জয় পেয়েছেন। এমনকি গ্রামীণ এলাকার যেসব আসন থেকে আগে জয়ের আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন ডেমোক্র্যাটরা, সেখানকার ভোটারদেরও নিজেদের পক্ষে আনতে পেরেছেন তারা। মেইনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে জেতাতে গিয়ে ভোটাররা যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ৩০ বছর দায়িত্ব পালন করা এক অভিজ্ঞ রিপাবলিকান রাজনীতিককে পরাজিত করে দিয়েছেন।

আইওয়ার ডেস মইনেসে ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী ফলাফল পর্যবেক্ষণের অনুষ্ঠানে উচ্ছ্বাসের মাত্রা ছিল প্রায় অবিশ্বাস্য। সেখানে গভর্নরের কার্যালয়, সিনেটের একটি আসন এবং প্রতিনিধি পরিষদের চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে জয় পেয়েছে দলটি। অঙ্গরাজ্যটির পরবর্তী গভর্নর নির্বাচিত হওয়া রব স্যান্ড বিজয়ী ভাষণে সমর্থকদের বলেন, ‘আইওয়ার ডেমোক্র্যাটদের জন্য গত কয়েক বছর বেশ কঠিন ছিল।

তবে এখন অঙ্গরাজ্যে ভারসাম্যপূর্ণ সরকারব্যবস্থা আবার ফিরে এসেছে।’ পাশাপাশি আগে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা ওহাইও, নর্থ ক্যারোলাইনার নিয়ন্ত্রণও চলে গেছে ডেমোক্র্যাটদের হাতে। সব মিলিয়ে সাতটি ঘাঁটি হারিয়েছে রিপাবলিকান পার্টি। এদিকে জর্জিয়ায় গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট কিশা ল্যান্স। ইতিহাসে এই প্রথম মার্কিন কোনো অঙ্গরাজ্য কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর পেল।

নিউ হ্যাম্পশায়ারের রচেস্টারের স্বতন্ত্র ভোটার রেবেকা কনরস বলেন, ট্রাম্পকে বার্তা দিতেই তিনি ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, ‘তিনি (ট্রাম্প) সর্বত্র বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন।’ বিজয়ের পর মিনেসোটার নবনির্বাচিত ডেমোক্র্যাট সিনেটর পেগি ফ্লানাগান বলেন, ‘এই অঙ্গরাজ্যজুড়ে এবং পুরো দেশেই মানুষ বলছে, এবার যথেষ্ট হয়েছে।’

আন্তর্জাতিক অঙ্গন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়া আশা প্রকাশ করেছে, ট্রাম্প তাঁর ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা’ অব্যাহত রাখবেন। অন্যদিকে চীন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তারা কাজ চালিয়ে যাবে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, মার্কিন নির্বাচনের ফলাফলে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে বলে তিনি মনে করেন না। এদিকে হরমুজ প্রণালিতে আক্রমণের একদিন পরে নির্বাচনের দিন ট্রাম্প জানান, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলার পরিকল্পনা নেই তাঁর। এর প্রয়োজন পড়বে না। তবে তারা প্রস্তুত আছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত আবদুল এল-সায়েদ

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেটের শূন্য আসনে মঙ্গলবার জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। সংবাদমাধ্যমগুলোর নির্বাচনী পূর্বাভাস অনুযায়ী, তাঁর এই জয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হলেন তিনি।

হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে এল-সায়েদের জয় ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশের জন্য একটি বড় অর্জন। ৪২ বছর বয়সী এল-সায়েদ জনস্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা। নির্বাচনী প্রচারে তিনি কর্মজীবী পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং রাজনীতিতে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাব হ্রাসের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

নির্বাচনে এল-সায়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ৬৩ বছর বয়সী মাইক রজার্স। তিনি কংগ্রেসের সাবেক সদস্য এবং এফবিআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা। ট্রাম্প ও জাতীয় পর্যায়ের রিপাবলিকান নেতাদের জোরালো সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

রজার্স নির্বাচনী প্রচারে এল-সায়েদকে উগ্রপন্থি এবং ইসলামী চরমপন্থার প্রতি সহানুভূতিশীল প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে কথিত সম্পর্কের অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে এল-সায়েদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং অভিযোগগুলোর পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিরোধের জেরে বন্ধুকে হত্যা কুয়েতে বাংলাদেশি প্রবাসীকে মৃত্যুদণ্ড

কুয়েতে এক বাংলাদেশি প্রবাসীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি ফৌজদারি আদালত। বিরোধের জেরে বন্ধুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার দায়ে সাজা দেওয়া হয় তাঁকে।

গতকাল বুধবার গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির আদালত গত মঙ্গলবার ওই রায় দেন। ওই ব্যক্তিকে ইচ্ছাকৃত ও পূর্বপরিকল্পিত হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

কৌঁসুলিরা জানান, নিহত ব্যক্তি আসামির স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। আসামি বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও সেগুলো ডিলিট করতে অস্বীকৃতি জানান ওই ব্যক্তি।

আসামি আদালতে বলেন, তাঁর বন্ধু তাঁর স্ত্রীর সম্মতি ছাড়াই তাদের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ছবিগুলো তুলেছিলেন। তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য পোস্ট করার পর তিনি বন্ধুকে বারবার ছবিগুলো মুছে দেওয়ার অনুরোধ করেন।

আসামি বলেন, তাঁর বন্ধু ছবিগুলো ডিলিট করেননি। বরং পরে আরও ছবি পোস্ট করেন। এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়ে যায়। এই বিরোধের জেরে তিনি প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং বন্ধুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

আইনজীবীদের দেওয়া তথ্যানুসারে, আসামি একটি ছুরি দিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং তাঁর বন্ধু কর্মস্থলে আছেন নিশ্চিত হওয়ার পর বাইরে কাছেই একটি জায়গায় অপেক্ষা করতে থাকেন। পরে আসামি তাঁর ওপর হামলা চালান এবং মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে বারবার ছুরিকাঘাত করেন। আদালতের কার্যক্রম চলাকালে আসামি অভিযোগ স্বীকার করেন।