Home Blog Page 32

কাতারের এলএনজি বন্ধ স্পটে মিলছে না কার্গো, গ্যাস নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে

০

হরমুজ প্রণালি ঘিরে অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ বন্ধের মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে কাতার এনার্জি। এতে কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় তুলনামূলক কম দামে পাওয়া এই গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ থাকলে ঘাটতি পূরণে স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হবে বাংলাদেশকে। কিন্তু স্পট মার্কেট থেকে কার্গো পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। উচ্চ দামেও কার্গো পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এসব কারণে চলমান গ্যাস সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশের এলএনজি আমদানির অন্যতম প্রধান উৎস কাতার। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার এনার্জি থেকে এলএনজি আমদানি করা হয়। ওমানের সঙ্গেও রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি। এই চুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো তুলনামূলক স্থিতিশীল দামে দীর্ঘ সময় গ্যাস পাওয়া যায়। স্পট মার্কেটের মতো প্রতিদিন দামের বড় ওঠানামার ঝুঁকি এ ক্ষেত্রে কম।

কিন্তু হরমুজ প্রণালি ঘিরে অস্থিরতায় সেই সরবরাহ ব্যবস্থাই এখন বড় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এলএনজি বহনকারী জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি গুরুত্বপূর্ণ পথ। কাতারের এলএনজি রপ্তানির বড় অংশ এই পথের ওপর নির্ভরশীল। সেখানে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হলে কাতার থেকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সরবরাহ ব্যাহত হয়।

চলতি বছরের মার্চে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মধ্যে এলএনজি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কাতার সরবরাহ বন্ধ রাখে। জুলাইয়ে কাতার থেকে একটি কার্গো বাংলাদেশে এলেও দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। সর্বশেষ অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে কাতারের সরবরাহের মেয়াদ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তাই আপাতত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার থেকে নিয়মিত কার্গো পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (পিএসসি) ও অপারেশনের চলতি দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী শোয়েব আহমেদ বলেন, কাতার এনার্জির কাছ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি পায়নি পেট্রোবাংলা। এর আগেও ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালির অস্থিরতার কারণে কাতার অনিবার্য পরিস্থিতির কথা জানিয়ে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ রেখেছিল। তিনি বলেন, আবারও এমন পরিস্থিতি হলে আপাতত স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনা ছাড়া তেমন বিকল্প নেই।

স্পট মার্কেটে কার্গো নিয়ে সংকট

কাতারের দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ অনিশ্চিত হওয়ার মধ্যে ঘাটতি পূরণে স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। কিন্তু সেখানেও কার্গো পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সরবরাহের জন্য এলএনজি কিনতে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হলেও ৮-৯ সেপ্টেম্বর সরবরাহের একটি কার্গোর জন্য কোনো সরবরাহকারী প্রস্তাব দেয়নি। একইভাবে ১-২ অক্টোবর সরবরাহের জন্য আহ্বান করা কার্গোর বিষয়ে কোনো প্রস্তাব পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ২৫-২৬ সেপ্টেম্বর এবং ৫-৬ অক্টোবর সরবরাহের জন্য দুটি কার্গোর প্রস্তাব পাওয়া গেলেও দাম চাওয়া হয় অস্বাভাবিক বেশি দাম। প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম চাওয়া হয় ২৫ দশমিক ৯২ ডলার।

এ পরিপ্রেক্ষিতে চারটি কার্গোর জন্য আবারও দর প্রস্তাব চেয়েছে পেট্রোবাংলা। গত সোমবার জারি করা এক নোটিশে ৩০টি প্রতিষ্ঠানের কাছে চারটি কার্গোর জন্য মূল্য প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে। নোটিশ অনুযায়ী, ৮-৯ সেপ্টেম্বর, ২৫-২৬ সেপ্টেম্বর, ১-২ অক্টোবর এবং ৫-৬ অক্টোবর সরবরাহের জন্য এসব কার্গো কেনা হবে। প্রতিটি কার্গোর দর প্রস্তাব জমা দেওয়ার শেষ সময় আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১০টা ৩৬ মিনিটের মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রস্তাব দিতে হবে এলএনজি স্পট পারচেজ সফটওয়্যারের মাধ্যমে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র বলছে, সেপ্টেম্বর মাসে জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) সূচকে এলএনজির দাম রয়েছে প্রতি ইউনিট ২২ দশমিক ৯৫ থেকে ২৩ দশমিক ৫০ ডলারের মধ্যে। এর চেয়ে প্রায় ২ থেকে ৩ ডলার বেশি দামে কার্গো কেনা হলে সরকারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হবে। খুব অল্প সময়ে সরবরাহ নিশ্চিত করতে হলে কিছুটা বেশি দাম স্বাভাবিক হলেও এত বড় ব্যবধানকে অস্বাভাবিক মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি মাসে ১০টি এলএনজি কার্গোর মধ্যে সাত থেকে আটটি স্পট মার্কেট থেকে কিনতে হচ্ছে। স্পট মার্কেটে প্রতি কার্গোর জন্য ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। বিপরীতে ওই গ্যাস বিক্রি করে সরকার পায় প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্গোতে লোকসান হচ্ছে ৭০০ কোটি টাকার বেশি। এ হিসাবে প্রতি মাসে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতেই সরকারের বাড়তি লোকসান দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।

এরই মধ্যে আগস্টের এলএনজি আমদানির জন্য পেট্রোবাংলাকে ৪ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে সরকার। সেপ্টেম্বরের জন্যও বড় অঙ্কের ভর্তুকি প্রয়োজন হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেশি থাকলে চলতি বছরে এলএনজি আমদানিতে সরকারের লোকসান আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দুই মাস ধরে গ্যাস সংকট

দেশে প্রায় দুই মাস ধরে গ্যাস সংকট চলছে। দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি জুলাই-আগস্ট মাসে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় সংকট আরও তীব্র হয়। পরে টার্মিনাল চালু হলেও কার্গো নিয়ে নানা জটিলতা দেখা দেয়। একই সময়ে দেশীয় গ্যাস উৎপাদনও ধারাবাহিকভাবে কমছে।

গতকাল রাত ৮টার তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২৩২ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস ১৬১ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট এবং আমদানি করা এলএনজি বা আরএলএনজি ৭০ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুট। অথচ দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট।

বর্তমানে দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে দৈনিক ৭০ কোটি ঘনফুটের বেশি গ্যাস সরবরাহ করা হলেও টার্মিনাল দুটির সম্মিলিত সক্ষমতা প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ সক্ষমতা অনুযায়ী সরবরাহ করা গেলেও জাতীয় গ্যাস ব্যবস্থায় বড় ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।

শিল্পে বাড়ছে উৎকণ্ঠা

গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বড় চাপ পড়ছে শিল্পে। গ্যাসনির্ভর কারখানাগুলো প্রয়োজনীয় গ্যাস না পাওয়ায় উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ বা ছুটি ঘোষণা করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনাও ঘটছে।

কাতারের দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়া এবং স্পট মার্কেট থেকেও প্রয়োজনীয় সময়ে কার্গো পাওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় শিল্পে সংকট আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। সামনে এলএনজি সরবরাহে বড় কোনো স্বস্তি না এলে গ্যাসনির্ভর শিল্পে উৎপাদন আরও কমে যাওয়ার পাশাপাশি নতুন করে কারখানা বন্ধের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ময়মনসিংহের ভালুকা শিল্পাঞ্চলেও গ্যাস সংকটে উৎপাদন নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গ্যাসের চাপ কম। ২০ আগস্টের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। শিল্প পুলিশ এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গ্যাসের অভাবে এরই মধ্যে দুটি কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে। আরও পাঁচটি কারখানার গ্যাসনির্ভর ইউনিট বন্ধ রয়েছে। শিল্পাঞ্চলের প্রধান কারখানাগুলোর উৎপাদন গড়ে প্রায় ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে।

ভালুকায় ছোট-বড় দুই শতাধিক কারখানার মধ্যে ৯৯টি গ্যাসনির্ভর। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় টেক্সটাইল, স্পিনিং, ডাইং ও সিরামিক শিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গ্যাসনির্ভর কারখানায় উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি শ্রমিকদের ধাপে ধাপে ছুটিও দেওয়া হচ্ছে। শিল্প পুলিশ বলছে, সংকট দীর্ঘায়িত হলে শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা রয়েছে।

তিতাস গ্যাসের ভালুকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংকটের সময়ে শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ ৩০ থেকে ৫০ পিএসআইয়ে নেমে আসে। কখনও ৬০ থেকে ৯০ পিএসআই পর্যন্ত উঠলেও স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য তা পর্যাপ্ত নয়। তাই গ্যাস সংকটের প্রভাব এখন শুধু উৎপাদন কমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; কারখানা বন্ধ ও কর্মসংস্থান ঝুঁকির আশঙ্কাও বাড়ছে।

মায়ের মৃত্যুর পর পেনশনের টাকা পেতে ঘুষ দাবি, ক্ষোভে ‌‘ঘুষ সাইট’ তৈরি শাহেদের

০

মায়ের মৃত্যুর পর সরকারি পেনশনের প্রভিডেন্ট ফান্ড ও কল্যাণ তহবিলের টাকা তুলতে গিয়ে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসে পদে পদে ঘুষ দিতে হয়েছে। এরপর নিজের পাসপোর্ট করতেও একই তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয় ১৭ বছরের শাহেদ শরীফ আহমেদের। প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে গড়ে ওঠা ঘুষ সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি নিয়েছেন অভিনব প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগ। ভুক্তভোগীরা যাতে পরিচয় গোপন রেখে ঘুষ দাবির অভিজ্ঞতা জানাতে পারেন, সে জন্য তিনি তৈরি করেছেন ‘ঘুষ.সাইট’ (ghush.site) নামের একটি উন্মুক্ত ওয়েবসাইট।

শাহেদ শরীফ আহমেদ ময়মনসিংহ ক্যান্টনমেন্ট এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বাবার সঙ্গে থাকেন। তিনি ব্রিটিশ কাউন্সিলের অধীনে কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনালের এ-লেভেলে পড়াশোনা করছেন। তাঁর বাবা শরীফুল ইসলাম (শামীম) আগে সৌদি আরবের একটি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার পূর্বপাড়ায়।

শাহেদের মা মরহুমা আমিনা খাতুন ময়মনসিংহ সদরের আজমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। ২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

প্রভিডেন্ট ফান্ড ও পেনশনে ঘুষ দাবি

শাহেদের পরিবার জানায়, চাকরির ১৩ বছরের মাথায় আমিনা খাতুনের মৃত্যুর পর তাঁর প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা প্রায় ৭ লাখ টাকা তুলতে গিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে মোট ৩৮ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। এর মধ্যে ট্রেজারি অফিসে ১০ হাজার, জেলা শিক্ষা অফিসে ২০ হাজার এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ৮ হাজার টাকা দিতে হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ।

এখানেই শেষ নয়। কল্যাণ তহবিলের ২ লাখ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৮ লাখ টাকা—মোট ১০ লাখ টাকার সরকারি সুবিধা তুলতে শিক্ষা অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করছেন বলেও অভিযোগ করেছে পরিবারটি। টাকা না দিলে ফাইল এগোবে না বলে জানানো হয়েছে।

৯ দিনে হাজারো অভিযোগ

ওয়েবসাইটটি চালু হওয়ার মাত্র নয় দিনের মধ্যে রোববার দুপুর পর্যন্ত ৯ হাজার ৬৬৫টি ঘুষের অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে দাবিকৃত ঘুষের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। উদ্যোক্তাদের মডারেশন টিম অভিযোগগুলো নিয়ম অনুযায়ী পর্যালোচনা করে। যাচাই-বাছাইয়ের পর সেগুলো ওয়েবসাইটের ড্যাশবোর্ডে প্রকাশ করা হচ্ছে।

যেভাবে তৈরি হলো ‘ঘুষ.সাইট’

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার তীব্র ক্ষোভ থেকেই ওয়েবসাইটটি তৈরির উদ্যোগ নেন শাহেদ। তিনি জানান, তাঁর মায়ের পেনশনের ফাইল আটকে রেখে লাখ টাকা ঘুষ চাওয়া হচ্ছিল। এর আগে ও-লেভেল পরীক্ষার সময় পাসপোর্ট করতে গিয়েও তাঁকে ঘুষের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়।

শাহেদের ভাষ্য, পাসপোর্টের ফাইল আটকে রেখে ১ হাজার ৫০০ টাকা ঘুষ চাওয়া হয়েছিল। টাকা দেওয়ার মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যেই কাজ হয়ে যায়। এসব অভিজ্ঞতা থেকেই দুর্নীতি ও প্রশাসনিক হয়রানির বিরুদ্ধে কিছু করার চিন্তা আসে তাঁর।

ভারতে এ ধরনের একটি ওয়েবসাইট দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে মাত্র দুই ঘণ্টার কোডিংয়ের মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মটির মৌলিক কাঠামো তৈরি করেন শাহেদ। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি অনলাইনে ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট শিখেছেন।

পরে বন্ধু ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা সাইফ কবিরের সহযোগিতায় ডোমেইন কেনা হয় এবং গত ২১ আগস্ট ওয়েবসাইটটি চালু করা হয়। ডোমেইন কেনাসহ সব মিলিয়ে উদ্যোগটি বাস্তবায়নে তাঁদের খরচ হয়েছে প্রায় ১০০ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার টাকা।

অভিযোগ যাচাইয়ে মডারেশন টিম

অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য চার সদস্যের একটি মডারেশন টিম কাজ করছে। ওয়েবসাইটে জমা পড়া অভিযোগগুলো পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় যাচাইয়ের পর প্রকাশ করা হচ্ছে।

শাহেদ জানান, উদ্যোগটির সঙ্গে নিরাপত্তা ও আইনি ঝুঁকির বিষয়ও রয়েছে। তবে এসব ঝুঁকি মোকাবিলা করেই প্ল্যাটফর্মটিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা।

অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে শিশুসহ তিনজনকে গাছে বেঁধে মোটরসাইকেল ছিনতাই

০

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় পৃথক সময়ে দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মোটরসাইকেল, টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় এক ব্যক্তি ও তার দুই শিশুসন্তানকে মারধর করে মেহগনি বাগানে নিয়ে গাছের সঙ্গে গামছা দিয়ে বেঁধে রাখার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

সোমবার সন্ধ্যা সাতটা ও রাত নয়টার দিকে উপজেলার ফরিদপুর-গড়চাপড়া সড়কের ঘোড়ামারা ব্রিজ এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে বলে ভুক্তভোগীদের দাবি। খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

ভুক্তভোগী ফরিদপুর গ্রামের হারান মন্ডলের ছেলে বিপ্লব (৩২) বলেন, মাগরিবের নামাজের পর মোটরসাইকেলে গড়চাপড়া গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। ঘোড়ামারা ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে ছয়জন মুখোশধারী ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পথরোধ করেন। বিপ্লবের অভিযোগ, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হিরো হোন্ডা ১০০ সিসি মোটরসাইকেল, প্রায় দুই হাজার টাকা ও একটি মুঠোফোন নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে তাকে পাশের একটি মেহগনি বাগানে নিয়ে গাছের সঙ্গে গামছা দিয়ে হাত-পা বেঁধে রাখা হয়। সেখানে একজন দুর্বৃত্ত পাহারায় ছিল।

অন্যদিকে গড়চাপড়া গ্রামের বদরুদ্দিনের ছেলে শুকুর আলী (৩০) বলেন, পারকুলা এলাকায় একটি মিলাদ মাহফিল শেষে রাত নয়টার দিকে পাঁচ ও তিন বছর বয়সী দুই সন্তান সজিব ও রাজীবকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। ঘোড়ামারা ব্রিজের কাছে পৌঁছালে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত প্রায় নয়জনের একটি দল পথরোধ করে। শুকুর আলীর অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা তার ডায়াং ৮০ সিসি মোটরসাইকেল, সঙ্গে থাকা ৫০ টাকা ও তিন প্যাকেট খিচুড়ি নিয়ে যায়। এ সময় দুই শিশু কান্নাকাটি শুরু করলে আমাকে ও সন্তানদের মারধর করা হয়। পরে একটি মেহগনি বাগানে নিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। দুই সন্তানকে পাশে বসিয়ে একজন দুর্বৃত্ত পাহারা দিচ্ছিল।

শুকুর আলী বলেন, প্রায় ১০ মিনিট পর পাহারায় থাকা ব্যক্তি কিছুটা দূরে গেলে কৌশলে হাত-পায়ের বাঁধন খুলে দুই সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে গ্রামবাসীকে ঘটনাটি জানায়।

বিপ্লব বলেন, তার পাশের গাছে বাঁধা শুকুর আলী পালিয়ে যাওয়ার পর এক দুর্বৃত্ত এসে শুকুর আলী কোথায় জানতে চায়। তিনি পালিয়ে যাওয়ার কথা জানালে ওই ব্যক্তি অন্যদের জানাতে চলে যায়। এ সুযোগে  বাঁধন খুলে পালিয়ে গ্রামবাসীকে বিষয়টি জানায়।

আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

অভিনয় জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে: পারসা ইভানা

০

পারসা ইভানা। নৃত্যশিল্পী, মডেল ও অভিনেত্রী। ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর ইভা চরিত্র দিয়ে দর্শকের কাছে আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। সম্প্রতি ইউটিউবে প্রকাশ হয়েছে এ অভিনেত্রীর নাটক ‘বিভ্রম’। এ নাটক ও নানা প্রসঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন এমদাদুল হক মিলটন। 

 

‘বিভ্রম’ নাটকটিতে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
নাটকটি প্রকাশের পর দর্শকের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি। এটি ইয়াশ রোহানের সঙ্গে আমার প্রথম কাজ। বেশ আগের নাটক হলেও কাজটি দেখে অনেকেই তাদের ভালোলাগার কথা জানিয়েছেন। এ কারণে নাটকটি বারবার ইউটিউবে আপলোড করছে। আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লাগে যখন কোনো কাজ শুধু বিনোদন দেয় না; দর্শককে গল্প বা চরিত্র নিয়েও ভাবায়। ‘বিভ্রম’-এর গল্পে ভালোবাসা, মনের দ্বিধা এবং সম্পর্কের জটিলতা আছে। তাই কাজটি আমার কাছেও ভালো লেগেছে।

বাবা-মেয়ের সম্পর্ক নিয়ে ‘সম্পর্ক’ নাটকে তারিক আনাম খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন। দর্শক প্রতিক্রিয়া জানার সুযোগ হয়েছে?
হ্যাঁ, দর্শকের প্রতিক্রিয়া পেয়েছি। ‘সম্পর্ক’ আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। তারিক আনাম খান স্যারের মতো গুণী একজন অভিনেতার সঙ্গে কাজ করাটা অনেক বড় অভিজ্ঞতা। তাঁর কাছ থেকে শেখার সুযোগ হয়েছে। সহযোগিতাপরায়ণ একজন শিল্পী।

এখন তো যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। সময় কাটছে কেমন?
খুব ভালো কাটছে। মূলত মায়ের সঙ্গে সময় কাটাতে এখানে এসেছি। পাশাপাশি ঘোরাঘুরি করছি, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছি। ক্যাটস্কিল মাউন্টেন, জিম থর্প ঘুরেছি। নিউইয়র্কেও ঘুরে বেড়াচ্ছি। বন্ধুদের সঙ্গে নাচের কভার করছি। আম্মুর সঙ্গে মনের আনন্দে ঘুরে বেড়ানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে সময়টা বেশ উপভোগ করছি।

প্রায়ই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আপনার নিজের বাড়ির মতো। কেন এমনটি মনে হয়?
এখানে আমার মা আছেন, অনেক বন্ধু ও পরিচিত মানুষ আছেন। তাই নিউইয়র্কে এলে নিজের বাড়ির মতোই একটা অনুভূতি হয়। ঢাকার চেয়ে বেশি বন্ধু আছে যুক্তরাষ্ট্রে। তাই এখানে এলে ভালো লাগে। নিজের মতো করে থাকা যায়। ঢাকায় তো চাইলেও ঘুরতে যাওয়া যায় না। এবার পুরোনো শিক্ষকের সঙ্গেও দেখা করেছি, একটা ক্লাস করেছি। পরিচিত মানুষদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় ভালো লাগছে।

এবার কতদিন থাকবেন সেখানে?
কিছুদিন থাকব। মায়ের সঙ্গে ঘুরব এবং নিজের মতো করে সময় কাটাব। এখানে থাকলে মানসিক প্রশান্তি পাই।

নাচ নিয়ে কী পরিকল্পনা আছে?
নাচ তো আমার জীবনের অংশ। অভিনয়ের পাশাপাশি নাচ সবসময় করেছি। সামনে ভালো কোনো সুযোগ পেলে নাচ নিয়ে আরও কাজ করতে চাই। অভিনয় আর নাচ–দুটোকেই আমি নিজের সৃজনশীলতার জায়গা মনে করি।

সিনেমায় অভিনয়ের কী খবর?
সিনেমা করতেই হবে– এমন কোনো বিষয় আমার কাছে নেই। ভালো গল্প বা চরিত্র পেলে অবশ্যই কাজ করব। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো অভিনয়, মাধ্যম নয়। ইউটিউব, ওটিটি কিংবা বড়পর্দা–গল্প ও চরিত্র ভালো হলে মাধ্যম নিয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই।

‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর ইভা চরিত্রটিকে দর্শক এখনও মিস করেন। বিষয়টি কীভাবে দেখেন?
এটা আমার জন্য সত্যিই অনেক আনন্দের। অধিকাংশ মানুষ আমাকে ইভা হিসেবেই চেনেন। একটি চরিত্রকে দর্শক এতটা ভালোভাবে গ্রহণ করেছেন, এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে! পঞ্চম সিজনে আমি ছিলাম না। তারপরও দর্শক ইভাকে মিস করছেন। চরিত্রটি আমার ক্যারিয়ারে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। এটা আমার জন্য আশীর্বাদ।

প্রেম, বিয়ে নিয়ে কিছু ভাবছেন?
এ মুহূর্তে কাজ এবং নিজেকে নিয়ে ভাবছি। ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে খুব বেশি কথা বলতে চাই না। সময় হলে নিশ্চয়ই সবাই জানতে পারবেন। আপাতত নিজের কাজ, শেখা এবং জীবনকে উপভোগ করাটাই আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

অভিনয় ক্যারিয়ারে দশ বছর পার করেছেন। জার্নিটি কেমন ছিল?
অভিনয়ে না এলে দুনিয়া দেখতে পেতাম না। আমার কাজ মানুষ পছন্দ করেন। এ কারণেই নতুন কিছু করার উৎসাহ জাগে। দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। সেই জায়গা থেকে অভিনয়ের ওপর কোর্স করেছি। অভিনয়ে না এলে পারসা ইভানা হতে পারতাম না। নাচ দিয়ে মিডিয়ায় ক্যারিয়ার শুরু। হয়তো নাচ করতাম। পরে  স্কুল দিতাম। জীবনটা অন্যরকম হতো। কিন্তু অভিনয় জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। অভিনয়ে এসে এত কিছু শিখেছি যে তা মনে রাখার মতো। আমার চ্যালেঞ্জ নিতে ভালো লাগে।

পরিসংখ্যানের আয়নায় আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির যত অর্জন

০

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন লিওনেল মেসি। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের পথচলার ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা।

এর আগে ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের পর প্রথমবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি। তবে মাত্র দুই মাস পর সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন তিনি। এরপরে আর্জেন্টিনার হয়ে জিতেছেন কোপা আমেরিকা, ফাইনালিসিমা ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপসহ প্রায় সব বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা।

MESSI1 1788247696

আর্জেন্টিনার হয়ে ২০০৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত মেসি খেলেছেন ২০৭ ম্যাচ। গোল করেছেন ১২৫টি, সঙ্গে রয়েছে ৬৮টি অ্যাসিস্ট। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ১১টি হ্যাটট্রিক, ২৫টি পেনাল্টি ও ১২টি ফ্রি-কিক গোলও রয়েছে তার। এর মধ্যে বক্সের বাইরে থেকে ১৫টি এবং বক্সের ভেতর থেকে ৭৩টি গোল করেছেন। বাঁ পায়ে করেছেন ১১১ গোল, ডান পায়ে ১২টি এবং মাথায় ২টি।

MESSI2 1788247731

আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার পাশাপাশি সর্বোচ্চ গোলদাতাও মেসি। আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ১২৫ গোল নিয়ে তার অবস্থান দ্বিতীয়, যেখানে ১৪৬ গোল নিয়ে শীর্ষে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

MESSI3 1788247770

শুধু আর্জেন্টিনার জার্সিতেই নয়, বিশ্বকাপের মঞ্চেও একের পর এক রেকর্ড গড়েছেন মেসি। বিশ্বকাপে তার গোল ২১টি, যা ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ১২টি অ্যাসিস্ট তার। ৩৪ ম্যাচ নিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা ফুটবলারও তিনি। ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে যৌথভাবে সর্বোচ্চ আসরের রেকর্ডেও আছেন মেসি। বিশ্বকাপে ১৬ বার ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে এই তালিকাতেও সবার ওপরে তিনি।

MESSI4 1788247804

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির ট্রফির তালিকাটাও সমৃদ্ধ। জিতেছেন অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ, অলিম্পিক স্বর্ণপদক, ফাইনালিসিমা, দুটি কোপা আমেরিকা ও একটি বিশ্বকাপ।

MESSI5 1788247836

ব্যক্তিগত অর্জনেও তিনি অনন্য। মেসির ঝুলিতে রয়েছে ৮টি ব্যালন ডি’অর, ৮টি ফিফা ওয়ার্ল্ড প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার, দুটি বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল এবং দুটি কোপা আমেরিকার সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। দীর্ঘ এই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মেসি ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন ৫৫ বার।

নেপাল-তিব্বতে বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি হাজার ছাড়াল, নিখোঁজ ৪৪৬২

০

হিমালয় অঞ্চলে নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। গত ২৬ আগস্ট শুরু হওয়া এ দুর্যোগে দুই দেশে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ৪৬২ জন। মঙ্গলবার দুই দেশের সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে এ খবর জানিয়েছে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু।

নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এনডিআরআরএমএ) জানিয়েছে, নতুন করে আরও ৮৪ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়ায় দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৮৭ হয়েছে। এখনো নিখোঁজ ৩ হাজার ৯১৬ জন। তাদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত ৬৩৯ জনও রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে চীনের কর্তৃপক্ষ ১৬ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। দেশটিতে এখনো ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক। ফলে দুই দেশের তথ্য অনুযায়ী, মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩ এবং নিখোঁজ ৪ হাজার ৪৬২ জন। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৮৪৪।

গত ২৬ আগস্ট নেপালের লাংটাং লিরুং পর্বতের প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় একটি হিমবাহের অংশ ভেঙে যায়। এতে বরফ ও পাথরের বিশাল স্তূপ ধসে পড়ে এবং তা দ্রুত ভয়াবহ ধ্বংসাবশেষের স্রোতে পরিণত হয়। পরে সেই স্রোত সীমান্তবর্তী উপত্যকাগুলো দিয়ে নেমে এসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়।

নেপালে রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, কাভ্রে ও কাঠমান্ডু উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিম তিব্বত অঞ্চলের নেপাল সীমান্তের গিয়রং সীমান্তচৌকিও কাদা ও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে।

নেপাল ও চীনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় নাগরিক। দুই দেশের মধ্যে ২৭৫ জন ভারতীয় ও ১০০ জন চীনা নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।

মরদেহ উদ্ধারের সংখ্যা বাড়তে থাকায় নেপাল মরদেহ সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজার, ডিএনএ পরীক্ষার কিট, দূর অনুধাবন প্রযুক্তি এবং দুর্যোগকবলিত এলাকা চিহ্নিত করতে ড্রোন চেয়েছে।

উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারত বিভিন্ন দল পাঠিয়েছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ও উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা জানিয়েছেন, গিয়রং সীমান্তচৌকিতে পৌঁছাতে তাদের ১০ ঘণ্টা হেঁটে যেতে হয়েছে। সেখানে পৌঁছে তারা চীনের অংশে কোনো ভবন বা অন্যান্য অবকাঠামোর চিহ্নও দেখতে পাননি।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইউক্রেন সংঘাত সমাধানের পথে এগোচ্ছে রাশিয়া: পুতিন

০

ইউক্রেন সংঘাতের অবসান ঘটাতে রাশিয়া সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। কিরগিজস্তানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি এ কথা বলেন।

বিশবেকে ওই বৈঠক হয় স্থানীয় সময় সোমবার। সেখানে দুই নেতা ইউক্রেন সংঘাতসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এক সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী চলমান সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানান। জবাবে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ধন্যবাদ, প্রিয় প্রধানমন্ত্রী। আমরা সেদিকেই এগোচ্ছি।’

মস্কো বারবার জানিয়েছে, তারা যেকোনো সময় ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত। তবে সংঘাতের মূল কারণগুলোর সমাধান করা সেই আলোচনার প্রকৃত লক্ষ্য হতে হবে। মূল কারণগুলোর মধ্যে ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত।

রাশিয়ার দাবি, এই সংঘাতের শিকড় লুকিয়ে আছে ২০১৪ সালের একটি ঘটনায়। সে সময় কিয়েভে পশ্চিমাদের সমর্থনে অভ্যুত্থান হয়। পরে নতুন ইউক্রেনীয় সরকার দনবাস অঞ্চলের বিদ্রোহ দমন করতে শক্তি প্রয়োগের প্রচেষ্টা করে।

ইউক্রেন পরে ২০১৪-২০১৫ সালের মিনস্ক চুক্তিগুলো বাস্তবায়নেও ব্যর্থ হয়। এসব চুক্তির লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চলগুলোকে স্বায়ত্তশাসন দিয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে একীভূত করা।

গত জুন মাসে পলিটিকোতে প্রকাশিত এক নিবন্ধে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, ইউক্রেন ও ইউরোপের নিরাপত্তা সংকট কমাতে মস্কো সব ধরনের কূটনৈতিক পথ খতিয়ে দেখেছিল। কিন্তু ২০২২ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো রাশিয়ার প্রস্তাবিত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রত্যাখ্যান করে।

আইপিইউর কাছে অভিযোগ আওয়ামী লীগকে রাজনীতি থেকে মাইনাসের অপচেষ্টা চলছে

০

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গঠন প্রক্রিয়া থেকে বাইরে রাখার পর এখন রাজনীতি থেকে ‘মাইনাস’করার অপচেষ্টা চলছে বলে আন্তর্জাতিক সংসদীয় সংস্থা ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ। তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে আসা আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের কাছে এই নালিশ জানানো হয়।

সোমবার জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম এবং বিরোধী দলীয় এমপি আকতার হোসেন এই তথ্য জানান। এর আগে আইপিইউ প্রতিনিধি দলটি সংসদ ভবন পরিদর্শন করেন এবং স্পিকার, ডেপুটি স্পিকারসহ  সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন।

চিফ হুইপ বলেন, সফররত আইপিইউ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের সৌহার্দ্যপূর্ণ সংসদীয় কার্যক্রম এবং সুশৃঙ্খল ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়া সাম্প্রতিক রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছে। তবে সফরকালে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আইপিইউর কাছে আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তি ছড়াতে একটি লিখিত নালিশ পাঠানো হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে আইপিইউ প্রতিনিধি দলের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে আকতার হোসেন বলেন, ক্ষমতায় থাকতে আওয়ামী লীগ, আইপিইউর কাছে সবসময় দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র বহাল থাকার মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করত। বর্তমানে ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ার পর তারা উল্টো অভিযোগ করেছে, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়েই বা ‘মাইনাস’ করেই বর্তমান সংসদ গঠন করা হয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের প্রস্তাব এবং সংসদে বিরোধী দলের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়গুলো আইপিইউ প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরা হয়।

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম আইপিইউ প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করে বলেন, অতীতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং ছাত্রনেতারা যেভাবে নিপীড়নের শিকার হয়েছিল, বর্তমান সরকার সেই পথ পরিহার করে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংসদীয় ব্যবস্থা বজায় রাখতে কাজ করছে।

তিন দিনের ঢাকা সফরের অংশ হিসেবে গতকাল আইপিইউ প্রতিনিধি দলটি সংসদ ভবন পরিদর্শন করে এবং স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এ ছাড়া তারা ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় প্রতিনিধি এবং তরুণ ও নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গেও আলাদা বৈঠকে অংশ নেন।

গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে আগামী মাসে: রিজভী

০

চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট আগামী মাসে স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকটে বিএনপি সরকার দায়ী নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এই সংকট একটি বৈশ্বিক সংকট। আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধ…হরমুজ প্রণালি জাহাজ আসতে পারছে না। জ্বালানি আসতে পারছে না। দুই-একটা জাহাজ যখন আসার চেষ্টা করেছে, সেখানে বোমা পড়েছে। তারপরও তো তিনি (তারেক রহমান) বসে নেই! জ্বালানি-বিদ্যুতের বাজেটের ওপরে ৪০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে তিনি গ্যাসের সংকট সমাধান করছেন।’

সংকট নিরসনে সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, মহেশখালীতে এফএসআরইউর কারিগরি ত্রুটি মেরামত সম্পন্ন হয়েছে। এখন রিগ্যাসিফিকেশন শুরু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত থাকবে এবং বিদ্যুৎ থাকবে।

তিনি বলেন, তার কিছু আলামত আমরা দেখতে পাচ্ছি। সুতরাং সব সংকট মোকাবিলা করে তারেক রহমান দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

মূল্যস্ফীতির শঙ্কায় তিন ধাপে সরকারি কর্মচারীদের বেতন

০

মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন বেতন স্কেলের মূল বেতন তিন ধাপে কার্যকর করা হবে। তবে সব ধরনের ভাতা একযোগে মিলবে ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে। চলতি সপ্তাহেই এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে।

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে তথ্য অধিদপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে বেতন বৃদ্ধির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ।

সরকারের হিসাবে, প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখের বেশি অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আসবেন। এটি বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। তবে দুই অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে বেতন বাড়ানোর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির সম্ভাব্য চাপ সামাল দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়সহ বিভিন্ন বিষয় গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন বেতন স্কেল ঘোষণা হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কিনা– সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আগের পরিস্থিতিতে চলা কঠিন হয়ে পড়েছিল। জীবনযাত্রার মানও অনেক কমে গিয়েছিল। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দুদিকের মধ্যে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করা হয়েছে।

মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে তিন ধাপে বাস্তবায়ন
একযোগে পুরো বেতন না দিয়ে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পেছনে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিই প্রধান বিবেচনা ছিল বলে জানান নাসিমুল গনি। তাঁর ভাষায়, অবশ্যই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়টি খেয়াল রাখা হয়েছে। না হলে তো একযোগেই পুরো টাকা দিয়ে দেওয়া হতো।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭-এর মধ্যে মূল বেতন মোট তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এরপর ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে সব ভাতা একযোগে কার্যকর হবে। কম আয়ের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দিতে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একইভাবে পেনশনভোগীদের নিট পেনশনও ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে। বেতন বৃদ্ধির ফলে বাজারে অর্থপ্রবাহ বাড়বে বলেও মনে করছে সরকার।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মানুষের হাতে টাকা না থাকলে অর্থনীতি সচল থাকে না। কৃষকের হাতে সরাসরি টাকা দেওয়া, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সহায়তা কিংবা শিল্পীদের আর্থিক সহযোগিতার লক্ষ্যও বাজারে অর্থপ্রবাহ বাড়ানো। তিনি বলেন, মানুষের হাতে অর্থ গেলে তারা কেনাকাটা করবে এবং এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে। নতুন পে স্কেলের ক্ষেত্রেও একই চিন্তা থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যারা আগে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন, বেতন বাড়লে তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে।

১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে অগ্রাধিকার
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে কম আয়ের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের আগে সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি হিসাবে, নতুন কাঠামোয় নিম্ন গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি। ২০তম গ্রেডে বর্তমান মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার টাকায় উন্নীত হচ্ছে। অন্যদিকে প্রথম গ্রেডে নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার থেকে এক লাখ ৫৬ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। সরকারের যুক্তি, নিচের দিকের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় বেতন কাঠামোতেও তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

পেনশনেও বড় বৃদ্ধি
অবসরপ্রাপ্তদের জন্যও সুখবর রয়েছে নতুন কাঠামোয়। সরকার আপাতত ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ বা ওয়ান র‍্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন পদ্ধতি চালু না করলেও ২০৩০ সালের মধ্যে তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এর আগে ধাপভিত্তিক নিট পেনশন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হবে। মাসে ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন ১০০ শতাংশ বাড়বে। ৯ হাজার এক টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার এক থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার এক থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার এক টাকা বা তার বেশি নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ৫৫ শতাংশ বাড়বে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য নতুন সুবিধা
নতুন বেতন কাঠামোয় প্রথমবারের মতো সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য মাসে তিন হাজার টাকা ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এতদিন পঞ্চম গ্রেড পর্যন্ত থাকা মোবাইল ভাতার আওতা বাড়িয়ে সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারীকে এ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

0Samakal@AH 1788230539

টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডে অপেক্ষা
টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ বিষয়ে এসআরও জারি না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়। নিয়ম বা পরিবর্তনগুলো প্রজ্ঞাপন জারির পরই স্পষ্ট হবে।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে এক লাখ পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত অর্থ কোথা থেকে আসবে, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, তিন বছরের হিসাব ধরে এই অর্থের সংস্থান বিবেচনা করা হয়েছে। বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে পর্যায়ক্রমে অর্থের প্রয়োজন হবে। ফলে আগামী দুই বছরেই পুরো অর্থের প্রয়োজন পড়বে না।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই অতিরিক্ত ব্যয়ের অর্থ মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর আওতায় সংশ্লিষ্ট অর্থবছরগুলোর বাজেটে রাখা হয়েছে।

জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য পৃথক কমিটি
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো ঠিক করতে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জুডিশিয়াল সার্ভিস বেতন স্কেল অনুমোদন করা হবে। তবে তারা ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন পাবেন, যা ধাপে ধাপে কার্যকর হবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে জাতীয় পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো সম্ভব হবে।

ওয়েজ বোর্ডেও ‘গতি’ আসার আশা
সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার পর ওয়েজ বোর্ডের বিষয়টিতেও গতি আসবে। এটি আর আগের মতো পড়ে থাকবে না।
তবে প্রায় পাঁচ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী নতুন বেতন স্কেলের সুবিধা পাবেন কিনা, সে বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত যথাসময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে গত ২১ জানুয়ারি। বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি দীর্ঘ চার মাসে আটটি সভায় পর্যালোচনা শেষে গত ১২ আগস্ট চূড়ান্ত সুপারিশ প্রতিবেদন তৈরি করে। এর মধ্যে গত ৬ আগস্ট জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও সুপারিশ প্রণয়নে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের মন্ত্রী পর্যায়ের কমিটি গঠন করে সরকার। এরপর গতকাল সচিব কমিটির সুপারিশের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।