Home Blog Page 33

জিতেও খুশি নন টুখেল, মন ভরেনি পারফরম্যান্সে

নরওয়েকে হারিয়ে ২০১৮ সালের পর ফের বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। তবুও খুশি নন ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল। জয়ের আনন্দ ছাপিয়ে তার কণ্ঠে অসন্তোষের প্রতিধ্বনিই বেশি শোনা গেল। ম্যাচ জয়ের পেছনে নিজেদের পারফরম্যান্সের চেয়ে ভাগ্যের অবদানকেই বড় করে দেখছেন ইংল্যান্ডের এই জার্মান কোচ।

রোববার রাতে মায়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরুতে পিছিয়ে পড়েছিল ইংল্যান্ড। তবে জুড বেলিংহামের জোড়া গোলে শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে জয় পায় ইংলিশরা। সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

ম্যাচ শেষে টুখেলকে তেমন কোনো উদযাপন করতে দেখা যায়নি। নিজের অসন্তোষও লুকাননি। ম্যাচের পর মাঠেই দেওয়া ছোট প্রতিক্রিয়ায় এই জার্মান কোচ বলেন, ‘আমরা নিজেদের জন্য পরিস্থিতি খুব কঠিন করে তুলেছিলাম। ফলাফল অবশ্য দারুণ হয়েছে। শেষ চারে যেতে পারার অনুভূতি দুর্দান্ত। কিন্তু আমি এমন পারফরম্যান্সে খুশি নই।’

সন্তোষজনক পারফরম্যান্স ছাড়াই ম্যাচ জেতায় ভাগ্যকে কৃতিত্ব দিয়েছেন টুখেল। শিষ্যদের লড়াইয়ের মানসিকতার প্রশংসা করলেও তাদের খেলার ধরন নিয়ে হতাশাই প্রকাশ করেছেন ইংল্যান্ড কোচ।

তিনি বলেন, ‘মাঠে খেলোয়াড়দের নিবেদনে কোনো কমতি নেই। কিন্তু আমরা আজ যেভাবে খেলেছি, তাতে নিজেদের জন্য পরিস্থিতি কেবল কঠিনই করেছি। আমরা নিরাপদ ফুটবল খেলার চেষ্টা করেছি, যথেষ্ট আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখাইনি। আমরা আজ ভাগ্যবান ছিলাম।’

সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে নিজেদের পারফরম্যান্সে আরও উন্নতির জায়গা দেখছেন টুখেল। তার ভাষ্য, ‘আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে। এখন উদযাপনের সময়। এজন্য আমাদের হাতে তিন দিন সময় আছে।’

সুইসদের রূপকথা থামিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

১২০ মিনিটের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের জোড়া আঘাতে সুইসদের প্রতিরোধ ভেঙে চুরমার করে দেয় আলবিসেলেস্তেরা। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে লিওনেল মেসির দলের প্রতিপক্ষ জুড বেলিংহামের ইংল্যান্ড।

ম্যাচের ১০ মিনিটের মাথায় লিড নেয় আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির মাপা কর্নার কিক থেকে হেডে বল জালে জড়ান আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি সুইজারল্যান্ড। প্রথমার্ধে বেশ কিছু সুযোগ হাতছাড়া করলেও দ্বিতীয়ার্ধের ৬৭ মিনিটে ঠিকই সমতায় ফেরে তারা। মাঝমাঠ থেকে গড়া এক গোছানো আক্রমণ থেকে আর্জেন্টিনার রক্ষণ ভেঙে এমি মার্তিনেজকে পরাস্ত করেন ড্যান এনদোয়ে।

সমতায় ফেরার আনন্দ বেশি সময় স্থায়ী হয়নি সুইজারল্যান্ডের। ম্যাচের ৭২ মিনিটে ডাইভ দিয়ে ফাউল আদায়ের অভিনয় করতে গিয়ে ভিএআর প্রযুক্তির ফাঁদে পড়েন সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলো। রেফারিকে প্রতারিত করার দায়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের সাথে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন তিনি। ১ জন কম নিয়ে খেলার পরও নির্ধারিত ৯০ মিনিট পর্যন্ত আর্জেন্টিনার একের পর এক আক্রমণ রুখে দিয়ে ম্যাচটিকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায় লড়াকু সুইজারল্যান্ড।

টাইব্রেকারের শঙ্কা যখন ড্রেসিংরুম জুড়ে ভর করছিল, ঠিক তখনই জাদুকরী মুহূর্তের জন্ম দেন হুলিয়ান আলভারেজ। অতিরিক্ত সময়ের ১১২ মিনিটে বক্সের বাঁ দিকের কোণা থেকে ডান পায়ের অবিশ্বাস্য রকেট শটে বল জালে পাঠান এই ফরোয়ার্ড। সুইস কিপার গ্রেগর কোবেলের কেবল চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না। এই গোলের উদযাপনের সময় মাঠে দুই দলের খেলোয়াড়দের তর্কের জেরে আর্জেন্টিনার বদলি খেলোয়াড় হোসে ম্যানুয়েল লোপেজকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।

শেষ ৪ মিনিটের ইনজুরি টাইমে সমতা ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে ১০ জনের সুইজারল্যান্ড। ঠিক তখনই অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা সময়ে আর্জেন্টিনার হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন লাউতারো মার্তিনেজ। আর তাতেই ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

ভারী বৃষ্টি ও ঢল চট্টগ্রামসহ ৫ জেলায় দুর্যোগ, সুপেয় পানির সংকট

কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চুলা ধরানোর জায়গা নেই। তাই দুর্গত এলাকার কয়েক লাখ মানুষ খাবার ও সুপেয় পানির সংকট পোহাচ্ছে। নারী ও শিশুসহ ৩০ হাজার ৫৮৫ জন উঠেছে আশ্রয়কেন্দ্রে। চট্টগ্রাম বোর্ডের আজ শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

এদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পর্যাপ্ত খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি পৌঁছানো এবং তাদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

গতকাল শুক্রবার পানিতে ডুবে চার শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ নিয়ে গত ছয় দিনে ৩৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাহাড়ধসে মৃত্যু হয়েছে ২৪ জনের।
চট্টগ্রামের সাতটি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার অবস্থা করুণ। হাজার হাজার ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট বুকসমান পানিতে ডুবে গেছে। পুকুরে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা মৎস্য প্রকল্প ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। রান্নার চুলায় হাঁড়ি উঠছে না। নলকূপ পানিতে ডুবে যাওয়ায় সুপেয় পানির হাহাকার দেখা দিয়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও।

বন্যার মধ্যেই বঙ্গোপসাগরের কোথাও কোথাও বেড়িবাঁধ ভেঙে পড়ছে– এই খবরে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়ছে। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, গতকাল পর্যন্ত জেলার প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাহাড়ধস ও পানিতে ভেসে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্গতদের জন্য ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ২৩ হাজার ৮০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া মানুষের খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

আশ্রয় নেওয়াদের জন্য চিড়া, মুড়ি, গুড় এবং শিশুদের জন্য বিশেষ খাবার হিসেবে মাফিন, কেক ও বিস্কুটসহ ওরস্যালাইন এবং পাঁচ লিটার করে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ছাড়া নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে এবং প্রবীণ ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় মেডিকেল সাপোর্ট নিশ্চিত করা হয়েছে।
গত ৫ জুলাই থেকে গতকাল ১০ জুলাই পর্যন্ত ছয় দিনে চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাত হয়েছে এক হাজার ১১৭৫ মিলিমিটার! গত চার দশকে চট্টগ্রামে এটি সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের রেকর্ড।

পানিতে ডুবে মৃত্যু তিন শিশুর
ঢলের পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ও সরল ইউনিয়নে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ওই তিন শিশু হলো বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ইলশা গ্রামের মেহের আলী বাড়ির প্রবাসী কামাল উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ আশিক (৭), একই ইউনিয়নের রত্নপুর এলাকার মোহাম্মদ মিরাজ (৩) এবং সরল ইউনিয়নের জালিয়াখালী এলাকার এক শিশু।

এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত
বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির অবনতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন পাঁচ জেলায় আজ শনিবার অনুষ্ঠেয় এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরে জানানো হবে।

গতকাল চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগের ওই পাঁচ জেলায় শনিবারের আলিম, এইচএসসি বিএমটি, ভোকেশনাল ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।

ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
গত বুধবার থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনের চন্দনাইশসহ বিভিন্ন উপজেলায় রেললাইনে বন্যার পানি জমে থাকায় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে গতকাল থেকে এ রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

 

সেনাবাহিনী মোতায়েন
চট্টগ্রাম জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের জরুরি অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন ও ২৪ পদাতিক ডিভিশন বন্যাদুর্গত বিভিন্ন উপজেলায় অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

কক্সবাজার
বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ১০ উপজেলার ৪০টি ইউনিয়নের পাঁচ লাখের বেশি মানুষ। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আজাদের রহমান সমকালকে জানান, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬২ জন। ৬৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৪ হাজার ৬১ জন রয়েছেন। সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২০০ টন চাল, ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।

নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে মৃত্যু হয়েছে এক শিশুর। তার নাম হাসনাতু জান্নাত (১২)। আরও দুই শিশুকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। শিশু জান্নাত উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের রসুলাবাদ গ্রামের আবদুল মালেকের মেয়ে।

কাকরা ইউনিয়নের বাসিন্দা আহমেদুল হক বলেন, ঘরে চাল আছে, তরকারি আছে। কিন্তু রান্না করার জায়গা নেই। মাটির চুলা বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। এখন শুকনা বা রান্না করা খাবার দরকার। গত বৃহস্পতিবার ভোরে ঘরে পানি ঢোকার পর থেকে ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করতে পারেননি।

উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, বরইতলী, হারবাং, ফাঁসিয়াখালী, ডুলাহাজারা ও খুটাখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। যেসব স্থানে গতকাল হাঁটুপানি ছিল, গতকাল সেখানে কোমরপানি দেখা গেছে।

পানি ওঠার কারণে গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বরইতলী ইউনিয়নের ডেইঙ্গাকাটা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী হোসেন বলেন, পাঁচটি গরুই তাঁর একমাত্র সম্বল। পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় নৌকায় করে গরুগুলো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা আশ্রয় নিয়েছেন পাশের একটি বাড়ির ছাদে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাহিদুল আলম সমকালকে বলেন, দুর্গতদের টাকা, চালসহ প্রয়োজনীয় অনুদান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

রাঙামাটি
বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি উপজেলাসহ ১০ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে উদ্ভূত বন্যার পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। হাজারও মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে আছেন ৩ হাজার ৫২৪ জন। বিভিন্ন নদনদীতে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বাঘাইছড়ি উপজেলা ও পৌরসভা, জুরাছড়ি উপজেলার মৈদং ইউনিয়ন, জুরাছড়ি সদর, বনযোগীছড়া ইউনিয়ন, বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি এলাকা ও বরকল উপজেলার কয়েকটি এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১০ উপজেলার ২০৪টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ৪০টিতে ৩ হাজার ৫২৪ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এর মধ্যে রাঙামাটি সদরে ৫০৮ জন, কাউখালী ১১৫ জন, কাপ্তাইয়ে ১৯৮ জন, বাঘাইছড়ি উপজেলায় ২৩৬৬ জন, রাজস্থলীতে ৪৮ জন, নানিয়ারচরে ৩৩ জন, বিলাইছড়িতে ১২২ জন, বরকলে ১১৮ জন ও জুরাছড়িতে ১৬ জন রয়েছেন। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, পানিবন্দি লোকজনকে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা লোকজনকে তিন বেলা খাবার দেওয়া হচ্ছে।

খাগড়াছড়ি
গতকাল দিনভর বৃষ্টি বিরতির ফলে খাগড়াছড়িতে পানি দ্রুত নামতে শুরু করেছে। জেলা ও আন্তঃউপজেলা সড়কের নিচু অংশ থেকে পানি সরে যাওয়ায় খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি, দীঘিনালা-বাঘাইছড়ি, দীঘিনালা-সাজেক এবং দীঘিনালা লংগদু সড়কেও ছোট ছোট যানবাহন এবং মানুষের চলাচল বেড়েছে। তবে কোথাও কোথাও সড়কের অবকাঠামো (সেতু ও ধারক দেয়াল) ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভারী যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

তবে এরই মধ্যে প্লাবিত হয়েছে ৩০টি গ্রাম। পানিবন্দি হয়েছে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ। ২৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে আছে ১৮০০ জন। জলাবদ্ধতা বিরাজ করছে জেলাশহর এবং দীঘিনালার মেরুং ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি এলাকা পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে দীঘিনালাতেই। জেলা শহর এবং দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ও কবাখালী এলাকায় প্রশাসন-জনপ্রতিনিধির পাশাপাশি সেনাবাহিনীকে ত্রাণ তৎপরতায় অংশ নিতে দেখা গেছে।

সাজেক থেকে ফিরেছেন ৪২১ পর্যটক
দীঘিনালা-সাজেক-বাঘাইহাট সড়কের পানি কিছুটা কমেছে। এতে সাজেকে আটকে পড়া ৪২১ পর্যটককে নিরাপদে খাগড়াছড়ি পৌঁছে দিয়েছে সেনাবাহিনী ও ট্যুরিস্ট পুলিশ। এর পর পর্যটকরা নিজ নিজে গন্তব্যে চলে গেছেন। জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত জানান, খাগড়াছড়ি থেকে পর্যটকদের নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে সহযোগিতা করার জন্য পরিবহন মালিক ও অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বান্দরবান
জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গতকাল পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সারাদেশের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ ছিল। গতকাল সকাল থেকে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। তবে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় দূরপাল্লার যাত্রী, পর্যটক ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালক ও শ্রমিকরা দুর্ভোগে পড়েছেন। জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস বলেন, ‘বন্যাদুর্গত এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে মাইকিং এবং সার্বক্ষণিক মনিটর করা হচ্ছে।’

হাতিয়ার দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নের দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। গত রোববার থেকে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত টানা বৃষ্টি হয়েছে। পানিবন্দি নিম্ন আয়ের মানুষ অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। ৩০০ হেক্টর জমির আমন ধানের বীজতলা তিন থেকে চার ফুট পানি নিচে তলিয়ে গেছে।

মৌলভীবাজারের ২৫ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি, মৃত্যু ১
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার উজিরপুর ও একামধু এলাকার দুটি স্থানে মনু নদের বাঁধ ভেঙে অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আকুয়া গ্রামে বন্যার পানিতে ডুবে আশোরফ আলী আশই (৭০) নামে এক ব্যক্তি গতকাল শুক্রবার মারা গেছেন। ভাঙন এলাকায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। একামধু, ভাঙ্গারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত চারটি স্কুল জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। একামধু গ্রামের অনেকের ঘরবাড়ি পানিতে নিমজ্জিত থাকায় পরিবারের সদস্য, গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি ও অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে কেউ কেউ মনুর তীর রক্ষাবাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকে নিকটবর্তী আত্মীয়স্বজনের বাড়ি গেছেন।

সুনামগঞ্জে জনজীবন স্থবির
টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। সুনামগঞ্জ শহর ও শহরতলির কোনো কোনো এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে বিকেলে জানানো হয়েছে, সকালের চেয়ে বিকেলে সামান্য পরিমাণে কমেছে জেলা শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমার পানি।

হবিগঞ্জের ১৫ গ্রাম প্লাবিত
কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে খোয়াই নদ। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জে নদের বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এতে অন্তত ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। হঠাৎ পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। গবাদি পশু ও আসবাব নিয়ে নিরাপদ স্থানে ছুটছেন দুর্গতরা।

চুয়াডাঙ্গার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
টানা বৃষ্টিতে চুয়াডাঙ্গা জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বসতবাড়ি ও ফসলের মাঠ তলিয়ে গেছে। বিপাকে পড়েছেন মানুষ। দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুরে রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় দুই গ্রামের মধ্যে চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বৃষ্টির কারণে গ্রীষ্মকালীন সবজি ও আমন বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সাতক্ষীরায় কোথাও কোথাও হাঁটুপানি
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরা শহরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পৌর সদরের নিম্নাঞ্চলের গ্রামীণ সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। কোনো কোনো এলাকায় হাঁটুপানি জমে থাকায় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। রাস্তার পাশের ড্রেন দিয়ে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় অনেকের বাড়ির উঠান, রান্নাঘরে এমনকি বসতঘরে পানি জমেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা।

শেরপুরে ৩০ মিটার সড়ক বিলীন
টানা দুদিনের বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে শেরপুর-নালিতাবাড়ী-গাজীর খামার সড়কের গোল্লারপাড় এলাকায় প্রায় ৩০ মিটার পাকা সড়কের অর্ধেক নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। গত বুধবার বিকেল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত দফায় দফায় ভারী বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে আর বৃষ্টিপাত হয়নি।

বেনাপোল বন্দরে কোটি কোটি টাকার পণ্য নষ্ট
টানা বৃষ্টিতে তলিয়েছে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কোটি কোটি টাকার পণ্য। বন্দরের বিভিন্ন শেডে হাঁটুপানিতে ভাসছে জিনিসপত্র। সরু ড্রেনসহ পানি নিষ্কাশনে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা থাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতার।

‘আমরা ফ্রান্সকে ভয় পাই না, ভয়টা ওদেরই হওয়া উচিত’

লস অ্যাঞ্জেলসে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্পেন। আর শেষ চারে পা রাখতেই ব্লকবাস্টার লড়াইয়ের পারদ চড়তে শুরু করেছে। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে স্পেনের প্রতিপক্ষ এমবাপ্পের ফ্রান্স। শিরোপার অন্যতম দুই প্রধান দাবিদারের এই হাই-ভোল্টেজ মহারণ নিয়ে এবার ফরাসি শিবিরকে হুঙ্কার দিয়ে রাখলেন স্পেনের আক্রমণভাগের কাণ্ডারি লামিন ইয়ামাল।

বেলজিয়াম বধের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ইয়ামাল জানিয়ে দেন, ফরাসি ব্রিগেডকে বিন্দুমাত্র সমীহ করছে না লা রোজা’রা। বরং সাম্প্রতিক ইতিহাস টেনে ইয়ামাল বলেন, ভয়টা ফরাসিদেরই হওয়া উচিত।

ইয়ামাল বলেন, ‘ফ্রান্সেরই আমাদের ভয় পাওয়া উচিত, কারণ আমরা ওদের দু-দুবার হারিয়েছি। আমরা ওদের মোটেও ভয় পাচ্ছি না। এই মুহূর্তে বুকভরা আত্মবিশ্বাস নিয়ে যদি কেউ ফ্রান্সের বিপক্ষে মাঠে নামার যোগ্যতা রাখে, তবে সেটা আমরাই। আমার স্পষ্ট মনে হয়, আমরাই এই টুর্নামেন্টের সেরা দল।’

স্প্যানিশ সমর্থকদের আশ্বস্ত করে এই তরুণ জাদুকর আরও যোগ করেন, ‘দলের সবাই এখন দারুণ খুশি এবং উত্তেজিত। আমরা সেমিফাইনালে নিজেদের সবকিছু উজাড় করে দেব। সমর্থকেরা যেন আমাদের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন এবং আপাতত শেষ চারে ওঠার আনন্দ উদযাপন করেন।’

স্পেন ও ফ্রান্সের মধ্যকার সবচেয়ে স্মরণীয় লড়াইগুলোর একটি ছিল ২০২৪ ইউরোতে। সেবার স্পেনের হয়ে দুর্দান্ত এক গোলে সমতা ফিরিয়েছিলেন ইয়ামাল, যা শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দিয়েছিল তার দলকে। তিনি বলেন, ‘আশা করি সেটা আবার হবে, আমি সত্যিই চাই সেই দিনটা এখনই আসুক।’

ফ্রান্সের বিপক্ষে কৌশলগত এবং মানসম্পন্ন এক লড়াইয়ের অপেক্ষায় থাকা আছেন বার্সেলোনার এই খেলোয়াড়। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করছি তারা আমাদের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক খেলবে, তবে পুরো ম্যাচ ধরে নয়। কোনো দলই পুরো মাঠজুড়ে এক-বনাম-এক লড়াই করবে না। আমরা সবাই জানি ফ্রান্সের উপরে ও নিচে মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে এবং তারা অনেক শারীরিক শক্তির খেলা খেলে। আমরা নিজেদের মতো করেই খেলব এবং বল দখলে রাখার চেষ্টা করব। আমি অনেক আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে যাচ্ছি, জানি সবকিছু ভালো হবে, ম্যাচের জন্য প্রস্তুত আছি এবং সেই দিনটা আসার অপেক্ষায় আছি।’

ইরানের অনুরোধে আলোচনা চালাতে রাজি যুক্তরাষ্ট্র, তবে যুদ্ধবিরতি শেষ: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে। তবে উত্তেজনা সত্ত্বেও দুই দেশ আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে।

শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আমাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চেয়েছে। আমরা তাতে সম্মত হয়েছি। তবে তাদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যুদ্ধবিরতি শেষ।’

তবে ট্রাম্পের এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত নয় তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার অনুরোধ তারা করেনি। তবে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের স্বাগত জানাতে সম্মত হয়েছে।

সপ্তাহজুড়ে সংঘাতের পর শুক্রবার পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত ছিল। এর আগে কাতার ও সৌদি আরবের তিনটি বাণিজ্যিক ট্যাংকারে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালায়। জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় ইরান।

এদিকে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা স্থায়ীভাবে সংঘাতের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কাতারের প্রতিনিধিদল শুক্রবার ইরানে বৈঠক করেছে। একই সময়ে নিরাপদ নৌ চলাচল নিয়ে আলোচনার জন্য ওমান সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির।

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের বিষয়ে ইরানের কাছে নতুন করে দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, তেহরানকে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিতে হবে যে প্রণালির সব নৌপথ উন্মুক্ত থাকবে এবং সেখানে চলাচলকারী জাহাজের ওপর আর কোনো হামলা বা অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে না।

এদিকে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেকটি পোস্টে দাবি করেন, তাকে হত্যার কোনো চেষ্টা করা হলে ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামরিক হামলা চালাতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি লেখেন, ‘ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্টকে হত্যা বা হত্যার চেষ্টা করে, তাহলে এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজন হলে এর সঙ্গে আরও হাজারো ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত হবে।’ ট্রাম্প আরও দাবি করেন, প্রয়োজনে এক বছরের মধ্যে ইরানের সব অঞ্চল সম্পূর্ণ ধ্বংস করার মতো প্রস্তুতি মার্কিন সেনাবাহিনীর রয়েছে।

সম্প্রতি মার্কিন কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানায়, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা ওয়াশিংটনকে জানিয়েছে, ইরান ট্রাম্পকে হত্যার একটি নতুন পরিকল্পনা করেছে। যদিও এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়া কিছু মানুষের হাতে ‘আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব’ লেখা ব্যানার দেখা যায়।

গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতার লক্ষ্য ছিল কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটানো। তবে চলতি সপ্তাহে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় সেই সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় বুধবার ও বৃহস্পতিবার ইরানের ছয়টি শহরে অন্তত ১৭ জন নিহত এবং ১১৫ জন আহত হয়েছেন বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আবারও বেড়েছে। এতে বিশ্ববাজারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তারাও বাড়তি চাপের মুখে পড়ছেন।

ইরানের হাতে নিহত হলে করণীয় কী হবে, আগেই বলে রেখেছেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের হাতে তিনি নিহত হলে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানানো হবে, সে বিষয়ে আগেই প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন। তার দাবি, এমন ঘটনা ঘটলে ইরানের ওপর নজিরবিহীন সামরিক হামলা চালানো হবে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘যদি আমার কিছু হয়, তাহলে তাদের ওপর এমন মাত্রায় বোমা ফেলা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি।’

ট্রাম্পের এ মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়, যখন ইসরায়েলের গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, ইরান নাকি তাকে হত্যার নতুন পরিকল্পনা করেছে। যদিও এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের লক্ষ্যবস্তু হয়ে আছেন। তার ভাষায়, ‘আমি অনেক দিন ধরেই তাদের তালিকায় আছি। আমাদের এই বিষয়টি মোকাবিলা করতে হচ্ছে।’

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জানাজায় ট্রাম্পকে হত্যার আহ্বানসংবলিত কিছু ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি। প্রসঙ্গটি টেনে ট্রাম্প বলেন, তেহরান বহু বছর ধরেই তাকে হত্যার চেষ্টা করছে। সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আশা করি, আপনারা আমার শূন্যতা অনুভব করবেন।’

এদিকে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে এমন তথ্য রয়েছে যে, ইরান সম্প্রতি ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য একটি নতুন পরিকল্পনা তৈরি করেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হুমকির বিষয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য পাচ্ছিল। তবে ইসরায়েলের কাছ থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যকে নতুন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই এমন গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

মুখ খুললেন পরীমনি, রাষ্ট্রের কাছে ফিরে চাইলেন সম্মান র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার

২০২১ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া নিয়ে মুখ খুললেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। ৪ আগস্ট রাজধানীর বনানীর বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তারের ওই ঘটনাটি নিয়ে তিনি শুক্রবার রাতে ফেসবুকে তাঁর ভেরিফায়েড় অ্যাকাউন্টে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন। পোস্টে পরীমনি দাবি করেছেন,  তাঁকে ‘সম্পূর্ণ বেআইনি ও বিশেষ মহলের স্বার্থে’ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে টানা ২৮ দিন কারাগারে রাখা হয়েছিল। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রাষ্ট্রের উদ্দেশে কয়েকটি প্রশ্ন তুলেছেন এ অভিনেত্রী। লিখেছেন, ‘আমার সেই দিনগুলো কি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব? যে জীবন, যে সম্মান, যে মানসিক শান্তি আমি হারিয়েছি, তা কি আর কখনো ফিরে পাব? মানুষের মনে আমাকে নিয়ে যে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত ধারণা তৈরি করা হয়েছে, রাষ্ট্র কি তার দায় নেবে?’

পরীমনি ফেসবুক স্ট্যাটাসের শুরুতে র‍্যাবের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছেন, ‘সম্প্রতি একটি অনলাইন টক শোতে তিনি এমন কিছু তথ্য প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, যার মাধ্যমে দেশের মানুষ জানতে পেরেছেন, বনানীতে তাঁর বাসায় দীর্ঘ অভিযানের পর তৎকালীন র‍্যাব মহাপরিচালক ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনের নির্দেশে তাঁকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ডে টানা ২০ দিন কারাগারে রাখা হয়েছিল। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা আমার জীবনকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত করেছে, তা আল্লাহ আর আমি ছাড়া পৃথিবীর আর কারও পক্ষে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়। তবুও আমি বিশ্বাস করি, সত্য একদিন না একদিন প্রকাশিত হয়। সময় লাগতে পারে, কিন্তু সত্যকে চিরদিন চাপা রাখা যায় না।’

এ অভিনেত্রী লেখেন, ‘গ্রেপ্তারের দিন থেকে আজ পর্যন্ত আমি সেই ঘটনার একজন ভুক্তভোগী হয়েই জীবন কাটাচ্ছি। যেভাবে আমাকে অপদস্থ করা হয়েছে, আমার সম্মান, নৈতিকতা এবং চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে। রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীকে ব্যবহার করে একজন সাধারণ নারী শিল্পীর জীবনকে যেভাবে বিপর্যস্ত করা হয়েছে, আমি শুধু চাই ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এমন অভিজ্ঞতার শিকার না হন। এতোগুলা দিন পর আমি কোনো ক্ষোভ বা প্রতিশোধের কথা বলতে চাই না। আমি শুধু সত্য, ন্যায়বিচার এবং মানবিকতার পক্ষে কথা বলতে চাই।’

পরীমনি লিখেছেন, ‘এবার হয়তো রাষ্ট্রীয় সেই সাজানো মামলা থেকে আদালত আমাকে অব্যাহতি দেবেন। কিন্তু আমার সেই দিনগুলো কি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব? যে জীবন, যে সম্মান, যে মানসিক শান্তি আমি হারিয়েছি, তা কি আর কখনো ফিরে পাব? মানুষের মনে আমাকে নিয়ে যে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত ধারণা তৈরি করা হয়েছে, রাষ্ট্র কি তার দায় নেবে? রাষ্ট্রের কাছে আমি এই প্রশ্নগুলোর জবাব চাইলে কি দিতে পারবেন? আমি কখনো চাইনি আমার পরিচয় একজন বিতর্কিত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। আমি সব সময় একজন শিল্পী হিসেবে মানুষের ভালোবাসা নিয়েই বেঁচে থাকতে চেয়েছি। কিন্তু একটি ঘটনার অভিঘাত আমার জীবনকে এমনভাবে বদলে দিয়েছে, যার দায়ভার আমাকে আজও বহন করতে হচ্ছে।’

তিনি লেখেন, আমি কাউকে ছোট বা অপমান করতেও চাই না। আমি শুধু চাই, ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এ ধরনের অন্যায়ের শিকার না হন। রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা টুকু অটুট থাকুক। সেই আস্থার ভিত্তি হোক ন্যায়বিচার, আইনের শাসন এবং জবাবদিহিতা মূলক। যারা সেই কঠিন সময়ে কোনো প্রশ্ন না করেই আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আমার পরিবার, সহকর্মী, বন্ধু, সাংবাদিক এবং আমার অসংখ্য ভক্ত আপনাদের প্রতি আমি আজীবন গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আপনাদের বিশ্বাস, ভালোবাসা এবং সমর্থনই আমাকে বারবার উঠে দাঁড়ানোর শক্তি দিয়েছে।

সবশেষে এ অভিনেত্রী স্ট্যাটাসে বলেন, ‘আমি অতীতের ক্ষত বয়ে বেড়াতে চাই না। আমি মুক্ত আকাশে পরীর মতো করেই উড়তে চাই। আমি বাঁচতে ভালোবাসি আর আমার কাজ, আমার সন্তান, আমার পরিবার এবং আমার দর্শকদের ভালোবাসা নিয়েই আমি বাকি জীবন বাঁচতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, সত্যকে কখনো চিরদিন চাপা রাখা যায় না। আর ন্যায়বিচারের পথে হাঁটা কখনো বৃথা যায় না। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি যেন আরও ভালো কাজের মাধ্যমে আপনাদের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে পারি।’

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট বিকেলে বনানীর ১২ নম্বর সড়কে পরীমনির বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। গ্রেপ্তারের পর মাদক মামলায় পরীমনির ৫ আগস্ট চার দিন এবং ১০ আগস্ট দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ১৩ আগস্ট রিমান্ড শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর আবারও ১৯ আগস্ট এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে ২১ আগস্ট আবার তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। ৩১ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ চার্জশিট দাখিল হওয়া পর্যন্ত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। পরদিন তিনি কারামুক্ত হন। এরপর ৪ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক কাজী গোলাম মোস্তফা পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার জিআর শাখায় চার্জশিট জমা দেন।

ভোটার হতে চাইলে দিতে হবে পরিবারের সবার এনআইডি

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতি ঠেকাতে বিশেষ পরিকল্পনা নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ক্ষেত্রে কেউ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে চাইলে পিতামাতা ছাড়াও পরিবারের অন্য সব সদস্যের এনআইডির তথ্য দিতে হবে। রোহিঙ্গাসহ বিদেশি নাগরিকদের অবৈধভাবে এনআইডি পাওয়ার পথ বন্ধ করতেই এমন পরিকল্পনা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, এনআইডি নবায়ন বাধ্যতামূলক করার কথাও ভাবছে ইসি। এনআইডির মেয়াদ ১৫ বছর পূর্ণ হলে অবশ্যই নবায়ন করতে হতে পারে। আইন ও বিধিমালায় আগে থেকেই নবায়নের বিষয়টি থাকলেও এতদিন সেটি বাধ্যতামূলক করা হয়নি। তবে নানা জটিলতায় এখন বাধ্যতামূলক করা করা হচ্ছে।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, সাধারণত এনআইডি পাওয়ার জন্য নিবন্ধিত হয়ে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে হয়। এনআইডি নিবন্ধন ফরমে বর্তমানে কেবল পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পিতা ও মাতার এনআইডির তথ্য দিতে হয়। আগামী দিনে পরিবারের অন্য সদস্য তথা ভাইবোনের তথ্যও দিতে হবে। এর মধ্য দিয়ে একটি ‘ফ্যামিলি ট্রি’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

ইসির এনআইডি নিবন্ধন অনুবিভাগের কর্মকর্তারা জানান, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ঠেকাতে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিশেষ ফরমের মাধ্যমে ভোটার বা এনআইডি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে রোহিঙ্গাদের এনআইডি নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। যার কারণে রোহিঙ্গারা এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে অবৈধভাবে ও দালালদের মাধ্যমে এনআইডি সংগ্রহ করে ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়ে যাচ্ছেন।

রোহিঙ্গারা ছাড়াও বাংলাদেশে বসবাসরত অন্য দেশের নাগরিকরাও মাঝেমধ্যে জালিয়াতির মাধ্যমে এনআইডি হাতিয়ে নেয়। এ ছাড়া দেশের নাগরিকরাও অনেক সময় অনৈতিক কারণে পিতামাতার নাম বা তথ্য পরিবর্তনের আবেদন করেন। অনেকেই ভুয়া কাগজপত্র সংগ্রহ ও জমা দেন। ভাইবোনের এনআইডির তথ্যও জমা নিলে সেটা আর করতে পারবেন না। কেননা, ভাইবোনের এনআইডিতে পিতামাতার নাম ও তথ্য যা আছে, সবার তথ্য সার্ভারে অন্তর্ভুক্ত করে সহজেই যাচাই করা যাবে। ফলে রোহিঙ্গাসহ বিদেশিদের এনআইডি হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ কমবে। অন্যদিকে, দেশের নাগরিকদের এনআইডি সংশোধন-সংক্রান্ত জালিয়াতিও রোধ করা যাবে।

কর্মকর্তারা আরও জানান, পরিবারের সবার তথ্য একসঙ্গে থাকলে এনআইডি সংশোধনের হার কমে যাবে, সবার তথ্য পাওয়া যাবে মুহূর্তেই। এতে বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠান সহজেই ব্যক্তির পরিচয় আরও সুনির্দিষ্টভাবে যাচাই-বাছাই করতে পারবে।

এ প্রসঙ্গে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সমকালকে বলেছেন, ‘ফ্যামিলি ট্রি’ ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি বর্তমানে পর্যালোচনায় রয়েছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুতই এটি বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় কেউ ভোটার নিবন্ধনের জন্য আবেদন করলে সেখানে তার পিতামাতা ছাড়াও যে কজন ভাইবোন আছে, তাদেরও এনআইডির তথ্য দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে এনআইডি জালিয়াতির হার যেমন কমবে, তেমনি পরিবারের সবার তথ্যও একসঙ্গে পাওয়া যাবে। ওয়ারিশ সনদ তখন আমরাই দিতে পারব।

বাধ্যতামূলক নবায়ন 
জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইনের অধীন কোনো নাগরিককে প্রদত্ত এনআইডির মেয়াদ হবে, তা প্রদানের তারিখ থেকে ১৫ বছর। মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগে বা পরে নবায়নের জন্য প্রত্যেক নাগরিককে নির্ধারিত পদ্ধতি ও ফি প্রদান সাপেক্ষে নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করতে হবে।

ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, এনআইডি নবায়নের বিষয়টি আইনে থাকলেও বাধ্যতামূলক না হওয়ায় নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘ ১৫ বছর সময়ের মধ্যে মানুষের চেহারায় অনেক পরিবর্তন আসে। কেউ দাড়ি রাখতে পারেন, কারও চেহারায় অন্য পরিবর্তনও আসতে পারে। অনেকে আবার চেহারায় ইচ্ছাকৃত পরিবর্তনও আনেন। কেউ কেউ সার্জারির মাধ্যমে জেন্ডার চেঞ্জ করেন। এ ছাড়া কোয়ালিটি কমে যাওয়ার মাধ্যমে মানুষের আঙুলের ছাপেরও পরিবর্তন আসে। ফলে নবায়ন না হওয়ায় ব্যক্তির পরিচিতি নিশ্চিত করতে জটিলতা দেখা দেয়। পাশাপাশি এ নিয়ে অসদুপায় অবলম্বনেরও সুযোগ থেকে যায়।
এই অবস্থায় এনআইডি নবায়ন বাধ্যতামূলক করার আলোচনা চলছে। ইসির এনআইডি শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবও জমা দেওয়া হয়েছে। এতে কমিশনের সম্মতি মিললে প্রত্যেক নাগরিককে কমিশনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে মেয়াদোত্তীর্ণ এনআইডি নবায়নের জন্য আবেদন করতে হবে।

জানতে চাইলে ইসির এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এইচ এম আনোয়ার পাশা সমকালকে বলেছেন, বিষয়টি এখনও পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে।

মাছ ধরতে গিয়ে স্রোতে ভেসে নিখোঁজ, ৭ ঘণ্টা পর মিলল স্কুলছাত্রের মরদেহ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় মাছ ধরতে গিয়ে পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে সায়েম (১৫) নামের এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজের ৭ ঘন্টা পর ওই স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল।

শুক্রবার রাত ৮ টার দিকে উপজেলার কাদিপুর মরাগাঙ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেজবাহ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

নিহত সায়েম উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের নতুন বাস্তুপুর গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে। সে দামুড়হুদা পাইলট হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে ছোট চাচা জাকিরের সঙ্গে গ্রামের শামবার মাঠসংলগ্ন খালে মাছ ধরতে যায় সায়েম। একপর্যায়ে ঠেলা জাল নিয়ে পানিতে নামলে তীব্র স্রোতে ভেসে পানির নিচে তলিয়ে যায় সে। এরপর চাচাসহ স্থানীয়রা দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে খুলনা থেকে একটি ডুবুরি দল বিকেল ৫টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সাত ঘন্টা অভিযানের পর রাত ৮টার দিকে সায়েমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে।

শালিখায় ভারী বৃষ্টিতে কালভার্ট ধস, ভোগান্তিতে স্থানীয়রা

মাগুরার শালিখায় টানা ভারী বৃষ্টিতে একটি পুরোনো কালভার্ট ধসে পড়েছে। এতে কালভার্টের দুই পাশের সংযোগ সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শুক্রবার দুপুরে শালিখা-শতখালী সড়কের গোবরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণে খালের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। শুক্রবার দুপুরের দিকে প্রবল স্রোতের চাপে কালভার্টের নিচের অংশে ধস শুরু হয়। একপর্যায়ে পুরো কালভার্টটি ভেঙে পড়ে এবং সড়কের প্রায় ৪০ ফুট অংশ ধসে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়।

এতে বয়রা-গোবরা এলাকার সঙ্গে কাদিরপাড়া খেয়াঘাট, নারিকেল বাড়িয়া বাজার, কাদিরপাড়া, হরিশপুর ও দেওয়াডাঙ্গা এলাকার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। কারণ কালভার্টটির দুই পাশে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহারকারী শত শত মানুষকে এখন দীর্ঘ পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হওয়ার চেষ্টা করছেন, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা মৌসুমে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দ্রুত সচল করা না হলে শিক্ষা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। তাই দ্রুত অস্থায়ী পারাপারের ব্যবস্থা এবং স্থায়ীভাবে একটি টেকসই কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রব বলেন, মাত্র কয়েক মাস আগে সড়কের কাজ শেষ হয়েছিল। এত অল্প সময়ের মধ্যে কালভার্ট ভেঙে পড়ায় আমরা হতাশ। দ্রুত বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা এবং একটি মানসম্মত ও টেকসই কালভার্ট নির্মাণ করা জরুরি।

শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে খালের পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় কালভার্টটি ধসে পড়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নতুন একটি কালভার্ট নির্মাণের বিষয়ে এলজিইডির সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।