Home Blog Page 35

রংপুর বিভাগের নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে নির্দেশ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের প্রতিটি স্তরে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রংপুর বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন তারেক রহমান।
দলের চেয়ারম্যান রংপুর বিভাগের নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট জেলা এবং পরে রংপুর জেলা ও মহানগরের দলীয় নেতাদের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন। এর আগে ১৮ জুলাই রংপুর বিভাগের অন্য তিন জেলা দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় জেলার তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন তিনি।

গতকালের বৈঠকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য জেলার নেতাদের সঙ্গেও বিএনপি চেয়ারম্যানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।  জনপ্রিয়তাকেই প্রধান মাপকাঠি করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাইয়ে থানা-উপজেলা নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো সমস্যা হলে জেলা পর্যায়ের নেতারা সমাধানের চেষ্টা করবেন। তারা ব্যর্থ হলে বিভাগীয় নেতারা চেষ্টা করবেন। তারাও ব্যর্থ হলে কেন্দ্র থেকে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

বিএনপির রংপুর বিভাগীয় একজন নেতা বলেন, এটি মূলত একটি সাংগঠনিক আলোচনা সভা ছিল। মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন দিক ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা– এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশগ্রহণ করবেন না এবং নির্বাচনে তাদের দলীয় কোনো প্রতীক থাকবে না। তবে স্থানীয়ভাবে নেতারা যদি একক কোনো প্রার্থী দিতে পারেন, তবে দলগতভাবে তাকেই সমর্থন দেওয়া হবে।

গত জাতীয় নির্বাচনে অর্ধশতাধিক আসনে দলের নেতারা ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হওয়ায় তৃণমূলের অনেক জায়গায় কোন্দল ও বিভক্তি দেখা দিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার আলোকেই এবার তারেক রহমান নেতাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দলীয় প্রতীক না থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের বিষয়ে দলের সিদ্ধান্ত যেন সামষ্টিক হয় এবং একক প্রার্থীর পক্ষে সবাই একযোগে কাজ করেন। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত ঝুলে থাকা সাংগঠনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দলে নতুন গতি সঞ্চার করা। তড়িঘড়ি করে কমিটি গঠন করতে গিয়ে যাতে কোনো বিতর্কিত বা অন্য দলের অনুপ্রবেশকারী স্থান না পায়, তা নিশ্চিত করা। মাঠ পর্যায়ে তুলনামূলক তরুণ, সক্রিয় ও ত্যাগী নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে নিয়ে আসতে দায়িত্বশীল নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।
লালমনিরহাট জেলা বিএনপির একজন নেতা বলেন, সাংগঠনিক ব্যবস্থা জোরদার করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূল থেকেই প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। এ ছাড়া সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র থেকে কোনো চাপ দেওয়া হবে না।
গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. মঈনুল হাসান সাদিক সমকালকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় পর্যায়ের সব ধরনের কোন্দল ও ভেদাভেদ দূর করার নির্দেশনা দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সাদিক আরও বলেন, দল ও সরকার যাতে কোনো প্রশ্নের মুখে না পড়ে, সেজন্য এখন থেকেই কাজ করার জন্য বলেছেন তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, এটি একটি ধারাবাহিক বৈঠক। তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী রাখতেই এ মতবিনিময় সভা করছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, সভায় প্রধানমন্ত্রী তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারের নবনিযুক্ত চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনের নবনিযুক্ত চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তারা। গতকাল রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগের ধ্বংস করা দেশ গড়ে তুলছে বিএনপি: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

বৈশ্বিক ও জাতীয় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং বৈষম্যহীন টেকসই বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে শুরু হয়েছে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) বগুড়ার ৩৬তম বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলন।

গতকাল শনিবার দুদিনের এই সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ধ্বংসের রাজনীতি করে আর বিএনপি করে গড়ার রাজনীতি–এটাই বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে পার্থক্য। আওয়ামী লীগ গত ১৭ বছরে দেশ ধ্বংস করেছে, লুটপাট করেছে। বিএনপি দায়িত্ব নিয়ে সেই দেশ গড়ে তুলছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়; বরং কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়ন ও কৃষিপ্রযুক্তির আধুনিকায়ন অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তিনি মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য রুখতে নতুন বাজারজাতকরণ পরিকল্পনার তাগিদ দেন।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব শওকত রশিদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদ, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক, রেজাউল করিম বাদশা এমপি, মোশারফ হোসেন এমপি, কাজী রফিকুল ইসলাম এমপি, গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এমপি ও সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি সুরাইয়া জেরিন (রনি)।

সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আরডিএ বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক।

মির্জা ফখরুল বলেন, পল্লির উন্নয়ন করতে হলে শুধু রাস্তাঘাট ও ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করলেই চলবে না; আগে কৃষকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে হবে। বর্তমানে দেশের প্রান্তিক চাষিরা হাড়ভাঙা খাটুনির পরও উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পাচ্ছেন না। এর ফলে কৃষিকাজের প্রতি দিন দিন মানুষের অনীহা তৈরি হচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য আশঙ্কাজনক।

বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্ত চেয়ে আবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাযজ্ঞসহ আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগে আবেদন করেছে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম (এসডিএফ) নামে একটি সংগঠন। আজ রোববার দুপুরে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ আবেদন জমা দেন ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস।

আবেদনে বলা হয়, সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ দাবিতে শাহবাগে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার জেরে ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে মুখোশধারী ব্যক্তিরা তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এছাড়া আন্দোলন স্থগিতের আহ্বান জানিয়ে ভিডিও বার্তা দিতে বাধ্য করা হয়। পরদিন তাকে কারওয়ান বাজার-বাংলামোটর এলাকায় ফেলে রেখে যাওয়া হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আয়াস জানান, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ, অমানবিক নির্যাতন, খুন-গুমের হুকুমদাতা হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা তদন্ত করে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব ও ভূমিকার প্রেক্ষাপটে যথাযথভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। এছাড়া ২০২৪ সালের নির্বাচন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় তার কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কিনা, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করার জোর দাবি জানানো হয়।

বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবন ছেড়েছেন। শুক্রবার পদত্যাগের পর আজ রোববার বঙ্গভবন ছাড়েন তিনি। বেলা আড়াইটার কিছু আগে সপরিবারে বঙ্গভবন থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতির গাড়িবহর বের হতে দেখা যায়। রাজধানীর গুলশানের ১২৩ নম্বর সড়কে নিজ বাসায় উঠবেন মো. সাহাবুদ্দিন।

গাড়ি বহরে রাষ্ট্রপতির গাড়িসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১৮টি গাড়ি দেখা গেছে। টানা ৩ বছর ৪ মাস পর রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সপরিবারে উঠছেন তিনি। পাঁচ বছরের নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ না করে ১ বছর ৮ মাস আগেই তিনি নিজের একান্ত নিবাসে ফিরে যাচ্ছেন।

বঙ্গভবন ছাড়ার খবরে দুপুর থেকেই গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে অপেক্ষা করছিলেন। উৎসুক জনতাও বঙ্গভবনের সামনের রাস্তায় জড়ো হন। দুপুর থেকেই বঙ্গভবনের সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপর থাকতে দেখা গেছে।

পদত্যাগের পর গুলশানের বাড়িটির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আজ সকাল থেকেই পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে অবস্থান করে। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে বাড়িটির পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে থাকতেন তিনি। মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবন ছাড়ার পর সেখানে এখন দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

গত শনিবার সাবেক এই রাষ্ট্রপতি ফোনে সমকালকে জানান, চিকিৎসার জন্য তিনি শিগ্‌গির সিঙ্গাপুর অথবা ব্যাংকক যাবেন। জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে এরই মধ্যে তাকে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তার স্ত্রী রেবেকা সুলতানাও অসুস্থ বলে জানালেন। চিকিৎসার জন্য স্ত্রীকেও সঙ্গে নিয়ে যাবেন তিনি।

সাবেক রাষ্ট্রপতি শারীরিক অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করে শুক্রবার স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন, তিনি হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। সম্প্রতি তার হৃদ্‌যন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হওয়ায় ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ নামক জটিল রোগেও আক্রান্ত। এর ফলে তিনি মাঝে-মধ্যে স্বল্প সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন।

সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গভবন ছাড়ার প্রস্তুতি হিসেবে ক’দিন আগে থেকেই তার ব্যক্তিগত মামলাল গুলশানের বাড়িতে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। গুলশানের বাড়িটির পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কার কাজও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সর্বোচ্চ ওই বাসভবনটিতে আজ শনিবারই তার শেষদিন। গত ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।

সংবিধানের চতুর্থ ভাগের প্রথম পরিচ্ছেদের ৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি ও অসুস্থতার কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমান স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত করা হবে।

ইলিশের বাজার খুলনায় ৫ বছরের মধ্যে সরবরাহ সবচেয়ে কম

বড় ঝুড়িতে কাচের টুকরোর মতো বিছানো রয়েছে বরফ। তার ওপর সাজিয়ে রাখা ইলিশ। লাইটের তীব্র আলোয় ইলিশের মোহনীয়তা আরও বাড়ছে। ঝকঝকে ইলিশ দেখে চোখ চকচক করছিল ব্যাংক কর্মকর্তা রায়হান হাসানের। কিন্তু দাম শুনে মুখটা মিলন হয়ে গেল তাঁর।
বললেন, ‘কয়েক দিন আগে মা বলছিল, এই সিজনে তো ইলিশ কিনলি না। ভেবেছিলাম জুলাইয়ের শেষে দাম কমলে তখন কিনব। বাজারে এসে দেখি দাম আরও বাড়তি। সাড়ে তিন হাজার টাকা দিয়ে এক কেজি ইলিশ কেনার মতো সামর্থ্য নেই, তাই ফিরে যাচ্ছি।’

গত রোববার রাত ৯টার দিকে নগরীর ময়লাপোতা মোড়ের সান্ধ্য বাজারে কথা হচ্ছিল রায়হান হাসানের সঙ্গে। ইলিশের দোকানগুলোতে তখন ক্রেতাদের ভিড়। বেশির ভাগই দাম শুনে ফিরে যাচ্ছেন। ভরা মৌসুমেও চড়া দামের কারণে চোখে দেখেই সান্ত্বনা নিতে হচ্ছে মানুষকে।

খুচরা ইলিশ বিক্রেতা হাফিজুল ইসলাম জানালেন, এবার ইলিশ ধরা পড়ছে কম। সরবরাহ কম থাকায় দাম বেশি। দেড় কেজি ওজনের ইলিশ চার হাজার ২০০ টাকা, এক কেজি ওজনের ইলিশ তিন হাজার ৫০০ টাকা এবং জাটকা  বা ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রামের সবচেয়ে ছোট ইলিশও এক হাজার ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাঁর সাফ কথা, সরবরাহ না বাড়লে দাম কমবে না।

খুচরা বিক্রেতা হাফিজুলের তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেল পাইকারি বাজারে। মঙ্গলবার সকালে নগরীর ৫ নম্বর ঘাটের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও পাইকারি বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, ইলিশ এসেছে মাত্র ১৪৮ কেজি। এর মধ্যে এক কেজি ওজনের ইলিশ পাইকারি বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ ৯৪ হাজার টাকা। প্রতি কেজি ইলিশের দাম দুই হাজার ৩৫০ টাকা। ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের পাইকারি দাম ছিল ৩০ থেকে ৩৬ হাজার টাকা পর্যন্ত।

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের আওতাধীন খুলনা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, গত পাঁচ বছরের মধ্যে এবারই ইলিশের সরবরাহ সবচেয়ে কম। ভরা মৌসুমে ১৫ জুলাই পর্যন্ত খুলনায় এসেছে মাত্র ৫৪৪ কেজি ইলিশ। এর আগে ২০২২ সালে ৩৮ হাজার ৫৪৬ কেজি, ২০২৩ সালে ১৫ হাজার ৯৭৬ কেজি, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আট হাজার ৩৯১ কেজি এবং ২০২৫ সালে সাত হাজার ৫৩৯ কেজি ইলিশ বিক্রি হয়েছে।

পাইকারি মাছের আড়তদার মুসা হোসেন বলেন, ঝড়বৃষ্টির কারণে জেলেরা সাগরে যেতে পারছেন না। ইলিশ ধরা পড়ছে কম। তাই দাম বাড়তি। কবে কমবে বলা যাচ্ছে না।

মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক আকবার হোসাইন বলেন, শুধু খুলনায় ইলিশ কম আসছে এমন নয়, পাথরঘাটায় অবস্থিত আমাদের অন্য অবতরণ কেন্দ্রেও ইলিশের আমদানি অনেক কম। এর প্রভাব পাইকারি ও খুচরা সব জায়গায় পড়ছে।

মঙ্গলবার সকালে পাইকারি বাজারেও ইলিশের দরদাম করতে দেখা গেল কয়েকজনকে। তাদেরই একজন টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম। বললেন, ‘প্রতিবছর কয়েকজন বন্ধু মিলে পাইকারি দরে মাছ কিনে নিজেরা ভাগ করে নিই। দাম অনেক কম পড়ে। কিন্তু এবার মনে হচ্ছে, চোখে দেখেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে, স্বাদ নেওয়া হবে না।’

ফেনী সাহেবনগর সীমান্তে ৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি

ফেনীর পরশুরামের পশ্চিম সাহেবনগর সীমান্ত দিয়ে ৮ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি। বিজিবির কড়া প্রতিবাদ ও সতর্ক অবস্থানের কারণে বিএসএফ তাদের নিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরে যায়। শনিবার ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বিএসএফ বাংলাদেশে পুশইনের উদ্দেশ্যে ৮ জনকে সীমান্তসংলগ্ন একটি বাগানে জড়ো করে। বিষয়টি বিজিবির নজরে এলে সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করে। বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের কারণে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তিদের নিয়ে সীমান্ত থেকে সরে যায়।

ফেনী-৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান বলেন, বিজিবির বাধা ও প্রতিবাদের মুখে বিএসএফ পিছু হটে এবং তাদের সঙ্গে নিয়ে যায়। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে সীমান্তে বিজিবির টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।

সম্মেলনে শফিকুর রহমান জামায়াত ফেরেশতার দল নয়, ভুলত্রুটি হতে পারে

দলের বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী মো. নজরুল ইসলামের ভিডিওকাণ্ড নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও ইঙ্গিতে নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জামায়াত ফেরেশতাদের দল নয়, মানুষের সংগঠন। তাই ভুলত্রুটি হতে পারে, তবে নৈতিকতার প্রশ্নে আপস করা হবে না। কেউ ভুল করলে তাঁকে অবশ্যই সংশোধনের আওতায় আসতে হবে।

শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে ঢাকা জেলা জামায়াতের ষাণ্মাসিক সদস্য (রুকন) সম্মেলনে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। জামায়াতের সমালোচনাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, যারা দেশকে ভালোবাসেন, জাতিকে ভালোবাসেন, অন্যায় অপরাধ দেখলে আমাদের ধরিয়ে দিন। কথা দিচ্ছি আমরা সংশোধন করব।

নেতাদের সাবধান করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, গায়ে যদি আপনার সাদা কাপড় থাকে, আপনাকে যত্নশীল হতে হবে। সাদা কাপড়ে দাগ ভাসে বেশি। সাবধান, নৈতিকতার প্রশ্নে জামায়াতে কোনো ছাড় নেই।
প্রতিবেশী দেশের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কারও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায় না। অন্যদেরও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। বাংলাদেশ শান্তিতে থাকতে চায়। তবে সীমান্তে অশান্তি সৃষ্টি করা হলে তার প্রভাব উভয় দেশকেই বহন করতে হবে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে গুরুত্ব দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, নেতা ও নীতির সংশোধনের মাধ্যমেই সমাজে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

সংবিধান ও গণভোটের ফল বাস্তবায়ন প্রশ্নে সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বেশি সংবিধান কচলাবেন না। না হলে নিজেদের অস্তিত্ব আর খুঁজে পাবেন না।

ঢাকা জেলা জামায়াতের আমির মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বক্তৃতা করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি প্রমুখ।

জুলাইয়ের চেতনা ছাড়া সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

‎জুলাই এর চেতনা ছাড়া সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। তিনি বলেন, জুলাই এর চেতনা মানে সকল ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করা ও সুশাসন প্রতিষ্টা করা। জুলাইয়ের চেতনা কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যাতে ব্যবহার না করতে পারে সেই দিকেও সতর্ক থাকতে হবে।

‎শনিবার সকালে রাজধানীর মহাখালীতে রাওয়া ক্লাবে রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া) আয়োজিত ‘ফিরে দেখা জুলাই-২০২৪’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‎প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, জুলাইয়ের শিক্ষা হচ্ছে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। জুলাইয়ের স্তম্ভ হল— বৈষম্যের অবসান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, জাতীয় সংহতি ও পুনর্মিলন।

‎তিনি আরও বলেন, আমরা বিজয়ীর বেশে থাকবো। আমরা বিজয়ী জাতি। আমরা কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নত করবো না। যারা গুম ও খুনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাদের কোনভাবে প্রমোশন দেওয়া হবে না। পাশাপাশি মেজর সিনহা হত্যার রায় দ্রুত কার্যকর করা হবে।

‎রাওয়ার চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল হকের সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন আরও অনেকে।

বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার সেবা চালু করল আকিজ এভিয়েশন

বাণিজ্যকভাবে হেলিকপ্টার সেবা চালু করেছে আকিজ এভিয়েশন। কর্পোরেট, ব্যবসায়িক সফর, পর্যটন ও শিল্প খাত, ব্যক্তিগত যাত্রা এবং চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টার ভাড়া দেবে কোম্পানিটি।

আজ শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, আকিজ এভিয়েশনের বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার সেবার মাধ্যমে যাত্রীরা দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর সুবিধা, আধুনিক ও আরামদায়ক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা এবং নির্ভরযোগ্য সেবা পাবেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিজ্ঞ পাইলট ও দক্ষ এভিয়েশন টিমের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে এ সেবা।

কোম্পানিটি আরও জানায়, খুলনা বিভাগের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে বিনামূল্যে ‘ফ্রি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সেবা’ চালু রয়েছে। আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশন তত্ত্বাবধানে এ হেলিকপ্টার সেবা পরিচালনা করছে আকিজ এভিয়েশন।

প্রাথমিকভাবে তিনটি হেলিকপ্টার নিয়ে এই সেবা চালু করেছে আকিজ এভিয়েশন। রোগী পরিবহনের জন্য বেল-৫০৫ মডেলের একটি হেলিকপ্টার এবং যাত্রী পরিষেবার জন্য রবিনসন-৬৬ মডেলের ২টি হেলিকপ্টার যুক্ত করা হয়েছে।

৬০ দেশে নতুন মার্কিন শুল্ক, বাংলাদেশের ওপর ১০% ১৪ মাসে ৫ বার শুল্কহার পরিবর্তন

বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশ থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ব্যর্থতার অভিযোগে দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) নতুন এই শুল্ক আরোপ করেছে। গত বৃহস্পতিবার সে দেশের ফেডারেল রেজিস্ট্রারের এক নোটিশে এ-সংক্রান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ নিয়ে ১৪ মাসে পাঁচবার শুল্কহার পরিবর্তন করল ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন ঘোষণার দেশগুলোর ওপর শুল্কের হার ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের শুল্কহার ১০ শতাংশ রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশের মতো ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, জর্ডান, ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, তাইওয়ান, সুইজারল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর আগে আরোপ করা শুল্কের সঙ্গে মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। বাকি ৩৮টি দেশের ক্ষেত্রে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দেশগুলোর চীন ও ভিয়েতনাম রয়েছে।

চীন ও ভিয়েতনামের পণ্যে শুল্কহার বাড়িয়ে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ করায় বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বাণিজ্যনীতি বিশ্লেষক ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তারা। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, তৈরি পোশাক রপ্তানিতে দেশ দুটি বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের শুল্কে ২ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবধানের ফলে বাংলাদেশ বাড়তি সুবিধা পেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দপ্তরের সংস্থা অফিস অব দ্য টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) হালনাগাদ উপাত্ত অনুযায়ী, দেশটিতে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। শীর্ষে রয়েছে ভিয়েতনাম। চীনের অবস্থান তৃতীয়। চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে ইন্দোনেশিয়া ও ভারত। তবে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার পণ্যেও বাংলাদেশের মতোই সমহার অর্থাৎ ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার রাত ১২টা থেকে নতুন শুল্কহার কার্যকর হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিতে বর্তমানে পণ্যভিত্তিক শুল্ককাঠামোর অধীনে বাংলাদেশ যেসব পণ্য রপ্তানি করে, সেগুলোর শুল্ক রয়েছে গড়ে ১৬ শতাংশ। এর সঙ্গে দেশভিত্তিক শুল্ককাঠামোয় ১০ শতাংশ মিলে বাংলাদেশের পণ্যে মোট শুল্ক দাঁড়ায় ২৬ শতাংশ। নতুন শুল্ক কাঠামোর কারণে এই হারে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির মধ্যে তৈরি পোশাক ৮৮ শতাংশ। এই খাতের রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান গতকাল সমকালকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নতুন শুল্ককাঠামোর কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই। তিনি প্রতিযোগী দেশের চেয়ে নতুন শুল্ককাঠামোয় আড়াই শতাংশ এগিয়ে থাকার যুক্তি তুলে ধরেন।

একই  রকম যুক্তি দেখিয়েছেন বাণিজ্য নীতি বিশ্লেষক ও বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের সাবেক সদস্য ড. মোস্তফা আবিদ খান। গতকাল সমকালকে তিনি বলেন, প্রতিযোগী দেশগুলোর চেয়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক ব্যবধান বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখবে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি করে সে দেশে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধার যে কথা বলা হচ্ছে, সেটা কার্যকর হলে বাংলাদেশের জন্য আরও ভালো হবে। তবে মনে রাখতে হবে, তৈরি পোশাকে ভিয়েতনামের অবকাঠামো, নিজস্ব কাঁচামাল কিংবা চীন থেকে খুব সহজেই যুক্তরাষ্ট্রে আমদানির সুযোগ রয়েছে– যা তাদের সব সময় বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রাখে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্য প্রবেশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কের জেরে গত বছরের এপ্রিল থেকে টালমাটাল হয়ে ওঠে রপ্তানি বাণিজ্য। দফায় দফায় বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্কহারে পরিবর্তন আনা হয়। এতে প্রধান বাজারে রপ্তানি ধরে রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

গত বছরের ২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশে বাংলাদেশের পণ্যে ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়, যা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল ৯ এপ্রিল। তখন মোট শুল্ক দাঁড়ায় ৫২ শতাংশে। পরে বাড়তি শুল্ক আরোপের ঘোষণা তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। স্থগিতের সময় শেষ হওয়ার আগে গত বছরের ৯ জুলাই বাংলাদেশসহ ১৪ দেশের ওপর নতুন করে পাল্টা শুল্ক ২ শতাংশ কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করা হয়। চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে শুল্ক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করে সরকার। এতে শুল্ক কমে ১৯ শতাংশ হওয়ার কথা। তবে গত ২০ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত বৈশ্বিক শুল্কনীতিকে অবৈধ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। ওই রায়ের পর সব দেশের পণ্যে আবার ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। দেশটির প্রচলিত আইন ব্যবহার করে ১৫০ দিনের জন্য শুল্ক আরোপ সুযোগ কাজে লাগানো হয়েছিল– যার মেয়াদ শেষ হয়েছে গত রাতে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কবিন্যাস সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এটি মূলত পুরোনো শুল্কেরই একটি রিপ্লেসমেন্ট বা প্রতিস্থাপন। নতুন কোনো অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো হয়নি। গতকাল শুক্রবার সিলেট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম প্রসঙ্গে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।