Home Blog Page 36

সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তৈরি পোশাক শিল্পের পর সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত। তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সম্ভাবনাময় পরবর্তী প্রধান এই চালিকাশক্তিকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকার ইতোমধ্যে ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিসহ সর্বাত্মক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।’

শনিবার সকালে রাজধানীর নভোথিয়েটারে দেশকে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক উদ্ভাবন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী এই সম্মেলনকে কেবল একটি সাধারণ আয়োজন নয়, বরং আগামীর প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের অন্যতম কারিগরদের মিলনমেলা হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। তাদের অনেকেই নিজ উদ্যোগে এই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সামিটে অংশ নিয়েছেন। বর্তমান সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়, যা হবে স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ এবং প্রযুক্তিনির্ভর।’

চতুর্থ ও পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের এই যুগে সেমিকন্ডাক্টরকে আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স, ডেটা সেন্টার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, চিকিৎসা সরঞ্জাম থেকে শুরু করে মোবাইল ফোন ও মহাকাশের স্যাটেলাইট- প্রতিটি ক্ষেত্রেই চিপ বা সেমিকন্ডাক্টর অপরিহার্য।’

বিশ্ববাজারে সেমিকন্ডাক্টরের বিশাল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৬ সালের মধ্যেই গ্লোবাল সেমিকন্ডাক্টর বাজার ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে যাচ্ছে। এই বিশাল বাজারে বাংলাদেশের জন্য অপার সুযোগ বিদ্যমান এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাত থেকে নির্ধারিত রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাংলাদেশ অর্জন করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

তিনি বলেন, ‘সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে আমরা একটি জাতীয় অগ্রাধিকারভিত্তিক খাত হিসেবে বিবেচনা করছি। তবে এই খাতের উন্নয়ন একক কোনো মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়; এটি একটি সম্মিলিত জাতীয় মিশন। সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিল্প মালিক, উদ্যোক্তা এবং প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের একযোগে এই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।’

এ খাতকে ত্বরান্বিত করতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চলতি বাজেটে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর থেকে সব ধরনের কর ও শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সার্ভিসের রপ্তানি আয়ের ওপর নগদ প্রণোদনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে সরকারের উদ্যোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নতুন নতুন উদ্ভাবন বাস্তবায়নে সরকার প্রথমবারের মতো বছরে ৫০০ কোটি টাকার ‘স্টার্টআপ অনুদান’ বরাদ্দ রেখেছে, যার বণ্টন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।’

বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘বিদেশি ও দেশি বিনিয়োগ টানতে শুল্কমুক্ত (বন্ডেড) সুবিধা প্রদান এবং বিশেষায়িত অবকাঠামো নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। বিদ্যমান হাই-টেক পার্কগুলোকে আধুনিকায়নের পাশাপাশি একটি নতুন বায়োটেক পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে।’

আন্তর্জাতিক বাজারের কঠিন প্রতিযোগিতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমাদের এগিয়ে যাওয়ার অদম্য ইচ্ছা রয়েছে। আমাদের মেধা, দক্ষ তারুণ্য এবং উদ্ভাবনী শক্তির ওপর ভর করেই আমরা এই লক্ষ্য অর্জন করব। সরকার আপনাদের স্বপ্ন ও অদম্য ইচ্ছাকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাধ্যের সবটুকু দিয়ে পাশে থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘এই সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন অংশীদারিত্ব, গবেষণা উদ্যোগ এবং বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিইএআর সামিট ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। পরে তিনি সামিটে যোগ দিতে আসা দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।

‘বৈশ্বিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং সিলিকন রিভার বাংলাদেশ কর্মসূচির অংশীদারত্বে দুই দিনব্যাপী এ সামিটের আয়োজন করা হয়।

সামিটের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় বিইএআর ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬। এতে মোট ৩৫টি স্টলে শিক্ষার্থী ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের নেতৃত্বে সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তি, ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেম এবং অন্যান্য ডিপ-টেক খাতের উদ্ভাবন প্রদর্শিত হয়। প্রধানমন্ত্রী এসব স্টল ঘুরে দেখেন।

মেয়াদ শেষের আগে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ, দেখালেন অসুস্থতা

মেয়াদ পূরণের এক বছর ৯ মাস আগে গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। গতকাল শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র পৌঁছে দেন তিনি। তা গ্রহণ করে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন স্পিকার।

পরে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়ে হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার মনে হয়, তিনি (মোঃ সাহাবুদ্দিন) মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও বর্তমানে জনগণের ভোটে যে সরকার নির্বাচিত হয়েছে, তার প্রতি তিনি সমর্থন এবং শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন সব সময়। আমি তাঁর মঙ্গল কামনা করি।’

পদত্যাগের মধ্য দিয়ে মেয়াদপূর্তির আগে দায়িত্ব ছাড়া অষ্টম রাষ্ট্রপতি হলেন মোঃ সাহাবুদ্দিন। এ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ, ভারপ্রাপ্ত বা দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে আসীন হওয়া ১৮ ব্যক্তির মধ্যে ১০ জনই নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছেড়েছেন। এর মধ্যে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় দুজন রাষ্ট্রপতি নিহত হন। আর আটজন রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে পদত্যাগ করেন বা অপসারিত হন।
রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি বিএনপি। তবে জামায়াতে ইসলামী একে স্বৈরাচারের কালো ছায়া সরে যাওয়া বলে আখ্যা দিয়েছে। আর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সদ্য পদত্যাগকারী রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই ছাত্র নেতৃত্ব মোঃ সাহাবুদ্দিনের অপসারণ দাবি করেন। এতে সমর্থন দেয় জামায়াতসহ কয়েকটি দল। তবে সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা দেখিয়ে বিএনপি এর বিরোধিতা করেছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর গঠিত বিএনপি সরকারের প্রতি সমর্থন জানান মোঃ সাহাবুদ্দিন। গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে পদে পদে অপমান করেছে। বিএনপির সরকারের সময় ভালো আছেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রপতিকে বিদেশ যাওয়া এবং বঙ্গভবন থেকে খুব একটা বের হওয়ার সুযোগ না দিলেও, বিএনপির সময় চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান মোঃ সাহাবুদ্দিন। গত ঈদুল আজহার নামাজে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর হাস্যোজ্জ্বল কোলাকুলির ছবিও দেখা যায়।

অবশ্য বিএনপি সূত্র আগেই নিশ্চিত করেছিল, জুলাই নাগাদ বিদায় নিতে হবে রাষ্ট্রপতিকে। আগামী সংসদ নির্বাচনের সময় কে বঙ্গভবনে থাকবেন– এ হিসাব করেই সংসদ সংগঠনের পরও কয়েক মাস সময় দেওয়া হয় রাষ্ট্রপতিকে।

এখন সংবিধান অনুযায়ী, ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। তবে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার। এই সময়ে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

কে হবেন বিএনপির মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সংসদীয় গণতন্ত্র চালুর পর ১৯৯১ সালে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একবারই সংসদের কক্ষে ভোট করতে হয়েছিল। পরে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দল মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এবারও দলটির মনোনীত ব্যক্তির পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হওয়া নিশ্চিত।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, তারা তপশিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শিগগির এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মোঃ সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবন থেকে বিদায়ের প্রস্তুতি নিলেও রাজধানীর শাহবাগসহ কয়েকটি স্থানে গতকালও মিছিল-সমাবেশ হয়েছে তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবিতে।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এ নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তবে এক প্রতিক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘আমরা এটিকে (রাষ্ট্রপতি পদ) একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখি। আমরা দেখেছি তিনি যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে তাঁর দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তিনি আমাদের সরকারকে সহযোগিতা করেছেন।’

জুলাই অভ্যুত্থানের আগে সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা নিয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘তিনি যেহেতু স্বৈরাচারী সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ছিলেন, তাই সেই সময়কার কিছু সমালোচনা ছিল।’ ‘তবে, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আগে ৫ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত তিনি যে ভূমিকা পালন করেছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সংকটের সময়ে রাষ্ট্রকে সাংবিধানিক পথে রাখার ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রশংসার দাবিদার,’ উল্লেখ করেন তিনি।

সবকিছুই বিধি অনুযায়ী হয়েছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এখন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’
সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে সরকারের উদ্দেশে বলেছেন, সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতিকে যাতে চিকিৎসার নামে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ না দেওয়া হয়।
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাহাবুদ্দিনকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পদত্যাগের পর সাহাবুদ্দিনের আর আইনগত দায়মুক্তি নেই। তাই তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, ব্যাংক লুটসহ সব অভিযোগ তদন্ত করে বিচার করতে হবে।

বঙ্গভবন সূত্র জানিয়েছে, বঙ্গভবন ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মোঃ সাহাবুদ্দিন। গুলশানে তাঁর নিজ বাসায় প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়েছে। সেখানে নিরাপত্তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী, পদত্যাগের পরও সাবেক রাষ্ট্রপতি আজীবন পেনশন, চিকিৎসা সুবিধা, প্রটোকল পাবেন।

আওয়ামী লীগ মনোনীত মোঃ সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের ২৩ এপ্রিল। এই সময়ের মধ্যে তিনি তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন।

শারীরিক ও মানসিকভাবে অসমর্থ
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বলেন, তিনি (সাহাবুদ্দিন) গুরুতর অসুস্থ। বিভিন্ন রোগের কারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হওয়ায় তিনি পদত্যাগ করেছেন।

স্পিকার আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। তাঁর হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানীং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অটোনমিক নিউরোপ্যাথি নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে তিনি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যান। রোগগুলোর প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসমর্থতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোঃ সাহাবুদ্দিন।

এক প্রশ্নের জবাবে হাফিজ উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ একটি গুরুতর ঘটনা। এর সঙ্গে দেশের ভালো-মন্দও জড়িত। রাষ্ট্রপতি একজন মানুষ, তিনি অসুস্থ হতেই পারেন এবং তিনি রোগেরও নাম প্রকাশ করেছেন। লিখিতভাবে জানিয়েছেন, তিনি কী কী রোগে ভুগছেন এবং মাঝেমধ্যে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এ জন্য ডাক্তারের সার্টিফিকেটের কোনো প্রয়োজন নেই। রাষ্ট্রপতির এই পদত্যাগ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, এই পদত্যাগের ফলে সব ধোঁয়াশা পরিষ্কার হলো।’

পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি তাঁর পদত্যাগপত্রে বলেন, ‘আমি মোঃ সাহাবুদ্দিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করি এবং অদ্যাবধি নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ৫ আগস্ট ২০২৪ সনে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি হয়। সাংবিধানিক সংকট থেকে উত্তরণের অভিপ্রায়ে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করি। অতঃপর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে পরামর্শক্রমে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে।’

পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার গঠিত হয়ে সরকার পরিচালনা করছে। বর্তমানে সরকারি দল ও বিরোধী দল গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে। আমার সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।’
পদত্যাগপত্রের বাকি অংশে নিজের অসুস্থতার বিবরণ তুলে ধরেন সাহাবুদ্দিন। যা পরে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সংবাদ সম্মেলনে জানান।

লালমোহনে আনন্দ মিছিল
দেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নিজ সংসদীয় আসন ভোলার লালমোহনে আনন্দ মিছিল করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। গতকাল রাত পৌনে ৮টার দিকে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত মিছিলটি দলীয় কার্যালয় থেকে বের হয়ে উপজেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে চৌরাস্তা মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া আলোচনার অর্থ নেই: সিজেপি

ভারতে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তৃতীয় দফা বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে নিজেদের অবস্থান আরও কঠোর করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটি জানিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ না করা হলে সরকারের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনায় কোনো অর্থ নেই।

শনিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে কোনো আপস হবে না। সরকার যদি এ বিষয়ে রাজি না হয়, তাহলে আর আলোচনার কোনো অর্থ নেই।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে সিজেপি প্রতিনিধিদের দ্বিতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে জানানো হয়, শনিবার বিকেলে তৃতীয় দফা আলোচনা হবে। এর আগে সরকার সিজেপির উত্থাপিত দাবিগুলো নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা করবে।

সিজেপির পক্ষ থেকে তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো হলো শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ প্রদান।

শুক্রবারের বৈঠকে আন্দোলনকারীদের দুটি দাবির বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এগুলো হলো, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা। তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি।

বৈঠক শেষে জে পি নাড্ডা সাংবাদিকদের বলেন, প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে। আন্দোলনকারীরা তিনটি মূল দাবি এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারসংক্রান্ত পাঁচটি প্রস্তাব দিয়েছেন। সরকার এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করে শনিবারের বৈঠকে তাদের অবস্থান জানাবে।

তবে সরকারি সূত্রের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের সম্ভাবনা নেই। সরকারের অবস্থান হলো, পদত্যাগ সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্ত হতে পারে, কিন্তু তারা শিক্ষামন্ত্রীর পাশে রয়েছে। একই সঙ্গে সরকার জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাবে বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।

এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে গত দুই দিনে কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁস-সংক্রান্ত মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি এ-সংক্রান্ত আইনে সংশোধন এনে আরও কঠোর শাস্তি ও বেশি জরিমানার বিধান যুক্ত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া কেন্দ্রীয় সরকার শিক্ষা সচিবকে পরিবর্তন করেছে এবং জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (এনটিএ)-এর ৪৭ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছে। সংস্থাটির কার্যক্রমে ব্যাপক সংস্কারেরও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এনটিএর ৪৭ কর্মকর্তাকে অপসারণের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হলেও অপর্যাপ্ত বলে মন্তব্য করেছেন সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা। তিনি বলেন, বিষয়টি আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। তবে মূল দায় শিক্ষামন্ত্রীরই, কারণ প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এবং এর জেরে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার জন্য শেষ পর্যন্ত তিনিই দায়ী। তাই তাঁর পদত্যাগ করতেই হবে।

মধ্যরাতে মোদির ভিডিও বার্তা, কী বললেন বিক্ষোভকারীদের আল্টিমেটাম শেষ হচ্ছে দুপুরে

প্রশ্নপত্র ফাঁসকাণ্ডে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটামের পর শুক্রবার মধ্যরাতে একটি ভিডিওবার্তা পোস্ট করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে প্রকাশিত তার ভিডিও বার্তায় সাড়া দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়ার জন্য দেশের তরুণদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ভিডিও বার্তায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধে জড়িতদের দ্রুত বিচারের জন্য বিশেষ আদালত গঠন এবং কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি খসড়া বিল মন্ত্রিসভায় তোলার আশ্বাসও দিয়েছেন।

ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, তার বক্তব্যে শিক্ষার্থী ও তরুণদের ইতিবাচক সাড়া তাকে আনন্দিত করেছে। মোদি বলেন, ‘বন্ধুরা, ধন্যবাদ। গত রাতে আপনাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। আপনারা আমার ভিডিওটি দেখে যেভাবে ইতিবাচক মতামত ও পরামর্শ দিয়েছেন, তার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থন যেন এভাবেই থাকে, আর আমাদের এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় ও সক্রিয় হয়ে উঠুক।

ভিডিওটির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘গতকালের ভিডিওটি দেখে মূল্যবান পরামর্শ পাঠানো সব তরুণকে ধন্যবাদ।’ এর একদিন আগে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।

মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধে জড়িতদের দ্রুত বিচারের জন্য বিশেষ আদালত গঠন এবং কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি খসড়া বিল মন্ত্রিসভায় তোলা হবে। এরপর আগামী সপ্তাহেই বিলটি সংসদে পাসের চেষ্টা করা হবে।

এর আগে একই দিন প্রকাশিত আরেক ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, ‘বন্ধুরা, আমি জানি প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ বিষয় নয়। লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টের।’

তিনি জানান, গত আড়াই মাসে সরকার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং ১৯ জুলাই তাদের ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির বিধান তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি সংসদে উত্থাপন করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

শুক্রবার প্রশ্নপত্র ফাঁসকাণ্ডে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। এ দিন দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দলটির দ্বিতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আজ শনিবার দুপুরের মধ্যে তাদের দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত না এলে দেশজুড়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে, ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে কলকাতা, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে।

দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে গতকাল অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘সরকার আমাদের কাছে শনিবার দুপুর পর্যন্ত সময় চেয়েছে। আমরা আশা করি, শিগগির শিক্ষামন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়া হবে অথবা তিনি নিজে থেকে পদত্যাগ করবেন।’

এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ দমনে পুলিশের অভিযানের কয়েক দিন পর কেন্দ্র সরকার বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চশিক্ষা সচিব বিনীত জোশিকে বদলি এবং জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা থেকে ৪৭ জন কর্মচারীকে বরখাস্ত করা। এসব পদক্ষেপের পরও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা তাদের মূল দাবি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ প্রশ্নে অনড় রয়েছেন। শুক্রবার সিজেপি প্রতিনিধিদল মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করে একটি দাবিদাওয়া তুলে ধরে, যার মধ্যে ‘নিট’ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি লিখেছে, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের পূর্ণ সমর্থন থাকায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।

গোলাম পরওয়ার বললেন জুলাই আদেশ না মানলে সরকার সংসদ অবৈধ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই জাতীয় সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও গণভোটের রায় মানছেন না। কারণ গণভোটে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ মানলে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট বাতিল হবে। এই আদেশ না মানলে সরকার ও সংসদ অবৈধ।

গতকাল বুধবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে ‘গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ: উত্তরণে আইনজীবীদের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব বলেছেন গোলাম পরওয়ার। আইনজীবী ঐক্য পরিষদ এই সেমিনারের আয়োজন করে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপির নোট অব ডিসেন্টের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে প্রধান সংস্কারগুলোই হবে না। তাই বিএনপি ধোঁকা দিচ্ছে।
ল ইয়ার্স কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সভাপতি জসীম উদ্দীন সরকার বলেন, বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল জেল-জুলুমের শিকার ছিলেন। সংস্কার ছাড়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের তৈরি সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালিত হলে আবারও ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

ল ইয়ার্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, যারা এখন জুলাই সনদ নিয়ে টালবাহানা করছে, তাদের কাউকে গণঅভ্যুত্থানের সময় খুঁজে পাওয়া যায়নি।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে বিএনপি অবৈধ বললেও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, সংবিধানের চতুর্থ তপশিল ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট অনুচ্ছেদ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ক্রান্তিকাল।
সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইউসুফ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন।

জামায়াত থেকে বহিষ্কার গাজী নজরুলের এমপি পদ থাকবে কি

জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী মো. নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য (এমপি) পদ থাকবে কিনা এই প্রশ্ন উঠেছে। দল থেকে বহিষ্কার হওয়ায় অতীতে কারো এমপি পদ বাতিলের নজির নেই। তবে গণপ্রতিনিধি আদেশ-১৯৭২ এর ১২(খ) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি এমপি নির্বাচিত হতে বা পদে থাকতে পারবেন না, যদি তিনি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত না হন অথবা স্বতন্ত্র প্রার্থী না হন।

২০০৮ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে এ বিধান যুক্ত করা হয়েছে গণপ্রতিনিধি আদেশে। তবে এই বিধান কার্যকরের পর ২০১২ সালে সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি এইচ এম গোলাম রেজাকে জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কার হলেও বিষয়টি নিষ্পত্তিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি না দেওয়ায় তার পদ বাতিল হয়নি।

তবে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর এমপি পদ বাতিলে এই আইনে ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ নির্বাচন কমিশনে গেলে, শুনানির আগেই তিনি পদত্যাগ করেন। ফলে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২(খ) অনুযায়ী, কোনো এমপি দল থেকে বহিষ্কার হলে পদ বাতিল হবে কিনা এ সংক্রান্ত নজির নেই।

২০১৪ সালে বহিষ্কৃত লতিফ সিদ্দিক এমপি পদ বাতিলে ওই বছরই স্পিকারকে চিঠি দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। শুনানি করে নিষ্পত্তি করতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছিলেন তৎকালীন স্পিকার ডা. শিরীন শারমিন। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ হাইকোর্টে যান লতিফ সিদ্দিকী। তবে হাইকোর্টের পর আপিল বিভাগও রিট খারিজ করেন।

২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট নির্বাচন কমিশনে শুনানি শুরু হয়। ওই শুনানিতে আওয়ামী লীগকে প্রতিনিধিত্ব করেন অ্যাডভোকেট এবিএম রিয়াজুল কবীর কাওছার। তিনি সমকালকে বলেন, দলের মনোনীত প্রার্থী বহিষ্কার হলে এমপি পদে থাকতে পারেন না। কারণ আইন অনুযায়ী এমপি দুইরকম- দলীয় এবং স্বতন্ত্র। দল বহিষ্কার করলেও সেই এমপি স্বতন্ত্র হয়ে যান না। ফলে দলে না থাকলে এমপি পদ থাকবে না।

রিয়াজুল কবীর সমকালকে জানান, ২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট প্রথম দিনের শুনানিতে লতিফ সিদ্দিকী সময় প্রার্থনা করেন। পরে তিনি নিজেই পদত্যাগ করেন। ফলে কোনো রায় বা আদেশ আসেনি।

সংবিধান কী বলে
দল কোনো এমপিকে বহিষ্কার করলে কী হবে তা সংবিধানে বলা নেই। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো এমপি যে দলের মনোনয়নে নির্বাচিত হয়েছেন, সেই দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সেই দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে এমপি পদ বাতিল হবে। ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো এমপির নৈতিক স্খলনের কারণে দুই বছরের বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ড হলে এমপি পদ বাতিল হবে। সাজার মেয়াদ শেষে পাঁচ বছর অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত এমপি হতে পারবেন না।

জামায়াত নৈতিক স্খলনের কারণ দেখিয়ে গাজী নজরুলকে বহিষ্কার করেছে। তবে এ সিদ্ধান্ত কোনো আদালতের নয় বা গাজী নজরুলের জেল হয়নি। ফলে ৬৬ অনুচ্ছেদ তার জন্য প্রযোজ্য নয়। তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেননি বা দলের বিরুদ্ধেও ভোট দেননি। ফলে এই অনুচ্ছেদেও প্রযোজ্য নয়।

আগের কী নজির
২০২১ সালে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার হলেও দলের প্রাথমিক সদস্য পদ ছিল সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের। তার পদ বাতিলে স্পিকারকে চিঠি দেয়নি আওয়ামী লীগ। সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে কোনো এমপির আসন শূন্য হবে কিনা, সে সম্পর্কে কোনো বিতর্ক দেখা দিলে শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য প্রশ্নটি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে। কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।

সংসদ সদস্য আইন-১৯৮০ এর ৩ ধার অনুযায়ী, বিরোধ সৃষ্টির ৩০ দিনের মধ্যে স্পিকার বিরোধের বিবরণ প্রস্তুত করে শুনানির জন্য নির্বাচন কমিশনকে পাঠাবেন। জামায়াত নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

কীভাবে নির্বাচন কমিশন শুনানি করবে তা বলা রয়েছে আইনে। কমিশনকে এই আইনে দেওয়ানি আদালতের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে এর রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

১৯৯৮ সালে বিএনপির দুই এমপি হাসিবুর রহমান স্বপন এবং আলাউদ্দিন আহমদ নিজ দলে থেকে শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় যোগ দেন। স্পিকার একে ফ্লোর ক্রসিং হিসেবে গণ্য না করলেও, আদালত একে দল ত্যাগ হিসেবে গণ্য করে ওই দুই এমপির পদ বাতিল করেন। বিএনপির এমপি আবু হেনা ২০০৪ সালে বহিষ্কার হয়েছিলেন। তৎকালীন স্পিকার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার তার পদ বহাল রাখেন। তবে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধনের আগে এই ঘটনা ঘটেছিল।

জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির বলেছেন, দল থেকে বহিষ্কার হওয়ায় এমপি পদ থাকবে না গাজী নজরুলের।

বর্ষায় পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে উপকারী ৬ পানীয়

বর্ষাকালে অনেকেই নানারকম পেটের সমস্যায় ভোগেন। এ সময় পেটের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস খুবই জরুরি। এমন কিছু পানীয় আছে যা এ সময়ে অন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। যেমন-

ঘোল : ঘোলে প্রচুর পরিমাণে স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়া থাকায় অন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়ায়। সেই সঙ্গে হজমে সাহায্য করে।

বিটের রস : বিটে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটরি ফাইবার থাকায় এটি হজমশক্তি বাড়াতে এবং পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে।
ধনে ভেজানো পানি :প্রতিদিন ধনে ভেজানো পানি পান করলে হজমশক্তি উন্নত হয়। এই পানি পানে পেট ফাঁপার সমস্যা কমে। সেই সঙ্গে অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত হয়।

আদা চা : প্রতিদিন আদা চা খেলে হজমশক্তি বাড়ে। নিয়মিত এই চা খেলে পেট ফাঁপার মতো সমস্যা কমে। এই চা অন্ত্র সুস্থ রাখে।

হলুদ মেশানো দুধ : হলুদে থাকা কারকিউমিনে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি গুণ রয়েছে। নিয়মিত হলুদ মেশানো দুধ খেলে হজমশক্তি বাড়ে। সেই সঙ্গে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

মজুরি বৃদ্ধি ও নির্বাচনের দাবিতে শ্রমিক সমাবেশ

চা শ্রমিকদের দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি কার্যকর, কুরমা চা বাগানের বকেয়া মজুরিসহ শ্রমিকদের সব পাওনা পরিশোধ এবং শ্রম বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে চা শ্রমিকরা।

গতকাল বুধবার সকালে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের কুরমা চা বাগানে সাধারণ চা শ্রমিক, ছাত্র ও যুবকদের ব্যানারে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জাতীয় সংসদে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব উত্থাপিত হলেও তা পরবর্তীতে প্রত্যাহার করা হয়, যা চা শ্রমিকদের মধ্যে গভীর হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তাই অবিলম্বে দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি কার্যকর করার দাবি জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান মজুরিতে শ্রমিকদের পরিবার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে অনেক শ্রমিক ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন। এর পাশাপাশি কুরমা চা বাগানের শ্রমিকদের টানা চার সপ্তাহের মজুরি বন্ধ থাকায় শত শত শ্রমিক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। তারা অবিলম্বে চার সপ্তাহের বকেয়া মজুরি ও শ্রমিকদের সব আইনসিদ্ধ পাওনা পরিশোধের দাবি জানান।
সমাবেশ থেকে দাবি জানানো হয়, শ্রম অধিদপ্তরের কোনো ধরনের অবৈধ হস্তক্ষেপ ছাড়া বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। এতে বক্তব্য দেন চা শ্রমিক নারী নেত্রী গীতা রানী কানু, ইউপি সদস্য নুরুল হক এবং শমশেরনগর চা বাগানের শ্রমিক নেত্রী লছমি রানী রাজভর, সুজিত পাশা প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, চা শিল্পের মূল চালিকা শক্তি চা শ্রমিকরা এখনও ন্যায্য মজুরি ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তারা অবিলম্বে সংসদে উত্থাপিত দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি কার্যকর ও সব পাওনা পরিশোধ এবং শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

আবার ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালালে সেটির জবাবে ইরানের অবকাঠামোতে আঘাত হানবে যুক্তরাষ্ট্র।

বুধবার ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, এখন থেকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট, ড্রোন বা অন্য কোনো উপায়ে হামলা চালালে, দেশটির সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান সম্পর্কে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘এগুলোর মধ্যে রাজধানী তেহরানের কাছাকাছি বা তেহরানের ভেতরে অবস্থিত স্থাপনাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।’ গত সপ্তাহেও ট্রাম্প ইরানের সেতু এবং বিদ্যুৎকন্দ্রে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। এছাড়া, এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি শুরুর আগেও তিনি একাধিকবার বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দেন।

ইরান ইতোমধ্যেই তাদের সেতু, রেল সংযোগ, পানি পরিশোধন ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বেসামরিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার অভিযোগ তুলেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ভারতে ছড়িয়ে পড়ছে তরুণদের আন্দোলন, চাপে মোদি সরকার শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগের আশ্বাস দিলে অনশন ভাঙবেন ওয়াংচুক

ভারতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তরুণদের আন্দোলন এবার দিল্লি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন রাজ্যে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে চলমান এই বিক্ষোভ নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। নির্দিষ্ট কোনো পরিচয়ের গণ্ডিতে আটকে না থেকে, শ্রেণি-ধর্ম-অঞ্চল নির্বিশেষে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই আন্দোলন এক সর্বভারতীয় রূপ নিচ্ছে।

এএফপির খবরে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লির পাশাপাশি গতকাল বুধবার মহারাষ্ট্রের মুম্বাই, কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু, বিহারের পাটনা এবং মিজোরামেও বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। পাটনায় শিক্ষার্থীদের মিছিলে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল ও জলকামান ব্যবহার করেছে। তবে সব বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা দিল্লির যন্তর মন্তর আঁকড়ে ধরে রেখেছেন।

সংসদের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস শিক্ষার্থীদের সমর্থনে মাঠে নেমেছে। গত মঙ্গলবার রাতে আটক এবং পরে ছাড়া পাওয়ার পর গতকাল সংসদে কালো পোশাক পরে আসেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।

সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করে রাহুল বলেন, ‘বিগত এক দশকে ১৫৪টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, অথচ একটিতেও শাস্তি হয়নি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উচিত শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া।’ তিনি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেন।

হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেন। তবে সামাজিক মাধ্যমে গড়ে ওঠা দলটি কোনো মন্ত্রীর কার্যালয়ে বা বাসভবনে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, ‘আমরা কোনো মন্ত্রীর কার্যালয় বা বাসভবনে যাব না। যন্তর মন্তরের মতো কোনো নিরপেক্ষ স্থানে এই আলোচনা হতে হবে।’

এদিকে, আন্দোলনকারী অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুককে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানিয়েছেন বিরোধী নেতারা। চিকিৎসাধীন ওয়াংচুক চিঠিতে জানান, সরকার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার প্রতিশ্রুতির মুচলেকা দিলে তিনি অনশন ভাঙবেন।

পুলিশের মারধরের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে দুটি পৃথক রিট আবেদন করা হয়েছে। আদালত কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশের জবাব চেয়ে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

রাজনৈতিক চাপে মোদি 
২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর এটিই তাঁর প্রশাসনের মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে বড় ও ব্যতিক্রমী যুব আন্দোলন। মোদি সরকার এর আগে যেসব বড় আন্দোলনের মুখোমুখি হয়েছিল, সেগুলোকে নির্দিষ্ট একটি পরিচয়ে চিহ্নিত করা গেছে।

কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং বেকারত্বকেন্দ্রিক এই লড়াই দেশের দুই কোটিরও বেশি পরীক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের অস্তিত্বের সঙ্গে যুক্ত। এ আন্দোলন জাত, ধর্ম, অঞ্চল বা ভাষার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক নীলঞ্জন মুখোপাধ্যায় এএফপিকে বলেন, ‘সরকার এই আন্দোলনকে কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর আন্দোলন বলে চালিয়ে দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। আবার শিক্ষামন্ত্রীকে এখনই সরিয়ে দিলে সরকার নতিস্বীকার করেছে বলে মনে হবে, যা মোদির রাজনৈতিক ভাবমূর্তির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।’

যন্তর মন্তরে ‘ককরোচদের’ লড়াই
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, আটক ও নির্যাতনের পরও শিক্ষার্থীরা ভয় না পেয়ে যন্তর মন্তরে ফিরে আসছেন। ১৯ বছর বয়সী আন্দোলনকারী পূজা কুশি বলেন, ‘সরকার আমাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে।’

আরেক আন্দোলনকারী সীমা যাদব জানান, ২০ জন পুলিশ সদস্য তাঁকে ও তাঁর মেয়েকে আলাদা করে এক কিলোমিটার টেনে নিয়ে যায়। তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তবুও কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে তারা সরাসরি আবার আন্দোলনের ময়দানে ফিরে এসেছেন।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপকে মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি বিতর্কিত মন্তব্যের পর রূপক হিসেবে ককরোচ জনতা পার্টি গঠন করেছিলেন। এই তেলাপোকা রূপকটি ভারতীয় যুবসমাজের টিকে থাকার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।